• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  সমাজ

  • দ্বিশতবর্ষে বিদ্যাসাগর - ৬

    এলেবেলে লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | সমাজ | ৩১ অক্টোবর ২০২০ | ৯০১ বার পঠিত | ৪.৭/৫ (৩ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ষষ্ঠ অধ্যায়

     

    বিদ্যাসাগরের কর্মজগতের শুরুসাহেবসুবোর সুধাসঙ্গ

     

    তিনি একসময়ে আমাকে বলিয়াছিলেন ভারতবর্ষে এমন রাজা নাই যাহার নাকে এই চটীজুতাশুদ্ধ পায়ে টক্করিয়া লাথি না মারিতে পারি

    শিবনাথ শাস্ত্রী, রামতনু লাহিড়ী তৎকালীন বঙ্গসমাজ

     

     

    বালক ঈশ্বর পাঁচ বছর বয়সে ভর্তি হন কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের পাঠশালায় আট বছর বয়স অবধি বীরসিংহের সেই পাঠশালায় পড়েন তিনি অতঃপর গুরুমশাই কালীকান্ত, ঠাকুরদাসকে কলকাতার কোনও ইংরেজি বিদ্যালয়ে ঈশ্বরকে ভর্তি করানোর প্রস্তাব দেন ঠাকুরদাস তখন কলকাতায় রামসুন্দর মল্লিকের দোকানে কাজ করেন, বেতন মাসে ১০ টাকা অথচ হিন্দু কলেজে তখন ছাত্রদের মাসিক বেতন টাকা। এই সময়ে ঠাকুরদাস, কুমারহট্ট-হালিশহরের পণ্ডিত সংস্কৃত কলেজে ব্যাকরণের অধ্যাপক গঙ্গাধর তর্কবাগীশের সঙ্গে ঈশ্বরের পরবর্তী শিক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করেন। গঙ্গাধর ঈশ্বরকে সংস্কৃত কলেজে শিক্ষাগ্রহণের সুপরামর্শ দেন সমসময়ে বিদ্যাসাগর-জননীর মাতুল পণ্ডিত রাধামোহন বিদ্যাভূষণের পিতৃব্যপুত্র মধুসূদন বাচস্পতি সংস্কৃত কলেজে পড়তেন তিনি ঠাকুরদাসকে আশ্বাস দেন, ঈশ্বর সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হলে আদালতের জজপণ্ডিতের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। মধুসূদন বাচস্পতির পরামর্শক্রমে, ঈশ্বর অবশেষে ১৮২৯ সালের জুন গোলদিঘির সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন একটানা বারো বছর পাঁচ মাস অধ্যয়নের পরে, ১৮৪১-এর ডিসেম্বর মাত্র একুশ বছর বয়সে সংস্কৃত কলেজের পাঠ সম্পন্ন করেন তিনি যদিও পাঠ সমাপন করার অনেক আগেই তিনিবিদ্যাসাগরউপাধি লাভ করেন এবং তিনি ছাড়া কলেজের আরও অনেক পড়ুয়া এই উপাধি পান, তবুও আমবাঙালির কাছে ঈশ্বরচন্দ্রবিদ্যাসাগরনামেই পরিচিত সেই কারণে, আমরা গোটা লেখাটিতে তাঁকেবিদ্যাসাগরনামেই চিহ্নিত করব।

    এর আগে ছাত্রাবস্থায় ১৮৩৭ সালে, তিনি কমিটির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ত্রিপুরার জজপণ্ডিত পদের জন্য আবেদন করেন। তবে ওই পদে নির্বাচিত হলেও পিতার আপত্তিতে তিনি সেই চাকরি গ্রহণ করেননি। অবশেষে তাঁর অধ্যয়ন পর্ব শেষ হওয়ার মাত্র ২৪ দিন পরে, কর্মজগতে প্রবেশ করেন তিনি ১৮৪১-এর নভেম্বর মধুসূদন তর্কালঙ্কারের মৃত্যুর পরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগে সেরেস্তাদারের (১৮৩০ থেকে প্রধান পণ্ডিতদের সেরেস্তাদার বলা হত) পদ শূন্য হলে, বিদ্যাসাগর সেই পদের জন্য আবেদন করেন। তখন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সেক্রেটারি ছিলেন মার্শাল (G.T. Marshall) সাহেব তিনি ২৭ ডিসেম্বর বাংলা সরকারের সচিব বুশবি (G.A. Bushby) সাহেবের কাছে বিদ্যাসাগরের উচ্চ প্রশংসা করে এক সুপারিশপত্র পাঠান। ২৯ ডিসেম্বর বিদ্যাসাগর মাসিক ৫০ টাকা বেতনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের সেরেস্তাদার পদে নিযুক্ত হন আমরা পরবর্তীকালে দেখতে পাব, তাঁর চাকরি জীবনের বিভিন্ন পর্বে মার্শালের কৃপাদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হবেন না তিনি।

    ১৮২৭-এর মে মাসে সংস্কৃত কলেজে একটি ইংরেজি শ্রেণি শুরু হলে, ঈশ্বর সেখানে বছর ইংরেজি শিখেছিলেন। ১৮৩৫ সালে দেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা শুরু হওয়ার পরে সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে, তাঁর ইংরেজি শিক্ষা অসম্পূর্ণ থাকে চাকরি পাওয়ার পরে মার্শালের পরামর্শ অনুযায়ী, তিনি মাসিক ১০ টাকা বেতন দিয়ে একজন হিন্দুস্তানি পণ্ডিতের কাছে হিন্দি এবং বন্ধু দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইংরেজি শিখতে শুরু করেন কিছু দিন পরে, দুর্গাচরণের ছাত্র নীলমাধব মুখোপাধ্যায় তাঁর ইংরেজি শিক্ষার ভার নেন। শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন লিখেছেন

    অনন্তর তৎকালীন হিন্দু-কলেজের ছাত্র, বাবু রাজনারায়ণ গুপ্তকে মাসিক ১৫ টাকা বেতন দিয়া, অগ্রজ মহাশয় প্রত্যহ প্রাতঃকাল হইতে বেলা নয়টা পর্যন্ত ইংরাজী-ভাষা অধ্যয়ন করিতেন। এইরূপে কিছু দিন অতীত হইলে, সিবিলিয়ানগণের পরীক্ষার কাগজ দেখিতে যেরূপ ইংরাজী ভাষা অবগত হওয়া আবশ্যক, সেইরূপ শিক্ষা হইল

    ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে চাকরি করাকালীন নিছক হিন্দি-ইংরেজি শেখার চেয়েও বিদ্যাসাগরের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে যে বিষয়টি সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করে, তা হল কলেজের সাহেব কর্মকর্তা সিভিলিয়ানদের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যমুলক সম্পর্ক গড়ে ওঠা

    শম্ভুচন্দ্র জানিয়েছেন:

    ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কর্ম করিবার সময় সীটিনকার, কষ্ট্‌, চ্যাপ্ম্যান, সিসিল বীডন, গ্রে, গ্রাণ্ড, হেলিডে, লর্ড ব্রাউন, ইডেন প্রভৃতি বহুসংখ্যক সম্ভ্রান্ত সিবিলিয়ানের সহিত অগ্রজের বিশেষরূপে ঘনিষ্ঠতা আত্মীয়তা ছিল সিবিলিয়ানগণ তাঁহাকে বিশেষ সম্মান করিতেন

    শুধু সিভিলিয়ানরাই নন,

    ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের সংস্রবে এসে অনেক উচ্চশ্রেণীর ইংরেজ গণ্যমান্য দেশীয় বড়লোকের সঙ্গে বিদ্যাসাগরের আলাপ-পরিচয় হয়। ক্যাপ্টেন মার্শাল কাউন্সিল-অব-এডুকেশন বা শিক্ষা-পরিষদের সম্পাদক . মোয়াটের সঙ্গে বিদ্যাসাগরকে পরিচিত করিয়ে দেন।

    বস্তুতপক্ষে কলেজে প্রথম দফায় মাত্র সাড়ে চার বছরেরও কম সময় (২৯ ডিসেম্বর ১৮৪১- এপ্রিল ১৮৪৬) কাজ করার সূত্রে বিদ্যাসাগর সাহেবদের এতটাই কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন যে, বিস্তর লোককে তিনি চাকরি করে দেন। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রথমে তিনি সহপাঠী পরম বন্ধু মদনমোহন তর্কালঙ্কারকে মাসিক ৪০ টাকা বেতনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে পণ্ডিতের শূন্য পদে নিযুক্ত করে দেন। এর কিছু দিন পরে, কলকাতা মাদ্রাসায় পণ্ডিতের শূন্য পদে মাসিক ৪০ টাকা বেতনে নিযুক্ত করেন তাঁর আরেক সহপাঠী মুক্তারাম বিদ্যাবাগীশকে

    ১৮৪৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে, সংস্কৃত কলেজের ব্যাকরণের প্রথম শ্রেণির পণ্ডিত হরনাথ তর্কভূষণ স্বাস্থ্যভঙ্গের কারণে পদত্যাগ করেন। প্রায় একই সময়ে ব্যাকরণের তৃতীয় শ্রেণির পণ্ডিত গঙ্গাধর তর্কবাগীশ মারা যান। ওই শূন্য পদ দুটিতে দুজন যোগ্য পণ্ডিত মনোনীত করে দেওয়ার জন্য, শিক্ষা সংসদ (১৮৪২ সালে General Committee of Public Instruction- পরিবর্তে, বিভাগটির নাম হয় Council of Education)-এর সেক্রেটারি মোয়াট সাহেব (F.J. Mouat) মার্শালকে অনুরোধ করেন। মার্শাল হরনাথ তর্কভূষণের শূন্য পদে বিদ্যাসাগরকে যোগ দিতে বলেন যদিও তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণে অসম্মতি প্রকাশ করে মার্শালকে বলেন

    মহাশয়! আমি টাকার প্রত্যাশা করি না, আপনার অনুগ্রহ থাকিলেই আমি কৃতার্থ হইব আর আপনার নিকট থাকিলে, আমি অনেক নূতন নূতন উপদেশ পাইব আমি দুইটী উপযুক্ত শিক্ষক মনোনীত করিয়া আপনাকে দিব [নজরটান সংযোজিত]

    এই পদের যোগ্যতম প্রার্থী হিসেবে তিনি (তারানাথের সম্মতি ব্যতিরেকেই) তারানাথের নাম প্রস্তাব করেন অবশেষে বিদ্যাসাগরের পরিবর্তে, কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন তারানাথ তর্কবাচস্পতি। আপাতদৃষ্টিতে এই সমস্ত নিয়োগই বিদ্যাসাগরের মানসিক ঔদার্যের পরিচায়ক। কিন্তু আমরা ক্রমশ দেখতে থাকব, এর পরে দুটো বিষয় একই সঙ্গে ঘটবে। প্রথমত, শম্ভুচন্দ্র-কথিতকৌশল অনুরোধকরে যাঁদের বিভিন্ন চাকরিতে নিযুক্ত করবেন বিদ্যাসাগর, তাঁদের আজীবন অসীম আনুগত্য দাবি করবেন তিনি দ্বিতীয়ত, মার্শাল মোয়াটের অনুগ্রহ, তাঁকে তাঁর জীবনের অনেক কাজে অনাবশ্যক সহায়তা প্রদান করবে।

    যাই হোক, আমরা আপাতত বিদ্যাসাগরের চাকরির বিষয়ে আলোচনাকে স্থির রাখি ১৮৪৬- ২৬ মার্চ সংস্কৃত কলেজের সহকারী সম্পাদক রামমাণিক্য বিদ্যালঙ্কারের মৃত্যু হলে, সেই শূন্যস্থান পূর্ণ করতে চেয়ে বিদ্যাসাগর ২৮ মার্চ কলেজের সম্পাদক রসময় দত্তের কাছে আবেদন জানান তাঁর আবেদনপত্রের সঙ্গে ছিল, তাঁর সুখ্যাতি করে মার্শালের ওই দিনেরই একটি সার্টিফিকেট এই পদটির মাসিক বেতন ছিল ৫০ টাকা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সেরেস্তাদারের পদেও বিদ্যাসাগর তখন সেই একই বেতন পেতেন সুতরাং তাঁর দরখাস্তে, তিনি বেতন বৃদ্ধির বিষয়টির উল্লেখ করেন রসময় দত্ত বিদ্যাসাগরের চাকরির বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে ২৮ মার্চই শিক্ষা সংসদের সম্পাদক মোয়াটকে চিঠি লেখেন। অর্থাৎ একই দিনে বিদ্যাসাগরের দরখাস্ত পেশ, মার্শালের প্রশংসাপত্র প্রদান এবং রসময় দত্তের সম্মতিসূচক চিঠির ত্র্যহস্পর্শ যোগ! দরখাস্ত করার মাত্র চার দিন পরে, এপ্রিল সংসদ বিদ্যাসাগরের নিয়োগ মঞ্জুর করে যদিও মোয়াট ওই দিনই বিদ্যাসাগরকে জানিয়ে দেন, তাঁরা সংস্কৃত কলেজের সহকারী সম্পাদকরূপে বিদ্যাসাগরের নিয়োগ মঞ্জুর করেছেন, কিন্তু তাঁর বেতন বৃদ্ধি করা আপাতত সম্ভব না হলেও, পরে সে সম্ভাবনা আছে

                কিন্তু এখানেই তাঁর চাকরিজনিত নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটেনি! বিদ্যাসাগর মাসিক ৫০ টাকা বেতনে সহকারী সম্পাদকের পদ গ্রহণ করেন বটে, কিন্তু একই সঙ্গে মাসে আরও কিছু অতিরিক্ত টাকা আয়ের ব্যবস্থা করে ফেলেন। এখানেও তাঁর ত্রাতা মধুসূদন হন সেই মার্শাল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে তাঁর শূন্য পদে, বিদ্যাসাগর তাঁর ভাই দীনবন্ধু ন্যায়রত্নকে নিযুক্ত করার জন্য মার্শালকে অনুরোধ করেন। বিনা বাক্যব্যয়ে তাঁর অনুরোধ মঞ্জুর করে দীনবন্ধু ন্যায়রত্নকে এপ্রিল নিযুক্ত করে মার্শাল সরকারের সচিব হ্যালিডে (F.J. Halliday) সাহেবকে লেখেন:

    … the Council of Education has been pleased to appoint the Serishtadar of the Bengallee Department of this Institution, Iswar Chunder Bidyasagar to be the Assistant Secretary of the Government Sanscrit College. I have allowed him to join his new situation and have selected Dinobundhoo Nayaratna a person who was educated at the Sanscrit College, and obtained great distinction there, to officiate as Serishtadar of the Bengallee Department. I beg to request that this arrangement may be confirmed by the permanent appointment of the latter to fill the vacancy from this date.

    গোটা বিষয়টি সম্পন্ন হয় ঝড়ের গতিতে। অবশেষে ১৮৪৬ সালের এপ্রিল বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন          

    এই সময়ে সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক জয়গোপাল তর্কালঙ্কার মারা গেলে, সম্পাদক রসময় দত্ত ওই শূন্য পদে বিদ্যাসাগরকে নিয়োগ করার কথা ভাবেন কিন্তু কোনও বিশেষ কারণে বিদ্যাসাগর সেই পদগ্রহণে অসম্মত হন এবং তাঁর পরিবর্তে মদনমোহন তর্কালঙ্কারকে নিযুক্ত করার অনুরোধ করেন স্বয়ং বিদ্যাসাগরের বয়ানেওবিশেষকারণটির উল্লেখ পাওয়া যায় না বিষয়ে তিনি লিখেছেন

    ইঙ্গরেজী ১৮৪৬ সালে, পূজ্যপাদ জয়গোপাল তর্কালঙ্কার মহাশয়ের লোকান্তরপ্রাপ্তি হইলে, সংস্কৃত কালেজে সাহিত্যশাস্ত্রের অধ্যাপকের পদ শূন্য হয় সংস্কৃত কালেজের সেক্রেটারি বাবু রসময় দত্ত মহাশয় আমায় পদে নিযুক্ত করিবেন, স্থির করিয়াছিলেন আমি, বিশিষ্ট হেতুবশতঃ, অধ্যাপকের পদগ্রহণে অসম্মত হইয়া, মদনমোহন তর্কালঙ্কারকে নিযুক্ত করিবার নিমিত্ত, সবিশেষ অনুরোধ করি তদনুসারে মদনমোহন তর্কালঙ্কার পদে নিযুক্ত হয়েন

    যদিও শেষ অবধি তাঁরঅধ্যাপকের পদগ্রহণে অসম্মতহওয়ার প্রকৃত কারণটি গোপন থাকবে না।

    মার্শালের সঙ্গে সংস্কৃত কলেজের পঠনপ্রণালীর উন্নয়ন সম্পর্কিত আলোচনা করে, সহকারী সম্পাদকরূপে বিদ্যাসাগর এক শিক্ষা পরিকল্পনা রচনা করেন। যদিও বিষয়ে মার্শাল তাঁকে কোনও পরামর্শ দিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাঁর পরিকল্পনায় বিদ্যাসাগর যে মূল বিষয়গুলি আলোচনা করেন, সেগুলি সংক্ষেপে এই) ব্যাকরণের পাঠ্যক্রম পাঠ্যপ্রণালীর পরিবর্তন প্রয়োজন, ) বর্তমানে স্মৃতিশাস্ত্রের আগে ন্যায়শাস্ত্র পড়ানোর যে রীতি আছে, তার পরিবর্তে আগে স্মৃতি পড়ানো দরকার ) ইংরেজি বিভাগের পাঠ্যসূচী পাঠ্যপ্রণালীর আমূল সংস্কার জরুরি তবে পরিকল্পনাটির উপসংহারে বিদ্যাসাগর যা লেখেন, তাতে মার্শালের যে আনন্দিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কারণ, পরিকল্পনাটি শেষে তিনি লেখেন:

    .. such a training is likely to produce men who will be highly useful in the work of imbuing our Vernacular dialects with the science and civilization of the Western world.

    যেন একেবারে হুবহু মেকলের প্রতিধ্বনি

    To that class we may leave it to refine the vernacular dialects of the country, to enrich those dialects with terms of science borrowed from the Western nomenclature ….

    পরে অনেকবার তাঁর গলায় শোনা যাবে মেকলের স্বর, এমনকি সুরও।

    রসময় দত্তের কাছে বিদ্যাসাগর পরিকল্পনাটি পেশ করেন ১৮৪৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। যদিও তাঁর অনুরোধ সত্ত্বেও সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি না পাঠিয়ে, রসময় দত্ত তার সামান্য অংশ খণ্ডিত আকারে শিক্ষা সংসদে পাঠান পরিশেষে বিদ্যাসাগর ১৮৪৭- এপ্রিল, সরাসরি শিক্ষা সংসদের সম্পাদকের কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র দাখিল করেন। তাঁর ইস্তফা গৃহীত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কলেজের ১৩ জন অধ্যাপক, ১০ এপ্রিল রসময় দত্তের কাছে লিখিত আবেদন করেন তবে সেই আবেদনে লাভ হয়নি বরং কলেজের সম্পাদকের কাছে ইস্তফাপত্র জমা না দিয়ে সরাসরি শিক্ষা সংসদের সম্পাদককে দেওয়ার পদ্ধতিগত ত্রুটির উল্লেখ করে, ১৪ এপ্রিল শিক্ষা সংসদ জানায়,

    Ordered: that the assistant Secretary to the Sanscrit College be directed to forward his [Vidyasagar’s] application through the regular channel….

    অবশেষে ২০ এপ্রিল যথাবিহিত উপায়ে বিদ্যাসাগর ফের ইস্তফার আবেদন জানালে, তা ১৮৪৭-এর ১৬ জুলাই গৃহীত হয়

    বিদ্যাসাগরের শিক্ষা পরিকল্পনাটি মার্শাল শুধু যে দেখেছিলেন তাই নয়, এমনকি মন্তব্যও করেছিলেন

    The Assistant Secretary consulted me some time ago on a plan of study which he had prepared at a great sacrifice of time and labour. The suggestions therein contained appealed to me highly judicious, and the scheme altogether seemed well adopted to produce order, to save time, and to secure to each subject of study the degree of attention which it deserves: as such I would beg strongly to recommend the Council to give it a trial. If I am not much mistaken, the result would prove highly satisfactory.১০

    যদিও সংস্কৃত শিক্ষার পঠনপ্রণালী সম্পর্কে মার্শালের প্রশ্নাতীত জ্ঞান দক্ষতা ছিল, তা অবিশ্বাস্য কষ্টকল্পনা মাত্র! বিদ্যাসাগর তাঁর পরিকল্পনা পেশ করার প্রায় সাড়ে মাস পরে ইস্তফাপত্র দাখিল করেন। এই দীর্ঘ সময়ে মার্শাল কেন তাঁর পরিকল্পনাটি সম্পর্কে মোয়াটের সঙ্গে আলোচনা করেননি; সেগুলি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে কেন কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেননি; বিদ্যাসাগরই বা কেন সরাসরি মোয়াটকে বিষয়ে জানাননিসে সব প্রশ্নের উত্তর আজও অজানাতা সত্ত্বেও প্রত্যেক বিদ্যাসাগর-গবেষকই তাঁর পদত্যাগের জন্য, রসময় দত্তকে অকারণে অভিযুক্ত করেছেন ঊর্ধ্বতন ইংরেজ কর্তৃপক্ষের মতামত অগ্রাহ্য করে একজন সামান্য বেতনভুক ভারতীয় কর্মচারী এই কাজ আদৌ করতে পারেন কি না, সে বিষয়ে তাঁরা সম্যক বিবেচনা করার প্রয়োজনও বোধ করেননি। তাহলে যে বিদ্যাসাগরের পদত্যাগের দায়ভার শাসকদের গ্রহণ করতে হয়!  

    তবে পদত্যাগ করলেও একেবারে বেকার ছিলেন না বিদ্যাসাগর। সংস্কৃত কলেজে সহকারী সম্পাদক থাকাকালীনই বিকল্প উপার্জনের জন্য, তিনি বাল্যবন্ধু মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকাশনার ব্যবসায় ব্যাপৃত হন। বিদ্যাসাগর নিজে লিখেছেন:

    যৎকালে আমি মদনমোহন তর্কালঙ্কার সংস্কৃত কালেজে নিযুক্ত ছিলাম; তর্কালঙ্কারের উদ্যোগে, সংস্কৃতযন্ত্র নামে একটি ছাপাখানা সংস্থাপিত হয় ছাপাখানায় তিনি আমি, উভয়ে সমাংশভাগী ছিলাম।১১

    সেই সময়ে তাঁদের দুজনেরই যথেষ্ট আর্থিক অসঙ্গতির কারণে, নীলমাধব মুখোপাধ্যায়ের থেকে ৬০০ টাকা ধার নিয়ে তাঁরা সেই প্রেস কেনেন পরে মার্শালের সহযোগিতায় তাঁদের সে ঋণ শোধ হয়। বিদ্যাসাগর-সহোদর শম্ভুচন্দ্র জানাচ্ছেন

    এই সময়ে অগ্রজ, মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সহিত পরামর্শ করিয়া, সংস্কৃত-যন্ত্র নাম দিয়া একটি মুদ্রাযন্ত্র স্থাপন করেন ৬০০ টাকায় একটি প্রেস্ক্রয় করিতে হইবে; টাকা না থাকাতে তাঁহার পরমবন্ধু বাবু নীলমাধব মুখোপাধ্যায়ের নিকট টাকা ঋণ করিয়া, তর্কালঙ্কারের হস্তে দিলে, তর্কালঙ্কার প্রেস্ক্রয় করেন টাকা ত্বরায় নীলমাধব মুখোপাধ্যায়কে প্রত্যার্পন করিবার কথা ছিল এক দিবস কথাপ্রসঙ্গে অগ্রজ, মার্শেল সাহেবকে বলেন যে, “আমরা একটি ছাপাখানা করিয়াছি, যদি কিছু ছাপাইবার আবশ্যক হয়, বলিবেনইহা শুনিয়া সাহেব বলিলেন, “বিদ্যার্থী সিবিলিয়ান্গণকে যে ভারতচন্দ্রকৃত অন্নদামঙ্গল পড়াইতে হয়, তাহা অত্যন্ত জঘন্য কাগজে জঘন্য অক্ষরে মুদ্রিত; বিশেষতঃ অনেক বর্ণাশুদ্ধি আছে অতএব যদি কৃষ্ণনগরের রাজবাটী হইতে আদি অন্নদামঙ্গল পুস্তক আনাইয়া শুদ্ধ করিয়া ত্বরায় ছাপাইতে পার, তাহা হইলে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের জন্য আমি একশত পুস্তক লইব এবং এক শতের মূল্য ৬০০ টাকা দিব অবশিষ্ট যত পুস্তক বিক্রয় করিবে, তাহাতে তুমি যথেষ্ট লাভ করিতে পারিবে, তাহা হইলে যে টাকা ঋণ করিয়া ছাপাখানা করিয়াছ, তৎসমস্তই পরিশোধ হইবে।সুতরাং কৃষ্ণনগরের রাজবাটী হইতে অন্নদামঙ্গল পুস্তক আনাইয়া, মুদ্রিত প্রকাশিত করেন একশত পুস্তক ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে দিয়া ৬০০ টাকা প্রাপ্ত হন; টাকায় নীলমাধব মুখোপাধ্যায়ের ঋণ পরিশোধ হয় ইহার পর যে সকল সাহিত্য, ন্যায়, দর্শন পুস্তক মুদ্রিত ছিল না, তৎসমস্ত গ্রন্থ ক্রমশঃ মুদ্রিত করিতে লাগিলেন ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের সংস্কৃত-কলেজের লাইব্রেরীর জন্য যে পরিমাণে নূতন নূতন পুস্তক লইতে লাগিল, তদ্দ্বারা ছাপানর ব্যয় নির্বাহ হইয়াছিল অন্যান্য লোকে যাহা ক্রয় করিতে লাগিলেন, তাহা লাভ হইতে লাগিল টাকায় ক্রমশ ছাপাখানার ইষ্টেট বা কলেবর বৃদ্ধি করিতে লাগিলেন১২

    ভারতচন্দ্রের আদি অন্নদামঙ্গল কৃষ্ণনগরের রাজবাড়িতে আছে এবং প্রচলিত অন্নদামঙ্গল-অনেক বর্ণাশুদ্ধিআছেএতটা নির্ভুল তথ্য একজন ইংরেজ জানবেন, সেটা অবিশ্বাস্য। এই উদ্ধৃতাংশটিতে বাকি সব তথ্য যথাযথ বিবৃত করলেও, এই বিষয়টিতে শম্ভুচন্দ্র সামান্য বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন।

    বস্তুতপক্ষে ১৮৪৭ সালের জুন লিখিত চিঠিতে অন্নদামঙ্গল-এর বিষয়ে মার্শালকে অবহিত করেন মদনমোহন তর্কালঙ্কার। তিনি মার্শালকে অনুরোধ করে লেখেন:

    Having fortunately obtained the author’s manuscript and thinking it very desirable that there should be a correct edition of such a valuable production, I have the honour to state, should you be pleased to subscribe for 100 copies of the same that I shall be most happy to undertake to print.১৩ [নজরটান মদনমোহনের]

    তবে মদনমোহনের এই চিঠি থেকে মনে হতে পারে, তিনিই যেন ১০০ কপি কেনার জন্য মার্শালকে প্রস্তাব দিচ্ছেন। কিন্তু সামান্য নোযো সহকারে চিঠিটি পড়লে বোঝা যায়, এই বিষয়ে প্রাথমিক কথাবার্তার সূত্র ধরেই চিঠিটি লেখা। সে কথাবার্তা বিদ্যাসাগরের সঙ্গেই হওয়া স্বাভাবিক। পরিহাসের কথা এই,

    বিদ্যাসাগর যখন ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে সিবিলিয়ানদিগকে বাঙ্গালা পড়াইতেন, তখন তাঁহাকেবিদ্যাসুন্দরপড়াইতে হইতবিদ্যাসুন্দরে খেউড় অংশ পড়াইবার সময় তিনি অত্যন্ত লজ্জিত কুণ্ঠিতভাব প্রদর্শন করিতেন...১৪

    সেই একই বিদ্যাসাগরই অন্নদামঙ্গল ছেপে তাঁর প্রকাশনার ব্যবসা শুরু করেন! তবে মার্শালেরকৃপাদৃষ্টিথেকে বঞ্চিত হন না তিনি, বরং আরও ফুলেফেঁপে ওঠে তাঁর প্রকাশনার ব্যবসা; অচিরেই যোগদান করেন পুরনো কর্মক্ষেত্র ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে

    ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে চাকরি করাকালীন দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (বিদ্যাসাগরের বন্ধু ইংরেজি শিক্ষক এবং সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতা) অতিরিক্ত ছাত্র হিসেবে, মেডিক্যাল কলেজে লেকচার শুনতে যেতেন। অবশেষে তিনি ডাক্তারি করাই শ্রেয় স্থির করে ১৮৪৯-এর ১৬ জানুয়ারি পদত্যাগ করেন। তাঁর শূন্য পদে মার্শালের সুপারিশে (২০ ফেব্রুয়ারি) হাজার টাকা জামিন রেখে, মাসিক ৮০ টাকা বেতনে বিদ্যাসাগর মার্চ পুনরায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হেড রাইটার কোষাধ্যক্ষের পদে নিযুক্ত হন তাঁর আর্থিক অবস্থা তখন যথেষ্ট ভালো। মার্শালের অনুরোধে তিনি প্রথমে অনুবাদ করেছেন বেতালপঞ্চবিংশতি (১৮৪৭) এবং পরে বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৪৮); আর কিছু দিন পরে প্রকাশিত হবে জীবনচরিত (১৮৪৯) ছাড়া সংস্কৃত প্রেসের পাশাপাশি ১৮৪৭ সালে খুলেছেন বই বিপণিসংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরি’, সেখানে সংস্কৃত প্রেসে ছাপা বই ছাড়াও অন্য প্রকাশকদের বই বিক্রি করে ভালো কমিশন পাওয়া যায় ফলে নতুন চাকরিতে যোগদান করার জন্য হাজার টাকা জামিন রাখার মতো অর্থ, তত দিনে উপার্জন করার মতো অবস্থায় চলে এসেছেন তিনি।

    বিদ্যাসাগরের এই নতুন পদটির সামান্য ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। তিনি যখন এর আগে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে যোগদান করেন, তখনই প্রাচ্যবিদ্যা চর্চার কেন্দ্র হিসেবে কলেজের পূর্ব গৌরব আর অবশিষ্ট নেই এর আগে ১৮৩০-এর জুন লর্ড বেন্টিঙ্ক ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে সমস্ত অধ্যাপক পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে এবং পরের বছরে কলেজ কাউন্সিল তুলে দিয়ে কলেজটিকে প্রায় সাইনবোর্ডে পরিণত করেন। বিদ্যাসাগরের আমলে ইংল্যান্ডের হেইলিবারি কলেজ থেকে পাশ করা সাহেব সিভিলিয়ানদের দেশে চাকরির নিয়োগপত্র পাওয়ার আগে, যে কোনও একটি ভারতীয় ভাষা শিখতে হত এঁদেরকে বলা হত কোম্পানিররাইটার’, যে বাড়িতে তাঁরা থাকতেন তার নাম ছিলরাইটার্স বিল্ডিং এখানেই ছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ সংলগ্ন অফিস ১৮৪৯- কলেজে তখন সাকুল্যে তিন জন লোকসম্পাদক পরীক্ষক মার্শাল, হেড রাইটার ক্যাশিয়ার বিদ্যাসাগর এবং মুহুরি কালিদাস গুপ্ত।১৫ সেভাবে বিচার করলে বিদ্যাসাগর অফিসেরবড়বাবুহিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। তবে এই পদে তিনি থাকবেন ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ মাত্র বছর মাস অচিরেই তাঁর সাহেবসঙ্গ তাঁকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত পদে বসার সুযোগ করে দেবে তত দিনে অবশ্য তাঁর শিক্ষা পরিকল্পনা সম্পর্কে সম্যক অবহিত মার্শাল-মোয়াট জুটি, ঔপনিবেশিক শিক্ষাকে বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে চালু করার বিষয়ে তাঁদের প্রার্থিত ভারতীয় ব্যক্তিটিকে পেয়ে যাবেন!

    ১৮৫০-এর নভেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যশাস্ত্রের অধ্যাপক মদনমোহন তর্কালঙ্কার জজপণ্ডিতের চাকরি নিয়ে মুর্শিদাবাদ চলে যান শিক্ষা সংসদের সম্পাদক মোয়াট, এই শূন্য পদে বিদ্যাসাগরকে নিয়োগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নিছক অধ্যাপকের পদগ্রহণে অনিচ্ছুক বিদ্যাসাগর তাঁকে জানান, সংসদ তাঁকে অধ্যক্ষের ক্ষমতা দিলে তিনি ওই পদ গ্রহণ করতে রাজি আছেন। বিষয়ে মোয়াটকে লেখা তাঁর একটি চিঠির ভিত্তিতে ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর, বিদ্যাসাগর মাসিক ৯০ টাকা বেতনে সংস্কৃত কলেজে সাহিত্যের অধ্যাপকের পদে যোগ দেন আর মার্শালকে অনুরোধ করে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে তাঁর শূন্য পদটিতে, বন্ধু রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাকরি করে দেন

    কলেজে বিদ্যাসাগরের অধ্যাপনার আয়ু ছিল সাকুল্যে ৪৮ দিন! ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে কলেজের সম্পাদক রসময় দত্ত ইস্তফা দেওয়ায়, সাহিত্যের অধ্যাপক ছাড়াও ১৮৫১- জানুয়ারি থেকে বিদ্যাসাগর প্রথমে কলেজের অস্থায়ী সম্পাদক হন ঠিক তার আগের দিন, বিদ্যাসাগরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিমাফিক মোয়াট বাংলা সরকারকে কলেজের সম্পাদক সহকারী সম্পাদকের পদ বিলুপ্ত করার এবং তার পরিবর্তে