• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  সমাজ

  • দ্বিশতবর্ষে বিদ্যাসাগর - ৫

    এলেবেলে লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | সমাজ | ২৪ অক্টোবর ২০২০ | ২১৩৭ বার পঠিত | ৪.৩/৫ (৩ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  •  

    পঞ্চম অধ্যায়

     

    দেশজ শিক্ষাব্যবস্থার অপমৃত্যুদেশি ধান বনাম বিলিতি ওক

     

    The conquest of India was a conquest of knowledge.

    Bernard S. Cohn, Colonialism and Its Forms of Knowledge: The British in India

     

     

    দেশ জুড়ে যে সময়ে পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থা চালু হচ্ছে রমরমিয়ে, তখন ঠিক কিসের বিনিময়ে আমরা এই শিক্ষাকে বরণ করে নিয়েছিলাম বা নিতে বাধ্য হয়েছিলাম, সেটা দেখে নেওয়া জরুরি এমন নয় যে দেশে তখন লেখাপড়ার চল ছিল না, কিংবা যেটুকু লেখাপড়া হত তা প্রয়োজনের তুলনায় অল্প ছিল বলেই ইংরেজি শিক্ষার প্রবর্তন হয়েছিল। বরং ১৮১৩ সালের নতুন সনদে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বার্ষিক এক লক্ষ টাকা ব্যয় করার জন্য, কোম্পানির পরিচালকবর্গ তৎকালীন ভারতবর্ষের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে সমীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন সেই মোতাবেক ১৮২২- মাদ্রাজ পরের বছরে বোম্বেতে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়।

    ১৮২৬-এর ১০ মার্চ মাদ্রাজের ছোটলাট টমাস মুনরো (Thomas Munro) বিভিন্ন জেলার কালেক্টরদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানান, তাঁর প্রদেশের জনসংখ্যা ,২৩,৫০,৯৪১ জন এবং দেশজ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১,৭৫৮টি কলেজের সংখ্যা ৭৪০টি সেখানে শিক্ষাগ্রহণ করে ,৫৭,৬৬৪ জন ছাত্র ,০২৩ জন ছাত্রী। ছাড়াও শিক্ষার্থীদের বাড়িতে শিক্ষাগ্রহণের প্রথা প্রচলিত ছিল উদাহরণস্বরূপ, মাদ্রাজের কালেক্টর জানাচ্ছেন যে তাঁর জেলায় এমন শিক্ষার্থী ২৬,৯৬৩ জন মালাবারের কালেক্টর জানান, তাঁর জেলায় গৃহশিক্ষকদের কাছে ,৫৯৪ জন ছাত্র শিক্ষালাভ করছে ধর্মতত্ব (Theology), আইন, জ্যোতির্বিদ্যা, অধিবিদ্যা (Metaphysics), নীতিবিদ্যা চিকিৎসাশাস্ত্র ১৮২৩- বোম্বের গভর্নর এলফিনস্টোন (Mountstuart Elphinstone)-এর তত্ত্বাবধানে, দেশজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সমীক্ষা করা হয়। ১৮২৪ থেকে ১৮২৯ পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা কালেক্টররা সমীক্ষা চালিয়ে জেলা জজদের কাছে জমা দেন। রিপোর্ট প্রকাশিত হলে জানা যায়, ১৮২৯ সালে প্রদেশের মোট জনসংখ্যা ৪৬,৮১,৭৩৫ জন এবং ছাত্রসংখ্যা ৩৫,১৫৩ জন।

    মাদ্রাজ বোম্বেতে দেশজ শিক্ষা নিয়ে সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার অনেক পরে, বাংলাতে সে ব্যাপারে কাজ শুরু হয়। ওই দুটি প্রদেশে গোটা সমীক্ষার দায়িত্বে সেই প্রদেশের গভর্নর বিভিন্ন জেলার কালেক্টররা থাকলেও, বাংলার ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটে সরকারি প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৮৩৫-এর ২০ জানুয়ারি, লর্ড বেন্টিঙ্ক বাংলা বিহারের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে সমীক্ষা চালানোর জন্য উইলিয়াম অ্যাডামকে অনুমতি দেন ওই বছরের জুলাই, অ্যাডাম তাঁর প্রথম প্রতিবেদনটি তদানীন্তন শিক্ষা সংসদের সভাপতি মেকলেকে সরকারিভাবে জমা দেন তিনি তাঁর দ্বিতীয় তৃতীয় প্রতিবেদন জমা দেন, যথাক্রমে ১৮৩৫-এর ২৩ ডিসেম্বর ১৮৩৮-এর ২৮ এপ্রিল। মেকলে অবশ্য অ্যাডামের প্রতিবেদনগুলিকেthe best sketches on the state of education that had been submitted before the public বলে প্রশংসা করতে ভোলেননি।

    পাশ্চাত্য শিক্ষা পুরোমাত্রায় চালু হওয়ার আগে বাংলার প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা, ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থার মতো প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা কেন্দ্রীভূত ছিল না বরং খানে চালু ছিল দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারা প্রথম ধারার অন্তর্ভুক্ত ছিল উচ্চবর্ণ উচ্চশ্রেণির জন্য সংস্কৃত আরবি-ফারসি শিক্ষা বাংলার রাজা-জমিদাররা পণ্ডিত-মৌলবিদের যে নিষ্কর লাখেরাজ বদদ্‌--মাশ ভূমি দান করতেন, মূলত তার আয়ের ওপর এই ধারার শিক্ষাব্যবস্থা নির্ভরশীল ছিল উত্তর ভারতে সংস্কৃত উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিচতুষ্পাঠীহিসেবে গণ্য হত এবং সেখানে বেদবিদ্যা অধ্যয়ন আবশ্যিক ছিল তবে বাংলার টোলগুলিতে, প্রধানত নব্যন্যায়ের পরাক্রমের কারণেই বেদ পাঠের তেমন প্রচলন ছিল না।

    সংস্কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মতোই, বাংলার ফারসি শিক্ষার বিদ্যালয়গুলোও ঠিক মাদ্রাসার পর্যায়ভুক্ত ছিল না মূলত রাজভাষা ফারসি শেখার গরজেই এগুলি গড়ে উঠেছিল মুর্শিদকুলি খাঁর আমলে, সরকারের উচ্চপদগুলি বাংলার ফারসি জানা হিন্দুদের হাতে আসে। ফলে হিন্দুদের মধ্যেও ফারসি শেখার রেওয়াজ ক্রমশ বাড়তে থাকে। বিপিনচন্দ্র পাল লিখেছেন:

    আজিকালি [১৩৩৩ বঙ্গাব্দ] যেমন ইংরেজ সরকারের চাকুরী কিম্বা আদালতে ওকালতি করিয়া জীবিকা উপার্জনের জন্য লোকে ইংরেজী শিখিয়া থাকে সেকালে সেইরূপ যাহাদিগকে সচরাচর ভদ্রলোক বলে তাঁহারা যত্ন করিয়া ফার্সী শিখিতেন এখন যেমন আইন আদালতের ভাষা হইয়াছে ইংরেজী, নবাবী আমলে সেইরূপ ফার্সী আমাদের দেশের রাজভাষা ছিল। যাঁহাদের রাজসরকারে চাকুরী করিবার লোভ ছিল তাঁহারা ফার্সী শিখিতেন

    সমাজের উচ্চশ্রেণির প্রয়োজনের তাগিদে এই বিদ্যালয়গুলি গড়ে ওঠার ফলে, পাঠশালার সঙ্গে এঁদের তেমন একটা সম্পর্ক ছিল না বলা বাহুল্য, উচ্চ রাজপদ কুক্ষিগত করে রাখার বাসনা থেকেই এই উচ্চবর্ণ উচ্চশ্রেণির অভিজাতরা, যুগের চাহিদা বুঝে ফারসির বদলে ইংরেজি শিক্ষাব্যবস্থা চালু করার সোচ্চার সমর্থক ছিলেন। লর্ড আমহার্স্টকে লেখা রামমোহন রায়ের চিঠি, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

    অন্যদিকে দ্বিতীয় ধারার শিক্ষাব্যবস্থা ছিল, সাধারণ মানুষের অর্থে পরিপুষ্ট তাঁদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা, সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষায় লেখা, পড়া আর অঙ্ক শেখার ধারা প্রথম ধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে এই দ্বিতীয় ধারাটির কোনও পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল না এখানে লেখাপড়ার জন্য প্রচলিত ছিল পাঠশালা মক্তব তবে মক্তবগুলির শিক্ষাদান পদ্ধতি অনেক বেশি ধর্মীয় প্রভাবাধীন হলেও, পাঠশালার শিক্ষা ছিল প্রায় ধর্মনিরপেক্ষ শুধু তাই নয়, পাঠশালার শিক্ষা যে পুরোপুরি ব্যবহারিক শিক্ষা ছিল, সে বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই কৃষি, কুটিরশিল্প, কারিগরি আর ব্যবসাই ছিল তখন সাধারণ মানুষের প্রধান জীবিকা চাকরির খুব একটা সুযোগ তাঁদের জন্য ছিল না কিছু কৃষিজীবী একই সঙ্গে জমিদারি সেরেস্তায় বা মহাজনের খাতা লেখার কাজও করতেন, কারণ সরকারি কাজকর্মে ফারসি ভাষা চালু থাকলেও বাংলায় জমিদারি সেরেস্তায় রাজস্ব খাজনার হিসেব বাংলাতে রাখা হত। পাঠশালা শিক্ষা ছিল এই কৃষিজীবী, কারিগর, দোকানদার, জমিদারি সেরেস্তার কর্মচারী ইত্যাদি সাধারণ শ্রেণির মানুষের জীবন জীবিকার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ এক সাধারণ শিক্ষাধারা

    পাঠশালার ক্ষেত্রে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই শিক্ষাব্যবস্থায় জাতি বা ধর্মের কোনও ভেদাভেদ ছিল না তাই পাঠশালার ছাত্র এবং শিক্ষক যে কোনও জাত বা ধর্মের হতে পারতেন সেই নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও রক্ষণশীল মনোভাব ছিল না। এই কথাকে সমর্থন করে মীর মশার্রাফ হোসেন লিখছেন

    চার বৎসর চার মাস চার দিন পর আমার হাতে তাক্তি (হাতেখড়ি) হইয়াছিল। গ্রাম্য শিক্ষক মুন্সী ভিন্ন পাশ করা মৌলবী আমাদের দেশে কেহ ছিল না। ...তবে কোন কোন গ্রামে গুরু মহাশয়ের পাঠশালা ছিল। মক্তাব মাদ্রাসার নামও কেহ জানিত না। ফারসী আরবি কেহ পড়িত না অভিভাবকেরাও প্রয়োজন মনে করিতেন না। বাঙ্গলাবিদ্যা গুরু মহাশয়ের পাঠশালায় সীমাবদ্ধ ছিল; ... গ্রামে আরবি ফারসী পড়ার নিয়ম নাই, প্রয়োজনও বেশী নাই। ...আমি নন্দী মহাশয়ের নিকট বাঙ্গালা অক্ষর লেখা শিক্ষা করিতে লাগিলাম। আরবি বর্ণমালা শিক্ষার অগ্রে বাঙ্গালার বর্ণমালা মুখস্থ হইল। তালপাতে অক্ষর লিখিতে শিখিলাম

    পাঠশালাগুলিতে সর্বসাধারণের জন্য যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু ছিল, তাতে শেখানো হত দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রাথমিক শিক্ষা যথাঅক্ষর পরিচয়, বানান, নামতা, অঙ্ক, শুভঙ্করী আর্যা ইত্যাদি ছাড়া ছিল জীবিকার জন্য শিক্ষা যেমনজমি আর শস্যের মাপ, ওজনের হিসেব, দোকানদারির হিসেব, কড়া-গণ্ডা, কাঠা-ছটাক, টাকা-আনা-পাই, পথের মাপ, চিঠি লেখার ধারা প্রভৃতি এছাড়াও ছিল জমিদারির হিসেব, জমির দলিল, খাজনা দাখিল লেখার কায়দা, গোমস্তার হুকুমনামা, খত ইত্যাদি নানারকমের মুসাবিদা। এমনকি ঘর তৈরি, পুকুর কাটা বা কুয়ো তৈরির মাপজোকও শেখানো হত পাঠশালায়

    শিবনাথ শাস্ত্রী পাঠশালার শিক্ষাপদ্ধতির নিখুঁত বিবরণ দিয়েছেন এই ভাষায়

    পাঠশালে পাঠনার রীতি এই ছিল যে, বালকেরা প্রথমে মাটিতে খড়ি দিয়া বর্ণ পরিচয় করিত; তৎপরে তালপাত্রে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, যুক্তবর্ণ, শটিকা, কড়াকিয়া, বুড়িকিয়া প্রভৃতি লিখিত; তৎপর তালপাত্র হইতে কদলীপত্রে উন্নীত হইত; তখন তেরিজ, জমাখরচ, শুভঙ্করী, কাঠাকালী, বিঘাকালী প্রভৃতি শিখিত; সর্বশেষে কাগজে উন্নীত হইয়া চিঠিপত্র লিখিতে শিখিত সে সময়ে শিক্ষা-প্রণালীর উৎকর্ষের মধ্যে এইটুকু স্মরণে আছে যে, পাঠশালে শিক্ষিত বালকগণ মানসাঙ্ক বিষয়ে আশ্চর্য পারদর্শিতা দেখাইত; মুখে মুখে কঠিন কঠিন অঙ্ক কষিয়া দিতে পারিত। চক্ষের নিমিষে বড় বড় হিসাব পরিষ্কার করিয়া ফেলিত। এক্ষণে যেমন ভৃত্যের দশ দিনের বেতন দিতে হইলেও ইংরাজী-শিক্ষিত ব্যক্তিদিগের কাগজ পেন্সিল চাই, ত্রৈরাশিকের অঙ্কপাত করিয়া কাগজ ভরিয়া ফেলিতে হয়, তখন সেরূপ ছিল না

    পাঠশালাগুলি বসত সাধারণত কোনও চণ্ডীমণ্ডপ বা কারও বৈঠকখানা কিংবা কখনও খোলা মাঠে গুরুমশাইরা পড়ুয়াদের দেওয়া বেতন সিধের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিলেন উনিশ শতকের প্রথম দিকে সরকারি-বেসরকারি বিবরণ নথি থেকে বোঝা যায়, শিক্ষা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এবং বাংলা বিহারের অধিকাংশ গ্রামে ধরনের পাঠশালা ছিল

    অ্যাডাম তাঁর প্রথম প্রতিবেদনটিতে, মূলত বাংলার দেশজ শিক্ষার প্রকৃতি সুযোগসুবিধার বিষয়ে পূর্ববর্তী আমলের পাঁচটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করেন এই পাঁচটি সুত্র ছিল যথাক্রমে  ) ফ্রান্সিস বুকানন (Dr. Francis Buchanan)-এর প্রতিবেদন, ) শিক্ষা সংসদ (General Committee of Public Instruction)-এর বিভিন্ন নথি, ) হ্যামিলটন (Walter Hamilton)-এর ইস্ট ইন্ডিয়া গেজেটিয়ার (১৮২৮), ) মিশনারিদের স্কুল-কলেজের নথিপত্র ) ফিশার (Fisher)-এর স্মৃতিকথা (১৮৩২) এই প্রতিবেদনে দেশজ প্রাথমিক শিক্ষার বিদ্যালয়গুলির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে অ্যাডাম লেখেন,

    যে সব বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয় এবং যেগুলি দেশীয় লোকের সাহায্যে দেশীয় লোকের দ্বারা স্থাপিত অর্থাৎ যেগুলি কোনও ধর্মীয় সংস্থা বা দাতব্য সংস্থার সাহায্যে গড়ে ওঠেনি, সে সব বিদ্যালয়কে দেশজ প্রাথমিক বিদ্যালয় বলা হচ্ছে

    দ্বিতীয় প্রতিবেদনটিতে অ্যাডাম নিজে রাজশাহি জেলার নাটোর থানার মোট ৪৮৫টি গ্রামে সমীক্ষা করে যে তথ্য পান, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরেন এই প্রতিবেদনেই তিনি দেশজ শিক্ষাব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করে জানান:

    My recollections of the village schools of Scotland do not enable me to pronounce that the instruction given in them has a more direct bearing upon the daily interests of life than that which I find given, or professed to be given, in the humbler village schools of Bengal.

    সব মিলিয়ে নাটোরে শিক্ষিতের সংখ্যা ছিল ,১২১জন। তার ভিত্তিতে অ্যাডাম নাটোরে শিক্ষিতের হার বলেছেনthe proportion of the uninstructed to the instructed male adult population of Nattore is as 1000 to 114.6বা ১১.৪৬%১০

    অ্যাডামের তৃতীয় প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিবেদনে তিনি মুর্শিদাবাদের ৩৭টি থানার মধ্যে ২০টি থানা এবং বাংলার বীরভূম বর্ধমান এবং বিহারের দক্ষিণ বিহার ত্রিহুতের সমীক্ষার ফলাফল জানান প্রতিবেদনটির শেষে তাঁর নিজস্ব চিন্তাভাবনা সুপারিশও পেশ করেন। প্রথমে জেলাগুলির প্রত্যেকটি থানাতে তাঁর যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ‘the sudden appearance of a European in a village often inspired terror’১১ বুঝতে পেরে, সেই পরিকল্পনা পরিত্যাগ করেন। অবশেষে প্রতিটি জেলার একটি থানাতে সমীক্ষা চালান অ্যাডাম স্বয়ং এবং বাকি থানাগুলিতে তাঁর নির্দেশ তাঁর নির্ধারিত নির্দিষ্ট প্রশ্নমালার ভিত্তিতে, তাঁর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারীরা তথ্য সংগ্রহ করেন। এই দেশজ শিক্ষাব্যস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে চিহ্নিত করে অ্যাডাম বলেছেন

    The Musalman teachers have Hindu as well as Musalman scholars; and the Hindu and Musalman scholars and the different castes of the former assemble in the same school-house, receive the same instructions from the same teacher, and join in the same plays and pastimes.১২

    ছাড়া মেদিনীপুরের যুগ্ম জেলাশাসক ম্যালেট (O.W. Malet) নিজ উদ্যোগে ১৮৩৬ সালের মার্চ মাসে, সেই জেলার দেশজ শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত সমীক্ষা করে অ্যাডামকে জানান

    অ্যাডামের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে পাশ কাটিয়ে, তাঁর প্রথম প্রতিবেদনে উল্লিখিত বাংলা বিহার মিলিয়ে এক লক্ষ দেশজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়টি নিয়ে, ইংরেজি শিক্ষার সমর্থকেরা অকারণ বিতর্ক করে থাকেন অথচ তাঁর প্রথম প্রতিবেদনটি খুঁটিয়ে পড়লেই স্পষ্ট হবে যে, কথা অ্যাডাম তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলেননি, বলেছিলেন সরকারি শিক্ষা সংসদের এক সদস্যের বয়ানের ভিত্তিতে। তিনি প্রতিবেদনে বিষয়ে লিখেছেন

    A distinguished member of the General Committee of Public Instruction in a minute on the subject expressed the opinion, that if one rupee per mensem were expanded on each existing village school in the Lower Provinces, the amount would probably fall little short of 12 lakhs of rupees per annum. This supposes that there are 100,000 such schools in Bengal and Behar, and assuming the population of those two Provinces to be 40,000,000, there would be a village school for every 400 persons.১৩

    এই পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করে অ্যাডাম জানান:

    The estimate of 100,000 such schools in Bengal and Behar is confirmed by a consideration of the number of villages in those two provinces. Their number has been officially estimated at 150,748, of which, not all, but most have each a school. If it be admitted that there is so large a proportion as a third of the villages that have no schools, there will still be 100,000 that have them.১৪

    প্রসঙ্গত, এই বিষয়ে অ্যাডামের বহু আগে একই কথা উচ্চারণ করেছিলেন টমাস মুনরো তিনি বলেছিলেন there is one school to every 1,000 of the population; but as only a very few females are taught in school, we may reckon one school to every 500 of the population১৫ এমনকি বোম্বে এডুকেশন কমিটিও ১৮১৯ সালের একটি রিপোর্টে জানায় ‘There is probably as great a proportion of persons in India who can read, write, and keep simple accounts, as are to be found in European countries’ ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, ‘Schools are frequent among the natives, and abound everywhere১৬

    অথচ প্রায় সবার নজরের আড়ালে চলে যাওয়া অ্যাডামের তৃতীয় প্রতিবেদনটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে, তদানীন্তন বাংলা বিহারে নিম্নশ্রেণির হিন্দু-মুসলমানদের সম্প্রীতি সদ্ভাব অনুভব করা সম্ভব যেমন এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, বীরভূমের ১৭টি জেলায় মোট ৪০৭ জন শিক্ষকের মধ্যে ৮৬ জন ব্রাহ্মণ ২৫৬ জন কায়স্থ ছাড়াও অন্য বর্ণের শিক্ষক ছিলেন ৬৫ জন, যা মোট শিক্ষকসংখ্যার প্রায় ১৬% তাঁদের মধ্যে ছিলেন ১২ জন সদ্গোপ; জন বৈষ্ণব; জন করে গন্ধবণিক সুবর্ণবণিক; জন করে ভট্ট, কৈবর্ত ময়রা; জন গোয়ালা; জন করে বৈদ্য, আগুরি, যুগি, তাঁতি, কলু শুঁড়ি এবং একজন করে স্বর্ণকার, রাজপুত, নাপিত, বাড়ুই, ছত্রী, ধোপা, মালো চণ্ডাল। বর্ধমানের ৬২৭ জন হিন্দু শিক্ষকের মধ্যে ১০৭ জন ব্রাহ্মণ ৩৬৯ জন কায়স্থ ছাড়াও অন্য বর্ণের শিক্ষক ছিলেন, মোট শিক্ষকসংখ্যার ২৪% বা ১৫১ জন তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৫০ জন সদ্গোপ; ৩০ জন আগুরি; ১৩ জন বৈষ্ণব; ১০ জন তেলি; জন ভট্ট; জন গন্ধবণিক; জন কৈবর্ত; জন চণ্ডাল; জন করে কুমোর নাপিত; জন করে সুবর্ণবণিক,‌ গোয়ালা বাগদি এবং একজন করে নাগা, তাঁতি, দৈবজ্ঞ, বৈদ্য, যুগি, বাড়ুই, কামার, ময়রা, ধোপা, রাজপুত, কলু শুঁড়ি ছাড়াও ছিলেন জন মুসলমান জন খ্রিস্টান শিক্ষক

    শিক্ষকদের মতো পড়ুয়ারাও ছিল বিভিন্ন ধর্ম বা বর্ণসম্প্রদায়ের ব্রাহ্মণ-কায়স্থ ছাত্রের সংখ্যা মোট ছাত্রসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি ছিল না। বিহারের দুটি জেলায় এই সংখ্যাটা ছিল আরও কম, ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ। যেমন, বীরভূমে মোট ,১২০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ,৮৫৩ জন ব্রাহ্মণ ৪৮৭ জন কায়স্থ ছাড়াও অন্যান্য বর্ণের ছাত্র ছিল ৩৭৮০ জন বা প্রায় ৬২% বর্ধমানের ৬২৯টি পাঠশালার মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ১৩ হাজারের কিছু বেশি এদের মধ্যে ,৪২৯ জন ব্রাহ্মণ ,৮৪৬ জন কায়স্থ ছাড়া, বাকি সবাই ছিল সমাজের একেবারে নীচের স্তরের বিভিন্ন বর্ণের মানুষ। ছাড়াও পাঠশালায় ছিল ৭৬৯ জন মুসলমান ১৩ জন খ্রিস্টান ছাত্র অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান, দক্ষিণ বিহার ত্রিহুতের আরবি-ফারসি বিদ্যালয়গুলির মোট ৭২৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৪ জন হিন্দু ছাড়া, বাকিরা ছিলেন মুসলমান কিন্তু এই বিদ্যালয়গুলির মোট ,৬৬৩ জন পড়ুয়ার মধ্যে ,০৯৬ জন ছিল হিন্দু

    অ্যাডামের প্রতিবেদনের আরও একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রীতিমতো সারণি সাজিয়ে দেখিয়েছেন (চিত্র- দ্রষ্টব্য), বর্ধমানের ১৩টি মিশনারি স্কুলে পড়ত মাত্র একজন চণ্ডাল জন ডোম, অথচ সেখানকার পাঠশালাগুলিতে তাদের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৬০ ৫৮ জন। প্রথমোক্ত স্কুলে যেখানে ১৬টি নিম্নতম বর্ণের প্রধানত চণ্ডাল, ডোম, বাগদি, মুচি, হাড়ি প্রভৃতি ছাত্রসংখ্যা ছিল সাকুল্যে ৮৬, সেখানে পাঠশালাগুলিতে তাদের সংখ্যা ছিল ৬৭৪১৭ কোনও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও আর্থিক সাহায্য না পেয়েও সাধারণ মানুষ তাঁদের নিজেদের উদ্যমে, কেবল মাতৃভাষায় শিক্ষাচর্চা অব্যাহত রেখে যে ঐতিহ্যগত সম্প্রীতির নিদর্শন হাজির করেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য এবং প্রায় অকল্পনীয়।

    https://i.postimg.cc/52PnpRGK/Burdwan-Chandals.jpg

    তৎকালীন বাংলার উচ্চশিক্ষার চরিত্র সম্পর্কে অ্যাডাম তাঁর প্রথম প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ১৮১৮ সালে ওয়ার্ড (Mr. Ward) কলকাতায় ২৮টি সংস্কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা বলেন, যেখানে শিক্ষাগ্রহণ করত ১৭৩ জন (গড়ে জন) নবদ্বীপে ছিল ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছাত্র ছিল ৭৪৭ জন (গড়ে ২৪ জন) ১৮৩০- উইলসন (H.H. Wilson) ব্যক্তিগত সমীক্ষার ভিত্তিতে জানিয়েছেন নবদ্বীপের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা, যেখানে পড়ত প্রায় ৬০০ জন পড়ুয়া।১৮ অ্যাডাম জানিয়েছেন, বাংলায় সংস্কৃত শিক্ষার তিন রকমের প্রতিষ্ঠান ছিলএক ধরনের প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হত মূলত ব্যাকরণ, কাব্য অলঙ্কার এবং মাঝেমধ্যে পৌরাণিক কাব্য স্মৃতিশাস্ত্র; দ্বিতীয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধানত স্মৃতিশাস্ত্র কদাচিৎ পৌরাণিক কাব্য এবং তৃতীয় ধরণের প্রতিষ্ঠানে মূল পাঠ্যবিষয় ছিল ন্যায়শাস্ত্র।১৯

    তাঁর সমীক্ষা করা জেলাগুলির ভিত্তিতে অ্যাডাম সংস্কৃত শিক্ষা সম্পর্কে যে চিত্র তুলে ধরেছেন, তা সংক্ষেপে এইরকম এই ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ৩৫৩ টি, সর্বোচ্চ বর্ধমানে ১৯০টি (,৩৫৮ জন শিক্ষার্থী) এবং সর্বনিম্ন মুর্শিদাবাদে ২৪টি (১৫৩ জন) ৩৫৫ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র জন বৈদ্যকে বাদ দিলে বাকি সকলেই ছিলেন ব্রাহ্মণ। এখানে ছাত্ররা পড়তব্যাকরণ (,৪২৪ জন), ন্যায়শাস্ত্র (৩৭৮ জন), স্মৃতিশাস্ত্র (৩৩৬ জন) সাহিত্য (১২০ জন) এছাড়াও তারা পড়ত পুরাণ (৮২ জন), জ্যোতিষশাস্ত্র (৭৮ জন), শব্দবিজ্ঞান বা Lexicology (৪৮ জন), অলঙ্কার (১৯ জন), চিকিৎসাশাস্ত্র (১৮ জন), তন্ত্রশাস্ত্র (১৪ জন) বেদান্ত (১৩ জন), মীমাংসা ( জন) সাংখ্য ( জন) শিক্ষার মেয়াদকাল, শিক্ষা শুরু সমাপ্তির সময় ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষার বিষয় অনুযায়ী জেলা অনুযায়ী তারতম্য ছিল। পাঠ্যপুস্তক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়তে হত ব্যাকরণে সভাষ্য মুগ্ধবোধ, পতঞ্জলির মহাভাষ্য, সিদ্ধান্তকৌমুদী ইত্যাদি; ন্যায়শাস্ত্রে সিদ্ধান্ত মুক্তাবলী; স্মৃতিতে রঘুনন্দনের বিভিন্ন তত্ত্ব; সাহিত্যে ভট্টিকাব্য, হিতোপদেশ, রঘুবংশ, নৈষধচরিত, শকুন্তলা, কুমারসম্ভব, মাঘ ভারবি; শব্দবিজ্ঞানে অমর কোষ; অলঙ্কারে কাব্যপ্রকাশ, কাব্যচন্দ্রিকা, সাহিত্যদর্পণ প্রভৃতি।২০

    অন্যদিকে টমাস মুনরোর মিনিট থেকে জানা যায়, মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির কালেক্টররা মোট ,০৯৪টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা জানান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৭৯টি ছিল রাজামুন্দ্রিতে (শিক্ষার্থী ,৪৫৪ জন); তারপর যথাক্রমে কোয়েম্বাটুর ১৭৩টি (শিক্ষার্থী ৭২৪ জন); গুন্টুর ১৭১টি (শিক্ষার্থী ৯৩৯ জন); তাঞ্জোর ১০৯টি (শিক্ষার্থী ৭৬৯ জন); নেল্লোর ১০৭টি; উত্তর আর্কট ৬৯টি (শিক্ষার্থী ৪১৮ জন); সালেম ৫৩টি (শিক্ষার্থী ৩২৪ জন); চিঙ্গলেপুট ৫১টি (শিক্ষার্থী ৩৯৮ জন); মসুলিপট্টম ৪৯টি (শিক্ষার্থী ১৯৯ জন); বেলারি ২৩টি; ত্রিচিনাপল্লি ৯টি (শিক্ষার্থী ১৩১ জন) এবং মালাবারের একটি প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (শিক্ষার্থী ৭৫ জন) যে সব জেলায় এই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না, সে সব জেলার কালেক্টরদের তথ্য থেকে জানা যায় যে সেখানে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বেদ, আইন (স্মৃতিশাস্ত্র), জ্যোতির্বিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, নীতিবিদ্যা ইত্যাদির শিক্ষা গ্রহণ করছে।২১ এখানে রাজামুন্দ্রিতে পাঠ্যপুস্তক মাদ্রাজে প্রযুক্তি শিক্ষার দুটি চিত্র (চিত্র- দ্রষ্টব্য) সংযোজিত করা হল।

     https://i.postimg.cc/SRCM5DrM/Books-in-Rajamundry.jpg

    https://i.postimg.cc/tTVZZ28M/Technical-Education-in-Madras.jpg

    ভারতবর্ষের পাশাপাশি উনিশ শতকে ইংল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে নজর করলে দেখা যায়, ১৮০১- সরকারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র ,৩৬৩টি ১৮৫১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬,১১৪তে।২২ পড়ুয়ারা কত বছর ওই সব স্কুলে পড়ত, সে বিষয়ে ডবস জানিয়েছেন ‘the average length of school life rises on a favourable estimate from about one year in 1835 to about two years in 1851’২৩ এমনকি ১৮৩৪ সালেও অধিকাংশ জাতীয় স্কুলেই পাঠক্রম সীমাবদ্ধ ছিল, মূলত ধর্মীয় শিক্ষা এবং লেখা-পড়া-অঙ্ক (The three ‘R’s) শেখার ওপর অনেক গ্রামীণ স্কুলে অমঙ্গলের আশঙ্কায় লেখা অবধি শেখানো হত না।২৪

    অ্যাডামসন ইটনের মতো নামকরা স্কুলের চিত্র জানিয়ে বলেছেন:

    In public schools like Eton, teaching consisted of writing and arithmetic (a number of English and Latin books were studied); while those in the fifth form also learnt ancient Geography, or Algebra.

    আর যারা সেখানে বেশ কিছুদিন পড়ার সুযোগ পেত, তারা এর বাইরে অতিরিক্ত শিখতpart of Euclid তবেnot till 1851 that Mathematics became a part of the regular school work২৫ উনিশ শতকের শুরুতে বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র ছিল এই রকম

    there were nineteen colleges and five halls in Oxford. There were about 500 fellows in the colleges, a few of whom were engaged in teaching in each college. In addition, there were nineteen professors in 1800. This total had increased to 25 by 1854.

    ১৮০৫ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংখ্যা বাড়তে থাকে উনিশ শতকের গোড়ার দিকে থাকা ছাত্রের সংখ্যা ৭৬০ থেকে ১৮২০-২৪ সালের মধ্যে বেড়ে হয় ১৩০০ জন২৬

    এই পরিস্থিতিতে অ্যাডাম তাঁর তৃতীয় প্রতিবেদনের উপসংহারে, দেশজ ভাষায় দেশজ শিক্ষার প্রচলনের জন্য জোরালো সওয়াল করে বলেন

    I, however, expressed the opinion that, as far as my information then enabled me to judge existing native institutions from the highest to the lowest, of all kinds and classes, were the fittest means to be employed for raising and improving the character of the people that to employ those institutions for such a purpose would be “the simplest, the safest, the most popular, the most economical, and the most effectual plan for giving that stimulus to the native mind which it needs on the subject of education, and for eliciting the exertions of the natives themselves for their own improvement, without which all other means must he unavailing”.২৭ [নজরটান অ্যাডামের]

    কিন্তু হায়! তার তিন বছর আগেই বাংলায় ইংরেজি শিক্ষা পুরোদস্তুর চালু হয়ে যায় তাই স্বাভাবিকভাবেই অ্যাডামের এহেন সুপরামর্শে কান না দিয়ে, কলকাতার শিক্ষা সংসদ তাকেalmost impracticableতকমা দিয়ে ব্রাত্য করে রাখে।

    শুধু তাই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেচুঁইয়ে পড়া নীতি’-কে নির্লজ্জ সমর্থন করে তারা জানায়

    দেশে শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, প্রচুর অভিজ্ঞতা বিবেচনাবোধই আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে গৃহীত পুরনো নীতিটিকে মেনে চলতে বাধ্য করেছে। তাই আমাদের প্রথম প্রচেষ্টা হবে, প্রধান প্রধান শহর বা জেলার সদর শহরগুলিতে শিক্ষাবিস্তারের বিষয়ে মনোযোগী হওয়া। জনসাধারণের উচ্চ মধ্য শ্রেণির শিক্ষার মান উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষাসংক্রান্ত সংস্কার, ক্রমশ নিচের দিকে গ্রামাঞ্চলের দেশজ বিদ্যালয়গুলির কাছে দ্রুত পৌঁছবে।২৮

    সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষা হয়ে ওঠে মুষ্টিমেয় উচ্চবর্ণ উচ্চবিত্তের ক্রয়যোগ্য বস্তু। নিজেদের কতিপয় কেরানি-শিক্ষক-অধ্যাপক-উকিল