• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  সমাজ

  • দ্বিশতবর্ষে বিদ্যাসাগর - ৯

    এলেবেলে লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | সমাজ | ২১ নভেম্বর ২০২০ | ৫৫৬ বার পঠিত | ৪/৫ (১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • নবম অধ্যায়

     

    বিদ্যাসাগর নারীশিক্ষাতোতাকাহিনী- পুনরাবৃত্তি

     

    এই ভারতবর্ষে ইংলণ্ডাধিপতি হস্তে পতিত হওয়াবধিই ইহাতে কিয়ৎ পরিমাণে স্ত্রীবিদ্যার অনুশীলন হইতে আরম্ভ হয় কিন্তু তখন এক্ষণকার মত ইহার প্রাদুর্ভাব হয় নাই কেবল বিষয় সম্পত্তি রক্ষা করিবার জন্য দুই একজন ভূস্বামিপত্নী যৎকিঞ্চিৎ মাত্র শিক্ষা করিতেন তৎপর এতদ্দেশে যখন খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বী মহোদয়গণ স্থানে স্থানে ভজনালয় সংস্থাপন বিদ্যামন্দির প্রতিষ্ঠিত করেন, আর সেই ধর্মের সুন্দর জ্যোতি দর্শনে মোহিত হইয়া যখন হিন্দু যুবকগণ সস্ত্রীক ঝম্প প্রদানে প্রবৃত্ত হন এবং উল্কধারিণী কৃষ্ণাঙ্গী অবলাগণকে বিবী করণ মানসে বিদ্যা চর্চায় প্রয়োগ করেন, তৎকাল হইতেই এই ভারত সুতাগণের বিদ্যানুশীলনের পথ আবিষ্কৃত হয়

     কৈলাসবাসিনী দেবী, হিন্দু অবলাকুলের বিদ্যাভ্যাস তাহার সমুন্নতি

     

     

    অনেকেই মনে করেন, বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে উৎসাহেই বাংলায় নারীশিক্ষার প্রচার প্রসার ঘটে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে নারীশিক্ষার এক দীর্ঘ ইতিহাস বর্তমান। এই পর্বে সেই ইতিহাস উল্লেখের সূত্রে আমরা ক্রমশ বিদ্যাসাগরের জন্মের আগে থেকে যে সময়ে নারীশিক্ষা বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ নীরব, সেই সময় অবধি আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। একই সঙ্গে তদানীন্তন আমলে বিদ্যাসাগর ঠিক কোন মেয়েদের জন্য কী ধরণের শিক্ষাকে সমর্থন করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গটি সবিস্তারে আলোচিত হবে।

    উনিশ শতকে বাঙালি মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন খ্রিস্টান মিশনারিরা ১৮১৯ সালে কলকাতার ব্যাপটিস্ট মিশনারির উদ্যোগে কতিপয় সহৃদয় ইংরেজ মহিলার সহযোগিতায় স্থাপিত হয় ‘The Female Juvenile Society for the Establishment and Support of Bengali Female Schools’ বাফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি ওই বছরের প্রথম দিকে, সোসাইটির অর্থানুকূল্যে কলকাতার গৌরীবাড়িতে প্রথম অবৈতনিক বালিকা বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। কিছু দিনের মধ্যে সোসাইটি নন্দনবাগান, জানবাজার চিৎপুর অঞ্চলে আরও তিনটি বিদ্যালয় খোলে।

    ১৮২১-এর নভেম্বর মাসে, ইংল্যান্ডেরব্রিটিশ অ্যান্ড ফরেন স্কুল সোসাইটিমিস মেরি অ্যান কুক (Mary Anne Cooke)-কে নারীশিক্ষা প্রসারের জন্য এ দেশে পাঠান। সোসাইটির উদ্যোগ, কুকের আন্তরিক পরিশ্রম স্থানীয় অধিবাসীদের উৎসাহে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলেঠনঠনিয়া, মির্জাপুর, শোভাবাজার, কৃষ্ণবাজার, শ্যামবাজার, মল্লিকবাজার কুমারটলিনতুন আটটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ১৮২৩ সালে কুকের (ওই বছরে বিবাহসূত্রে তিনি মিসেস উইলসন নামে পরিচিত হন) পরিচালনাধীন স্কুলের সংখ্যা হয় ২৩, ছাত্রীসংখ্যা দাঁড়ায় ৫০০। ১৮২৪-চার্চ মিশনারি সোসাইটি’- উদ্যোগে ‘Ladies’ Society for Native Female Education in Calcutta and its vicinity’ বালেডিস সোসাইটিপ্রতিষ্ঠিত হয়। চার্চ মিশনের পক্ষে নারীশিক্ষার সমস্ত দায়িত্ব মিসেস উইলসন গ্রহণ করেন ওই বছরেই সোসাইটির ২৪টি স্কুলে ৪০০ জন মেয়ে ভর্তি হয় অল্প দিনের মধ্যে সোসাইটির স্কুলের সংখ্যা বেড়ে হয় ৩০, ছাত্রীসংখ্যা ৬০০- কাছাকাছি।

    ১৮২৫-এর ১৪ জানুয়ারিলেডিস অ্যাসোসিয়েশননামে আরেকটি মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় এই সমিতিরও প্রেসিডেন্ট হন মিসেস উইলসন প্রধানত মুসলমানপ্রধান এন্টালি জানবাজার অঞ্চলে, সমিতির উদ্যোগে এবং স্থানীয় মুসলমানদের উৎসাহে কয়েকটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় অন্যদিকে কুকের স্কুলগুলি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকার কারণে চার্চ মিশন একটিসেন্ট্রাল ফিমেল স্কুলপ্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগী হয় এবং মিসেস উইলসনকেলেডিস সোসাইটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় গঠনের সমস্ত দায়িত্ব অর্পণ করে ১৮২৮-এর এপ্রিল, ৮৫ জন ছাত্রী নিয়ে কেন্দ্রীয় বালিকা বিদ্যালয় শুরু হয় মি. মিসেস উইলসনের তত্ত্বাবধানে ১৮২৯-৩০ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের ছাত্রীসংখ্যা হয় প্রায় ২০০ জন এই বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রী ছিল মূলত নিম্নবিত্ত হিন্দু মুসলমান পরিবারের মেয়েরা; পড়ানো হত মাতৃভাষা, ভূগোল, অল্প গণিত, সেলাই এবং খ্রিস্টীয় নীতিকথা

    কুকের প্রচেষ্টায় নারীশিক্ষার উপকারিতা সম্পর্কে রক্ষণশীল হিন্দুরাও ক্রমশ সচেতন হয়ে উঠছিলেন কিন্তু কুকের আন্তরিকতা এবং পাদরিদের উৎসাহ সত্ত্বেও মূলত মিশনারি নিম্নজাতি সংস্পর্শ বর্জন করার কারণে, মধ্যবিত্ত হিন্দু ভদ্রলোকেরা এই সব স্কুলে তাঁদের কন্যাদের ভর্তি করেননি। তবু এরই মধ্যে মিশনারিদের প্রচেষ্টার সঙ্গে হিন্দু ভদ্রলোকদের সদিচ্ছা দু-একবার মিলিত হয় সেন্ট্রাল ফিমেল স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য রাজা বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় ২০ হাজার টাকা দান করেন। ১৮২২ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কারের স্ত্রীশিক্ষাবিধায়ক গ্রন্থটিকে ফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি এবংলেডিস সোসাইটিপরিচালিত স্কুলগুলিতে পাঠ্য করা হয়

    যদিও রাজা রাধাকান্ত দেব গৌরমোহনকে এই বই লিখতে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং বইটি লেখার প্রয়োজনীয় বেশ কিছু মালমশলা তাঁকে যোগান দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনিসম্ভ্রান্তহিন্দু পরিবারের মেয়েদের এই সব স্কুলে পাঠানোর পক্ষপাতী ছিলেন না বিষয়ে ১৮২১-এর ১০ ডিসেম্বর কলকাতা স্কুল সোসাইটির সম্পাদক পিয়ার্স (W.H. Pearce)-কে তিনি লেখেন:

    I beg leave to observe, that the British and Foreign School Society, bearing in the mind the usages and customs of the Hindoos, have sent out Miss Cooke to educate Hindoo females, and that I fear none of the good and respectable Hindoo Families will give her access to the women’s Apartment, nor send their females to her school if organized. They may be all convinced of the utility of getting their female children taught at home in Bengalee, by their domestic school masters, as some families do, before such female children are married, or arrived to the age of 9 or 10 years at farthest.

    সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের অভিভাবকদের পাশাপাশি তৎকালীন সরকারি শিক্ষা দফতর যেমন নারীশিক্ষা সম্পর্কে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি, তেমনই বিষয়ে দেশীয় ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলিকে সাহায্য করতেও এগিয়ে আসেনি ফলত ১৮৩০ নাগাদ এই সব বিদ্যালয়ের অধিকাংশই বন্ধ হয়ে যায়।

    স্ত্রীশিক্ষাবিধায়ক -এর দ্বিতীয় ভাগস্ত্রীলোকের বিদ্যাভ্যাসের প্রমাণ’- গৌরমোহন লিখেছিলেন

    যদি বল স্ত্রীলোকের বুদ্ধি অল্প, একারণ তাহাদের বিদ্যা হয় না, অতএব পিতা মাতাও তাহাদের বিদ্যার জন্য উদ্যোগ করেন না, কথা অতি অনুপযুক্ত; যে হেতুক নীতিশাস্ত্রে পুরুষ অপেক্ষা স্ত্রীর বুদ্ধি চতুর্গুণ ব্যবসায় ছয়গুণ কহিয়াছেন এবং এদেশের স্ত্রীলোকদের পড়াশুনার বিষয়ে বুদ্ধি পরীক্ষা সংপ্রতি কেহই করেণ নাই এবং শাস্ত্রবিদ্যা জ্ঞান শিল্পবিদ্যা শিক্ষা করাইলে যদি তাঁহারা বুঝিতে গ্রহণ করিতে না পারেন, তবে তাঁহারদিগকে নির্বোধ কহা উচিত হয় দেশের লোকেরা বিদ্যা শিক্ষা জ্ঞানের উপদেশ স্ত্রীলোককে প্রায় দেন না বরং তাঁহাদের মধ্যে যদি কেহ বিদ্যা শিখিতে আরম্ভ করে তবে তাঁহাকে মিথ্যা জনরব মাত্র সিদ্ধ নানা অশাস্ত্রীয় প্রতিবন্ধক দেখাইয়া ব্যবহার দুষ্ট বলিয়া মানা করাণ

    দেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের পরে, এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করে। নারীশিক্ষার বিষয়ে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একদল তরুণ নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেন ইয়ং বেঙ্গলের সদস্যরা পার্থেনন, এনকোয়্যারার, জ্ঞানান্বেষণ ইত্যাদি পত্রপত্রিকায় নারীশিক্ষার সমর্থনে লেখালেখি শুরু করেন। ১৮৪৫- উত্তরপাড়ার জমিদার ভ্রাতৃদ্বয় জয়কৃষ্ণ রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় উত্তরপাড়ায় বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্যে শিক্ষা সংসদের কাছে সরকারি সাহায্যের আবেদন করেন, যদিও তাঁরা সরকারি তরফে কোনও সাড়া পাননি এর বছর দুয়েক পরে, নবীনকৃষ্ণ মিত্র, কালীকৃষ্ণ মিত্র, প্যারীচরণ সরকার প্রমুখের উদ্যোগে ১৮৪৭ সালে বারাসতে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, এটিইসম্ভ্রান্তবাঙালিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বাংলার প্রথম প্রকাশ্য বালিকা বিদ্যালয়

    ১৮৪৮-এর এপ্রিল মাসে বড়লাটের আইন পরিষদের সদস্য হিসেবে ভারতবর্ষে আসেন জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন (J. Bethune) অল্প দিনের মধ্যেই তিনি শিক্ষা সংসদের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হন বেথুন দেশে পৌঁছনোর অল্প কিছু দিন পরে, ১৮৪৯- জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় আবারও সরকারের সহযোগিতায় উত্তরপাড়ায় মেয়েদের একটি অবৈতনিক স্কুল খোলার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। সরকার থেকে এবারও কোনও ইতিবাচক সাড়া তিনি পাননি। ইতিমধ্যে ১৮৪৯ সালের মে, বেথুন রামগোপাল ঘোষ, দক্ষিণারঞ্জন  মুখোপাধ্যায় মদনমোহন তর্কালঙ্কারের (ডালহৌসিকে লেখা চিঠিতে বেথুন স্বয়ং এই তিন জনের নামোল্লেখ করেছিলেন) সক্রিয় সহযোগিতায় চালু করেনক্যালক্যাটা ফিমেল স্কুল

    বেথুন নিয়ম করেন, তাঁর স্কুলে কেবল সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের চার থেকে দশ বছর বয়সী মেয়েদের ভর্তি করা হবে। এই শিক্ষা হবে অবৈতনিক এবং দূরবর্তী মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা থাকবে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসে বেথুন তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে বলেন

    এই বিদ্যালয়ের মেয়েদের প্রথমে বাংলার ভিত গড়া হবে, পরে অল্পস্বল্প ইংরেজিও শেখানো হবে তবে অভিভাবকের অনুমতি না নিয়ে, কোনও মেয়েকে ইংরেজি পড়ানো হবে না। পাশাপাশি মেয়েদের যে অজস্র শিক্ষণীয় বিষয়সূঁচ শিল্প, এমব্রয়ডারি অন্যান শৌখিন কর্ম, অঙ্কনআছে সে বিষয়েও শিক্ষা দেওয়া হবে [নজরটান সংযোজিত]

    বেথুনের ভাষণ থেকে স্পষ্ট, মেয়েদের সাধার বুদ্ধিতে কিছুটা শান দিয়ে ভাবীকালের উপযুক্ত গৃহিণী করে তোলাই ছিল তাঁর নারীশিক্ষা প্রচলনের মূল উদ্দেশ্য বিদ্যালয়ের যাবতীয় খরচ বহন করতেন বেথুন নিজে, এই বাবদ তাঁর খরচ হত মাসিক ৮০০ টাকা। অবশেষে ২১ জন মেয়েকে নিয়ে ক্যালক্যাটা ফিমেল স্কুল শুরু হয় পণ্ডিত মদনমোহন তর্কালঙ্কার, তাঁর দুই কন্যা ভুবনবালা কুন্দমালাকে প্রথম দিনেই এই স্কুলে ভর্তি করে দেন

    বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসে বেথুন তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে আরও দুটি প্রসঙ্গের অবতারণা করে নারীশিক্ষার মূল সুরটি বেঁধে দেন তিনি বাংলার ইংরেজি-শিক্ষিত যুবকদের উদ্দেশে বলেন

    I believed that you, having felt in your own person that elevating influence of a good education, would before long begin to feel the want of companions, the cultivation of whose taste and intellect might correspond in some degree to your own; that you would gradually begin to understand how infinitely the happiness of domestic life may be enhanced by the charm which can be thrown over it by the graceful virtues and elegant accomplishments of well educated women…. [নজরটান সংযোজিত]

    অর্থাৎhappiness of domestic life’ বহু গুণ বৃদ্ধি করার জন্য এই যুবকরা তাঁদের ভাবী জীবনসঙ্গিনীদের শিক্ষার ভার নেবেন যদিওin some degreeশব্দবন্ধে বেথুন তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে, তার ফলে প্রচলিত পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোটির সামান্যতম ক্ষতিও হবে না! তাঁর ভাষণের দ্বিতীয় প্রসঙ্গটি আরও মারাত্মক। ভারতবর্ষের ইতিহাসের নিজস্ব সাম্রাজ্যবাদী ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:

    Further, it was a hopeful reflection that the seclusion and the ignorance to which your females have been so long condemned do not belong to the oldest customs of your nation, that they are themselves innovations, brought in, as I believe, by a courtly imitation of your Mohammedan invaders.

    বেথুনের ভাষণে উল্লিখিত এই দুটি প্রসঙ্গেরই অবিকল প্রতিধ্বনি করে বেথুন-অনুরক্ত মদনমোহন তর্কালঙ্কার স্ত্রীশিক্ষা নামক এক দীর্ঘ প্রবন্ধ লেখেন

    এই প্রবন্ধের প্রথমাংশে তিনি বলে নেন,

    আমরা তো ভূয়োভূয় দর্শন করিতেছি শিক্ষা কার্যের উপযোগিনী যে যে শক্তিমত্তার আবশ্যক, স্ত্রী জাতির সে সমুদায়ই আছে কোন অংশে ন্যূনতা নাই; বরং পুরুষ অপেক্ষা স্ত্রী লোকের কোন কোন বুদ্ধিবৃত্তির আধিক্যই দেখা যায়। ...অতএব বালকেরা যেরূপ শিখিতে পারে, বালিকারা সেরূপ কেন না পারিবেক?

    যদিও ওই একই প্রবন্ধে তিনি নারীশিক্ষার আসল উদ্দেশ্যটি ব্যক্ত করে লিখে ফেলেন:

    যাহার সহিত চিরকাল এক শরীরের ন্যায় হইয়া বাস করিতে হয়, যাহার সুখে সুখী দুঃখে দুঃখী হইতে হয়, এবং শাস্ত্রানুসারে যে ব্যক্তি শরীরের অর্ধ বলিয়া পরিগণিত; সেই সহধর্মিনী পশুর মত ঘোরতর মূর্খ, ইহা অপেক্ষা আর কি অধিকতর কষ্ট ঘটিতে পারে?

    একই সঙ্গে নারীশিক্ষার পরিসীমাটিকে নির্ধারিত করে দিয়ে তিনি লেখেন

    তাহারা অন্তঃপুরে বসিয়া নানাবিধ শিল্পকার্য কারুকর্ম নির্মাণ করিবে তদ্দ্বারা অনায়াসে অভিলষিত অর্থেরও অধিগম হইতে পারিবে। পুরুষেরা গৃহে বসিয়া যে সকল লেখাপড়া করেন স্ত্রীজাতিরা তদ্বিষয়ে সম্পূর্ণ সাহায্য দান করিতে পারিবে। গৃহস্থালী ব্যাপারে আয় ব্যয় বিষয়ক লিখন পঠন নির্বাহার্থে যে সমুদয় লোক নিযুক্ত করিতে হয় গৃহের গৃহিণীরা নন্দিনীরা অনায়াসে তৎসমুদায় সম্পাদন করিতে যে সমর্থা হইবে তদ্বিষয়ে সন্দেহ কি? [নজরটান সংযোজিত]

    নারীশিক্ষা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে মদনমোহন আত্রেয়ী, গার্গী, মৈত্রেয়ী, রুক্মিণী, লীলাবতী, কর্ণাট রাজমহিষী, কালিদাসপত্নী, খনা, হটি বিদ্যালঙ্কার প্রভৃতি বিদূষী রমণীর উল্লেখ করলেও রাজিয়া সুলতানা, চাঁদ বিবি, নুরজাহান, জাহানারা, জেবউন্নিসা প্রমুখ কোনও শিক্ষিত মুসলমান নারীর উল্লেখ করেননি। বরং নারীশিক্ষার অভাবের কারণ হিসেবে একমাত্র মুসলমানদের দায়ী করে তিনি প্রবন্ধটিতে অবলীলায় লিখতে পেরেছেন

    কিছুকাল হইল এদেশে স্ত্রীজাতির বিদ্যাভ্যাসের প্রথা কিঞ্চিৎ স্থগিত হইয়াছে তাদৃশ প্রচরদ্রূপ নাই, ইহা আমরাও অস্বীকার করি না। ইহার কারণ কি? অন্বেষণ করিলে অতি স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হইবেক। এই দেশ যখন দুরন্ত যবনজাতি দ্বারা আক্রান্ত হইয়াছিল তৎকালে দুর্বৃত্তজাতির দৌরাত্ম্যে আমাদিগের সুখসম্পত্তির একেবারেই লোপাপত্তি হইয়াছিল। কেহ ইচ্ছানুসারে নিত্যনৈমিত্তিক ক্রিয়ার অনুষ্ঠান করিতে পারিত না। ...দুশ্চরিত্র যবনজাতির ভয়ে স্ত্রীলোকদিগের প্রকাশ্য স্থানে গমনাগমন বিদ্যানুশীলন সম্পূর্ণরূপে স্থগিত হইয়া গেল। সকলেই আপনাপন জাতি প্রাণ কুলশীল লইয়া শশব্যস্ত, স্ত্রীজাতিকে বিদ্যা দান করিবেক কি পুরুষদিগেরও শাস্ত্রালোচনা মাথায় উঠিল। তদবধি স্ত্রীদিগের অন্তঃপুরনিবাস বিদ্যাভ্যাস নিরাশ হইয়া গিয়াছে। এক্ষণে জগদীশ্বরের কৃপায় আমাদিগের আর সে দুরবস্থা নাই, অত্যাচারী রাজা নাই শুভদিন পাইয়া সকল শুভকর্মেরও অনুষ্ঠান করিতেছি। আমাদিগের লুপ্তপ্রায় অন্যান্য সদ্ব্যবহার সকল পুনরুদ্ধার করিতেছি। অতএব এমত সুখের সময়ে সংসার সুখের নিদানভূত আপন আপন পুত্র কলত্র কন্যাদিগকে কি বিদ্যারসে বঞ্চিত রাখা উচিত? [নজরটান সংযোজিত]

    সম্ভ্রান্তহিন্দুদের যুগপৎ নির্ভেজাল ব্রিটিশবন্দনা তীব্র মুসলমান বিদ্বেষের চরম নিদর্শন প্রদর্শন করে, প্রবন্ধটির একেবারে শেষে তিনি সিদ্ধান্ত নেন:

    এক্ষণে আমরা এক প্রকার স্থির করিয়াছি, এদেশের মৃত্তিকায় যথার্থ উৎসাহী যথার্থ হিতকারী মনুষ্য জন্মিতে পারে না। অতএব দেশ মধ্যে স্ত্রী শিক্ষা অথবা বিধবাবিবাহ প্রভৃতি যে কিছু মহৎকার্য যখন ঘটিবে, তাহা বিদেশীয় লোকের অর্থাৎ ইউরোপীয় জাতির হস্ত দ্বারাই সম্পাদিত হইবে, দেশের লোক কেবল হা করিয়া চাহিয়া রহিবেন১০

    পরবর্তীকালে এই একই মনোভাব আমরা একাধিক শিক্ষিত হিন্দু মধ্যবিত্তের মধ্যেও দেখতে পাব।

    যাই হোক, আমরা আবার নারীশিক্ষার প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বেথুনের স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে, ভারত সরকার নারীশিক্ষা বিষয়ে তাদের উদাসীন নীতি খানিকটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় স্কুল প্রতিষ্ঠার কয়েক মাস পরে, ১৮৫০ সালের ২৯ মার্চ বড়লাট ডালহৌসিকে বেথুন লেখেন,

    আমি প্রস্তাব করছি যে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আপনি শিক্ষা সংসদকে এই নির্দেশ দিন, আমরা যেন এখন থেকে নারীশিক্ষা তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং বিভিন্ন স্থানের উৎসাহী ব্যক্তিদের বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যথাযথ সাহায্য করি১১

    বেথুনের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বড়লাট ডালহৌসি এপ্রিল তাঁরমিনিট’- লেখেন:

    নারীশিক্ষার উদ্দেশ্য সফল করার জন্য তিনি আমাকে তাঁর পত্রে যে অনুরোধ জানিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মঞ্জুর করতে আমি সম্মত আছি এবং আশা করি আমার সহযোগীরাও তাতে আপত্তি করবেন না১২

    ওই বছরের ১১ এপ্রিল ভারত সরকারের তদানীন্তন সচিব হ্যালিডে বাংলা সরকারকে জানান

    ভারত সরকার শিক্ষা সংসদকে অনুরোধ করছে, এখন থেকে তাঁরা যেন নারীশিক্ষার তত্ত্বাবধানকেও তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব কর্তব্য বলে মনে করেন এবং এদেশীয় লোকের চেষ্টায় বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে, সেই বিদ্যালয়কে যথাসাধ্য সাহায্য করতে কুণ্ঠিত না হন১৩

    দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় বেথুন স্কুলের নিজস্ব ভবনের জন্য মির্জাপুরে ১০ হাজার টাকা মূল্যের বিঘা জমি দান করেন। এই জমির পাশেই আরও কিছুটা জমি ১০ হাজার টাকায় কিনে নেন বেথুন মেয়েদের যাতায়াতের সুবিধার কথা চিন্তা করে, অবশেষে তিনি হেদুয়ার কাছে সরকারি জমির সঙ্গে ওই দুটি জমি বদল করেন ১৮৫০ সালে স্কুলের নিজস্ব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।

    এই সময়ে বেথুন বিদ্যাসাগরকে অবৈতনিক সম্পাদকরূপে স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করলে বিদ্যাসাগর ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন অবশ্য ১৮৫১- সেপ্টেম্বরে স্কুলের নিজস্ব ভবন তৈরি হওয়ার আগেই ১২ অগস্ট মারা যান বেথুন মৃত্যুর আগে উইল করে বিদ্যালয়ের জন্য তিনি রেখে যান প্রায় ৩০ হাজার টাকার সম্পত্তি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরে, স্কুলের হাল ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করে। ছাত্রীসংখ্যা তাদের উপস্থিতির হার দিন দিন কমতে থাকে। ১৮৫১-তে স্কুলটিতে ভর্তি হয় মাত্র একজন ছাত্রী, অথচ ওই বছরে ২৭ জন মেয়ে স্কুল পরিত্যাগ করে।১৪

    এমতাবস্থায় ১৮৫১ সালের অক্টোবর থেকে তাঁর স্কুলটির সমস্ত খরচ চালাতে থাকেন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি এই সময়ে বেথুনের স্মৃতি রক্ষার্থে ক্যালক্যাটা ফিমেল স্কুল’-এর নতুন নাম হয়বেথুন স্কুল ১৮৫৬- মার্চ ডালহৌসির বিদায়ের পরে, স্কুলটি সরকারি ব্যয়ে পরিচালিত সরকারি স্কুলে পরিণত হয় সরকারের অন্যতম সচিব সেসিল বিডন (Cecil Beadon)-এর তত্ত্বাবধানে স্কুলটি আসার পরে, ওই বছরের ১২ অগস্ট সরকারকে স্কুলটির তত্ত্বাবধানের জন্য তিনি একটি পরিচালন সমিতি (Managing Committee) গঠন করার বিদ্যাসাগরকে সেই সমিতির সম্পাদক করার প্রস্তাব দেন। বিডনের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর সরকারি তরফে একটি সমিতি গঠিত হয় নবগঠিত সমিতির সভাপতি হন সেসিল বিডন এবং বিদ্যাসাগর হন সেই সমিতির সম্পাদক

    ১৮৫০ সালে বিদ্যাসাগর নামেই স্কুলটির অবৈতনিক সম্পাদক হয়েছিলেন, কারণ দীর্ঘ বছরে স্কুলটির সম্পাদক হিসেবে তাঁর কার্যকলাপের কোনও হদিশ পাওয়া যায় না। এমনকি ১৮৫৬-তেও সম্পাদক হিসেবে বিদ্যাসাগর স্কুলটিতে বেথুন প্রবর্তিত মূল নিয়মাবলি পরিবর্তন করার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন অনুভব করেননি। নারীশিক্ষাকে কেবলসম্ভ্রান্তহিন্দু পরিবারের মেয়েদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং তাদের নিছকই সেলাই-ফোঁড়াই জাতীয় গৃহস্থালির কাজে পারঙ্গম করে তোলার বিষয়ে বেথুনের সঙ্গে তাঁর যে কোনও মতবিরোধ ছিল না, ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর কলকাতার বিশিষ্ট হিন্দু পরিবারবর্গের কাছে পাঠানো বিদ্যাসাগর-স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে চোখ রাখলেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    কলিকাতা তৎসান্নিধ্যবাসী হিন্দুবর্গের প্রতি বিজ্ঞাপন’- বলা হয়

    ভদ্র জাতি ভদ্র বংশের বালিকারা এই বিদ্যালয়ে প্রবিষ্ট হইতে পারে, তদ্ব্যতীত আর কেহই পারে না, যাবৎ কমিটির অধ্যক্ষদের প্রতীতি না জন্মে অমুক বালিকা সদ্বংশজাতা এবং যাবৎ তাঁহারা নিযুক্ত করিবার অনুমতি না দেন তাবৎ কোন বালিকাই ছাত্ররূপে পরিগৃহীত হয় না১৫ [নজরটান সংযোজিত]

    বেথুন তাঁর স্কুলেধর্মীশিক্ষা দেওয়ার বিরোধী ছিলেন অথচ প্রথমাবধি তাঁর স্কুলে কেবলসদ্বংশজাতাহিন্দু মেয়েদের ভর্তি করার যে নিয়ম চালু করেছিলেন, তা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিদ্যাসাগর কোনও অস্বস্তি বোধ করেননি! যে বিদ্যাসাগর তাঁর মডেল স্কুলে চালু করতে চান ভূগোল, ইতিহাস, জীবনচরিত, পাটিগণিত, জ্যামিতি, পদার্থবিদ্যা, নীতিবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান শারীরবিজ্ঞান; সেই একই সময়ে বেথুন স্কুলের পাঠ্যসূচী হল:

    পুস্তক পাঠ, হাতের লেখা, পাটীগণিত, পদার্থবিজ্ঞান, ভূগোল সূচীকর্ম, এই সকল বিষয়ে বালিকারা শিক্ষা পাইয়া থাকে, সকল বালিকাই বাঙ্গালা ভাষা শিক্ষা করে আর যাহাদের কর্তৃপক্ষীয়েরা ইংরেজী শিখাইতে ইচ্ছা করেন তাহারা ইংরেজীও শিখে১৬

    শুধু তাই নয়, হুবহু মদনমোহন তর্কালঙ্কারের প্রবন্ধটির সুরেই এই বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়

    হিন্দু জাতীয় স্ত্রীলোকদিগের যথোপযুক্ত বিদ্যা শিক্ষা হইলে হিন্দু সমাজের এতদ্দেশের যে কত উপকার হইবে তদ্বিষয়ে অধিক উল্লেখ করা অনাবশ্যক, যাঁহাদের অন্তঃকরণ জ্ঞানালোক দ্বারা প্রদীপ্ত হইয়াছে তাঁহারা অবশ্যই বুঝিতে পারেন ইহা কত প্রার্থনীয় যে যাঁহার সহিত যাবজ্জীবন সহবাস করিতে হয় তাঁহারা সুশিক্ষিত জ্ঞানাপন্ন হন এবং শিশুসন্তানদিগকে শিক্ষা দিতে পারেন, আর স্ত্রী কন্যাগণের মনোবৃত্তি প্রকৃতরূপে মার্জিত হইয়া অকিঞ্চিৎকর কার্যের অনুষ্ঠানে পরাঙ্মুখ থাকে এবং যে সকল কার্যের অনুষ্ঠানে বুদ্ধিবৃত্তির উন্নতি পরিশুদ্ধি হইতে পারে তাতে প্রবৃত্ত হয়১৭ [নজরটান সংযোজিত]

    বাংলায় নারীশিক্ষা প্রচলনের ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগরের প্রকৃত মনোভাব বোঝার ক্ষেত্রে এই বিজ্ঞপ্তিটি অনেক দিক থেকেই সাহায্য করে। কথা স্পষ্ট হয়ে যায়) ইংরেজি শিক্ষার মতো নারীশিক্ষার আঙিনা থেকেও নিম্নবর্ণের হিন্দু দরিদ্র মুসলমানদের অপাঙ্ক্তেয় করে রাখা হবে, ) এই শিক্ষা সংরক্ষিত থাকবে কেবলসম্ভ্রান্তহিন্দু পরিবারের মেয়েদের জন্য, ) মেয়েরা বিবাহযোগ্যা গণ্য হওয়া মাত্র তাদের শিক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটবে এবং ) এই মেয়েদের আদর্শ স্ত্রী জননী হিসেবে গড়ে তোলার কারণে, কোনও অবস্থাতেই তাদের পাঠ্যক্রম ছেলেদের মতো হবে না এই বিদ্যাসাগর নাকি আমাদের নারীশিক্ষার কাণ্ডারি!

    স্ত্রীশিক্ষারসুধাময় ফলবৃহত্তর জনসমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য, ১৮৫৭ সালে দ্বারকানাথ রায় স্ত্রীশিক্ষা-বিধান নামে একটি বই প্রকাশ করেন। গ্রন্থটির প্রথম ভাগস্ত্রীশিক্ষা প্রতিপক্ষগণের আপত্তি খণ্ডন’- তিনি লেখেন,

    মাতার যেরূপ কষ্টে পুত্র সন্তানকে গর্ভে ধারণ করিতে হয়, কন্যা সন্তানকেও সেই রূপে গর্ভে স্থান দিতে হয়; তবে হতভাগ্য কন্যা সন্তানেরা কেন অত অপদার্থ হইয়া পড়ে! পুত্র কন্যাতে কিছুমাত্র প্রভেদ নাই অতএব, মাতা পিতার কর্তব্য, যে তাঁহারা যেরূপ যত্নে পুত্রদিগকে বিদ্যাভ্যাসার্থ গুরুসদনে নিযুক্ত করেন, কন্যা সন্তানদিগকেও সেই রূপে বিদ্যা দানে যত্নবান হয়েন১৮

    কিন্তু দ্বারকনাথ যতই লিখুন না কেনপুত্র কন্যাতে কিছুমাত্র প্রভেদ নাই’; তা যে পুরোমাত্রায় বিদ্যমান ছিল, সে