এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ২)

    Binary লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ | ১৭৩৪ বার পঠিত
  • ছোট খাটো মুদিখানা বা কিউবান মেমেন্টো বিক্রির হকারি মার্কা দোকান ছাড়া কিউবাতে ব্যক্তিগত মালিকানায় কোনো ব্যবসা নেই। এটা নিয়ে অবশ্য কারো সন্দেহের অবকাশ থাকার কথা নয়, কারণ এটাই নিয়ম হওয়ার কথা। আমরা অবশ্য বাজারহাট, কপোরেটিভ স্টোর সেরকম করে দেখিনি। জামা কাপড়ের দোকান-ও দেখিনি। তবে বড়োবাজারী মাড়োয়ারি-র গদি-র মতো কোনো দোকান যে নেই তা নিশ্চিত। এমনকী ওই কনসিয়ারজবাবু-ই বললেন, বিদেশিদের পাসপোর্ট ছাড়া ট্যাক্সি-তে নেওয়াও বারণ ছিল এই সেদিন পর্যন্ত। কারণ দুটো, এক বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা আর দুই, ট্যাক্সি চালকদের আয়ব্যয়-এর হিসাব ঠিক রাখা। এখন অবশ্য এই নিয়ম শিথিল হয়েছে। 'কা-ও সান্টা মারিয়া'-তে যে ষোলোটা রিসর্ট, বা অন্যান্য হোটেল/রিসর্ট কিউবা জুড়ে, তাদের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি সরকারি আর পরিচালনা আয়ব্যয়-এর একান্ন শতাংশ সরকারি, বাকি ঊনপঞ্চাশ শতাংশ বিদেশী পুঁজি, প্রধানত: কানাডা চীন ইন্দোনেশিয়া-র। ব্যবসার কথা পরে বলছি, আগে বলি যানবাহন ব্যবস্থা। কিউবাতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যাকে বলে, তা খুবই ভালো। ভালো না হওয়ার কোনো কারণ নেই। নব্বই শতাংশের ওপরে মানুষ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে। আগেই বলেছি নিজস্ব গাড়ির মালিক হওয়ার মতো সামর্থ্য সিংহভাগ লোকের নেই। আর মনে করুন একটা দেশ ধারের অর্থনীতিতে চলে না। বাড়ি গাড়ি কেনার ইনভেস্টমেন্ট (যদিও আমার মনে হলো, ইনভেস্টমেন্ট কথাটা কিউবাতে মিসনোমার) করতে গেলে আগে পাই পয়সা চুকিয়ে দিতে হয়। আমেরিকা কানাডা ইউরোপ-এর ধনী দেশ বা আমাদের ভারতবর্ষের মতো খিচুড়ি অর্থনীতির দেশ কিউবা নয়। এসব দেশে আমাদের সারাজীবন ধারেই চলে, বাড়ির জন্য তিরিশ বছরের মর্টগেজ , গাড়ির জন্য পাঁচ বছরের মর্টগেজ, ছেলে মেয়ের কলেজের মাইনে দিতে ধার। আমাদের ধারের শেষ নেই। পুরো জীবনটাই ব্যাংকের জুতো চেটে কেটে যায়। তো, কিউবায় ধার বস্তুটি দুর্লভ। যে আটদিন কিউবাতে ছিলাম, কোনোখানে কোনো এটিএম দেখিনি। হতে পারে হাভানা'র মতো বড়ো শহর আমরা যাইনি, কিন্তু তাও। কোনো দোকানে ক্রেডিটকার্ড ব্যবহার করার সুযোগ পাইনি। রিসর্টে একটা ব্যাংক কাউন্টার ছিল, সেখান থেকে-ই একমাত্র ভিসা ব্যবহার করে নগদে পেসো তুলতে হয়েছে দরকার মতো।

    যাকগে, ধান ভাংতে শিবেরগীত হয়ে গেল। বাড়িগাড়ি কেনা নিয়ে-ও পরে বলছি। জন পরিবহন বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট তিন রকম বাস। টুরিস্টদের জন্য গোভিয়াটা পরিবহন। আমজনতার জন্য ভিয়াজুল আর অস্ট্রো বাস। বাসগুলো কোনদেশ থেকে আমদানি করে ঠিক জানি না, কিন্তু আমরা গোভিয়াটা আর ভিয়াজুল বসে চড়েছি। কিউবাতে কোনো ভারী শিল্প নেই। তার প্রধান কারণ অর্ধশতকের আমেরিকান এম্বারগো, সে নিয়ে-ও পরে বলবো। এখানে বললাম এই কারণে যে, সব রকম গাড়িঘোড়া এদের আমদানি করতে হয়। বাস আগে আমদানি হতো সোভিয়েত রাশিয়া থেকে, এখন প্রধানত: আসে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া আর কানাডা থেকে। বাস গুলো খুবই আধুনিক মানের। হ্যাঁ, টুরিস্ট ছাড়া সাধারণ কিউবানরা-ও একই রকম বাস ব্যবহার করে। শুনেছিলাম হাভানা সাবারবান-এ লোকাল ট্রেন-ও চলে, আমরা হাভানা যাইনি তাই দেখিনি।

    বাসের কথা যখন উঠলো তখন আরকেটি গল্প শুনুন। ওই চব্বিশে ডিসেম্বর, যেদিন আমরা বোলেরোর ট্যাক্সিতে চড়ে রেমেদিওসে কার্নিভাল দেখতে গেলাম, সেদিন-ই ভোরবেলা গেছিলাম জীপসাফারি। আমরা সকাল সাড়ে সাতটায় প্রতি:কৃত্য সেরে ব্রেকফাস্ট সেরে রেডি হয়ে লবিতে এলাম। রিসর্টে ব্রেকফাস্ট-র বিপুল আয়োজন। বাফে-তে অন্তত পঞ্চাশ রকমের পদ। দশ রকমের পাঁউরুটি। ওমলেট, সেদ্ধ, আধাসেদ্ধ, সানিসাইড ছাড়াও হাতে গরম ডিম ভেজে দিচ্ছে একজন মেয়ে। সসেজ-এরই আরো দশ রকম পদ। আমি মানে মানে পেট ঠেসে খেয়ে নিতাম। ব্লাডপ্রেসার আর ওবেসিটি-র মুখে ছাই। যাগ্গে যাক। লবিতে বসে আছি, পৌনেআটটা নাগাদ একটা গোভিয়াটা বাস এলো। একটা মিষ্টিমতো মেয়ে নেমে আমাদের ডেকে নিয়ে গেল। ওই নাকি আমাদের সারাদিনের গাইড। মেয়েটার সাতাশ আঠাশ হবে। দেখতে একদম আমার এক তুতো বোনের মতো। পরে বললো ও নাকি দশ শতাংশ সাদা, কুড়ি শতাংশ হিস্প্যানিক, পঁচিশ শতাংশ আফ্রিকান ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে অনায়াসে আমাদের দেশি বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। নাম বললো এলিন। তারপর আরো দু তিনটে রিসর্ট থেকে আমাদের মতো আরো কিছু টুরিস্ট নিয়ে আরো চল্লিশ মিনিট চলে, আমরা জীপ টার্মিনাল-এ এলাম।

    একটা ব্যাপার আমি কিউবা আসা ইস্তক খেয়াল করেছি, যে টুরিস্ট আছে অনেক কিন্তু হৈচৈ হুরুমতাল, যেকোনো সাইট সিইং স্পটে হাজার হাজার লোকের মেলা, দশটা কোম্পানি দশ রকম সাইটসিইং ট্যুর অফার করছে এরকম কিছু নেই। সোজা কথা টুরিস্ট বাণিজ্য নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা নেই, কারণ সব কিছুই সরকারের। এর মোদ্দা বটমলাইন ভালো কি খারাপ জানি না, যেমন আমার বৌ আর মেয়ের হইচই ছাড়া নিস্তরঙ্গ ব্যাপারটা সেরকম পছন্দ হয় নি। তো, জীপ টার্মিনাল-এ এসে দেখি আমাদের জন্য অনেকগুলো সুজুকি জিম্নি সার বেঁধে রাখা রয়েছে। পরিবার প্রতি একটা। ভেতরে ড্রাইভার নিয়ে চার জনের বসার জায়গা। নিজেদের ড্রাইভ করতে হবে, সামনে থাকবে পাইলট জীপ। সব মিলিয়ে দশটা জীপ থাকবে আমাদের আর পাইলট জীপ নিয়ে এগারো। নিজে চালাতে না চাইলে, ড্রাইভার পাওয়া যায়, তার জন্য আলাদা পেসো দিতে হবে। জীপগুলো ম্যানুয়াল স্ট্যান্ডার্ড শিফ্ট, সেই নিয়ে আমার একটু ভয় ছিল, কারণ ম্যানুয়াল শিফ্টে আমার হাত ত্যামোন পোক্ত নয়, তাও দুগ্গা বলে বসে পড়লাম আমাদের জন্য বরাদ্দ করা জীপে।

    জীপসাফারি-র মোদ্দা ব্যাপারটা ছিল কিউবা-র গ্রামাঞ্চল দেখা। যৌথখামার দেখা। এনিম্যাল ফার্মিং, ডেয়ারি এইসব দেখা। তারপর বনাঞ্চল রক্ষা নিয়ে ওদের উদ্যোগ, যেটাকে নাম দিয়েছে 'ফ্লোরা আর ফণা' সেসব দেখানো। সুগারকেন চাষ নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা। ইত্যাদি প্রভৃতি। আগেই বলেছি কিউবা মূলত: কৃষিনির্ভর দেশ। এলিন মেয়েটি দেখলাম বেশ পড়ুয়া টাইপের। গাইডের কাজ যখন করছে, যা দেখাচ্ছে, সেটা নিয়ে নিশ্চই পড়াশোনা থাকবে, ভালো করে বলতেও পারবে, কিন্তু অনেক আনতাবাড়ি প্রশ্নের বুদ্ধিদীপ্ত জবাব দিচ্ছে অনায়াসে। বললো, কিউবার প্রধান কৃষিজাত দ্রব্য আঁখ। এটা অবশ্য নতুন কিছু তথ্য নয়। তিন চার দশক আগে কিউবার অর্থনীতি প্রধানত চিনির ওপর নির্ভরশীল ছিল। চিনি উৎপাদন আর রপ্তানির ওপর। এলিন বললো, এখন নাকি চিনি অনেক কম এক্সপোর্ট হয়। সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙে যাওয়ার পরে, কিউবা'র চিনি নির্ভর অর্থনীতি আসতে আসতে নিষ্ক্রিয় হয়ে এসেছে। এখন চিনি মূলত: দেশে-র মানুষে-র জন্য উৎপাদন হয়। কিন্তু আখ থেকে চিনির গাদি হিসেবে তৈরী হয় গুড়, মানে আমরা যাকে বলি আখিগুড়। এই গুড় থেকে তৈরি হয় কিউবার এক প্রধান অর্থকরী পণ্য, কিউবান রাম। সত্যি কথা বলতে কি অর্থনীতি নিয়ে বেশি বকবক করার ইচ্ছে ছিল না, চিনি গুড় আর রামের কথা বললাম এই কারণে, যে কিউবান রাম অতি উৎকৃষ্ট। হাভানাক্লাব তো আমার অসাধারণ লেগেছে। রিসর্টে, খাবার টেবিলের সামনে ছোট ছোট গ্লাসে তরমুজ আর আনারসের স্মুথি রাখা থাকতো, আর নানারকম বোতলে, নানা গ্রেড-এর হাভানা ক্লাব। যেকোনো স্মুথি-র সাথে হাভানা ক্লাব এককথায় অতিসুস্বাদু। অর্থকরী ফসল আঁখ ছাড়া, চাষ হয় তামাক। কিউবাতে কারখানা বলতে ব্রূয়ারি আর সিগার ফ্যাক্টরি। কিউবান সিগার-এর এখনো দুনিয়া জোড়া চাহিদা। আমাদের সাথে যতজন টুরিস্ট ছিল, রিসর্টে, এয়ারপোর্টে , রাস্তায় সক্কলকে কার্টোন ওপরে কার্টোন সিগার কিনতে দেখেছি। আমায় রিসর্টের একজন রিসেপসনিস্ট বললো, কিউবান সিগার-এর মূলত: তিনটে ব্র্যান্ড, কোহিবা, মন্তেক্রিস্টো আর গুয়ান্তানামেরা, উৎকর্ষের দিক থেকে ওই অর্ডারে। কোহিবা সবচেয়ে দামি।

    সুজুকি জিম্নি প্রথমে কিছুক্ষন পাকারাস্তায় চালালাম। রাস্তার দুধারে গ্রামীণ কিউবা। ইঁট সিমেন্টের ছোট ছোট বাড়ি। সব একতলা। ছাদ আমাদের মতো সমতল নয়, দুইদিকে ঢাল করা। তবে নিরক্ষইও জলবায়ুতে এরকম ডিজাইনের মানে ঠিক বুঝলাম না। মনে হয় পুরোনো স্প্যানিশ কালচার ছাড়তে পারেনি তাই। বাড়িগুলো যে খুব ছিমছাম তা বলবো না, কিন্তু গরিবী-র চিহ্ন ত্যামোন নেই। কিছু বাড়ি রংকরা চকচকে, কিছু পুরোনো তবে একেবারে দৈন্যদশা কোনোটাই নয়। প্রায় সব বাড়ির সামনে একচিলতে জমি, তাতে কোথাও কোথাও রকিং চেয়ার, জামা শুকোনোর দড়ি, সাইকেল এইসব। কোনো কোনো বাড়িতে মোটরসাইকেল দাঁড় করানো আছে, কিন্তু কোনো বাড়িতে গাড়ি নেই। আমি অন্তত সারাদিনে প্রায় তিনশ বাড়ির সামনে দিয়ে গেছি, একটাও গাড়ি পার্ক করা আছে দেখতে পাইনি।

    তবে খুব ভাল লাগলো বাচ্চাদের দেখে। আসলে আমরা প্রায় এগারোটা সুজুকি জিম্নি লাইন করে চলছিলাম। যে রাস্তায় বাস আর ইউটিলিটি ভেহিকল ছাড়া যন্ত্রসকট চলেইনা বলতে গেলে, সেই রাস্তায় একসঙ্গে এগারোটা সুজুকি জিম্নি চলেছে, সেটা দ্রষ্টব্যঃ বস্তু তো বটেই। ওরা হয়তো হপ্তায় দুই/তিনদিন দেখতে পায়। প্রায় প্রতিটা বাড়ির সামনে দেখলাম তিন থেকে দশ বারো বছরের ছেলেমেয়েরা হেসে হেসে আমাদের হাত নাড়াচ্ছে। ছোটরা মা'এর কোলে চড়ে, বড়োরা বাড়ির গেটের সামনে এসে। একটা বাচ্চাকেও দেখলাম না ম্যালনারিস্ট। প্রত্যেকে দোহারা স্বাস্থ্যজ্জ্বল। মাথায় রুখুশুখু চুল সবার। গায়ে সব্বার মোটামুটি সুন্দর জামাকাপড়। ছেঁড়াখোঁড়া, ময়লা কুড়িয়ে পাওয়া নয় কিছুতেই।

    এলিন মেয়েটা তিনটে ভাষা বলতে পারে। স্প্যানিশ তো ওর মাতৃভাষা, তাছাড়া ইংরেজিটা বেশ ভালোই বলে, এই প্রথম আমি সাবলীল ইংরেজি বলা কাউকে দেখলাম। এছাড়া ফ্রেঞ্চ-ও জানে বললো, কারণ কানাডিয়ান ফ্রেঞ্চ টুরিস্ট কিউবাতে আসে সবচেয়ে বেশি। তো, আমাদের দুপুরের দিকে নিয়ে গেল যৌথ খামার দেখাতে। যেখানে নিয়ে গেল সেখান মূলত খাদ্য উৎপাদন হয়। প্রথমেই বলে রাখা ভালো, কিউবার চাষি আর কানাডা আমেরিকার চাষি এক নয়। বরং সোশ্যালস্ট্রাটা-তে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের সাথে তুলনা করা চলে। কিন্তু পুরোটা সেরকম নয়। কিউবাতে, কৃষি জমি সরকারের, জমিতে যদি বাড়ি করে থাকে কোনো চাষি, শুধু সেই জমিটুকু কৃষকের নিজস্ব। কৃষিজমি যেহেতু কারো নয়, তাই কৃষিজমি বিক্রীবাটার প্রশ্ন-ই নেই। চাষি-র জন্য বরাদ্দকরা জমিতে চাষি চাষ করবে, সরকার থেকে প্রতিবছর উৎপাদনের টার্গেট করা আছে, টার্গেট পূরণ হলে সেটুকু ফসল সরকার উৎপাদন খরচ থেকে বেঁধে দেওয়া সামান্য বেশি মূল্যে কিনে নেবে। অতিরিক্ত ফসল চাষির নিজের ব্যবহারের জন্য। ফসল টার্গেট থেকে কম হলে সরকার ভর্তুকি দেবে।

    যৌথখামারে দেখলাম, আলুচাষের জন্য জমি তৈরী হচ্ছে। কানাডার মতো একজনের মালিকানাতে একর একর জমি তো নেই, একজনের কাছে বড়োজোর একটা ফুটবল মাঠের সমান জমি চাষ করার দ্বায়িত্ব। তো অত্যাধুনিক কৃষি সরঞ্জাম এখানে লাগে না। ট্রাক্টার-এর প্রয়োজন হয় না। দেখলাম একজন তাগড়াই দুটো গরু নিয়ে জমিতে লাঙ্গল দিচ্ছে। আদ্যিকালের মতো।

    সেই লাঙ্গলচাষির সাথে দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম। লাঙ্গল ধরে, গরু কে হ্যাট হ্যাট বলে দশ গজ পথ নিয়ে গেলাম, ওই চাষি-ই দেখিয়ে দিলো।

    মনে হল, তাহলে শুধু ক্রেডিট কার্ড নয়, সমাজতান্ত্রিক কিউবা অনেককিছুতেই সভ্যতার গোড়ার দিকে।

    (চলবে)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ | ১৭৩৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Du | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ০১:৩০64650
  • বাহ ভালো হল সামনের বছর আমরাও যাবো ভাবছি।তার আগে একটা ভালো ছবি পেয়ে যাচ্ছি বাইনারির লেখায়।
  • MR | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:৫৬64651
  • আমি একবার এক কিউবান আমেরিকান ১২ ক্লাসের ছাত্রীর সাথে কথায় কথায় আমার শহর দেশ, তার সাহিত্য মায় রবীন্দ্রনাথ পর্য্যন্ত চলে গেছিলাম। সেই মেয়েটি অবাক করে আমায় বল্লো যে সে টেগোর কে জানে। কারণ হাভানায় ওর statue আছে।
  • | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৪১64652
  • বাহ বাহ বাহ।

    দুটো কথা।
    এক আখ - আঁখ নয়, আঁখ হল গিয়ে হিন্দিতে চোখ।
    দুই তুমি প্রথম ব্লগটার নীচেই বাকী পর্বগুলো অ্যাড করতে পার, তাহলে একজায়গায় পড়তে সুবিধে হয়। লগিন করে ঐ প্রথম ব্লগ খুললে দেখবে একদম নীচে একজায়গায় একটা পুঁচকে ড্রপডাউন আসছে। "বিভাগ - Comment ইত্যাদি। কমেন্টটা বাই ডিফল্ট, ঐ ড্রপ ডাউনের দ্বিতীয় অপশান হল Add to original post নাকি First Post এমনি কিছু একটা। ঐটে সিলেক্ট করে নিলেই পরপর যোগ করে যাওয়া যাবে।
  • কল্লোল | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৪৫64653
  • দম বন্ধ করে পড়ছি।
  • Binary | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:০৭64654
  • দ, আঁখ টা ডিফল্ট এসে যাচ্ছে। রিভিশন করে কারেক্ট করলাম কিন্তু কিছু মিস হয়ে গ্যাছে :)
  • Binary | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ০৬:৩০64658
  • স্বাতী, পরে লেখার চেস্টা করবো, অপাতত বলি, ভর্তুকিটা অটোমটিক। আমি যা জেনেছি, চাষের খরচ-ও সরকার-ই দেয়, পার টার্গেট, উদ্বৃত্ত, ডেফিসিট যাই হোক না কেন। সাধারন কিউবান চাকরি ব্যব্সা চাষ বাস যাই করুক না কেন, ইকোনমিক ডিসপ্যারিটি হওয়ার সুজোগ নেই বললেই চলে,
  • স্বাতী রায় | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ০৬:৫৪64655
  • নিজের কোনদিন যাওয়া হবে না... লেখা পড়েই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই। খুব ভাল লাগছে। ... জানতে ইচ্ছে হচ্ছে তাহলে ওদের অরথনীতির মূল ভিত্তি কি? চাষ কম হলে ভর্তুকি দিতেও তো পয়সা লাগে, সরকার সে পয়সা পায় কোত্থেকে ...... আশা করছি পরের কোন না কোন পর্বে উত্তর পাব।
  • প্রতিভা | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ০৭:৫৭64656
  • হ্যাঁ, এক জায়গায় হলে পড়তে খুব সুবিধে।
  • de | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ১১:৫৭64657
  • খুব ভালো লেখা হচ্ছে - ভাবছি বুড়োবয়সে কিউবাতেই গিয়ে থাকার চেষ্টা করবো কিনা ঃ))

    কি সুন্দর সিস্টেম -
  • Binary | ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:২৬64649
  • .
  • কল্লোল | ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৪৯64659
  • আমি একজন বাঙ্গালী টেকনোক্র্যাটের কাছে শুনেছি, (উনি ১৯৮০র দশকে কিউবায় একটা বস্ত্র কারখানায় কাজ করতে গেছিলেন) কিউবায় সবচেয়ে বেশী মাইনে ডাক্তারদের, তারপরেই ইনকাম লাইনে থাকতো সাফাই কর্মীরা। কারখানায় সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন বেতনের ফারাক ছিলো সামান্য। আর ট্যাক্সিতে একা উঠলে দ্রাইভারের পাশে বসাটা সাধারন নিয়ম।
  • সিকি | ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:৫৫64660
  • আহা, আহা, অহো!

    কিউবার জন্য পিআর পাওয়া যায় না?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন