• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • শনিবারের বারবেলা

    Jhuma Samadder
    বিভাগ : আলোচনা | ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ | ২১ বার পঠিত
  • শনিবারের বারবেলা
    ঝুমা সমাদ্দার
    শনিবার । হাফ ছুটি । কালবৈশাখীর মেঘ আকাশছেয়ে কালো করে এসেছে । দূর থেকে একটার পর একটা গাছের মাথা নাড়াতে নাড়াতে ঝড়টা এগিয়ে আসছে । শুকনো পাতা , বাঁদর লাঠি , তুলোর বীজ ,আমের কুশীতে বাগান , উঠোন ভরে ফেলেছে ।
    এমন একটা দুপুরের পু..রোটাই এক্কেবারে আমার । কোনো 'করতে হবে'র ভাগীদার নেই । স্কুলের যতো হোমটাস্ক থাক পড়ে , কাল তো ছুটি । আঃ , এইবেলা একটা গল্পের বই নিয়ে শুয়ে পড়া যাক , কিম্বা হাঁ করে বসে থাকলেও কারোর কিচ্ছু বলার নেই ।
    এমনিতেই আমি 'বড়ো হাঁ-করা' মেয়ে । কোথাও কিছু নেই , হাঁ করে ভ্যাবলা হয়ে বসে থাকতে কোনো জুড়ি নেই আমার ।
    রোববারের পুরো ছুটিটার চাইতে শনিবারের হাফ ছুটিটা অনেক বেশী আকাঙ্খিত ছিল । গল্পের বই নিয়ে খাটের তলায় ঢুকে পড়া (গরমের দুপুরে লু- এর ভয়ে আড়াল খুঁজতে খাটের তলাটাই উপযুক্ত স্থান ছিল), কিম্বা পেছনের বারান্দায় রাখা তোলা উনুনটার শুকনো মাটিতে জলের ছিটে দিয়ে গন্ধ শোঁকা ,এমনি কতো একলা দুষ্টুমির সময় ছিল সেটা ।
    একলা থাকতে ভারী ভালো লাগত আমার । গরমের দুপুরে কালবৈশাখীর সম্ভাবনায় কালো হয়ে আসা দিনে , পেছনের বারান্দায় চৌবাচ্চার উপর পা ঝুলিয়ে বসে , বুক ভরে দূর থেকে ভেসে আসা ফুলের গন্ধ নিতে , মনে মনে কোথাও হারিয়ে যেতে , ভারী ভালো লাগত ।
    ওদিকে মনে মনে ষোলো আনা ইচ্ছে ছিল এ্যডভেঞ্চারের । মনে হত ,কোনোদিন কিছু একটা করেই ফেলব । শুধু সাহসে কুলোতো না ।
    মাঝে মাঝে মাঠে মোষ চরাতে আসত কোনো বাচ্চা ছেলে । একপাল মোষ নিয়ে চরাতে আসা ওই ছোট্ট ছেলেটাকে কেমন 'হি ম্যান' মনে হত । হাতে একটা লাঠি । যদিও তার ব্যবহারের দরকার হতো না । অমন বিশাল জন্তুগুলো এমনিতেই বড়ো শান্তিপ্রিয় , খুব একটা অবাধ্য হত না । ছেলেটাও তেমনি নিশ্চিন্তে মোষের পিঠের ওপর শুয়ে থাকত । 'ইস্ , বড় হয়ে আমি কোনোদিন মোষ চরাব , ঠিক ।'
    তেমন বড় ধরনের দুষ্টুমিও করে উঠতে পারিনি কোনোদিনই । বরাবরের ভীতু , হাঁদাগোবরা আমি , কোনো দুঃসাহসী কাজই আমার দ্বারা হয়ে উঠত না । পেয়ারা গাছের যেখানটাতে মোটা কান্ডটা দু ভাগ হয়ে গেছে ,সেখানে সব্বাই উঠে পড়লেও আমি বরাবর ডাহা ফেল মেরে গেছি ।
    সামনের বড় ড্রেনটা , যেটাকে ছোট্ট ছোট্ট ছাগলছানাগুলো পর্যন্ত কেমন অকুতোভয়ে পার হয়ে যেত , আমিও যে বার কয়েক চেষ্টা করিনি , এমনটা নয় , সাহস করে এগিয়ে গেছি , পা বাড়িয়েও দিয়েছি , কিন্তু তারপরই পায়ের নীচে কালো গভীর ড্রেনটার দিকে তাকিয়ে পায়ের তলা সির্ সির্ করে উঠেছে ভয়ে । ব্যস , এ্যডভেঞ্চার ওখানেই শেষ ।
    বেশ বাহাদুর মনে হত , পাড়ার দাদা , কাকুদেরও । যখন দেখতাম , তাস নিয়ে কেমন অসাধারণ দক্ষতায় ফটাফট মিশিয়ে ফেলছেন , হাতের কায়দায় উড়িয়ে দিয়ে বাঁটোয়ারা করে ফেললেন ,' আঃ , বড় হয়ে আমিও একদিন তাস-ওস্তাদ হবো' ।
    এমনি কত কি যে হবো , বড় হয়ে । 'সাইকেল চালানো ওস্তাদ' ,' তুড়ি মারা ওস্তাদ' ,'শিস দেওয়া ওস্তাদ' এমন কি 'একবারে দুটো সিঁড়ি টপকে দৌড়ে দোতলায় ওঠা ওস্তাদ' পর্যন্ত । কিন্তু এসবের কাছাকাছি গিয়েও শেষ অবধি ক্ষমতায় কুলোতো না ।
    তো , সেই কালবৈশাখীর অন্ধকার ঘনিয়ে আসা শনিবারের দিনে , সামনে এমন একটা অবশ্যম্ভাবী বিপর্যয় , পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা এত্তটা সময় , কি যে করি , কি করলে যে সময়টুকুর প্রতি যথোপযুক্ত সুবিচার হয় ?
    এমন সময় দেখি ,দূরের গাছের মাথা গুলো ভেঙে পড়ছে , ঝড়ে গাছের ডাল ভাঙলো ? কিন্তু গাছের ডাল তো এখন ভাঙার কথা নয় , সে তো ভাঙবে এক পশলা বৃষ্টির পর । জানিই তো আমি ।
    নাঃ ,কাছে আসতে বোঝা গেল ,ঝড় নয় , হাতি , পিঠে মাহুতকে নিয়ে । (সে তখন প্রায়ই সেখানে হাতি দেখাতে নিয়ে আসত মাহুত, চড়ানোও হত বাচ্চাদের হাতির পিঠে ।)লোকটি হাতিকে নিয়ে ,নাকি হাতি লোকটিকে নিয়ে এলো ,কে জানে ।
    শুঁড় মাথায় ঠেকিয়ে বাড়িয়ে ধরলেই মা-কাকিমা'রা সব চাল ,ডাল , আলু ,পয়সা বাড়িয়ে দিচ্ছেন । হাতির সওয়ার এক মুঠো চাল ,কিম্বা একটা আলু হাতির মুখে ফেলে বাকিটা থলেতে পুরে ফেলছেন । হাতি কিচ্ছুটি মনে করছে না । তৎক্ষনাত শুঁড় বাড়িয়ে সজনে , কুল ,বেল গাছের ডাল ভেঙে ভেঙে মুখে পুরে ফেলছে ।
    'আহা ! বেচারা , নিশ্চয়ই কাঁটার খোঁচা খাচ্ছে , তাই ওর চোখের পাশে অমনি জলের শুকনো দাগ । হাতিওয়ালা নিশ্চয়ই খেতে দেয় না ওকে । ওইটুকু তো চাল , ওতে ওর অমন বিশাল পেটের এক কোনাও ভরবে না , তাও দেয় না । আমি বড় হয়ে একদিন হাতিওয়ালা হব , পেট ভরে খেতে দেব ।' - এবার 'মাহুত-বাহাদুর' হওয়ার স্বপ্ন দেখতে দেখতেই হু হু করে এসে পড়লো ঝড়টা , তারপরই বৃষ্টি । যেমন তেমন নয় , শিলা বৃষ্টি । বড় বড় শিল পড়ছে । লোকটি চট করে নেমে এসে হাতিকে গাছের নীচে দাঁড় করিয়ে নিজে হাতির পেটের নীচে ঢুকে পড়ল । 'বা রে ! ভারী মজা তো ! এদিকে খেতে দেয় না ,ও দিকে হাতিকেই ছাতা বানানো !' রাগের চোটে লোকটিকে শাস্তি দেওয়ার বাসনায় কি করা যায় ভাবছি , দেখি হাতিটার কোনো হেলদোল নেই । সে দিব্যি বেল গাছের ডাল ভেঙে ভেঙে মুখে পুরে চলেছে নির্বিকারে ।অত ভালোমানুষি কিন্তু ভালো নয় ,যাই বলো । বৃষ্টি একটু কমতেই ভাবছি ঢিল তুলে এগিয়ে যাব কি না , লোকটিকে শাস্তি দেওয়া খুব জরুরি ।
    “ আও মুন্নি , হাঁথি পে চড়না হ্যায় ?” ...... বাপরে , আর থাকে সেখানে ? এমন বাহাদুর আমি !
  • বিভাগ : আলোচনা | ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ | ২১ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • de | 24.139.119.172 (*) | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৫৬61235
  • ভারী সুন্দর!
  • AS | 125.187.58.104 (*) | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৩:০০61236
  • চমৎকার
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত