এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • সৌদামিনীর ঘরে ফেরা - পর্ব ৩

    Kishore Ghosal লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২৯২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)


  • “সবাই এমন ঘুমিয়ে পড়ল? বাবা, ও বাবা। মা, ও মা? তিওয়ারিদা? অ্যাই তিওয়ারিদা”?
    বন্ধ সদর দরজায় মৃগাঙ্ক দুম দুম আওয়াজ আর চিৎকারে পাড়া মাথায় তুলে ফেলল। বাড়ির লোকের দোষও দেওয়া যায় না। এতো আর কলকাতা শহর নয়, রাত বারোটাতেও ট্রাম গাড়ি চলবে, টানা রিকশা নিয়ে বিহারি রিকশাওয়ালা দাঁড়িয়ে থাকবে বড়ো রাস্তার মোড়ে। রাত এগারোটা মানে, হুগলির এই প্রত্যন্ত গ্রামে মধ্যরাত।

    মৃগাঙ্কর এত দেরি হওয়ার কথা নয়। মেস থেকে বেরিয়ে হাওড়াগামী ট্রামে ছুটে এসে উঠে পড়েছিল। চিৎপুর পৌঁছে দেখল রাস্তায় ভয়ংকর জ্যাম। আধঘন্টা ট্রামেই বসেই থাকল। তারপরও ট্রাম এক চুলও নড়ল না দেখে হাঁটা শুরু করেছিল। পথে নেমেও যাত্রীদের ভিড়ে হাঁটা দায়। শনিবারের সন্ধ্যে, ঘরমুখো বঙ্গসমাজ দু হাতে চটের থলি নিয়ে পথে নেমেছে ঘরে ফেরার জন্যে। হাওড়া স্টেশনে যখন ঢুকল মৃগাঙ্ক, ছটা আটান্ন তো বটেই, সাতটা বত্রিশের লোকালটাও বেরিয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। পরের ট্রেন আটটা বাইশে। আটটা বাইশের ট্রেনটা প্ল্যাটফর্মেই ঢুকল বেশ দেরি করে, তারপর আটটা পঁয়ত্রিশে ছাড়ল। তার গ্রামের স্টেশানে পৌঁছোল যখন, ঘড়িতে তখন দশটা দশ। স্টেশান থেকে তার বাড়ি এমন কিছু দূর না হলেও, হাঁটা পথে আধ ঘন্টা তো লাগবেই।

    সদর দরজা থেকে অনেকটা জমি ছেড়ে তাদের বাড়িটা। সামনের জমিতে অনেক ফুলের গাছ, টুকটাক ফলের গাছ থাকায়, দোতলার বারান্দা ছাড়া সদর দরজাটা দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু গেটের পাশেই তেওয়ারিদার ঘর, বহুদিনের পুরোনো লোক। সারাদিন এই দরজা খোলাই পড়ে থাকে, বন্ধ হয় সন্ধের পরে। তেওয়ারিদা নিশ্চয়ই তার ঘরে নেই, থাকলে উঠে আসত ঠিক। অধৈর্য হতে হতে মৃগাঙ্ক যখন আশা ছেড়েই দিয়েছে, দোতলায় মার ঘর খুলে হাতে হ্যারিকেন নিয়ে বারান্দায় বেরিয়ে এল, দুই মহিলা অবয়ব। মা-ই হবেন, আর মায়ের পাশে বাসন্তীদিদি, মায়ের কাজের সঙ্গী, হাত নুরকুত। মায়ের অস্পষ্ট গলা শুনতে পেল, মৃগাঙ্ক।
    “খোকা এয়েচিস? দাঁড়া বাবা, দাঁড়া। বাসন্তী, হ্যারিকেনটা নিয়ে একবার যা না সদরে, তিওয়ারিজীর কী হলটা কি? বাঁচল কি মরল, কে জানে? খোকা মনে হচ্ছে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে! ডেকে ডেকে সারা হয়ে গেল, তবু আমাদের কারও কোন সাড়া নেই?”

    বাসন্তীদিদি হ্যারিকেন নিয়ে বারান্দা পেরিয়ে সিঁড়ির দিকে গেল, তারপর আর দেখা গেল না তাকে।

    মা যখন এসে দাঁড়িয়েছেন, আর চিন্তা নেই। মৃগাঙ্ক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকাল, আধখানা মরা চাঁদ, ফ্যাকাসে ঝুলে রয়েছে পশ্চিম আকাশে। তারার চুমকি দেওয়া অন্ধকার আকাশ। চারপাশে ঝিঁঝিঁর আওয়াজ। একটু দূরে একপাল শেয়াল ডেকে উঠতেই তার গায়ের পাশ থেকে দৌড়ে গেল তিনটে কুকুর। গাঁয়ে ঢোকার পর থেকে এই কুকুরগুলোই তার সঙ্গী হয়েছিল। চেনা কুকুর, এতক্ষণ অপেক্ষা করছিল, তার পিছনে।

    বিশাল আওয়াজ করে, কাঠের ভারি দরজা একটু ফাঁক করে দাঁড়াল তেওয়ারিজি, “খোঁখাবাবু আছেন কি”?
    “তা নয়তো কি, আমাকে নিশি মনে হচ্ছে? তুমি তো কুম্ভকর্ণকেও হার মানিয়ে দেবে, তেওয়ারিদাদা”।
    বাসন্তীদিদি উত্তরে বলল, “ঘুমোয়নি গো, ছোড়দাবাবু, দরজায় হুড়কো দিয়ে, বাড়ির পিছনে টহল দিতে গেছিল। আমি গে ডাকতে, তিওয়ারিদাদা বিশ্বেসই করে না, যে তুমে এয়েচো?”।

    দরজায় ঢুকে আসার পর, বাসন্তীদিদি হ্যারিকেন নিয়ে আগে আগে চলল, মৃগাঙ্ক রইল পিছনে। বাড়ির দালানে ওঠার আগে, মৃগাঙ্ক বারান্দার দিকে মুখ তুলে তাকাল, এবার মায়ের পাশে বাবাকেও দেখতে পেল।

    গতকাল অনেক রাত্রে ফিরে, মৃগাঙ্কর খাওয়াদাওয়া মিটতে বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল। সকালে এসে ঘুম ভাঙালেন মা। মাকে দেখে অবাক লাগে মৃগাঙ্কর। গতকাল রাত্রে মায়েরও শুতে অনেক দেরি হয়েছিল। অথচ আজ তিনি যখন মৃগাঙ্কর ঘুম ভাঙাতে এলেন, রোজ যে সময় স্নান করে পুজোআর্চা সেরে ফেলেন, তার এতটুকুও ব্যত্যয় হয়নি।
    “খোকা, উঠে পড় বাবা, কাল রাত্রে খুব কষ্ট গেছে তোর। নিচে চল, বাবা তোর জন্যে বসে আছে। খানকতক লুচি ভেজে দি, গরম গরম খা”।
    গতকাল রাত্রের ছেড়ে রাখা মৃগাঙ্কর ময়লা জামাকাপড়গুলো তুলে নিতে নিতে বললেন, “হ্যারে, বৌমা তোকে কিছু লিখেছে, কবে আসতে পারবে? মেয়েটা কতদিন হল নেই, পায়ে পায়ে ঘুরত, আর মা মা ডাকতো। খুব খালি খালি লাগে আজকাল”।

    গামছা নিয়ে বাথরুমে যেতে যেতে মৃগাঙ্ক বলল, “তুমি বৌমা বৌমা করছো, ওদিকে তার তো কোন হেলদোল নেই”।  মা একটু হাসলেন, বললেন, “ও সব তুই বুঝবি না, খোকা। সব মেয়েই বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ির হয়ে যায়। ও যে কি মরমে জ্বলে মরছে, সে আমি জানি”।
    “কি জানি, মা। আমি তো কিছু বুঝি না”।
    মা হাসতে হাসতে বললেন, “তোর আর বুঝে কাজ নেই, তুই নিচে আয়”।

    জলখাবারের পর নিজের ঘরে ফিরে এসে কী করবে ঠিক ভেবে পাচ্ছিল না মৃগাঙ্ক। একবার পাড়ায় গেলে হয়। অনেকদিন বাড়ির বাগানটা ঘুরে দেখা হয় নি। সেটাও ঘুরে এলে হয়। অথবা বাড়ির ছাদে। বাড়ির ছাদে বহুদূর পর্যন্ত মাঠঘাট, গাছপালা দেখতে বেশ লাগে। কিন্তু কোনটাই করল না মৃগাঙ্ক, মেহগিনির বিশাল খাটে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল। এই খাটটা আশার বাবার দান। ভাঁজ করা দুইহাতে মাথা রেখে শুয়ে, মৃগাঙ্ক ছাদের সিলিং দেখছিল, শাল কাঠের কড়ি বরগা।
    এমন সময় পিসিমার গলা পেল, “কি করছিস, খোকা? কাল অনেক রাত্রে ফিরেছিস শুনলাম”।
    বিছানায় উঠে বসল মৃগাঙ্ক, বলল, “এসো পিসিমা, এসো। বসো। কেমন আছো”? পিসিমা আসাতে একটু যেন স্বস্তি পেল মৃগাঙ্ক। পিসিমা কথা বলতে ভালোবাসেন আর এখন মৃগাঙ্কর সে কথা শোনার অখণ্ড অবসর রয়েছে।

    খাটের একপাশে বসতে বসতে পিসিমা বললেন, “আর পেরে উঠি না রে, খোকা। শরীর আর বইছে না। এমনিতে রাত্তিরে ঘুম হয় না, কাল যে কী কালঘুম ধরল, কে জানে। তুই কখন এলি, এত ডাকাডাকি করলি, কিছুই জানতে পারলাম না। বৌমা কবে ফিরছে কিছু জানিস নাকি রে, খোকা”?
    “না গো, পিসিমা, জানি না”।
    “ও মা, চিঠি পত্তর দেয় না? আমরা না হয় মুখ্যুসুখ্যু মানুষ, ক লিখতে কলম ভাঙে। বৌমা তো তা নয়, ওতো দুপাঁচ কলম লিখতে পারে”?
    “লেখে। চিঠিপত্র মাঝে মধ্যে দেয়”।
    “তাই বল। তা সেখানে কিচু লেখে নি, কবে ফিরছে। কেমন আছে”।
    “নাঃ”
    “এ বাপু ভারি অন্যায়। আর তো তুমি বাপের মেয়েটি নও। শ্বশুরঘরে এসেছ। তোমার এখন ভরা ভাদরের পরিপুণ্ণ সংসার। শ্বশুর, শাশুড়ি, বর, ঘর, গেরস্ত; আমার কথা না হয় নাই বললাম, আমি আজ আছি, কাল নেই। কবে কোনদিন গোবিন্দর ডাক আসে তার অপেক্ষাতেই আছি। এসব ফেলে এতদিন ধরে বাপ-মা-ভাই-বোনদের সঙ্গে হা হা হি হি করা শোভা পায় না, বাছা”।

    পিসিমা মৃগাঙ্কর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, মৃগাঙ্ক বিরক্ত হচ্ছে কিনা। তাঁর তেমন কিছু মনে হল না। তিনি নবোদ্যমে শুরু করলেন, “তুই পিসিমাকে যাই ভাবিস না কেন, খোকা, আমি বাপু এইসব অসৈলন মেনে নিতে পারি না। আর তোকেও বলি, পুরুষমানুষ ম্যাদামারা হলে চলে? একটু হাঁকডাক, রোখঠোক না থাকলে পুরুষমানুষকে মানায় না। তুই বাবা একটু শক্ত হ। সব কিছু যদি মুখ বুজে সয়ে নিস, সবাই যে ঘাড়ে পা চাপিয়ে দেবে, বাবা? আমি বলি কি, বৌমার বাবাকে বেশ কড়া করে একটা চিঠি লেখ। ঘরের লক্ষ্মী এত বার মুখো হলে, মা লক্ষ্মী সংসার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। চঞ্চলা হন”।

    পিছন ফিরে বসেছিলেন বলে, মা এসে কখন দরজার সামনে দাঁড়িয়েছেন, পিসিমা দেখতে পাননি। কিছুক্ষণ ঠাকুরঝির কথা শুনে, মা আস্তে আস্তে ঘরে পা দিলেন, মৃগাঙ্ককে ডেকে বললেন, “খোকা, বাড়ি এসে সেই থেকে ঘরেই তো বসে রয়েছিস। যা না, পাড়া থেকে একটু ঘুরে আয় না। তুই কলকাতায় গেলে তোর বন্ধুরা আসে, জিজ্ঞাসা করে তুই কবে ফিরবি। এতদিন পর ফিরলি, সবার সঙ্গে দেখা না করে, ঘরে বসে রয়েছিস কেন, রে? আর ঠাকুরঝি, খোকার সঙ্গে তোমার কথা শেষ হয়েছে? আমার সঙ্গে নিচেয় চলো তো, আমার হাতে হাতে একটু কাজ করে দেবে”।

    মৃগাঙ্কর বাবার থেকে বয়েসে অনেকটাই ছোট এই পিসিমার দুর্ভাগ্যের কোন সীমা নেই। মৃগাঙ্কর যখন বছর সাত আট বয়েস তখন পিসিমার বিয়ে হয়েছিল। খুব স্পষ্ট না হলেও, বেশ মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা। বিয়েবাড়ির হৈচৈ আনন্দের কথা। এ বাড়ির সবচেয়ে ছোট্ট মেয়েটির বিয়ে উপলক্ষে ধুমধাম হয়েছিল খুব। বউভাতের দিন পিসিমার শ্বশুরবাড়িতে বাবার সঙ্গে মৃগাঙ্কও গিয়েছিল। তাদের মতো পিসিমার শ্বশুরবাড়িও যথেষ্ট স্বচ্ছল, সম্পন্ন কিন্তু তাদের থেকে অনেক বড়ো পরিবার। পিসেমশাইদের অনেক ভাই বোন মিলে খুব জমজমাট আনন্দের সংসার। বউভাতের অনুষ্ঠান সেরে বাড়ি ফেরার পরদিনই বাবার কাছে ভয়ংকর দুঃসংবাদটা এসে পৌঁছেছিল। নতুন পিসেমশাই সর্পদংশনে মারা গেছেন। ঠাকুমা তখনও বেঁচে ছিলেন, মেয়ের এই চরম সর্বনাশের সংবাদে তিনি পাথর হয়ে গিয়েছিলেন।

    অপঘাতে মৃত্যুর শ্রাদ্ধশান্তি তিনদিনে হয়। সব কাজ সেরে বাবার সঙ্গে, পিসিমা এই বাড়িতে আবার ফিরে এল যেদিন, তার দুদিন পরেই অষ্টমঙ্গলায়, পিসিমার এ বাড়িতে ফিরে আসার কথাই ছিল। কিছুদিন আগেই বিয়ের সাজে পিসিমার হাসিখুশি মুখটা তখন বিষণ্ণ, অসহায় এবং বিপন্ন। পিসিমার জীবনের সমস্ত রঙ নিকিয়ে নিয়ে চলে গেছেন নতুন পিসেমশাই। পিসিমার পরনে সাদা থান শাড়ি। নির্বাক শূণ্য সিঁথি। দুর্ভাগ্য কেড়ে নিয়েছিল কপালের টিপ, সমস্ত অলংকার। তারপর পিসিমা এই বাড়িতেই রয়ে গেলেন চির জীবনের মতো।

    বড়ো হয়ে মৃগাঙ্ক শুনেছে, পিসিমার শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকে, বিশেষ করে পিসেমশাইয়ের মা, দিদিরা এবং পিসিমার অন্য জা-এরা নাকি পিসিমাকে রাক্কুসি, ডাইনী বলেছিল। পিসিমার বৈধব্য যোগের কারণেই নাকি পিসেমশাইয়ের এভাবে অপঘাতে মৃত্যু হল। “তা না হলে যে পথে গ্রামের সবাই হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে, যে রাস্তায় আশৈশব আমাদের মন্টু যাওয়া আসা করেছে, সেখানে কোনোদিন সাপ এলো না; বিয়ের পর পরই এসে গেল! আমাদের মন্টুকে সাপে নয়, খেয়েছে ওই নতুন বৌ। মানুষ নয় ও আসলে পিচেশ”। মন্টু মৃগাঙ্কর নতুনপিসেমশাইয়ের ডাক নাম। আশ্চর্য ব্যাপার হল, বাপের বাড়ি থেকে দেওয়া, ওই পিশাচ কিংবা ডাইনি পিসিমার সোনার গয়না, নগদ টাকা, দান-সামগ্রী, আসবাবপত্র, শাড়ী কাপড় চোপড় আত্মসাৎ করতে কিন্তু কোন বাধা আসেনি, শ্বশুরবাড়ির কোন লোকের তরফ থেকে। আর সেই সময়ে মৃগাঙ্কর বাবা, ঝগড়া করে সে সব জিনিষ উদ্ধার করার মতো মানসিক অবস্থাতেও ছিলেন না।

    বাইরে যাওয়ার জামা কাপড় পরে সিঁড়ি দিয়ে নিচেয় নামতে নামতে মৃগাঙ্কর মনে হল এবাড়িতেও পিসিমা নিশ্চিন্ত আশ্রয় পেয়েছে কি? বড়োদাদা ছোট বোনকে খুবই ভালোবাসেন, কিন্তু সে ভালোবাসায় একজন নারী তার নিজস্ব সংসার না পাওয়ার হতাশা কি ভুলতে পারে? এই সংসারের কোন দায়িত্ব, কোন সিদ্ধান্তেই তার মা পিসিমাকে দখল ছাড়েন না। ঠাকুমা মারা যাবার পর এই সংসারে তার মায়ের একচ্ছত্র অধিকার। তার মায়ের মনোমত না হওয়া, পিসিমার যে কোন আচরণেই মা খুব বিরক্ত হন। মুখের ওপরে বলেও দেন, “ঠাকুরঝি, তুমি শোকতাপ পাওয়া কপালপোড়া মানুষ, তুমি আর এসবের মধ্যে জড়িও না, গো”। ভাগ্যের হাতে মার খাওয়া অসহায় ওই নারীর মনে, ওইসব কথার তীক্ষ্ণ খোঁচার ক্ষতও জমে উঠছে অহরহ।

     


     
    ভেতরের কোথাও লোকজন কথা বলছে, অথচ ডাকলে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না! ভুতুড়ে বাড়ি নাকি রে, বাবা। তাও আবার দুপুর সোয়া বারোটার সময়? বিশেষ এবার বেশ জোরেই হাঁক পাড়ল।
    “কোই হ্যায়? অন্দরমে কোই হ্যায়”?
    অবশেষে বিশেষের হাঁকডাক শুনে একটি লোক বারান্দায় বেরিয়ে এল, তার মুখ দেখে মনে হল মুখের মধ্যে যেন একরাশ নিমপাতা। বাংলার পাঁচের মতো বিরক্ত মুখ। সামনে এসে দাঁড়াল, কোন কথা নেই, বার্তা নেই, বিশেষের মুখের দিকে তাকিয়েই রইল। ভাবখানা, কী বলবে তুমিই বলো। আমার কোন দায় পড়ে নি, উটকো লোকের সঙ্গে কথা বলার। অগত্যা বিশেষই কথা বলল, “দো দিন রহনে কে লিয়ে ঘর মিল শকতা হ্যায়?”
    “কিতনে”? লোকটা আকাশপানে মুখ তুলে জিজ্ঞাসা করল। নিমপাতা নয়, মুখভর্তি গুটখা নিয়ে।
    “দো দিন, বাস”।
    “উঁহুঁহঁহুঁ। কিতনে লোক”? ঘাড় নাড়িয়ে লোকটা এবার আরেকটু খোলসা করল।
    “বাস। ম্যাঁয় হি হুঁ। অওর কোই নেহি”। এই কথায় কোন উত্তর না দিয়ে লোকটা বারান্দা ধরে হেঁটে গেল এক কোণায়। বারান্দার নিচে নালির মুখে উগরে দিল মুখ ভর্তি গুটখার লালা আর থুথু। পরনের ধুতির খুঁটে মুখটা মুছে নিয়ে বলল, “ধরমশালামে অকেলে কিসিকো ঘর দেনা, নিয়ম নেহি। ইঁহা নেহি হোগা, আগে কোই হোটেলমে যাইয়ে”।
    “হীরালালজি হ্যায়”? লোকটা ভেতরের দিকে যাবার জন্যে ঘুরে দাঁড়াতে গিয়েও ফিরে তাকালো। তারপর বিশেষের মাথা থেকে পা অব্দি মেপে নিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “গুরুজিকো আপ ক্যায়সে জানতে হ্যাঁয়”?
    “ম্যাঁয় নেহি, মেরা পিতাজি জানতে হ্যাঁয়। মেরা পিতাজি বহোত দফে ইধার আয়ে থে। পিতাজিই মেরেকো বোলেঁ হ্যাঁয়, হীরালালজীকে সাথ মিলনে কে লিয়ে”।
    কিছু একটা ভাবল লোকটা, তারপর বিশেষকে হাতের ইশারায় ডাকল, বলল “অন্দর আইয়ে”।

    বারান্দায় উঠে সিঁড়ির পাশের প্যাসেজ দিয়ে ঢুকে গেল বিশেষ, সামনে সেই লোকটা। দুপাশে ঘরের দেওয়ালের জন্যে প্যাসেজটা এই দুপুরেও হালকা অন্ধকার। প্যাসেজ পার হয়ে আবার একটা বারান্দা, সামনে উঠোন। বাঁদিকে মোড় নিয়ে লোকটা একটা ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বলল, “আইয়ে”। বিশেষ দরজার বাইরে জুতো খুলে রাখল। তারপর ঘরের মধ্যে ঢুকল। কাঠের হেলানো একটা চেয়ারে বসে আছেন এক বৃদ্ধ, মাথার চুল দাড়ি গোঁফ ধবধবে সাদা। পরনে ধুতি, গায়ে একটা সাদা ফতুয়া। চোখে কালো ফ্রেমের মোটা চশমা। হাতে ইংরিজী দৈনিক। ঘরের অন্যদিকে মেঝেয় বসে একজন বয়স্কা মহিলা কিছু একটা সেলাই করছেন। একধারে একটা নিচু তক্তপোষ। তার ওপরে পাতলা তোষক, টান টান সাদা চাদরে ঢাকা।

    সঙ্গের লোকটি খুব সন্তর্পণে বৃদ্ধ লোকটির সামনে গিয়ে, সামান্য নত হয়ে করজোড়ে বলল, “গুরুজি, আপসে কোই মিলনে আয়েঁ হ্যাঁয়”।
    বৃদ্ধ ঘাড় ফিরিয়ে তাকালেন বিশেষের দিকে। চোখ থেকে নামিয়ে চশমাটা হাতে নিয়ে বললেন, “আপ মেরে কো জানতে হ্যাঁয়? লেকিন ম্যাঁয় আপকো...?”
    বিশেষ নিচু হয়ে পায়ে হাত দিয়ে বৃদ্ধকে প্রণাম করল। বৃদ্ধ হীরালালজী বিশেষের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন। বিশেষ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল, “আমি বিশেষ ভাদুড়ি। কলকাতার সুদীপ্ত ভাদুড়ি আমার বাবা। বাবা বলেছিলেন, বৃন্দাবনে এলে আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্যে”।
    হীরালালজির সাদা দাড়িগোঁফ ঢাকা মুখে এবার ফুটে উঠল প্রসন্ন হাসি। চেয়ার ছেড়ে তিনি উঠে দাঁড়ালেন, দু’হাত বাড়িয়ে বুকে টেনে নিলেন বিশেষকে। তারপর চেয়ারে বসতে বসতে বললেন, “এক কুর্সি তো লা, রামু। বাচ্চা খাড়াহি রহেগা কেয়া? অওর শুন্‌, বাদ মে সরবৎ ভি বানাকে লা”।

    এই ঘর অব্দি বিশেষকে যে লোকটি সঙ্গে এনেছিল তার নাম রামু। রামু এতক্ষণ তার গুরুজির পাশে নত হয়ে দাঁড়িয়েইছিল, গুরুজির আদেশের প্রতীক্ষায়। দৌড়ে গিয়ে একটা প্লাস্টিকের চেয়ার এনে দিতে, হীরালালজি বললেন, “বোস, বেটা বোস। তোকে যখন দেখেছিলাম, তখন তোর কত বয়েস, চার কি পাঁচ হবে? তোর মনে আছে”?
    লাজুক হেসে বিশেষ ঘাড় নেড়ে বলল, নাঃ।
    “না থাকারই কথা। কত বড়ো হয়ে গেছিস। মনে হয় যেন, এই তো সেদিন। তুই কী করছিস এখন”?
    “চাকরি। নোয়দায় থাকি”।
    “চাকরি? বলিস কি, লিখাপড়া সব শেষ? এত বড়ো হয়ে গেছিস? বাঃ, বাঃ খুব ভালো। শাদিবিহা করেছিস”?
    “নাঃ”। লাজুক হেসে বিশেষ মাথা নামাল।
    হীরালালজিও হাসলেন, বললেন, “তোরা বাঙালীরা খুব দেরি করে শাদি করিস। সুদীপ্ত কী করছে, এখন?
    “বাবা বছর খানেক হল, রিটায়ার করেছেন। বাড়িতেই থাকেন, কলকাতায়”।
    “তোর বাবা দিল্লীতে এলেই, এখান থেকে একবার ঘুরে যেত। যেমন পণ্ডিত লোক, তেমনি পড়াশোনা। এখানেই থাকত প্রত্যেকবার। অতোবড়ো প্রফেসার, কোনদিন হোটেলে উঠত না। ঘরে এসি নেই, শুধু পাংখা, আলাদা টয়লেট নেই। তবু এসে থাকত। বলত সব জায়গাতেই তো হোটেলে থাকি। এই সব জায়গায় এসে ধরমশালায় না থাকলে স্থানমাহাত্ম্যটাই টের পাওয়া যায় না। সারাদিন ঘুরে বেড়াত, শহরের অলিতে গলিতে। আর সন্ধের পর ফিরে এলে, আমরা বসতাম তিনতলার ছাদে। কতো কথাই যে হত। ধর্ম নিয়ে। ইতিহাস নিয়ে। এই বৃন্দাবন নিয়ে। গল্প করতে করতে কতদিন মাঝরাত হয়ে যেত, টেরই পেতাম না”।
    “আপনি এত ভালো বাংলা বলেন, কী করে”?
    “কেন? তোর বাবা তোকে বলে নি? আমি কলকাতায় অনেক দিন ছিলাম তো। তোর বাবা আর আমি একই স্কুলে পড়েছি। সুদীপ্ত অবশ্য আমার থেকে চার ক্লাস নিচেয় পড়ত। সুদীপ্তর আর আমার ফুটবল খেলার খুব নেশা ছিল। সেখান থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব, তোর বাবা আমাকে দাদা বললেও আমরা খুব ভালো বন্ধু”।
    “জানি, বাবা বলেছেন। আপনি হায়ার সেকেণ্ডারির পর কলকাতা ছেড়ে ছিলেন। এতদিন বাইরে থেকেও আপনি বাংলা ভোলেননি, এটাতেই অবাক লাগছে”।
    বিশেষের কথায় হীরালালজি একটু হাসলেন, বললেন, “আমি এখনও নিয়মিত বাংলা পড়ি। বই, পত্রিকা। বৃন্দাবনে অনেক বাঙালি আছে, অনেকের সঙ্গেই নিয়মিত দেখা হয়, আলাপ হয়। যে বিষয় নিয়ে তুই ভালোবেসে চর্চা করবি, সেটা তুই ভুলতে পারবি না। তোদের বঙ্কিম, শরৎ, রবি ঠাকুরের কথা ছেড়েই দে, এই সেদিনের সমরেশ, সুনীল, রমাপদ, বিমল কর - আমার ভীষণ প্রিয় লেখক ছিলেন। তবে হ্যাঁ, চর্চার অভাবে বাংলা লিখতে এখন অসুবিধে হয়”। একটু থেমে মুচকি হেসে হীরালালজি বললেন, “আমার বাংলা নিয়ে জিজ্ঞাসা করছিস, তোরা স্কুলে কোন মিডিয়মে পড়েছিস – বেঙ্গলি না ইংলিশ?”
    বিশেষ একটু অস্বস্তি নিয়ে উত্তর দিল, “ইংলিশ মিডিয়াম”। অস্বস্তির কারণ বাংলা সাহিত্যের রবি ঠাকুর, বঙ্কিম, শরতের সঙ্গে তার সামান্য পরিচয় থাকলেও, পরের যে লেখকদের নাম করলেন হীরালালজি, তাঁদের নাম শুনলেও, লেখা কিছুই পড়েনি।
    হীরালালজি বললেন, “তোদের জেনারেশনে কলকাতার বাঙালী ছেলে-মেয়েদের অনেকেই নাকি বাংলা লিখতে জানে না। সে কথাও আমার কানে আসে”। বিশেষ মাথা নিচু করে নিরুত্তর রইল। হীরালালজি কোন উত্তরের প্রত্যাশা না করে আবার বললেন, “এত ইন্টেলেকচুয়াল একটা জাত – কী ভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে... বিশ্বাস হয়ই না”। তাঁর কণ্ঠে গভীর আক্ষেপ।      
     
    ছোট একটা স্টিলের প্লেটের ওপর কাচের দুটি গ্লাশে সরবৎ নিয়ে, রামু এসে পাশে দাঁড়াল। হীরালালজি বললেন, “লে। সরবৎভি আ গয়া। পি লে। সরবৎ খা। তারপর বল, তোর এখানে আসার মতলব কি”?
    সরবৎ শেষ করে বিশেষ খালি গ্লাস ফিরিয়ে দিল রামুর হাতে ধরে রাখা থালায়। হীরালালজি এক চুমুক দিয়ে গ্লাস হাতে ধরে রইলেন, ইশারায় রামুকে বললেন চলে যেতে। বিশেষ বলল, “সেরকম কিছু নয়। দুদিনের ছুটি ছিল, ব্যস্‌, চলে এলাম ঘুরতে। বাবার কাছে বৃন্দাবনের কথা অনেক শুনেছি, দেখতে এলাম”।
    “আচ্ছা কিয়া, বেটা। লেকিন সাথ মে অওর ভি তো কোই হোগা? দোস্তওস্ত, সাথিউথি”?
    “নাঃ। একলা। কেউ নেই সঙ্গে”।
    “কোথায় থাকবি”?
    “এখানে তো জায়গা হবে না। রামুজি বলছিল, একলা কাউকে ধর্মশালায় থাকতে দেওয়া হয় না!”
    “আরে ছোড় না ও বুরবক কা বাতেঁ। শুনতি হো, এ ভি একদম সুদীপ্ত য্যায়সাই পাগলা হোগা। ইসকা খানেকা ইন্তেজাম করো। ইয়ে বাচ্চা হামারা সাথ দো দিন রহেগা ইধার। দেখ বেটা, হামারা ইধার মচ্ছিউচ্ছি নেহি মিলেগা, বিলকুল ভেজ খানা, চলেগা”?
    “দওড়েগা”। বিশেষ হাসতে হাসতে বলল।
    “চল, রামু তেরে কো রুম দিখা দেগা। নাহা ধোকে ফ্রেস হো যা। ফির একসাথ খানা খায়েঙ্গে। উসকে বাদ আরাম কর লেনা। রামু, বিশেষ বেটেকো কামরা দিখা দে। আর খায়ালভি রাখনা”।
     
     


    আজ দুপুরে মৃগাঙ্কর খাওয়াটা বেশ বেশিই হয়ে গেল। পাশে বাবাও খাচ্ছিলেন, আর মা, পিসিমা ছিলেন পরিবেশনে। “আরেকটু নে”, “কিছুই তো খেলি না”, “মেসে না খেয়ে খেয়ে তোর খিদে মরে গেছে”, “কাল রাতে প্রায় কিছুই খাসনি”। এই সব অভিযোগ শুনলে বেশি না খেয়ে উপায়ও থাকে না।।... 
     
     
    (চলবে...)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২৯২ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ইঁদুর  - Anirban M
    আরও পড়ুন
    আকুতি - Rashmita Das
    আরও পড়ুন
    ** - sumana sengupta
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন