এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  স্মৃতিচারণ  summer24

  • বর্ষশেষ, বর্ষশুরু

    অমিতাভ চক্রবর্ত্তী
    স্মৃতিচারণ | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ | ৫১৮ বার পঠিত | রেটিং ৪.৪ (৫ জন)

  • অলংকরণ: রমিত চট্টোপাধ্যায়



    কাল যতিহীন, তবুও।

    সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত, এক সন্ধ্যা থেকে আরেক সন্ধ্যা, এক পূর্ণ-চন্দ্র থেকে এক চন্দ্র-হীন রাত কিংবা আরেক পূর্ণ-চন্দ্র, শীত থেকে গ্রীষ্ম, বাড়ির সামনে গাছের ছায়া ঘুরতে থাকে, আজ যেখানে ছায়া পড়েছে আবার কত সকাল বাদে এই ছায়া সেখানে প্রায় অমনি করে এসে পড়বে, দিন, রাত, পক্ষ, মাস, ঋতু, বছর, কোথাও সারা বছর জীবন এক ভাবে ভিজে যায় কি পুড়ে যায়, কিংবা একই ফুল ফোটে, চিরবসন্তের কোকিল ডেকে যায়, কোথাও ঋতুতে ঋতুতে লহরের পর লহর তুলে প্রকৃতি বদলে যায়, দেয়ালে নতুন ক্যালেন্ডার আসে – কোথাও কেবলই দিন গুনে, কোথাও শীতে পাতাখসা গাছেদের ডালে ডালে বসন্ত আসার মাঝে, কোথাও বসন্তের দিন ফুরালে আকাশ, বাতাস আগুন হয়ে ওঠার আগে, শরীর দিয়ে, চেতনা দিয়ে যতি খুঁজে নিই আমরা, বর্ষশেষ, বর্ষশুরু।

    আমাদের ছোটবেলায় এই যতি-বিধান মনে করিয়ে দেওয়ার দায়িত্বে থাকত দেয়ালে ঝোলান ক্যালেণ্ডার আর পঞ্জিকারা। স্বাধীনতা দিবস কি বড়দিনের ছুটির জন্য ইংরেজি ক্যালেন্ডারের দরকার ছিল, কিন্তু বেশির ভাগ উৎসব এবং সেই নিয়ে পাওয়া ছুটির জন্য ঘরে অন্তত একটি বাংলা ক্যালেন্ডার থাকতেই হত। খবরের কাগজরাও অবশ্য সোচ্চারে সোৎসাহে অনেক আগে থেকেই দামামা বাজাতে শুরু করে দিত। কিন্তু বিস্তারিত দাপট ছিল পঞ্জিকার, অন্ততঃ আমাদের বাড়িতে যেমন দেখেছি – হাফ, ফুল, গুপ্ত প্রেস, দৃক সিদ্ধান্ত, বেণীমাধব শীল। আমাদের কখনো মানতে বলেনি কিন্তু খুব অসম্ভব না হলে বাবা তার নিজের আর ঠাকুমার জন্য পঞ্জিকা দেখত। নানা বিষয়ে আধুনিক মননের সাথে তিথি-নক্ষত্র-লগ্ন ইত্যাদিরও নিয়মিত সহাবস্থান চলত। পঞ্জিকার পাতায় চোখ বুলিয়ে নিয়ে “গোস্বামী মতে পরাহে” বাবার এই ঘোষণা এখনও শুনতে পাই। চারটি ছেলেমেয়ে নিয়ে ঠাকুমা বিধবা হয়েছিল অনেক কম বয়সে। সেই আমলে শরিকের সংসারে হিন্দু বিধবার জীবনে অজস্র অনুশাসন। পুরোহিত দর্পণে বিমুখ বাবা পঞ্জিকা থেকে দূরে থাকতে পারেনি। এক সময় সেটি তার জীবন যাপনের অঙ্গ হয়ে গিয়েছিল। এই বৈপরীত্য দেখতে দেখতে বড় হওয়া আমার কাছে এ যাপন নিতান্তই স্বাভাবিক মনে হত যতদিন না পরিবারে নতুন সদস্য এসে অবাক হয়েছিল।

    এই যতিবিধান মেনে সরস্বতী পূজা পার হয়ে বসন্ত বাতাসে রুক্ষতার টান লাগতে লাগতে চৈত্র মাস এসে হাজির হলেই এই বছরটাও যে শেষ হয়ে যাবে তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত। নতুন পঞ্জিকা, নতুন জামা-কাপড় কেনা হত। মাটির হাঁড়িতে যখন কিছু কিছু রান্না হত সেই সময়ে নতুন হাঁড়ি-পাতিলও কেনা হত। তোলা উনুনে নতুন করে মাটি পড়ত বা নতুন উনুন কিনে আনা হত কি বানিয়ে নেওয়া হত।

    উত্তরবঙ্গের জীবনে কিছু কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছিল যা পরে আর খুব একটা পাইনি। এইরকম-ই একটি ছিল চৈত্রের সং। কখনো দুপুরে কখনো সন্ধ্যায় তারা বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেত, কেউ কেউ বাড়ির দরজায় এসে ডমরু বাজিয়ে দিত কি চরিত্র অনুসারে উপস্থিতির জানান দিত। চক-খড়ি মাখা শিব কখনো সাথে ফর্সা মুখের গৌরী, সর্বাঙ্গ নীল কৃষ্ণ আর লাল জিভ বের করা, চার হাত (তার দুটি নড়ে-চড়ে না) ঘোর কালো মা কালি এদের বিশেষ ভাবে মনে পড়ে। রামায়ণের কোন চরিত্রকে কখনো দেখেছি কিনা মনে পড়ে না। চৈত্র মাস জুড়ে এদের আনাগোণা চলতে চলতেই বছরের শেষ দিনটি এসে পড়ত।

    ছোটবেলায় ছাতু খাওয়ার ভাল চল ছিল। তবে সব সময় যে ঘরে থাকত এমন নয়। বছরের শেষ সপ্তাহটিতে ঠাকুমা বিশেষভাবে মনে করিয়ে দিত – ছাতু এনে রাখার জন্য। দু’রকমের – যবের এবং ছোলার। তারপর বছরের শেষ দিনটিতে – চৈত্র সংক্রান্তির সকালে অনুষ্ঠিত হত এক মজার লোকাচার। অবশ্য, তখন সেটা মজার ছিল না।

    ঠাকুরের সিংহাসনের সামনে দুটি ছোট থালায় ছাতুর নৈবেদ্য দেওয়া হত। তারপর বাড়ির সামনের রাস্তায় তিন ভাই আর ঠাকুমা গিয়ে হাজির হতাম। ঠাকুমার দুই হাতে দুই কাঁসার বাটি, একটিতে ছোলার ছাতু, অন্যটিতে যবের। রাস্তা ফাঁকা পেতেই তিন ভাই রাস্তার ধার থেকে রাস্তার মাঝ বরাবর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পড়তাম, পা দুটো যথা সাধ্য ছড়িয়ে। এক হাতে মুঠোভর্তি ছোলার ছাতু আর এক হাতে যবের। এর পর মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে প্রায় হাঁটুর কাছাকাছি এনে ঠাকুমার সুরে সুর মিলিয়ে বলতাম ‘যা শত্রু পরে পরে’ বা এই রকম-ই কিছু, যতটা মনে পড়ে। আর, পায়ের তলা দিয়ে মুঠো খুলে ছাতুর পুঁটুলি ছুঁড়ে দিতাম পিছনের দিকে। হাওয়ায় ছাতু উড়ে যেত – কে জানে কোন শত্রুকে নিকেশ করতে। এবার এক-ই জায়গায় উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আবার শত্রুর উদ্দেশ্যে ছাতু নিক্ষেপ। তারপর আরও একবার প্রথমবারের মত করে। কোথা থেকে কি ভাবে ঠকুমা এই নিয়ম পেয়েছিল – জানি না। কুচবিহারের জীবনের তিনটি বছরে ত বটেই তার পরেও চার-পঁচ বছর চলেছিল এ নিয়ম পালন। লজ্জা লাগত – আর কাউকে দেখতাম না এই রীতি পালন করতে। নিজেরাও করতাম অন্যদের নজর এড়িয়ে, যথাসাধ্য।

    এইভাবে সাফল্যের সাথে শত্রুনাশ-এর পরেই আসত চৈত্র সংক্রান্তির বিশেষ আকর্ষণ, বাড়িতে ঢুকে হাত-পা ধুয়ে গুছিয়ে বারান্দায় বসে কয়েক দলা ছাতু মাখা, এক বাটি মুড়ি আর – লম্বা পিরামিডের মত দেখতে লাল-সাদা-সবুজ রং-এর ‘মঠ’ – যেন মঠের চূড়া – চিনি দিয়ে তৈরী মিষ্টি, বেজায় শক্ত। আর, গোল গোল সাদা কদমা – সেও চিনির তৈরী, নরম, যেন জমাট ফেনা। আর পেতাম পয়সার মত আকৃতির তিলা – চিনি আর তিল থেকে বানানো। (ছাতুর দলার কথা ভুলে গিয়েছিলাম, প্রথমবার এই লেখার পরের আলাপচারিতায় বন্ধু ষষ্ঠ পাণ্ডব মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।) গোটা চৈত্র মাস জুড়ে বিভিন্ন দোকানের সামনে থালায় ডাঁই করে, বয়ামে বা কাঁচের বাক্সে ভরে মঠ-কদমা-তিলা বিক্রি হত। এইসব অমৃতদ্রব্যের সদ্বব্যবহার করার সময় যে বিপুল আনন্দ লাভ হত তার কাছে রাস্তায় গিয়ে ছাতু ওড়ানোর লাজুক দ্বিধা চাপা পড়ে যেত। লোভনীয় খাবারগুলো অনেক বছর পর্যন্ত খেয়েছি কিন্তু বড় হতে হতে কখন কিভাবে এইসব খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে গিয়েছিল আর আমাদের লজ্জাবোধ বড় হয়ে গিয়ে ছাতু ওড়ানোর নিয়ম উঠে গিয়েছিল, তা এখন আর মনে পড়ে না।

    এই ছাতু আর মঠ জুড়ে একটা ভয়ানক আতঙ্কের কৌতুক স্মৃতি মনে পড়ে গেল। অনেক ছোট থেকেই বাড়িতে যে সব ছবি-ওয়ালা ছড়ার বই আসত, তার একটির কোন এক পৃষ্ঠায় একটি ছড়া ছিল – পট পটাং, পট পটাং, পট পটাং পট / পেটটি ফেটে বেরিয়ে এল, মস্ত ছাতুর মঠ। সেই সাথে ফোলা পেট ফাটিয়ে ছাতুর স্তুপের বেরিয়ে আসার ছবি। ঐ ছবি আর ছড়া দেখার পর থেকে বহুকাল পেট ফাটার ভয়ে থাকতাম, বিশেষ করে ছাতু খেয়ে।

    এই লেখাটি অনেক ছোট আকারে প্রথম যে বার প্রকাশ পেয়েছিল মা তখনও বেঁচে। লেখা চলাকালীন মার সাথে দূরভাষে কথা হ’তে মা মনে করিয়ে দিয়েছিল যে আমাদের বাড়িতে সংক্রান্তির দিন তেতো আর টক খাওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। সেই বছর সংক্রান্তি পড়েছিল এক শনিবারে। মার সাথে নিয়মিত প্রতি শনিবারে আর বিভিন্ন উৎসবের দিনগুলোয় কথা হত। সারা সপ্তাহ সে এই ফোনের অপেক্ষায় থাকত। সেই শনিবারের গল্প যে সংক্রান্তির গল্প আর তার ফলে পরেরদিনও যে মায়ের আরেকটা ফোন পাওনা আছে কারণ সেইদিন আমি তাকে বছরের প্রথম প্রণামটি জানাবো, এই কথাটাও মনে করিয়ে দিয়েছিল। ভুলো মনের লোক আমি, কাল, রবিবারে নববর্ষে, আমি যেন তাকে দূরভাষে প্রণাম জানাতে ভুলে না যাই। সে কিন্তু প্রতীক্ষায় থাকবে। সেই ত – এই প্রতীক্ষা জানে সেই জন যে থাকে অপেক্ষায়। আজ আর কেঊ আমার থেকে প্রণাম পাওয়ার অপেক্ষায় কোথাও বসে নেই।

    সংক্রান্তিতে টক খাওয়ার কথায় বিশেষ টকটির কথা মনে পড়ল। শুনেছি, বিকট গন্ধের কারণে এই তরকারিটি অনেকে এড়িয়ে চলেন। আমাদের বাড়িতে এটির প্রবেশ ছিল নিয়মিত ও অবাধ। এবং আমার মায়ের অসাধারণ রান্নায় এই তরকারির বিভিন্ন পদ পরম উপাদেয় হয়ে উঠত। তাদের মধ্যে বিশিষ্ট স্থান ছিল সংক্রান্তির দিনের এই টকের। মায়ের কাছ থেকে চলে আসার পর সেই অসাধারণ পদটির আর সাক্ষাৎ মেলেনি।

    চৈত্র সংক্রান্তির সময় বিভিন্ন মাঠে অন্তত এক সপ্তাহের, কোথাও কোথাও আরও বেশী দিন ধরে, মেলা বসত, গাজনের মেলা, চড়কের মেলা। সম্ভবতঃ কুচবিহারে থাকার সময় একবার এই মেলায় গিয়েছি। কোন কোন এলাকায় এই মেলায় চড়কের ব্যবস্থা থাকত, সেখানে লোকেরা পিঠে দড়ি বাঁধা বঁড়শি বা ঐরকম কিছু গেঁথে অনেক উপরে টাঙ্গানো কোন আংটা বা ঐ রকম কিছু থেকে চড়কের খুঁটির চারপাশে ঝুলন্ত অবস্থায় পাক খেত। পঞ্জিকাতে ছবি দেখেছি, খবরের কাগজেও। ভাবলেই শিউরে উঠি, দেখতে যাইনি কখনও। আশা করি আজকাল আর এই রীতির চালু নেই কোথাও। আরেকটা এইরকম শিউরে ওঠা রীতির গল্প শুনেছি - জিভের মধ্য দিয়ে লোহার শিক ফুঁড়ে রেখে হেঁটে বেড়ানো। বীভৎসতায় হয়ত আমাদের কোন আদিম আকর্ষণ চোরাস্রোতে চলতে থাকে। গোল হয়ে ঘিরে দাঁড়িয়ে আমরা দেখি, মুখে কেরোসিন নিয়ে ছুঁড়ে দিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে আগুন ছোঁড়া দেখানোর খেলা। কিংবা মুখের ভিতর দিয়ে গলায় ছোরা কি তরোয়াল পেটে ঢুকিয়ে দেওয়ার খেলা। বাক্সবন্দী মানুষকে তরোয়ালের পর তরোয়ালে এ ফোঁড় ও ফোঁড় করে ফেলা, তাকে করাত কি ব্লেড চালিয়ে দুই বা তিন টুকরো করে ফেলা - ভোজবাজি হলেও আসলে কি তৃপ্তি মেলে সেই চোরা স্রোতেরই?

    মেলাতে কত সাধারণ, সামান্য উপকরণ দিয়ে বানানো কত অসামান্য খেলনা যে পাওয়া যেত! প্রথমবার মেলায় গিয়েই যে খেলনাটির খোঁজ পেয়ে খুব উল্লসিত হয়ে উঠেছিলাম, মেলায় যাওয়ার আগেই সেটি কারো কাছ থেকে উপহার পেয়েছিলাম – নড়াচড়া করা পুতুল। তালপাতার সেপাই। প্রথম দিকে তালপাতা দিয়েই বানানো হলেও পরের দিকে শক্ত কাগজের বোর্ডের পুতুল বেশি পাওয়া যেত। এক সময় বাড়িতে নিজে হাতেও বানিয়েছি। দু আঙ্গুলে চেপে ধরে কাঠিটি ঘোরালেই কাঠিতে আটকানো সেপাইটি চার হাত-পা ছুঁড়তে থাকত, যেন লাফালাফি করে সেলাম ঠুকছে। কিছু কিছু অন্য চেহারার পুতুল পাওয়া গেলেও সেপাই পাওয়া যেত বেশি। হয়ত ওটির আঁকাআঁকি তুলনায় সহজ সরল ছিল, সাদামাটা চেহারাতেও তাকে সেপাই বলে চিনে নিতে অসুবিধা হত না। নাকি অবচেতনের কোন ইচ্ছা থেকে সেলাম ঠোকা সেপাইয়ের বিক্রি-বাটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে বিবেচিত হত! বড় হয়ে বুঝেছি ঐ পুতুলরা বাস্তবের জীবন থেকেই বানানো। কাঠিগুলো থাকে কারো কারো হাতে। আমরা হাত-পা নাচাই, চাই বা না চাই।

    সংক্রান্তির পরের দিনটিতেই আসত সারা বছর প্রতীক্ষায় থাকা – নূতন বৎসর, নতুন বছর, নববর্ষ, পয়লা বৈশাখ।

    যতদিন তার শরীর অশক্ত না হয়েছে প্রত্যেক পয়লা বৈশাখে বাবা বাড়িতে গীতা পাঠ করত। সংস্কৃতে একটি করে শ্লোক আর তারপর তার বাংলা অনুবাদ - এইভাবে পুরো বইটি পড়া হত। প্রথম থেকে শেষ পাতাটি পড়া পর্যন্ত পাশে বসে একনিষ্ঠ শ্রোতা আমি। চারপাশে প্রতিদিনের লড়াই কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে, ক্লান্ত হয়ে থেমে যাওয়া মানে অবলুপ্তি, ফল পাওয়া যাবে কিনা জানা নেই, লড়াই জারি রাখো, যা হওয়ার হবে, চলতে থাকো, তোমার কাজ তুমি করে চলো, নববর্ষে এই তোমার সংকল্প হোক। সময়ের অগ্রগতিতে এই দর্শন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, আমার শ্রমের ফসল কার ভান্ডারে গিয়ে জমা হচ্ছে! কথার জালের খাপের প্রান্তে হন্তারকের ছুরির হাতল ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কিন্তু সে ত অনেক দিনের, অনেক পাঠের, অনেক অভিজ্ঞতার পর। সেদিনের সেই সকালে, ধূপ-ধুনোর গন্ধে, উদাত্ত উচ্চারণে স্বরের ওঠা-নামায়, শ্লোকের ছন্দে সেই বালকটির শরীর কাঁটা দিয়ে উঠত।

    কিছুক্ষণ পরে যে সুখাদ্যরা প্রসাদ হয়ে মুখে আশ্রয় নেবে, আমার থেকে ছোটরা মাঝে মাঝে এসে তাদের দেখে যায়। ঠাকুমা জপের মালা হাতে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে। নানা রকম ফল - গোটা এবং টুকরো করা, ছানা এবং নারকোলের সন্দেশ, নাড়ু, মোয়া, খাজা, কদমা এইসব ত আগে থেকেই ঠাকুরের সামনে সাজিয়ে রাখা ছিল। তার সাথে মা একটি দুটি করে আশ্চর্য সুন্দর ঘ্রাণ ও নিশ্চিত অপূর্ব স্বাদের পদ যেমন যেমন তৈরী করছে, রান্নাঘর থেকে এনে ঠাকুরের সিংহাসন আর বাবার মাঝখানের জায়গাটিতে নামিয়ে রেখে যাচ্ছে। এখন ভাবলে কিরকম অবাক লাগে, একটা সময়ে যখন আমাদের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল, তখনও নতুন বছরের এই অনুষ্ঠানটি একই রকম ভাবে চালু ছিল। মুদির দোকানে বাকির খাতায় সংখ্যারা তাল মিলিয়ে বেড়ে চলত। দোকানদার ঠিক কোন ভরসায় এই বাকির বাণিজ্য চালু রাখত জানি না, তবে বহু বছর বাদে নিজের চাকরি জীবনের এক পর্যায়ে ভাইয়ের হাত দিয়ে সমস্ত দেনা যখন মিটিয়ে দেওয়া গিয়েছিল, তখন দোকানী তাতে খুব খুশি হয়েছিলেন বা সেই ঘটনাটির জন্য উন্মুখ অপেক্ষায় ছিলেন - এমন খবর পাইনি।

    দুপুরে ঐ অত রকম সুখাদ্যে ভোজ হত অসাধারণ। তবে সবটাই নিরামিষ। সেই খবরটি না জানা থাকায়, কারণ আমার ধারণা ছিল সব বাড়িতেই তাই হয়, এক মেয়ে এইরকমই এক নতুন বছরে সদলবলে আামাদের বাড়ি বেড়াতে এসে একের পর এক নিরামিষ খাবারের বহর পার করে, মাছের পদ আসার আশায় আশায় অপেক্ষায় থেকে ভগ্নহৃদয়ে খাওয়া শেষ করেছিল। আজও নববর্ষের আলোচনায় ঘরণী সেই দিনের দুঃখের কথা মনে করিয়ে দেন।

    তবে, ছোটবেলায় দুপুরের সেই ভোজের থেকে বেশী আকর্ষণের ছিল – বিকেলবেলার ‘হালখাতা’ – বাবার সাথে দোকানে দোকানে ঘুরে ঘুরে। কোন দোকানে সামনে ম্যারাপ বেঁধে এক কোণা থেকে আরেক কোণা রঙিন কাগজের শিকল টাঙিয়ে, সুতোয় সারি দিয়ে আটকানো ছোট ছোট তিনকোণা পতাকায় ফ্যানের হাওয়ায় ফরফর আওয়াজ তুলে, লাল নীল আলোর মায়ায় চেয়ারে বসা সুবেশ খরিদ্দারের হাতে দোকানের কর্মচারি রঙিন জলের কি ঘোলের গ্লাস ধরিয়ে দিচ্ছে। কোন দোকানে শুধুই একটি বেঞ্চ পাতা, মাঝে মাঝে সে বেঞ্চে একজন কি দুজন মানুষ এসে বসছে, সাদামাটা পোষাক। তবে আপ্যায়ণের ঠাট-ঠমক থাকুক আর নাই থাকুক, সমস্ত অতিথিই ছোট, বড়, মাঝারি কোন না কোন মিষ্টির বাক্সে রকমারি মিষ্টি আর নোনতার প্যাকেট হাতে নিয়ে দোকান থেকে বের হবেন। আর সেই সাথে একটা ক্যালেন্ডার। কোন দোকান কি ক্যালেন্ডার দিল বা কোন বাড়িতে কি ক্যালেন্ডার এলো – সেইটা একটা নজর করার মত ব্যাপার ছিল। বাড়ির দেয়ালে বিশেষ বিশেষ ক্যালেন্ডার সেই বাড়ির মালিকের স্ট্যাটাসের ঘোষণা দিত।

    কালের প্রবাহ অনন্ত, ওঠা-পড়া নেই, ছেদ নেই। আমরা তাতে দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন বসিয়ে আমাদের কাছে তাকে অনুভবযোগ্য করে তুলি। সময়ের ধারায় অনুভবের ধারাও পাল্টায়। সংক্রান্তি থেকে পয়লাতে পদার্পণের অনুভব একটা নূতন মাত্রার আনন্দে উত্তীর্ণ হয়েছিল এক আশ্চর্য অভ্যুদয়ে – বাংলাদেশের সৃষ্টিতে। নিতান্তই ছায়া ছায়া মৃদু আলোয় দোকানীর অনুগ্রহের সান্ধ্য মিষ্টির হালখাতাকে ছাড়িয়ে সে পৌঁছে গিয়েছিল নিজেকে সগর্বে উপস্থাপন করার ঝলমলে রাজপথে। ১লা বৈশাখ মোটেও একলা নয়, অনেককে জড়িয়ে নিয়ে তার যাত্রা। নববর্ষের এই প্রবল উপস্থিতিতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল দূরদর্শন। প্রথম দিকে সীমিত সম্প্রচার, কিন্তু আকর্ষণ-এর কোন কমতি ছিল না। কলকাতার সম্প্রচার, বাংলাদেশের সম্প্রচার – যে বাড়িতে এই দুই-ই হাজির তাদের ব্যাপার-স্যাপার-ই আলাদা। তারপর ত এসে গেল আর এক যুগ – চ্যানেল এর পর চ্যানেল। নববর্ষের বিপুল উদযাপন। সেই যুগটাকে আমার কাছে থেকে দেখা হয়নি। বাংলাভাষার দুনিয়া থেকে সরে আসা মানুষ দূর থেকে শুনি সে কলকল্লোল। দূর থেকে হলেও ভাল লাগে।

    সেই ভাল লাগা আমাদের পৌঁছে দেয় আরেক অনুভবে। পৃথিবীর মুখ একটুখানি দেখে ফেলেছি বলে, বাংলার মুখ দেখা মুছে যায় না। স্থানীয় বাঙালি সংঘের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কি কোন সংস্থার পরহিতার্থে আয়োজিত উদ্যোগে সামিল হতে বা উৎসাহী দম্পতির বাড়ির সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ গ্রহণের সাথে রকমারি আহার্যের ঘ্রাণে ও স্বাদে পরিতৃপ্ত হতে, সকলে মিলে জড়ো হয়ে যাই, সাধ্যমতো মেতে উঠি, অনুভবে, উদযাপনে – বাংলা নববর্ষের – দুনিয়া জুড়ে।

    সকলকে আজ বর্ষশেষ-বর্ষশুরুর প্রীতি ও শুভেচ্ছা।



    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • স্মৃতিচারণ | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ | ৫১৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Arindam Basu | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ১৪:৪৮530561
  • অপূর্ব!
  • অভিজিৎ চক্রবর্তী। | 115.187.32.189 | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ২২:১৭530583
  • কখনো কখনো মনে হয় স্মৃতি সতত সুখের। লেখকের এই স্মৃতি চারণ যেন এই ভাবনাকে আরো জোরালো করে তুলল। স্মৃতি র ঘুড়ি লেখক লাটাই থেকে একটু একটু করে ছেড়েছেন আর তা যেন ক্রমশ রঙীন হয়ে মনের অন্তর্জালে ভেসে যাচ্ছে। এই সুতীব্র ভাল লাগার আবেশ টুকু নিয়ে লেখক কে এবং তার পরিবারের সকল ভাললাগার মানুষ জনকে ও অগণিত পাঠকদের বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানাই। আশা করি আগামী দিনগুলোতে সুস্থ ও ভালো থাকবেন। 
  • পাঠক | 2401:4900:3de4:4c92:5424:99ff:fe6f:6bdb | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ০০:৩৭530591
  • ঝরঝরে গদ্যের কারণে স্মৃতিচারণ টানা পড়ে ফেলা যায়। তবে মাঝেমধ্যে এই কথাগুলিতে থমকাতে বেশি ভাল লাগে,
    'কিছু কিছু অন্য চেহারার পুতুল পাওয়া গেলেও সেপাই পাওয়া যেত বেশি। হয়ত ওটির আঁকাআঁকি তুলনায় সহজ সরল ছিল, সাদামাটা চেহারাতেও তাকে সেপাই বলে চিনে নিতে অসুবিধা হত না। নাকি অবচেতনের কোন ইচ্ছা থেকে সেলাম ঠোকা সেপাইয়ের বিক্রি-বাটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে বিবেচিত হত! বড় হয়ে বুঝেছি ঐ পুতুলরা বাস্তবের জীবন থেকেই বানানো। কাঠিগুলো থাকে কারো কারো হাতে। আমরা হাত-পা নাচাই, চাই বা না চাই।'
  • kk | 172.56.3.116 | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ০৪:০৭530598
  • চমৎকার  লাগলো। খুব যত্নে আঁকা স্পষ্ট ডিটেইলড ছবি। উত্তরবঙ্গের এই লোকাচার, সংস্কৃতি আর খাবার (মঠ জানি, তিলা জানতামনা) এগুলো আগে জানতামনা। জেনে খুব ভালো লাগলো। নানা ব্যক্তিগত কারণে আমি বর্ষশেষ আর নববর্ষ দুটো দিনই খুব অপছন্দ করি। কিন্তু অন্যদের ভালোলাগা দেখতে,পড়তে ভালোলাগে।
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ১১:৪৫530612
  • ভীষণ ভালো লাগল। আপনার চোখ দিয়ে সেই তখনকার নববর্ষ একেবারে জ্যান্ত হয়ে আমাদের চোখে ধরা পড়ল। দারুন।
  • | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ১২:৩৭530615
  • বেশ ভাল লাগল।  কিন্ত এই লেখাটা কি সচলে পড়েছি আগে? কেমন চেনা লাগছে। 
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ২২:১৭530630
  • অরিন্দম, হীরেনদা, অভিজিৎ, পাঠক, কেকে, রমিত, দ-দি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাদের ভাল লাগার কথা জানানোর জন্য। 

    দ-দি, চেনা লাগার কথা ত বটেই। একটি অনুচ্ছেদের শুরুতে এই যে বলেছি - এই লেখাটি অনেক ছোট আকারে প্রথম যে বার প্রকাশ পেয়েছিল মা তখনও বেঁচে - সে ত সেই সচলে প্রকাশ হওয়ার গল্প। সচলায়তনের লেখাটির থেকে এবারের লেখাটি আয়তনে তিন গুণ বেড়েছে, গুণগত মান আশা করি বিপরীত হারে কমে যায়নি। 
  • Naresh Jana | ২৬ এপ্রিল ২০২৪ ০৯:৫০531037
  • বড় ভালো লাগলো। তবে লেখকের অবগতির জন্য জানাই আজও চড়কের ভয়াবহ আচরণ গুলো স্বমহিমায় টিকে রয়েছে। ভালো থাকুন।
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ২৬ এপ্রিল ২০২৪ ১০:১২531038
  • Naresh Jana | ২৬ এপ্রিল ২০২৪ ০৯:৫০
    পড়া এবং ভালো লাগা জানানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ।
     
    "চড়কের ভয়াবহ আচরণ গুলো স্বমহিমায় টিকে রয়েছে"। খুবই দুঃখজনক। অন্তত কিছুটা যদি কমে থাকে, সেটুকুও ভালো।
     
    ভালো থাকবেন আপনিও।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন