• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • লকডাউন পরবর্তী ভবিষ্যত

    Jhuma Samadder
    আলোচনা : বিবিধ | ১৪ জুন ২০২০ | ৩২২ বার পঠিত

  • না। সমস্যাটা মোটেও চিন কিম্বা নেপাল নয়। আমাদের 'আগামী'র সমস্যা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে চলেছে দেশের মধ্যেই।

    চিনের নিজের দেশের গোলমাল থেকে নজর ঘোরানোর উদ্দেশ্যেই তাদের  লাদাখে ঢুকে এই 'কুমীরডাঙা' খেলা।

    ভারত সরকারও তাই চুপটি করে বসে মজা দেখছে। যুদ্ধ-টুদ্ধ শেষমেশ  বাধবে না, সকলেই জানে।
    বিরোধী থাকাকালীন বর্তমান সরকার পক্ষ যা করেছিল, এখনকার বিরোধী পক্ষও তাই করে চলেছে। টুকটাক উসকে দিচ্ছে। সমস্তই ভোটের রাজনীতি।

    আপনি 'টিকটক' আনইন্সটলই করুন, আর 'বয়কট চায়না',  ওতে চিনের খুব একটা কিছু এসে যাবে না। কারণ,  চিনের টোটাল জিডিপি'র  মাত্র ৩% ভারতের বাজারে খাটে। আর ভারতের জিডিপি'র ৬%এর বেশী টাকার জিনিস চিনে রপ্তানি হয়।
    'বয়কট' 'বয়কট' খেলাটা দু'তরফেই চললে ক্ষতিটা ভারতেরই বেশী । তাই 'বয়কট চায়না' ভোটের ভাষণেই শোনায় ভালো। সিরিয়াসলি কেউই বলে না।

    ওদিকে নেপালের লিপুলেখের গোলমালটাও তেমন ইয়ে নয়। আলোচনায় বসলেই মিটে যেতে পারে। ভারত টালবাহানা করে চলেছে বেশ কিছুদিন ধরেই।

    সুগৌলির সন্ধির পর ব্রিটিশরা ইচ্ছে করেই ওই বিতর্কিত অঞ্চলে মহাকালী নদীর শাখানদীটিকে ধরে ভারতের বর্ডার ধরে ম্যাপ তৈরি করেছিল। কারন, ওই অঞ্চলটি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

    নেপাল এতোদিন এই সামান্য ৩০০ কিলোমিটার জমি নিয়ে কোনো আপত্তি তোলে নি, কারণ, ভারতের সঙ্গে তার বহুকাল ধরেই সুসম্পর্ক রয়েছে।

    পাসপোর্ট ছাড়াই যাতায়াত, বসবাস এমনকি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নেপালের অধিবাসীদের চাকরি করাতেও কোনো অসুবিধে ছিল না এতকাল। ভারত টালবাহানা ছেড়ে আলোচনায় বসলেই এ সমস্যা মিটে যাবে অচিরেই।

    আসল সমস্যাটা আমাদের দেশের ভেতরকার, আমাদের আগামীর, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের । লকডাউনের আফটার এফেক্ট হিসেবে যেসব বিষয়গুলো আসতে চলেছে, সেগুলি মারাত্মক।

    লকডাউন উঠে গেলেই অর্থনীতি আবার আগের মত হয়ে যাবে, এতটা মসৃণ নয় বিষয়টা।
    সরকার এখনও তেমন কোনো স্টিম্যুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেনি, অতএব, দিন দিন অভাব মারাত্মক আকার ধারণ করবে। কাজ হারবেন কোটি কোটি মানুষ।

    অভাব মানুষকে বাধ্য করবে সন্তানকে ব্যবহার করে পেটের জ্বালা মেটাতে।শিশুশ্রম, শিশুপাচার, শিশু শোষণ বাড়তে চলেছে ভয়ঙ্কর হারে। অভাবগ্রস্ত এলাকাগুলিতে শিশু ক্রেতা দালালরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আন্তঃরাজ্য, আন্তরাষ্ট্রীয় হিউম্যান ট্রাফিকিং এজেন্টরা টাকা ঢালতে আরম্ভ করেছে এসব এলাকাগুলিতে।

    সঙ্গী হয়েছে শ্রম আইনের পরিবর্তন। মাত্র দশ-বারো হাজার টাকায় বন্ডেড লেবার হিসেবে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে আট-দশ বছরের ছেলে মেয়েরা।

    ILOএর হিসাবে, ভারতের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি শিশুর শ্রম বিক্রি হয় প্রতিদিন। এদের প্রায় ৬০% শিশু স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় না। লকডাউন পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যাটা বহুগুণ বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    কৈলাশ সত্যার্থীর সংস্থা 'বচপন বাঁচাও আন্দোলন'-এর মতে, সরকার এবং পুলিশ যদি সক্রিয় না হয়, লকডাউন এবং শ্রমআইন পরিবর্তন শিশুদের জীবনে ভয়ঙ্কর কালো দিন আনতে চলেছে।  'ক্রাই' এর মতে, শিশুশ্রম কমানোর ক্ষেত্রে যেটুকু কাজ হয়েছিল, লকডাউন ও শ্রমআইন পরিবর্তন তাকে পিছিয়ে দিল বহুগুণ।

    শিশুশ্রম ও শিশুপাচার একই মুদ্রার এ পিঠ, ও পিঠ। মনে করা হচ্ছে, শিশুদের দেহব্যবসায় ব্যবহার বাড়বে আশঙ্কাজনক হারে, আগের তুলনায় প্রায় ২০ গুন। চাইল্ড পর্নের চাহিদাও বেড়েছে দ্রুত গতিতে,যার জোগানও আসবে দ্রুত। 
    অভাবের তাড়নায় কমবয়সী মেয়েদের বিয়ে(পড়ুন, বিক্রি), দেহব্যবসায় লাগানো বাড়ছে প্রতিদিন।

    লকডাউনে দেশের জনগনের সীমাহীন অভাব মেটানোর কোনো চেষ্টা না করা এবং শ্রমিক আইন পরিবর্তন এ দেশের শিশুদের জন্য নরকের দরজা হাট করে খুলে ধরতে চলেছে।

    জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন বলেছেন, "শিশুশ্রম দেখা মাত্র পুলিশকে ইনফর্ম করতে হবে। এটা আমাদের সকলের কর্তব্য। চুপ করে বসে থাকলে চলবে না।"
    কিন্তু, আমরা তা করব কি? নাকি "আমার সন্তানটি তো দুধে-ভাতে রয়েছে, আমার ওসব ঝঞ্ঝাটে দরকার কি?" ভেবে চুপ করে থাকব? এরাই কিন্তু সংখ্যাগুরু, আমাদের দেশের 'আগামী'।
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৪ জুন ২০২০ | ৩২২ বার পঠিত
আরও পড়ুন
'The market...' - Jhuma Samadder
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
আরও পড়ুন
#আমি - Jinat Rehena Islam
আরও পড়ুন
ক্ষমা - Rumela Saha
আরও পড়ুন
আয়না - ন্যাড়া
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • অনিন্দিতা | 146.196.33.218 | ১৯ জুন ২০২০ ১৩:২১94454
  • বর্তমানের এই ভয়াবহ অবস্থার শিকার আরো অনেক শিশু ও বালক বালিকা, যাদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তাদের অনেকেই আজ অনলাইন পড়াশুনো ব্যবস্হায় প্রান্তিক হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে তারাও যুক্ত হবে এই শিশু শ্রমিকের পরিসংখ্যানে। 

  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত