• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • লকডাউন ও 'গিরমিটিয়া শ্রমিক'

    Jhuma Samadder
    বিভাগ : আলোচনা | ১১ মে ২০২০ | ১৮৭ বার পঠিত
  • লকডাউন ও 'গিরমিটিয়া শ্রমিক'
    ঝুমা সমাদ্দার।

    আপনি যদি বাংলাদেশ বর্ডারের দিকে চলে যান, কিম্বা সুন্দরবন,  ঠাকুরনগর, মসলন্দপুরের ভেতরের গ্রামগুলোর দিকে... মাঝে মাঝে শুনতে পাবেন,  বাতাসে ফিসফিসানি ভেসে বেড়াচ্ছে।

    উঠতি যুবক, যারা লেখাপড়াকে গুডবাই জানিয়েছে অনেকদিন, মাথার দু'পাশ কামানো, গোড়ালি পর্যন্ত চাপা, সরু প্যান্ট, গোড়ালিতে কালো কার বাঁধা, পকেটে স্মার্ট ফোন, কারও কারও সঙ্গে বাইক বাহন, তাদের কাছে ফিসফিসিয়ে প্রস্তাব আসে সৌদি আরব যাওয়ার।

    এ হোলো এঁদের কাছে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া প্রস্তাব। উদাহরণ স্বরূপ গাঁয়ের দু'চারজনের দোতলা বাড়ি, পকেটে আইফোন কিম্বা চারচাকা গাড়ির স্বপ্ন দোলা দেয় ওদের চোখে।

    বেশ কিছু টাকার বিনিময়ে বছর কয়েকের জন্য ওদেশে গিয়ে মজদুরি করে মোটা টাকা নিয়ে ফিরে আসার সুবর্ণ সু্যোগ! জমি বন্ধক রেখে কিম্বা বিক্রি করেও সে টাকা জোটানো সম্ভব হয় না প্রায়ই। কাছেপিঠেই চড়া সুদে ধার দিতে বসে থাকেন কিছু সহৃদয় মহাজন।

    দালালদের হাতে মোটা টাকা তুলে দেওয়ার বিনিময়ে তারা এদের পাসপোর্ট তৈরী করে, ভিসার বন্দোবস্ত করে। কোনো এক বস্তিতে থাকার এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করে।

    সময় শেষ হলে এদের হাতে কিছু টাকা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠায়। কত টাকা, কী হিসেবে দেওয়া হচ্ছে, ওদেশের হিসেবে মজুরি ভারতীয় টাকায় কত হওয়া উচিত, এসব প্রশ্ন বড় একটা কেউ করে না।(সবসময় সমস্তটা এতটা মসৃণ হয় না যদিও । এয়ারপোর্টে ধরাও পড়ে কখনও কখনও।)

    দালালরা এদের ওদেশে নিয়ে গিয়ে প্রথমেই পাসপোর্টটি কেড়ে নেয়। যাতে এরা কোনোমতেই পালাতে না পারে। কোনোরকম আপত্তি জানাতে না পারে।

    এরপরও কি আপনি বলবেন, 'দাসব্যবসা' তো কবেই পৃথিবী থেকে উঠে গিয়েছে?

    বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকেও এভাবেই টিপছাপ দিয়ে 'এগ্রিমেন্ট' করে শ্রমিক নিয়ে যাওয়া হয় অন্য রাজ্যে কিম্বা অন্য দেশে। কি লেখা থাকে এসব এগ্রিমেন্টে, এঁরা পড়তে পারেন না। এঁদের ভাষায় 'এগ্রিমেন্ট' করা শ্রমিকরা হয়ে যান 'গিরমিটিয়া শ্রমিক'। এঁদের 'ন্যুনতম বেতন' বলে কিছু হয় না। থাকা-খাওয়ার কোনো ব্যবস্থাও তথৈবচ।

    আপনি এর পরেও বলবেন, 'দাসব্যবসা' তো কবেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছে?

    আজ প্রায় দু'মাস হতে চলল, আমরা 'পরিযায়ী শ্রমিক'দের মিছিল দেখছি। সরকার বাহাদুর এঁদের বাড়ি ফেরবার ব্যবস্থা করেন নি।
    কর্ণাটক সরকার এঁদের জন্য ট্রেন চালানোই বন্ধ করে দিলেন। কারণ, সরকারের সঙ্গে কনট্রাক্টরদের আলোচনায় ঠিক হোলো, শ্রমিকদের বাড়ি ফিরে যেতে দিলে আবার শহরে ফিরিয়ে আনা মুশকিল হবে। অথচ, শ্রমিকদের থাকা খাওয়ার নিশ্চয়তাও দেবেন না তাঁরা।

    আপনি বলবেন, এই 'বন্ধুয়া শ্রমিক' প্রথা বা 'বেঠ বেগারি'প্রথা বন্ধ হয়ে গেছে? 'দাসব্যবসা'র দিন কবেই চলে গেছে?

    এ দেশের তিনটি রাজ্যে শ্রম আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। আট ঘন্টার জায়গায় বারো ঘন্টা কাজের সময় নির্ধারিত হয়েছে। ৪৪ টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইনকে বাতিল করে “মজুরি সম্পর্কিত, শিল্প সম্পর্ক, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ এবং পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও কাজের পরিবেশ” এই চারটি আইন প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শ্রমিকদের এহেন দুর্গতির কারণ কি করোনা?

    না। এই আইন পরিবর্তনের ভাবনা আগে থেকেই সরকারের মাথায় ছিল। দেশের অর্থনৈতিক হাল আগে থেকেই খারাপ ছিল। করোনার অনেক আগেই সরকার রিজার্ভ ব্যঙ্ক থেকে এক লক্ষ বাহাত্তর হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছিল, যে টাকা এইরকম বিপদের দিনে ব্যবহারের জন্যই রাখা ছিল।

    ফলে, প্রথম কোপটা এইসব অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের ওপরেই এসে পড়ার ছিল।

    এইবার কয়েকটা প্রশ্ন।

    ১. যে রোগটার ওষুধ নেই, সেই রোগে সেরে ওঠার চান্স ৮০%এর বেশী। সম্পূর্ণ  লকডাউন করে অর্থনৈতিক মন্দার সমস্ত দায় করোনার ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা কি? নাকি আরও গল্প আছে?

    ২. টেস্টিং হচ্ছে না। আজন্মকাল লকডাউন করিয়ে রাখলেও কোনো উপকার হবে কী?
    আমরা, সাধারণ ভারতীয় জনগন, মাথা ধরা থেকে পেট কামড়ানো পর্যন্ত সমস্ত উপসর্গের ওষুধ মেডিকেল স্টোর থেকে কিনে টপ্ করে গিলে ফেলে থাকি। সেই দেশের মানুষ , উপসর্গহীন রোগের চিকিৎসা করাতে যাবে হাসপাতালে? হাস্যকর প্রস্তাব নয় কি?

    ৩. প্রথমে 'মাস্ক সবার দরকার নেই, আক্রান্ত ব্যক্তিই সেটি ব্যবহার করবেন', তারপর, 'সব মাস্ক কাজ করে না, বিশেষ ধরনের মাস্ক চাই', অবশেষে, 'সকলের মাস্ক চাই, না পেলে গামছা, রুমাল, শাড়ির আঁচল হলেও চলবে'। সরকারি প্রচারে এমন অস্বচ্ছতা কেন?

    ৪.ঘন্টায় ঘন্টায় দেশ-বিদেশে করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসেব গেলানো হচ্ছে মানুষকে। অথচ, ভারতের সবচেয়ে বড় ডেথ ইস্যু, যক্ষা, যে রোগে ভারতে প্রতিবছর ২২০০০০ লোকের প্রাণ যায়, সে রোগের বিরুদ্ধে কোনো প্রচার, কোনো সাবধানতার কথা উল্লেখ করা হয় না কেন? গরিবের রোগ বলে?
  • বিভাগ : আলোচনা | ১১ মে ২০২০ | ১৮৭ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • ধীমান মন্ডল | 162.158.165.31 | ১১ মে ২০২০ ২৩:২৩93192
  • কে দেবে উত্তর?  আদায় করে নিতে হবে শোষিতদেরই।

  • ঝুমা সমাদ্দার | 162.158.50.241 | ১২ মে ২০২০ ১০:১৩93203
  • সেই হোলো কথা। কে দেবে  উত্তর?  শেষমেশ যদি বলেই দেওয়া হল, 'করোনাকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে হবে আমাদের', তাহলে গরিব মানুষের জন্য এমন গিলোটিনের আয়োজন কেন?

  • প্রশ্ন | 162.158.50.219 | ১২ মে ২০২০ ২০:২২93222
  • জরুরি প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর আর দিচ্ছে কে?
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত