• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়

    বিপ্লব রহমান
    বিভাগ : আলোচনা | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৯১ বার পঠিত
  • একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।

    ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে মুক্তমনা ব্লগার-বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জঙ্গিরা কুপিয়ে খুন করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভিজিতের স্ত্রী, আরেক মুক্তমনা ব্লগার বন্যা আহমেদও জঙ্গি হামলায় আহত হন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই ব্লগার দম্পত্তি অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে দেশে এসেছিলেন।

    ড. অজয় রায় ১৯৩৫ সালের ১ মার্চ দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশে প্রায় সব গণতান্ত্রিক ও নাগরিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রগ্রামী।

    ২০১৫ সালে ১২ সেপ্টেম্বর অভিজিৎ রায়ের ৪৪ তম জন্মদিনকে সামনে রেখে একটি নিউজ পোর্টালের জন্য এই লেখককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক অজয় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ছেলে অভিজিৎ খুন হ্ওয়ার পর বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা। একের পর এক মুক্তমনা ব্লগার ও নিরস্ত্র মানুষ জঙ্গি হামলায় খুন হলেও সে সময় সরকারের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

    মুক্তমনা লেখক ও ব্লগারদের জঙ্গি হামলায় নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ঘটনায় “বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার চর্চা বিপদাপন্ন“ বলে মন্তব্য করেন ড. অজয় রায়।

    সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায় খোলামেলা কথনে তুলে ধরেন অনেক অজানা বিষয়। একের পর এক ব্লগার খুন হওয়ার প্রসঙ্গে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, “ফ্রি থিংকিং ইজ ইন ডেঞ্চার। কিন্তু আমি মনে করি, এটি একটি সাময়িক সঙ্কটকাল। কারণ, বাংলাদেশে ইসলাম চর্চার প্রেক্ষাপট, পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের ইসলাম চর্চার প্রেক্ষাপট থেকে ভিন্ন। এদেশে ইসলাম হচ্ছে অনেকটাই সুফিবাদকেন্দ্রীক। এ কারণে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু হলেও তারা ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি বা জঙ্গিবাদ-মৌলবাদকে পছন্দ করে না। বরং মানুষে মানুষে ভাতৃত্ববোধ, সব ধর্মালম্বী মানুষের সহাবস্থান-এটিই এদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্য। তাই শেষ পর্যন্ত এদেশে জঙ্গিরা খুব একটা সুবিধা করতে পারবে বলে মনে হয় না।“
    অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, “সরকারের উচিৎ হবে, জীবন ঝুঁকির মুখে থাকা ব্লগারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাদের সংখ্যা খুব বেশী নয় বলে এটি সম্ভব।“

    “জঙ্গিরা নাস্তিক ব্লগার বলে চিহ্নিত করে তালিকা ধরে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। এখানে আমাদের কথা খুব পরিস্কার। নাস্তিক হোক, আর আস্তিক হোক, হত্যা একটি ফৌজদারি অপরাধ। সরকারকে সেভাবেই এসব হত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে। কারো লেখালেখি যদি কারো ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানে, তবে প্রচলিত আইনেই তার বিচার হতে পারে। কিন্তু কারো অধিকার নেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার। অথচ জঙ্গিরা তাই করছে।“
    “এ অবস্থায় মুক্তচিন্তা ও অনলাইন লেখালেখি অনেকটাই বিপদাপন্ন। ড. হুমায়ূন আজাদকে কুপিয়ে খুন (১১ আগস্ট ২০০৪) করে জঙ্গিরা তাদের মিশন শুরু করেছিল। শাহবাগ গণবিস্ফোরণের (২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়রি) ১০ দিনের মধ্যে খুন হন ব্লগার রাজিব হায়দার। এরপর মৌলবাদী জঙ্গিরা কুপিয়ে খুন করে আমার ছেলে অভিজিৎ রায়কে। সিলেটে একইভাবে খুন হন (১২ মে ২০১৫) আরেক মুক্তমনা ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। ঢাকায় খুন হন আরেক ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু (৩০ মার্চ ২০১৫)। আরো খুন হন ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় (৭ আগস্ট ২০১৫)।“

    সে সময় অধ্যাপক অজয় আরো বলেন, “একমাত্র ব্লগার বাবু হত্যাকাণ্ডের সময়ই জনতা হাতেনাতে দুজন খুনীকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এছাড়া পুলিশ এসব হত্যা মামলায় যাদের ধরেছে, তারা সকলেই সন্দেহভাজন। সরকারের উচিৎ হবে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া। আর প্রগতিশীল ছাত্র-শিক্ষক-জনতার উচিৎ হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। এখনো এই কাজটি হচ্ছে না। অথচ এটি অব্যহতভাবে চালিয়ে যাওয়া খুব দরকার।“

    পাঠক মাত্রই জানেন, এসব হত্যাকাণ্ডের কোনোটিরই এখনো বিচার হয়নি। এছাড়া দীর্ঘ সময় সরকার পক্ষ জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থানেও গা করেনি বলেই একের পর এক কিলিং মিশিন সম্ভব হয়েছে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান রেস্তারাঁয় জঙ্গিগোষ্ঠী ১৭ জন বিদেশিসহ ২০ জনকে গুলি করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার পরেই সরকার বাহাদুর নড়েচড়ে বসেন। জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে জঙ্গি নিধন অপারেশেন শুরু হয়। এই সেদিন হলি আর্টিজান মামলার রায় ৮ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। আবার আদালত চত্বরে দুই জঙ্গির মাথায় আইএস-এর টুপি কাহিনী সরকারের নিরাপত্তাকে ফস্কা গেরো বানিয়ে ছেড়েছে।
    https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1693825.bdnews

    সেটি অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ।

    অধ্যাপক অজয় রায়ের ওই সাক্ষাৎকারটি পড়া যাবে এখানে...
    http://archive-bn.newsnextbd.com/article188200.nnbd

    সাক্ষাৎকারটিতে অধ্যাপক অজয় রায়ের দুটি অমূল্য ভিডিও ক্লপিং যুক্ত করা হয়েছে। সেগুলোও এই লেখকের ধারণ করা।

    ভিডিও ক্লিপ-০১


    ভিডিও ক্লিপ-০২


    বিনম্র শ্রদ্ধা অধ্যাপক অজয় রায়। স্যার, বাংলাদেশ আপনাকে আজীবন মনে রাখবে।


    সংযুক্ত : বাবা অজয় রায়কে নিয়ে লেখা অভিজিৎ রায়ের লেখা "তিনি বৃদ্ধ হলেন"...

    https://blog.mukto-mona.com/2009/06/22/1768/#comment-177777
  • বিভাগ : আলোচনা | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৯১ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • aranya | 236712.158.2367.16 (*) | ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৩:১৩50864
  • প্রাণের ভয় থাকা সত্ত্বেও যারা নিজের দেশ ত্যাগ করে অন্যত্র নিরাপদ জীবন বেছে নেন নি, তাদেরই একজন অজয় রায়।
    দেশের সুসন্তান - কুর্ণিশ
  • বিপ্লব রহমান | 237812.69.453412.38 (*) | ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৪:১৪50865
  • মুক্তিযোদ্ধা অজয় স্যার সব সময়ই বলতেন, ইন্ডিয়া যাব কেন? সেটা তো আমার দেশ না!

    আর অভি দা'র কথা মনে হলে, মনে পড়ে তার শিক্ষা-- নিঃশংক চিত্তের চেয়ে জীবনে বড় কিছু নাই!

    ধন্যবাদ অরণ্য, আপনিই রোদনের মর্ম জানলেন।
  • aranya | 347812.245.2356.140 (*) | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৭:৫০50866
  • http://www.sachalayatan.com/silent_watcher/57626 সচলে সাক্ষী সত্যানন্দের লেখা, 'তিনি বিদায় নিলেন'।
    বিনা অনুমতি-তে পোস্ট, তবে এ লেখা ছড়ালে সাক্ষী মনে হয় খুশি-ই হবেন
  • বিপ্লব রহমান | 236712.158.676712.114 (*) | ১১ জানুয়ারি ২০২০ ০২:৫৭50867
  • অরণ্য, অনেক দেরিতে বলছি, সংগে থাকার জন্য আবারও আপনাকে ধন্যবাদ।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত