কবিতা কীভাবে লিখতে হয় সেটা পড়তেই হবে এমন না, তবে, বয়সে বুড়ো বলে উপদেশ দিই যে পড়াশুনোর চর্চার মধ্যে থাকা ভালো। বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ো, পড়তে পড়তে অনেক দরজা-জানলা খুলে যাবে। তাছাড়া অভিজ্ঞতার ঝুলিও বাড়ে, আত্মকেন্দ্রিকতা কমে। প্রিজুডিসও সাধারণত কমে।
এই দুদিন আগেই একটা আলোচনায় শুনছিলাম, Gertrude Stein মেডিক্যাল স্টুডেন্ট ছিলেন, হেমিংওয়ে ছিলেন জার্নালিস্ট, ওঁদের লেখার মধ্যে ঐ মেডিক্যাল প্রিসিশন, অথবা ঐ সাংবাদিকের নির্মম এডিটিং দেখা যায়। কোন পেশা থেকে যে কে কোন গুণ বা দেখার চোখ নিয়ে আসেন!
আর, "লিখতে থাকো" বলার বদলে, জয় গোস্বামীর একটা কবিতা টুকে দিয়ে যাই। এর শেষ স্তবকটা আমাকে আমার এক বন্ধু আমার লেখার খাতার ভেতরে লিখে দিয়েছিল। খুব প্রিয় কবিতা এমন বলতে পারি না, সবটা ভালো লাগে এমন-ও না, কিন্তু লিখতে ইচ্ছে না করলে ঐ লাস্ট চার্লাইন ভাবি।
"মানুষ কত কিছু পড়ে
মৃত্যুদিন নিয়ে পড়া
মেঘের কাছে আসে মেঘ
হাতের কাছে হাতকড়া
মানুষ কত কিছু ভাঙে
বন্ধুঘর ভেঙে গড়া
নিজের ঘর—সেই ঘরে
পুরো পৃথিবী জড়ো করা
মানুষ কত কিছু বাঁধে
পুরুষ মেয়ে দড়ি দড়া
মুহূর্তের ভুল থেকে
সারা জীবন বাঁধা পড়া
মানুষ কত কিছু লেখে
মৃত্যু সব লেখাপড়া
নিয়তি পার করে লেখো—
লেখাই ভাঙে হাতকড়া।"