• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন

    souvik ghoshal
    বিভাগ : ব্লগ | ১৩ জুলাই ২০১৯ | ১০৪ বার পঠিত
  • ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।

    মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার অভূতপূর্ব সঙ্কট সামনে এসেছিল। সভ্যতার পীঠস্থানকে মনে হচ্ছিল ওয়েস্টল্যান্ড। এদেশে পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প, দুর্ভিক্ষ মৃত্যুমিছিল নিরাশাকরোজ্জ্বল চেতনায় আরো নতুন নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এর বিপরীতে বড় ধরনের আশাবাদ সঞ্চারিত হয়েছিল বিশ্বযুদ্ধের মাঝেই সংগঠিত রুশ বিপ্লব ও সোভিয়েত সমাজবাদের প্রেরণায়। বাংলায় যাদের কবিতায় এটা সবচেয়ে স্পষ্ট ও প্রবলভাবে অনুরণিত হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিলেন সুকান্ত ও সুভাষ। সুকান্ত অকালপ্রয়াত আর সুভাষ মুখোপাধ্যায় পেয়েছিলেন দীর্ঘ জীবন।

    শুধু সমাজবাদী স্বপ্নই নয়, কবিতার শৈলীগত বিশিষ্টতার কারণেও সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে বাংলা কবিতার পাঠক বিশেষভাবে মনে রাখবেন।

    সুভাষ মুখোপাধ্যায় সৌন্দর্যের যে ধারণা ‘মিছিলের মুখ’ এর মতো বিশিষ্ট কবিতায় নিয়ে আসেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলা কবিতার নন্দনতত্ত্বে অভিনব সংযোজন।

    মিছিলে দেখেছিলাম একটি মুখ,
    মুষ্টিবদ্ধ একটি শানিত হাত
    আকাশের দিকে নিক্ষিপ্ত;
    বিস্রস্ত কয়েকটি কেশাগ্র
    আগুনের শিখার মতো হাওয়ায় কম্পমান।
    ময়দানে মিশে গেলেও
    ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ জনসমুদ্রে ফেনিল চূড়ায়
    ফসফরাসের মতো জ্বলজ্বল করতে থাকলো
    মিছিলের সেই মুখ।
    সভা ভেঙে গেল, ছত্রাকারে ছড়িয়ে পড়লো ভিড়
    আর মাটির দিকে নামানো হাতের অরণ্যে
    পায়ে পায়ে হারিয়ে গেল
    মিছিলের সেই মুখ।
    আজও দুবেলা পথে ঘুরি
    ভিড় দেখলে দাঁড়াই
    যদি কোথাও খুঁজে পাই মিছিলের সেই মুখ।
    কারও বাঁশির মতো নাক ভালো লাগে,
    কারও হরিনের মতো চাহনি নেশা ধরায়—
    কিন্তু হাত তাদের নামানো মাটির দিকে,
    ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ সমুদ্রে জ্বলে ওঠে না তাদের দৃপ্ত মুখ
    ফসফরাসের মতো।
    আমাকে উজ্জীবিত করে সমুদ্রের একটি স্বপ্ন
    মিছিলের একটি মুখ।
    অন্য সব মুখ যখন দুর্মূল্য প্রসাধনের প্রতিযোগিতায়
    কুৎসিত বিকৃতিকে চাপার চেষ্টা করে,
    পচা শবের দুর্গন্ধ ঢাকার জন্যে
    গায়ে সুগন্ধি ঢালে,
    তখন অপ্রতিদ্বন্দী সেই মুখ
    নিষ্কোশিত তরবারির মতো
    জেগে উঠে আমাকে জাগায়।
    অন্ধকারে হাতে হাত তাই গুঁজে দিই আমি
    নিষিদ্ধ এক ইস্তাহার,
    জরাজীর্ণ ইমারতের ভিত ধসিয়ে দিতে
    ডাক দিই
    যাতে উদ্বেলিত মিছিলে একটি মুখ দেহ পায়
    আর সমস্ত পৃথিবীর শৃঙ্খলমুক্ত ভালবাসা
    দুটি হৃদয়ের সেতুপথে
    পারাপার করতে পারে।।

    এখানে ভালোবাসা, সৌন্দর্য সব কিছুর সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার আনন্দ, প্রতিবাদ প্রতিরোধের মধ্যে খুঁজে পাওয়া জীবনের অন্যতর অর্থকে যেভাবে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলা কবিতায় তার পূর্বাপর খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কারও বাঁশির মতো নাক ভালো লাগে, কারও হরিনের মতো চাহনি নেশা ধরায় আর জীবন বা কবিতার ভুবনে তারাই মূলত সৌন্দর্যের আর্কেটাইপ। কিন্তু হাত তাদের নামানো মাটির দিকে, তাই সৌন্দর্যের নতুন ধারণার খোঁজে থাকেন সমাজবাদের দর্শনে নন্দিত কবি। মুষ্টিবদ্ধ একটি শানিত হাত, যা আকাশের দিকে নিক্ষিপ্ত; যার বিস্রস্ত কয়েকটি কেশাগ্র আগুনের শিখার মতো হাওয়ায় কম্পমান – তার মধ্যেই সৌন্দর্যের নতুন আর্কেটাইপ খুঁজে পান কবি সুভাষ। জরাজীর্ণ ইমারতের ভিত ধসিয়ে দিয়ে সমস্ত পৃথিবীতে শৃঙ্খলমুক্ত ভালবাসা আনতে পারে যে, সেই সুন্দর। সেই ভালোবাসার মানুষ যে নিষ্কোশিত তরবারির মতো জেগে উঠে আরেকজনকে জাগিয়ে দিতে পারে। কবিতা প্রেম বিপ্লব সৌন্দর্যচেতনার যে নতুন সমন্বয় গড়ে তুলেছিলেন কবি সুভাষ, তার আবেদন দেশ কালের সীমা পেরিয়ে চিরকালীন।
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৩ জুলাই ২০১৯ | ১০৪ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • aranya | 236712.158.2367.78 (*) | ১৪ জুলাই ২০১৯ ০৫:০২50612
  • গতকালই নবারুণের একটা ছোট লেখা পড়ছিলাম, 'আনাড়ীর নাড়িজ্ঞান' নামে একটা কালেকশনে, সুভাষ-কে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়েছেন
  • রঞ্জন | 236712.158.455612.210 (*) | ১৫ জুলাই ২০১৯ ০২:১২50613
  • "কুয়াশা কঠিন বাসর যে সম্মুখে
    লাল উল্কিতে পরস্পরকে চেনা।
    দলে টানো হতবুদ্ধি ত্রিশংকুকে,
    কমরেড, আজ নবয়ুগ আনবে না ?"

    বা মে দিবসের গানেঃ
    'প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
    ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা।
    চোখে নেই স্বপ্নের নীলরঙ মদ্য
    কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া'।
    এছাড়াঃ
    "জাপ পুষ্পকে জ্বলে ক্যান্টন জ্বলে হ্যাংকাও,
    কমরেড, আজ বজ্রকঠিন বন্ধুতা চাও?
    লাল নিশানের নিচে উল্লাসী মুক্তির ড্যাক,
    রাইফেল আজ শত্রুপাতের সম্মান পাক'।
    কিছু আশচর্য লাইনঃ
    'ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত'।
    " ঘোড়াগুলো বাঘের মত খেলছে,
    ঘোড়াগুলো বাঘের মত খেলছে।
    ----
    রবাব্রের বনে বনে ঝুলছে ফাঁস,
    পালাও!
    চাল ফেরত নেই,
    গোটা দুনিয়াকে বাজি রেখে আম্মাদের লড়াই
    ঘোড়াগুলো বাঘের মত খেলছে।"
    'পাগল বাবরালির চোখের মত ঘোলা আকাশ'।

    পরের দিকে 'মুখুজ্জের সঙ্গে আলাপ' 'এই ভাই', 'ছেলে গেছে বনে' ইত্যাদিতে রাজনীতির বাঁকবদল ধরা পড়েছে। কিন্তু কাব্যগুণ আরও সুষমামন্ডিত আরও গভীর হয়েছে;-- ব্যক্তিগত মত।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত