• হরিদাস পাল

    Share
  • জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ ও বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষা : কিছু প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ

    souvik ghoshal লেখকের গ্রাহক হোন
    ০১ আগস্ট ২০২০ | ২৯৭ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • সদ্য প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০। এখানে বিদ্যালয় শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে আগামী পথচলার নীতিমালা রয়েছে। এই লেখাটিতে আমরা কেবল বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষাকাঠামো ও নীতি নিয়ে কী বলা হয়েছে তা কিছু দিক উল্লেখ করব এবং প্রাথমিক কিছু পর্যবেক্ষণই কেবল সূত্রাকারে রাখব।
    • গোড়াপত্তন – প্রাক বিদ্যালয় বা প্লে স্কুলের ৩ বছর, প্রথম আর দ্বিতীয় শ্রেণির ২ বছর মিলে মোট ৫ বছর এই স্তরের জন্য রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে তিন থেকে আট বছর বয়সের বাচ্চারা এই পর্বে খেলাধূলা ও বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের মধ্যে দিয়ে কিছু কিছু জিনিস শিখবে। মাতৃভাষা শেখা এই পর্বের মূল লক্ষ্য।
    • প্রস্তুতি পর্ব – তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণি নিয়ে তিন বছরের এই স্তর। বলা হয়েছে আট থেকে এগারো বছর বয়েসের ছেলেমেয়েরা খেলাধূলা, ক্রিয়াকলাপ, পারস্পরিক আদান প্রদানের মধ্যে দিয়ে এই পর্বে শিখবে। ভাষাজ্ঞান এবং গণনা - মানে যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ শেখা এই পর্বের মূল লক্ষ্য। আগের পর্ব আর এই পর্বে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে কেবল মাতৃভাষা ও স্থানীয় ভাষাকে অবলম্বন করার কথা বলা হয়েছে। রয়েছে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণিতে মূল্যায়নের কথাও। বোর্ড পরীক্ষার আগে আর একটি মূল্যায়নের কথা রয়েছে অষ্টম শ্রেণিতে।
    বেসরকারী ইংরাজী মাধ্যম স্কুলগুলি এই নীতি মেনে নেবে নাকি নানা ফাঁক ফোকরের সন্ধান করে ইংরাজী মাধ্যমে শিক্ষা ব্যাবসা চালিয়ে যাবে তার দিকে সতর্ক নজর রাখা দরকার।
    একটি লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হল এই স্তরে মাতৃভাষা/ আঞ্চলিক ভাষা সহ তিনটি ভাষা শেখার কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে কোন তিনটে ভাষা সেটা সংশ্লিষ্ট রাজ্যই স্থির করবে।
    প্রশ্ন হল মাতৃভাষার সাথে আর একটি ভাষা হিসেবে ইংরাজী – দু্টি ভাষাই কি এই স্তরে যথেষ্ট ছিল না ? তৃতীয় ভাষার সূত্রে কি হিন্দিকে ঘুরিয়ে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ? আর হিন্দিভাষী এলাকায় সংস্কৃত ? মনে রাখতে হবে বর্তমানে ক্লাস সেভেন এইট এ তিন ভাষা পড়ানোর চল আছে। সেটাকে ক্লাস থ্রি, ফোর, ফাইভে নিয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত ? তা চাপ কতটা বাড়াবে শিশুদের ? প্রথম আর দ্বিতীয় ভাষা শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে কি ? এই স্তরে ত্রিভাষা নীতি প্রণয়নের প্রশ্নটি নিয়ে বিতর্ক ওঠা দরকার ও এর পুনর্বিবেচনা জরুরী।
    • মধ্যবর্তী স্তর – ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি নিয়ে তিন বছরের এই স্তর। এই স্তরটিকে একসময়ে সিনিয়ার বেসিক, আপার প্রাইমারি, জুনিয়ার হাই ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হত। বলা হয়েছে এগারো থেকে চোদ্দ বছরের ছেলেমেয়েরা এই পর্বে পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, গণিত, কলা ইত্যাদি শিখবে। মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে বোধের বিকাশের দিকে জোর দেওয়া হয়েছে।
    এই স্তরের শুরু থেকে কম্পিউটার কোড শেখার কথা যেমন বলা হয়েছে, তেমনি খেলাধূলা, সঙ্গীত ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কলাচর্চাকেও বিষয় হিসেবে রাখার কথা বলা হয়েছে।
    এই স্তর থেকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয় নি। যা আগের দুই স্তরে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ক্লাস সিক্স থেকে বেসরকারী ইংরাজী মাধ্যম স্কুলের রমরমার পথ খুলে রাখা হল। আগের দুই স্তরে মাতৃভাষা ও স্থানীয় ভাষায় শিক্ষাদানের যে নির্দেশিকা ছিল, সেখান থেকে এই পশ্চাদপসরণ দুর্ভাগ্যজনক। সরাসরি না বলা হলেও আশঙ্কা হয় এর আগে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক বুনিয়াদী শিক্ষার যে কথা বলা হয়েছিল, তা পঞ্চম শ্রেণিতে এসেই শেষ করে দেওয়ার নকশা তৈরি করা হচ্ছে।
    • মাধ্যমিক স্তর – নবম দশম শ্রেণির বর্তমান মাধ্যমিক স্তর এবং একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির বর্তমান উচ্চ মাধ্যমিক স্তরকে মিশিয়ে চার বছরের এই নতুন মাধ্যমিক স্তর চালু করার কথা বলা হয়েছে। একাদশ শ্রেণিতে বিষয় বেছে নেবার বর্তমান ব্যবস্থাটি চালু করে দেওয়া হচ্ছে নবম শ্রেণিতেই। বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও কলা বিভাগের বিভাজন তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের পছন্দের বিষয় মিলিয়ে মিশিয়ে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন টেকনিক্যাল বা প্রযুক্তিগত বিষয় বেছে নেবার সুযোগও এর মধ্যে থাকছে। এই স্তরের শিক্ষার লক্ষ্য হিসেবে বিশ্লেষণী চিন্তার বিকাশের কথা বলা হয়েছে।
    বোর্ড স্তরের পরীক্ষাকে সহজ করার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ দক্ষতাকে কেবল যাচাই করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বোর্ডগুলির আমূল পুনর্বিন্যাসের কথাও এসেছে। তবে তার সঠিক রূপরেখা এখনো অস্পষ্ট।
    সদ্য প্রকাশিত জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে সামান্য কিছু প্রাথমিক পর্যবেক্ষণই কেবল এখানে রইলো। আগামী দিনে এই নিয়ে বিস্তারিত আলাপ আলোচনায় প্রবেশ করা যাবে।
  • ০১ আগস্ট ২০২০ | ২৯৭ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
    Share
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত