এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শাসকদলের দোলনায় 

    কালের নৌকা লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ জুন ২০২৬ | ২০ বার পঠিত
  • মে মাসের চার তারিখের আগেও যাঁরা তৃণজীবী শিল্পী সাহিত্যিক গায়ক বাদক সেলেব্রিটি হিসাবে সমাজে মান্য এবং গণ্য হয়ে বিরাজ করছিলেন। তাঁদের ভিতরে অনেকেই গুটি গুটি এক পা দুই পা করে জুন মাস থেকেই পদ্মজীবী শ্রীমুখে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেছেন। এ যেন অনেকটা সেই বাবা মায়ের হাত ধরে ‘হাঁটি হাঁটি পা পা, খোকন হাঁটে দেখে যা’। অর্থাৎ এই শ্রেণীর কলাকুশলীদের শৈশবস্থা আজীবনেও ঘোঁচে না। শৈশবে বাবা মায়ের হাত। আর সেলেব্রিটি হয়ে শাসকদলের হাত না ধরে এঁরা নিজের পায়ে হাঁটতে অপরাগ। অবশ্য তাতে দল বদল করা বিধায়ক সাংসদদের মতোই এঁরাও ন্যূনতম লজ্জাটুকুও বোধ করেন না। এবং জনারণ্যে তাতে তাঁদের কান কাটাও যায় না বোধহয়। যাক বা না যাক। মানুষ তাঁদের চেনে। মানুষ জানে, শাসকদলের দোলনার বাইরে এই শ্রেণীর শিল্পী সাহিত্যিক কবি নাট্যকার গায়ক বাদক ইত্যাদি, কেউই নিরাপদ বোধ করেন না। এখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণ যদি হয়, তবে অন্য কথা। কেউ যদি ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়ে শাসকদলের বৃত্তে নিজেকে বন্ধক রাখতে বাধ্য হন, সে অন্য কথা। আত্মরক্ষার অধিকার প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার। সেই বিষয়ে কারুর কিছু বলার থাকতে পারে না। কিন্তু এই যে শাসকদলের দোলনা। সেই দোলনায় চড়ার জন্য যদি কেউ সত্যিই বায়না ধরেন। যদি কেউ মরিয়া হয়ে ওঠেন। যদি কেউ বিশ্বাস করতেই শুরু করে দেন, শাসকদলের দোলনায় না চড়তে পারলে জীবন বৃথা। রাজনৈতিক অনৈতিক সুযোগ এবং সুবিধেগুলির প্রতিই যদি কোন কোন শিল্পী সাহিত্যিক কবি লেখক গায়ক বাদক অভিনেতা অভিনেত্রীরা লোভাতুর হয়ে ওঠেন, তবে জনতারও কিছু কথা বলার হক রয়েছে বইকি।

    শাসকদলের দোলনা ছাড়া যাদের মন মানে না, শাসকদলের হাত না ধরে যাঁরা এক পাও হাঁটতে পারেন না। যাঁরা মনে করেন, শাসকদলের দোলনায় চড়ে, শাসকদলের হাত ধরে হাঁটি হাঁটি পা পা করে নিজের এবং নিজের উত্তরাধিকারীদের কয়েক পুরুষের আখের গুছিয়ে দিয়ে যেতে পারলে তবেই শিল্পী সাহিত্যিক কবি গায়ক বাদক অভিনেতা ইত্যাদি হওয়া সার্থক। তাদের বিরুদ্ধে কিছু কথা বলার হক তো জনতারও থাকা উচিত। অবশ্য জনতা যদি শুধুমাত্র ভোটার না হয়, তবেই। শুধুমাত্র ভোটার যাঁরা, তাঁদের কিন্তু নিজের কোন কথাই থাকে না। তাঁদের কথা আলাদা। কিন্তু জনতার চোখ কিন্তু পরিস্কার। মে মাসের চার তারিখের আগের চিত্র। আর সেই চার তারিখের পরের চলমান চালচিত্র দেখতে দেখতে জনতা যদি বিরক্ত হয়ে ওঠে, তবে তার জন্য জনতাকে দোষ দিই কি করে। কয়দিন আগে অব্দিও যে সব তৃণজীবীদের ঘাসফুলের মঞ্চ আলোকিত করে ঝিঙ্ককুরাকুর নৃত্য করতে দেখা যেত, মাননীয়ার চেয়ার মুছে দেওয়ার লাইনে যাঁদেরকে সদা তৎপর থাকতে দেখা যেত। আজ যদি তাঁরাই এপাং ওপাং ঝপাং করে পদ্মজীবী হয়ে ওঠার লাইনে দাঁড়িয়ে যেতে থাকেন একের পর এক। তবে তো কিছু কথা বলতেই হয়।

    একটি সমাজের পক্ষে এই শ্রেণীর লোকজন শুধুই বোঝা নয়, অনেক সময়েই বিপদজনকও বটে। এইসব মোসাহেবদের মোসাহেবিই শাসকদলগুলিকে আরও বেশি স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে সাহায্য করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ইতালি জার্মানী সহ বিভিন্ন দেশেই এই শ্রেণীর মোসাহেবদের কারণেই স্বৈরতান্ত্রিক শক্তিগুলি রীতিমত ফুলেফেঁপে উঠেছিল। এবং এদের পরিবৃত হয়েই সেইসব স্বৈরতান্ত্রিক শক্তি সর্বশক্তিমান হয়ে ওঠার খেলায় মেতে উঠেছিল। আমাদের দেশেও তেমনই ঘটনা যে ঘটতে চলছে না, নিশ্চিত করে কে বলবে? বিশেষ করে ঈশ্বরপ্রেরিত যে ‘ননবায়োলজিক্যাল’ থিওরির আমদানি হয়েছে সম্প্রতি, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখলে সেটি চোখের দোষ নাও হতে পারে। স্বৈরতান্ত্রিক শক্তি সবসময়েই দোলনায় চড়া শিল্পী সাহিত্যিক লেখক কবি গায়ক বাদক অভিনেতাদের মাধ্যমেই সাধারণ জনতাকে অন্ধভক্ত ভোটারে পরিণত করে ফেলে। এই কারণেই বলছিলাম। এই যে শাসকদলের দোলনা। সেই দোলনায় চড়া শিল্পী সাহিত্যিক লেখক কবি গায়ক বাদক অভিনেতারা শুধুই জনতার পক্ষে বোঝা নয়। তাঁরা জনতার পক্ষেই চরম বিপদজনক। জনতা টেরও পাবে না। কখন সে অন্ধভক্ত ভোটারে পরিণত হয়ে গিয়েছে। স্বৈরতন্ত্র যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া বাদও দিয়ে দেয়, তবুও সেই অন্ধভক্তদের কারণেই স্বৈরতন্ত্র অধিকতর সময়ের জন্য দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে। তখন সেই শক্তির মোকাবিলা খুবই কঠিন কিন্তু। তাই আজকে যাঁরা পদ্মজীবী হয়ে ওঠার লাইনে দাঁড়িয়ে। আজকে যাঁরা নিজেদের তৃণজীবী পরিচয় পল্টিয়ে পদ্মজীবী পরিচয়ে শ্রীমুখ প্রকাশে অধিকতর তৎপর। তাঁরা কিন্তু জনতার পক্ষে সত্যিই বিপদজনক। এঁদের একটিই কাজ। শাসকদলের দোলনায় চড়ে জনতাকে অন্ধভক্তে পরিণত করা। আর তার পারিশ্রমিক বাবাদ নিজের চৌদ্দো পুরুষের আখের গুছিয়ে নেওয়া। শাসকদলের হাত ধরে হাঁটি হাঁটি পা পা করা নিছক শৈশবাস্থার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তও নয়। ওটাই জনতাকে বশে আনা ও বশীভুত করে বশে রাখার খেলা।

    ©কা:নৌ ২৮শে জুন ২০২৬
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে প্রতিক্রিয়া দিন