এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  নববর্ষ

  • রেকর্ড নম্বর সহ অকৃতকার্য

    সৈকত বন্দোপাধ্যায়
    ইস্পেশাল | নববর্ষ | ১৫ এপ্রিল ২০২২ | ১১০৭৭ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৬ জন)

  • বাংলা নাকি বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ছে। নিউ-ইয়র্ক সিটিতে গত নির্বাচনে কিছু জায়গায় ভোটে বাংলা ব্যালট হয়েছে। বার্নি স্যান্ডার্স অনলাইন প্রচার করেছেন বাংলায়। লন্ডনে হোয়াইট চ্যাপেল স্টেশনের নাম লেখা হচ্ছে বাংলায়। রোম শহরে নাকি ইংরিজির চেয়ে বাংলা বেশি লোকে বলে। চারদিকে তাকালেই এইসব বিশ্বজয়ের খবর-টবর পাওয়া যায়। আরও হয়তো কিছু পাওয়া যেতে পারে, যা আমি জানিনা। এর সবই ঠিক। কিন্তু কথা হল, ভালো হোক বা মন্দ, এর সব দায়ই বস্তুত বাংলাদেশের। ভারতীয় বাঙালির নয়, ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের তো নয় বটেই। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র একটিমাত্র ভাষাকে ভারতীয় ভাষা হিসেবে বহির্বিশ্বে তুলে ধরে, তার নাম হিন্দি। ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট কেবলমাত্র দুটি ভাষায়, ইংরিজি এবং হিন্দি। ভারতীয় বিমানসংস্থা এয়ার-ইন্ডিয়া বিদেশে (এবং দেশেও) ঘোষণা করে কেবলমাত্র হিন্দি এবং ইংরিজিতে। বহির্বিশ্বে ভারতের পরিচয় হিন্দিভাষী দেশ হিসেবে। আর বাংলার যেটুকু পরিচিতি, সেটা বাংলাদেশের ভাষা হিসেবে। সঙ্গে ফুটনোটে খুব ছোটো-ছোটো করে লেখা থাকে, "ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলেও এই ভাষাটি বলা হয়ে থাকে"। বাংলার পরিচিতি বলতে ওইটুকুই।

    ভারতীয় বাঙালিও এ নিয়ে বিশেষ চিন্তিত না। একরকম ভাবে স্বীকৃতই হয়ে গেছে, যে, ব্যাপারটা এরকমই হবে। এরকমই হবার কথা। ইংরিজিতে আছে ঘ্যাম, হিন্দি হল রাজভাষা -- এখন সেটাকে ওই নামেই ডাকা হচ্ছে, আর বাংলার কী আছে? কিস্যু না। বাঙালি যদিও হিন্দি সিনেমা গুছিয়ে দেখে, কিন্তু "মেরে পাস মা হ্যায়" -- এই ডায়লগ যে নেহাৎই ফালতু, এর যে কোনো বৌদ্ধিক বা আবেগগত আবেদন নেই, সেটা সে নিজেও বিলক্ষণ বোঝে। হ্যাঁ, দুর্গাপুজো, পয়লা বৈশাখ, আর বঙ্গোৎসব-টব হয়, যেমন গ্রামে-গঞ্জে হয় চড়ক আর গাজন, কিন্তু সেসব নেহাৎই স্থানীয় কারবার। তার বাইরে, ভারতীয় বাঙালি অন্য ভারতীয়ের সঙ্গে স্বেচ্ছায় এগিয়ে গিয়ে কথা বলে হিন্দিতে। বাঙালির দ্বিতীয় প্রজন্ম ক্রমশ বাংলাটা ভুলে যাচ্ছে। শুধু বিদেশে বা ভিন রাজ্যেই না, খোদ কলকাতা শহরেও। কিন্তু এসব নিয়ে বলতে গেলে বাঙালি নিজেই হাঁ হাঁ করে উঠবে। তারা সর্বভারতীয় হচ্ছে, আন্তর্জাতিক হচ্ছে। আরও কী-কী হচ্ছে, ঈশ্বরই জানেন। সেখানে এসব ছোটো মনের পরিচয় দেওয়াটা ঠিক না।

    যদিও, যুক্তি দিয়ে জিনিসটা বোঝা দুষ্কর। বাঙালি যদি দিল্লি কিংবা নিউ-ইয়র্কে গিয়ে হিন্দি কিংবা ইংরিজি ভাষী হয়ে ওঠে, সেটাই যদি দস্তুর হয়, তবে বাংলায় এসে অন্যভাষীদের বঙ্গভাষী হয়ে ওঠারই কথা। আবার অন্যভাষীরা বাংলায় এসে যদি নিজের ভাষা বজায় রাখে, বা রাখতে পারে, অন্যত্র বাঙালিদেরও তেমনই হবার কথা। এর কোনোটাই হয়না। ভারতীয় বাঙালির কাছে এর কোনো ব্যাখ্যাও নেই। সম্ভবত অস্বস্তিকর বলেই। আর সেই জন্য প্রশ্নটা তোলাই ট্যাবু। তুললে কঠিন-কঠিন ইংরিজি গালি বর্ষিত হতে পারে।

    আর এটা ট্যাবু বলেই বাকি প্রশ্নগুলোও ওঠেনা। ভারতবর্ষের বাইরে ছাড়ুন, আপনি যদি দিল্লি থেকে অন্তর্দেশীয় উড়ানে কলকাতা যান, সেখানে ঘোষণা শুনবেন হিন্দি এবং ইংরিজিতে। তারপর যদি ট্যাক্সিতে ওঠেন, এবং ট্যাক্সিওয়ালা এফএম চালায়, শুনবেন, সব গানই হিন্দি গান। যদি বিনোদনের জন্য সিনেমা দেখতে যান, তো দেখবেন, বেশিরভাগ সময়েই মাল্টিপ্লেক্সে একটিও বাংলা সিনেমা নেই। যদি বাংলার গর্ব বইমেলায় যান, শুনবেন, সব ঘোষণা হচ্ছে তিনটি ভাষায়, ইংরিজি, হিন্দি এবং বাংলা। একে ইংরিজিতে বলে ইনক্লুসিভনেস, বাংলায় বলে সকলকে আপন করে নেওয়া। তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু আপন যদি করতেই হয়, তো স্রেফ হিন্দি কেন। পাশের পাড়ার ভোজপুরি, অসমীয়া, উড়িয়া, তেলুগু কী দোষ করল? প্রশ্ন করলে, আবারও কোনো উত্তর পাবেননা। কারণ এটাও ট্যাবুরই অংশ।

    যেটা ট্যাবু নয়, সেটা হল সংবাদ চ্যানেল। দিনের যেকোনো সময় যেকোনো সংবাদ চ্যানেল খুলুন, দেখবেন, চাট্টি লোক, পুরুষ বা মহিলা, একত্রে বিশুদ্ধ বাংলায় তারস্বরে চিৎকার করছে। সেটাকে আমজনতা বলে ঝগড়া, ওঁরা বলেন রাজনৈতিক বিতর্ক। তা,গোলাপকে যে নামেই ডাকুন, বার্তাটা পরিষ্কার। বাংলায় কাজ হয়না, সিনেমা হয়না, গান হয়না, শিল্প-সংস্কৃতি কিস্যু হয়না। ভাষাটা কেবলমাত্র একটা জিনিসের জন্যই উপযুক্ত, তা হল ঝগড়া। ওইটুকুই করা যায়। সেইজন্যই বাংলা সিরিয়ালে দেখবেন, তেড়ে ষড়যন্ত্র। সবাই সবার সঙ্গে ঝগড়া করে চলেছে। বাংলা ভাষায়। ওইটাই যাবতীয় সিরিয়ালের থিম। কিন্তু যেই গান চালাতে হল, হিন্দি গান চালিয়ে দিল। কারণ ঝগড়া ব্যতীত বাংলায় হয়টা কী।

    বাংলা লেখালিখির বাজারও তথৈবচ। ঝগড়ার বদলে 'জনপ্রিয়' লেখালিখি বেছে নিয়েছে এমন বিষয়কে, যা, ওইরকমই উচ্চমার্গীয়। স্বপনকুমার একটা সময় কচি বাচ্চারা পড়ত, বড়রা তা নিয়ে ঠাট্টাতামাশা করত। ফেলুদার গোটা উপাখ্যানই তো বাংলা রহস্যরোমাঞ্চকে খিল্লি করে লেখা। আর এখন থ্রিলার নাম দিয়ে বড়দের জন্য প্রথমসারির সাময়িকীতে ছাপা হয় সেইসব গপ্পো বা উপন্যাস, যেখানে অনায়াসে অ্যাটম বোমা পিঠে নিয়ে সীমানা টপকিয়ে দেশ থেকে দেশান্তরে চলে যায় ভিলেন। গল্পের গরু ইনস্যাটে ওঠে, যমালয়ে চলে যায় জীবন্ত মানুষ। সে নিয়ে ঠাট্টা করলে গণপিটুনি খেতে হতে পারে। একটা সময় যেসব ইতিহাসনির্ভর লেখা, বা ধরুন রহস্যভেদী উপন্যাস স্রেফ কিশোরপাঠ্য পদবাচ্য ছিল, সেসবই এখন চশমা এঁটে পড়ছেন বিদগ্ধরা। সেখানে শাড়ি-ব্লাউজ পরে ঘুরছেন অষ্টাদশ শতকের মহিলা, সম্রাট আকবরের গাড়োয়ান দেশলাই জ্বেলে বিড়ি ধরাচ্ছেন, কিন্তু কাউকে কিছু বলার উপায় নেই। তার উপর আছে ভূতপ্রেত আর তন্ত্রমন্ত্র। এর সবই আগে হত। যেমন ঝগড়াও হত আগে, কিন্তু টিভি চ্যানেলে সেটাকে বিতর্ক বলে চালানো হতনা। সেরকম এগুলোকেও সিরিয়াস সাহিত্য হিসেবে কখনও চালানো হয়নি। এখন হয়। বাংলা ভাষায় ঝগড়া ছাড়াও তৃতীয় শ্রেণীর নভেলও লেখা হয় বটে।

    এ সবই একটা ভাষার অনাড়ম্বরে চুপচাপ উঠে যাবার প্রাথমিক লক্ষণ। তাতে কোনো সমস্যা নেই। পৃথিবীতে কত ভাষাই উঠে গেছে। ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বাংলা ভাষাটা উঠে গেলেই বা কী। কিন্তু সমস্যা হল, এসবের পরে, বাঙালি আবার নিজেই নাক কুঁচকে বলে, বাংলায় ভালো সিনেমা হচ্ছেনা। ভালো লেখা হচ্ছেনা। আগে কত ভালো হত। আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্য কত সুমহান, আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, ইত্যাদি। খুব ভুল কিছু বলে তা নয়। টালিগঞ্জে এখন যাঁরা রাজত্ব করছেন, যাঁরা নাগাড়ে স্ক্রিপ্ট লিখে চলেছেন, যাঁরা প্রসব করে চলেছেন গপ্পো-উপন্যাস-কবিতা, তাঁরা এমনিতে, কে জানে, হয়তো শক্তিমান মানুষ, কিন্তু কর্মকান্ড দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। সর্বত্র, নিচু থেকে নিচুতর স্তরে যাবার প্রতিযোগিতা। কিন্তু কথা হল, একটা ভাষা এবং তৎসংলগ্ন সংস্কৃতি উঠে যাবার উপক্রম হলে, এরকমই হবে। যে পারবে নৌকো ছেড়ে বোম্বে পালাবে। বাদবাকি সবকিছু তলানিতে এসে ঠেকবে। এর সবটাই কিছু লোকের দায় নয়। তাঁরা একার উদ্যোগে ভাষাটা তুলে দেবার উপক্রম করেননি। করেছি আমরা সবাই মিলে। আমরা পরের প্রজন্মকে ভাষা শেখাইনি। আমরা শহরের রেডিও থেকে বাংলা গান উঠে যাওয়ায়, পলকটিও ফেলিনি। আমরা মাল্টিপ্লেক্স থেকে বাংলা সিনেমা উঠে যাবার পরে, লাইন দিয়েছি হিন্দি সিনেমা দেখতে। আমরা বহুভাষিক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে বাকস্তব্ধ থেকেছি। আমরা বাংলা ভাষাকে সামাজিক অথবা রাজনৈতিক কার্যক্রমের অংশ করে তো তুলিইনি, বরং তুলতে চাওয়াকে ট্যাবু বানিয়ে রেখেছি। এর দায় স্রেফ সিনেমাওয়ালাদের নয়, গদ্যলিখিয়েদের নয়, আমাদের সব্বার। আমরা সব্বাই ফেল করেছি। আজ থেকে দুশো বছর পরে, ভারত ভূখণ্ডে মরে যাওয়া বাংলা ভাষার ইতিহাস লিখতে হলে, আমাদের প্রজন্ম সম্পর্কে একটা কথাই লেখা থাকবে -- "রেকর্ড নম্বর সহ অকৃতকার্য"। চতুর্দিকে আঙুল তোলার আগে, বিশ্বের অন্যতম চিন্তাশীল জাতি হিসেবে, এইটা আমাদের মেনে নেওয়াই ভালো।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ইস্পেশাল | ১৫ এপ্রিল ২০২২ | ১১০৭৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অ আ ক খ | ১৫ এপ্রিল ২০২২ ১৫:৫২506432
  • বাংলা ভাষা উঠে গেলে ক্ষতিটা কি সেইটা খালি বুঝলাম না !
  • Subhadeep Ghosh | ১৫ এপ্রিল ২০২২ ১৭:৩১506434
  • একদম সঠিক ও জোরালো বক্তব্য। বাংলা ভাষার এই দুর্দিন বাঙালির সামগ্রিক অধঃপাতের অংশ।
  • ধুর | ১৫ এপ্রিল ২০২২ ১৯:০৯506436
  • বাংলা ভাষা উঠে যাবে কেন? বালাই ষাট! চাষামজুর, রিকশাওলা, হকার, রাজমিস্তিরি দিব্যি বাংলায় খিস্তি করছে। এদের গাদা গুচ্ছের নাতিপুতিও বাংলায় কথা কইছে। আপুনি যেটা দেখছেন, তা হইল সমোস্কিতি খতরে মে। আগে রোবিন্দনাথ হইসে, এখোন পাঁচুগোপাল। হেইডা দাদা কল্কেতার পোবলেম। হেইডা ভাষার সমিস্যা না। নবজাগরনের প্রভাবে কাক ময়ূর সেজেছিল (সে এলেবেলে মানতে চান বা না চান), এখন ধীরে ধীরে পালোক খসে ফের কাক হইতেছে।
  • ধুর | ১৫ এপ্রিল ২০২২ ১৯:২১506437
  • চন্দ্রিলের বক্তিমে দেখুন। বলছে, কোটি কোটি জেলে মালো কি বলে তা দিয়ে ভাষা টিকে থাকেনা। একচুয়ালি মীন করছে সমোস্কিতি টিকে থাকেনা। ভাষা ত মানুষ থাকলেই টিকে থাকবে আর মা ষষ্ঠীর কৃপায় পোচ্চিমবঙ্গে ম্যালা লোক। ইস্কুল উঠে গেলেও ভাষা থাকবে। ফুকোসাহেব ভাষার ওপর ইস্কুলের খবরদারি নিয়ে কিচু বলেচেন কি? ভাষা মরে যাওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নাকি মোশাই?
  • এলেবেলে | ১৫ এপ্রিল ২০২২ ১৯:৫৯506438
  • আচ্ছা, সৈকতের রাডার কি খালি ওই অন্তর্দেশীয় উড়ান, এফ এম চ্যানেল আর মাল্টিপ্লেক্স পর্যন্ত কভার করে? তারপর সেটা অকেজো হয়ে যায়? মানে সিঙ্গুর পর্যন্তও কাজ করে না? এর আগে দেখেছি বালিগঞ্জটা কভার করলেও আসানসোল অবধি যায়নিকো। যাঃ, তাহলে এই হা-হুতাশই সার হবে। বাংলা ভাষা দাপটের সঙ্গে ছিল, আছে ও থাকবে। তাতে বাঙালির ভদ্রলোকীয় সমোস্কিতি থাকবে না উচ্ছন্নে যাবে - সেটা নিয়ে ওই বাংলাভাষীদের মাথাব্যথা নেই।
  • bkg | ১৫ এপ্রিল ২০২২ ২০:১০506439
  • বাঙালির আসল সমোস্কিতি তো খেউড়। সন্দীপন চাটুজ্জে লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে বোলপুর থেকে কোলকাতায় এনেছিল বাঙালরা। উত্তর কোলকাতার ঘটিদের যা সমোস্কিতি, তাতে নর্দমাও নজ্জা পাবে।
  • কুঞ্জবিহারী | ১৬ এপ্রিল ২০২২ ০০:৪১506444
  • পোবাসী বাঙালিদিগের বাংলা পিরিতি আর নেওয়া যাচ্ছে না। মামু কলকাতায় চলে আসো। ইঞ্জিরি বলা দেশে থাইকো না।
  • :|: | ১৬ এপ্রিল ২০২২ ০৪:৪০506446
  • পাঁচু না পাচু। পাচুগোপাল। সেই নামেই আবাপ থেকে দেশ -- সর্বত্র চিঠি আসতো। ১৯টা ৯-এর জন্য।
  • Somnath | ১৬ এপ্রিল ২০২২ ০৭:২৯506452
  • ভারতে দুটো রাজ্যের নাম ইংরিজিতে- ওয়েস্টবেঙ্গল আর নাগাল্যান্ড। ৭০ বছরের স্বাধীনতায় নিজের রাজ্যের নাম নিজের ভাষায় রাখতে পারলনা এমন হতভাগা জাতি বাঙালি!
  • Sara Man | ১৬ এপ্রিল ২০২২ ০৮:০৩506453
  • Amit | ১৬ এপ্রিল ২০২২ ০৮:৫৯506457
  • "বিশ্বের অন্যতম চিন্তাশীল জাতি হিসেবে, এইটা আমাদের মেনে নেওয়াই ভালো।"-
     
    তো এই চিন্তাশীল ​​​​​​​জাতির ​​​​​​​খেতাবটা ​​​​​​​হোওয়া ​​​​​​​ইউনি ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​নাকি ? সেই জনগণমন ​​​​​​​র মতো ? এতো ​​​​​​​সব চিন্তা ​​​​​​​করে ​​​​​​​বাঙালি ​​​​​​​কি ​​​​​​​তীর ​​​​​​​মারলো ​​​​​​​এদ্দিনে ?
     
  • এলেবেলে | ১৬ এপ্রিল ২০২২ ১১:৪৮506458
  • চতুরানন, না। পাঁচুগোপাল রায় নামে তিনি কস্মিনকালেও লেখেননি। আগে লিখতেন পাঁচু রায় নামে, পরে পাচু রায় নামে। এখন দমদম পুরসভায়।
  • :|: | ১৬ এপ্রিল ২০২২ ১১:৫৮506459
  • ঠিক ঠিক -- ১১ টা ৪৮। মনে পড়িয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ।
  • :) | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ০০:১৩506487
  • তা, মামু কি রাঙাদা-র এই উত্তরসম্পাদকীয়র তাত্বিক বিরুদ্ধাচরণ (নাকি বিরুদ্ধোচ্চারণ) করে "এই সময়"-এ পত্রাঘাত করবে না? লিখবে না চিঠি মামু?
    [ অবশ্য একটা বেসিক সমস্যা আছে, লেখায় RSS-কে ছোট্ট করে একটা কনুই মেরে রাখা আছে। ফলে এই লেখার বিপরীত তত্ত্ব দিতে গেলে বিপক্ষের বিপক্ষ তথা RSS এর বিরুদ্ধেও খেয়াল করে দুটো ঘুষি বরাদ্দ রেখে লিখতে হবে। উঠোন খানিক ট্যারাই আছে বটে। ]
  • Arghya | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১০:৪১506495
  • সৈকতদা লিখেছেন বাঙালি ভিন রাজ্যে হিন্দিতে অন্যদের সাথে আলাপ করে . তাহলে কোন ভাষায় করবে ! আমি কর্ণাটক এ দেখলাম তেলুগু আর কান্নাডিগরা হিন্দিতে কথা কইছে একে অন্যের সাথে
  • সৈকত মিস্ত্রী | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১১:০৬506496
  • নতুনকে নিতে না পারা, অতীতের চর্বিতচর্বণ আর কিছু না করেও বড়াইয়ের আত্মশ্লাঘা বাঙালিকে এমন জায়গায় দাঁড় করাল।
  • Mousumi Banerjee | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১১:১৭506497
  • প্রকৃত বাস্তব চিত্র। বড় দুঃখ পাই। কয়েকদিন আগেই টিভির কোন্ একটা চ্যানেল দেখলাম বাংলা ভাষা নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। সাংবাদিক নিজেই বাংলা একটা পুরো বাক্য বলতে পারলেন না। প্রায় প্রতিটি বাক্যের মাঝে 'but' শব্দটি ব্যবহারের সার্থকতা কি, বুঝলাম না।
     
    বাংলা ভালো গান বা কবিতা শুনে বাঙালী বিদগ্ধ শিল্পীদের মুখে 'ক্যা বাত' মন্তব্যের উপযোগিতা ও আমার বোধের বাইরে। 'খুব সুন্দর' বললে প্রশংসা মাত্রা কেন পায় না তা সেইসব গণ্যমান্য শিল্পীরাই জানেন।
  • নিরমাল্লো | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১২:০৫506500
  • লেখাটা বোধহয় যেটা বরাবর মিন করতে চেয়েছে কিন্তু একটিবারও স্পষ্ট করে বলে নি সেটা হল কোলকাতায়/বাংলায় হিন্দি উৎপাত। বাংলা ভাষা বরাবর বঙ্গভূমেই বলা হয়। বাইরে গেলে, "আমি তোমাকে ভালোবাসে ", " রসোগুল্লা খাবে", "মাছের ঝোল" এইরকম দু চারটে লব্জ ছাড়া আর কিচ্ছুটি শোনা যায় না। বাঙালী অনেক বেশি উদার, তারা আতিথেয়তা মার্কা ভড়ং শিখেছে বোধকরি তাদের ইউরোপীয় প্রভুদের কাছ থেকে। যাকে লেখক "ইনক্লুসিভনেস" বলেছেন। আতিথেয়তা গ্রামেগঞ্জে কম পাবেন না, কিন্তু সেখানে কেউ আপনার ভাষাকে মাথায় তুলবে না। বরং অঙ্গভঙ্গি করে বোঝানোর চেষ্টা করবে যদি আপনি বাংলা না বোঝেন। অবশ্য আজকাল হিন্দি সিনেমার দাপটে বেশিরভাগ লোক হিন্দি বোঝেন। তবে বলতে গেলে - এই ডাল খাল লিজিয়ের - বেশি কিছু না।
     
    মোদ্দা আমাদের জোর করে হিন্দি শেখানো হচ্ছে সেইটেতে আমাদের রাগ। তার জন্যে ভাষা ডুবে যাচ্ছে এইটে বলা একটু বাড়াবাড়ি। ভাষা পরিবর্তন হচ্ছে। সেটা নিয়ে আমাদের একটু দুক্ষু হবার কথা। হচ্ছেও। তবে তাতে ভাষা মরবে না।
  • Somnath Roy | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১২:১৭506501
  • Arghya | 160.238.93.78 | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১০:৪১
    বক্তব্য হচ্ছে বাঙালি বাংলায় ভিনরাজ্যের লোকের সঙ্গে বাংলায় কথা বলুক।
  • এলেবেলে | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৫:১৮506513
  • বক্তব্য হচ্ছে বাঙালি বাংলায় ভিনরাজ্যের লোকের সঙ্গে বাংলায় কথা বলুক।
     
    ও এটাই তাহলে এই লেখার সারকথা? কিন্তু এই আশাটা পোষণ করার একটা আবশ্যিক শর্ত আছে আর সেই শর্তটা পালিত হচ্ছে না বলেই বাঙালি বাংলাতেও বাংলা বলটে পারছে না। সেই শর্তটা হল অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি কার বা কাদের হাতে? সেটার উত্তর অবাঙালি হলে বাঙালির বাংলা বলার দাপটটাই থাকবে না। যেমন বড়বাজারে থাকে না। যেমন সেক্টর ফাইভে থাকে না। কারণ সেখানে তার প্রভুর ভাষাই তার ভাষা। বাঙালি ঠিক এভাবেই একদা ফারসি আর ইংরেজি শিখেছিল। এখন সে হিন্দিটাও শিখে নিয়েছে।
     
    কিন্তু আমার শহরের অর্থনীতিটা যেহেতু আপাদমস্তক বাঙালিদের কব্জায়, তাই এখানে মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীও বাঙালি খদ্দেরের সঙ্গে স্পষ্ট বাংলা উচ্চারণে কথা বলে। মূল পার্থক্য কিন্তু এখানেই। কাজেই কলকাতার বাঙালি আর বেশি দিন বাংলা বলতে পারবে না।
  • Ranjan Roy | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৬:০৫506514
  • এলেবেলের সঙ্গে অনেকটাই একমত।
  • π | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৬:৫২506517
  • তাহলে কোলকাতার বাইরে ইংরাজি মাধ্যমে পড়াশুনো হয়না? হলে তা আগের থেকে বাড়েনি? বাংলা মাধ্যমে পড়ুয়ার সংখ্যা কমেনি? পড়ুয়ার অভাবে নানা সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া তাহলে ভুল? আর যদি কমেই থাকে, তার ফলে বাংলা পড়ুয়ার সংখ্য কিছুই কমেনি?
     
    একটা ঠিক হলে অন্যটা হয়না। আর যুক্তি তথ্যের ধার ধারতে না হলে অবশ্যই তর্ক নেই।
  • এলেবেলে | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৭:৫৫506519
  • আপনি অনেকগুলো প্রশ্ন করেছেন এবং আমার ধারণা এর প্রত্যেকটার উত্তর আপনার নিশ্চিতভাবে জানা। আমি ঠিক ততটা জানি না। কেবল যেটুকু জানি, সেটুকু বলার চেষ্টা করছি।
     
    ১. এই ইংরেজি মাধ্যমটা নিয়ে সবার আগে বলি। হ্যাঁ, আগের তুলনায় তার সংখ্যা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু গুণমান বাড়েনি। আমার জেলায় ভালো ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গাতে গুণে দুটো - তার একটা কৃষ্ণনগরে, অন্যটা কল্যাণীতে। কৃষ্ণনগরের ইংরেজি মাধ্যমে পাশ করা পড়ুয়ারা পরবর্তী জীবনে ঠিক কতটা সফল হচ্ছে, সেটা জানি। বাংলা মাধ্যমের থেকে বেশি তো নয়-ই, বরং অনেক কম। কল্যাণীরটা বলতে পারব না। তবে আহামারি কিছু যে নয়, সেটা জানি।
     
    লাগোয়া জেলা পুর্ব বর্ধমানে ইংরেজি মাধ্যম ওই বর্ধমানেই। বাকিগুলো কহতব্য নয়। পশ্চিম বর্ধমানে দুর্গাপুর-আসানসোলে দু-চারটে। আরেক লাগোয়া জেলা মুর্শিদাবাদে ওই হাতের পাঁজি বহরমপুর। উত্তরবঙ্গেও তথৈবচ।
     
    ২. প্রতি বছর কতজন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক দেয় আর কতজন সিবিএসই-আইসিএসসি --- তার পরিসংখ্যান নিন। মাধ্যমিকে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ফি বছর বাড়ছে না কমছে? এই বাড়তি ছেলেমেয়েরা কারা? এখানেও কি অর্থনীতি লুকিয়ে নেই?
     
    ৩. একটা শহরে অজস্র সরকারি বাংলা মাধ্যম স্কুলে ছাত্র উপচে পড়লেও যে গুটিকয়েক স্কুল দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রস্বল্পতায় ভুগছে (তার বহু কারণ আছে), সেগুলো তুলে দেওয়াই জরুরি। সারপ্লাস শিক্ষকদের অন্য স্কুলে বদলি করলে আখেরে সরকারেরি লাভ। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে কৃষ্ণনগরের রামবক্স স্কুলের ছাত্রসংখ্যা সাকুল্যে ৯২। আজ অবধি ৯০০ বা ১০০০ ছাত্রসম্পন্ন একটি সরকারি স্কুল উঠে গেছে, তার নজির দেখাতে পারবেন?
     
    ৪. যে কথাটা এর আগেও বহুবার বলেছি, সেটা ফের একবার বলি। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে ছাত্রছাত্রীদের বাংলা, হিন্দি, উর্দু, নেপালি এবং সাঁওতালি মাধ্যম বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ আছে। এই মাধ্যমগুলির শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে বাংলা মাধ্যম ছাড়া অন্য মাধ্যমের ছেলেমেয়েদের ইচ্ছা থাকলেও সরকারি নিয়মেই বাংলা পড়ার সুযোগ নেই এবং এদের সংখ্যাটা খুব কম নয়।
     
    এখানেই শেষ নয়। পর্ষদের পড়ুয়াদের প্রথম ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে বাংলা, ইংরেজি, গুজরাটি, হিন্দি, আধুনিক তিব্বতি, নেপালি, ওড়িয়া, গুরুমুখী, সাঁওতালি, তেলুগু, তামিল এবং উর্দু সহ মোট ১২টি ভাষার যে কোনও একটিকে। অর্থাৎ, যে সব পড়ুয়া বাংলা বা ইংরেজিকে প্রথম ভাষা হিসেবে নিতে ইচ্ছুক নয়, বিদ্যালয় স্তরে তাদের আর বাংলা ভাষা পড়ার সুযোগ নেই।
     
    আজ অবধি গুরুতে এই চতুর্থ বিষয়টি নিয়ে সামান্যতম আলোচনা হয়েছে? কেবল যত দোষ ইংরেজি মাধ্যমের? এত মাইক্রোস্কোপিক আলোচনা করেন কেন?
  • Somnath Roy | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৮:১২506520
  • এখন আর স্কুলে তৃতীয় ভাষা পড়ায় না? আমরা ৭-৮এ হিন্দি পড়তাম
  • এলেবেলে | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৮:২১506521
  • পড়ায়। সপ্তম আর অষ্টমে। বাংলা মাধ্যমের ছেলেমেয়েরা সাধারণত সংস্কৃত পড়ে।
  • sanskrit | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৯:১৪506522
  • স্যানস্ক্রিট শেখার চেয়ে হিন্দি বেটার। ডেড লিংগো শিখে লাভ কি?
  • π | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৯:২৮506523
  • ইংরাজী মাধ্যমের গুণমান নিয়ে আমার কোন প্রশ্নই ছিল না, কে কীসে সফল, তাও না, প্রশ্ন ছিল ইংরাজি মাধ্যমে না পড়ালে সন্তানের জীবন, কেরিয়ার গোল্লায় যাবে, সে গুণমানগত পারসেপশন হোক না ব্যবহারিক উপযোগিতার নিজস্ব না নির্মিত বিচারে হোক, এই ধার‍ণা থেকে কোলকাতার বাইরে সংখ্যাগত হিসাবে আগের থেকে অনেক বেশি ইংরাজি মাধ্যম স্কুল হয়েছে কিনা আর বামি ঃ ইমি স্কুল ও ছাত্রসংখ্যার অনুপাত কমছে কিনা। আর কমলে তার কোন প্রভাব পড়ছে বা পড়বে কিনা, ভাষা ও সাহিত্যসংস্কৃতিতে।
    আমার মোটামুটি কাছ থেকে দেখা বেশিরভাগ ইমি স্কুলের ( কোলকাতার বাইরের জেলাও আছে) ছাত্রছাত্রীদের বাংলা জ্ঞান বেশ করুণ, স্কুলের দ্বিতীয় বা তৃতীয় ভাষা হিসাবে বাংলা পড়ানোও তথৈবচ। আর বাংলা বই পড়া? প্রায় নৈব নৈব চ। অবশ্যই কিছু উজ্জ্বল ব্যতিক্রম আছে, আর ব্যতিক্রম তো আছেই কাকে যেন প্রমাণের জন্য।
     
    আমি তো পরের প্রজন্মের বাংলা বই পড়া, বাংলায় লেখালেখির চর্চা কমছেই দেখি। কোন ম্যাজিকে তার কোনই প্রভাব থাকবেনা, আশঙ্কার নেহাতই বিলাপ আর বিষাদবিলাস, জানতে আগ্রহী। যুক্তিটুকু।
  • আরে | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৯:৩৩506524
  • এলেবেলে বাবুর ত নদে জেলা। কুনোদিন যাইনি, সোদরবনের দিকে naki ? এখানে কলকাতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, ওসব পিছড়েবর্গ সিভিলিটিহীন জেলায় ইংরিজি মিডিয়াম ইশকুল থাকবে না সবাই জানে।
  • এলেবেলে | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৯:৪৮506525
  • এই একটি কারণে লগিন করলাম।
     
    "কোলকাতার বাইরে সংখ্যাগত হিসাবে আগের থেকে অনেক বেশি ইংরাজি মাধ্যম স্কুল হয়েছে কিনা আর বামি ঃ ইমি স্কুল ও ছাত্রসংখ্যার অনুপাত কমছে কিনা।"
     
    আগেই উত্তর দিয়েছি। ইমি বাড়বেই কারণ সামাজিক চাহিদা। কিন্তু তাতে বামির ছাত্রসংখ্যা কমছে, এমনটা এখনও দেখা যাচ্ছে না। মানে কৃষ্ণনগরের সরকারি স্কুলগুলোতে দেখা যাচ্ছে না। নবদ্বীপ, রানাঘাট, শান্তিপুরে তো প্রশ্নই নেই। তার প্যারামিটার মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। এ ক্ষেত্রে এটাও মনে রাখতে হবে ক্লাস ফাইভে দুশো ছাত্র ভর্তি হলে মাধ্যমিক দেয় মেরেকেট ৮০ থেকে ৯০ জন।
     
    এখানে একটা গ্যাঁড়াকল চলছে বহু দিন ধরে। অভিভাবকরা ইমিতে ভর্তি করার বাসনা নিয়ে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করার পরেও সরকারি স্কুলে নাম কা ওয়াস্তে ভর্তি করিয়ে রাখছে যাতে সুযোগ পেলেই সটকে উঠতে পারে। এটা মূলত প্রাইমারিতে হচ্ছে। তবে খুব শিগগির এই তঞ্চকতা বন্ধ হবে। সম্ভবত আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিটি ছাত্রের একটি ইউনিক কোড থাকবে যাতে সে কিছুতেই একসঙ্গে দুটো স্কুলে ভর্তি না হতে পারে। ফলে অভিভাবক চাইলেই তার ছেলে বা মেয়েকে চট করে সটকে নিয়ে যেতে পারবে না।
     
    "আমি তো পরের প্রজন্মের বাংলা বই পড়া, বাংলায় লেখালেখির চর্চা কমছেই দেখি।"
     
    এটা কোনও প্রজন্মেই বন্যার স্রোতের মতো ছিল না। আপনার ব্যাচের কতজন নিয়মিত বাংলা বই পড়েন বা বাংলায় লেখালেখি করেন এখনও?
     
    আর ইমির পরের প্রজন্ম বাংলা কেন অন্য কোনও ভাষায় লেখালেখি করছে-টরছে, তেমনটা আমার অন্তত জানা নেই।
     
     
    কিন্তু এত কিছুর পরেও চতুর্থ পয়েন্টটা নিয়ে আলোচনা একটুও অগ্রসর হল না।
  • এলেবেলে | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১৯:৫৩506526
  • হ্যাঁ, ইমি নিয়ে আলোচনা চালাতে গেলে তার গুণমানের প্রসঙ্গটা আসবেই। কারণ মাসে মাসে গুচ্ছের টাকা খরচ করে ওখানে কেউ শেক্সপিয়ার পড়তে যায় না, সাহিত্য শিখতেও যায় না। যায় কেরিয়ার বানানোর জন্য, যায় চটজলদি সাফল্য পাওয়ার অলীক আশার জন্য। কাজেই ওটাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনও যুক্তি নেই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন