বসন্ত ১ : হীরা মান্ডির ঘর গিয়েছিলাম জঙ্গল পেরিয়ে। এই সিজিনে জঙ্গলে আগুন লাগে। থরে থরে সাজানো গাছগুলো সবুজ থেকে আগুন রঙের হতে গিয়ে লজ্জায় নিজেই পুড়ে যায় খানিক। গাছ চিরে যে সরু একফালি রাস্তাটা হারিয়ে যায়, কেউ তার যত্ন না নিলেও কিকরে যে নিজেই জঙ্গলের সিঁথি হয়ে নিজেকে সাজিয়ে রাখে তার খোঁজ পাওয়া দুষ্কর। জঙ্গল বাবুরা ইদানিং মাঝ জঙ্গলে পুকুর কেটেছে কয়েকটা। বনের পশুরা জল খাবে বলে। তার পাড় ধরে সাত আটশো মিটার গেলেই হীরা মান্ডির ঘর ... ...
গণেশ বলল, ' দাদা পান খাবেন তো ? '----' নাঃ ... একটা সিগারেট দে বরং ... '---- ' কি সিগারেট দেব বলুন ... '---- ' ক্যাপস্টান... ক্যাপস্টান... দারুন লাগে ... তামাকের গন্ধই আলাদা ... ' ----- ' যা বলেছেন ... গোল্ড ফ্লেক, ফিল্টার উইলস এর কাছে কিছু না ... 'সাগর সিগারেটে একটা টান মেরে বলল, ' যা বলেছিস ... '----- ' দাদার শরীর এখন ... ...
আজ নবীনের কথা বলব।নবীন তার আসল নাম নয়। তার বাবার নামও শরৎ নয়। নামগুলো পাল্টে দিলাম।আমাদের আবাসনের কাছাকাছি মেথরপট্টিতে শরৎদা সপরিবারে থাকত। সে আমাদের ব্লকের আবর্জনা নিয়ে যেত, সোজা কথায় নিত্যিকার জমাদার বা মাইনে করা জমাদার ছিল। সাত সন্তানের বাবা শরৎদা যক্ষ্মায় মারা যায়। তারপরে তার ছেলেরা কখনো কখনো আমাদের জমাদার হিসেবে কাজ করেছে আর ছেড়েছে। তারা যখন কাজ করত না তখন অন্য কাউকে ঠিক করা হ'ত। বোধহয় ২০২০ সালে শরৎদার স্ত্রীও মারা যায়। তাকেও চিনতাম আমি। মাঝেমাঝে আসত। টুকটাক কথা বলত।২০২১, '২২ শরৎদার ছেলে নবীন আমাদের ব্লকে কাজ করছিল। '২২ এর শেষের দিকে একটা ভয়াবহ ব্যাপার শুনলাম। নবীন ট্রেন ... ...
পলাশ পলাশ তোমার আগুন রঙে, পিয়াসী মনআজ মজেছে। পলাশ তোমার ফাগুন আগুন, আমায় যে আজ ডাক দিয়েছে। আমার ঘরে আসবে তুমি? আমার ছোট্টঘর উঠোনে? আসবে বলো আসবে তুমি - রক্ত রাঙাএই ফাগুনে। আসবে বলো, আসবে তুমি আগুন রাঙা, এই ফাগুনে।
লেখাটা সরিয়ে নিয়ে গেলাম হরিদাস পালে। ওখানে গিয়ে পড়ুন।
এক চরম হিতাকাঙ্খী টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলী কে প্রশ্ন করা হয় - কে আপনার পছন্দের, গান্ধী না গডসে? এর দ্রুত উত্তরে তিনি জানান যে, এটার জন্য আমাকে একটু ভাবতে হবে, এক্ষুনি এর উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সম্ভবত এখনও এটা নিয়ে ভেবেই চলেছেন এবং এর যথাযথ উত্তর তিনি এখনো পর্যন্ত কোথাও দিয়েছেন ... ...
শিশুরা সুন্দর, নিষ্পাপ, অমলিন। তাদের সঙ্গে সময় কাটালে মন ভালো হয়ে যায়। তাদের গায়ের গন্ধ নিলে মাটির পবিত্র অকৃত্রিম গন্ধ আসে। শিশুরা অপরিণত মনের অধিকারী তা বলে তাদের বুদ্ধি কম নয়। তাদের নানা রকম কথাবার্তা শুনে মজা লাগে। শিশুমনের অপূর্ব কল্পনার পাশাপাশি তাদের কথায় বুদ্ধির ছাপও থাকে। তার ওপর তাদের নানা রকম দুষ্টুমি তো আছেই। সবার আগে বলি আমার ভাইঝি তিতু'র কথা। সে আমার এক মাসতুতো দাদার মেয়ে। এখন অবশ্য সে অনেক বড়। সুন্দরী ও মেধাবিনী এবং বড় চাকরিরতা তিতু বিয়ের পর থেকে দিল্লিতে থাকে। এই তিতু বরাবরই খুব হাসিখুশি এবং প্রাণচঞ্চল। ঠাকুর্দা, ঠাকুমার প্রাণ ছিল সে এবং আমারও খুব ... ...
ধর্মের মনস্তত্ত্ব-সমাজতত্ত্ব ========== - হুজ্জাতুল ইসলাম। ইমেইল : [email protected] প্রথম অধ্যায় ----------- ধর্মের মনস্তত্ত্ব-নৃবিজ্ঞানীদের মতামত - রেখাচিত্রে ধর্মবিশ্বাসের "দোসর এলাকা" -আত্মার ধারণা ও ধর্ম - আদিম ও নৃগোষ্টীদের আত্মার ধারণা - ধর্মের আধ্যাত্মিক ও আবেগমূলক অভিজ্ঞতা। দ্বিতীয় অধ্যায় ------------- ধর্মবোধ ও ধর্মের উৎপত্তি- অলৌকিক, অতিপ্রাকৃত শক্তির ধারণা ও ধর্মের উৎপত্তি - নিয়ান্ডার্থালদের ধর্মচর্চা - ধর্মচর্চার মতবাদসমূহ : (ক) সমাজতাত্ত্বিক মতবাদসমূহ :- ম্যাক্স ভেবারের ধর্মতত্ত্ব - অগাস্ট কোঁৎ ... ...
এখানে ক্লিক করুন আর "নদীয়া জেলার কবি ও সাহিত্যিকদের পরিচয়" নামক সম্পুর্ণ বইটি পড়ুন।
সাগর এর আগে একদিন রাত্রির পাশাপাশি হেঁটেছিল। সেই তাদের প্রথম সাক্ষাতের দিন। পটলের দোকান থেকে রূপবাণীর মোড় পর্যন্ত। মনে হচ্ছিল রূপবাণীর মোড় যেন দূরে সরে সরে যায়। বেশ লাগছিল চারপাশের লোকজন, রাস্তাঘাট, দোকানপাট, বাস ট্রাম। সবকিছুর ওপর একটা সোনালী আলো এসে পড়ছিল আকাশ থেকে এসে। তবে মনে কোন ভার ছিল না। একটু নাটুকে ভাষায় বললে আকাশ বাতাস ... ...
যেখানেই থাকো তুমি, আশেপাশে নানা রকম প্রতিবেশী থাকবেই। তাদের সঙ্গে তোমাকে মানিয়ে চলতে হবে। সে তো সত্যি, তবে অনেক জায়গায় অনেক রকম প্রতিবেশী পেয়েছি। সেই বৈচিত্র আমার অভিজ্ঞতার ভান্ডারকে ভরপুর করে তুলেছে এবং করেই চলেছে। প্রতিবেশীদের নিয়ে যত রকম অভিজ্ঞতা আছে সব বলতে গেলে আমার বাকি জীবনটাও যথেষ্ট নয়। তাই কিছু অভিজ্ঞতার উল্লেখ করছি।এখন তো পাইকপাড়ায় থাকি। এখানে থিতু হওয়ার আগে বেশ অস্থির বাস গেছে আমাদের। সেই অতীতের কিছু ঘটনা বলব আজ, কিছু এখনকার সময়কার। কিছু নাম পাল্টে দিতে হবে।অনেক দিন আগে কাঁকুলিয়া ক্রসিং পার হয়ে একটা রাস্তায় বড়সড় বাড়ির একতলায় ঘিঞ্জি দু'টো ছোট্ট ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভাড়া থাকতাম। আলো ... ...
একটি গাছ, একটি পাখি, একটি যন্ত্রণা, একটি রুমাল, একটি ছবি, একটি ঘড়ি, একটি চিঠি, একটি চিত্রলিপি, একটি সম্পর্ক এবং একটি ঘুমপুতুল। এই হল সাদিয়া সুলতানার কতকগুলি জিয়নকাঠি। দেশভাগ, দাঙ্গা, মুক্তিযুদ্ধের যন্ত্রনাকাতর ক্যালাইডোস্কোপ। এই দিয়েই হয়েছে ‘উজানজল’-এর নির্মাণ। সাদিয়া সুলতানার মুন্সিয়ানা ঠিক কোথায়? কতকগুলি চিহ্ন, কতকগুলি আখর, কতকগুলি ইঙ্গিতের
ঘরের কোণে জমে থাকা ঝুলব্যাগের মধ্যে জমে থাকা টিকিটআরো কত কিছুর এদিক সেদিক বিলতবুওহেঁটে আসা পথ পুনরায় হেঁটে যেতে হয় এইরকম আরও কত কিছু ফেলে এসেও কিফেলে দেওয়া যায়!টুকরো টুকরো মুহূর্তকুঁচি কুঁচি করে ছিঁড়েফেলে দেওয়া যায় না এখনোএই ফাইভ জী যুগে!
মানুষের রসবোধ ব্যাপারটা আমাকে বরাবরই খুব টানে। এখানে আজ এমন কতকগুলো কথার উল্লেখ করব যেগুলো দোকানবাজারে ও রাস্তায় শোনা। প্রাত্যহিক জীবন থেকে পাওয়া। বেশ বুদ্ধিদীপ্ত মজার কথা সেগুলো। বাজার মানেই টাকাপয়সার শুকনো লেনদেন আর রসকষহীন বিকিকিনি, এমন মোটেই নয়। বাজারে কান পাতলে নানা রকম কৌতুককর কথাবার্তা কানে আসে যা শুনতে বেশ ভালোই লাগে। প্রথমে বাজারি রসের কথাই বলি। এক দিন আমাদের চুনীবাবুর বাজারে এক ভদ্রমহিলা কাঁচা পাতিলেবু ... ...
১৯৫০ সালে আমাদের পরিবার কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করে। তার আগেই আমার মা ময়মনসিংহের বাড়ি থেকে আমাদের ভাই বোনদের নিয়ে কলকাতা বেহালা অঞ্চলে চলে আসে। আমাদের সব আত্মীয় স্বজন পূর্ববঙ্গ ত্যাগ করে। কলকাতা শহরের বিভিন্ন স্থানে এবং রানাঘাট কৃষ্ণনগর অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। আর সেই সময় থেকে বহু আত্মীয়-স্বজন অনেক ময়মনসিংহের পরিচিত লোক আমাদের বাড়িতে আসত। দেশ ভাগ, দাঙ্গা ইত্যাদির সম্বন্ধে আলোচনা ... ...
বেশি না মোটে ৩৪ পাতার ফর্ম ভরতে হবে। ভারতের পোস্ট অফিস ব্যাঙ্ক বীমা কোথায় কত টাকা আছে? কত জমি বাড়ি ফ্ল্যাট আছে সব জানিয়ে বলতে হবে, দেশের নাগরিক নই। বিদেশের লোক। নাগরিকত্ব দেওয়া না সম্পত্তি কাড়া? ক্যা নয় ক্যাঁক!!!
সুগন্ধশুভশ্রী রায়এই কাহিনী খুশবু নামে একটি প্রান্তিক মেয়ের। এই লেখায় তার নাম পাল্টে দিয়েছি। খুশবু আমাদের আবাসনে পরিচারিকার কাজ করত এক সময়। সেই সূত্রে আমাদের সঙ্গে তার পরিচয়। মেয়েটি দেখতে ভালো, অসম্ভব সুন্দর বড় বড় চোখ, ছিপছিপে গড়ন।আমাদের আবাসনের কাছে পাইকপাড়াতেই মেথরপট্টিতে তার বাড়ি। এখানেই তার জন্ম। গরীব পরিবারের মেয়ে, শৈশব থেকেই খাটতে অভ্যস্ত।বছর পনেরো বয়সে মেথরপট্টিতেই তার বিয়ে হয়। বর, দুই দেওর ও এক ননদ নিয়ে বড় সংসার। বিয়ের পরেও তাকে আগের মতোই খেটে খেতে হ'ত।পরপর দুটি ছেলে হ'ল তার। ঘরেবাইরে খাটাখাটনিও বাড়ল। বর অল্প রোজগার করত তবে মারধর করত না। মোটামুটি সুখেই ছিল তারা।কিন্তু এই সুখ স্থায়ী হ'ল ... ...
বাজারে এখন ছোট রেডিওর খুব চল হয়েছে। ট্রানজিস্টর না কি বলে যেন। মাঝারি সাইজের সুটকেসের মতো মারফি কোম্পানির রেডিওর মতো ঘরের বাইরে এরিয়াল তার টার কিছু টানাতে হয় না। একটু বড় মাপের পান জর্দার কৌটোর মতো একটা যন্তর। ওটার পিছন দিকটা খুলে দুটো নস্যির ডিবের সাইজের ব্যাটারি লাগিয়ে নিলেই হল। নিতাইবাবু শখ করে কিছুদিন আগে একটা কিনেছেন ওই ট্রানজিস্টর। সন্ধেবেলায় ... ...
বালখে প্রচুর ক্ষয় ক্ষতি স্বীকার করে আসার পর, মন ভালো করতে শাজাহান দিল্লীকে নতুন ঝাঁকজমক পূর্ণ চেহারা দিতে পাশেই নতুন শহর শাহজাহানাবাদ তৈরির পুরনো প্রকল্পে মেতে গেলেন। কান্দাহারে মার খেয়ে আসার পর একাজের গতি একটু কমেই ছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় আর সেটাও সফল না হওয়ায় তৃতীয় কান্দাহার আভিযানের প্রস্তুতির বছর ষোলশো উনপঞ্চাশ থেকে তিপান্নয়। শহর কেল্লা আর নানা স্থাপত্যের ... ...