তুলি বলেছিল শুধু বৃষ্টির পরে নয় আজীবন ধরে রামধনু হয়ে থাকবে হায়রে! আকাশ চিরে বিদ্যুৎ হল উদয় সম্মোহিত তুলি কার-কার ছবি আঁকবে?আকাশ তার দার্শনিক বৈরাগ্যে নির্বিকার সফেন আয়না রিক্ত করে, সিক্ত করে তুলি নাবিকের স্তাবকতায়
শীত এখনও গেল না ঠিকমতো, বসন্তের হাওয়া দিতে শুরু করেছে। আজ ফেব্রুয়ারির দশ তারিখ। বেথুনের সামনে রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া হলুদ আর লাল রঙা ছিটেয় গা ছুপিয়ে নিচ্ছে ক্রমে ক্রমে। দুপুরবেলা আজ বেশ গরম লাগছে। এ বছরের মতো বোধ হয় শীতবস্ত্রের পাট চুকল। বিকেলবেলায় এলোমেলো দখনে সমীর থেকে থেকে উন্মদ চামর বুলিয়ে যাচ্ছে কর্ণওয়ালিস স্ট্রিট, হেদুয়ার ওপর দিয়ে। এসব রোমান্টিকতা ... ...
ক্রিকেট বিশ্বকাপ এ ভারতের পরাজয়ের পর একদল খুব নাচানাচি করছে অথচ মজার ব্যাপার হলো অসুখ-বিসুখে ভারতে আসার ভিসা পাওয়ার জন্য ছটফট করে। কথাটা কেউ বলতেই উত্তর আসছে ভারতে কি বিনা পয়সায় চিকিৎসা করে? আরে ভাই টাকা খরচ যদি করবেই তো পাকিস্তানে কিংবা সৌদি আরবে চলে যাও। ভারতে আসার
আমাদের মতো কিছু মানুষ, যারা বিজেপিকে হারাতে জোট ইন্ডিয়ার পক্ষে বাজি ধরে বসে আছি সমস্ত রকম ভবিষ্যত বিপন্নতার ঝুঁকি নিয়ে, তারা বর্তমানে প্রায় দিশেহারা অবস্থায় রয়েছি কংগ্রেস নেতৃত্বের দলীয় স্বার্থ সম্পর্কিত কারণে জোটকে প্রায় শীতঘুমে পাঠিয়ে দেবার উদাসীন মনোভাবে। তাঁরা হয়তো ভাবছেন, পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলে যদি গোটা চারেক রাজ্যে ফল খুবই ভালো হয় তবে জোটের আসন ... ...
এটাই জয়, এটাই ইতিহাস। খেটে খাওয়া বা খেটে না খেতে পাওয়া মানুষের! ইঁদুর তার কাজ করে। আসলে আমরাই দৌড়োই ইঁদুর কে দোষ দিয়ে। যেমন সুপার ম্যান দৌড়চ্ছেন ভোটের লোভে, রণে বনে জঙ্গলে অন্তরীক্ষে।
ঊষালগ্নে রাতের অন্ধকার কেটে আলোর রঙ ছড়িয়ে পড়ে ধীরে ধীরে। শুরু হয় আর একটা নতুন দিনের। আর একটা নতুন ভোরের। অন্ধকারের পর নতুন সূচনার প্রতীক ই ভোর। ১৯৯৭ সাল। ক্লাস এইটে পড়ি। সেজো মাসির সবে বিয়ে হয়েছে। মাসি অষ্টমঙ্গলায় মামাবাড়িতে এসেছে। আমরা সবাই গেছি সেখানে। মা যেহেতু বড়, মায়ের বিশেষ ভূমিকা। সব আত্মীয়স্বজন এসেছে। সারাদিন বেশ হই হুল্লোড়। সন্ধ্যের ... ...
বেশির ভাগ বাংলা ফিকশনের বই বিক্রি সে রকম হয় না। কবিতা কিস্যু হয় না। প্রকাশকরা টাকা নিয়ে বই ছাপায়। লেখকরা পায়রা ওড়ানোর সখে পয়সা দিয়ে বড় মাঝারি ছোট প্রকাশকদের থেকে বই বের করে। কারণ লেখকরা ভদ্দরলোক, পুরুষ ভদ্দরলোককে বাবু বলে। মহিলা ভদ্রলোকদের কী বলা হবে এখনও ঠিক হয়নি। পুরুষ ভদ্দরলোকরা আগে রাঁড়ের বাড়ি যেত। আমার পূর্বজরাও যেতেন। ওনারা বলেকয়ে ... ...
বংশীবাবু সময় নষ্ট না করে পটলের দোকানের দিকে চলে গেলেন। দোকানটা সহজেই পেয়ে গেলেন। দোকানে একটা ছেলে কালিঝুলি মেখে কাজ করছে। দোকানের মুখে টুলে বসে একটা চাকায় স্পোক লাগাচ্ছে বছর তিরিশের একজন। দোকানের সামনে বংশীবাবুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে টুলে বসা পটল বলল, ' কি সাইকেল আছে ? দেরি হবে ... ...
ব্যাপারখানাদাউ দাউ করে জ্বলছে মহাকরণ। দমকল কর্মীরা ক্রমাগত আগুন নেভানোর পণ্ডশ্রম করে চলেছে। স্ট্রেচার করে বের করে আনা হচ্ছে মন্ত্রী, সচিব আর কর্মচারীদের দগ্ধ দেহ। সারা শহর উত্তাল।..পরদিন সকালে একটি প্রগতিশীল দৈনিকের হেডলাইন - "মহাকরণে বোমাবাজি"। 'এখনও অবধি মৃতের সংখ্যা ১০২। আহত ২৫'। ধৃত একজনই - পাঁচু পাল। প্রত্যন্ত গ্রামের চাষি, আধ-ন্যাংটো কাকতাড়ুয়ার মতো দেখতে, আলুথালু চুল, চওড়া কপাল, মুখময় খোঁচা খোঁচা দাড়ি। বোমাটা মেরে রীতিমতো বমকে গেসলো সে নিজেও। সেই সময় ক'জন ট্যাক্সি চালক নাকি তাকে দেখতে পেয়ে উদোম মারতে শরু করে। অচেতন, মুখ দিয়ে গ্যাঁজা ওঠা অবস্থায় পুলিশ থাকে গ্রেপ্তার করেছিলো।মধ্যবিত্ত, ছেনালবৃত্ত, বুর্বক বাঙালি মিছিলে বেরিয়ে, কচুরি টিফিন ... ...
গল্প :- ## দেশি খাদ্য আর বহুজাতিক চোয়াল ##দেবাশিস সরকার।। এক।।আমাদের আজকের গল্পটি এভাবে শুরু করার কথা ছিল না ভাষার সঙ্গে বর্ণমালার যে সম্পর্ক, বাড়ির সঙ্গে গৃহস্থের সেই সম্পর্ক। এইরকমই ভাবে অতীন। আর 'বাড়ি' শব্দটির যে ব্যাপ্তি, তাতে এক চিলতে উঠোন, একটা দুটো নারকেল গাছ, আমগাছ, তুলসীমঞ্চ – এতো কিছু অনুসঙ্গের সঙ্গে 'ফ্ল্যাট' শব্দটা ঠিকঠাক খাপ খায় না। যদিও তুলসীমঞ্চ, ঠাকুর দেবতা নিয়ে অতীনের বিশেষ মাথাব্যথা নেই তবুও সন্ধ্যেবেলায় তুলসীমঞ্চের সামনে একটি পেতলের প্রদীপ জ্বালাবে গৃহস্থের কোনো একজন মহিলা, প্রেফারেবলি বাড়ির পুত্রবধূ, এ ভারী আকাঙ্খার বিষয় অতীনের কাছে। আসলে এও একরকমের আবহমানতা বা ঐতিহ্যর সঙ্গে লগ্ন থাকার অভিপ্রায় বা নিজস্বতা আর ... ...
নেতাজীর আজাদ হিন্দ সরকারকে বহু দেশ স্বীকৃতি দিয়েছিলো কারণ একটা দেশের সরকারের যা যা থাকা দরকার সবই নেতাজীর সরকারের (Arzi Hukumat-e Azad Hind বা Provisional Government of Free India) ছিলো। তারমধ্যে প্রধান হলো আজাদ হিন্দ ব্যাংক (আবার Independence Bank-ও বলা হতো)। মূলতঃ বার্মা (রেঙ্গুন) এবং সিঙ্গাপুর থেকে আজাদ হিন্দ ব্যাংকের কাজ হতো জাপানের ... ...
প্রতিবিম্ব প্রায় পনের মিনিট ধরে হেদোর বেঞ্চে বসে আছে। সুমনার দেখা নেই। প্রতিবিম্ব বারবার এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। মাঝে মাঝে খাতা খুলে নোটে চোখ বোলাচ্ছে। কিন্তু ঠিকমতো মন দিতে পারছে না। আরও পাঁচ মিনিট কাটল। প্রতিবিম্ব উসখুস করতে লাগল। ভাবল, আজ তো টাইম দেওয়া ছিল। সুমনার তো সময়ের নড়চড় হয় না। শরীর টরীর ... ...
আমাদের প্রিয় “মেন ইন ব্লু” ————————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ————————— বিশ্বকাপে আসেনি বিজয়, দুঃখ তো ছিলো বটে - তোমাদের সাথে মিশেছে অশ্রু, - জানি খেলায় এমনটা ঘটে। ক্রমাগত সব খেলায় জিতেও
টুপটাপ শব্দ (drops - রূপান্তর) ——————————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ——————————— বিনিদ্র রাতে কি যে ভয়ানক শব্দ টুপটাপ শব্দেই একেবারে জব্দ ! কিচেনের কলটা (ট্যাপ) চলছেই অবিরাম জল পড়ে টুপটাপ নেই কোনো
ঔরঙ্গজেব-দিলরাস বানুর সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি আলোচনা কম। এক চিঠিতে তাঁকে দিলরাস বানু সম্পর্কে বলতে শোনা যায় যে উনি ছিলেন, ‘‘বড্ড একগুঁয়ে, কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত আমি তাঁকে ভালবেসেছি আর মনে আঘাত লাগে এমন কোন কাজ করিনি।’’ এসব কাঠ কাঠ কথা বললে আর গল্প জমে!------ তাহলে?------ কী?------ গল্প জমবেই না?------ জমবে।------ জমবে?------ আলবাত।------ কী সে গল্প কী সে কথা?------ বহু প্রাচীন সে কথা। পুরনো সে গল্প।------ কী তা? কী কী তা?------ বলছি।------ বল।------- রাবিয়ার কথা বলছি।------- ঔরঙ্গজেব-দিলরাস বানুর গল্পে রাবিয়া আসছে কোথা থেকে?------ ঔরঙ্গজেব দিলরাস বানুকে মৃত্যুপূর্ব উপাধি দেন রাবিয়া উদ দৌরানি বা এ যুগের রাবিয়া।------ কেন দিলেন এই উপাধি?------ দিলেন ... ...
“ভেনুউউউ……! কোথায় গেলি ?” মাঠ থেকে ফিরেই হাঁক পাড়েন বাসবা। বাসবান্না রেড্ডি। ভেনুর ঠাকুরদাদা। এমন ডাক শুনে তড়িঘড়ি পাশের মাঠ থেকে ছুটে আসে ভেনুগোপাল। হাঁপাতে হাঁপাতে দাদুর সামনে এসে দাঁড়ায় সে। দাদুর একান্ত অনুগত অনুচর। শ্বশুর মশাইয়ের উপস্থিতি টের পেয়েই বৌমা ললিতা বড়ো এক ঘটিতে জল আর খানকয়েক বাতাসা এনে হাজির করে। রোজকার অভ্যাস। কাঁধের ওপর রাখা মোটা গামছা দিয়ে মুখটা মুছে আলতো করে রেকাবি থেকে একটা বাতাসা তুলে নিয়ে মুখে পোরেন বাসবান্না।– কি গো ! ডাকলে কেন? তোমার হাঁক শুনে আমার খেলার দান ছেড়ে ছুটে এলাম। জবাব না পেয়ে ভেনু বুঝি খানিকটা অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে ভেতরে ভেতরে। ভেনু জানে ... ...
আমরা এই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। নতুন শহরে গিয়ে আবার রেলের ইস্কুলে ক্লাস থ্রীতেই পড়বো। বাবা বলেছে কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা এই দু কামরার কোয়ার্টার ছেড়ে যাচ্ছি। সামনের ছোট বারান্দায় কাঠের জাফরি আছে। আমি পড়ি।সকালের রোদ ওখানে ভেঙে যায়। পিছনের উঠোনে মস্ত বড়ো গোলাপ গাছ। চান ঘরের ছাদ ছাড়িয়ে গেছে। কত কত গোলাপ। আর পিছনের ছোট্ট দরজাটা খুলেই ... ...
বিকেল পাঁচটা নাগাদ সাগর উল্টোডাঙার সিদ্ধেশ্বর হার্ডওয়্যারে এসে বসল। সাগরের দুই অনুগত সহচর শম্ভু আর মাণিক তার অপেক্ষাতেই ছিলাম। শম্ভু বলল,' দাদা কাল এলেন না যে ... '----- ' নাহ্ ... কাল আর হল না। কাজ ছিল শ্যামপুকুরে .... হ্যাঁ শোন, কাল একটা কাজ আছে ... সকাল সাড়ে নটা নাগাদ খান্নার দিকে নলিন সরকার স্ট্রিটের মুখে থাকবি। কানু আর বাবলাকেও থাকতে বলবি। একসঙ্গে দাঁড়াবি না... ভাগাভাগি করে দাঁড়াবি। আর কানুকে বলবি পকেটে ছোটখাট কিছু একটা যেন রাখে। আমার কাছেও থাকবে ... দরকার হবে না অবশ্য। যদি লাগে চমকাবার জন্য তাই ... বুঝে নিয়েছিস? '----- ' হ্যাঁ দাদা ... বড় কেস ... ...
জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।সব রবি তো নোবেল পেতে পারে নাসব রবি'রা আলাউদ্দিন কেও পায় নাকেউ কেউ আছে সত্য কে খুঁজে পায় দৈর্ঘ্য বাঘার প্রতিবন্ধকতা নয়!! -