শ্রীচরণেষু গুরুদেব, আমি একুশ শতক থেকে বলছি। তোমার স্বপ্নের বঙ্গভূমি থেকে। তোমার আবির্ভাবের ১২৫ বছর পর পৃথিবীর আলো দেখেছি আমি। বাঙালি হয়ে জন্মানোর সুবাদে প্রকৃতির সহজাত দানের মতোই শৈশবেই তোমাকে পেয়েছিলাম উত্তরাধিকার সূত্রে। ‘সহজপাঠ’ থেকে ‘সভ্যতার’ সংকট সবই চিনেছি তোমার হাত ধরে। আমার মস্তিষ্কের চোরাকুঠুরিতে প্রদীপ প্রজ্বলনের প্রথম কারিগর
খতম হল অপহরণের খেলা, মূলত নূর জাহানের সামরিক কৌশলেই হার মানতে হচ্ছে তাঁকে, অভিজ্ঞ সেপাইসালার মহবত খানকে। কারও ব্যাখ্যায় নূর জাহানের আয়েশার মতো এই বিদ্রোহিনী হওয়া, ফিতনার নৈরাজ্যের আগুন ছড়ানো, নেহাতই বেকুবি। কাবার প্রান্তরের মতো বীরশ্রেষ্ঠ আলি কি
জোড়াসাঁকোয় রবীন্দ্রনাথ বসে আছেন, দেখা করতে এলেন এক ছোটো গুজরাতি বেওসায়ি। ব্যবসায় ছোটো হলেও চেহারায় ইয়াব্বড়ো। এসেই বললেন, গুরুদেব, আমার নাম আমিৎ, গুজরাতে বেয়াপার করি, আপনার কাছে একঠো সাহায্য চাইতে এলাম। রবীন্দ্রনাথ স্মিতহাস্যে বললেন, অমিতজি, আপনি তো ব্যবসায়ী, আমি আর আপনাকে কী সাহায্য করব।ব্যবসায়ী বললেন, আমরা আর কী বেওসা করি গুরুদেব, আপনি আমাদের চেয়ে অনেক বড়ো বেওসায়ি ... ...
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ সম্বন্ধে, বা, মারাঠা জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে অতি সরলীকরণ করা উচিত নয়। ছত্রপতি ছিলেন আহমদনগর সুলতানশাহীর নিম্নবর্ণের এক মারাঠা সর্দার মালোজি ভোঁসলের নাতি, আর আর এক সর্দার শাহজি ভোঁসলের ছেলে। ওনার ঠাকুর্দা ছিলেন আহমদনগরের প্রবাদ প্রতিম হাবশি পেশোয়া মালিক অম্বরের ডান হাত। ওই আবিসিনিয় প্রাক্তন যুদ্ধ দাস ছিলেন বর্গীগিরি বা গেরিলা চকিত আক্রমণের প্রধান প্রণেতা। অনেক চেষ্টা ... ...
তৃতীয় পর্বের পরে ....এই ইংরাজ-লেখক অধুনা প্রকাশিত সমস্ত কাগজপত্রের সহায়তায় যেরূপ নিপুণতার সঙ্গে বিষয়টির আলোচনা করিয়াছেন, তাহা মুক্তকন্ঠে প্রশংসিত হইবার যোগ্য। হলওয়েলের করুণ কাহিনিকেই প্রধান অবলম্বন করিয়া, এই লেখক প্রচুর সমালোচনা কৌশলে দেখাইয়া দিয়াছেন,- সে কাহিনি লৌকিক কাহিনি হইতে পারে না, তাহা যে নিতান্ত রচা কথা, কাহিনির মধ্যেই তাহার অনেক প্রমাণ প্রচ্ছন্ন হইয়া রহিয়াছে। হলওয়েলের রচনাভঙ্গি ভুক্তভোগীর ... ...
দুই বাংলায় বহুলপঠিত একজন গতাসু হলেন। আমি সমরেশের সাতকাহন পড়েছি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে নিয়ে। ভালো লেগেছিল। অনুপ্রাণিত হইছিলাম তো বটেই। বিআরটিসি দোতলা বাসে বসে পড়ার সময় এক সহযাত্রী ডাক দিয়ে আলোচনা জুড়লেন বইটা নিয়ে, কিছু নিন্দা আর প্রশংসা। ফেরত দেওয়ার সময় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ডলার ভাই জিজ্ঞেস করলেন কত দিন লাগল পড়তে; তাঁরও ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে আছে বইটি নিয়ে। গাজীপুরে থাকতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ... ...
নূর জাহান, আসফ খান ও অন্য আমিররা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে চলেন। ওপারে বাদশাহকে আটকে রাখা হয়েছে সারি সারি তাঁবুর একদম শেষ প্রান্তে। ঝিলম নদী খুবই খরস্রোতা আর গভীর, রাজপুত সেনাদের নজর এড়িয়ে তুরন্ত পার হওয়া অসম্ভব। সভায় সেতু তৈরি আর নৌবিদ্যা পারদর্শী মোঘল বিশেষজ্ঞরা অন্য কথা বলেন। তাঁদের মতে ঝিলম নদী কোনো কোনো জায়গায় বেশ অগভীর। সেসব জায়গা চিহ্নিত করে ফৌজ, হাতি-ঘোড়া, তোপ-বন্দুক সাজানো শুরু ... ...
এছাড়াও বিখ্যাত ঐতিহাসিক এবং সাহিত্যিক শ্রীযুক্ত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ১৯০২ সালে প্রকাশিত তাঁর 'সিরাজউদ্দৌলা' গ্রন্থের চতুর্দশ, পঞ্চদশ এবং ষোড়শ পরিচ্ছদে বর্ণনা করেছেন এই অন্ধকূপ হত্যা নিয়ে এবং বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে হলওয়েল সাহেবের এটা নির্ভেজাল মিথ্যে কথা। ১৩২৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে অর্থাৎ ১৯১৬ সালের 'ভারতী' পত্রিকায় শ্রী মৈত্রেয় এই বিষয়ে আবার কলম ধরেছিলেন। যেখানে তিনি যা লিখেছিলেন তা নিম্নরূপ:সে অনেক দিন আগের কথা, প্রায় কুড়ি বৎসরের ... ...
গ্রামে দুটো মাত্র প্যান্ডেল হত। ছোটখাটো। দুটোরই মঞ্চে যারা থাকতেন তাদের জন্যই আপনি গালি খেতেন। সিক্সে জানতাম আপনি ঠাকুর। দাঁড়িবালা ঠাকুর। হেব্বি লাগতো স্টাইলটা। চাচা নাখুস ছিল। বলতো সালা কুজাতের লোক, মুসলমানদের মত দাঁড়ি রাখে। ঈমান নাই। তখন থেকেই মনে হয় ধর্মে খড়ি। তখন থেকেই কাফের মনে হয়। আপনিই ... ...
হঠাৎ করে আশু কে নিয়ে পড়লাম কেন? "বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন" বলে একটি প্রবাদ আছে। এই ব্যক্তি আশুর জীবনের ওঠা পড়া আসলে আমার আপনার সবার জীবনের কাহিনী। হয়তো স্থান কাল পাত্র বা প্রকাশ ভঙ্গিমায় কিছু আলাদা। যাই হোক আবার ফিরে যাওয়া যাক ওঁর কথায়। ওরা চলে এলো বাঁকুড়ায়। সেখানে আবার এক নতুন স্কুল ...."কংসাবতী প্রজেক্ট হাই স্কুল"। ওর কাছে শোনা এরকম নামের কোনও স্কুল আছে ... ...
১ --- আমি যখন এই লেখাটা শেষ করেছি, খবর পেলাম, সমরেশ মজুমদার আর আমাদের মধ্যে নেই। তার চলে যাওয়া যতটা না ক্ষতি, তার থেকেও বেশি ক্ষতি সাহিত্যের আঙ্গিনায় এক শূন্যতার সৃষ্টি হওয়া। অনিমেষ-মাধবীলতার লেখা যায় না। একমাত্র সরস্বতীর বরপুত্রই এমন নির্মাণ করতে সক্ষম। তিনি ছিলেন সেই বরপুত্র। ‘অনিমেষ-মাধবীলতা’ সিরিজ নিয়ে অনেকেই কথা বলবেন। কারণ, তা কালবিজয়ী। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলব ‘গর্ভধারিণী’-র কথা। তার লেখা এই একটা মাত্র বই ... ...
পিরীতি কাঁঠালের আঠাসুদীপ ঘোষাল ১সমীর তার প্রথম প্রেমের স্মৃতি বুকে নিয়ে এখন তৃতীয়ায় ব্যস্ত। প্রতিটি প্রেম তার বুকে আলো জ্বালিয়ে বলে, আমাদের অস্তিত্ব তো মিছে নয়। কোনো এক চাঁদনী সন্ধ্যায় তুমি আমার ছিলে।কিছু করার নেই। বুকের গভীরতম কোঠায় তাদের স্থান। সে ভাবে, তাদের ভুলি এ সাধ্য কোথায়। প্রতিটি প্রেমের বিরহ এক একটা শোলা হয়ে ভাসে বুকের গভীরে। সমীর জানে সে এখন বিবাহের পর সন্তান, স্বামী নিয়ে সুখে আছে। তবুও যখন বাপের বাড়ি আসে একবার ডেকে পাঠায় তাকে। শুধু দেখে আর মুচকি হাসে। হাসির পিছনে লুকোনো প্রথম প্রেমের শিহরিত পরশ। সবার কাছে ভালোবাসা পেতে চায় মন। একটু স্নেহ, একটু বন্ধুত্ব আর কিছু ... ...
রবি ঠাকুর কেন ঠাকুর হলো না?? বাঙালি ভাইরা - এবার একটু জাগুন। গণশক্তি ছেড়ে জাগোবাংলা পড়েও কেন জাগছেন না। ঘুম থেকে জেগে উঠে একটা পেপসি খেয়ে, "জয় বাংলা" না বলে বলুন "এ দিল মাঙে মোর"। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, বাঙালি অল্পতেই সন্তুষ্ট। বেশি কিছু চায় না। সাহিত্যে দেখো
জালিয়ান ওয়ালাবাগের হত্যাকান্ড হিটলারি ভাবি সাত সাগরের তলার কাদা ছুঁড়ে মারি; ভক্ত বৃন্দে - দ্যাখো 'আনন্দে' ডায়নার খুনি মুকুট পরে; ভেরি সরি!!
প্রথম পর্বের পরে...... এতো গেলো নতুন আর পুরনো ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের ইতিহাস। ১৭৫৬ সালে পুরনো দুর্গ যখন আক্রমণ করেছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং ইংরেজরা দুর্গ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল, তখন থেকেই পুরনো ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ বাতিলের খাতায়। দুর্গ থেকে ইংরেজদের তাড়াতে নবাবকে কে খুব কষ্ট করতে হয়েছিল তার প্রমাণ ইতিহাসে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ, ইতিহাসের অন্যান্য দুর্গের মতো দুর্ভেদ্য ছিল না পুরনো ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ। একদিকে যেমন ইংরেজরা দুর্গ ... ...
আশুতোষ একটি খুবই সাধারণ ছেলে। কিন্ত তার স্মরন শক্তি বেশ প্রখর, যা ১৯৭৮ সালের বন্যার কিছু আগে থেকেই শুরু। স্মরন শক্তি এমন একটি বিষয় যা মানুষকে সব সময়ই যে সুখের অনুভূতি দেবে এমন নাও হতে পারে। যদিও সেই সময় আশুর (এই নামেই আমরা তাকে ডাকি) মাত্র ৩ বছর বয়স ছিল। একমাত্র আমি ছাড়া আর কেউই তার ওই স্মৃতির প্রতি বিশ্বাস ... ...
নিশুতি রাত। সাড়ে বারোটা বাজে। উত্তর কলকাতার এক তস্য গলি। তার ভিতর পুরনো লজঝরে একটি বাড়ির দোতলায় চিলের ছাদে কুপকুপে অন্ধকার ঘর। পায়ায় ইঁট সাজিয়ে বসানো এক ভাঙ্গা তক্তপোষের ওপর দুজন শুয়ে। মামা আর ভাগ্নে। একজনের বয়স আট। আর একজন আটত্রিশ। - আচ্ছা মামু, তুমি আমায় এত ভালোবাসো কেন বলতো? - আমি তোকে ভালবাসি, কে বলল? - আমায় তো সব্বাই বলে। তোর মামু তোকে ... ...
একালের যুবক - যুবতীদের অনেকেই হয়তো পোস্টকার্ড বা ইনল্যান্ড লেটার চোখে দেখেনি। এতে তাদের দোষ নেই, যুগ পাল্টে গেছে। মোবাইল, ইন্টারনেট, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টুইটার, এসএমএস - এর যুগে তারা বসবাস করছে। তারা পড়াশোনা করে মোবাইলে, অনলাইনে তাদের ক্লাস হয়। পড়াশোনার কারণে যেটুকু লেখালিখি করতে হয়, তা বাদ দিয়ে তারা লেখালিখিও করে মোবাইলে টাইপ করে। কাগজ, কলমের সাথেও তাদের সম্পর্ক এখন প্রায় শূন্যের ... ...
শীতলার পালা গান এখনো কতটা প্রাসঙ্গিক? সমাজতান্ত্রিক দেশের এক বৈশিষ্ট্য যে আমাদের জীবনের শিরা উপশিরা রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত। এরা নতুন নতুন তত্ত্ব আমদানি করে নিজেদের স্বার্থে। মাঝে মাঝে শোনা যায় বহিরাগতদের জন্য বাংলা ও বাঙালি সমাজ ধ্বংসের মুখে। আসলে বহিরাগতরা এর জন্য বোধহয় দায়ী নয়। শহরের ভাষাটি খিচুড়ি ভাষায় পরিণত হয়েছে - এর জন্য পেটের দায়ে বাংলায় কাজ করতে আসা মানুষগুলো দায়ী নয়। ভারতবর্ষের বাইরে বহু শহরে কাজের বাজার এখন বাঙালিদের দখলে ... ...
হাওয়া বয়,একটা গোটা শহর জুড়েহাওয়া বয়,কাপড়ের তারে লোভী হাওয়াচিপসের প্যাকেট নিয়ে উড়ে যাচ্ছে।