এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শীতলার গান

    Manab Mondal লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৭ মে ২০২৩ | ৪২১ বার পঠিত
  • শীতলার পালা গান এখনো কতটা প্রাসঙ্গিক?

    সমাজতান্ত্রিক দেশের এক বৈশিষ্ট্য যে আমাদের জীবনের শিরা উপশিরা রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত। এরা নতুন নতুন তত্ত্ব আমদানি করে নিজেদের স্বার্থে। মাঝে মাঝে শোনা যায় বহিরাগতদের জন্য বাংলা ও বাঙালি সমাজ ধ্বংসের মুখে। আসলে বহিরাগতরা এর জন্য বোধহয় দায়ী নয়। শহরের ভাষাটি খিচুড়ি ভাষায় পরিণত হয়েছে - এর জন্য পেটের দায়ে বাংলায় কাজ করতে আসা মানুষগুলো দায়ী নয়। ভারতবর্ষের বাইরে বহু শহরে কাজের বাজার এখন বাঙালিদের দখলে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোও বাঙালির দখলে, তা বলে সেই দেশ ও শহর তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে হারিয়ে ফেলে নি। বাংলা ভাষা বিপদে মুখে পড়ে আছে এই মন্তব্যটি আসলে কোলকাতা ও তার শহরতলী অঞ্চলের ছবি দেখে বলতে পারেন। আসলে ভাষা নদীর মতো, এতে বহু শব্দ এসে যুক্ত হয়। বাংলার শব্দগুলো বিশ্লেষণ করুন, বহু শতাব্দী ধরে এখানে অনেক শব্দ আছে যা বাংলার নয়।



    তবে একটা বিপদ এসেছে। বিশ্বায়নের ফলে বহির সংস্কৃতির দ্বারা আমরা বড় প্রভাবিত হয়ে নিজেদের সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলেছি। বিশেষ করে লোকসংস্কৃতির প্রতি আমাদের বিশেষ যত্নবান হওয়া উচিত। লোকসংস্কৃতি আসলে শুধু পূজাপার্বণ নয়। ব্রতকথা, পাঁচালী, গান আমাদের অতীত সমাজ ব্যবস্থার ছবিও তুলে ধরে। যা আমাদের জাতির ঐতিহাসিক দলিল হতে পারে। কারণ বাঙালি জাতি তার ইতিহাস পায় শশাঙ্ক থেকে অথচ মহাভারতে এর উল্লেখ রয়েছে। তাই আমার মত ছোট মানুষের মাথায় একটা প্রশ্ন বার বার ওঠে যে বাঙালি জাতি তার সম্পূর্ণ ইতিহাস বোধহয় জানে না। আমরা যে উন্নত সভ্যতার উত্তরাধিকারী সেটা জানলে হয়ত এ জাতি একটু আত্মবিশ্বাসী হত। কারণ সবাই বলে বাঙালিরা ব্যবসা করতে জানে না। অথচ মঙ্গলকাব্য দেখায় বাঙালি বাণিজ্যতরী নিয়ে ব্যবসা করতে যেত বিদেশে।



    এটা বৈশাখ মাস। বাংলার হারিয়ে যাওয়া এক লোকসংস্কৃতির কথা তাই মনে পরে গেল। শীতলামঙ্গল বা শীতলার গানের কথা বলতে চাইছি। গ্রামঘরে বলা হয় 'মায়ের গান' শুনতে যাওয়া। যদিও আমার পরিচিত এক সমাজসংস্কৃতি পর্যবেক্ষক ও লোকশিল্প সংগ্রহক সৌমেন নাথ-এর লেখা একটি অংশ তুলে ধরলে বোঝা যাবে এই শীতলা গান কলকাতায় প্রচলিত ছিল বা হয়তো আছে।



    সৌমেন বাবু লিখেছেন একটি গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে -
    " এটা বৈশাখ মাস। কলকাতার অনেক পাড়ায় এখন শীতলা গান আর শীতলাপালা হয়। Specifically তিনটে জায়গা আমি জানি..... (১) কলেজ স্ট্রীট বাটার রাস্তায়, (২) ডাক্তার লেন (মৌলালি থেকে তালতলার দিকে যেতে ত্রান ভবনের উল্টোদিকে) আর (৩) কালীঘাটে পটুয়াপাড়ায়। কলেজস্ট্রীট এর পুজোটা বেশ মজার, শীতলার গড়ন অদ্ভুত। এখন কথা হল, এটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেন? গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে কলকাতার আদি বাসিন্দাদের জনবিন্যাসের কিছু ছবি আমরা বুঝতে পারি। যেমন, ডাক্তার লেনের ঐ পাড়ার আদি নাম হাড়িপাড়া, বা কালীঘাটের ঐ পাড়া পটুয়াপাড়া। সমাজের প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে এখনও টিকে থাকা এই পুজোগুলো খুব-ই প্রাচীন। "



    প্রচারে না আসা লোকসংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকার সম্পাদক গৌতমবাবুও এ প্রসঙ্গে লিখেছেন "গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও লৌকিক দেবদেবীর প্রতি বিশ্বাস অটুট। কেবল মন্দিরের প্রতিমা নয়, এক পুরুষ শিল্পী দেবতা সেজেছেন, সব জেনেও তাঁকে দেবতা হিসেবে ভক্তি নিবেদন করছেন সাধারণ মানুষ।"



    লোকসংস্কৃতি গবেষক সঞ্জয় ঘোষ ও এমন কিছু বলছেন। তার কথা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এক আসর থেকে অন্য আসর, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত করে চৈত্র মাসের শেষ পাঁচ দিন নারীপুরুষ গাজন শিল্পীরা। গান গেয়ে/অভিনয় করে চলেন এক আসর থেকে অন্য আসরে। গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া অবহেলিত মানুষের অভিনয়, গান, নাট্য পরিচালনার লুকিয়ে থাকা প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে এই কদিন। সারা বছরের গ্রামে, রাজ্যে বা বিশ্বে ঘটে যাওয়া বড় ছোট ঘটনার প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটে গাজন, শীতলার পালার আসরে।



    দেবী শীতলা নিয়ে সংক্ষেপে কিছু কথা বলে নিই। শীতের পর ঋতু পরিবর্তনের সময় গ্রামবাংলার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে এই সময় বাংলায় আসত বসন্ত রোগ। গ্রামবাংলায় বসন্ত রোগকে মায়ের দয়া বলা হয়। হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুসারে আদ্যাশক্তি দেবী দুর্গার অবতার মা শীতলা এই বসন্ত রোগ থেকে মানুষকে উদ্ধার করেন। লৌকিক বিশ্বাস যে বসন্ত রোগ হলে মার পূজা দিলে মা সন্তুষ্ট হন ও রোগমুক্তি হয়। শীতলা মাতা মুলত অনার্য দেবী। তবে প্রাচীন রামায়ণ ও মহাভারতেও এই পূজার উল্লেখ পাওয়া যায়। বিরাট রাজ্যে একবার বসন্ত দেখা দিলে বিরাট রাজাও মা শীতলার পুজো করে রাজ্যকে ব্যাধি মুক্ত করেছিলেন। এই বিরাট রাজ্য বোধহয় আধুনিক বাংলা।



    বিভিন্ন সূত্রে দেখেছি বর্ধমান গ্রামগুলিতে শিব ও শীতলা আছেই। অথবা দুটি তিনটি গ্রামের একটিই শীতলা ও শিব। ঘাটাল মহকুমা জুড়েই চৈত্র-বৈশাখ মাসের মঙ্গল বা শনিবার হয় 'দেশ পুজো'। দেশ পুজো নামকরণের কারণ বসন্তের মারণ কামড় থেকে এই দেবীর আরাধনা দেশের সব লোককেই করতে হত বলে। তবে খেয়াল করলে দেখবেন অধিকাংশ লৌকিক দেবদেবী সর্বজনীন বা বিশেষ গোষ্ঠীর পূজায় হয়ে থাকে। যেমন, মাকাল পূজা করে জেলেরা মাছ ধরার জন্য।



    শীতলা গান মানে জাগরণ গান, মূল পুজো, যোগিনী পুজো আর শিবায়ন। "শীতলামঙ্গল" গান মানে আসলে "বোধ মানসিক" মনস্কামনা পূরণের জন্য মঙ্গলগান করা। বসন্ত রোগের নিরাময়ের জন্য মা শীতলার কাছে মানত করাকেই "বোধ মানসিক” বলা হয়। এই পূজোর দিনে মেয়েরা মায়ের ঘট নদী বা পুকুর থেকে জল ভরে মাথায় করে নিয়ে আসেন। ঐ ঘটকে কুলোতে বসিয়ে বরণডালা সাজাতে হয়। পাঁচ বাড়ি থেকে "মাঙন" সংগ্রহ করে নিয়ে ঘট স্থাপন করা হয়। শীতলা পুজোর এক বিশেষ রীতি হলো "মাঙন" । বিভিন্ন বাড়ি থেকে ভিক্ষা নিয়েই পুজো হয়। প্রতি বাড়ি থেকে একমুঠি করে ধান নিয়ে আসা হয়। ঐ ধান ঢেকিতে কুটে চাল তৈরী করে নৈবেদ্য তৈরী করা হয় ।



    শীতলার নামে শোলা ও রাংতা দিয়ে বিশেষ চালচিত্র তৈরী করা হয়। সেই চালচিত্রের সামনে ঘট বসিয়ে পুজো করা হয়। শীতলা পুজোর বিশেষ উপাচার হল তেল ও সিঁদুর। মায়ের ঘট স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলের কোনো বাড়িতে রান্না বসে না। চলে অরন্ধন। রাতে হয় "শীতলামঙ্গল গান"। মূল গায়ক হাতে চামর নিয়ে কথক মতো মঙ্গলগান শুরু করেন। দোহার ধ্রুবপদ গান। সারারাত ধরে এই গান চলে। শীতলা দেবীর মহিমা প্রচারে জন্য এই কাব্যগানের প্রচলন। খোল, মন্দিরা ও নুপুরের তালে এই গান গাওয়া হয়। তবে গাজন পালার সাথে এর একটা পার্থক্য দেখা যায়। সাধারণত 'শীতলা পণ্ডিত' নামক এক সম্প্রদায়ের মানুষ শীতলার গান গেয়ে থাকেন।



    আধুনিক মানুষেরা বলবেন মায়ের বন্দনাগানের আসর বসিয়ে কোনো রোগব্যাধির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া রায় না। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এটি অন‍্যতম গ্রামীন উৎসবগুলির মধ‍্যে একটি, এটি এক মিলনমেলা। যেখানে সবাই আসেন, উচ্চ নীচ, ধনী দরিদ্র, শিক্ষিত অল্প-শিক্ষিত। যে সব ছেলেরা বাধ্য হয়ে জীবিকার তাড়নায় ভিন রাজ‍্যে বা দূরবর্তী শহরে পারি দিয়েছেন তারাও অনেকে ঐ সময় আসেন। সবার সঙ্গে কুশল বিনিময়, একটু একান্তে সময় কাটানো - এই হিসেবে উৎসবগুলো অন্তত বেঁচে থাকুক।

    ছবি - সৌমেন নাথ, সঞ্জয় ঘোষ, সচেতনা গৌতম।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | 45.113.90.234 | ২৮ মে ২০২৩ ১২:৪৬520078
  • Very nice
  • Manab Mondal | ০৭ জুন ২০২৩ ১১:৪৩520279
  • ধন্যবাদ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন