
ছোটখাটো কিছু পার্থক্য আমার কাছে দারুণ লেগেছে। যেমন আমি দেশে দেখতাম আমার হিন্দু বন্ধুরা মন্দির যতদূরেরই থাকুক, আশপাশ দিয়ে গেলেই হাত কপালে তুলে সালাম করা শেষ। আমার বন্ধু স্বর্ণ, ও আরও একটু আগানো। ও কোন ঝুঁকি নিতে রাজি না। ও মন্দির, মসজিদ যাই সামনে পরুক, কপালে হাত নিয়ে চুমু খেয়ে ফেলবে ঝপ করে। এইটা আমি দেখছি সব সময়ই। এবার দেখলাম ভিন্ন চিত্র। বাসে যাচ্ছি, দূরে একটা চার্চের মাথা দেখা গেল। বাসের মধ্যে অনেক গুলো হাত এক সাথে উঠে ক্রুশ এঁকে ফেলল! এইটা আমি শুধু সিনেমায়ই দেখছি, বাস্তবে দেখে প্রথমে অবাক পরে হাসি পরে বুঝছি। ... ...

HIV আইন 2017 অনুসারে এইচআইভি আক্রান্ত ও প্রভাবিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষ বা হিংসা ছড়ালে ৩ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে বলা হয়েছে। এই আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে এইচআইভি র কারণে কারও কর্মের অধিকার, কারও শিক্ষার অধিকার, কারও সম্পত্তির অধিকার, কারও চিকিৎসার অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা যাবে না। কেবলমাত্র শাস্তিজ্ঞাপন এই আইনের উদ্দেশ্য নয়, বরং সংশোধনাত্মক লক্ষ্য নিয়ে এই আইন প্রণয়ন হয়েছে। এর কারনে, এই আইনে দন্ডনীয় বিধানের সংখ্যা সীমিত। ... ...

একা একা আধো অন্ধকারে বসে ভূতের কথা ভাবতে শাস্ত্রের নিষেধ আছে। তাই মোমের আলোতেই বুদ্ধদেব গুহর ‘সবিনয় নিবেদন’ বইখানা নতুন করে পড়ে ফেললাম। বাঘ দেখতে গিয়ে আমি তোমায় দেখে ফেলেছি টাইপের ব্যাপার। মনের জঙ্গল আর বনের জঙ্গল বেশ মেশাতে পারেন ভদ্রলোক। মনে হল যদি কোনও জঙ্গল থেকে ঘুরে আসতে পারলে ভাল হত। আসলে রুটিন থেকে বেরোন আর কি। রেল লাইনের বাঁধা পথে চলতে চলতে বিরক্ত হয়েই কি কামরাগুলো মাঝে মাঝে লাফিয়ে বেডিয়ে আসে? বাপ রে, কী সাংঘাতিক উপমা! নিজেই আঁৎকে উঠলাম। ... ...

জীবনের কথা ... ...

গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি সায়েন্স স্টেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ওখানকার গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধি হয়েছে ১১° সেলসিয়াস! লাইনটা পড়ে যদি চমকে না গিয়ে থাকেন তাহলে আরেকবার ভালো করে পড়ুন....... ... ...

কমলপ্রীতের ছেলে ইউকে তে সেটলড। ওরা আঠেরো থেকে তিরিশ বছর বয়সের মধ্যে নব্বই জন ভলান্টিয়ার নেবে।দে উইল বি এক্সপোজড টু এস এ আর এস কোভ টু।খুব নিরাপদ জায়গাতেই রাখবে তাদের ব্রিটিশ সরকার, পরীক্ষা হবে কী করে এই ভাইরাস স্তরে স্তরে মানুষকে আক্রান্ত করে। ... ...

কোভিডের দিনকাল। আমেলিয়া ও তাঁর পুতুলদের ধীরে ধীরে চিনতে পারছে দেবরূপ। চোখের সামনে দেখছে কৃষক আন্দোলনের প্রস্তুতি। ... ...

সত্যজিতের অপু ট্রিলজি যদি গ্রাম বাংলার ছবি এঁকে থাকে, মৃণাল ছবি এঁকেছেন শহর কলকাতার এবং তার মার খেয়েও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো মানুষগুলোর। তাঁর আকাশ কুসুম, তাঁর পুনশ্চ, তাঁর নীল আকাশের নীচে। যেখানে সর্বজয়া নেই, কিন্তু আছে বাসন্তী, মণিকা। বাসন্তী বোধহয় আধুনিক বাংলা সিনেমার প্রথম নায়িকা, যে ছবির প্রধানতম চরিত্র। অর্থাৎ, বাসন্তীই সে ছবির কেন্দ্রবিন্দু। নায়ক নয়, নায়িকাই এ ছবির আসল কথা। তার লড়াইয়ের গল্প। নায়ক পার্শ্বচরিত্র। হিন্দু ও মুসলমান রক্ষণশীলরা এ গল্প শুনতে চায়না। তারা চায়না আমরা লড়াই করি, মাথা উঁচু করে বাঁচি। তারা চায়না, মেয়েরা সমাজের কেন্দ্রবিন্দু হোক। তারা চায়, সমাজ যেন চরম রক্ষণশীল, পুরুষতান্ত্রিক থাকে। ... ...

যে কোনো বড় ঘটনার পর বিগ মিডিয়ার রাজনীতিটা বোঝা এবং বিশ্লেষণ করা খুব জরুরি। ... ...

গড়িয়ার মেসি মেস ... ...

আজ মৃণাল সেনের জন্মশতবর্ষ শুরু হল।প্রতিবাদ আর আত্মসমালোচনার যে যুগল সাধনার পথ তিনি দেখিয়ে গেছেন তার কোনো বিকল্প আজ পর্যন্ত পাই নি আমরা। এমনকি সেই পথে সঠিকভাবে হাঁটার সাহসটুকু পর্যন্ত দেখাতে পারিনি ঠিকভাবে, যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই দুঃসময়ে। ... ...

১০ ক্লাসের ইতিহাস বইয়ের ৩ নম্বর অধ্যায়ের প্রথমভাগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ১৮-১৯ শতকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলির প্রতিরোধের ইতিহাসে মাত্র সাড়ে পাঁচ লাইন ব্যয়িত হয়েছে 'ভীল' বিদ্রোহের জন্যে। 'ভীল' বলে সেই একদল প্রাচীন উপজাতি গোষ্ঠী, যাঁরা কিনা সেই সুদূর খান্দেশ-আরাবল্লীর রুখাসুখা পাথুরে জঙ্গলে ইংরেজদের বিরুদ্ধে একটানা বিদ্রোহ করে এসেছিল প্রায় দু'শো বছর ধরে, তাঁদের কথা আমরা বাঙালিরা স্কুলের সিলেবাস নির্বাচনজনিত বাস্তবিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে না জানলেও আরাবল্লীর গাঁও দেহাতের ভীল-মীণা-ডামোর আদিবাসীরা চির গৌরবের সঙ্গে মনে ধরে রেখেছেন তাঁদের প্রিয় দুই শিক্ষক এবং বীর বালিকা কালী বাঈয়ের স্মৃতিকে। একটু সময় খরচা কর পড়ে নেবেন কি কালীবাঈয়ের অজানা ইতিহাস? ... ...

জনমত সম্পূর্ণ রূপে কংগ্রেসের পক্ষে গেছে, তবে কয়েকটা বিষয় নিয়ে তাদের সতর্ক হতে হবে। কারণ কিছু অঞ্চলে বিজেপির সাম্প্রদায়িক কার্যকলাপের প্রতি মানুষের সমর্থন ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। ... ...


বিনিময় হার হচ্ছে অর্থনীতির সেই পিরামিড বা ফিনিক্স পাখি যাকে ধরতে বা ভবিষ্যৎবানী করতে সব থেকে বেশী ব্যর্থ হতে দেখা যায় অর্থনীতির দিকপালদের। কারণ অর্থনীতির এই উপাদানটি সারা বিশ্বের সব ঘটনা দিয়ে প্রভাবিত হয়, বিশ্বের যেকোন প্রান্তের যেকোন ঘটনায় হাজার মাইল দূরের কোন দেশের মুদ্রাও নেচে উঠে ধেই ধেই করে। ..১৯৯২ সালের ঘটনা। ....তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজর সেই সময় জাতিকে তার সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়ে বললেন, পাউন্ডকে রক্ষা করতে যা কিছু দরকার করা হবে। ব্রিটিশ সরকারের হাতে সেসময় ছিল দুটি অস্ত্র; একঃ সে তার হাতে থাকা বৈদিশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছেড়ে দিয়ে পাউন্ড কিনে নিতে পারতো এবং এভাবে পাউন্ডের কৃত্রিম চাহিদা তৈরী করে এর মূল্য পতন ঠেকাতে পারতো। দুইঃ সে মুদ্রানীতির কলাকৌশলকে কাজে লাগিয়ে সুদ হার বাড়িয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ডেকে নিয়ে আসতে পারতো ব্রিটিশ বন্ড কিনতে, সেক্ষেত্রে বিদেশী মুদ্রা ভাঙ্গিয়ে পাউন্ড কেনার জন্য লাইন লাগতো আর এভাবে পাউন্ডের কৃত্রিম চাহিদা তৈরী হত ও দর পতনকে রুখে দেয়া যেত। ... ...

যেমন তেমন শেফ হলে আমি জিজ্ঞেস করতাম – “এই জিনিস-কে কি ভাবে খাবার নামে ডাকা যায়?” এই শেফ-কে সেই প্রশ্ন করলাম না, কারণ তার উত্তর আমার জানা। বহুদিন আগে, ১৯১৭ সাল নাগাদ মার্সেল দ্যুসোঁ নামক এই বিখ্যাত ফরাসী চিত্রকর এবং ভাষ্কর, নিউ ইয়র্কের এক মর্ডান আর্ট চিত্র প্রদর্শনী-তে পোর্সেলিনের একখানি সাদা ইউরিন্যাল লাগিয়ে দিলেন দেওয়ালের গায়ে। ঠিক যেমন সাদা ইউরিন্যাল আমরা শপিং মল বা রেল স্টেশনে ব্যবহার করি। চারিদিকে হই হই পরে গেল। বোদ্ধারা ছেঁকে ধরলেন মার্সেল-কে, তাঁদের প্রশ্ন এই, “এই জিনিস কি করে আর্ট হয়”? মার্সেল দ্যুসোঁ নাকি উত্তর দিয়েছিলেন, “আমি বলছি তাই এটা আর্ট”। আমি শিওর ছিলাম সেদিন শেফ-কে জিজ্ঞেস করলে ঠিক উত্তর-টাই আমি পেতাম! ... ...

নতুন এ রচনা। গন্ধ নিয়ে। গন্ধ মানে সৌরভ, গন্ধ মানে পারিফিউম, গন্ধ মানে কলকাতায় দিনমানে চলা কর্পোরেশনের জঞ্জাল ফেলার গাড়ি, গন্ধ মানে শেষযাত্রার অগুরু, গন্ধ মানে ধুপ-ধূনো, গন্ধ মানে মায়ের খোলা চুল। এমন কতো কিছুই। আপনাদের উৎসাহ পেলে ভরসা বাড়বে। ... ...

১৯৯৭ সালের শেষ নাগাদ একটি টেলিফোন কল পেলাম- আই এফ আর পত্রিকা আমাদের কর্মধারা লক্ষ্য করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে এমারজিং মার্কেটে বানিজ্যরত ব্যাঙ্কগুলির মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। প্রায় বলতে যাচ্ছিলাম আমরা ছাড়া বাজারে আর আছেটা কে! একাধিক টেলিফোন কনফারেন্স, সাক্ষাৎকার এবং ডিলের দলিল দস্তাবেজ প্রদানের পরে অন্তত আমার মনে কোন সংশয় ছিল না এই পুরস্কারের প্রথম বিজয়ের গৌরব একমাত্র আমাদের প্রাপ্য! যথা সময়ে তা এলো। ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্সিং রিভিউ পত্রিকার ইতিহাসে প্রথম এমারজিং মার্কেট ব্যাঙ্ক অফ দি ইয়ার সম্মান পেলো সিটি ব্যাঙ্ক। অস্কার সেরিমনির মতন নাটকীয়ভাবে কোন বন্ধ খাম খোলা হয় না, আগেভাগেই জানানো হয় কে পাস কে ফেল। ডরচেষ্টার হোটেলে বার্ষিক পুরষ্কার প্রদানের অনুষ্ঠান ১৮ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে *। প্রধান অতিথি ব্রিটিশ মহারানির একমাত্র কন্যা প্রিন্সেস অ্যান, যিনি প্রিন্সেস রয়্যাল আখ্যাতেও বিভূষিত। সেভ দি চিলড্রেন নামক জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট তিনি। রাজকুমারী অ্যান শুধু খানাপিনার জন্যে আসেন না– তিনি তাঁর প্রিয় প্রতিষ্ঠান সেভ দি চিলড্রেনের জন্যে টাকাও তোলেন! সমাগত পুরস্কৃত প্রতিষ্ঠানগুলি মুক্তহস্তে দান করে থাকেন সেই তহবিলে। ... ...

রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে হিন্দুত্ববাদী আরএসএস, বিজেপি ও তাদের নেতানেত্রীরা গাগা করছেন। আমার "দানবের পেটে দু দশক" বইতে আমি যেমন লিখেছি, আরএসএস, বিজেপির রবীন্দ্রনাথ-প্রীতি একেবারেই ভানু ব্যানার্জী কিংবা তুলসী চক্রবর্তীর হাস্যকৌতুক। বাকীটা পড়ে ফেলুন। অবশ্য ইসলামী জঙ্গীরাও চরম রবীন্দ্রবিদ্বেষী। যা হবার কথা, ঠিক তাই হচ্ছে। ... ...

এমন সময় চেরকাশভ সুইমিং পুল থেকে উঠে বাথরোব লাগিয়ে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিলেন। সামনের ফিতেটা ভালো করে বাঁধা নেই। তাঁর চোখে পড়ে গেল সলিলের দিকে – দেখেই তিনি ছুটে এলেন “আর রোকতো নই নই! আর ধ্বোংসো নই নই” গাইতে গাইতে। চেরকাশভ ছুটে আসছেন, খোলা গাউন উড়ছে দুইদিকে, সামনে ফাঁকা – অনেকে চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, ঋত্বিক বলছেন ‘কি দেখিলাম গ্র্যান্ডে এসে’। প্রায় সাত ফুট সেই মানুষটা কাছে এসে ‘সালিল, সালিল’ বলে প্রায় কোলে তুলে নিজের রুমের দিকে নিয়ে গেলেন। বেশ খানিক গল্পের পর চেরকাশভ আর পুদভোকিন বের করলেন ওঁদের সাথে করে আনা টিনের ক্যানের রাশিয়ান পিবা বা বিয়ার। আপনারা বললে বিশ্বাস করবেন না, সেই প্রথম সলিল এবং ঋত্বিক দুজনারই বিয়ার তথা মদ্যপান। আর সেদিন এক ক্যান বিয়ার খেয়েই ঋত্বিক পুরো আউট। চেরকাশভ আর পুদভোকিন খানিক পরে এক সভায় যোগদান করার জন্য বেরিয়ে গেলেন, কিন্তু এদিকে ঋত্বিকের নড়ার ক্ষমতা নেই! গ্র্যান্ড হোটেলের এক রুমের বারান্দায় সোফায় বসে প্রথম বারের মত মাতাল হওয়া ঋত্বিক নীচের কলকাতা দেখতে লাগলেন। কিন্তু কতক্ষণ আর বসে থাকবেন বারান্দায় চুপচাপ – তাই খানিক পরেই বিরক্ত হয়ে সলিল-কে বললেন, “এখানে বসে থাকার চেয়ে বরং চল গঙ্গার হাওয়া খেয়ে আসি”। এই বলে দুজনা হোটেল থেকে বেরিয়ে ইডেন গার্ডেন এর পাশ দিয়ে গঙ্গার ধারে এসে বসলেন। ঋত্বিক বলতে লাগলেন, “এ জিনিস কেন মানুষ খায়! আমি এই প্রতিজ্ঞা করছি, জীবনে আর এই জিনিস ছোঁব না!” ... ...