এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্মৃতিচারণ  স্মৃতিকথা

  • কিছুক্ষণ ২ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    স্মৃতিচারণ | স্মৃতিকথা | ১১ মে ২০২৩ | ৮১২ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  •  

     
     
    প্রিন্সেস অ্যান – প্রিন্সেস রয়্যাল

    ১৯৯৭ সাল আমার ব্যাঙ্কিং জীবনে একটি স্মরণীয় বছর ।

    নয়ের দশকে আমার চারপাশের পৃথিবী যে কতটা দ্রুতবেগে বদলে যাচ্ছিল তখন বুঝে উঠি নি । পূর্ব পশ্চিমের অর্থনৈতিক সেতু বন্ধনে ( এবং আপন  স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ) একটি কাঠবিড়ালির ভূমিকা হয়তো  জুটেছিল - পরে কেতাবে যে ইতিহাস পড়েছি সেটিকে  চিনে নিতে তাই অসুবিধে হয় নি !

    ১৯৮৯ সালের জুন  মাস থেকে ১৯৯০ সালের  ফেব্রুয়ারী - এই আট মাসের ভেতরে আপাত  দৃষ্টিতে পারস্পরিক সম্পর্কবিহীন তিনটি ঘটনা ঘটে । এক উন্মুক্ত সমাজের শান্তিপূর্ণ দাবিতে বেজিঙ্গের তিয়ানানমেন চত্বরে ( স্বর্গীয় শান্তির দ্বারে ) যে চীনা যুবক যুবতি দাঁড়িয়ে ছিলেন, জুন মাসের চার তারিখে লাল ফৌজ সেই প্রতিবাদ  গুঁড়িয়ে  দিলো।কণ্ঠ রুদ্ধ হলো দুর্বার সামরিক শক্তি দ্বারা । কিন্তু  দেশের শাসকবৃন্দ বুঝলেন গণতন্ত্র না হোক , এই তারা মার্কা লাল পতাকার তলায় এনে দিতে হবে আর্থিক উন্নয়ন যাতে এই মুখর জনতা যেন আই ফোন নিয়ে  ব্যস্ত থাকে,  পথে নেমে গণতন্ত্রের হট্টগোল করার  সময় না পায়। ( সে সময় আফ্রিকা মহাদেশের চল্লিশটি দেশের মাথা পিছু আয় চীনের চেয়ে বেশি ) ।  হাঙ্গেরি আর অস্ট্রিয়ার বিদেশ মন্ত্রীরা ক্যামেরার সামনে দুই দেশের সীমান্তের  কাঁটাতার নির্মূল করলেন জুন মাসে , পূর্ব  পশ্চিমের বিভাজনের শেষ প্রতীক বার্লিন দেওয়ালের পতন ঘটল নয়ই নভেম্বর – ব্রানডেনবুরগ তোরণের নিচে ইউরোপের পূর্ব পশ্চিম একত্রিত হলো । পূর্বের দ্বার অবারিত।  সাতাশ  বছর বাদে বন্দিশালা  থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৯০ সালের এগারোই ফেব্রুয়ারি   কেপ টাউন পৌরসভার বারান্দায় দাঁড়িয়ে নেলসন ম্যানডেলা বললেন ওয়াট ইজ ফেরবাই ইজ ফেরবাই । যা গেছে তা যাক । সামনে নতুন দিন সকলের জন্য – সারা আফ্রিকার জন্য।

    দেড় বছর বাদে জুলাই ১৯৯১ সালে ডক্টর মনমোহন সিংহ ভারতীয় অর্থনীতিকে লাল ফিতের বাঁধন থেকে মুক্তি দিলেন -  খুলে গেলো আরেক দিগন্ত। ।

    পশ্চিম ইউরোপ , আমেরিকায় মন্দা চলছে। সিটি ব্যাঙ্কের সামনে  নতুন দিগন্ত , নতুন বাজার উন্মোচিত হলো -  আমরা ধাবিত হয়েছি সেই দিকে । আমাদের অভীষ্ট অবশ্যই বাণিজ্যিক কিন্তু  একটা অজানা অচেনা পৃথিবীর পথ পরিক্রমার  রোমাঞ্চ ছিল অপরিসীম।  

    আন্তর্জাতিক লগ্নির বাজারে  নিবেশক খোঁজেন আমেরিকা , পশ্চিম ইউরোপ, আরব উপসাগর এলাকা ও  পূর্ব এশিয়ার  খদ্দের। পোল্যান্ড রাশিয়া স্লোভাকিয়ার নাম সেই বৈঠকে এক্স্বরে উচ্চারিত হয় না । এরা কে বা  কারা ? এই নতুন বাজারের ঋণগ্রহীতাকে পশ্চিমের দরবারে আনার কাজটা সহজ ছিল না –ধার দেওয়ার  আগে  বিগত পাঁচ বছরের হিসেব নিকেশ , পরবর্তী তিন বছরের ভবিষ্যৎ পথরেখা  ( প্রোজেকশন ) চিত্রণ করা অসম্ভব  ব্যাপার । সেদিন আমাদের লগ্নি নিবেশকের কাছে গিয়েছি আবেগ ও  ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে, একটা গল্প নিয়ে। বহু অর্থ প্রতিষ্ঠান আমাদের বিশ্বাস করেছেন, ঋণের ঝুলি দিয়েছেন ভরে । জানি সে নিতান্তই  ব্যবসা,  তবু তৃপ্তি অনুভব করেছি। এই উত্তাল উন্মাদনার দিনগুলির স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই  একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে যাবো ।  

    নতুন বাজারের সামগ্রিক নাম হলো – এমারজিং মার্কেট ।

    স্কুলের বইতে জেনেছিলাম  বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলির একটি তালিকা আছে – ভারত তার অন্তর্ভুক্ত। এই সব দেশের নাগরিক মনে দুঃখ  পেতে পারেন ভেবে এক সময়ে গুণী ব্যক্তিরা  বললেন,  অনুন্নত কথাটা কানে বাজে। এদের নাম দেওয়া হোক অর্ধউন্নত ( আণ্ডার ডেভেলপট ) দেশ। ইউরোপে এসে জানলাম আসলে এক থেকে তিন - এই তিনটে বিশ্ব আছে । এক নম্বরে ধনী দেশগুলি ,  ভারতের স্থান তৃতীয় বিশ্বে । দ্বিতীয় বিশ্ব যে ঠিক কোনটা তা  খুব কম লোকেই জানতেন।

    আরও একযুগ বাদে ভারতের পরিচিতি  হলো  উন্নয়নশীল ( ডেভেলাপিং ) দেশ হিসেবে।  
     
    এবারে ব্যাংকিং পরিভাষায় দুনিয়া দুটো ভাগে  ভাগ হয়ে গেলো – ওপরতলায় ধনী দেশ আর বাকি সবাই  উন্নয়নশীল দেশ,  তাদের উন্নয়নের গতি যাই হোক না কেন। ‘ এমারজিং মার্কেট ‘ কথাটার জনক যে কে সঠিক জানা যায় না – আই এন জি ব্যাঙ্ক ও গোল্ডম্যান দুজনেই এর কপিরাইট দাবি করে থাকে।  

    সিটির ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিঙ্গে আমার স্থান হলো ৩৩৬ নম্বর স্ট্র্যানডের চার তলায় – সরকারি নাম ক্রস বর্ডার ফাইনান্স বিভাগে যা  এমারজিং মার্কেট নামে অধিক পরিচিত। পূর্ব ইউরোপ , এশিয়া,  আফ্রিকা আমাদের বাজার।  

     গ্র্যান্ড হল - ডরচেষ্টার হোটেল 
     
    ইন্টারন্যাশনাল ফাইনানসিং রিভিউ – আই এফ আর( টমসন গ্রুপের কাগজ, দুবার হাত বদলে এখন তাদের মালিকের নাম রেফিনিটিভ)  সে আমলে ইউরোপিয়ান অর্থজগতের  সবচাইতে ডাকসাইটে সাপ্তাহিক পত্রিকা । প্রতি সোমবার প্রকাশ পায় । অর্থনৈতিক দুনিয়ার কোথায়  কি হচ্ছে , কোন দেশের কোন ডিল সবে বাজারে এসেছে, কোনটায় কতো লগ্নি হলো, কোন কোম্পানি অধিকরণের কাজ করছে ইত্যাকার সংবাদে ভর্তি- তার সঙ্গে থাকত কোন মহামানব কোন ব্যাঙ্ক ছেড়ে কোথায় গেলেন তার ফিরিস্তি।  ফেক নিউজের স্থান সেখানে ছিল না।  আমার সবাই মুখিয়ে থাকি সেখানে কাদের ডিলের কথা ছাপা হলো – ইজ্জত কা সওয়াল – এমন সময় গেছে যখন পাতায় পাতায় আমাদের ব্যাঙ্কের নাম ! ডিলের চর্চা হওয়া আবশ্যক ! কোন সপ্তাহে সিটির নাম না ছাপা হলে বড়ো সায়েবের ঘরে ডাক পড়ে । কিথ মালিন তখন এডিটর ইন লারজ।সে আমলের উঠতি সাংবাদিক টেসা ওয়ালশ এখনও যোগাযোগ রাখে – আমার অবিচুয়ারি লেখার দায়িত্ব দিয়েছি তাকে ।  

    ইউরোউইক তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাপ্তাহিক ।


    অস্কার ! 

    ফিল্মফেয়ারের স্টাইলে বছরের শেষে আই এফ আর নির্বাচন করে  কোন ব্যাঙ্ক সে বছরের কোন ব্যবসায় সবচেয়ে সফল – ঋণ সংগ্রহে, বন্ড বাজারে , অধিকরণ ব্যবসায়ে ইত্যাদি । ১৯৮১ সালে থেকে প্রতি জানুয়ারি মাসে একটি মহোৎসব করে সেই সব ব্যাঙ্ককে সম্মানিত করা হয়েছে। পুরষ্কার পেতে গেলে ডলার ভ্যালু  বিশাল হওয়া চাই – যেমন  সুইডেন রাজ্য ( কিংডম অফ সুইডেন ) সাফল্যের সঙ্গে পাঁচশ মিলিয়ন ডলারের ইউরো নোট ছাড়ল ,  কোকাকোলা বাজারে এসে পাঁচ বছরের মেয়াদে এক বিলিয়ন ডলার ধার নিয়ে গেলো ।  বাজারে এদের চাহিদা  আছে।  ইউরোপ আমেরিকার দশটা ব্যাঙ্ককে ফোন করলে সুইডেন বা কোকা কোলার নাম শুনেই  তারা লক্ষ লক্ষ ডলার সিটি ব্যাঙ্কের খাতায় জমা করে যাবে। অবশ্যই তাদের সহযোগী ব্যাঙ্ক অনায়াসে– শ্রেষ্ঠ বন্ড ব্যাঙ্ক বা শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক ঋণ ব্যাঙ্কের পুরস্কার পেয়ে যায় !

    আমাদের খদ্দের  পোল্যান্ডের দেউলে জাহাজ নির্মাতা বা হাঙ্গেরির ততোধিক বিপন্ন ব্যাঙ্ক – কুল্লে হয়তো তুলেছি ষাট মিলিয়ন ডলার ! কে পাত্তা দেবে আমাদের ! গুগল উইকিপিডিয়া ধরাধামে অবতীর্ণ হবার এক দশক আগে পোল্যান্ডের গদিনিয়া শিপইয়ার্ডটি ঠিক কোথায় তা বোঝানোর জন্যে ম্যাপের বই ও কোম্পানির ব্যাল্যান্স শিট হাতে নিয়ে সম্ভাব্য নিবেশকের সঙ্গে দেখা করতে গেছি।

    টি টোয়েনটি নামক বুলডোজারের আবির্ভাবের আগে - যখন ক্রিকেট মানে টেস্ট ক্রিকেট-  বলা হতো  স্কোরবোর্ড একটি গর্দভ। সে রানের হিসেব রাখে । সেঞ্চুরি  তার কাছে প্রকাণ্ড কাণ্ড  কিন্তু কি অসামান্য ভঙ্গিমায় ইডেনে মাত্র পাঁচ রান করে ক্লাইভ লয়েড আউট হলেন ( ১৯৬৭ ) তার মর্যাদা স্কোর বোর্ড দেয় না।

    আত্মপ্রচারের তাগিদে  লেগে থাকি আই এফ আর এবং ইউরোউইকের সাংবাদিকদের পেছনে – গল্প শোনাই কি বিচিত্র  সব  বাণিজ্যে মগন হয়ে আছি ।  আফ্রিকা বা পূর্ব ইউরোপ তাদের কাছে সম্পূর্ণ অচেনা । যে সব ডিল বাজারে এনেছি তাদের সম্ভাব্য ব্যর্থতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন জনতা একদিন  জেগে ওঠেন- সেই আই এফ আরেই  তাঁরা ঘানা কোকো বোর্ডের বা স্লোভাক টেলিকমের ঋণপত্র স্বাক্ষরিত হবার কাহিনি পড়েন। এবার সাংবাদিকরা আমাদের ফোন করেন– সাপ্তাহিকের পাতা ভরাতে সেনেগালের চিনে বাদাম চাষি , চেক বিদ্যুৎ কোম্পানি বা কলকাতার বাটার কাহিনি তাদের খুব কাজে লাগে কিন্তু  লন্ডনের জমকালো ভোজসভায় আমরা উপেক্ষিত । সিটি ব্যাঙ্কের পশ্চিম ইউরোপীয় বিভাগের পুরস্কার এবং ভোজের আমন্ত্রণ জোটে,  আমাদের মতো দীন দপ্তরের কপালে কিছুই জোটে না।

    কিছু সাংবাদিক , যেমন টেসা ওয়ালশ অথবা মাইক রোটশিল্ড , ইউরোউইকের নাইজেল পেভি,  বব এভেরি অবশ্য সর্বদা সমবেদনা জানাতেন।

    ১৯৯৭ সালের শেষ নাগাদ একটি টেলিফোন কল পেলাম- আই এফ আর পত্রিকা আমাদের কর্মধারা লক্ষ্য করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে এমারজিং মার্কেটে বানিজ্যরত  ব্যাঙ্কগুলির মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। প্রায় বলতে যাচ্ছিলাম আমরা ছাড়া বাজারে আর আছেটা কে! একাধিক  টেলিফোন কনফারেন্স,  সাক্ষাৎকার এবং ডিলের দলিল দস্তাবেজ প্রদানের পরে অন্তত আমার মনে কোন সংশয় ছিল না এই পুরস্কারের প্রথম বিজয়ের গৌরব একমাত্র আমাদের প্রাপ্য!  যথা সময়ে তা এলো।  ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্সিং রিভিউ পত্রিকার ইতিহাসে প্রথম এমারজিং মার্কেট ব্যাঙ্ক অফ দি  ইয়ার সম্মান পেলো সিটি ব্যাঙ্ক । অস্কার সেরিমনির  মতন নাটকীয়ভাবে কোন বন্ধ খাম খোলা হয় না , আগেভাগেই জানানো হয় কে পাস কে  ফেল ।

    ডরচেষ্টার হোটেলে  বার্ষিক পুরষ্কার প্রদানের  অনুষ্ঠান ১৮  জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে *।

    প্রধান অতিথি ব্রিটিশ মহারানির একমাত্র কন্যা প্রিন্সেস  অ্যান, যিনি প্রিন্সেস রয়্যাল আখ্যাতেও  বিভূষিত। সেভ দি চিলড্রেন নামক জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট  তিনি। রাজকুমারী  অ্যান শুধু খানাপিনার জন্যে আসেন না– তিনি তাঁর প্রিয় প্রতিষ্ঠান সেভ দি চিলড্রেনের জন্যে  টাকাও তোলেন! সমাগত পুরস্কৃত প্রতিষ্ঠানগুলি মুক্তহস্তে দান করে থাকেন সেই তহবিলে।

    ডরচেষ্টার হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমের এই হট্টমেলায় রাজ কুমারী সবার মাঝে ঘোরাঘুরি করেন না। তাঁকে মঞ্চে দেখা যায় । তবে পুরস্কার প্রদানের প্রাক্বালে একটি ছোটো অন্তরঙ্গ পরিবেশের আয়োজন করা হয়ে থাকে , সেখানে ইউরোপীয় ব্যাংকিং সমাজের  এবং খ্যাতনামা ঋণগ্রহীতাদের মানে উঁচু তলার মানুষের জমায়েত । সিটিব্যাঙ্কের কিছু মহারথী এই উৎসব অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন; প্রথা এবং সিনিওরিটি মাফিক  তাঁরাই সেখানে যাওয়ার অধিকারী। অকস্মাৎ আই এফ আরের বরিষ্ঠ সাংবাদিক মাইক রোটশিল্ড আমাকে ডেকে  বললে , “ শোনো , তোমার বসেদের কিছু জানাতে হবে না । চুপচাপ আমার সঙ্গে স্টেজের পেছনে চলো,  প্রিন্সেস অ্যানের সঙ্গে দুটো কথা বলার সুযোগ করিয়ে দেবো “ ।

    কয়েক বছর আগে সম্পূর্ণ ঘটনাচক্রে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের একজন বিশেষ সদস্যের হাত বিশেক দূরত্বের মধ্যে হাজির হই। ৩৩৬ নম্বর স্ট্র্যানডের   সিটিব্যাঙ্কে আমাদের নিজেদের অ্যাকাউনট খোলার সুযোগ ছিল না ।  প্রতিবাদে তাই আমার নিজস্ব ব্যাংকিং খাতা খুলেছি ৪৪০ নম্বর স্ট্র্যানডে , কুটস অ্যান্ড কোম্পানির বাকিংহ্যাম ব্রাঞ্চে ( এই শাখাটি বাকিংহ্যামে নয় – নামকরণ হয় রাজপরিবারের সদর বাসভবনের সম্মানে )। ১৮শ শতাব্দীর হাউস অফ হ্যানোভার থেকে আজকের হাউস অফ উইন্ডসরের সকল সদস্যের নাম তাদের লেজারে পাবেন । বর্তমান রাজা চার্লসের একমাত্র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউনট আছে কুটসে !  


    ব্যাংকিং হল কুটস 
    বাঁ দিকে  সার টমাস কুটসের স্ট্যাচু 

     
    ব্যাঙ্কের  ঘোরানো কাচের দরোজা দিয়ে কুটসে  ঢুকেছি । সেখান থেকে এস্কেলেটরে চড়ে ব্যাংকিং হলে যাবো । জাব্বা জোব্বা পরা প্রহরী পথ আটকেছে-  “ প্লিজ ওয়েট এ মিনিট সার ! “ ক্ষিপ্ত হয়ে ভাবলাম দরিদ্র ভারতবাসীর ওপরে এ  এক বৈষম্যমূলক আচরণ । আমার মুখ দেখে নিয়ে প্রহরী ফিসফিস করে বললে , “ সার, লেট দি প্রিন্সেস গো আপ ফার্স্ট প্লিজ “। তাকিয়ে দেখি প্রিন্সেস ডায়ানা সেই এস্কেলেটরে চড়ে একা ওপরে উঠছেন , চারিদিকের  ব্যালকনিতে অজস্র মুখ । আমার শিভালরি জেগে উঠলো – বললাম অবশ্যই অপেক্ষা করব।

    এতদিন বাদে সৌভাগ্যক্রমে এবার ব্রিটিশ রাজ সিংহাসনের পঞ্চম দাবিদার প্রিন্সেস অ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি হতে যাচ্ছি !  মাইক আমাকে স্টেজের পেছনের একটা ঘরে  নিয়ে গেলো ।  সে বললে ‘ পুরস্কার প্রাপকের সংখ্যা অগুনতি।  সবার সঙ্গে কথা বলতে গেলে রাত কাবার হয়ে যাবে। তাই  রাজকুমারী এই পুরস্কার প্রদানের সন্ধ্যায় কয়েকজন বিশিষ্ট বিজেতার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ করার অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন’ ।  আমি সেই লিস্টিতে ছিলাম কিনা জানি না , তবে মাইক আমাকে পৌঁছে দিয়েই কেটে পড়েছে।  অতি সত্বর বোধগম্য হলো কতটা গভীর জলে নিক্ষিপ্ত হয়েছি ! আমার একপাশে মেরিল লিঞ্চের চেয়ারম্যান ও সি ই ও ডেভিড কোমান্সকি (  বর্ষ সেরা ব্যাঙ্কের পদক )  অন্য দিকে আর্জেন্টিনার অর্থমন্ত্রী  দোমিনগো ফেলিপে কাভালো  ( সেরা ঋণগ্রহীতা ) । তাঁরা সম্মানিত হবেন এই অনুষ্ঠানে।এঁদের মাঝে  দাঁড়িয়ে  হরিদাস পাল শব্দটির তাৎপর্য অনুভব করলাম।  

    ক্লাইভ অ্যানডারসনকে বি বি সি টেলিভিশনে ( ‘ হুজ লাইন  ইজ ইট এনিওয়ে’  এক জনপ্রিয়  প্রোগ্রাম ) প্রায়  দেখেছি  – তিনি আজকের অনুষ্ঠানের অন্যতম সঞ্চালক । মজার মানুষ , চট করে গল্প শুরু করে দিলেন । জানতে চাইলেন ক্যামেরা এনেছি কিনা (ফোন ক্যামেরা তখন দূর অস্ত )।  তাঁর হাতে ক্যামেরা  তুলে দিলাম।  ক্লাইভ বললেন , ‘ আপনি যখন প্রিন্সেস অ্যানের সঙ্গে আলাপ করবেন, আমি ঠিক ছবি তুলে নেবো।  কিপ স্মাইলিং ‘ । ভাগ্যিস ক্লাইভ ছিলেন ! নইলে কি মেরিল লিঞ্চের সি ই ও বা  আর্জেন্টিনার অর্থমন্ত্রীকে বলতে পারতাম ‘ আমার একটা ফোটো খিঁচে দেবেন সার ‘ !

    লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লাম। 

    কয়েক বছর আগে তেল আভিভে ব্রিটিশ রাজদূতের গার্ডেন পার্টিতে যাওয়ার আগে সংযুক্ত রাজ্যের দূতাবাসে এটিকেটের যে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিলো তার দৌলতে  জানি  রাজদূতকে ইওর এক্সেলেন্সি বলতে হয় । যদিও একটা বিয়ারের পরে ইসরায়েলে মহারানির প্রতিভূকে মার্ক (এলিয়ট ) এবং স্ত্রীকে লিজা বলে সম্বোধন করেছি ।

    এবে  রাজকুমারীকে কি বলে অভিবাদন করি ?

    আমার ডান পাশে ছিলেন সেনিওর কাভালো । তাঁর সঙ্গে কি যে বার্তালাপ হলো জানি না - আমি মনে মনে আমার নিজের সংলাপ রেডি করছি । রাজ দরশন তো মিনিট দেড়েকের ব্যাপার – ‘ আপনি কে, কি করেন , ভাল লাগলো ,  গুড বাই ‘।
    গ্রাউচো মার্কসের কথায় , ‘ হ্যালো , আই মাস্ট বি গোয়িং ‘।
     


    ক্লাইভ আমার পরিচয় দিলেন।

    করমর্দন। রাজকুমারী জিজ্ঞেস করলেন , ‘ আপনি কতদূর থেকে এসেছেন’  ?

    সবে  তিনি আর্জেন্টিনার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাক্যালাপ করেছেন। একটু হালকা ভাবে বললাম ‘ আমি মাননীয় কাভালোর তুলনায় স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করে  এসেছি । এই গোলডারস গ্রিন থেকে ।‘

    রাজকুমারী মৃদু হাস্য করলেন । “ শুনলাম আপনি সিটি ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সেখানে কোন বিভাগে কাজ করেন?”

    “আমি সিটি ব্যাঙ্কের তরফে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ বিভাগে কাজ করি, মানে এমারজিং মার্কেট “

    “ হ্যাঁ , আপনারা  খুব ভালো কাজ করেছেন । জানলাম ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্সিং রিভিউ পত্রিকা এবারে এই এমারজিং মার্কেটের জন্য একটি বিশেষ পুরস্কার দিচ্ছে – আপনারা তার প্রথম প্রাপক “।

    “অনেক ধন্যবাদ “। এখানেই ছেড়ে দিলাম । ইয়োর ম্যাজেসটি না ইয়োর হোলিনেস কি বলতে হয় জানি না,  তাই গণ্ডগোল না বাড়ানোই ভালো । ধরে নিয়েছিলাম এবার তিনি আমার পার্শ্ববর্তী মানুষ ডেভিড কোমান্সকির সঙ্গে আলাপ করবেন। ডেভিড হাতটা প্রায় বাড়িয়ে দিয়েছেন ততক্ষণে ।

    সেদিকে না তাকিয়ে আমাকে বললেন, “ জানেন , এই  উন্নয়নশীল দেশ বা এমারজিং মার্কেট কথাটা আমার খুব অদ্ভুত মনে হয়। আচ্ছা বলুন তো , কতদিন ,  কতো বছর কেটে যায়  যখন আমরা বলতে পারি আর কোন কাজ বাকি নেই ? উই হ্যাভ এমারজড? উন্নয়নের কাজটা  কখন,  কোন সময়ে  ফুরিয়ে যায় ? আমার তো মনে হয় আমরা সবাই সব সময় উন্নয়নের চেষ্টাই  চালিয়ে যাই , তাই নয় কি ? ব্রিটেন কি উন্নয়নের কাজটা শেষ করে ফেলেছে ? পৃথিবীর কোনো  দেশ কি তা করেছে ?“

    এটা একটা প্রশ্ন না বক্তব্য ঠিকমত ধরতে পারলাম না । উনি কোন উত্তর আশা করছেন কি ?

    “মানে উন্নয়নের কতকগুলো স্তর থাকে তো। কেউ দশ পা এগিয়ে গেছে, কেউ সবে শুরু করেছে - বিভিন্ন দেশ ঠিক একই জায়গায় হয়তো দাঁড়িয়ে নেই “

    “মেনে নিলাম এটা আপেক্ষিক। কিন্তু আমার মনে হয় আমরা সবাই ওই এমারজ করতে থাকি (আই অ্যাডমিট ইট ইজ এ রিলেটিভ কনসেপট। বাট অল অফ আস ডু কিপ এমারজিং”)।


    মেরিল লিঞ্চ কর্তা আমার প্রতি বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকালেন-  ডেভিড কোমান্সকির মূল্যবান সময়ে ভাগ বসাচ্ছি !

    কিন্তু এই আলোচনা অন্তত আরও খানিকক্ষণ চললো । মনে আছে তাঁর শেষ বাক্যটি । মিষ্টি হেসে বললেন

    ‘লেট আস অল কিপ অন এমারজিং! ‘

    ক্যামেরা ফেরত দেওয়ার সময়ে ক্লাইভ অ্যানডারসন বললেন , “হোপ ইউ লাইক দি স্ন্যাপ্স। “

    একটু থেমে যোগ করলেন  “ ওয়েল , দ্যাট ওয়াজ এ লঙ চ্যাট“!

    রাজ পরিবারের মানুষদের  বুদ্ধিমত্তা সম্বন্ধে আমার কোন উচ্চ ধারণা কোনদিন ছিল না । সেদিন  খুব অল্প সময়ের মধ্যে অ্যান  সেটি বদলে দিলেন ।**

    ফেরার সময়ে মুজতবা আলি সাহেবের কথা মনে হয়েছিল । তিনি কোথায় যেন লিখেছিলেন,   মিশরের ফারাও রাজবংশ একদিন সভ্যতা, শিল্পে, বাণিজ্যে সে যাবত চেনা দুনিয়ার শীর্ষ স্থানে আরোহণ করে । তাহলে ফারাওরা  টিকলেন না কেন? কারণ সেই উন্নত  আসনে  পৌঁছে ফারাওরা ঘোষণা করেছিলেন, “ যা জানার তা আমাদের জানা হয়ে গেছে ।  আমাদের আর কিছু শেখার নেই” ।

    পরিশিষ্ট
     

    *The 17th annual IFR Awards Gala Dinner took place on January 18 at London’s Grosvenor House. Some 1,200 guests attended the glittering event and witnessed a string of senior capital markets professionals as well as senior officials at our Issuers of the Year pick up IFR’s major awards from HRH The Princess Royal, President of Save the Children; Keith Mullin, Editor-at-Large of IFR; and Matthew Davies, IFR’s Editor. A phenomenal £1.256m was raised in a matter of minutes। The total amount raised by attendees at the IFR Awards event since inception is now in excess of £20m.
     
    ** বছর দশেক বাদে প্রিন্স অ্যান্ডরুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কে, আমার অফিসে । এটি একেবারে অঘোষিত আগমন , আমরা কেউ প্রস্তুত ছিলাম না ।  ব্রিটিশ সরকারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং নিবেশনের  (  স্পেশ্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ) বিশিষ্ট প্রতিনিধিরূপে তিনি  বিলিটার স্ট্রিটে আমাদের ব্যাঙ্কের  বিভিন্ন বিভাগে ঘুরে জানতে চাইছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্ক দুনিয়াতে ঠিক কি কাজ করে বেড়ায় । আমার ব্যবসায়ের কথা বললাম;  টিমের ছেলেমেয়েদের  সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি - তারা খুব উৎসাহ সহকারে আপন কাজকর্মের  শোনানোর চেষ্টা করল।  রাজকুমার একেবারে নির্লিপ্ত উদাসীন – শুনে গেলেন , বিশেষ  কোন প্রশ্ন করলেন না।  কতটুকু বুঝলেন কে জানে। তিনি আমাদের  কারো মনে কোন রেখাপাত করেন নি ।  
     
     

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্মৃতিচারণ | ১১ মে ২০২৩ | ৮১২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সমরেশ মুখার্জী | ১০ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:৩৬524454
  • এই লেখাটির কিছু অংশ মনে দাগ কাটলো
    ১. প্রিন্সেস - কখন আমরা বলতে পারি আর কোন কাজ বাকি নেই? উই হ্যাভ এমারজড? আমার তো মনে হয় আমরা সবাই সব সময় উন্নয়নের চেষ্টাই  চালিয়ে যাই। 

    ২. হীরেন‌বাবু‌ - উন্নয়নের কতকগুলো স্তর থাকে তো, কেউ দশ পা এগিয়ে গেছে, কেউ সবে শুরু করেছে।

    ৩. প্রিন্সেস - "লেট আস অল কিপ অন এমারজিং!"

    ৪. হীরেন‌বাবুর ভাবনা - রাজ পরিবারের মানুষদের বুদ্ধিমত্তা সম্বন্ধে কখনো উচ্চ ধারণা ছিল না। প্রিন্সেস অ্যান  সেটি বদলে দিলেন।

    এই প্রসঙ্গে মনে পড়লো:

    ৮২ সালের শীতকালে দেওঘরে গেছি একমাসের সার্ভে ক‍্যাম্পে। এক গপ্পোবাজ স‍্যারের সাথে ফিল্ড ওয়ার্কের পর সন্ধ্যায় ক‍্যাম্পে ফিরে গল্প হচ্ছে। কোনো প্রসঙ্গে বলেছিলাম - অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ‍্য, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব‍্যবস্থা - এগুলি মানুষের কিছু Basic Needs. এগুলি মোটামুটি‌ভাবে যদি সরকার দান, খয়রাত করে ভিখারী না তৈরী করে, সম্মান‌জনক উপায়ে সংস্থা‌নের ব‍্যবস্থা করতে পারে‌ন, তাহলে দেশবাসীর সরকারের প্রতি ক্ষোভ, বিদ্বেষ, অনাস্থা কম হয়। বাকিসব Aspirational Desire. যে যার যোগ‍্যতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী হাসিল করবে। তার জন‍্য যতটা সম্ভব Level Playing field এর ইকোসিস্টেম থাকতে হবে। যদিও dividing line between need & desire may be invisible.

    স‍্যার বললেন, তুমি কিছু Define করে নিজেই সেটা Defy করলে। মানুষের স্বভাবের ক্ষেত্রে এটা‌ই বাস্তব সত‍্য - মাথায় ছাদ, পেটে ভাত না থাকলে যা কিছু Desire বলে মনে হয়, সেসব পেলে ঐ Desire গুলি‌ও ক্রমশ Need বলে গণ‍্য হয়।

    তাই প্রিন্সেস যখন বলেন "লেট আস অল কিপ অন এমারজিং!" - সেটা কেবল Supply side perspective নয় - Demand side perspective থেকেও সত‍্য, কারণ মানুষের aspirations keep changing.

    তাই রিলায়েন্সের কর্পোরেট ফিলোসফি‌ - Growth is life. যারা বলে যাচ্ছে Unsustainable Growth is CANCER - তাদের কথা শোনার কেউ নেই।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন