
মনোবিকলনের দিকে যাওয়া প্রভূত সাড়াশীল / কেননা সময়, পরিযায়ী সময়, সেই তো উড়িয়ে আনলো ... ...

আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের পুজো বলে ঠাকুর দালানে পুজোর কাজে সাহায্য করার লোকের অভাব হয় না। পিসিমণি বা বড় দিদিরা ঠাকুর দালানে বসে ফল কাটা কুটি করে – আর ওপাশে কম বয়েসীরা ফুল ইত্যাদি দিয়ে মালা গাঁথে, চন্দন বাঁটে বা বেল গাছের ডাল থেকে সুন্দর করে নরম দেখে তিনটি করে বেলাপাতা গুলি সাজিতে সাজিয়ে রাখে। চন্দন দুই প্রকারেরই থাকে – শ্বেত এবং রক্ত চন্দন। আর বলাই বাহুল্য ঠাকুরের জিনিসে যারা হাত দেবে তাদের অবশ্যই স্নান করে কাচা জামা কাপড় পরে আসতে হবে। হাসি, ঠাট্টা, গল্প করতে করতে কাজ হয়। ছোট বেলায় এই দালানে খুব একটা বসে থাকার সময় থাকত না এই সময় – কিন্তু বড় হয়ে বিদেশ থেকে ফিরে গেলে এমন সময়টাই খুব সদব্যবহার করা যেত সবার সাথে ক্যাচ-আপ করার জন্য। ... ...

অবাক না হলে কি আর প্রশ্ন জাগে? অবাকের নেপথ্যে থাকে এক রকমের ভ্রান্তি, আর তাই বোধ হয় দুর্গা মন্ত্রে ও স্থান পেয়েছে ভ্রন্তি। কয়েক দিন পরে দুর্গা পুজো, এই মন্ত্র উচ্চারণের আগে একবার ঢুঁ মেরে আসি চলুন ভ্রান্তির আঁতুড় ঘরে ... ...


জলের গঠনে যেটুকু শ্বাসের পরিধি / একটু একটু ক'রে চুষে নিচ্ছি ... ...

আমি তো অহং মাত্র। তল তন্ন সংগ্রাহক। ফুল-ফুলকি,গন্ধ-সুগন্ধ ছড়িয়ে দেখি, ফিকে একটা চাঁদ উঠেছে আকাশে। ... ...

১৪শ শতক হচ্ছে ইউরোপের মধ্যযুগের শেষ শতক। দুর্ভিক্ষ, প্লেগ মহামারির মত নানান বিপর্যয়ে এই শতাব্দি পরিপূর্ণ। এই শতাব্দীতে জনসংখ্যার হ্রাসের ফলে ইউরোপের কৃষি, বাণিজ্য, শিল্পোৎপাদন সব কিছুতেই বিপর্যয় নেমে আসে। কিন্তু এই বিপর্যয়ের মাঝেই হয়তো আধুনিক যুগের উত্থানের বীজ নিহিত ছিল। এই বিপর্যয়ের প্রভাবের পতন ঘটে তদকালীন সামন্ততন্ত্রের। প্রচুর কৃষক-শ্রমিকের মৃত্যু ঘটলেও যারা বেঁচে যায় তারা হয়ে ওঠে আগের থেকেও বেশি স্বাধীন, জীবনযাত্রার মান হয় আগের থেকেও উন্নত। এই শতাব্দীর বিপর্যয় আবার প্রভাবিত করেছিল পরের শতকের সমুদ্রযাত্রা, ভারত আবিষ্কার ও এর সাথে বাণিজ্যকে। সব মিলে পৃথিবীর ইতিহাসে এই শতাব্দীর গুরুত্ব অনেক। তাই ইউরোপের ১৪শ শতক সম্পর্কে জানতে চাইলে এই নিবন্ধটি পড়ুন (আগাম সতর্কতা - এই লেখায় সাহিত্যরসের ঘাটতি আছে)। ... ...

সম্প্রতি এই বছরের পদার্থ বিদ্যায় নোবেল পুরষ্কার ঘোষণা হয়েছে। কৃষ্ণ গহ্বর নিয়ে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্বশ্রুত গণিতজ্ঞ রজার পেনরজ, অ্যান্ড্রিয়া গেজ এবং রেইনহার্ড গঞ্জাল এই বছরের নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন।....... নোবেল প্রাইজ তিনি পাননি, কিন্তু এই বছরের পদার্থ বিদ্যার নোবেলের সাথে জড়িয়ে গেছে আদ্যপান্ত এক বাঙালি অধ্যাপকের নাম। অমল কুমার রায় চৌধুরি বা ছাত্রদের AKR। কিন্তু কেনও? কি করেছিলেন তিনি? ... ...

সময়টা ২০০২। তখন কলেজের বেশ কয়েকজন বন্ধুবান্ধবের মতো আমিও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর এম.বি.এ. করার কথা ভাবছি। চাঁদা তুলে পোস্টাল কোচিং-এ এনরোলমেন্ট, জেরক্স করে স্টাডি মেটিরিয়াল ভাগ করা, দল বেঁধে পেপার সলভ্, গ্রুপ-ডিসকাসন চলছে। ... ...

"ব্যবসা চলে না একেই, নিজের সংসার চালাতে...ছিঁড়তে হয়, আবার টাকা ধার দেবে। তোমরা মেয়ে মানুষ, আর কিছু না হোক শরীর বেচে খেতে পারো। আমরা পুরুষরা কি বেচে খাব?" ... ...

এমনিতেই আমার স্বপ্ন সবসময়ই অদ্ভুত সিনেম্যাটিক হয়। তার ওপর বহুদিন পর অন্ধকার থাকতে থাকতে চোখ বুজতে পেরেছি। ব্যাস আর যায় কোথায়!! এই ঘন্টা তিনেক ধ'রে আমি ইস্কুলে ইস্কুলে গিয়ে সাইকেল চুরি করে বেড়াচ্ছিলাম। তাও গাড়ি নিয়ে। গাড়ির ডিকিতে প্রচুর খাবারের প্যাকেট ছিল। সেটাতে পরে আসছি। আমার তিনজন পার্টনার ছিলো সাথে। একজন কে সেটা মনে পড়ছেনা। এছাড়া ছিলো কাজু আর সুফি। সুফি একটু বড়। তিনি ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে পা দোলাচ্ছিলেন। ... ...

লৌহ স্তম্ভ কেন ক্ষইছে না তা খুঁজতে গেলে কি কি জিনিস টার্গেট করবে গবেষকরা? প্রথম ধারণা করা হবে যে আবহাওয়ার একটা ব্যাপারটা আছে। মানে যেখানে এই স্তম্ভ খাড়া ছিল আগে এবং এখন দিল্লিতে, সেখানে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা কি স্তম্ভের জন্য ভালো ছিল? অর্থাৎ বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশী নেই – শুকনো বাতাস! যেই কারণে দীঘার হোটেলের বারান্দার গ্রীল কলকাতার হোটেলের গ্রীলের থেকে অনেক বেশী তাড়াতাড়ি ক্ষয়। দ্বিতীয়ত, সেই প্রায় ষোলশো বছর আগে যারা বানিয়েছিল ওই স্তম্ভ তারা কি ধাতুর সাথে অন্য কিছু স্পেশাল মিশিয়েছিল? তৃতীয়ত, ধাতুর সাথে বানাবার সময় কিছু না মেশালেও পরে কি স্তম্ভকে সুরক্ষা দেবার জন্য তাতে কিছু্র প্রলেপ বুলিয়েছিল? ইত্যাদি ইত্যাদি। ... ...

সুফি আজকাল লোকনাথ বাবার স্টাইলেই বেশিরভাগ সময় বসে থাকেন। বসেন লোকনাথ বাবার মতো কিন্তু শয়তানি বুদ্ধি লুসিফারের মতো। আমি প্রায়ই ওর অত্যাচার আর সহ্য করতে না পেরে বলি, বেরিয়ে যা ... ...

হাতে আসা একটি বই পড়ার সুত্রে আসা কিছু ভাবনা। প্রধানত, যূথবদ্ধতার প্রতি আমাদের সামাজিক আকর্ষণ এবং কিভাবে তা পালটে যাচ্ছে প্রযুক্তির হাওয়ায় -- এই সব নিয়ে আপাত বিচ্ছিন্ন কিছু চিন্তাভাবনা। ... ...


অতিমারী সম্পর্কে যেমন আমরা ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি, তেমনি বোধ হয় এই সংক্রান্ত আলাপ আলোচনাতেও উৎসাহ কমতে শুরু করেছে, যদিও চিন্তাভাবনার কারণ ও প্রয়োজন মোটেই কমে নি। এইসব তাৎক্ষণিক লেখালেখি আর তর্ক-বিতর্কের একটা প্রধান অংশ হল স্বাস্থ্যপরিষেবা ও চিকিৎসাবিজ্ঞান। অন্যদিকে রয়েছে অর্থনীতি, যার প্রভাব প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ, বর্তমানে এবং দীর্ঘস্থায়ী আগামীতে। এই অতিমারীর দিনগুলোতে ফুটে উঠেছে আরো অজস্র সামাজিক দিক- মানুষের গ্রহণ, বর্জন, পাশে থাকা আর না থাকার গল্প। আমরা যদি আমাদের এতোদিনের কৃতকর্ম আর ভবিষ্যতের আতঙ্কের কথা একটু গভীরভাবে ভাবি, তাহলে কোভিড সমস্যার আরেকটি দিকও স্পষ্ট দেখতে পাবো। ... ...

তোমার কথা আমার কথা বললে জোরে শুনবে লোক; ভারত চালায় আম্বানি আর মৌলবাদী আহাম্মক। ... ...

বিজ্ঞান ও যুক্তির সত্যসন্ধানী ভাবমূর্তিতে নাকি আজকাল একটু কালির ছিটে লেগেছে, ও সব নাকি আসলে ততটা ‘সত্য’ নয়, যতটা পশ্চিমী মগজ-ধোলাই। ও হচ্ছে এশিয়া, আমেরিকা আর আফ্রিকার প্রাচীন জ্ঞানকে দাবিয়ে রাখা আর অস্বীকার করবার হাতিয়ার, পশ্চিমী জ্ঞানকেই একমাত্র জ্ঞান বলে বাকি পৃথিবীর ওপর চাপিয়ে দেবার ষড়যন্ত্র। এই কারণেই নাকি আধুনিক যুক্তিবাদ, বিজ্ঞান আর তারই উপজাত আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগে যুদ্ধ-বিগ্রহে, মানুষকে দমিয়ে রাখতে, নির্বিচারে পরিবেশ ধ্বংস করতে। কাজেই, এ হেন খারাপ জিনিসের জন্ম ও বাড়বৃদ্ধি যে এশিয়া আর আফ্রিকার উপনিবেশগুলোকে শোষণ না করে সম্ভব হতে পারত না, তাতে আর সন্দেহ কী ? আধুনিকতা ও পাশ্চাত্যের রোমান্টিক বিরোধিতার এই ফ্যাশনেব্ল্ বয়ানটি বিশ শতকের সাত থেকে নয়ের দশক পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক্স-এ খুব চলত। আজ তার সুদিন গিয়াছে, তবু আজও অনেকে নিয়মিতই এ নিয়ে ফেসবুকে চর্বিতচর্বণ করে থাকেন। ভারতের মত এক সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ইংরেজের হাতে দখল হয়ে যায়, আর, মোটামুটি ওই একই সময় থেকে ব্রিটেন-এ শুরু হয় শিল্প-বিপ্লব, অতএব সেটা নিশ্চয়ই ভারত থেকে লুঠ করা টাকাতেই সম্ভব হয়েছিল, এ রকম একটা ধারণা অ্যাকাডেমিক পণ্ডিত থেকে শুরু করে সাধারণ পড়ুয়া মানুষ অবধি অনেকেই পোষণ করে থাকেন। কিন্তু, কথাটা কি সত্যি ? মানে, যে ভাবে বলা হয় ওভাবেই সত্যি ? ... ...

করোনার আম্ফান পরবর্তী দিন ... ...
