• হরিদাস পাল  কাব্য

  • বিভাব

    Avi Samaddar লেখকের গ্রাহক হোন
    কাব্য | ১৬ অক্টোবর ২০২০ | ২০০ বার পঠিত
  • ৩.৩/৫ (৩ জন)
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • বিভাব

    -------



     

    ১.

    আমি তো অহং মাত্র। তল তন্ন সংগ্রাহক। ফুল-ফুল, গন্ধ-সুগন্ধ ছড়িয়ে দেখি, ফিকে একটা চাঁদ উঠেছে আকাশে।  যার তলে ওই যে দূরে রাধেশ্যামমোড়,ওই যে দূর্বাদল ছায়ামাঠ, দূর সুতোয় সম্পর্ক বুনে দিচ্ছে। বুনে দিচ্ছে তরল পথের জোনাকি গুঞ্জন। দেখো সে পথ ধরেই ফিরে আসছে আতস নীচের একার্ত । সে পথ ধরেই আত্ম- আত্মন্, মন-মর্মর কথা তুমুল করি।  অথবা বীজরোপণের দিনে যে নীরযাপন, তার ইলশেগুঁড়ি আতিথ্যে পাখিদের বলি, যাও পাখি, দানের কৌশলে যে আলোদানা ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি, তার রোদ-রোদন,বিষয়-বিষন্ন খুঁটে নাও, খুঁটে নাও অক্ষরে আলতো পাথরের মনোধ্বনি!


     

    ২.


     

    তুমি কি মন্ত্রেই জেগে ওঠো, হে বলার বৃন্তে  বৃন্তে যে ঊর্ণাজাল জড়িয়ে ওঠে পথে বিপথে যে আকুল গুল্মফুল রং ছড়িয়ে দিচ্ছে তার অন্তরতম কি তবে!  আমারই তম তমের অাধার কি। মন মিঠানিমের আড়ালে আড়ালে আমি কে। কেন জল জলের ধর্ম নিয়ে এতো নিশি ডাকে। কেন সুর সুরের বাহিকা হয় একটি ভাঙা পাপড়ির তলে বিজন হৃৎ।  বলো ঢেউ কেউ কেন কবিতা লেখে কেন কেউ... লিখে যায় অযুত নিযুত ভাঙা শিখাটির আলোগাথা...


     

    ৩.



     

    টুপ শব্দে যে চলার আধার, তার মনকুড়ানি দিনগুলোতে আবার আমাদের দেখা হোক হে প্রাচীন দূরের ঝাপসা।  আমি তো গানেই গলে যাই, শ্রাবণে শীর্ণ হই। যখন পূর্ণতাঅঞ্চলে আমার কোন

    পদছাপই পড়লো না, তবে এই অপূর্ণ নুড়িরেখায় যে কুড়িগ্রাম তার অশত্থের নীচে এসো আমরা বসি।  এই শ্যামল অবশেষ প্রহরে। সহোদর লাইনের ফাঁকে ফাঁকে যে বেদন, ধ্বনি পেল না সেই কথা বলো আজ হে অবসিত

    বলো প্রাণ এতো কেন শাণিত উথাল

    বলো মন আজো কেন মনের মেরুপাখি !



     

    ৪.



     

    শাল তো ছিলই। আর ছিল অাঁধার উটকো লোকজন।  যারা কিছু বোঝার আগেই এসে বসতো ঋতুজলসিক্ত ধারায়।  আর গ্লাসে গ্লাসে বাড়িয়ে দিতো সন্ধ্যার শিরিষে মোড়া মজুরি। যেন এক আনন্দপাঠে ভ'রে যেতো অন্ত পাঠশালা।  ঝিরিঝিরি রাতের  মাদলে মহুলে কে যে কার অধিক সখা, কে যে কার স্বল্প বর্ণচোরা, বোঝাই দায়। যেন বোঝাটি কেউ হাতে নিয়ে চাকতির মতো ছুঁড়ে দিত আকাশে।  ওই দেখ্ হুই দেখ কি গোল চাঁদ উঠেছে আজ গগনে.... কি যে লগন বয়ে যেতো...ফকিরির বরষণ দিনে



     

    ৫.



     

    সেতু কই !  শুধু জোড়ার ধারণায় ভাষার গঠন এতো যুক্তিশীল হয়ে পড়ে আছে যে, ফুল যে আহতফুল, অন্তরায় তার ব্যথা কেউ বুঝলোই না!  শুধু সমে এসে শান্তিটুকু খোঁজার ছলে, চিৎছায়া পাথরে প্রণাম রেখে যায় লোকে। ভাবে এই তো ঈশ্বর! এই এই পরমার্থ সকল। শুধু অস্তিগুঞ্জনে ঝিঁঝির ঝিঁঞ্ঝন ঝরে যায়। জোনাকিও আর বিস্ময় নয়, বিস্মরণের মুঠো বালি সারাদিন ঝরে...বোধের পারদে ঝরে সকল উৎস


     

    আহা মক্শো নেমে আসো ধরাতলে!


     

    ৬.

    বলো প্রান্তর । তোমার প্রান্তে প্রান্তে যে বনরেখা। তার তুতো উদাসটি কেন সতত নিসর্গ হয়।  বলো মন দ্বিধার দোদুল ছেড়ে বলো কে সঙ্গে ছিল ওই ছায়াবনপথে। কেন সাদা পাতার বিক্ষোভ বহন করো রোজ। ঐক্য কি একলার গান! যা জোনাকি সঞ্জাত আলোবিন্দু,যা অস্তিত্বের থেঁতো হলুদবর্ণ, যা মর্ম ও মেথির লীনবোনা সান্ধ্যাতাঁত, বলো তাই কি কবিতা! বলো কবিতা এই হৃৎআঁচড়ের সব দাগই কি তুমি!  তোমার গর্ভাধান কেন এতো চুপমোচড় ধরে রেখেছে অন্দরে। অন্তরের আগল খুলে কে তোমার সঙ্গেী হয় বলো প্রাণ!


     

    ৭.

    সান্ধ্যমাতা! এ ছলনা ছলাৎ অভিধানে তুমিই নিয়ে এসেছো আর পথিকে মুড়ে ছেড়ে দিয়েছো চরাচরে।  সেই থেকে মর্মকে মেথি কথ্যে লিখে যাচ্ছি চল বিচ্ছিন্ন পংক্তিমালা। অথচ তুমি তো সংযোগসেতু, সন্ধিসংগীত!  দিবস ও রাতের একাত্মে তোমারই ধ্বনিত সুর নির্যাস হওয়ার কথা ছিল লিখিত সর-এ। তবু দূর কেন যে দূরের মর্মর ঝাপসা করে আমাকে প্রতিবার। নিয়ত নিয়তি খুকুর অলক্ষ্য আদর করে রাখে! ভাবতে ভাবতে তোমারই আবর্ত দারু গ্রহণ করি জন্মনাভির জখম গুনে গুনে…

  • বিভাগ : কাব্য | ১৬ অক্টোবর ২০২০ | ২০০ বার পঠিত
  • ৩.৩/৫ (৩ জন)
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন