• হরিদাস পাল  কাব্য  তর্জমা

  • অনুবাদ কবিতা

    Avi Samaddar লেখকের গ্রাহক হোন
    কাব্য | তর্জমা | ২০ অক্টোবর ২০২১ | ৭৮ বার পঠিত
  • ভাঙা কিছু,  ছড়ানো কিছু
    ------------------------------
     
    শেমশের বাহাদুর সিং
     
    ছেঁড়া ছড়ানো চায়ের
    দলা পা'য়ের নীচে
    পাতারা 
    আমার কবিতা
     
    চুল, ঝরে পড়া, নোংরায় রুখু, এখানে সেখানে 
    তবু গর্দানে চিটে থাকা
    এমনি আমার ভাবনা
    আমার থেকে আলাদা রূপে, মাটিতে
    মিশে আছে
     
    দুপুরের রোদ ছায়ায় অপেক্ষারত ঠেলাগাড়ির
    মতন আমার পেশি
    খালি বস্তাগুলো রিফু করা হচ্ছে..যা
    আমার চোখের শূন্যতা 
     
    শীতও এক হাসিরেখায় দাঁড়িয়ে 
    সেও আমারই বন্ধু। 
     
    কবুতরগুলি একটি গজল গুনগুনিয়ে উঠল
    আমি বুঝে উঠতে পারিনি, তার রদীফ-কাফিয়ে কেমন ছিল
    এতো ন্যূন মাত্রার, এতোটা হাল্কা, এতোই মিঠা
    সে যন্ত্রণা। 
     
    আকাশে নদীবালি আয়নার মতো কেঁপে উঠছে। 
    আমি তাতেই কাদার মতো ঘুমিয়ে আছি
    আর চিকচিক করে উঠছি কোথাও...
    কি জানি কোথায়।
     
    আমার বাঁশিটি একটি নৌকার স্টিয়ারিং-
    যার স্বর ভিজে গেছে
    ছপ-ছপ-ছপ আমার হৃদয়ের গতি...
    ছপ-ছপ ছপাৎ
     
    সেই দোকান আমিই খুলেছি যেখানে 'পয়জন' লেবেলে 
    ওষুধের শিশিগুলি হেসে ওঠে 
    ওদের ইনজেকশনের ঝুঁটিতে ভালোবাসা চিপকে আছে। 
     
    ও আমাকে দেখে হেসে উঠছে, যে আমার ঠোঁটে এক ক্ষীণরূপে দাঁড়িয়ে আছে 
    কিন্তু তার চুল আমার পিঠের নীচে চাপা পড়ে আছে 
    আর আমার পিঠে সময়ের মৃদু তারের নখে
    খামচে দিচ্ছে। 
     
    আমাকে তৃষ্ণার পাহাড়ে শুইয়ে দাও যেখানে 
    এক ঝর্ণার মতো ছটপট করছি। 
    আমাকে সূর্যের আলোতে পুড়তে দাও-
    যাতে আঁচ আর শিখায় তুমি
    ফোয়ারার মতো নেচে ওঠো। 
     
    আমাকে জংলি ফুলের পাপড়িতে ওস-এর মতো টুপ ঝরে পড়তে দাও
    যাতে ফুলের চাপা পড়ে থাকা সুগন্ধি আমার পলকের 
    ঘুমের জ্বলন তুমি ভিজিয়ে তুলতে পারো,যদি সম্ভব হয়। 
    হ্যাঁ, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলো,যেমন আমার দরোজার লজ্জিত জোড় 
    বারবার প্রশ্ন করে ওঠে..আমার বুকের 
    অগনন কামরাগুলির সাথে। 
     
    হ্যাঁ, তুমি ভালোবাসো আমাকে যেমন মাছেরা তরঙ্গকে ভালোবাসে
    যেখানে ওরা ফেঁসে যেতে আসে না
    যেমন করে হাওয়া আমার বুকে ধাক্কাপ্রেমে
    জেগে ওঠে 
    তবুও যাকে অতল তলে দাবিয়ে রাখতে পারে না
    তুমি ভালোবাসো আমাকে যেমন আমি বাসি। 
     
    আয়না, রোশনাই-এ একাত্ম হও আর আকাশে
    আমাকে লেখো আর পড়ো। 
    আয়না, হেসে ওঠো আর মারো আমাকে। 
    আয়না, আমিই তোমার জীবিত প্রতিবিম্ব। 
     
    একটি ফুল ভোরছোঁয়া হো হো হাসি পরে 
    রাতের কালো কম্বল সরিয়ে
    আমার শরীরে লীন মেখে নিল। 
     
    তাতে কাঁটা ছিল না- শুধু খুব কালো
    দীর্ঘ একটা চুল যা মাটি অব্দি ছড়িয়ে দিয়েছিল এক ছায়া
    যেখানে আমার পদক্ষেপ হারিয়ে গিয়েছিল। 
     
    সেই ফুল নক্ষত্রদের মুক্তো চিবিয়ে
    নিজের পাপড়িতে মেখে ঝরে পড়ল
    আমার জীবিত আতরদানিতে। 
     
    আর তখনই আমি দেখলাম আমি শুধুমাত্র একটি শ্বাস, যা ওই টলটলে বিন্দুটিতে রয়ে গেছি
    যা তোমার বুকে ফাঁস হয়ে স্বপ্নে আটকে আছে 
    টনটনে এক মিহি যন্ত্রণায়। 
     
    আমি তাঁর হাঁটুমোড়ায় কোনো প্রার্থনা হতে পারিনি, 
    কেননা আমার ঝুঁকে পড়ার আগেই 
    তাঁর পা'য়ের গন্তব্য আমার চেয়ে থাকার অংশটুকু নিয়ে 
    কোথায় যেন হারিয়ে যায়। 
     
    যখন তুমি এলে, এক খোলা ছেঁড়া চিঠি 
    তোমার হাতে উঠে এল। 
    তাকে উল্টে পাল্টে দেখলে—ওতে কিছুই ছিল না 
    তুমি ছুঁড়ে দিলে—তখনই নিচে পড়ে থাকা আমি
    তোমার কাছে 'আমি' প্রতিভাত হয়ে উঠল। 
    তুমি তা কুড়িয়ে নেওয়ার জন্য ঝুঁকেও ছিলে-
    কিন্তু কিছু একটা ভেবে ওখানেই  ছেড়ে দিলে। 
    আমি এভাবেই তোমাকে পেলাম। 
     
    আমার স্মৃতি-খপ্পরগুলিকে তুমি অপরাধী করে তুলেছ-আর তার সুদ বাড়িয়ে আমার থেকে উসুল করেছ পীড়া। তখনই আমি বলে উঠেছি 
    আগামী জীবনে। আমি এমনভাবে হেসে যাব যেভাবে
    সন্ধ্যার জলে ডুবতে থাকা পাহাড় বিষাদ-ভূমিকায় হেসে ওঠে। 
     
    আমার কবিতা তুমি নিজেই প্রশংসা করেছিলে-
    আসলে তাতে তুমি নিজের কথাগুলো শুনিয়ে যাচ্ছিলে। 
     
    তুমি আমাকে যে রং-এ রাঙিয়েছ, আমি সেই রং
    আর যখন তা ফুটে ওঠেনি তুমি তা জ্বালিয়ে দিয়েছ।
    সেই দাউদাউ তুমিই প্রত্যক্ষ করে যাও। 
    এ ঘটনও আমার ভালো লাগা ছুঁয়ে থাকে। 
     
    একটি সুগন্ধি যা আমার পলকে ইশারার মতো আটকে থাকে, যা তোমার নামের ছোট্ট এক বানান,
    এক ছোট্টছোঁয়া প্রেম,তির্যক বানান। 
     
    আহ্, তোমার দাঁতে দূর্বাঘাসের ছোট্ট শীর্ষ 
    সেই পিকনিকে যা চিপকে ছিল 
    আজ পর্যন্ত আমার ঘুমে দুলে ওঠে। 
     
    যদি আমি ঈর্ষা টোনে কিছু হয়ে উঠতে চাইতাম 
    তবে বারবার, প্রতিটি ঘন্টায় এক একটি জন্ম নিতাম 
    কিন্তু আমি তো এই শরীরমাত্রায় অমর-
    তোমারই ইচ্ছাধীনে। 
     
    বহু তীর বহু নৌকা, বহু পার এদিকে উড়তে উড়তে এলো, ঘুরে ঘুরে পেরিয়েও গেল আমাকে নিয়ে,
    সব সমস্তকিছু। 
    তুমি ভেবেছিলে তুমিও আছো। না, না, না। 
    সেই যাত্রায় কেউ ছিল না। শুধুমাত্র ঘটিত কিছু
    দুর্ঘটনা ও ঘটনার উদাস রংমোড়া ছিল কিছু। আর কিছু না।

     

  • বিভাগ : কাব্য | ২০ অক্টোবর ২০২১ | ৭৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন