বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  গপ্পো

  • আলেয়ার আলো 

    Arundhati Sarkar Santra লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৭৩ বার পঠিত
  • মাস্টারমশাই বললেন, ‘তোমার জাত ব্যবসায়ে এভাবে তো কেউ ভেবে দেখে না নরেন। তাই তোমার কথাটা সবার কাছেই নতুন ঠেকছে বটে।’
    নরেন বললে, ‘কিন্তু সবাই যদি সেই একই রকম ভাবে চলতে থাকে, তবে তো আর সমাজটা কোনদিকেই গড়ায় না মাস্টারবাবু। এখন নতুন দিনের আলো এসে পড়ছে, অনেকেই সেই আলোর পথ ধরে এগোচ্ছে। আমরাই বা পিছিয়ে থাকব কেন?’
    সুন্দর পাশ থেকে বললে, ‘তুই তো ছেলেবেলা থেকেই গাঁয়ে ছিলিস না। এদের তুই চিনিস না মোটে, সব সামনে কাজ গোছানোর জন্য তেল দেবে, আর পিছনে গিয়ে সেই বাঁশ ।’
    নরেন হেসে ফেলে জবাব দেয়, ‘সে অভাবে স্বভাব নষ্ট, ঐ অভাবটাকেই দূর করতে একটু সাহায্য করছি। খুব বেশি কিছু তো নয় আমার মতো করে, একটু আধটু। এতে আমার কোন ক্ষতি না হয়ে, কারো যদি উপকারে লাগে সেটা অবশ্যি করব।’
    বন্দিপুর গ্রাম খুব বড় বসতি নয়। তবে বেশ কয়েকঘর সম্পন্ন গৃহস্থ রয়েছে, গ্রামে একটি স্কুলও রয়েছে। গাঁয়ের চণ্ডীমণ্ডপটা বুড়োদের মৌরুসিপাট্টা। তাই পড়তি বিকেলের মরা আলোয়, মল্লিকদের পুকুরের বাঁধাঘাটে, মাঝবয়সীদের পুরুষদের আড্ডা বসে। দুটো রসের কথা, ধোঁয়ায় একটু সুখটান এখানে সবই চলে। চণ্ডীমণ্ডপে বুড়োদের সামনে সেই সুবিধা নেই। তাই এই পুকুরঘাটের মজলিশটায় মাঝবয়সীদের ভিড়। আজ নরেনের ব্যবসার কথাই হচ্ছে।
    নরেনের বন্দিপুরের স্বর্ণকার।
    তবে বেশীদিন সে গ্রামে আসেনি। বাপ মরে যেতে মা’র সঙ্গে সেই যে মামার বাড়ি গেছিলো, এখন একেবারে বিয়ে থা করে ফিরে এসে এখানেই থিতু হয়েছে। মামারা কিছু মূলধন দিয়েছে তাই দিয়েই বাপের জাত ব্যবসাই শুরু করেছে সে। কিন্তু মনটা তার বড় নরম। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে তাদের প্রয়োজনে বিনে সুদে টাকা ধার দিয়েছে। তাই নিয়েই আজকে কথা হচ্ছিল। বিপিন বললে, ‘সে সুদ না নিস, শুধু হাতে যেন আবার টাকা দিস নে। কিছু বন্ধক রেখে টাকা দিস তবে শোধ দেবার চাড় থাকবে। নইলে সবই ভোগে চলে যাবে।’     
    দাসেদের পতুটা ঘাটেই দৌড়ে এসেছিল। পতু বললে, ‘নরেনকা অনন্তর বোনটার জ্বর মাথায় উঠে কেমন ভির্মি খেয়েছে। ওকে বুঝি এখনই শহরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে’
    নরেন, বিপিনরা তাড়াতাড়ি অনন্তর বাড়ির পথে পা চালাল।
     
    বড়ি দিয়ে নটেশাকের ঘণ্ট, কালোজিরে কাঁচালঙ্কার ফোড়নে মটর ডাল, ট্যাংরা মাছের ঝাল আর আমড়ার টক।
    এই রান্নাই করেছে আজ সুরমা। টানাটানি লেগেই  থাকে সুরমার সংসারে। চাল ডাল ধার করতে না হলেও সংসারের চাকা যে খুব গড়গড়িয়ে চলছে তাও নয়। তারমধ্যে তার স্বামীর এক সব্বনেশে নেশা ধরেছে। পরের লোকের উপকার করার নেশা। এই তো আজ সকালেই সদুপিসি এসেছিল। তার মুখেই শুনলে সরমা, পালপাড়ার এক গরিব বিধবার মেয়ের বিয়ের গয়নার দায় নিয়েছে তার স্বামী।
    -‘তিনকাল গিয়ে এককালে ঠেকল নতুন বৌ, এমনতর ছেলে আগে দেখিনি বাবা। যেখেনে জল পড়চে সেখেনেই ছাতা ধরচে, ভগমান ওর ভালো করুক।’ সদুবামনি আকাশের দিকে দুহাত জড়ো করে বলে।
    সদুপিসি মনসাপাতায় ভালো কাজল তুলতে পারে। তাই দিতে এসেছিল সরমার মেয়ের জন্য। হাতের পেতলের পিতপিতে কাজললতাটা ধরে সরমা বলে, ‘সেই আশিব্বাদই করবেন খুড়িমা।’ মনেমনে ভাবে মেয়ের জন্য একটা রূপোর কাজললতার বড় শখ ছিল। কিন্তু অভাবের রোজনামচায়, সেই শখ দীর্ঘনিঃশ্বাস হয়ে কখন মিলিয়ে গেছে সংসার বেনোজলে। অথচ এইসব পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে দান ধ্যান ঠিকই চলছে।
    ‘বসুন না খুড়িমা’, কড়াতে জল ঢেলে,  আলগোছে আসনটা এগিয়ে দেয় সরমা।
    ‘না মা, তুমি ঘরের কাজ শেষ করে নাও, আমারও ছিষ্টির কাজ পড়ে রয়েছে। এই শেষবেলায় তোমার খুড়ো এতো কুচো মাছ নে এলো’ সদুবামনি বিড়বিড় করে আপন মনে বকতে বকতে চলে যায়।
    নরেনেরও চানের সময় হয়ে গেল। সে এখুনি এসে পড়বে। সরমা হাতের কাজ শেষ করে কুয়োতলায় তেলের বাটি, গামছা গুছিয়ে রাখে।
    বাড়ির লাগোয়া জমিতেই  সদরের দিকে একটা ঘরে নরেন স্যাকরার দোকান।  
    নরেন চান করতে ভেতর বাড়িতে এসে, একটু ইতস্তত করে বললে, ‘ঐ যাহ্‌, আজকে যে বলতেই ভুলে গেছি। বদিটা সেই সকাল থেকে এসে বসে আছে। আজকে ও এখেনেই দুটো ভাত খেয়ে নিক। কি বলো?’
    সরমা বলে, ‘নেয়ে নিয়ে একসাথেই বসে যাও তবে।’ নরেন কুয়োতলায় নাইতে চলে যায়।
    কঠিন কথা বলার স্বভাব নেই সরমার, সে এমনিতেই একটু চাপা। তাই সে স্বামীর মুখের ওপর বলে দিতে পারেনা যে, বদিকে আজ ভরপেট খেতে দিতে গেলে সরমার ভাগের মাছটিই তুলে দিতে হবে। ডালে জল মেশাতে হবে, হয়তো ভাতেও টান পড়বে। তার স্বামী নামেই স্যাকরা অথচ নিজেদেরই যে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তারমধ্যে আবার এইসমস্ত অতিথসেবা। সরমা ভাবে, নরেন তো অবুঝ নয়। সংসারের অবস্থাও অজানা নয় তার, তবু সে এমনি করে কেন?
    সরমা মনে মনে নিজের জন্য মুড়ি বাতাসা বরাদ্দ করে নরেন আর বদির থালায় খাবার বাড়ে।
     
    ঘরের পিছনদিকে যেখানে কলাগাছের সারি সেইদিকটা পূর্বদিক।
    ঘরে অভাব থাকুক বা না থাকুক,  ঐ দিক আলো করে প্রতিদিন সকালে সূর্য উঠবেই। দিনরাত তার নিজের ছন্দে চলতেই থাকে। বছর চার পাঁচ ওমনি কেটে যায়।     
    এখন নরেনের সোনারূপোর দোকান চলছে ভালোই। এখন একবেলা ছেড়ে, দুবেলাও মাছ জুটছে সকলের। মেয়ের রূপোর কাজল লতা জোটেনি বটে, কিন্তু অবস্থা ফিরতে গলায় একটা রূপোর বিছেহার তাকে গড়িয়ে দিয়েছে বাপ। পালা পার্বণে মেয়েকে সেই চকচকে বিছেহারটি পরিয়ে দেয় সরমা। আর সরমার গৃহিণীপনায় গোটা সংসারটাই যেন রূপোর মত চকচক করে।  
    তবে একটা সংসার থাকবে আর গোল বাঁধবে না এমনটা আজ পর্যন্ত ভূভারতে হয়নি।
    এখন গোল বেঁধেছে বদিকে নিয়ে। বদি এই বাড়িতে আর একবেলা খায় না, সে সম্বৎসরই থাকে খায়। বদির মা মরেছিল, বদি তখন দুগ্ধপোষ্য। তা মা মরতে বাপ বদির জন্য দুধ না এনে সৎমা নিয়ে এলো। তাতে অবশ্য বদির লাভক্ষতি কোনটাই হয় নি। সৎমার তিন চারটে ছেলেপুলের সঙ্গে বদিও চারটে খেতেও পেতো, ইস্কুলের খাতাবই জামাও জুটতো তার। বেড়ে উঠতে গেলে এর থেকে বেশি আর কি চাই? বড় হতে গেলে  একটু আদর ভালবাসাও লাগে। কিন্তু বদির সেটা জোটেনি। যাই হোক বয়ঃসন্ধিতে এসে বদির এক ভারি বদ অভ্যেস দেখা দিল। মেয়েমানুষের শরীরের প্রতি এক বিশ্রী ঝোঁক। সে যদি প্রেমপীরিত করে কাউকে ঘরে এনে তুলত তাহলেও হয়তো বিষয়টা এক রকম হত। ঐ বাপের ঘরেই আরেকটা পেট, ঠিক চলে যেত। কিন্তু বদির মনের অন্ধকারটা অন্যরকম। সে লুকিয়ে পুকুরঘাটে মেয়েদের চান করা দেখে। পথচলতি মেয়েশরীরের দুলুনি হাঁ করে গেলে। বেড়ার ফাঁক ফোকর দিয়ে কারো ঘরের মেয়েদের কাপড় ছাড়া দেখতে যায়। প্রথম প্রথম সমবয়সী ছেলেরা এই নিয়ে হাসি ঠাট্টা করত। মেয়েরা নিজেরাই গালি দিত। তারপর বদির বাপের কাছে নালিশ ও করলে কেউ কেউ। বাপ বদিকে বেধড়ক মারলেও। কিন্তু মা মরা ছেলেটাকে কেউ ভালো কথায় বোঝালে না, তার মনের মধ্যে এই বিদঘুটে স্বভাবের  জমাট আঁধারটা আরও জমে বসল। দুদিন বাদে আবার সেই একই কাজ, আর একই নালিশ। বদির বাপ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। একদিন রাগের মাথায় বদিকে ওর বাপ যখন বের করে দিলে, বোনগুলো বেজায় কাঁদলে; কিন্তু সৎমা ভালো করে দরজা এঁটে বসে রইল। এমন সুযোগ পরে আর পাওয়া যাবে না। পরে মৃত্যুশয্যায় বাপের চোখদুটো বদিকে খুঁজলেও, সৎমা সে কথা আর পাঁচকান করেনি ফলে বদিরও আর ঘরে ফেরা হয়নি। সে যাই হোক, এর ওর দুয়ারে ঘুরতে ঘুরতে বদি নরেনের দোকানে এসে কিছুটা থিতু হল।
    সরমা বললে, ‘তোমার কি কাণ্ডজ্ঞান কোনদিন হবে না? ঘরে তোমার মেয়েও সোমত্ত হয়ে উঠছে, ঐ ছোঁড়াকে কেউ সেধে ঘরে ঢোকায়?’   
    নরেন বলে, ‘ও তো ভিতর বাড়ির দিকে মোটে আসে না। আর যদি দোকানঘরের সামনে ও থাকে তবে বেশ একটু পাহারা হয় কিনা?  আর আমি দেখেছি হাতটান ওর মোটে নেই। শুধু দুবেলা খোরাকিতে এমন লোক তুমি পাবে কোথায়?’
    সরমাও যে ব্যাপারটা বোঝেনা তা নয়। নরেনের কারবার এখন বেশ জমেছে। সে বিনিসুদে টাকা দেয় বলে বন্ধকী কারবার তো খুবই রমরমা। আশেপাশের গাঁয়ের লোকও এখন নরেনের খদ্দের। তাই বন্ধকী জমাও কম নেই। সবাই কি আর সোনা রূপো বন্ধক দিতে পারে? কাঁসার থালা বাটি, পিতলের গাড়ু, ঘটি এসব দিয়ে টাকা ধারও নিয়ে গেছে কেউ কেউ। আর যারা বন্ধক দিতে আসে তারা যদি কখনও কিছু সোনারূপোর গড়ায় তখন এই নরেন স্যাকরার কাছেই আসে বৈকি। নরেনের হাতের কাজও ভালো। ব্যবসা বেশ ভালোই চলছে। একটা পাহারা দেবার লোক হলে ভালোই হয়। কিন্তু বদিকে নিয়ে একটা চিন্তা তো থেকেই যায়। ঘরে তার মেয়ে রয়েছে।
    এতো আলাপ আলচনার ফলে বদি পেটভাতায় রয়েই গেলো। সে নরেনের দোকানে ফাই ফরমাস খাটে, ব্যবসার কাজে নরেনের সঙ্গে গঞ্জের হাটে যায়। কখনো কখনো নরেনের সঙ্গে খদ্দেরকে দিতে যায় তৈরি সীতাহার, মান্তাসা, মাথার বাগান, নাকফুল। তবে নরেন তাকে শাসিয়েই রেখেছে একপ্রকার, পুরনো রোগ মাথাচাড়া দিলে কিন্তু এখানে তার আর ঠাঁই হবেনা। গত কয়েকবছরে সেসব দোষ দেখা দেয়নি। নরেন এখন বদির ওপর অনেকটাই ভরসা করে।
    সরমা তবে বদিকে মোটে ভিতরবাড়ির দিকে ঘেঁসতে দেয়না। 
    কোন কোন পূর্ণিমার সন্ধ্যেয় ছাতিম গাছের মাথায় যখন গোল চাঁদ ওঠে, লেবুপাতার গন্ধে ম ম করে চারিদিক, বদি তার আড় বাঁশীতে ফুঁ দিয়ে সুর তোলে। সরমা তখন গা ধুয়ে তুলসীতলায় সন্ধ্যেপিদিম জ্বালিয়ে, নরেনের জন্য মাঠাতোলা, হালকা গরম এক গেলাস দুধ নিয়ে এসে দাঁড়ায়। হিসেবের খাতা থেকে মুখ তুলে নরেন নরম চোখে সরমার দিকে তাকালে, সরমা লজ্জা পেয়ে হেসে বলে, ‘বাঁশীটা ছোঁড়া বেশ বাজায়।’
     
    সরমার ভায়ের বিয়ে।
    কিন্তু সমস্যা হল নরেনের ও বিয়ের গয়নার বরাত রয়েছে। বেশ মোটা টাকার বন্দোবস্ত। তাই ঠিক হল সরমা মেয়ে কে নিয়ে আগেই চলে যাবে। পরে গ্রাহককে গয়না বুঝিয়ে দিয়ে নরেন যাবে, বদি দুটোদিন ঘর আটকে থাকবে।   
    সরমারা চলে গেলে, নরেন নিজেই দুটো ভাতেভাত ফুটিয়ে নেয় দুজনের। রাতে খই দুধ।
    বিয়ের দিন চারেক আগে ভোরবেলা নরেন ধড়ফড় করে উঠে বসে।
    উফফ কি ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন !!একমাত্র মেয়েকে নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে বুক হিম হয়ে গেছে নরেনের। ঐ একটিই মেয়ে তার বড় আদরের। একরাশ অসোয়াস্তি নিয়ে খানিকক্ষণ থম হয়ে বসে থাকে।
    নাহ। মেয়েকে একবার চোখের দেখা না দেখলে কিছুতেই শান্তি হবে না তার। শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ে সে। যাবার সময় দোকানঘরে বদিকে বলে, ‘মেয়েটাকে একবার দেখে কাল রাতের মধ্যেই ফিরে পড়ব বুঝলি বদি। এই দুদিন দোকান ছেড়ে নড়বি না। শশধরের মাকে বলে যাচ্ছি আজ দুপুরে তোকে দুটো খেতে দিয়ে যাবে। রাতে খইমুড়ি খেয়ে নিস খন।’       
    তা শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে খাওয়াদাওয়া, আমোদ-আহ্লাদ সবই হল।
    শাশুড়িমা নাতনীর কড়ে আঙুল কামড়ে দিয়ে বললেন, ‘বেঁচে থাক আমার ষেটের বাছা, এখেনে ও ভালোই আছে।’ ছোটশালী কানের কাছে এসে বললে, ‘মেয়ে না গিন্নি? ঠিক করে বলুন তো জামাইবাবু কার জন্যে স্বপন দেখে দৌড়ে এলেন?’ বলে উত্তরের অপেক্ষা না করেই সে হেসে গড়িয়ে পড়ল।
    সরমা বললে, ‘বদিকে একলা রেখে এলে? তার ওপর আবার ভরসা?’  
    পরদিন বেলা গড়ানোর আগেই নরেন ফিরে এলো। সরমার কথাই ঠিক, বদি বাড়িতে নেই। নরেন দোকানঘর বন্ধ দেখে চান খাওয়া করতে একেবারে বসতবাড়িতেই  চলে গেল। কিন্তু ভাত চড়িয়েও সে লাটসাহেবের দেখা নেই। শশধরের বাড়ি নরেনের লাগোয়াই। সেখানে গিয়ে জানা গেল, তার মা কাল দুপুরে বদিকে খেতেও দিয়েছে, কিন্তু তারপর আর বদিকে সে দেখেনি। তবে রাতে বদির বাঁশী শশধর শুনেছে বটে।
    শশধরও নরেনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে দোকানঘর পর্যন্ত এসেই পড়েছে, নরেন বললে, ‘দ্যাখ দিকি বদিটার কোন জ্ঞানগম্যি যদি থাকে।’ কথা বলতে বলতেই দোকানঘরের দরজার তালা খুললে নরেন।
    ভিতরের দৃশ্যের জন্য অবশ্য কেউই তৈরি ছিলনা। গদির পাশের কাঠের বাক্সটার উপরের ডালাটা ভেঙে পড়ে আছে একদিকে। কাঠের ছোট চৌকিটা এক দিকে সরানো, সেখানে দিয়ে গোপন সিন্ধুকের হাতল খুলে বেরিয়ে রয়েছে। সারা ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে টিপনা, ভোমরা, হাতনিক্তি। পাকসাড়াশিটা একদিকে মুচড়ে পড়ে রয়েছে। সমস্ত ঘর জুড়ে যেন একটা অভিশপ্ত শক্তি সব ত্ছনছ করে গেছে।
    নরেন নিজের বুকটা হাত দিয়ে চেপে ধরে চৌকাঠের ওপরেই বসে পড়ল। মুখ দিয়ে একটা বুক ফাটা আর্তনাদ বেরিয়ে এলো ‘মা গো।’
    তারপর কেমন যেন শূন্যদৃষ্টিতে শশধরের দিকে তাকিয়ে বললে, ‘বদি……
    আর ‘বদি’। সে যেন উবে গিয়েছে অতবড় শরীরটা নিয়ে। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছে নরেন স্যাকরার যাবতীয় সোনাগয়না, ব্যবসায়ের সুনাম, শান্তি, আনন্দ, এককথায় পুরো জীবনটাই। সোনা রূপো কিছু ছেড়ে যায় নি, শুধু কয়েকটা বড় বড় থালা গামলা পড়ে রয়েছে। পুলিশি তদন্তে গাঁয়ের লোক একবাক্যে বললে বদি বজ্জাতের হাড়। এ কাজ সে করতেই পারে। নরেন বদিকে পুষে ভারি নির্বুদ্ধিতার কাজ করেছে।   
    পিশাচ বদিটা নরেনের সমস্ত রক্ত খেয়ে নিয়ে মানুষটাকে একেবারে  ছিবড়ে করে রেখে গেছে। নরেন তার নিজের জন্য ভাবে না, কোনদিনই ভাবেনি। নরেনের সঙ্গে যে পথে বসেছে আশেপাশের তিনচারটে গাঁয়ের মানুষ। কারো মেয়ের বিয়ের গয়না, কারো মায়ের শেষ স্মৃতিটুকু, কারো বা পরিবারের শেষ সম্বল চলে গেছে।  উদ্ভ্রান্ত নরেন থানা পুলিশ, দারোগা, কিছুই বাকি রাখলনা। বদির একটা খোঁজ পাবার জন্য থানার চৌকাঠে মাথা খুঁড়লো, কিন্তু কোন খবরই পাওয়া গেলনা, বদি এক্কেবারে গায়েব।
    সব থেকে বেশী ক্ষতি হয়ে গেছে সদগোপদের। বন্ধকী গয়না, নরেনের মূলধন ছাড়াও গেছে সদগোপদের চল্লিশ ভরি বিয়ের গয়না। কিছু নতুন গড়ানো, কিছু ছিল পুরনো গয়না পালিশ করার জন্য। কিন্তু বদিকে খুঁজে পাবার জন্য তো আর তাদের বিয়ের লগ্ন বসে থাকবে না। গোধূলিতে স্থির হওয়া লগ্নে বর এসে গেল। গাঁয়ের মোড়ল নিজে এসে বরকর্তা কে অনুরোধ করলে, মেয়ের বাবা পায়ে পড়ল। আর নরেন নিজের বউ ফিরলে তার গয়নাগুলি দেবারও দিব্যি কাটল। কিন্তু বরপক্ষের ফলারের চিঁড়ে এতে মোটেই ভিজল না। তারা এদিকে বর উঠিয়ে নিয়ে গেল, ওদিকে সদগোপদের মেয়ে মলিনা কনের সাজেই গলায় দড়ি দিল।
    চুরির সঙ্গে সঙ্গে এই মৃত্যুর ঘটনায় নরেন পাথর হয়ে গেল। তার জন্যই এই বিপদ, এই অন্ধকার এ তার মাথার মধ্যে অনবরত বাজতে লাগল।
    কোন ক্ষতিপূরণেই এ ক্ষত সারার নয়।
    ফলন্ত সংসার রেখে সরমা গিয়েছিল ভাইয়ের বিয়েতে গিয়েছিল, সে ফিরে এল এক শ্মশানে। সেই শ্মশানের প্রেতমূর্তি নরেন। যেন একেবারে বাজে পোড়া প্রাণহীন, মৃত ।  
    সরমা এই নরকে মেয়েটাকে আর ফেরত আনেনি। তাকে বাপের বাড়িতেই রেখে এসেছে। নরেনের পাথরের মত আচরণ, বাড়িতে প্রতিদিন কারো না কারো সব হারানোর বিলাপ তাদের আর সম্পন্ন গেরস্থ থাকতে দেয়নি। গাঁয়ের মধ্যে তারা এখন অভিশপ্ত , নিস্ফল। সেইসব পুরনো সোনার দিনগুলো যেন সবপ্নের মতোই মনে হয় সরমার।  সে নিজেও কি আর আগের মত আছে? সেই কচি লাউপাতার মত নরম, ভোরের আলোর মত স্নিগ্ধ? মোটেই নয়। শরীরে হাড় কখানা সার হয়েছে তার। এখন জটপড়া চুল মাথার ওপরে চুড়ো করে খোঁপা বেঁধে, খেঁটে শাড়ি পড়ে সরমা সারা দিন গজগজ করে চলে। কখনও বদির বাপ চোদ্দপুরুষ উদ্ধার করে… “মরবি, মরবি ঠিক মুখে রক্ত তুলে মরবি, পালিয়ে যাবি কোথায়?”
    নরেন নদীপাড়ের গঞ্জে এক আড়তদারের গদিতে খাতা লেখার কাজ নিয়েছে। রোজগারও তেমন কিছু নয়, তবু ওতেই যাহোক দুটো খাবার যোগাড় হয়ে যায়। দুটো মানুষের রান্নার আর তেমন যোগাড়ও নেই তরিবৎও নেই। ভাতের সঙ্গে সেদ্ধ, পোড়া যা হোক দুটো হলেই হয়ে যায়। গাঁয়ের খাতকেরা এখনও কেউ কেউ আসে। পুলিশে বদির কোন খবর পেয়েছে কিনা জানতে। নরেন সেই উত্তরে কেবলি নিস্ফল মাথা নাড়ে। ভিতরবাড়িতে  রান্নাঘর লেপতে লেপতে গাঁয়ের লোককেই হিসহিসিয়ে শাপান্ত করে সরমা, ‘অনেক তো উবগার নিয়েছ,তখন। আর এখন যখন মানুষটা বিপদে পড়েছে সকলে মিলে চলে এসেছে বিষ ঢালতে।’    
    সদগোপদের গিন্নি শুধু মাঝে মাঝে মেয়ের শোকে ঠাকুরঘরে ডুকরে কেঁদে ওঠে। সময় গড়িয়ে যায়। 
     
    তবে খুব বেশিদিন সরমাকে এই লোকলজ্জা, এই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়নি। বদি পালানোর বছর তিনেকের মধ্যেই কয়েকদিনের জ্বরবিকারে প্রাণটাই বেরিয়ে গেল সরমার। শরীরের প্রতি অযত্ন, মানসিক ক্লান্তি এসব তো ছিলই, তার ওপরে খুব যে একটা রোগের সেবাশুশ্রূষা হল তাও নয়।
    সেই থেকে নরেন ঘরে একা। বছরের পর বছর একলা থাকা আর মাঝে মাঝে বদির খোঁজে থানায় হাজিরা দেওয়া এই ছিল তার কাজ। তবে আজ অনেকদিন পর একটা বড় কাজ এসে পড়েছে।
    আজ মামার বাড়িতে নরেনের মেয়ের বিয়ে।
    মামারা তাদের সামর্থ অনুযায়ী ভাগ্নির বিয়ে ঠিক করেছে। নরেন শুধু গিয়ে আশীর্বাদ করবে এটুকুই।
    হঠাৎ বৃষ্টি এসে যেতে বেরোতে একটু দেরি হয়ে গেলো। কুলতলির জলা পেরিয়ে আর ঘণ্টাখানেক হাঁটলেই খেয়াঘাট। এই জায়গাটায় লোক চলাচল একটু কম। নরেন একটু তাড়াতাড়িই পা চালাল। মেয়ে আশীর্বাদের একটা হার রয়েছে তার সঙ্গে।
    ঝুজকো অন্ধকারে পথ চলা একটু সমস্যার। তবে নরেন একেবারে একা নয়। একটি অল্পবয়সী মেয়ে, চকচকে শাড়ি পড়ে সেই কখন থেকে নরেনের সামনে সামনে চলেছে। বেশ কিছুটা চলার পর নরেনের মনে হল পথটা বেঁকে বুঝি কুলতলির জলার দিকেই যাচ্ছে। ঐ জলার দিক থেকেই একটা মায়াকাড়ানো বাঁশীর সুর ভেসে আসছে। কিন্তু এই রাস্তা তো জলার দিকে যাবার কথা নয়। কিন্তু কোথায় যেন এই মিঠে সুর শুনেছে নরেন।
    বদি? বদি কি এমন সুরে বাঁশী বাজাতো?
    না না তা কি করে সম্ভব?
    এ তো বদির বাঁশীর সুর হতেই পারেনা। তার বেশ মনে আছে, সেদিন বদির মড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদির বাঁশীও সে রান্নাঘরের গর্তে পুঁতে দিয়েছিল। ঐ বাঁশীর ফুটোতেই তো বিষ মাখিয়ে রেখে গিয়েছিল নরেন। বাঁশী বাজিয়ে শেষঘুমে তলিয়ে গিয়েছিল বদি। বদিকে যে নরেন সেদিন ভিতরবাড়িতে শুতে বলেছিল সেটা বদি ছাড়া আর কেউই জানতো না। তাই ঘরের লাগোয়া রান্নাঘরে বদির মড়া পুঁততে বেশি সময় লাগেনি তার। সরমা বাপের বাড়ি চলে যাবার পর থেকেই একটু একটু করে গর্তটা খুড়ে রেখেছিল নরেন। সহজেই বদির মড়া, বদির বাঁশী সব ঐ গর্তে চাপা পড়ে গেছিল।
    কিন্তু আজ এসব কথা মনে পড়ছে কেন? তাড়াতাড়ি এটুকু রাস্তা পেরিয়ে যেতেই হবে।
    বাঁশীর সুর একটানা বেড়েই চলেছে। লেবুপাতার গন্ধে বাতাস ভারি। তা এখন হালকা সুবাস নয়, বড় উগ্র, কটু।
    এখন তো আর পথ ভুল হবার যো নেই। রূপোর থালার মত চাঁদ উঠেছে। তার আলোয় চকচক করছে চারিদিক। সামনের মেয়েটি বুঝি এগিয়ে গেছে একটু। মেয়েটি বয়সে প্রায় নরেনের মেয়ের মতই হবে। তা যাকগে এগিয়ে, এখন আর কোন মানুষের সঙ্গই ভালো লাগেনা। ওর ভালো লাগে সব ঠং ঠং, ঢং ঢং হলদে সাদা ধাতুর রং, শব্দ, এমনকি গন্ধও।
    আগে ঠিক এমনটা ছিল না সে। কিন্তু ওরা যখন পায়ের মল, হাতের বালা, হার, তাগা, এমনকি বগি থালা, পদ্মকাটা বাটি, পিতলের সরা, ওর কাছে জমা রাখতে লাগল সেগুলোর গায়ে হাত বুলিয়ে তার মনে হত ঐ গয়না, থালাবাসন  ওগুলো ওর পোষা। ঠিক যেমন করে আদুরে মেনিবিড়াল কত্তাবাবুর গা ঘেঁষে বসে বা গাইগরু বাড়ির লোকের গা চেটে দেয় সেরকমই, ওরাও যেন নরেনের পোষ্য। একবার ঘরে এসে ঢুকলে, আর ওদের বের করতে মন চাইত না নরেনের। কিন্তু কেউ কেউ এসে ফেরত নিতেও চাইত, নিজেই যে সে বিনে সুদে টাকা ধার দিয়েছে। চড়া হারে সুদ, সুদের ওপর সুদ তার ওপরে সুদ দিয়ে ধাতুর টুকরোগুলোকে আটক রাখার পথ যে নিজে হাতেই বন্ধ করে দিয়েছিল ।
    না না, নরেন মোটেই লোভী নয়। ভোগ করার লোভ নয়, তার শুধু জিনিসগুলো কাছে রেখে দেবার মোহ।
    না হলে গয়না বাসন সবতো ঐ বদির মড়ার সঙ্গে রান্নাঘরের মাটিতেই পোঁতা রইল। নরেনও তো কিছু ভোগ করেনি কোন দিন। বন্ধকের সোনা, রূপো, বাসনের লোভ তবু সামলেছিল। কিন্তু চল্লিশ ভরি সোনা? বালা, বাউটি, মকরমুখী কঙ্কণ, কানবালা, সীতাহার, বিছেগুলো নাক কান নেড়ে নেড়ে বুঝি নরেনের কাছে থেকে যেতে চায়নি? সারারাত নিজের সঙ্গে অনেক লড়াই তো করেছিল সেদিন। কিন্তু ওদের ডাক এড়াতে পারলো কই? ওদের কাছেই রেখেছে সে। রাত বিরেতে মাটির ওপর দিয়েই ওদের গায়ে হাত বুলিয়েছে নরেন। ওরাও ভেতর থেকে সাড়া দিয়েছে ঠন, ঠন, ঢন, ঢন, রিন, রিন, রিন……।    
    আর মলিনা? বরপক্ষের এতো লোভ! ও মেয়ে এমনিতেও ঐ লোভী শ্বশুরবাড়িতে সুখী হত না। কিন্তু সেসব তো কবেই চুকেবুকে গেছে। আজ নরেন মেয়েকে সেই গয়না থেকেই একটা সীতাহার দেবে। নইলে তার আর ক্ষমতা কোথায়?   
    সামনে একটা আলো দেখা যাচ্ছে যেন। তাড়াতাড়ি পা চালায় নরেন। এই তো মেয়েটি একেবারে পাশে এসে পড়েছে, মেয়েটা কে কেমন চেনা চেনা লাগছে যেন। বন্দিপুরেরই মেয়ে নাকি?
    মেয়েটিও কি ঐ আলোর দিকে চলেছে?
    নরেন কি একেবারে জলার ধারে এসে পড়েছে নাকি? জলে যে হাঁটু অব্দি ডুবে যাচ্ছে। কিন্তু ঐ বাঁশীর সুর, ঐ মায়াবী আলো? ও কি জলার মধ্যে থেকে আসছে নাকি?
    মেয়েটি পাশ থেকে বললে, ‘পা চালাও গো নরেনকা, এখনো যে যেতে হবে অনেক দূর।’
    নরেন চমকে উঠে তাকিয়ে দেখে, এ তো ভারি চেনা, সদগোপদের মেয়ে মলিনা।
     
    নরেন স্যাকরাকে সেই যে আলেয়ার আলো ডুবিয়ে মেরেছিল কুলতলির জলায়, সেইথেকে ওদের বসতবাড়িটা পোড়ো হয়েই পড়ে আছে। রান্নাঘরটাকে পাক দিয়ে দিয়ে একটা অশ্বত্থগাছ তার ঝাঁকড়া মাথা তুলেছে আকাশপানে। রাতবিরেতে সেই ঝাঁকড়া মাথার দুলুনি দেখে লোকে ভয় পায়।
     
  • গপ্পো | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৭৩ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নাইটো - একক
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত প্রতিক্রিয়া দিন