ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  পরিবেশ

  • চীন,পরিবেশচিন্তা ও সমাজতন্ত্র 

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | পরিবেশ | ২৬ জুলাই ২০২২ | ২৬৫ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)
  • মিঙ্কি  লি  তিয়েনানমেনের গণবিক্ষোভে  অংশ নিয়েছিলেন। তখন তিনি ছিলেন কুড়ি বছরের এক তরুণ এবং মুক্তবাজার নীতির কট্টর সমর্থক। ১৯৯০ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৯২ সালে মুক্তির আগে পর্যন্ত জেলে বসে  মার্কস এবং মাও  জে দংএর চিন্তাধারা নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং মার্কসবাদী হয়ে যান। না,না, এটা কোনো সুবিধাবাদী নীতি ছিলো না। কারণ ততদিনে চীনের শাসকবর্গ অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে নিজেরাই নয়া-উদারবাদী অর্থনীতির পক্ষে সওয়াল করতে আরম্ভ করেছেন। লি সেখানে মাওয়ের ‘বৈপ্লবিক  ঐতিহ্য’ কে বহন করার পক্ষে কথা বলতে থাকেন। ১৯৯৪ সালে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় এম আই টিতে পড়তে আসার পর থেকে উটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো বা মান্থলি রিভিউ পত্রিকায় লেখা – লির এই অবস্থানের বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয় নি (এমনকী আমাদের ই পি ডব্লিউ পত্রিকাতেও লির চীন সম্পর্কে বেশ কিছু প্রবন্ধ বেরিয়েছে)। লির লেখায় চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং তার জন্য সামাজিক ও পরিবেশগত কী দাম চোকাতে হয়েছে তার বিস্তর  সমালোচনা আছে।
    লিকে নিয়ে এই লেখা শুরু করার কারণ চীনের ইকো সোশ্যালিস্ট  এবং নয়া বাম চিন্তাবিদদের মধ্যে লির যথেষ্ট প্রভাব আছে। ভাববেন, সে আবার কী জিনিষ, চীনে কম্যুনিস্ট পার্টির কথাই তো শেষ কথা। এর মধ্যে আবার অন্য চিন্তার অবসর আছে নাকি? এই প্রসঙ্গে আমরা শেষে আসবো। আপাতত  ‘সোশ্যালিস্ট রেজিস্টার’ পত্রিকায়  ডেল ওয়েন এবং মিঙ্কি লির লেখা ‘ চায়নাঃহাইপার- ডেভেলপমেন্ট অ্যাণ্ড এনভাইরনমেন্টাল ক্রাইসিস’ নিবন্ধটি  থেকে কিছু তথ্য জেনে নেবো। নিবন্ধটি নেটে সহজলভ্য।
    ১৯৮০ সালের পর থেকে চীনেই পুরোনো কমিউন ব্যবস্থা ভেঙ্গে জমির ওপর ব্যক্তি মালিকানা দেওয়া হয়। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে বিদেশী পুঁজিকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি মুক্ত বাজার নীতির প্রয়োগ শুরু হয়। নব্বই দশকের শেষ দিকের মধ্যে ছোটো ও মাঝারি মাপের সরকারি ও সমবায়ী উদ্যোগের বেসরকারিকরণ সম্পন্ন হয়। ২০০১ সালে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য হয়। এই পর্যায়ে এবং তার পরেও বেশির ভাগ সময় জুড়ে চীনের আর্থিক বৃদ্ধির হার থাকে চমকে দেওয়ার মত,৯.৪ শতাংশের ওপর।  কিন্তু চীনের সাধারণ মানুষের কাছে বহু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ মহার্ঘ হয়েছে, সামাজিক বৈষম্য বেড়েছে,জীবনধারণে শান্তি ও অবসর সংকুচিত হয়েছে। বৃদ্ধি,পুঁজির পুনরুৎপাদন এবং অন্যান্য লক্ষণ  বিচার করলে একজন সাধারণ নাগরিকের কাছে চীনের শাসনব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ বলে প্রতিভাত হওয়াই স্বাভাবিক।বৃদ্ধি আর মুনাফার লাগামহীন ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে পুঁজিবাদ পরিবেশ আর প্রকৃতির যা যা ক্ষতি করে এবং বিপদের সম্ভাবনা তৈরী করে চীনেও স্বাভাবিকভাবে তাই হয়েছে।
    ১৪৪ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে চীন পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ।পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার ১০টি শহরের মধ্যে সাতটিই চীনের।উন্নয়নশীল দেশে বায়ু দূষণে যত লোক মারা যান তার ৪০ শতাংশই চীনের।চীনে অটোমোবাইলের বিক্রী বেড়েছে ১৯ শতাংশ হারে। বিশ্বে অটোমোবাইলের চতুর্থ বৃহত্তম উৎপাদক আর তৃতীয় বৃহত্তম উপভোক্তা চীন।জলস্তরের কথা যদি ধরি, খোদ বেজিং শহরে  ১৯৬৫ সাল থেকে জলস্তর নেমেছে প্রায় ৫৯ মিটার।ইয়াংসি সহ প্রধান সাতটি নদীর  ৬০ শতাংশ জল এখন গ্রেড ফোর কোয়ালিটির মানে মানুষের সংস্পর্শের অযোগ্য। সরকারী আইনের ফলে বড় কারখানাগুলিতে জল পরিশোধন ব্যবস্থা হয়েছে বটে কিন্তু তার এক তৃতীয়াংশই কাজ করে না আর এক তৃতীয়াংশ মাঝে মাঝে কাজ করে।চীনে কৃষকরা রাসায়নিক সার এবং কীটনাশকের ব্যবহারও খুব বেশি করে।চীনের কৃষির সামনে আরেকটা সমস্যা হল ভূমিক্ষয় এবং মরুভূমির বিস্তার।চীনে প্রায় ২৭ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার মরুভূমি আছে যেটা চীনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ২৮ শতাংশ।এই মরুভূমি বাড়ছে প্রতি বছর প্রায় ১০৪০০ বর্গকিমি হারে।দেশের কৃষিযোগ্য জমির ৪০ শতাংশ ভূমিক্ষয়,লবণায়ন ,দূষণ এবং অন্যান্য কারণে নিম্নমানের। শিল্পায়ন এবং নগরায়ণও কাড়ছে কৃষিযোগ্য জমি।ফলে ফসল উৎপাদনও কমছে।আবার শুধু মাটিতে নয়, ধাতব দূষণ(ক্যাডমিয়াম,পারদ,সীসা) ছড়িয়েছে ফসল পর্যন্ত।
    চীনে উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ২০০০ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে গোটা বিশ্বে শক্তির ব্যবহার যা বেড়েছে তার ৪০ শতাংশই চীন থেকে। এই শক্তির মূল উৎস কিন্তু কয়লা,তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অর্থাৎ জীবাশ্ম জ্বালানি। চীনের বিপুল জনসংখ্যার ফলে গ্রীণহাউস গ্যাস নির্গমণের ক্ষেত্রে বিশ্বে এখন আমেরিকার পরই চীনের স্থান যদিও মাথাপিছু  হিসাবে চীন আমেরিকার এক-দশমাংশ মাত্র নিঃসরণের ভাগীদার।কার্বন নিঃসরণের ফলে যে বিশ্ব উষ্ণায়ন তাতে চীন নিজেও ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।চীনের উত্তর অংশে টানা খরা আর দক্ষিণ অংশে বন্যার কথা পরিবেশ বিজ্ঞানীরা যেভাবে বলেছিলেন সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় তা মিলে যাচ্ছে। এছাড়াও চীনের ধান, গম ও ভুট্টা উৎপাদন এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে আগামী দিনে অন্তত ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে একথা  ২০০৪ সালে চীন সরকারের প্রকাশিত এক রিপোর্টেই বলা হয়েছে। তাহলে বাকি পৃথিবীর মত চীনকেও মুনাফাসন্ধানী,বাজারপন্থী, বৃদ্ধিপন্থী,পুঁজির পুনরুৎপাদক ব্যবস্থা থেকে সরে আসতে হবে। ‘সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি’র মত স্ববিরোধী দর্শন ছেড়ে মানুষের ন্যূনতম চাহিদার পরিপূরণে নজর দিয়ে  ভোগবাদ, অপ্রয়োজনীয় উৎপাদন ও  অপচয়ের অর্থনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।মাও যুগের ‘এক কড়াই থেকে খাওয়ার নীতি’র কথা অনেকের মনে পড়তে  পারে। হ্যাঁ,  অনেক ক্ষেত্রেই সেই আদর্শের পুনরুদ্ধার কাম্য বটে। কিন্তু এ কেবল অতীতচারী পশ্চাদগমন নয়। মনে রাখতে হবে মাওয়ের সময় পরিবেশ নিয়ে আদৌ কোনো সচেতনতা ছিলো না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতা অন্য রকম দাবী রাখছে চীনের শাসক ও জনগণের কাছে। এখন প্রশ্ন হল সেই  দাবীর কোনো ভবিষৎ চীনে আছে কি?
    যদি সম্ভাবনার  কথা বলা হয় তাহলে বলতে হয় চীনের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই আছে। মনে রাখতে হবে চীন কখনোই  স্টালিনের রাশিয়া ছিলো না। চীনে প্রতিটি নীতি পরিবর্তনের পেছনে বিতর্ক এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার একটা ভূমিকা ছিলো। সেখানে রাজনৈতিক লাইনের বিরোধিতাকে একেবারে শারীরিকভাবে নিকেশ করে দেওয়ার তেমন ইতিহাস নেই।চীনের কম্যুনিস্ট  ইতিহাসের সবচেয়ে  নিন্দনীয় ঘটনা তিয়েনানমেনের গণহত্যার ঘটনাকেও  এড়ানোর চেষ্টা পার্টির একাংশের পক্ষে হয়েছিলো। তৎকালীন সম্পাদক  ঝাও জিয়াং ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন করে পদ খুইয়েছিলেন, বাকি জীবন প্রায় গৃহবন্দী ছিলেন, কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের বুখারিনদের মত তাকে চক্রান্তকারী সাজিয়ে মেরে ফেলা হয় নি।তাই বলে চীনে প্রচণ্ড গণতন্ত্র আছে,রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলার সুযোগ আছে এমনটা নয় (বর্তমানে আমাদের দেশেই বা কতটুকু আছে?) কিন্তু বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই, তাও নয়। চীনে পরিবেশ রক্ষায় বেশ কিছু জঙ্গী আন্দোলনও হয়েছে।ঝেজিয়াং প্রদেশে হুয়াক্সি গ্রামে ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে ২০০০০ গ্রামবাসী মিলে ৩০০০ পুলিশকে  তাড়িয়ে ছাড়ে যারা একটা ইণ্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্ক  স্থাপনে সহায়তা করতে এসেছিলো। ঐ প্রদেশেই  ২০০৫ সালের অগাস্ট মাসে গ্রামবাসীরা একটা ব্যাটারি উৎপাদক কারখানা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় কারণ ঐ কারখানা সীসার দূষণ ঘটাচ্ছিলো। মনে রাখতে হবে চীনের যে প্রদেশগুলিতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ঝেজিয়াং তার মধ্যে একটা। আর শুধু সংঘাতমূলক আন্দোলনই নয়, বিকল্প চিন্তাভিত্তিক গঠনমূলক আন্দোলনও হচ্ছে। চীনের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও অধ্যাপক  ওয়েন তিয়েজুনের নেতৃত্বে চীনে যে নব্য গ্রামীণ পুনর্গঠন আন্দোলন শুরু হয়েছিলো তা এখন তাত্বিক এবং প্রায়োগিক দুদিক থেকেই প্রতিষ্ঠা পেতে শুরু করেছে।এই আন্দোলন বৃহৎ খামার এবং কৃষিবাণিজ্যর বিরোধিতা করে,গ্রামীণ সমবায়ভিত্তিক মালিকানার ওপর জোর দেয় এবং  চীনের ২৪ কোটি ক্ষুদ্র কৃষকের ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে আধুনিক পরিবেশবিজ্ঞানের সঙ্গে  সমন্বিত করতে চায়।এর সঙ্গে যুক্ত করতে চাওয়া হয় গ্রামীণ শিক্ষা, চিকিৎসা এবং পরিকাঠামোর উন্নতিকে। এই উন্নয়নচিন্তার কেন্দ্রে আছে তিনটি’ জ’--  জনগণের জীবিকা, জনগণের সংহতি, জনগণের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র ।চীনে এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে  পরিবেশবান্ধব সভ্যতার কথা বলা হচ্ছে। চীনের জনগণ সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দুর্নীতির পরেই যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি উদবেগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তা হচ্ছে পরিবেশ। পৃথিবীর অগ্রগণ্য ইকো-সোশ্যালিস্টদের তালিকায় এখন চীনের বেশ কিছু তাত্বিক আছেন এবং তাঁরা চীনেও বেশ দায়িত্বপূর্ণ পদে আসীন আছেন। বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে চীনের পার্টি আর সমাজ। পরিবেশগত বিপর্যয়ের সম্ভাবনা তাকে নতুন করে পথ চিনতে শেখাবে একথা বিশ্বাস করতে ক্ষতি কী? চীন পথ হারালে মানব সভ্যতাও যে অনেকখানি পথভ্রষ্ট হবে তাতে তো সন্দেহ নেই। পরিবেশগত সংকটের ব্যাপারটাই তো তাই, সে শুধু নিজেকে মারে না, আরো অনেককে নিয়ে মরে ।

     
  • আলোচনা | ২৬ জুলাই ২০২২ | ২৬৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Politician | 2603:8001:b143:3000:2444:61ea:29a8:812b | ২৬ জুলাই ২০২২ ০৮:৫৭510358
  • চিন মার্ক্স কথিত সমাজতন্ত্রের বৈষয়িক ভিত্তি তৈরী করেছে রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের ভেতর দিয়ে। এখন সমাজতন্ত্রের দিকে মোড় নেবার কথা ভাবছে। ব্যাপারটাকে এভাবে দেখলে খুব বেশী আশাবাদী হয়ে যাবে? 
  • Sandipan Majumder | ২৬ জুলাই ২০২২ ০৯:৪০510361
  • @Politician যদিও  এ ব্যাপারে  মতামত  দেওয়ার  যোগ্যতা  আমার খুবই কম,তবে এই ক্যাটেগোরাইজেশনগুলো এক বা দুই শব্দে বা বাক্যে, অনেক ধূসরতাকে আড়াল  করে রাখে,যেগুলির দিকে মনোযোগী  হলে আমরা হয়তো  বেশি কাছাকাছি  পৌঁছাতে  পারবো সত্যের।
  • Ranjan Roy | ২৬ জুলাই ২০২২ ১৯:১৩510377
  • সন্দীপনবাবুর সঙ্গে একমত হয়ে দুটো কথা বলতে চাইছি।
       পলিটিশিয়ান হয়ত ব্যক্তিপুঁজির জায়গায় রাষ্ট্রীয় পুঁজির নির্মাণকে মার্ক্সের মডেলে সমাজতন্ত্রের নেসাসারি পূর্বশর্ত বলে ধরে নিয়েছেন। আমি ভুল বুঝতেও পারি।
       যেটা বলতে চাইছি --.১ চিনের রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদে  পুঁজির ব্যক্তি মালিকানা আদোউ নিষিদ্ধ নয়। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যক্তি পুঁজিকে মনোপলির রূপ নিতে  এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পুঁজি হতেও দেখা যাচ্ছে। তাতে চিনের আর্থিক বিকাশ হল কিনা সেটা অন্য প্রশ্ন। কিন্তু সমাজবাদের জায়গায় ঔপনিবেশিক শোষণের চেহারা দেখা যাচ্ছে।
      আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে চিন যেসব শর্তে ঋণ ও 'সাহায্য' দিচ্ছে তার থেকেই ব্যাপারটা স্পষ্ট।
                            আর কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য জ্যাক মা (২০১৮ সালে পিপলস ডেইলিতে বলা হয়েছে)  যখন আলিবাবা ও ইয়ুং ফেং বলে প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন তারপরও কি কোন সন্দেহ থাকে?
                                     ২ চিন সমাজতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে বা যেতে চাইছে? মার্ক্সের সমাজতন্ত্র মানুষকে কেন্দ্রে রেখে, এমনকি ব্যক্তি মানুষকেও। মার্ক্স স্বপ্ন দেখতেন যে উন্নত টেকনোলজির ফলে মানুষের জীবনধারণের জন্য আবশ্যক শ্রমের সময় কমে উন্নত সাংস্কৃতিক মানের জীবনযাপনের জন্য উদ্বৃত্ত সময় বেড়ে যাবে। চিনে ব্যক্তি মানুষের হাল?
                                  ৩ মার্ক্স অনেক বেশি জোর দিতেন নতুন মানুষ গড়ার দিকে। রাষ্ট্র নামক নিষ্পেষণের  যন্ত্রটিকে ক্রমশঃ দুর্বল করে জনগণের সমিতি গঠনের দিকে। চিনে কী হচ্ছে? আর শি পিং যেভাবে আজীবন রাষ্ট্র এবং পার্টি প্রধান হবার রাস্তা ধরলেন তাতে মনে হয় চিন সমাজতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে?
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b143:3000:2938:98d5:4923:c6e5 | ২৬ জুলাই ২০২২ ২০:০০510380
  • আপনি ভুলই বুঝেছেন। ম্যানিফেস্টোতে বলা হয়েছে ধনতন্ত্রের সংকট হল অতি উৎপাদন। সমাজের সকলের প্রয়োজন মেটানোর মত উৎপাদন, যেটা মুনাফা ভিত্তিক ব্যবস্থায় ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এই যে উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, এটাই সমাজতন্ত্রের বৈষয়িক ভিত্তি। সেটা ব্যক্তি পুঁজিবাদ দিয়ে হতে পারে বা রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ দিয়ে।
     
     
  • Ranjan Roy | ২৬ জুলাই ২০২২ ২৩:৪৫510391
  • লেট আস এগ্রি টু ডিসেগ্রি।
      ম্যানিফেস্টো বেশি জোর দিয়েছে হিস্টোরিক্যাল মেটেরিয়ালিজমে। তাতে প্রত্যেকটি স্তরে পরিবর্তনের চালিকা শক্তি হচ্ছে বিকশিত উৎপাদন  শক্তির (পদ্ধতির) সঙ্গে সামাজিক মানুষের যে উৎপাদন সম্পর্ক তার সামঞ্জস্য হারিয়ে বেখাপ্পা হয়ে যাওয়ার দ্বন্দ্ব।
      এটি ছিল কমিউনিস্ট লীগের জন্যে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কিঞ্চিৎ সরলীকৃত ব্যাখ্যা। পরে 
    ক্যাপিটালে, পুঁজিবাদী উৎপাদনের ক্রাইসিস নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তাতে তিন রকম সংকটের কথা বলা হয়েছে।
       ১ অতি উৎপাদন, ২ আন্ডার কন্সাম্পশন এবং ৩ ক্রমশঃ পুঁজির ভার্টিকাল কেন্দ্রীকরণের ফলে সমাজের স্পষ্ট পোলারাইজেশন। 
       একদিকে মুষ্টিমেয় লোকের হাতে সমাজের উৎপাদন শক্তি করায়ত্ত, অন্যদিকে  বিশাল আনেমপ্লয়েড লেবার ফোর্স। মাঝখানে মধ্যবিত্ত শ্রেণী বা পাতিবুর্জোয়ার অবলুপ্তি। কারণ ওদের বিশাল অংশ ক্রমশঃ দরিদ্র হয়ে প্রলেতারিয়েতের  ভীড় বাড়াবে। ক্ষুদ্র অংশ ওপরে উঠে হাতেগোণা পুঁজিপতিদের শিবিরে যাবে।
     
    অতি উৎপাদনের সংকট উন্নত দেশগুলির ট্রেড সাইকেলে বেশ কয়েক বার এসেছে। তাতে বিপ্লবের সম্ভাবনা এতটুকু এগোয় নি।
      কিন্তু আজ একুশে শতাব্দীতে মার্ক্সের ম্যানিফেস্টর ভবিষ্যদ্বাণী কতটুকু বাস্তবায়িত?
      যেমন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লেবার  ফোর্স বাড়ছে না কমছে?
            ১উৎপাদন শক্তি এমন পর্যায়ে গেছে যে উন্নত দেশে এবং আমাদের দেশেও ইন্ডাস্ট্রিয়াল লেবারের ঘরে টিভি এবং মোপেড ও মোবাইল রয়েছে। যদিও তাদের কাজের সময় আট ঘন্টার জায়গায় বারো ঘন্টা হয়ে যাচ্ছে এবং রেট অফ এক্সপ্লয়টেশন কয়েকশো গুণ বেড়েছে। 
            ২ মধ্যবিত্ত শ্রেণী হাপিস হয়নি। উলটে লেবারের থেকে বেশ কিছু মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছে। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাসি বেশ কিছু দেশে শ্রমিকের জীবনমান এবং জীবনযাত্রায় গণতান্ত্রিক অধিকারের ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে।
           ৩ শ্রমিক শ্রেণীর ইউনিয়নের সংগঠন মূলতঃ ফর্মাল সন্ডাস্ট্রিয়াল লেবারের মধ্যেই সীমিত রয়েছে। বিশাল ইনফরম্যাল সেক্টরের লেবার ফোর্স ইউনিয়নের চোখে অবহেলিত রয়ে গেছে।
          ৪ উন্নত দেশে শ্রমিক আন্দোলন আর্থিক দাবি দাওয়াতেই সীমিত।
         ৫ মার্ক্সের মতে উৎপাদন ব্যবস্থার দ্বন্দ্বহল পরিবর্তনের নেসাসারি কন্ডিশন। সাফিশিয়েন্ট কন্ডিশন হল পরিবর্তনের মতাদর্শগত চেতনা সম্পন্ন শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্ব।
       এটি আজ কোথাও নেই। চিনের কথা ছেড়েই দিলাম। যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্স ক্যাপিটাল গঠন করেন এবং পার্রট ও রাষ্ট্রপ্রধান একই ব্যক্তি । তারপর আজীবন ক্ষমতায় থাকার উদ্দেশ্যে সংবিধান সংশোধন!
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b143:3000:2938:98d5:4923:c6e5 | ২৬ জুলাই ২০২২ ২৩:৫৬510394
  • আমি নেসেসারি কন্ডিশনের কথাই বলছিলাম। পূর্বশর্ত। উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা।
  • সিএস | 49.37.32.172 | ২৭ জুলাই ২০২২ ০০:২৮510396
  • ধুসস।

    capitalism তার সম্মুখ গতি সামলাতে না পেরে Green capitalism এর কথা বলেছে, পশ্চিমে।

    চীনের সমস্যাটা সেটাই, ধনতন্ত্রের সমস্যা, গত তিরিশ বছরের দৌড়নোর সমস্যা।

    পলিউশন আর বড় বড় শহর তৈরী হয়েছে কিন্তু সেখানে লোক থাকে না, এসব খবর চোখে পড়ত।তো সেসব সমস্যা হয়ত আরো বেড়েছে, এইরকমের development একইভাবে টানা যাবে না, সেসব বোঝা যাচ্ছে। ফলে ইকো-সোশালিজমের তত্ত্ব।

    সোশালিজম কেন? কারণ চীন তো সেটা ছাড়েনি। পুঁজির বিস্তার করেছে কিন্তু পার্টি লাইন ছিল এসব কমিউনিজমে পৌছবার আগের ধাপ।

    বেসিক্যালি ঢপবাজি আর ক্ষমতা ধরে রাখা আর দলের মধ্যে পুরোনদের কন্ট্রোল রাখা। ফলে সোশালিজম ধরে রাখা হয়েছে, এখন পরিস্থিতি চটকে গিয়ে সামনে একটা ইকো জোড়া হয়েছে।

    sustainable development ইত্যাদি গত বিশ বছরে পার্টি দলিলে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, কতদূর কী হয়েছে কে জানে।

    তো দীর্ঘদিন ধরে একা ক্ষমতায় থাকতে গেলে বিভিন্ন স্লোগান আনতে হয়। তদুপরি অখণ্ড চায়না, ন্যাশনালিজম  ইত্যাদি। এসবের মধ্যে সমাজতন্ত্র দেখা হাস্যকর।
     
     
  • Sandipan Majumder | ২৯ জুলাই ২০২২ ২০:০৪510549
  • @সি এস, ইকো সোশ্যালিজম  তো চীনের  উদ্ভুত কোনো পরিভাষা নয়,পাশ্চাত্যের  মার্কসবাদীদের মধ্যে যাঁরা  পরিবেশচিন্তাকে প্রাধান্য  দেন,তাঁরাও অনেকে নিজেদের ইকো সোশ্যালিস্ট বলেন এবং সেসব নিয়ে লেখালেখি  করেন। এখন চীন যদি সমাজতন্ত্রী  না হয়,পৃথিবীর  উদীয়মান  বৃহৎ  শক্তি তো বটে। সে কীভাবে  তার পরিবেশ সংকটকে দেখছে,সেখানকার  অধিবাসী  ও ভাবুকরা কী ভাবছেন,সেই ভাবনা রাষ্ট্রীয়  নীতিতে প্রতিফলিত  হচ্ছে কিনা,সেসব  আমাদের আগ্রহের বিষয়  হবে না বলছেন?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন