এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • জয়লাভ করার পরেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভেঙে গেল কেন? 

    AR Barki লেখকের গ্রাহক হোন
    ১২ জুন ২০২৬ | ২২ বার পঠিত
  •  
    এটি ইতিহাসের অন্যতম একটি বড় বৈপরীত্য—যুদ্ধে জিতেও ব্রিটেন তার সাম্রাজ্য হারিয়েছিল। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনী জয়লাভ করলেও, এই যুদ্ধ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছিল।
     
    যুদ্ধ জয়ের জন্য ব্রিটেনকে তার সমস্ত সম্পদ বাজি রাখতে হয়েছিল। ১৯৪৫ সাল নাগাদ ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। যুদ্ধের খরচ চালাতে ব্রিটেন আমেরিকার কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঋণ (Lend-Lease act) নিয়েছিল, যা তাদের ঋণের সাগরে ডুবিয়ে দেয়।
     
    সাগরের ওপারে বিশাল সাম্রাজ্য এবং সেনাবাহিনী টিকিয়ে রাখার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য ব্রিটেনের আর ছিল না। নিজেদের দেশ পুনর্গঠন করাই তখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
     
    যুদ্ধের পর বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু লন্ডন থেকে সরে যায়। ব্রিটেন আর বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি ছিল না। পৃথিবীতে নতুন দুটি পরাশক্তির (Superpower) উদয় হয়—আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন।
     
    এই দুটি দেশের কেউই পুরোনো ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার পক্ষে ছিল না। বিশেষ করে আমেরিকা অর্থনৈতিক সাহায্যের বিনিময়ে ব্রিটেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল যেন তারা তাদের উপনিবেশগুলোকে স্বাধীনতা দিয়ে দেয় এবং উন্মুক্ত বাণিজ্যের পথ তৈরি করে।
     
    যুদ্ধের সময় থেকেই ভারতসহ বিভিন্ন উপনিবেশে স্বাধীনতার দাবি তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছিল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় রত্ন ছিল ভারত। ১৯৪২ সালের 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলন এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের তৎপরতা ব্রিটিশদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে ভারতকে আর বেশিদিন নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা বাকি উপনিবেশগুলোর জন্যও পথ খুলে দেয়।
     
    দীর্ঘ ছয় বছর যুদ্ধ করার পর ব্রিটিশ সেনারা ক্লান্ত ছিল। দূরবর্তী কোনো দেশে গিয়ে সেখানকার বিদ্রোহ দমন করার মতো মানসিক বা শারীরিক শক্তি তাদের ছিল না।
     
    ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে যুদ্ধজয়ী প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল (যিনি সাম্রাজ্য ধরে রাখার পক্ষে ছিলেন) পরাজিত হন।
    ক্ষমতায় আসে ক্লিমেন্ট অ্যাটলির নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি।
     
    লেবার পার্টির মূল ফোকাস ছিল ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, যেমন—বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা (NHS) চালু করা এবং নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা উপনিবেশ ধরে রাখার পেছনে অর্থ অপচয় করার চেয়ে যত দ্রুত সম্ভব সম্মানজনকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করাকে শ্রেয় মনে করেছিল।
     
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ব্রিটেনকে বিজয়ী করেছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের এতটাই দুর্বল করে দিয়েছিল যে নিজের বিশাল সাম্রাজ্যের বোঝা বইবার ক্ষমতা তাদের আর ছিল না।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট প্রতিক্রিয়া দিন