ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি(রহস্য উপন্যাস)ঃ ৯ম পর্ব

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৪ জুলাই ২০২২ | ৪১৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫
    ‘তুমি মোর পাও নাই, পাও নাই পরিচয়’
        শ্মশান ছাড়িয়ে তিননম্বর গলিতে ঢুকে পাঁচ ছ’টা  একতলা বাড়ির সারি। কোনটাই গায়ে গায়ে নয়। বরং একটু ছড়িয়ে ছিটিয়ে।  
    অন্ধকার দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। কাকের পাল কা কা করে সামনের বিশাল বটগাছের ডালপালার আড়ালে সেঁধিয়ে যাচ্ছে। এই গলিটাতে বাড়ি ঘর শুধু একদিকে। অন্য দিকে একটা মাঠ, সন্ধ্যেবেলা পাড়ার ছেলেরা খেলতে আসে। শেষ বাড়িটা দুটো জনতা কোয়ার্টার জুড়ে বানিয়ে নেওয়া। সম্ভবতঃ একই মালিকানায় বা দুই ভাইয়ের নামে।
       এইখানে গিয়ে পারমিন্দর বন্ধ দরজায় দু’বার ঠক ঠক করে। আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে, তাই ওর নক করার রিদম বুঝতে পারিনি। দরজা খুলে যায়, কিন্তু কেউ বাইরে আসে না। পারমিন্দর একবার চারদিকে দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিয়ে আমাকে ইশারা করে। আমি স্বাভাবিক ভাবে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে টুক করে ঘরটার খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে চলে যাই।
        ঢোকার পর বাইরের ঘরের অন্ধকারে চোখ সইয়ে নিতে একটু সময় লাগল। ছোট ঘর, এককোণায় দুটো সাইকেল, জলের ড্রাম, পুরনো জুতো বেশ কয়েক জোড়া, আর দেয়ালের দিকে একটা লোহার ফোল্ডিং খাট, কিছু পুরনো বিছানার চাদর, ছেঁড়া তুলো বেরনো তোষক। দেয়ালের গায়ে গত বছরের পুরনো ক্যালেন্ডার, পেরেক ঠুকে তার থেকে টাঙানো দড়িতে হ্যাঙার থেকে ঝুলছে দু’জোড়া শার্ট প্যান্ট, গামছা, একজোড়া লুঙ্গি এবং ধুতি। না, কোন শাড়ি সায়া কিছু নেই।
    দেয়ালের গায়ে একটা কুলুঙ্গি মত, তাতে আধপোড়া মোমবাতি। উলটো দিকের দেয়ালে একটা দাগধরা আয়না ঝুলছে। তিননম্বর দেয়ালে  লাল সিঁদুর দিয়ে লেপা  স্বস্তিকা- চিহ্ন এবং ছোট ফ্রেমে বাঁধানো সন্তোষী মাতার ছবি। ছাদের মাঝখান থেকে একটা পুরনো বাল্ব জ্বলছে, কিন্তু এরা সেটা জ্বালায় নি কেন? হয়ত ফিউজ হয়ে গেছে।
      পারমিন্দর আমার হাত ধরে টানে।
    --চলুন ও’ঘরে, সবাই অপেক্ষা করছে। বাইরের ঘরে আমরা ইচ্ছে করে আলো জ্বালাই নি, যাতে বাইরে থেকে কেউ উঁকি মেরে ক’জন ভেতরে  আছে সেটা আন্দাজ না করতে পারে।  
     
    একটা ছোট প্যাসেজ ও রান্নাঘর পেরিয়ে আরেকটা ঘর। দেয়ালে নীল আর চূণ গুলে অল্পপয়সায় রঙ করা। ঘুলঘুলিতে পায়রার বাসা। এ’ঘরে তবু একটা কম পাওয়ারের বাল্ব হলদেটে আলো ছড়াচ্ছে। আমি এত বছরেও অন্ধকারে ঠিক ধাতস্থ হতে পারি নি। ভয়- টয় না , আমার একটু অস্বস্তি হয়। এই অস্বস্তিবোধ হয়ত সারাজীবন আমার সঙ্গী হয়ে থাকবে।
       একটা তক্তপোষে পাতা বিছানা দেখে বোঝা যায় যে দুপুরের কেউ এখানে শুয়েছিল। কোণের দিকে পেছনের দরজাটার পাশে একটা এঁটো স্টেনলেস স্টিলের থালা ও বাটি।
     
        মাটিতে পাতা সতরঞ্চিতে বসে রয়েছে যে চারজন তাদের অন্ততঃ দু’জনকে আমি চিনি—সোনালী মিশ্র ও  লোকেশ বিদ্রোহী। সবচেয়ে বয়স্ক লোকটি উঠে দাঁড়ালেন, তাঁর পরণে খাদির ধুতি-পাঞ্জাবী, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। পানের দাগ ধরা লালচে কালো দাঁতে হেসে বললেন – আমার নাম  রাজারাম, এই সামান্য দুটো ঘর আমারই। এই দুই দেবীজির কলেজে আমি লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক।
         আমি ওনার দুইহাত আমার জোড়া হাতের মধ্যে নিয়ে উষ্ণতার বিনিময় করে বসতে অনুরোধ করি এবং নিজেও তক্তপোষের গায়ে হেলান দিয়ে বসে পড়ি। মাঝখানে একটা ডাঁটি ভাঙা কাপে সিগারেটের ছাই ফেলা হয়েছে।  আর কাঁহাতক শান্ত থাকা যায়! পরনের  খালাসি মার্কা হাফপ্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা বিড়ির বান্ডিল বের করি। 
           চুপচাপ বসে থাকা অচেনা দু’জন আমার হাত থেকে বিড়ি নিল।
    কিন্তু সোনালী বলে ওঠে—একমিনিট! বিড়িটা একটু পরে ধরাবেন। আমার মনে হয় কমরেড আপনি আগে  পাশের ঘরে গিয়ে এই হাফপ্যান্ট হাফশার্ট ছেড়ে আপনার জীন্সের প্যান্ট এবং টি শার্ট পরে আসুন। তারপর বাকি কথা।
        
          আমি একটু অপ্রস্তুত, তবু ওর কথামত পাশের ঘরে গিয়ে দেখি একটা নেয়ারের খাটিয়ার উপর খবরের কাগজ দিয়ে মোড়া একটি প্যাকেট। তার ভেতরে একটা পাজামা, গেঞ্জি, শার্ট প্যান্ট, রুমাল, চিরুনি  এবং একটা লাল গামছা । আমি জামাকাপড় পালটে ছাড়া  পোষাক  ওই খবরের কাগজেই ফের প্যাক করে খাটিয়ার নীচে নামিয়ে দিই।
          
        এবার ফিরে এসে দেখি ওদের মধ্যে বোধহয় আমাকে নিয়ে কোন আলোচনা চলছিল, সেটা আমাকে দেখামাত্র থেমে যায়।  বাকি দু’জন বিড়ি টেনে প্রায় শেষ করে ফেলেছে, একজন আমায় বিড়ি ধরাতে সাহায্য করে।  আমি নীল ধোঁয়া ছাড়লে সেটা কেমন করে যেন সোনালীর মুখে গিয়ে লাগে। পারমিন্দরের মুখে ফিচেল হাসি ফুটে ওঠে। সোনালি একটু বিরক্ত মুখে হাত নাড়ে । আমি সরি, বলে একটা পাকানো খবরের কাগজ দিয়ে ধোঁয়া সরাতে থাকি। ততক্ষণে বিড়িটা নিবে যায় ।
         সোনালী বলে—ধুম্রপানের তেষ্টা বেশি হলে ওই দরজা দিয়ে  পেছনের উঠোনে গিয়ে খেয়ে আসবেন। এই ঘরটায় পাখা নেই, আমাদের দম আটকে আসে,  আর প্যাসিভ স্মোকিং নিয়ে সবাই জানেন, নতুন করে বলার কিছু নেই।
    আপরিচিত দু’জনের একজন বলে –ঠিক আছে, ঠিক আছে। এবার মিটিং শুরু হোক কমরেড।
          সোনালী একটু কৃত্রিম  ভারিক্কি ভাব এনে শুরু করে— ‘আজ এটা বিলাসপুর সেল কমিটির এমার্জেন্সি বৈঠক, স্বল্প সময়ের নোটিসে ডাকা হয়েছে। তবু ফুল অ্যাটেন্ডেন্স। প্রথমে আমি সবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। আমি সোনালী, এই সেলের সেক্রেটারি এবং স্টুডেন্ট সেলের দায়িত্বে আছি।  আমার পাশে ইনি কমঃ  লোকেশ বিদ্রোহী। আমাদের সেলের অধ্যক্ষ,  মজদুর এবং কালচারাল ফ্রন্টের দায়িত্বে আছেন। কমঃ পারমিন্দর রেলওয়ে মজদুর এবং মেয়েদের মধ্যে সংগঠন তৈরি করছেন। আর আজকের বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি কমরেড লাল মুহম্মদ, সেন্ট্রাল কমিটি মেম্বার এবং মিলিটারি কমিশনের সদস্য’।
          
             আমি এবার আমার মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে নীচু গলায় বলি—লাল সেলাম। কিন্তু বাকি তিনজনের পরিচয়? আপনারা নিজেরাই বলুন।
           
             রুদ্রাক্ষের মালা এবং পানের কালচে ছোপ ধরা বয়স্ক ভদ্রলোক বললেন—আগেই বলেছি, আমি কমঃ রাজারাম। জোনাল এবং সেন্ট্রাল কমিটির সদস্যরা এলে আমাদের এলাকায় তাঁদের সিকিউরিটি এবং শেল্টারের বন্দোবস্ত করা আমার দায়িত্ব।      
    বাকি দুজন কমঃ অশোক এবং বিজয় জানালেন ওঁরা টেকনিক্যাল কোরের দায়িত্বে আছেন। বেশ কথা। এবার কাজের কথা হোক।
            
             সোনালী আবার সেই কৃত্রিম গম্ভীর আওয়াজে শুরু করল—‘আজকের এমার্জেন্সি বৈঠকের উদ্দেশ্য হল কমঃ লাল মুহম্মদের এই এলাকা থেকে পুলিশের কর্ডন এড়িয়ে সেফ এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা। এখানে বলা দরকার যে গত দু’দিন পুলিশের কড়া নজরদারির ফলে আমাদের কনভয় বিলাসপুর এলাকা থেকে বেরিয়ে যেতে পারেনি। ফলে আমাদেরও ট্যাক্টিক্‌স পাল্টাতে হচ্ছে। কনভয় না নিয়ে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ না করে এখান থেকে বেরোতে হবে। কারণ বাংলা -বিহার উড়িষ্যার বর্ডার কমিটির পুনর্গঠনের বৈঠকে সেন্ট্রাল কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে কমঃ লালকে এই সপ্তাহের মধ্যে ছোটনাগপুর বেল্টে পৌঁছে যেতেই হবে, সামান্য দেরি হয়ে গেছে।
                কিছু ঘটনার ফলে পুলিশ জেনে গেছে যে তাদের টার্গেট কমঃ লাল মুহম্মদ বিলাসপুরেই আছেন। ফলে ওদের রায়পুর থেকে আসা ক্র্যাক টিমের সাহায্যে শুরু হবে পাড়া ধরে ধরে চিরুনি তল্লাসি। আজ এরই মধ্যে রেলওয়ে এলাকায় তল্লাসি শুরু হয়েছে। পোর্টার খোলি, চুচইয়া পাড়া এবং ক্লাব এলাকায় ঘরে ঘরে জিজ্ঞাসাবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে কমঃ পারমিন্দরের অত্যন্ত দুঃসাহসী এবং ইনোভেটিভ প্ল্যানের ফলে কমঃ লালকে ওই এলাকা থেকে বের করে এখানে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
    কিন্তু এখানেই কেন? সেটা কমঃ অশোক আপনাদের সামনে পেশ করবেন’।
     
                 আমি হাত তুলি।
    --‘কিছু মনে করবেন না কমরেডস। আমি আগে জানতে চাই এই বৈঠকের সিকিউরিটির জন্য কী ব্যবস্থা হয়েছে?
     
                 রাজারাম জানায় যে অন্ততঃ ১৭ জন কমরেডসকে নিয়ে একটা সুরক্ষা ঘেরা তৈরি করা হয়েছে। বিলাসপুরের মূল শহর থেকে নদীর এপারে আসতে হলে পুলিশকে নদীর ওপর চার চারটে পুলের কোন একটা দিয়ে আসতে হবে। প্রতি পুলের সামনে একজন করে লোক রেখেছি। পুলিশের মুভমেন্ট দেখলেই মোবাইলে তিন সেকেন্ডের মধ্যে আমার কাছে খবর চলে আসবে। শ্মশান এলাকায় লোহার ঠেলা গাড়িটা মুক্তিধামের পেছনে ডোমের ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
              চারটে পুলের গোড়া থেকে এই জায়গাটা অব্দি অন্ততঃ তিন -তিন জনের স্কোয়াড রয়েছে। ওরা আতসবাজি জ্বালিয়ে পটকা ফাটিয়ে পুলিশকে ধোঁকা দিয়ে আটকে রাখবে বা দেরি করাবে। অজুহাত দেবে যে কাল ভারত শ্রীলংকাকে ছ’ উইকেটে হারিয়েছে—সেই সেলিব্রেশন।  আর আতসবাজির আওয়াজে আমরা বিপদের সিগন্যাল পেয়ে যাব।  
    --তারপর?
          
              এবার মুখ খোলে কমঃ বিজয়।
    --'আমার টেকনিক্যাল কোরের কমরেডরা পুলিশকে অন্ততঃ ঘন্টাখানেক আটকে রাখতে পারবে।  সেই ফাঁকে আমি কমরেডকে নিয়ে নদীর একটা কোণায় যেখানে জল কম সেই জায়গাটা দিয়ে হেঁটে পেরিয়ে যাব। এখানে পুলিশ পৌঁছনোর আগে বাড়ির মালিক রাজারাম ছাড়া সবাইকে চলে যেতে হবে। অশোক দুই মহিলা কমরেডদের নিয়ে সাধারণ লোকেদের ভীড়ে মিশে সরকন্ডা পুল পার হয়ে গেলে সবাই যে যার ঘরে সেফলি পৌঁছে যাবেন। পুলিশ সন্দেহের বশে এই ঘরে সার্চ করলেও কিছুই পাবে না।
       
          'এই ঘরে কোন রাজনৈতিক কাগজপত্তর-বই-পত্রিকা  নেই। আমাদের সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষ হতেই কমঃ মুহম্মদ এখানে রাত্তিরের খাবার খেয়ে নেবেন । তারপর আমি আর দেরি করব না। ওনাকে নিয়ে বেরিয়ে যাব। আজ রাত্তিরে বিলাসপুর এবং সমতলের এলাকা পার করে কাল দুপুর নাগাদ অম্বিকাপুর-চিরিমিরি বেল্ট হয়ে পরশু সকালে  পালামৌ ডিভিশনাল কমিটির কেয়ারে  কমরেডকে পৌঁছে দিয়ে তবে আমার ছুটি'।
     
        লোকেশ বিদ্রোহী বলে যে এর চেয়ে সহজ হবে আজ মাঝরাতে বিলাসপুর স্টেশনে কমঃ লালকে হাওড়ার টিকিট কেটে কলকাতাগামী  হাওড়া-কুর্লা এক্সপ্রেসে জেনারেল কম্পার্টমেন্টের ভীড়ে  তুলে দেওয়া। দু’তিন ঘন্টার মধ্যে ট্রেন ছত্তিশগড়ের এলাকা পেরিয়ে যাবে।
     
        আমি কোন কথা বলি না। বিজয় বিরক্ত হয়।
     
    --কমরেড লোকেশ, এ’ধরনের অপারেশনের ব্যাপারে আপনার কোন অভিজ্ঞতা নেই। কী করে ভাবলেন যে এই বুদ্ধিটা পুলিশের মাথায় আসেনি এবং আজ থেকে আগামী সাতদিন অব্দি সাদাপোষাকের পুলিশের দল পালা করে কোলকাতাগামী সমস্ত ট্রেন আসার আগে  থেকেই প্ল্যাটফর্মে নজর রাখবে না? বিশেষ করে রাতের গাড়িগুলোতে?
       এ’সব যার কাজ তাকে করতে দিন। চটপট মিটিং শেষ করে একঘন্টার মধ্যে কমরেডের খাওয়ার ব্যাপারটা মিটিয়ে আমাদের রওনা হতে হবে। খালাসীর পোষাক নষ্ট করার দায়িত্ব কমঃ পারমিন্দরের। বাকি আমি দেখব। উনি সেফলি ঠিক জায়গায় পৌঁছে গেলে আগামী সপ্তাহে এখানে ইউনিট বৈঠকে আমি ফর্মাল রিপোর্ট পেশ করব।
     
    পারমিন্দর হাসে।
    -সবাই নিশ্চিন্ত থাকুন, বিলাসপুর ইউনিটের কুশল এবং দক্ষ পরিচালনায় কমঃ লাল মুহম্মদ ঠিক সময়ে সীমান্ত কমিটির পুনর্গঠনের সম্মেলনে হাজির হবেন। একটা অনুরোধ কমঃ লাল, ওখানে আপনার গ্রেট এস্কেপের গল্পটা বলে ছত্তিশগড় রিজিয়নের বিলাসপুর ইউনিটের নামে একটা ধন্যবাদ প্রস্তাব পাশ করাবেন কিন্তু।
          সবাই হেসে ওঠে।  সোনালী ঘোষণা করতে যাচ্ছিল যে বৈঠক শেষ, কিন্তু হাত তুলল কমঃ লোকেশ।
     
    --এক মিনিট। আমি কমঃ লালকে একটা প্রশ্ন করতে চাই। কিস্টাইয়াকে ওভাবে মেরে ফেলা—এটার কি খুব প্রয়োজন ছিল?
    সবাই চুপ। কিন্তু ছোট্ট ঘরটার ভেতরে সবার চোখেমুখে যেন অদৃশ্য বিদ্যুৎ তরঙ্গের ঝিলিক।
     
    মুখ খুলল বয়স্ক কমরেড রাজারাম।
    --মানে? কে মেরেছে?
    সবাই আমার দিকে তাকিয়ে।
    আমি দু’সেকেন্ড সময় নিলাম।
    --পার্টি, আমাদের পার্টি মেরেছে।
     
    লোকেশের চেহারায় উত্তেজনা।
    ---পার্টি? কবে পার্টির মিটিং হল? কখন ডিসিশন নেওয়া হল?
     
    আমি উঠে দাঁড়াই।
    --আমরা এখন রণক্ষেত্রে আছি। এই সময় গুরুত্বপূর্ণ ডিসিশন  অমন ঘটা করে এজেন্ডা সার্কুলেট করে হতে পারে না। ব্যারিকেডে  দাঁড়িয়ে যদি প্রত্যেক সোলজার প্ল্যাটুন বা সেকশন কম্যান্ডারের আদেশ নিয়ে তর্ক করতে শুরু করে তাহলে আর কাউকে বেঁচে ফিরতে হবে না।
      
    লোকেশ আরও উত্তেজিত।
    --বেশ, কিন্তু অ্যাকশনের পর তার জাস্টিফিকেশন নিয়ে পার্টি ইউনিটের মধ্যে রিভিউ এবং পোস্ট মর্টেম হওয়া দরকার। নইলে চম্বলের ডাকাত দল আর আমাদের মধ্যে তফাত কোথায়? সেই অধিকারে প্রশ্ন করছি। দুটো প্রশ্ন।
    এক, কিস্টাইয়ার একজিকিউশনের ব্যাপারে ডিসিশন কে নিয়েছিলেন? মানে ‘সেকশন কম্যান্ডার’ কে ছিলেন?
    দুই, কিস্টাইয়াকে মেরে ফেলা কি জরুরি ছিল? অন্য কোন কিছু ভাবা যেত না?

        
    আচ্ছা, তার মানে লোকেশ অনেক আগে থেকেই তৈরি হয়ে এসেছে।
    আমি এবার সবার মুখের দিকে একবার তাকাই।
     
        সোনালীর চেহারায় একটা কেঠো মুখোশ এঁটে বসেছে। পারমিন্দর হতভম্ব। একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে একবার লোকেশের দিকে। রাজারামের চেহারায় বিরক্তি। বিজয় যেন একটু অধৈর্য, অশোক মেজের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
     
    --'ভাল প্রশ্ন। এক এক করে বলছি। হ্যাঁ, ওই সময় ডিসিশনটা আমিই নিয়ে ছিলাম, সেকশন বা প্ল্যাটুন কম্যান্ডার যাই বলুন—সেসব তখন আমিই, একা আমি।
    আর জাস্টিফিকেশন? আমি তখন নিশ্চিত যে কিস্টাইয়া পুলিশের  হয়ে  খোচরগিরি  করছে। কী করে নিশ্চিত হয়েছিলাম? সে নিয়ে তদন্ত কমিশন বসানোর সময় এটা নয়। পরে কোন সেফ জায়গাতে সুযোগ হলে আমি সমস্ত সাক্ষী এবং প্রমাণ পেশ করতে রাজি আছি।
    এখন খালি এটাই বলছি যে ও আমাদের সঙ্গে ফেরার সময় পথে সেলফি তোলার চেষ্টা করেছিল। 
          'আপনারা জানেন যে আমার ছবি পুলিশের কাছে নেই, কোন পার্টির পত্রিকায় বা কম্যুনিকে নেই। কোথাও স্টেটমেন্ট দিয়েছি তো মুখ ঢাকা অবস্থায়। ওদের কাছে খালি একটা আবছা বর্ণনা আছে।  আর এই সতর্কতার ফলেই আজও  বেঁচে আছি।
     
        'কমরেড লোকেশ, আমরা খুনি নই,  চম্বলের ডাকাত নই। আমরা তখনই কাউকে এলিমিনেট করার কথা ভাবি যখন সেটা আমাদের , মানে পার্টির বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য মনে হয়। এখানে একজন ব্যক্তির চেয়ে সমষ্টির স্বার্থ দেখাটা জরুরি।
    আপনি কালচারাল ফ্রন্টে কাজ করছেন। ব্রেখটের ‘ডি মাসনামে’ বা সমাধান নাটকটা পড়ে নেবেন।  যে বিপ্লবের প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে না তাকে সরে যেতে হবে। আপনি আমি কেউই অপরিহার্য নই। কিস্টাইয়ার মৃত্যু একটা কোল্যাটারাল ড্যামেজ। এর বেশি এই মুহুর্তে বলতে পারছি না’।
     
          বিজয় উঠে দাঁড়ায়। ঘড়ি দেখে।
    --কুড়ি মিনিটের মধ্যে রওনা হতে চাই। কমরেড লাল, খেয়ে নিন, আপনার ব্যাগ গুছিয়ে নিন। টাকাপয়সা আমি দেখে নেব। এখন সবার মোবাইল বন্ধ রয়েছে। আমরা রওনা হবার আধঘন্টা পর্য্যন্ত কেউ মোবাইল অন করবেন না। কেউ এখান থেকে বাইরে যাবেন না। অন্য সমস্ত স্থানীয় এজেন্ডা নিয়ে মিটিং চলতে থাকুক। কমরেড সোনালী ডিসিশন নিলে তবে সবাই বেরিয়ে পড়বেন।

    রাত্তির আটটা বাজে।  হিরোহোন্ডা মোটর বাইকে বিজয়ের পেছনে আমি বসে আছি। আমার ছোট ব্যাগটি ওর ডিকির ভেতরে। আমরা  অম্বিকাপুর-চিরিমিরি যাচ্ছি না, আমি  কলকাতা যাচ্ছি না। বিজয় আমাকে নিয়ে যাচ্ছে উলটো দিকে , রায়পুর -ধমতরী হয়ে বস্তারের দিকে। 
         আমরা কোন্ডাগাঁও -জগদলপুরের দিকে সোজাসুজি যাব না। ধমতরির কাছাকাছি কোন গ্রামের পথ ধরে চারামা -মৈনপুর স্কোয়াডের এলাকায় পৌঁছে যাব। তারপর ওদের দায়িত্ব ।
     
           আমাকে বাইক ও হাঁটাপথে অবুঝমাড়ের পাহাড়িতে সেন্ট্রাল কমিটির ঘাঁটিতে  পৌঁছুতে হবে। সেখানে সেন্ট্রাল কমিটি এবং মিলিটারি কমিশনের বৈঠকে গত দু’মাস ধরে মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলিতে ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পুরো রিপোর্ট দিতে হবে। খতিয়ে দেখতে হবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। কীভাবে পুলিশ ইনফিল্ট্রেট করল তার তদন্ত হওয়া চাই। দরকার হলে নতুন অচেনা মুখের লোকজনের একটি দল তদন্তের জন্যে ওখানে পাঠাতে হবে।
     
          আমার কোলকাতা যাওয়ার কোন  প্ল্যান ছিল না। ওটা একটা গল্প, পুলিশকে খাওয়ানো হয়েছিল। ওটা আমার ফলস মুভ, আমার স্কুলজীবনের ময়দানের হিরো সুরজিত সেনগুপ্তের মত। নিজের উপর বিপক্ষের ফোকাস রেখে উলটো দিকে বল ছাড়া দৌড়ে যাওয়া ।
        পুলিশ পরে টের পাবে বর্ডার কমিটির সম্মেলনে আমার জায়গায় হাজির হয়েছিল আমার শ্যাডো শংকর। আমার মত গড়ন, আর সুবিধে হল আজকের বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা রিজিওনাল কমিটিতে যারা আছেন তারা কেউ আমাকে চেনে না, অর্থাৎ সামনা -সামনি দেখেনি। যারা চিনত তারা হয় মারা গেছে, অথবা লাইন ছেড়ে বসে পড়েছে।
      
         গড়চিরৌলির ম্যাসাকারের পর আমি অনেক বেশি সতর্ক। যেটা ইউনিট মিটিংয়ে বলা হবে সেই রুটে অবশ্যই যাব না। আমাদের মধ্যে পুলিশের ইনফিল্ট্রেশন হয়েছে, তার গন্ধ পাচ্ছি।  প্রথমে  বাজিয়ে দেখা উচিত সব ডাবল এজেন্টদের। টাকার লোভে এরা কখন হাওয়া মোরগের মত দিকবদল করে আগে থেকে বলা মুশকিল।
     
    কিস্টাইয়া বাইরে পুলিশের গুপ্তচর হলেও আসলে ছিল আমাদের খবরি। পুলিশকে দিত ছোটখাটো স্কুপ, আমাদের জানিয়ে দিত অনেক গোপন প্ল্যান, যার গুরুত্ব হয়ত ও নিজেও সব বুঝত না।
     
        সেদিন সন্দেহ হয়েছিল অনেকগুলো কারণে।
    বিশেষ করে কোটা থেকে ফেরার পথে নাস্তা করার সময় যখন দ্বিতীয় গাড়ির ছেলেদের সঙ্গে বড্ড হুল্লোড় করছিল। সেলফি তুলছিল। আমি ধমক দিয়ে সব বন্ধ করালাম। ও বোহহয় আমার পরিচয় ঠিক জানত না। খালি এটুকু বুঝেছিল যে পুলিশ আমাকে ধরার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করছে। তবে পুলিশের লক্ষ্য হল বিক্রম, কিন্তু আমি তো কমঃ লাল মুহম্মদ।
     
        তবে ইউনিট বৈঠকে আমি সবটা ঠিক বলি নি। কিস্টাইয়া আমার সঙ্গে সেলফি তোলার কথা বলে নি। ও সেলফি তুলছিল অল্পবয়েসি ছেলেগুলোর সঙ্গে। তাতে কি! আমি না আটকালে কখন অসতর্ক মুহুর্তে ওর মোবাইলে আমার ফটো বরাবরের মত বন্দী হত সেটা কে বলতে পারে!
     
         যখন বিলাসপুর ফেরার পথে আমাদের মুখোমুখি হল প্রাইভেট সিকিউরিটির গাড়ির সঙ্গে আর ও চট করে নেমে গেল পেট্রোল দিয়ে আসতে, তখনই ভয় পেয়েছিলাম। ও কি তেল দেওয়ার ফাঁকে ওদের কোন ইশারা করবে ? তাই ওর সঙ্গে গেল কমঃ রতন। কিন্তু আমি কমঃ মূর্তিকে বললাম রিস্ক নেওয়া ঠিক হবে না। তিন কিলোমিটার  আগে গাড়িটা  দাঁড় করা।
          
          ওদের গাড়ি উলটো দিকে পেট্রোল পাম্পের খোঁজে রওনা দিল। আগের পাম্প অন্ততঃ কুড়ি কিলোমিটার। মানে ওরা তেল ভরিয়ে এদিকে ফিরতে আরামসে এক ঘন্টা। আমার জন্য যথেষ্ট।
          কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে গিয়ে গাড়িটা গাছের ছায়ায় দাঁড় করালাম। দুটো গাড়ির ছ’জন মিলে ড্রিংক করতে বসল। আমি কাজের সময় এসবের ধারে কাছে নেই। কিস্টাইয়া বোধহয় টেনশনে ছিল। চোঁ চোঁ করে দু’গেলাস নীট মেরে দিয়ে গামছায় মুখ মুছতে লাগল।
            কোথাও হয়ত আমার মনে একটু দ্বিধা ছিল। ছেলেটার বয়েস বড্ড কম যে! ভাবলাম একটু পরীক্ষা করি।
     
             আমরা সবাই খুশি, পুলিশকে বোকা বানানো গেছে। কিন্তু আমাদেরও প্রোগ্রাম বদলাতে হয়েছে। আজ নদী পেরিয়ে রায়গড় ঝারখণ্ডের দিকে যাওয়া পোস্টপন্ড, বললাম –পরশু যাব।
    কিস্টাইয়ার চোখ চকচক করছে।
    --বস্‌ আমার গাড়িটাই নেবেন তো? আমি ওদিকের সব পথঘাট জানি। খরসিয়ার দিক থেকে বলুন কি ছাতি গাঁয়ের নালা পেরিয়ে বনের রাস্তা—সব আমার হাতের তালুর মত। ওদিকে এই সময় বুনোহাতির দল বেরোয়, আর ভালুক আসে মহুয়া খেতে।
       আপনি ভাববেন না, বস্‌। আমি ওসব এড়িয়ে আপনাকে সেফ পথ দিয়ে নিয়ে যাব। আপনি যদি পরশু যেতে চান তাহলে আমি আর অন্য কোন পার্টিকে এ’দুদিন নেব না।
     
        এবার আমি নিঃসন্দেহ। এই তাহলে--? এরই মত কারও শয়তানিতে শ্যামলী মারা গেছে। একটা গোটা লাল এলাকা ধ্বংস হয়েছে। মূর্তিকে ইশারায় সিগন্যাল দিলাম।
    --এই চুরির গাড়িটা ছেড়ে দে। এমন  কোথাও ফেলে রাখ যাতে ট্রেস করতে দু’দিন লাগে। তারপর তুই এই গাড়িতে উঠে বস। তোকে আইটি আইয়ের মোড়ে নামিয়ে দেব। তোর মোবাইলটাও দিয়ে দেব। ওখান থেকে কোন ভাই বেরাদরকে ডেকে নিয়ে তার মোটরবাইকের পেছনে বসে রেলস্টেশনে চলে যা। শেষ রাতের ট্রেন ধরে রায়পুর । তারপর পরশুদিন তোকে আমরা কন্ট্যাক্ট করব, তুই কোন ফোন করবি না।
      --ঠিক আছে বস্‌।
     
          ও গিয়ে ড্রাইভারের সীটে বসে স্টার্ট দেয় , গিয়ার নিউট্রালে হওয়ার আগেই পেছনের সীটে বসা কমঃ মূর্তি ওর মাথায় বাড়ি মারে।
                                                                                                       (চলবে)
    | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫
  • ধারাবাহিক | ০৪ জুলাই ২০২২ | ৪১৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৫ জুলাই ২০২২ ১২:২৪509661
  • একগাদা টাইপো এবং বাক্যগঠনে ভুল ছিল। আমার মত করে শুধরে দিয়েছি। তবু কোন ভুল কেউ দেখিয়ে দিলে শুধরে নেব।
     থ্যাঙ্কু গুরুর কল এবং টেক টিম-এই অপশনটার জন্যে।
  • বিপ্লব রহমান | ১২ জুলাই ২০২২ ০৬:২১509812
  • "আমাদের নীতি হচ্ছে, পার্টি বন্দুককে কমান্ড করবে, বন্দুক পার্টিকে কখনোই নয়",  মাও সে তুং এর বিখ্যাত উক্তি। 
     
    দারুণ হচ্ছে। তারপর? 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন