বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি(রহস্য উপন্যাস)ঃ পর্ব ১৫

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১২ আগস্ট ২০২২ | ৩৪০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)

  • “ঊর্ণনাভ নিজের জালে নিজে জড়াইল”
    সৌরভ
    আজ আকাশ একটু মেঘলা।
    আমাদের মানা ক্যাম্প বা বিলাসপুরে এখন দুর্গাপুজোর প্রাঙ্গণে অষ্টমীর অঞ্জলি দেবার ভিড় শুরু হয়ে গেছে। এখানে ওরকম দুর্গাপুজোর প্যান্ডাল চোখে পড়ে নি। জগদলপুরে নাকি বড় করে বেশ ক’টা পুজো হয়। এই প্রথমবার আমি অষ্টমীর অঞ্জলি মিস করলাম।
     
    ধুত্তেরি! কবে যে শালার এই অ্যাসাইনমেন্ট থেকে মুক্তি পাব! তারপর আর বিলাসপুরে ফিরে যাব না। কোসলে স্যারের এজেন্সির ম্যাও উনি সামলান গে’। আমার এই শেষ, বলে দিয়েছি তো! কালকের  ওই ঘটনায় একটু কেন, বেশ ভয় পেয়েছি।
    তাহলে ফিরে গিয়ে করবটা কী? বাবার হোটেলে খেয়েই জীবন কাটাব? কভী নেহীঁ।
     
    আচ্ছা, একটা চাকরি তো করছি। এটাতে অমন চাপ নেই। এটাই চালিয়ে গেলে মন্দ কী? আমার নিয়োগ পত্রে কোথাও তো লেখা নেই যে এটা তিন মাসের জন্যে। বরং গোটা গোটা অক্ষরে রয়েছে ছ’মাস প্রোবেশনের কথা। আর ওই রিসার্চ প্রোজেক্ট যদি ঠিকমত নামিয়ে দিতে পারি তাহলে কি ডায়রেক্টর আমাকে রেখে দেবেন না?
    সে যখন হবার হবে। কিন্তু ওই রিসার্চে  বস্তারের দন্তেওয়াড়া  এলাকায় কি সোনালীর হেল্প নিতে হবে? ও নাকি এম ফিল করেছে? তাহলে তো রিসার্চ ব্যাপারটা কি সেটা ভালই জানে। হেল্প নিলে দোষের কী আছে?
     
     
    দন্তেওয়াড়ার এই বি-গ্রেড গেস্ট হাউসে বেড টি দেয় না। না দিক গে।  বাইরে রাস্তার চায়ের দোকান তো ঢের আছে। ঘড়িতে দেখছি সাড়ে সাতটা। প্যান্ট গলিয়ে বাইরে যাই। ঠিক আছে, সাবধানের মার নেই। একা যাব না। একটা ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যাব।
     
    কী আপদ! ছেলেগুলো কেউ চা খাবে না। সবাই যাচ্ছে দন্তেশ্বরী মাঈয়ের মন্দিরে। সেখানে পুজো দিয়ে তারপর চা’ বা টা’ সবই চলবে। ঠিক আছে। আমিও খাবো না। ওদের সঙ্গে গিয়ে মন্দিরে পুজো দিয়ে এসে তার পরে। আরে, মহাষ্টমীর দিন প্রতিবছর তো তাই করি।
    আর দুর্গা, কালী, দন্তেশ্বরী মাঈ সবই তো এক। মহামায়া বলে কথা।
    দলবেঁধে পায়ে হেঁটে চলে যাই মায়ের মন্দিরে, জোড়া নদী শংখিনী ডংকিনীর তীরে।
     
    বিশাল প্রাচীন মন্দির। বয়সের ছাপ স্পষ্ট। সাত সকালে লম্বা লাইন। ডিজি সাহেবের গাড়ি বাইরে দাঁড়িয়ে। তার মানে উনি ইতিমধ্যেই ভেতরে ঢুকে গেছেন। বড় মানুষের ব্যাপার স্যাপার আলাদা, ওনাকে নিশ্চয়ই লাইনে দাঁড়াতে হয়নি।
     
    আমার নম্বর এল।
     
    এবার পাথুরে সিঁড়ি বেয়ে খানিকটা হেঁটে মূল মন্দিরে নামতে হবে। কিন্তু কয়েক ধাপ নামার পর এ কি গেরো! খালি জুতো আর বেল্ট নয়, পুরো জামা প্যান্ট গেঞ্জি আণ্ডারওয়ার সব খুলে মন্দিরের সেবাইতদের একটা কামরায় রেখে ওদের দেওয়া শুধু ধুতি পরে নদীতে একটা ডুব দিয়ে তবে অঞ্জলি দেওয়া যাবে?
    আমাদের দিল্লি থেকে আসা ডিজি সাহেবও তাই করেছেন নাকি?
     
    যতসব সেকেলে নিয়ম কানুন! নাঃ , আমি চানও করব না, জামাকাপড় ছেড়ে ওদের দেওয়া ফিনফিনে ধুতি পরে মায়ের দর্শনও করব না। এ যাত্রা দূর থেকে হাতজোড় করেই ওপরে উঠে এলাম। চায়ের দোকান কোথায়?
     
    একটা বড় ইম্পোর্টেড গাড়ি দাঁড়িয়ে। তাতে উঠছেন মাঝবয়েসী এক দম্পতি। লোকে ফিসফিস করছে আর তাঁদের হাত তুলে নমস্কার করছে, উনিও খানিকটা পালটা দিয়ে গাড়িতে উঠলেন।
    ব্যাপারটা কী?
    লোকজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম ওঁরা হচ্ছেন বস্তারের মহারাজা ভঞ্জদেও পরিবারের বর্তমান কুলপ্রদীপ। দন্তেশ্বরী হচ্ছেন ওঁদের কুলদেবী। মহাষ্টমীতে প্রথমে ওঁরা  পুজো করেন, তবে জনসাধারণ পুজো দিতে পারে।
     
    এইসব রাজামহারাজার প্রভামণ্ডলী থেকে দূরে সরে একটা চায়ের দোকান পেয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। এক গেলাস আদা দেওয়া ফুটন্ত চা চটপট শেষ করে আরেকটা নিই। কাঁচের গেলাসগুলো বড্ড ছোট। খালি পেটে চা খাওয়া ঠিক না। কাঁচের বয়ামে কিছু বেকারির বিস্কুটের মত চোখে পড়ল। দোকানদারকে ইশারায় দুটো দিতে বলি।
    কিন্তু পেছন থেকে একটা মহিলাকণ্ঠ বলে ওঠে—ওগুলো খাবেন না। সাতদিনের বাসি, আপনার শহুরে পেটে সইবে না।
     
    সোনালী বেশ সপ্রতিভ ভঙ্গীতে দুটো চায়ের দাম চা-ওলাকে ধরিয়ে দিয়ে আমাকে  বলে-- চলুন আপনাকে ভাল জায়গায় নাস্তা করিয়ে আনি।
    --এটা কী হল? আপনি কেন পয়সা দিতে গেলেন?
    --আপনি এতদিন পুলিশের ছত্রছায়ায় গোয়েন্দাগিরির চাকরি করেছেন, এনজিও কালচারের কিছুই জানেন না। এটা আমার এলাকা, তাই আমি হোস্ট। রায়পুরে গেলে আপনি খাইয়ে দেবেন, আমি আপত্তি করব না। আর কথা শোনেন না কেন? কাল বললাম না যে এই এলাকায় একা একা এলোমেলো ঘুরে বেড়াবেন না?
     
    ওর সঙ্গে গিয়ে জলখাবার জুটল কয়লার উনুনে সেঁকা পাউরুটি আর ডিমের ওমলেট। কয়লার নীলচে ধোঁয়ায় ময়লা কাঠের বেঞ্চে বসে দাগধরা প্লেটে পরিবেশন করা নাস্তা গিলে নিলাম। ‘ভাল খাবার জায়গা’ না হাতি!
     
    এরপর ও জানাল যে আজ কোন কাজ নেই। ডিজি পুজো দিয়ে নবরাত্রির উপোস ভাঙবেন।  তারপর ঘরে ফেরার পালা। আমরা তিনটে নাগাদ  রওনা হব, রাত এগারটা নাগাদ রায়পুরে কাফিলা পৌঁছে যাবে। সবাই যে যার মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। কনভয় রওনা হওয়ার আধঘন্টা আগে সার্কিট হাউস পোঁছে গেলেই হবে।
    চলুন, আপনাকে একটা সুন্দর জায়গা দেখিয়ে আনি।

    শংখিনী নদী যেখানে বাঁক নিয়েছে সেইখানে ছোট্ট একটা টিলা। নির্জন, গাছপালার ছায়ায় রোদের আঁচ টের পাওয়া যাচ্ছে না। পাতার আড়াল থেকে কিছু অজানা পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে।
    আমার মুখ থেকে বের‍িয়ে আসে –চমৎকার!
    --দেখলেন তো, আপনাকে বলেছিলাম না!
     
    ওর গলায় প্রগলভতার ছোঁয়া।
    --আরেকটু উপরে উঠবেন? ওই টিলাটার ওপরে? দেখবেন, অত উঁচু থেকে নদীটা কেমন দেখায়?
    আমরা পাথর আর আগাছায় হোঁচট খেয়ে উঠতে শুরু করি। আমার একটু হাঁফ ধরে গেছে। খাড়া টিলাটার মাথায় একটা বোল্ডারে উঠে পা ঝুলিয়ে বসি। এবার সোনালীও এসে বসল, কিন্তু পাশের আর একটা বোল্ডারে, একটু দূরত্ব রেখে।
     
     দূরে আর একটু উঁচুতে একটা গাছের নীচে খাপরা ছাওয়া একটা সাধারণ বাড়ি। তার পেছনে জঙ্গল শুরু হয়েছে।
    --কোন গান জানেন?
    --না, না। গান-টান আমার তেমন আসে না। কিন্তু হ্যাঁ, এই রকম পরিবেশে, তারপর পাশে আপনি থাকলে গলায় না আসুক, মনে গান না এসে পারে!
    ওর চোখ নেচে ওঠে।
    -কী গান মাথায় আসছে? সিনেমার গান?
    --হ্যাঁ।
    --কোন ভাষায়? বাংলা।
    আমার মাথায় দুষ্টুমি খেলে।
    --একটা তেলুগু সিনেমার গান জানি, এক বন্ধু শিখিয়েছিল। শুনবেন?
    --তেলুগু? হোক , হয়ে যাক।
     
    আমি “হম তুম এক কমরে মেঁ বন্দ হো অউর চাবি খো জায়ে” সুরে একটি গান আবৃত্তির মত করে ভাঙা গলায় শোনাইঃ কাপড় কাচতে ব্যস্ত মঙ্গাম্মা নামের কোন তেলুগু যুবতীর উদ্দেশে নায়ক গাইছেঃ
    “মঙ্গাম্মা, উতকুটুন্তে আন্দম, ইল্লা বেসাবয়া।
     রসিপেটি ইল্লা দি মানাকু”।
     
    সোনালী খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। হাসির দমকে ওর চোখে জল এসে যায়। ওড়নার খুঁট দিয়ে চোখ মুছে নিজেকে সামলায়। তারপর কেমন এক চোখে আমার দিকে তাকায়।  আমি অপ্রস্তুত, একটু লজ্জা পাই। তারপর সেটা ঢাকতে বলি—তুমিও একটা শোনাও না! ছত্তিশগড়ি বা তেলুগু?
    এই রে, ফের তুমি বলে ফেলেছি।
     
     
    জবাবে ও গুনগুন করে সুর ভেঁজে চাপা কিন্তু সুরেলা গলায়  তেলুগুতে গেয়ে ওঠেঃ
    “কমুনিস্ত লম্বিম্বু কস্তজীবলম্‌
    আওনান্না কাদান্না আদে ইস্তলম্‌।“
     
    কমুনিস্ট আমরা,
    আমরা কমুনিস্ট।
    খেটে খায় যারা তাদেরই আমরা
    আমরা কমুনিস্ট।
    মানো বা না মানো মত আমাদের
    আমরা রব সে ইস্ট।
     
    তারপর বাংলায় অন্তরাটা গায়, একটু উঁচু পর্দায়ঃ
    ‘হাত দিয়ে বল সূর্যের আলো রুধিতে পারে কি কেউ?
    আমাদের ধরে ঠেকানো কি যায় জনজোয়ারের ঢেউ?”

    গানটা হঠাৎ থেমে যায়। হয়ত খোলা জায়গায় চড়া সুর টিলার ওপরে গাছের নীচে লম্বা একটেরে সাধারণ বাড়িটায় পৌঁছে গেছে। কারণ, বন্ধ দরজা খুলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে একজন মাঝবয়েসি লোক। তার পোড়খাওয়া চেহারায় ঝকঝকে দাঁতে অনাবিল হাসি। ওর গায়ে একটা সাদার মধ্যে সবুজ পাতলা ডোরাকাটা সুতির শার্ট, আর খাটো ধুতি, লুঙ্গির মত করে ভাঁজ করে পরা।
    স্মিত মুখে সে আমন্ত্রণ জানায় –আইয়ে!
     
    আমি দ্রুত ভাবতে থাকি।
    এ কে? আমাদের কেন ডাকছে? সোনালী কী করে বিনা বাক্যবয়ে ওর পেছন পেছন চলছে? ওদের কী সম্পর্ক? আমার এখন কী করা উচিত?
    ভাবার বেশি সময় পেলাম না। কারণ লোকটা দাঁড়িয়ে পড়েছে। আমাকে ইশারা করছে সোনালীর সঙ্গে যেতে। ওর হাসিমুখ সত্ত্বেও  ভঙ্গিতে বেশ একটা কর্তা কর্তা ভাব।
     
    দরজা খোলাই ছিল। আমরা ভেতরে গেলে সবার শেষে  লোকটি ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল। আমি মনে মনে পরিস্থিতি জরিপ করি।
     
    লম্বাটে আয়তাকার হলঘরের মত। ওর পেছন দিকেও একটা দরজা আর জানালা রয়েছে। কিন্তু সব ভেতর থেকে ছিটকিনি তুলে বন্ধ করে রাখা। তবে বাঁদিকের দেয়ালে একটা বন্ধ দরজা। মনে হয় তার ওপাশে আরও একটা ঘর রয়েছে।
     
    একটা সাধারণ তক্তপোষে সতরঞ্জি সমেত গুটিয়ে রাখা বিছানা। ঘরের কোণায় জলের কুঁজো। আরেক কোণায় ছোট্ট একটা মাটির উনুন। পাশে একটা ঝুড়িতে কিছু আলু পেঁয়াজ ,গোটা কয়েক স্টিলের থালা গেলাস। আর মাটির মেজেতে উনুনের পাশ দিয়ে সামান্য এবং অগভীর একটা নালা খুঁড়ে জল বেরিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করা রয়েছে। একটা গাঁট বাঁধানো পাকা বাঁশের লাঠি বিছানার পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে রাখা।
     কোণের দিকে একটা হ্যারিকেন এবং কেরোসিন তেলের কুপি। আর একটা লোহার বালতিতে কিছু জল ধরে রাখা হয়েছে।
    মাটিতে একটা চাটাই বিছানো ।
     
     আমি  এবং সোনালী জুতো এবং চটি খুলে ওই চাটাইয়ে বসে পড়ি। লোকটি তক্তপোষে উঠে বেশ বাবু হয়ে বসে পড়েছে। সোনালী উঠে গিয়ে কুঁজো থেকে জল গড়িয়ে দুটো স্টিলের গেলাসে করে আমাকে একটা ধরিয়ে দেয়। তারপর অন্য গেলাসটা এক নিশ্বাসে চোঁ চোঁ করে সবটা খালি করে ওড়নায় মুখ মুছে নির্বিকার ভাবে দেয়ালের দিকে তাকায়।
     বুঝতে পারি ওর এই ঘরে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।
     
    এ আমি কোথায় এলাম?
     
    ইঁদুরকল!! বেরোতে পারব তো?
     
    লোকটা একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি চোখ নামাই না। ভয় যে পেয়েছি সেটা ওদের বুঝতে দেব না।
     
    লোকটা হঠাৎ হেসে ফেলে।
    --"তারপর বাবুমশায় , কেমন লাগছে আমাদের দন্তেওয়াড়া? সরি, আমার পরিচয়টা আগে দেওয়া উচিত।
     
    আমি কমরেড লাল মুহম্মদ, দন্তেওয়াড়া এলাকার ডিভিসনাল কম্যান্ডের চার্জে রয়েছি। আর আপনি হলেন  সৌরভ বিশ্বাস। বিলাসপুরের, শুধু বিলাসপুরের কেন গোটা ছত্তিশগড়ের সবচেয়ে নামকরা প্রাইভেট ডিটেকটিভ এজেন্সির দ্বিতীয় গোয়েন্দা। বুদ্ধি ও সাহসের যা নমুনা দেখছি অনেকদূর যাবেন।
    এখানে এসেছেন নিশ্চয়ই কোন তদন্ত  বা খবর সংগ্রহের কাজে।  খুব ভাল কথা।
    আমরা আপনাকে সাহায্য করব। একটু খুলে বলুন তো কী জানতে চান? কী রকম খবর চাই আপনার?
    আরে ভয় পাবেন না। এখানে আমাদের নেটওয়ার্ক খুব তাগড়া। অনেক বিষয়ে সরকারের চেয়ে ভাল”।
     
    আমার মাথা ঘুরছে। কিন্তু ঘাবড়ালে চলবে না। এটুকু বুঝে গেছি যে  সোনালী ওদের সঙ্গে যাকে বলে হ্যান্ড ইন গ্লাভস্‌।
    আমি উত্তর না দিয়ে গেলাসে রাখা জলটা আরামসে চুক চুক করে খেলাম।  তারপর হাতের উলটো পিঠ দিয়ে মুখ মুছলাম।
     
    আমার চাঁদসী ডাক্তার বাবা বলত কখনও নার্ভাস লাগলে বা মাথা কাজ না করলে ভাল করে জল খেতে হয়। তাতে রক্তের চাপ, অ্যাড্রেনালিন ক্ষরণ কমতে থাকে। চোখের দৃষ্টি পরিষ্কার হয়।  হ্যাঁ, একটু ভাল লাগছে।
     
    এবার কমরেড লালের চোখের দিকে তাকিয়ে নীচু স্বরে কিন্তু স্থির ভাবে বললাম— “আপনাদের কোথাও একটু ভুল হচ্ছে। আমি সেই ডিটেকটিভ এজেন্সিতে নেই। মানে, আমায় তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সোনালী সব জানে।
    আমার দায়িত্ব ছিল কবি লোকেশ বিদ্রোহীর হত্যা রহস্যের তদন্ত করা। মানে কী, কেন, সে’ব্যাপারে কিছু তথ্যপ্রমাণ আমার বস কোসলে স্যারের জন্যে জোগাড় করা।
    কয়েক মাস কেটে গেছে। আমি ডাহা ফেল। কাজ এক ফোঁটা এগোয় নি। উলটে আমার অনুরোধে আপনাদের সোনালী ও তার মায়ের জন্যে কয়েক মাস পুলিশ প্রটেকশনের ব্যবস্থা করা হল। তাতে আপনাদের কী কচুপোড়া লাভ হল জানি না। কিন্তু পুলিশ বিভাগের ঘাড়ে চাপল মোটা একটা বিল । তারপর সোনালী অমরাবতী যাচ্ছি বলে  বস্তারের দন্তেওয়াড়ায় চলে এলেন। আমাদের এজেন্সির বদনাম হল।
    আর আমার চাকরিটা গেল”।
     
    কমরেড লালের হাসিটা একটু বিজ্ঞের মত লাগল।
    --ইন্টারেস্টিং! তাহলে আপনি এখানে আমাদের এলাকায় কেন এসেছেন? কে পাঠিয়েছে?
    --সোনালীকে বলেছি তো! ছত্তিসগড় স্টেট রিসোর্স সেন্টারে জয়েন করেছি। ওদের কাজ পিছিয়ে থাকা এলাকায় মহিলা এবং প্রৌঢ়দের শিক্ষার তিনটে বেসিক জিনিস বা থ্রি ‘আর’, যাকে বলে পড়তে, লিখতে এবং গুনতে শেখানো। আরে সোনালী ম্যামও তো ওই বিভাগে কাজ করেন। ওনাকে জিজ্ঞেস করুন না!
      
    আমি এখানে রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর। আগামী মাসে রিসার্চ করতে আসব, তাই আগে ভাগে একটু দেখে-টেখে নেব আর কি!
    --কোথায় রিসার্চ করবেন? কোন এলাকায়?
    --কোণ্ডাগাঁও, দন্তেওয়াড়া, সুকমা এবং বীজাপুর।
    --রিসার্চের বিষয়?
     
    এই মরেছে! সে তো ডায়রেক্টর ভেঙ্কটগিরি সাহেব পরে জানিয়ে দেবেন বলেছিলেন। এখন কী যে করি!  ভাবার জন্যে সময় চাই।
     
    --সেটাও কি এক্ষুণি জানাতে হবে? ফাইনাল হয় নি যে। আমি খালি প্রপোজাল জমা দিয়েছি।
    এটা কী বললাম? তাহলে তো আমি জানি। ধেত্তেরি!
    --বেশ, তো প্রপোজালের ব্যাপারেই বলুন না! আর টার্গেট এরিয়া হিসেবে আমাদের কাজের এরিয়াটাই কেন বেছে নিলেন সেটাও বলুন।
     
    আমার গলা শুকিয়ে গেছে। অসহায়ের মত সোনালীর দিকে তাকাই। ইশারায় জল দিতে বলি। ও চুপচাপ আমার গেলাসটা নিয়ে উঠে গিয়ে আরেকবার জল গড়িয়ে নিয়ে এসে আমার হাতে দেয়। এবার আমি এক নিঃশ্বাসে গেলাস খালি করে মৃদুস্বরে বলি –থ্যাংক ইউ!
     
    কমরেড লালের চেহারায় বিদ্রূপ।
    --কোন তাড়া নেই বাবুমশায়। গল্পটা ভাল করে ভেবে বলুন। দরকার হলে গোটা দুপুর সময় নিতে পারেন।
     
    আমি এবার গুছিয়ে বলতে শুরু করি।
    --আমাদের সংস্থাটি কেন্দ্রীয় সরকারের লিটারেসি  প্রোগ্রামের ছোট একটা অংশ। আমাদের ম্যান্ডেট হচ্ছে ছত্তিশগড়ে আদিবাসী, দলিত এবং মহিলাদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার করা। এর মধ্যে ট্রেনিং এন্ড রিসার্চ উপবিভাগ আছে। আমি সেই দায়িত্বে কাজ করছি।
    আমি বেছে নিয়েছি এমন চারটি জেলা যা সারা ভারতে সাক্ষরতার ব্যাপারে পিছিয়ে থাকা দশটি জেলার মধ্যেও নীচের দিকে। আমার রিসার্চের বিষয় স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও এই এলাকায় সাক্ষরতার হার এত কম কেন, মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ প্রতিশতের মধ্যে?
     
    বাজারে চালু কথা হল মাওবাদীরা এই চারটে জেলায় ক্ষমতাশালী, ওরা স্কুল বিল্ডিং বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষকরা ভয় পাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা রাত্তিরে ঘর থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছে। সেজন্যেই পড়াশুনো শিকেয় উঠেছে।
    --এক মিনিট। রাত্তিরের কথা কেন? দিনে কি পড়াশুনো হয় না?
    --আমাদের টার্গেট গ্রুপ হল প্রৌঢ় শিক্ষা, অর্থাৎ বয়স্ক যে পুরুষ বা মহিলারা সারাদিন কাজ করে রাত্তিরে পড়তে রাজি হবেন, তাঁরা।
    --তা আপনার মতে লিটারেসি প্রোগ্রাম এখানে ফেল করার আসল কারণ কী?
    --সেটাই তো রিসার্চ করে দেখতে হবে। দেখুন,কারণ অনেক হতে পারে।
     
    যেমন, জঙ্গলে ঘেরা এবং দূরে দূরে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন গ্রামে শিক্ষাকেন্দ্র বা মাস্টারমশায়ের অভাব। বর্ষাকালে সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বই-খাতা অপ্রতুল। কিছুটা হয়ত মাওবাদী হামলার ভয়। আর রাত্তিরে বেরোলে পুলিশও মাওবাদী ভেবে গ্রেফতার করতে পারে।
    আর একটা কারণ হতে পারে এই বিচ্ছিন্ন পিছিয়ে পড়া এলাকায় লোকের মনে হয় লেখাপড়া শিখে হবেটা কি কচুপোড়া?  আমাদের বাপ-পিতামো লেখাপড়া শেখেনি, তাতে ক্ষতিটা কী হয়েছে? এই মানসিকতা পেছনে টেনে রাখে।
     
    --কোনটা বড় কারণ?
    --আরে সেটাই তো রিসার্চের বিষয়। এখনও তার ডিজাইন, মেথড, কতজনের থেকে ডেটা নেব—সেসব কিছুই ফাইনাল হয়নি। আমাদের ডায়রেক্টর ভেঙ্কটগিরি সাহেব ওটা ঠিক করবেন। আপনারা সাহায্য করলে ভাল হয়।
    আর আপনাদের কমরেড সোনালী যদি আমাকে গাইড করেন তাহলে সোনায় সোহাগা। উনি  তো এম ফিল,  আর আমি একদম আনাড়ি।
     
    সোনালী আমার দিকে কেমন একরকম করে তাকায়। কিছু বলবে বলবে করেও বলে না।
    এবার কমরেড লাল যেন একটু গম্ভীর।
     
    খানিকক্ষণ পরে বলে—হতে পারে আপনার কথা সত্যি।  এও হতে পারে যে আপনাকে পুলিশ বিভাগ থেকে সাজিয়ে গুজিয়ে পাঠানো হয়েছে।
    --এরকম কেন মনে হচ্ছে আপনার?
    -- “আপনি সাততাড়াতাড়ি চাকরিটা পেলেন কী করে? আপনাকে বিলাসপুরের প্রাক্তন পুলিশ অফিসার কোসলে চাকরি থেকে বের করে দিল। আর আপনি সাত-দশ দিনের মধ্যে রায়পুরে একটা আধা সরকারি চাকরি জুটিয়ে নিলেন? যদিও আপনার এনজিও লাইনে কাজের কোন অভিজ্ঞতা নেই”।
     
    আমি চুপ করে থাকি। কিছু মাথায় আসছে না।
    -“আচ্ছা, এটা বলুন তো, ওদের ওখানে যে পোস্ট খালি আছে সেই খবরটা আপনাকে কে দিয়েছিল? কাগজে কোন বিজ্ঞাপন তো বেরোয় নি”!
     
    যাঃ শালা! এটা তো ভাবি নি। কী বলা যায়? সময় চাই।
     
    --আপনাদের সোনালী ম্যাম কী করে খবর পেয়েছিলেন? ওরা  লোক নিচ্ছে সেটা  কী করে জানলেন? আমিও সেই ভাবে জেনেছি।
    --কমরেড সোনালী ওর বন্ধুর থেকে খবর পেয়েছিল।
    --আমিও তাই। আমার প্রাক্তন সহকর্মী সিমরন খবরটা দিয়েছিল।  
     
    হে হে, আমার কনফিডেন্স ফিরে আসছে।
     
    --বুঝেছি। কিন্তু কাল নতুন শিক্ষাকেন্দ্রে একজন সিকিউরিটির লোকের সঙ্গে অতক্ষণ ধরে কী কথা বলছিলেন? আপনি না ওসব লাইন ছেড়ে দিয়েছেন? আর ওর হাতে কীসব কাগজপত্তর গুঁজে দিচ্ছিলেন। ব্যাপারটা কী?
    আমি সবেগে মাথা নাড়ি । এটা ডাহা মিথ্যে কথা।
     
    বাঁদিকের দেয়ালের বন্ধ দরজাটা প্রায় নিঃশব্দে খুলে গেল। একটা টাঙি হাতে এগিয়ে আসছে কালকের সেই লোকটা—কমরেড মহীপাল। ওর চেহারায় এমন একটা আলগা হাসি যেটা দাবার টেবিলে নতুন খেলুড়েরা চেক দেবার সময় হাসে।   ও কি দরজার ওপাশে ঘাপটি মেরে সব শুনছিল?
    --কমরেড, এ মিথ্যে কথা বলছে। ব্যাটা পুলিশের লোক। কালকে অনেকক্ষণ একজন সিকিউরিটির সঙ্গে গুজগুজ ফুসফুস করে ওর হাতে কিছু কাগজ ধরিয়ে দিয়েছিল। আমি নিজে দেখেছি।
     
    কিন্তু ওকে ধমকে উঠলেন কমরেড লাল।
    --আলোচনার সময় টাঙি নিয়ে এসেছ কেন? ওটা নামিয়ে রাখ।
     
    মহীপাল গুটিয়ে যায়। বলে যে জঙ্গলে যাচ্ছিল কিছু জ্বালানী কাঠ কেটে আনতে। তারপর দেয়ালের গায়ে ওটা ঠেসান দিয়ে রেখে আমার দিকে একটা চাপা হিংস্র চোখে তাকায়।
     
    আমি বিরক্ত মুখে বলি যে একটা সেপাইকে পাতলা মত বই পড়তে দেওয়া হয়েছিল, কোন কাগজ-টাগজ নয়। ও চেয়েছিল, তাই। আর এক মিনিটের বেশি কথা হয়নি। মহীপাল নিশ্চয়ই অনেক দূর থেকে কিছু দেখেছে।
     
    সোনালী মুখ খোলে এবং জানায় যে আমি সত্যি কথা বলছি। ও লাগাতার আমাকে নজরে রেখেছিল।
    আমার মনটা দমে যায়।
     
    লাল তক্তপোষ থেকে উঠে আমার কাছে এসে দাঁড়ায়।
    --আপনার মোবাইলটা একটু দিন বাবুমশায়। কমরেড মহীপাল, ওর কলগুলো চেক কর। দেখ, গত তিনমাসে বিলাসপুর থেকে ক’টা ইনকামিং কল এসেছে, আর ক’টা কল গেছে। ততক্ষণ সোনালী আমাদের একটু চা বানিয়ে খাওয়াবে।
     
    ফুটন্ত চায়ে তাড়াহুড়ো করে চুমুক দিতে গিয়ে মুখ পুড়িয়ে ফেলি। এই টেনশনের মধ্যেও মনে হল সোনালী চা’ টা বেশ ভাল বানায়। ওর মায়ের মত নয়।
     
    ইতিমধ্যে মহীপাল চেক করে জানায় যে গত তিনমাসে এই নম্বর বা সীম থেকে বিলাসপুরের কোন ইনকামিং বা আউটগোয়িং নম্বর কল লিস্টে দেখা যাচ্ছে না। কোনও টেক্সটও নয়। কোন কল বা মেসেজ ডিলিটও করা হয় নি।
     
    আমি দাঁড়িয়ে পড়ি। এবার তো যেতে দেবে?
     
    --বসে পড়ুন বাবুমশায়। বলুন তো রায়পুর থেকে আপনার  এই সীমটা কবে কিনেছেন?
    --একটু ভুল হল। এটা আমি ছ’বছর আগে বিলাসপুরে কিনেছিলাম, চাকরিতে জয়েন করবার সময়।
     
    --“বেশ, বেশ। আমরা সীম নম্বরটা নোট করে নিচ্ছি। ভেরিফাই করতে একটু সময় লাগবে। এযাত্রা যদি মিথ্যে বলে পার পেতে চান তাহলে আগামী মাসে এখানে রিসার্চ করতে আসার মতলব ছেড়ে দিন ।
    আর যদি সত্যিকথা বলে থাকেন তো এসে জেনুইন রিসার্চ করুন। আমরা সবরকম সাহায্য করব। আমাদেরই লাভ, পাবলিকের মধ্যে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্বল হবে।
    কিন্তু এই এলাকায় আপনি কমরেড সোনালীর দায়িত্বে থাকবেন। ওকে না জানিয়ে কোথাও একা যাবেন না, কারও ইন্টারভিউ নেবেন না। নইলে আপনার সিকিউরিটির গ্যারান্টি আমরা দিতে পারব না”।
                                                                                     
      
     
  • ধারাবাহিক | ১২ আগস্ট ২০২২ | ৩৪০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Kishore Ghosal | ১২ আগস্ট ২০২২ ১৬:৪৪510945
  • তার মানে আগামি সংখ্যাতেই সব রহস্যের কিনারা করে ফেলবেন? 
     
    তা ফেলুন, সাহিত্যিকের তাতে পূর্ণ অধিকার। 
     
    কিন্তু ছত্তিশগড়ের ওই জঙ্গলের জংলীগন্ধ মাখা পরিবেশটা ভীষণ মিস করবো, রঞ্জনবাবু।  
  • Amit Sengupta | 205.167.238.11 | ১৩ আগস্ট ২০২২ ০৮:১২510955
  • এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে? আরো সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলির অপেক্ষায় ছিলাম যে। 
  • রুখসানা কাজল | 45.248.151.23 | ১৪ আগস্ট ২০২২ ১৩:০৫510978
  • এত তাড়াতাড়ি ! বেশ জমেছিল। 
  • Ranjan Roy | ১৫ আগস্ট ২০২২ ১৮:৩৬511036
  • ঠিক আছে। আরও একটা কিস্তি বাড়িয়ে দিচ্ছি। মানে আরও দুটো কিস্তিতে গিয়ে শেষ হবে।
    এর বেশি হলে ঝুলে যাবে মনে হয়।
  • Swati Ray | 117.194.32.58 | ১৫ আগস্ট ২০২২ ১৯:২৭511040
  • থ্যাংক ইউ , থ্যাংক ইউ। পরের সপ্তাহে শেষ দেখে বেশ বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলাম। 
  • বিপ্লব রহমান | ১৮ আগস্ট ২০২২ ০৭:৪০511136
  • চলুক, চলুক। 
     
    সোনালী চরিত্রটি বেশ উজ্জ্বল। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন