ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  •  ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি (রহস্য উপন্যাস) ৭ম পর্ব

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১৯ জুন ২০২২ | ২৭৮ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)
  • | | | | | | | |

    ‘না বাঁচাবে আমায় যদি মারবে কেন তবে?’
     
    সৌরভ
     
    কোসলে স্যারের মুখ বিরক্তিতে ভরা।
    --এটা উর্দূ নয়? তো কি হিব্রু, নাকি হরপ্পার লিপি?
     
    আমি কোন উত্তর দিই না, নিবিষ্ট মনে ওই আঁকিবুকির দিকে তাকিয়ে থাকি। কোথায় যেন দেখেছি এমন সংকেত, এমন চিত্রলিপি ? ইতিহাস বইয়ে মিশরের চিত্রলিপি? না,না।
     
    --কী রে, তোদের ভরসায় সব কাজকম্মো ফেলে সারাদিন বসে থাকতে হবে? তাহলে তো আমাদের অফিসে তালা ঝোলাতে বেশি বাকি নেই। সিমরন, এক কাজ কর।  গুগলে সার্চ করে দেখ এটা কোন ভাষার লিপি আর এর কী মানে?
     
    সিমরন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। আদেশ পালনে লেগে যায়।
     
    হঠাৎ আমার মাথায় টিউবলাইট জ্বলে।
    অস্বাভাবিক গলায় চেঁচিয়ে উঠি।
     
    --এক মিনিট স্যার।  জরা রুকিয়ে। সিমরন, দেয়ালের টিভিটা অন কর। মোবাইল থেকে টিভিতে সিংক করে ট্যাটুর স্ক্রীনশট বড় করে ওই ৪২ ইঞ্চি মনিটরে দেখা। ।
    সিমরন ভয়ে ভয়ে স্যারের দিকে তাকায়। সেদিক থেকে কোন বাধা না পেয়ে আমি যেমন বলেছি সেটা করতে লেগে যায়।


    এবার টিভির দিকে তাকিয়ে সিমরনের চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
    --স্যার, এটাতো—
     
          
       
      আমি ওকে বলতে দিই না।  জোর গলায় বলি যে এর ভাষা এবং লিপির গোত্র চিনতে পেরেছি। দু’মিনিট টাইম পেলে আমি ঠিকঠাক বলে দিতে পারব।
      তারপর আমি মোবাইল চেপে ধরে দু’হাতের বুড়ো আঙুল পটপট করে টাইপ করতে থাকি। হ্যাঁ, এই ধরণের চিহ্ন আমি আগে দেখেছি। ভাষাটার নাম কী যেন?
       
      স্যার তাকিয়ে থাকতে থাকতে বলে ওঠেনঃ আরে, এ নিয়ে অত মাথা ঘামাতে হবে না। এটা হল চাইনীজ সিম্বল, ওদের ভাষাটাকে মান্দারিন বলে না? বিক্রম ও পারমিন্দর তো মাওবাদী, কাজেই ওরকম প্রতীক নিতেই পারে।
       
      ব্যস, ওই মান্দারিন শব্দটাই আমার মাথায় ট্রিগারের কাজ করল।
       
       এক ঝটকায় দাঁড়িয়ে উঠি।
      --নো স্যার, দিস ইজ নো মান্দারিন। ইট ইজ ‘সিন্দারিন’, এলফদের ভাষা।
       
      ঘরের মধ্যে দু’জন আমার দিকে চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে।
       
      --কী বললি ? এলফদের ভাষা। ওরা কোন দেশের লোক?
      --স্যার, এটা একটা কাল্পনিক ভাষা, এলফদের ভাষা। আর ফন্টটা হল টেঙ্গোয়ার।
      -- টেঙ্গো --  টেঙ্গোয়ার!
      সিমরন, তোর কম্পিউটারে এমন কোন ফন্ট আছে?
       
      --না স্যার, এমন কিছুই আমি দেখি নি।
       
      স্যার আমার দিকে ‘হেরাফিরি’র পরেশ রাওয়লের মত চোখে তাকালেন।
       
      আমি মরিয়া। স্যারকে হাত পা নেড়ে বোঝাতে থাকি এটা একটা কাল্পনিক ভাষা, হবিট  আর দ্য লর্ড অফ দি রিংস উপন্যাসে লেখক এবং ভাষাবিদ টলকিয়েনের কল্পনার সৃষ্টি। এগুলো পরে সিনেমা হয়ে এই শতাব্দীর গোড়ায় গোটা দুনিয়ার নতুন প্রজন্মকে একেবারে পাগল করে দিয়েছিল। ঠিক গত শতাব্দীর শেষের দিকের হ্যারি পটার সিরিজের মত।
       
      --এবার আমরাও পাগল হব। এসবের সঙ্গে বেওয়ারিশ লাশের পায়ের সম্পর্ক কী?
       
      আমি হতাশ। বলি –একটু ঘর থেকে আসছি।
      তারপর ওনার অনুমতির তোয়াক্কা না করে একছুটে বেরিয়ে গিয়ে মোটরবাইক স্টার্ট করি। পেছন থেকে ওনার চড়া আওয়াজ শোনা যায় –হ্যাঁ হ্যাঁ, মাথায় ভাল করে জলে ঢেলে আয়।
       
      জল ঢালি না, সোজা আমার ঘরের কেরাসিন কাঠের বুকশেলফ থেকে টলকিয়েনের পেপারব্যাক নভেলটা তুলে নিয়ে ফিরে আসি। তারপর পাতা খুলে স্যারকে সিন্দারিন সিম্বলগুলো দেখাতে থাকি।
       
      স্যার খানিকটা আশ্বস্ত হয়ে বলেন—বুঝলাম, মান্দারিনের বোন সিন্দারিন। তোর জিকে স্ট্রং, সিভিল সার্ভিসে বসলে-- । কিন্তু এত সব জেনে আমাদের কী লাভ হল? কেন পায়ের গোড়ায় ওইরকম ট্যাটু? এর মানে কী?
      --স্যার , একগাদা স্কুল কলেজের ছেলেমেয়ে ওই সিনেমাগুলো হুলিয়ে দেখেছে, বই গোগ্রাসে গিলেছে। এর পাইরেটেড হিন্দি অনুবাদও পাওয়া যাচ্ছে। পারমিন্দরও ওইভাবে এসবের ফ্যান হয়ে ট্যাটু করিয়ে থাকবে।
       
      স্যারের ভুরু আবার কুঁচকে যায়।  আজগুবি গল্প বলে বোকা বানাচ্ছিস!
      আমার মাথায় চড়াৎ করে রাগ চড়ে যায় । আমি কোন কথা না বলে ফ্রিজ থেকেএকটা ঠান্ডা জলের বোতল বের করে ঢক ঢক করে খাই।
       
      সিমরন কিন্তু কিন্তু করে বলে—স্যার, রাগ করবেন না, প্লীজ। সৌরভ ঠিকই বলেছে। আমার পায়েও অমনই একটা ট্যাটু আছে। ওই সিনেমা দেখে--।
      তারপর ও সালোয়ারের ঘের সামান্য তুলে একটি ওই জাতের নীল রঙা ছোট উলকি দেখায়।
       
      স্যার অবাক হয়ে আমাদের দুজনকে দেখে বলেন—বুঝতে পারছি তোদের একটা আলাদা দুনিয়া আছে যেটা আমাদের সঙ্গে একেবারে মেলে না।  তোরা অনেক কল্পনার জগতে বাস করিস। কী জানি!
      আচ্ছা, সিমরন বল তোর ট্যাটুর শব্দটার মানে কী ?
       
      সিমরনের মুখ লাল হয়ে যায়, ঢোঁক গেলে এবং মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দেয় ওর জানা নেই।
      উনি একটা হতাশ ভাব করেন। 
      আমি মোবাইলের স্ক্রীনে চোখ রাখি।
       
      --স্যার, পারমিন্দরের উল্কিটার মানে বের করেছি। টেংগুয়ার লিপিতে লেখা, সিন্দারিন ভাষায় শব্দটা হল ‘এস্টেল’।  এর হিন্দি মানে আশা, ভরোসা, বিশোয়াস।  পারমিন্দর আগামী দিনে সব ভালো হবে, পৃথিবীটা বদলে যাবে –এমন স্বপ্ন দেখত, তাই ট্যাটু করে নিয়েছিল।
       
      স্যার বিমুঢ়।
      --পারমিন্দরের কথা ছাড়। বিক্রম কেন পায়ে ওইসব উল্কি করাতে যাবে? মাওবাদীরা কি টলকিয়েন পড়ে না লর্ড অফ দি রিংস দেখে?
       
      --না, বিক্রম করাতে যাবে না।  আপনি কি জোর দিয়ে বলতে পারেন যে ময়লা ফেলার ঠেলাগাড়িতে ওই মুখঢাকা বেওয়ারিশ মুন্ডহীন লাশ আসলে জলজ্যান্ত বিক্রম?
       
      --এটাই স্ট্রং প্রিসামশন। এছাড়া বিক্রম ঘেরাবন্দী থেকে বেরোতে পারে না। আর এটা প্রমাণিত যে ওই লাশের গল্প এবং হুইলব্যারো ঠেলতে থাকা রেলের খালাসি সব নকল। ওরা যেন কপ্পুরের মত উবে গেছে। খালি ঠেলাটা সরকন্ডা শ্মশানের কোণায় পাওয়া গেছে দু’দিন পরে। তাই বলছি বিক্রম কেন পারমিন্দরের মত পায়ের গোড়ায় অমন নূপুরের মত উল্কি করাবে?
       
      --করাবে না। নূপুর পরার জায়গায় উল্কি খালি মেয়েরা করায়। ছেলেরা করায় হাতের বাইসেপ, ট্রাইসেপে, বুকে এবং পিঠে।
      সিমরন জোর দিয়ে বলে। আমি সম্মতিসূচক মাথা নাড়ি।
       
      --তার মানে ওই নকল লাশ বিক্রম নয়?
      --না, ওটা বিক্রম নয়। ওটা সম্ভবতঃ কোন জলজ্যান্ত মেয়ে ছিল।
       
      স্যারের চোখ উত্তেজনায় বড় বড়। কী বললি? ওটা কোন মেয়েই ছিল? কে ছিল যার পায়ে কাল্পনিক ভাষায় আশা লেখা ট্যাটু? তবে কি পারমিন্দর?
       
      টেবিলের উপর থেকে জলের বোতল ছিটকে পড়ে যায়, কাঁচের গেলাস ভেঙে টুকরো টুকরো । দলগঞ্জন সিং কোসলে প্রচণ্ড জোরে টেবিলে এক কিল মেরেছেন।
       
      --ইয়েস! পারমিন্দর।  মেয়েটা চট ঢাকা দিয়ে ঐ ঠেলাগাড়িতে লুকিয়ে ছিল। কেন, চুক্কি দেবার জন্যে?  তাহলে –তাহলে নীল ইউনিফর্মে রেলের খালাসিটা বিক্রম? 
         ইয়েস,ওই বিক্রম। ও আমার সঙ্গে কথা বলল, দশটাকা চাইল। কিছুতেই লাশের মুখ দেখতে দিল না।
      আরে যে লোকটার মাথার দাম সরকারের চোখে লাখ টাকা তাকে আমি ডি এস কোসলে দশটাকা দক্ষিণা দিয়ে  যেতে দিলাম?
       
      সিমরন দামলেকে ডেকে সাবধানে ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলো সাফ করতে বলে।  
      আমরা দু’জন চুপচাপ সামনের কামরায় চলে এসেছি ।
      ****************************************************************

      ঠিক দু’দিন পরেঃ
      গতকাল আমাদের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে।  শুধু আমরাই নই, গোটা বিলাসপুর শহর কাল সকালে খবরের কাগজ খুলে চমকে উঠেছে।
       
      প্রথম পাতায় পাশাপাশি জোড়া ছবি। একজন মৃত, একজন জীবিত। একজনকে নৃশংস ভাবে মারা হয়েছে আর অন্যজন তাকে মেরেছে। এবং ওরা ভাই বোন, এক মায়ের পেটের।
       
      গার্লস কলেজের স্টুডেন্ট লীডর এবং বিলাসপুর শহরের নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে উদীয়মান প্রতিভা পারমিন্দর কৌরের নৃশংস খুনের অপরাধে গ্রেফতার হয়েছে ওর দাদা প্রভজ্যোত গিল এবং তার ড্রাইভার। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে  প্রভজ্যোত গিলের জিমের ট্রেনার ব্যাম্বিকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।
       ডি আই জি শ্রীবাস্তব প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে  ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রশংসা করে জানিয়েছেন যে তিন নম্বর অপরাধীও শিগগিরই ধরা পড়বে।
       
      কোসলে স্যারের কথায় বুঝলাম যে গিলকে তিনদিন আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরশু রাত নাগাদ ও কনফেস করে -- কোথায় মেয়েটাকে আটকে রেখেছিল, কীভাবে মেরে লাশ নিয়ে গিয়ে অরপা নদীতে ফেলে দিল। সবকিছু কবুল করার পর ও ক্রাইম ব্র্যাঞ্চের টিমকে নিয়ে গিয়ে হত্যার জায়গাটা শনাক্ত করায়। 
       
      তারপর প্রেস ও মিডিয়াকে ডাকা হয়।
       
      ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ হল-- বোনকে কলেজ থেকে ফেরার পথে অপহরণ, ইচ্ছের বিরুদ্ধে জিমনাসিয়ামের একটি রুমে আটকে রাখা,  শারীরিক নিগ্রহ, হত্যার উদ্দেশে  ষড়যন্ত্র,  গুরুতর আঘাত, হত্যা এবং প্রমাণ লোপাট। 
      ড্রাইভার ছিল অপহরণ এবং নদীতে লাশ ফেলার অপরাধী। 
       
      জিমের ট্রেনার ব্যাম্বি জোর করে আটকে রাখা, শারীরিক নিগ্রহ, হত্যার হাতিয়ার লোপাট এবং হত্যার ষড়যন্ত্র সবেতেই সহ-অভিযুক্ত।
       
      আমার মন খচ খচ করে। পুলিশ কি ঠিক লোককেই ধরেছে? নাকি এটাও একটা চাল?  স্যারকে জিজ্ঞেস করেই ফেলি?
       
      --বস, সবই বুঝলাম। কিন্তু হত্যার সঙ্গে গ্যাং রেপের ধারা? কোথাও তো উল্লেখ দেখছি না।
      স্যার গম্ভীর মুখে জানালেন যে আজ সন্ধ্যেয় ফরেনসিক অফিসে একটা ইনফর্মাল মিটিং আছে। তাতে ভোপাল থেকে আসা লিজেন্ডারি এক্সপার্ট শ্যামমোহন এই কেসের ইনভেস্টিগেশন নিয়ে কিছু বলবেন।
       
      --ওখানে হাতে গোণা লোকজন থাকবে।  পুলিশের বড়কর্তারা থাকবেন, প্রেসের তরফে মাত্র দু’জন এবং আমরা, মানে তিনজনই। সেখানে উনি লেকচারের শেষে শ্রোতাদের প্রশ্নের জবাবও  দেবেন।
        ততক্ষণ আমাদের নিজেদের কাজগুলো সেরে ফেলা উচিত।
       
      --কিন্তু স্যার, ওর বডি তো পোস্ট মর্টেম  এবং ভিসেরা রিপোর্ট না আসা অব্দি দাহকার্য করতে আত্মীয়দের হ্যান্ড ওভার করা হয় নি।
      -- হ্যাঁ,  তা হয়নি।
      --কিন্তু আপনি যে সেদিন আমাকে রায়পুরে পাঠানোর সময় বললেন  যে পারমিন্দরের দাদা শ্মশানে দাঁড়িয়ে কাঁদছে আর আমাকে দেখে নেবে বলে গাল পাড়ছে?
      --বলেছিলাম বুঝি? তা এই প্রশ্নটা সেদিন করিস নি কেন? এবার হাতের কাজগুলোয় মন দে।
       
      ঠিক আছে; তিনটে মৃত্যুর মধ্যে একটার কিনারা হয়েছে এবং তার সঙ্গে বিক্রমের কোন যোগাযোগ নেই।  বাকি রইল দুটো। সিমরন টেবিলের উপর আঙুল দিয়ে কীবোর্ড বাজায়।
       
      --আবার উলটো পথে যাচ্ছিস। পারমিন্দরের মৃত্যুতে বিক্রমের হাত নেই সেটা বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু ওই সিন্দারিন মার্কা ট্যাটু ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মেয়েটা বিক্রমের দলের এবং ওকে পালাতে সক্রিয় সাহায্য করেছে। ওই দলে ওর এবং লোকেশের কী ভূমিকা ছিল সেটা বের করতে হবে।
          সিমরন, কালকেই ফের সোনালী মিশ্রের বাড়িতে যা। ওর ঘনিষ্ঠ দুজন মারা গেছে। বিশেষ করে  পারমিন্দর।
       
      --কিন্তু বস, এসবের অনেকটাই আপনার অনুমান। আগেই বলেছি ঐরকম ট্যাটু আমার পায়েও রয়েছে। হুইলব্যারোর গোড়ালি বের করা মেয়েটা অন্য কেউ হতে পারে। লোকেশের মৃত্যুর পেছনে কারা ছিল সেটা স্পষ্ট নয়। সবই আপনার কনজেকচার।
           আর গাড়িচোর কিস্টাইয়ার মৃত্যু? ওকে তো মর মর অবস্থায় রেখে হত্যারেঁ লোগ পালিয়ে গেছল। নেহাৎ কাঁচা কাজ। এগুলো কি বিক্রমের যা রেপুটেশন তার সঙ্গে খাপ খায়? এই কেসটায় বিক্রমের ফুটপ্রিন্ট কোথায়?
       
      সিমরন হেব্বি দিচ্ছে তো! নেটফ্লিক্সে সিরিয়াল দেখার বিদ্যে!
       
      আমি জানতে চাই বিক্রমের রেপুটেশন! সেটা কী?
      সিমরন তোতলাতে থাকে। ওর ফর্সা মুখ লাল হয়ে যায়।
       
      কোসলে কয়েক সেকেন্ড আমাদের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন—রুথলেস এবং ধূর্ত।
       তারপর  নিজের চেম্বারের সেফ থেকে দু’দিন আগের ম্যানিলা এনভেলপটি বের করে এনে  সিমরনকে বললেন—যা দামলেকে বল চার কাপ কফি আনিয়ে নিতে।
         না, তোকে বানাতে হবে না। এবার মন দিয়ে দেখ। আমার কাছে এখন কিস্টাইয়ার মৃত্যুর পোস্ট মর্টেম এবং ভিসেরা রিপোর্ট দুটোরই কপি এসে গেছে। তোদের বলি, এই মার্ডারটাতেই বিক্রমের ফুটপ্রিন্ট স্পষ্ট। ও কাঁচা  আধাখ্যাঁচড়া কাজ করে না।
       
      শোন, কিস্টাইয়া মারা গেছে মাথার পেছনে বাড়ি খেয়ে হ্যামারেজ হয়ে নয়। আসল কারণ ওর গলায় একটা ছোট্ট কাট, যেটা জেলা হাসপাতালের ডাক্তারদের চোখ এড়িয়ে গেছল। তাই ভিসেরা করাতে হল।
             এই দেখ, রিপোরটে বলছে শার্প সার্জিক্যাল ছুরি দিয়ে ওর গলার বাঁদিকে অ্যাডামস অ্যাপলের পাশে এক্সটার্নাল জুগুলার ভেইন কেটে দেওয়া হয়েছে। আর  ওখানেই চামড়ার ১.৫ ইঞ্চি নীচে রয়েছে ক্যারোটিড। বায়োলজি বইয়ে ছবি দেখে নিস।
        এই জায়গায় একটা ছোট ছুরির আড়াআড়ি কাট যথেষ্ট, দ্রুত ব্লাড লস হয়ে  পাঁচ থেকে পনের মিনিটের মধ্যে পঞ্চত্বপ্রাপ্তি অবধারিত।
       
      স্যার এসব কী আগড়ম বাগড়ম বকছেন! আমি নিজে দেখেছি যে যখন ওয়াকি টকিতে সাত কিলোমিটার দূরের কম্যান্ড পোস্টে খবর করেছিলাম তখনও ওর হালকা শ্বাস বইছিল। এবং গলায় হাত দিয়ে স্যার নিজে চেক করেছিলেন, তখন কোথায় কাট, ছোট বা বড়?
       
      --শোন, আমরা তো খবর করে দিয়ে খালাস। নিশ্চিন্ত হয়ে বাড়ি চলে গেছলাম। অ্যাম্বুলেন্স এসেছে পনের মিনিট পরে। এরমধ্যেই কাম তামাম। এর মানে বিক্রম খুব কাছেই লুকিয়ে ছিল। ভোর চারটে নাগাদ ওর বডি হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে পৌঁছে যায়। সাধারণ দুর্ঘটনা ভেবে রেসিডেন্ট সার্জনের জায়গায় ডিউটি নার্স এবং সদ্য ইন্টার্ন করা ছেলেটি অ্যাটেন্ড করেছিল।  
         ওরা সাহস করে লিখতে পারেনি যে ‘ডেড অন অ্যারাইভ্যাল’। 
      সকাল নটায় শ্রীবাস্তব স্যার আমায় ফোনে জানিয়ে দেন যে ছেলেটি মারা গেছে।
        
       দ্যাখ, নেগলিজেন্স দুটো লেভেলে হয়েছে। 
      প্রথমে আমাদের লেভেলে। আমাদের অ্যাম্বুলেন্স আসা পর্য্যন্ত ওখানে অপেক্ষা করা উচিত ছিল। 
      পরে, হাসপাতালের হাউস সার্জনের উচিত ছিল ইন্টার্নের ভরসায় ছেড়ে কোয়ার্টারে ঘুমিয়ে না থেকে নিজে এসে চেক করা।
        
      আসলে কী জানিস, আমরা সবাই ধরে নিয়েছিলাম যে এটা একটা রোড সাইড অ্যাক্সিডেন্ট, ব্যস্‌।
       
      -স্যর, এর মধ্যে বিক্রমের ফুটপ্রিন্ট কোথায়?
      -- ওই যে বললাম--রুথলেসনেস এবং  হত্যায় সার্জিক্যাল নাইফের ব্যবহার।
       
      আমরা বোদা চোখে তাকিয়ে আছি দেখে উনি উঠে দাঁড়ালেন। এরপর সিগ্রেট খেতে বাইরে যাচ্ছিলেন, এমন সময় জগন্নাথ দামলে একটা ট্রেতে তিন কাপ কফি নিয়ে এল।
          --শোন, পুলিশের ফাইলে বিক্রম সম্পর্কে খুব বেশি  ব্যক্তিগত তথ্য নেই, কোন ফটো নেই। এমন  কাউকে পাওয়া যায়নি যে ওকে সামনা সামনি দেখেছে। নইলে পুলিশ কবে পোরট্রেট আর্টিস্টকে দিয়ে ছবি আঁকিয়ে সমস্ত থানায় পাঠিয়ে দিত।
         
          যতদূর জানা গেছে—খুব সাধারণ মাঝারি গোছের চেহারা,গোঁফদাড়ি কম, বয়সের আন্দাজ পাওয়া মুশকিল। চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ যা কিছু হতে পারে। হিন্দি ইংরেজি বলে, কিন্তু আসলে বাঙালী। কোলকাতায় বড় হয়েছে।
           
      ( সিমরনের আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসাটা স্যার দেখেও দেখলেন না।)
       
      দেখ, বিক্রম ছিল মেধাবী ছাত্র, মেডিক্যাল কলেজে  ডাক্তারি পড়ার মাঝখানে , সম্ভবত ফোর্থ ইয়ারে কলেজ ছেড়ে দেয়। ওর সব কিছুই এদিক সেদিক থেকে শোনা কথা। কোন কলেজ, কোন নামে রেজিস্টার্ড কিছুই জানা নেই। ওর অনেকগুলো নাম—বিক্রম, দীপক, অসমঞ্জ সেন, লালটু এবং লাল মহম্মদ।  হতে পারে ব্যাটা আসলে মুসলমান, হিন্দু সেজে রয়েছে।
           
       সে যাই হোক , একমাত্র আমিই বিক্রমকে কাছাকাছি পেয়েছিলাম। মার্চ মাসের সেই রাতে এবং পরের দিন বিকেলে। 
       রাত্তিরেও দু’বার, প্রথমে মারুতি জিপসীতে, পরে কিস্টাইয়ার অচেতন শরীরের আশেপাশে ঘাপটি মেরে থাকা। আচ্ছা চুতিয়া বানায়া থা!
         ফের পরের দিন বিকেলে, বেওয়ারিশ লাশ অথবা সেই ঠেলতে থাকা লোকটা যে দশটা টাকা চেয়ে নিল। আমি একটা ফার্স্টক্লাস ইডিয়ট!
        
      আরে, ফরেনসিক অফিসে ডক্টর শ্যামমোহনের মিটিং বোধহয় শুরু হতে চলল। কফিটফি থাক। শীগগির গাড়িতে ওঠ, নইলে এখানেই পড়ে থাক।

       কপাল মন্দ। অরপা নদীর সরকন্ডা পুলের ঠিক ওপারে একটা মোরাম ভর্তি ট্র্যাক্টর পালটে গিয়ে বিশাল জ্যাম। ঝামেলা দেখে ড্রাইভার দামলে গাড়ি ব্যাক করে পুলের এপারে আনার চেষ্টা করল, কিন্তু ততক্ষণে পেছনেও গাড়ির লম্বা লাইন। ফলে আধাঘন্টা নট নড়ন চড়ন, নট কিচ্ছু!
        
            আমরা যখন ঢুকলাম তখন গেস্ট স্পীকার শ্যামমোহন প্রায় মেরে এনেছেন। ওএইচপি বন্ধ করা হয়েছে। একটা স্ট্যান্ড থেকে কিছু ফ্লেক্স শীটে সাদা এবং গোলাপি রঙা ডায়াগ্রাম। কিছুই বুঝছি না। সবাই বিরক্ত মুখে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে।
       
              আমি দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রইলাম। কারণ, কোসলে স্যার ক’বার এক্সট্রিমলি সরি বলার চেষ্টা করায় ডক্টর মাছি তাড়ানোর মত করে হাত নেড়ে তির্য্যক হেসে বললেন- অ্যাম শিওর ইউ হ্যাড আদার ইম্পর্ট্যান্ট পিস অফ বিজনেস অ্যাট হ্যান্ড!
          
                কোশ্চেন অ্যান্সার পর্ব শুরু হল। আমি নোটস নিতে থাকলাম। সার কথা যা বুঝলামঃ
          
       প্রথমে কেসটা মনে হচ্ছিল একটি স্বাধীনচেতা ইয়ং মেয়ের গ্যাং রেপ এবং হত্যা।
      • বডি কে দেখেছে? মর্নিং ওয়াকের সময় চোখে পড়ায় জনৈক বৃদ্ধ ভদ্রলোক। কিন্তু উনি পাবলিক বুথ থেকে ফোনে সিভিল লাইন্স থানায় খবর দিয়েই নাগরিকের কর্তব্য সেরেছেন, সামনে আসেন নি।
      •  মুশকিলে ফেলল পোস্টমর্টেম রিপোর্ট।  বডিতে কাপড় ছিল না, অনেকগুলো আঘাতের নিশান। কিন্তু রেপের কোন চিহ্ন নেই।
      • ফলে ভিসেরা এগজামিনেশন করা হল। না; রিপোর্টে কোন ভুল নেই। গ্যাং-রেপ দূর কী বাত, আদৌ কোন রেপ হয় নি। এইবার ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট ভোপাল থেকে আমার সার্ভিস বুক করা হল। 
      আমি এসে কী দেখলাম?
      • রিপোর্টে কোন ভুল নেই। নো পেনিট্রেশন টু ভেজিনা, অ্যানাস অর ইউরেথ্রেরা।
      • অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন; কয়েকটা যেমন গলায়, প্রায় ফ্যাটাল। কিন্তু কোন নখের বা দাঁতের দাগ নেই।
      • মেয়েটির স্তন বা প্রাইভেট পার্টস অক্ষত। কোন পুরুষের সীমেন পাওয়া যায়নি। পিউবিক হেয়ারে ঘামের চিহ্ন, কিন্তু অন্য কারও পিউবিক হেয়ার পাওয়া যায়নি।
      • মেয়েটি সম্ভবতঃ মারা যাওয়ার দু’দিন আগে থেকে স্নান করেনি। ওর দুহাতের কব্জিতে এবং পায়ের গোড়ায় সাইকেলের চেন দিয়ে বাঁধার নিশান রয়েছে। মৃত্যু হয়েছে গলা টেপায় এবং হাতের দু’জায়গা থেকে রক্তক্ষরণে।
      • ওর আঘাতগুলো কেউ যত্ন করে মুছে দিয়েছে। কিন্তু পেরিনিয়াম কেউ ছোঁয় নেয় নি। তাতে দু’দিন স্নান না করার ক্লেদ জমে আছে। মাথার চুলেও ঘাম এবং রক্ত মাখামাখি।
      আমার সিদ্ধান্তঃ
      1. হত্যাকান্ডের নায়ক এমন একজন যে মেয়েটিকে খুব ভালবাসে। সে যেন হত্যার জন্যে দুঃখিত। বড় যত্ন করে সে  ওর ক্ষতস্থানগুলো মুছিয়ে দিয়েছে।
      2. একইসঙ্গে সে মেয়েটিকে ঘৃণা করে। নইলে দু’দিন বন্দী করে রেখে বীভৎস ভাবে খুন করত না। আশ্চর্য হবার কিছু নেই। ভালবাসা ও ঘৃণা যেন সহোদর সহোদরা। অনেক বিষ প্রাণ বাঁচায়, আবার উল্টোটাও হয়।
      3. কোন নারীর প্রতি ভালবাসা এবং ঘৃণার এইরকম একত্র অস্তিত্ব হলে অসহায় বেঁধে রাখা মেয়েটিকে হত্যার আগে রেপ করা পুরুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। কিন্তু এখানে এই ব্যতিক্রম কেন? আমার কনজেকচার যে এই হিংস্র পুরুষের পক্ষে মেয়েটিকে রেপ করা সম্ভব নয় যদিও আইনের চোখে ধোঁকা দিতে সিচুয়েশন রেপের মত করে সাজানো হয়েছে।
      4.  কে হতে পারে সেই লোক? এই ছাঁচে ফিট হতে পারে একজনই –ওর আপন দাদা। যে পুরনো সংস্কার এবং প্যাট্রিয়ার্কাল ভ্যালুজের প্রভাবে বোনের স্বচ্ছন্দ স্বাধীন চলাফেরা এবংছেলেদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশাকে ঘৃণা করে। কিন্তু বোনকে খুবই ভালবাসে। অথচ বোন ওর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
      এ’ব্যাপারে ভোপাল ফরেনসিক অফিসে আমাদের গুরুস্থানীয় ডঃ হীরেশ চন্দ্রের সল্ভ করা একটি কেস হিস্ট্রি রাখা আছে । এটি যেন তারই কার্বন কপি। দু’দিন পুলিশ কাস্টডিতে ইন্টারোগেশনের পর প্রভজ্যোত গিল সব স্বীকার করে নেয়।
        আমার কনজেকচার ফলে গেল।
       
      ফেরার পথে আমরা সবাই চুপ, কথা বলতে ভাল লাগছে না।
      অফিসের সামনে এসে গাড়ি থেকে নামার সময় স্যার বললেন—কাল থেকে বিক্রম এবং কবি লোকেশের মৃত্যু নিয়ে আমার কনজেকচার ধরে এগোতে হবে।
       
      মনে হল বস্‌ কনজেকচার শব্দটি নতুন শুনেছেন।
                                                                                     (প্রথম ভাগ সমাপ্ত)
       
      | | | | | | | |
    • | রেটিং ৪ (২ জন) | বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৯ জুন ২০২২ | ২৭৮ বার পঠিত
    • আরও পড়ুন
      কবিতা  - Suvankar Gain
    • মতামত দিন
    • বিষয়বস্তু*:
    • kk | 174.53.251.123 | ২০ জুন ২০২২ ০০:১০509183
    • কিছু জিনিষ ইউজুয়ালি হয় (বা মানুষের "প্রবৃত্তি") বলেই তার বেসিসে কনক্লুশন ড্র করাটা একটু কেমন যেন লাগছে আমার। সাধারণত পুরুষরা পায়ের গোড়ালিতে পায়েলের মত ট্যাটু করায়না, অতএব এটি মেয়ে ছিলো, বা সাধারণত একটা বিশেষ অবস্থায় পুরুষরা রেপ করে, এখানে করেনি অতএব এটি ওর দাদা হওয়াই স্বাভাবিক -- এগুলো একটু কনক্লুশনে জাম্প করা হয়ে গেলো না? সব পুরুষের পছন্দ বা প্রবৃত্তি একরকম হবে এমন তো না।
    • গোবু | 223.223.137.92 | ২০ জুন ২০২২ ০৯:০০509187
    • প্যাটার্ন ম্যাচ করানো (যে কারণে modus operandi ইম্পর্টেন্ট) ওই ইউজুয়ালি হয় ধরে নিয়েই। প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি দিয়ে সেটা কনফার্ম করতে হয়, নইলে কোর্টে কেস টিকবেনা।
    • Ranjan Roy | ২০ জুন ২০২২ ১১:৫৪509190
    • দুজনেই ঠিক।  সব পুরুষ কেন  একরকম হবে? সবার পায় বাটার 7 নম্বর জুতো কেন ফিট হবে? কিন্তু তদন্ত শুরু হয় প্যাটার্ন ধরে প্রাথমিক হাইপোথিসিস তৈরি করে যা নতুন evidence পেলে বদলাতে বা বাতিল হতে পারে। 
      এখানে একটা কথা জানাই।  ভাই বোন episode সত্যি ঘটনা আশ্রিত। 
      डॉ  Hiresh চন্দ্র আশি নব্বইয়ের Bhopal এর celebrated ফরেন্সিক বিজ্ঞানী। উনি ইউনিয়ন Carbide গ্যাস দুর্ঘটনার সময় সরকারের মতের বিপক্ষে গিয়ে বলেছিলেন যে प्राणघातक গ্যাস টি  MIC নয়  বরং साइनाइड,  যা মৃতদেহের মাংসের রঙ দেখে বোঝা যাচ্ছে। 
       
      ওই মেয়েটি ভারত ভবনের নাটকের দলে ছিল।  হত্যা কে রেপ ও  হত্যা বলে চালানো হয়েছিল। কিন্তু পোস্ট  mortem রিপোর্ট  অন্য কথা  বলে।  তখন  ডক্টর চন্দ্র ঠিক ওই pattern ধরে শনাক্ত করেন।  অপরাধী ভাই কবুল করে। এসব  নিয়ে তখন খুব  হৈচৈ হয়। 
      আমি just স্মৃতি থেকে কপি করেছি। :)))
    • বিপ্লব রহমান | ২৩ জুন ২০২২ ০৭:২৯509289
    • প্রতিভা পারমিন্দর কৌরের নৃশংস খুনের কেস স্টাডি বলে দিচ্ছে বেটাগিরি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।  
       
      তারপর? 
    • মতামত দিন
    • বিষয়বস্তু*:
    • কি, কেন, ইত্যাদি
    • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
    • আমাদের কথা
    • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
    • বুলবুলভাজা
    • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
    • হরিদাস পালেরা
    • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
    • টইপত্তর
    • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
    • ভাটিয়া৯
    • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
    গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
    পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন