• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • ছেঁয়াবাজীর ছলনা - ৬

    লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ২৭ জুন ২০২১ | ৯৩১ বার পঠিত
  • | | | | |

    ইন্দ্র রায় রোড ধরে হেঁটে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোডে ওঠার মুখটায় ডানদিকের কোণায় ‘দাঁ পেপার হাউস’, রাস্তা থেকে বেশ অনেকটা উঁচু বেশ কয়েক ধাপ সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। দোকানের ভেতরে নতুন খাতার গন্ধ, নতুন উডপেন্সিল আর রবারের গন্ধ, হলদে গোলাপী চার্টপেপারের গন্ধ,  নতুন বইখাতায় মলাট  দেবার ব্রাউন পেপারের গন্ধ ম’ ম’  করে। আর আছে রং পেন্সিল, রং  কলম আর রঙ বাক্স। মোম দেওয়া রঙ পেন্সিলের ছোট  বাক্স ড্রয়িং ক্লাসের দিন ইস্কুলে নিয়ে যেতে হয়। আমারটা বারো রঙের ছোট্ট বাক্স, সুলগ্না খুব সুন্দর আঁকতে পারে, ওর বাক্সে আঠেরটা রঙ। ত্রিসীমার একটা ইয়াব্বড় বাক্স আছে তাতে ছত্রিশটা রঙ,  একদিন ইস্কুলে দেখাতে এনেছিল। ত্রিসীমা কিন্তু খুব একটা ভাল আঁকতে পারে না, ওর বাবা নাকি ওকে কিনে দিয়েছে।  আমাদের বাক্সগুলো ক্যামেল কোম্পানির। ত্রিসীমারটা পড়তে পারি নি, বাক্সের উপরে লেখা ছিল না। ও তো আমাদের হাত দিতে দেয় নি। রঙ পেন্সিলগুলো  ছোট ছোট আমার বুড়ো আঙুলের সাইজ। ড্রয়িং  ক্লাসের দিন মিস গাঙ্গুলি বোর্ডে রঙীন চক দিয়ে আঁকেন, সুমিতা সুলগ্নাকে বোর্ডে ডাকেন। ওরাও আঁকে। আমরা ড্রয়িং খাতায় প্রথমে পেন্সিল দিয়ে এঁকে তাতে রঙ দিই। আমার আঁকাগুলো সব এঁকেবেকে  যায় একটা  লাইনও সোজা  হয়ে পড়ে না। রঙ কলমকে মিস গাঙ্গুলি বলেন ‘ফেল্পেন’ , হলদে গোলাপী চার্ট পেপারে তাই দিয়ে ছবি আঁকে সুমিতারা।   


    রঙিন চকের বাক্সে চারটে রঙের চক থাকে।  ঠিক লুডোর বোর্ডের মত  লাল, নীল, হলদে আর সবুজ। লালটাকে দেখতে আমার কিরম গোলাপী গোলাপী মনে হয় কিন্তু সবাই ওটাকে লাল বলে ডাকে। ফেল্পেন দিয়ে জোরে জোরে ঘষে আঁকাও যায় আবার হালকা করে ধরলে একটু সরুমত করে  লেখাও যায়, পেন্সিলের থেকে অনেক মোটা মোটা লেখা হয় যদিও। সাদা রঙের চার্টপেপারে ওরম মোটা মোটা করে লেখা থাকে কোথায় কী কী করতে হয় না। যেমন যেখানে সেখানে থুতু ফেলতে হয় না, হাত না ধুয়ে খাবার খেতে হয় না এইসব। মিস গাঙ্গুলি একদিন ড্রয়িং ক্লাসে হোমটাস্ক দিলেন ‘মাই ডল’ দিয়ে একটা গল্প লিখে আনতে। যে পুতুল নিয়ে বাড়িতে খেলা করি, যাকে চান করাই খাওয়াই তাকে নিয়ে লিখতে হবে। আমি  ভেবেই পেলাম না কী লিখব। আসলে আমি তো পুতুল নিয়ে স্নান টান কিচ্ছু করাই নি। পুতুল পেলেই আমার  ওদের হাত পা’গুলো টেনে টেনে ছিঁড়তে বেশ লাগে। লম্বা করে টানলে ভেতর থেকে কেমন একটা ইল্যাস্টিকের মত বেরোয়। তারপর বোবো একদিকে আর আমি একদিকে টানলেই ফটাশ আওয়াজ করে খুলে আসে। ওইরকমভাবেই জয়মালার হাত পা আলাদা করে দিয়েছিলাম। মা তারপর আমাকে তিনটে কাপড়ের পুতুল বানিয়ে দিয়েছে। পুরনো শাড়ি  গিট্ঠু দিয়ে দিয়ে মাথায় কালো পাড় ছিঁড়ে চুল বানিয়ে দিয়েছে। এইগুলো   টানাটানি করতে বেশী মজা লাগে না, তবে মুখে পুরে চিবোতে বেশ লাগে।  


    গোলাপী চার্টপেপারে কি সুন্দর একটা পুতুল এঁকে তার নীচে ইংরিজিতে ওর পুতুলের গল্প লিখে এনেছিল সুমিতা। আমরা সবাই খাতায় লিখেছিলাম, দুই একজন পুতুলের ছবিও এঁকেছিল খাতায়। কিন্তু সুমিতার পুতুলটা যে কি সুন্দর। বোর্ডের গায়ে টাঙিয়ে আমাদের পড়তে বললেন মিস গাঙ্গুলি। আমি  টেবল ছেড়ে উঠে বোর্ডের সামনে চার্টের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ি, চার্টপেপারের গন্ধের সাথে ফেল্পেন আর প্যাস্টেল রঙের  গন্ধ মিশে গেছে। ইচ্ছে করে নাক ডুবিয়ে গন্ধ শুঁকি। কি চমৎকার লালচে সোনালী কোঁকড়া চুল আর নীল চোখ।  চুপিচুপি পুতুলটার গায়ে হাত দিতেই অমনি মিস ‘উঁহু  ডোন্টাচ’ বলে ওঠেন জোরে। সেইদিন  থেকে নীলচোখো সোনালীচুলো পুতুলরা হয়ে গেল  ডোন্টাচ পুতুল, গায়ে মোমরঙ, ফেল্পেন আর নতুন  চার্টপেপারের গন্ধ।  কাপড়ের পুতুলগুলোর গায়ে যেমন ধোঁয়া ধোঁয়া আগুন আগুন গন্ধ। জিজি যখন সকালে চান করে এসে রান্নাঘরের এপাশে ঠাকুরের পুতুল নিয়ে খেলে, আমি তখন কাপড়ের পুতুলগুলো নিয়ে বসে থাকি খাবার টেবলের নীচে।  মা মাটির উনুন জ্বালিয়ে ভাত তরকারী রান্না করে, পাশে   গ্যাসের উনুন জ্বালিয়ে পাঁউরুটি টোস্ট করে, বাবার জন্য  ডিম দিয়ে স্ক্রাম্বল্ডেগ বানায়।     


    এই গ্যাসের উনুনটার নাম ‘বেশি বেশি’।  এইটা ভবানীপুরের বাড়ি ছাড়া আর কোত্থাও নেই। সেই যে   বাবা মা বেড়াতে গেছিল,  ফিরেই বাবা ওষুধ কোম্পানির চাকরি ছেড়ে অন্য কোম্পানিতে চলে গেল  আর তার এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের বাড়িতে দুটো নতুন জিনিষ এলো। একটা এই গ্যাসের উনুন, একটা লাল টুকটুকে ড্রামের মত লম্বা জিনিষ নাম সিলিন্ডার আর লোহার তৈরী বটল গ্রিন রঙের একটা লম্বাটে চৌকো জিনিষ, তাতে দুটো মুখ, ওভেন নাম। ওই সিলিন্ডার থেকে একটা কমলারঙা পাইপ এসে ওই ওভেনে জুড়েছে। এতে নাকি খুব তাড়াতাড়ি রান্না হয়, ধোঁয়া কালিকুলি হয় না স্টোভের মত, গুল কয়লা লাগে না, সাজাতে হয় না মাটির উনুনের মত। অন্য জিনিষটা ভারী আশ্চর্য্য, একটা ধবধবে সাদা রঙের ছোটমত আলমারি, পাল্লা খুললে ভেতরে আলো জ্বলে ওঠে আর খুব ঠান্ডা ধোঁয়া  উড়ে উড়ে বেড়ায় ভেতরটায়। এটার নাম ফ্রিজ। পাল্লার বাইরের দিকে একটা ধাতব পাতে নীল রঙে লেখা Allwyn পেছনে কেমন অনেক তার জড়ানো মড়ানো, ভেতর থেকে ইয়ামোটা একটা প্লাগ সুইচ বোর্ডে যায়, ওতেই নাকি  ঠান্ডা হয় যন্ত্রটা।  জিজি বলল ওতে আইসক্রিম বানানো যায়। আইসক্রিম? টুটিফ্রুটি? সেও আবার বাড়িতে বানানো যায়! 


  • দাদু দিদা বেড়াতে আসলে ইয়াম্মোটা মোটা ক্ষীরের বরফি বানিয়ে আনে।  লম্বাটে ত্যারছামত ঘিয়েরঙের বরফি খেতে বাবা খুব ভালোবাসে, ক্ষীরের তৈরী বড় বড় পদ্মফুল, মাছ, শঙ্খ এইসবও আনে কখনো। ওই ক্ষীরের বরফি ক্ষীরের ছাঁচ সন্দেশে দুধের গন্ধ, ক্ষীরের গন্ধ, এলাচদানার গন্ধের সাথে একটু কাঠ আর আগুনের খুব ফিনফিনে গন্ধও থাকে। লালীর দুধ উনুনের নিবু নিবু আঁচে ইয়াব্বড় পেতলের গামলায় কাঠের হাতা দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে  নেড়ে নেড়ে ক্ষীর বানায় দিদা। তারপর তাকে কুচকুচে কালো পাথরের থালায় পেতে হাতার পেছন দিক দিয়ে চেপে চেপে সমান করে দেয়। তখন ওই আগুন, কাঠ পেতল, এলাচদানা ক্ষীর মেশান গন্ধটা পাওয়া যায়। এবারে বড়মামা বড়মাইমাও সঙ্গে এসেছে,  কিসের যেন নেমন্তন্ন করে সবাইকে। বড়মাইমা আর   দিদাকে নিয়ে মা রান্নাঘরে গিয়ে ফ্রিজ খুলে বরফিগুলো ঢোকায়। দিদা অবাক হয়ে দেখে। বড়মাইমার বড়বৌদি, ছোটদি ডাকে মাম,  ওদের আছে ফ্রিজ। মাম বলেছে নিভিয়া ক্রিম মাখিয়ে  ফ্রিজের বাইরেটা নাকি পরিস্কার করতে হয়, নাহলে অমন সাদা থাকে না। চার না পাঁচ কৌটো নিভিয়া ক্রিম কিনে কয়েকবার  মাখানোও হয়েছিল, ফলাফল সুবিধের না হওয়ায় জেন্টিলগোলা জলেই ফ্রিজ সাফ হোত। 


    দিদারা এলেই মা স্টোভ জ্বালিয়ে  পাতলা গোল গোল ফোলা লুচি বানায় আর মন্টুদাদা আলুর দম। একফাঁকে মন্টুদাদা গিয়ে জগুবাজারের দিকে বলরাম মল্লিকের দোকান থেকে লাল রসগোল্লা বা ভীমনাগের দোকান থেকে সন্দেশ নিয়ে আসে। গ্যাস আসাতে ভারী সুবিধে, পাশাপাশি দুটো উনুনে ঝটপট লুচি আর আলুরদম করে ফেলে মা। উনুন জ্বালাতে গুল, কয়লা দিয়ে সাজিয়ে আস্তে আস্তে ধরাতে হয়, স্টোভ জ্বালাতে কেরোসিন লাগে। জ্বালানোর আগে দেখে নিতে হয় কতটা তেল আছে, কম থাকলে ভরতে হয়, গ্যাসে কিছু দিতে হয় না।  নব ঘুরিয়ে দেশলাই জ্বালাতেই নীল আগুন গোল হয়ে জ্বলে ওঠে। দিদা কিন্তু রাগ করে। উনুন আছে, স্টোভ আছে, তাও এটা কেন? এটা ত বেশি বেশি। বড়মাইমা কেমন দুঃখ দুঃখ গলায় বলে বাবা উনুন জ্বালানোর যা হ্যাপা। আর স্টোভেও ঝকমারি আছে। তাছাড়া স্টোভ তো মাঝে মাঝেই বার্স্ট করে, কাগজে দেখি। দিদা আরো রেগে যায় ‘উনুন হইল অগ্নিদেব। উনুন জ্বালাইবা না তো কি হাত পা কোলে লইয়া বইয়া থাকবা তুমরা?’ হাত তো কোলেই থাকে, কিন্তু পা কী করে কোলে নেবে ভেবে আমি হেসে ফেলি। অমনি মা বকা লাগায়  বড়দের কথা হাঁ করে গিলছিস! যা ওঘরে।‘  গ্যাসের উনুনের  নাম দিয়ে দিই ‘বেশি বেশি’ 


    দাদু দিদা এলে বা মীনামা পিসেমশাই এলে লুচি  ভাজা হয় ঘিয়ে, তবে রান্নাঘরে হলুদ রঙের ওপরে সবুজ নারকেল গাছ আঁকা লম্বাটে কৌটোয় ডালডাও থাকে। বাবার অফিসের লোক বা বনফুলের বন্ধুরা এলে অনেক লোকের জন্য লুচি করতে হলে ডালডায় করে। ঘিয়ের চেয়েও ডালডার গন্ধ আমার বেশি ভাললাগে। অনেকসময় রান্নাঘরে কেউ না থাকলে সবুজ রঙের ঢাকনি একটু খুলে আমি ডালডার গন্ধ নিই বুকভরে। ময়দার লেচিগুলো মা খুব তাড়াতাড়ি গোল্লা পাকিয়ে কাঠের চাকি বেলনে একটু ঘিয়ের ফোঁটা দিয়ে বেলে নিয়েই কড়াইয়ে ফুটন্ত ঘিয়ের মধ্যে ছেড়ে দেয়। পিতলের ঝাঁঝরিহাতা  দিয়ে ধারগুলো একটু চেপে দিতেই গোল টোপা টোপা  হয়ে ফুলে ওঠে লুচি। ঝাঁঝরিহাতা দিয়ে ঘি ঝরিয়ে পাশের থালায় নামিয়ে নেয় মা। সবকটা  লুচি নরম সাদা ফুলকো  হলেও শেষ লুচিটা লালচে বাদামী, একটু কড়কড়ে, একটু চ্যাপ্টামত  হবে। তখন তো কড়াইতে ঘি প্রায় শেষ  হয়ে আসে,  মা তাই হাতার পেছনদিক দিয়ে লুচিটাকে আলতো করে চেপে কড়াইয়ের ধার বরাবর গোল করে ঘুরিয়ে নেয় এপিঠ ওপিঠ। ঘিয়ের হিসেব একটু এদিক ওদিক হলে কখনো একটার জায়গায় দুটো লুচিও হয়ে যায়। এই বাদামী ছোপ মচমচে লুচিটাই আমার বেশি ভাল লাগে।             


    বাড়িতে লোক এলে যখন  মিষ্টি আনানো হত তখন আমার জন্য আর মন্টুদাদার জন্যও একটা করে আনাত মা। পরে সময়মত আমাদের হাতে দিত।  রসগোল্লা হলে মন্টুদাদা মাটির ভাঁড়টা মুখে তুলে রসটাও খেয়ে নিত। পূর্ণ সিনেমার ঠিক আগে সত্যনারায়ন মিষ্টান্ন ভান্ডার, ওদের মৌচাক খেতে আমি খুব ভালবাসি। একটা চ্যাপটামত মিষ্টি, বাইরে নীচের অংশটা সাদা    চমচমের মত আর মাঝখানে মৌচাকের মত জালিজালি করা ঈষৎ হলদে রঙের, কি সুন্দর গোলাপফুলের মত গন্ধ। মা অবশ্য এটা আমাকে দিতে চায় না, মিষ্টিতে নাকি রঙ দেওয়া, বাজে সেন্ট দেওয়া। ভীমনাগের সন্দেশ ভারী নরম তুলতুলে আর খুব হালকা প্রায় আবছামত  গোলাপফুলের গন্ধ, গোলাপজল দেওয়া। গাঢ় সবুজ আমপাতা রঙের আমসন্দেশ আর হালকা সবুজ পেস্তাসন্দেশও রঙ দেওয়া বলে আনা হত না। ওদিকে বলরামের লাল রসগোল্লায় নাকি রঙ নেই তাই ওইটা খাওয়া যায়। লাল সাদা কোন   রসগোল্লাই  ভাল লাগে না আমার, ভাঁড়ে  রসের মধ্যে কালো  পিঁপড়ে থাকে মাঝে মধ্যে। পিঁপড়ে মুখে পড়লে কেমন বিচ্ছিরি গন্ধ বেরোয়।  পান্তুয়া ভাল, কালোজাম ভাল। কিন্তু সেসব  মা দিতে চায় না, ভাজা মিষ্টি বলে। তবে রবিবার সকালে মন্টুদাদার আনা শ্রীহরি মিষ্টান্ন ভান্ডারের জিলিপী হল খাঁটি অমৃত।  

     

    | | | | |
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৭ জুন ২০২১ | ৯৩১ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • hu | 174.102.66.127 | ২৭ জুন ২০২১ ২১:৪৯495374
  • খুব ভালো লাগছে পড়তে

  • স্বাতী রায় | ২৭ জুন ২০২১ ২২:০২495375
  • আরে পিঁপড়ে না খেলে সাঁতার শিখবে কি করে? আমরা বাচ্চাবেলায় রেবন্ত গোস্বামীর একটা বইতে পড়েছিলাম যে পিঁপড়ে খেলে জলদি সাঁতার শেখা যায়।  তাই ভারি মন দিয়ে পিপড়ে খেতাম। 


    দারুণ হচ্ছে লেখাটা। 

  • Anindita Roy Saha | ২৮ জুন ২০২১ ০৭:৫৪495379
  • আমাদের মতো আধবুড়ীদের সকলের ছোটবেলা ঠিক এমনিধারা। ফেল্পেন থেকে আম সন্দেশ , হুবহু। 


    মনে পড়ে গেল Allwyn ফ্রিজ আমাদের বাড়িতেও ছিল। সে সময়ের স্টার ফ্রিজ। বলা হত তার বয়স আমার সমান। দীর্ঘদিন চলার পর গোদরেজ তার জায়গা দখল করল এই তো সেদিন। 

  • kk | 68.184.245.97 | ২৮ জুন ২০২১ ০৮:০৮495381
  • ইশ, পুতুল বেচারীদের ভারী কষ্ট তো! হয় হাত-পা ছেঁড়া হবে, নয় মুখে পুরে চিবোনো হবে? :-(
    বাদামী ছোপ মচমচে লুচিটাই আমিও ভালোবাসি। এই লেখা এক্কেবারে মনের মধ্যিখানে গিয়ে সেঁদোয়।

  • Ranjan Roy | ২৮ জুন ২০২১ ১০:৫৩495388
  • দাঁ পেপার হাউস? ইন্দ্র রায় রোড? আহা, আমার ১৮ বছর বয়সের ঠেক। এদিকের ফূটপাথে সিভাকো বলে দোকানটার বন্ধ দরজার সামনে রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্য্যন্ত আড্ডা। ইন্দ্র রায় রোডের কোণায় বোধহয় স্টেট ব্যাংক ছি? উলটো ফুটে তেরপল ছাওয়া চা-ঘুগনির দোকান। পাশের কিযস্ক থেকে চারমিনার কিনে ঝুলন্ত নারকোল দড়ির আগুন থেকে ধরানো।


      হে বিধাতা! আমাকে আরেকটি বার অন্ততঃ এক সন্ধ্যের জন্যে ইন্দ্র রায় রোডে পৌঁছে দাও। সেখানে হাওয়াই চটি পড়া ধুলো পায়ে কয়েক ঘন্টা আড্ডা দেব নারানদা, তিলুদা, শংকর, আশীষ,টোনি আর বুলটুর সঙ্গে। ছোট মাটির খুরিতে গরম চায়ে চুমুক দেব, একটা চারমিনার তিনজনে ভাগাভাগি করে টানব।


     হে ঈশ্বর!  হে ইন্দ্র রায় রোডের ঈশ্বর! কথা শোনো।


    দ'য়ের লেখা নিয়ে কোন কথা হবে না!

  • | ২৮ জুন ২০২১ ২৩:২৯495410
  • উঁহু স্টেট ব্যাঙ্ক আর দাঁ পেপার সম্পূর্ণ উলটো দুই প্রান্তে। দাঁ পেপার হল বিজলি সিনেমার উল্টোফুটে যেখানে ইন্দ্র রায় রোড শ্যামাপ্রসাদ মুখুজ্জে রোডে উঠছে। এব্র শ্যামার দিকে না ঘুরে উল্টোদিকে পুরো ইন্দ্র রায় রোড হেঁটে রমেশ মিত্র রোডের দিকে এলে রমেশ মিত্র আর ইন্দ্রভ্রায়েরবক্রসিঙে জগুবাজারের দিকে মুখ করে দাঁড়ালে ডানের ফুটে কোণায় স্টেট ব্যাঙ্ক। 


    অনিন্দিতা, হ্যাঁ প্রায়।  আমাদের ফ্রিজ অবশ্য নানা কারণে টেকে নি বেশিদিন।  


    স্বাতী, ওইজন্যি বোধয় আনার আর শেখা হল না। আমাদের বাড়িতে অবশ্য বলত পিঁপড়ে খেলে সাঁতার শেখে। 


    কেকে, হুচি, বেশ বেশ। 

  • syandi | 45.250.246.207 | ২৮ জুন ২০২১ ২৩:৪৬495411
  • এরকম লেখা পড়ার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করা যায়। দএর লেখার একটা অদ্ভুত এবংজ অনুকরণীয় স্টাইল আছে। 

  • b | 14.139.196.16 | ২৯ জুন ২০২১ ১১:৪৯495423
  • অননুকরণীয় বলতে চাইলেন কি? 

  • রঞ্জন | 2405:201:4011:c8cc:209c:553f:f45c:abe8 | ২৯ জুন ২০২১ ১৫:১২495429
  • দ, 


    ঠিকই তো। এই দুই বিন্দু আমার আডডার জোনের প্রান্তবিন্দু। দিনের বেলা স্টেট ব্যাংক থেকে দূরে। সন্ধ্যের পর ব্যাঙ্ক বন্ধ হলে ওদিকে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পরি।

  • syandi | 45.250.246.207 | ২৯ জুন ২০২১ ২০:৩৮495442
  • হ্যাঁ ওটা বাজে টাইপো হয়ে গেছে। অননুকরণীয় বলতে চেয়েছিলাম। ​​​​​​​

  • | ২৯ জুন ২০২১ ২৩:৩৯495459
  • যাক বাবা!  :-)


    আবার লেখার স্টাইল  বদলাতে হলে চাপ ছিল। :-)

  • Kausik Ghosh | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:০৯498547
  • ...ভান্ডারের জিলিপী হল খাঁটি অমৃত।
    তারপরে ? 
    বহু আগ্রহ নিয়ে পড়তে পড়তে ৬ নম্বরে পৌঁছে দেখি এরম হঠাৎ কেটে পড়েছেন পাঠককে মাঝরাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়ে।
    ঠিক হলো এটা ?
  • | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:৪৭498550
  • না না তারপরে ঐ পড়াবই হেন তেন ঐসব লিখলাম তো। আসবে দাঁড়ন আট্টু। 
  • Kausik Ghosh | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৫:১৪498551
  • দাঁড়ান এট্টু ? বললেই চোদ্দ খুন মাফ ? ২৭শে জুন ২০২১ এই ষষ্ঠ পর্ব বেরিয়েছে। ২৭শে সেপ্টেম্বর পঞ্চদশ পর্ব বেরোনোর কথা ছিলো। হিসেব করে দেখুন।
     
    প্রার্থনা করো যারা ফাঁকি দ‍্যায় তেত্রিশ কোটি পাঠকের গ্রাস
    যেন লেখা থাকে আমার রক্তলেখায় তাদের সর্বনাশ।।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন