এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  ছেঁড়াকাঁথা

  • ছেঁয়াবাজীর ছলনা  - ১৫

    লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | ছেঁড়াকাঁথা | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৮২০ বার পঠিত
  • ক্লাস ফাইভে আমাদের একটা নতুন বিষয়ের ক্লাস শুরু হল। সেলাই। সাধনাদি নিতেন সেলাইয়ের ক্লাস, সেলাই আমার কাছে বিভীষিকা; ছুঁচে সুতো পরাতে পারি না, এত্ত ছোট ফাঁকের মধ্যে দিয়ে বাকী মেয়েরা কেমন টপাটপ সুতো গলিয়ে দেয়, আমার সুতো  হয় ছুঁচের গায়ে ধাক্কা খায় নয়ত হাওয়ায় ভেসে যায়। মাছ্কাঁটা ফোঁড় দিয়ে রুমাল বানাতে হবে, দিদা খুব সুন্দর সেলাই করে তাই মা দিদাকে বলে সাদা কাপড়ে ফুল এঁকে খানিকটা করে দিতে। দিদা আমার অপদার্থতায় খুব রাগ করে; ছোটদিরগুলোও অবশ্য দিদাই করে দিয়েছিল বলে বড়মামীমা মনে করিয়ে দিলে আর রাগ না করে খানিকটা করেও দেয়। চারধারে মাছকাঁটা ফোঁড়ের বর্ডার আর এক কোণায় একটা কলকামত, সেটায় আস্তে আস্তে শিফনসুতো দিয়ে চেনফোঁড় তুলি আমি। আস্তে আস্তে রুমাল শেষ হয়, নাইলনের সুতো দিয়ে বিনুনীর মত করে বুনে বুনে ব্যাগ বানানোর কাজ দেন সাধনাদি। আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচি। উজ্জ্বল সবুজ আর সাদা রঙের নাইলনের সুতো কিনে আনা হয়। এটা  সেলাইয়ের মত অত কঠিন নয়, কিন্তু তাও অন্যদের মত তাড়াতাড়ি পারি না, আমার একটা ব্যাগ শেষ হতে হতে শিবানী ৬টা ব্যাগ আর গোধুলি ৪টে ব্যাগ বানিয়ে ফেলে, অন্যরাও সকলেই অন্তত দুটো করে বানায়।

    তবে এই ব্যাগটা আমি একদম একলা একলা বানিয়ে ফেলি, দিদাদের কাউকে কিচ্ছু সাহায্য করতে হয় না বলে মা'ও খুশী হয়, আমাকে একটা মস্তবড় ক্যামেলের রং পেন্সিলের বাক্স কিনে দেয়, ৩৬টা পেন্সিলওয়ালা। আমি অবশ্য ছবি আঁকতেও পারি না, তবু রং পেন্সিল নিয়ে হিজিবিজি কাটতে, খেলতে ভাল লাগে তো। বাবলাকাকুর পোষা কুকুরছানা রুদ্র’র একটা ছবি আঁকলাম, খয়েরি বাদামী আর সাদা মিশিয়ে ওর গায়ের রঙের মত রঙ করলাম। লেজ গুটিয়ে চুপ করে শুয়ে আছে। প্রথমে ছোটমামা বলল ‘এরকম এবড়ো খেবড়ো পেঁপে এঁকেছিস কেন?’ যত বলি ওটা কুকুরছানা সবাই খালি হি হি করে হাসে। পেঁপের বুঝি চোখ থাকে? ল্যাজ থাকে? রেবাদি বলেন যাদের হাতের লেখা খুব খারাপ হয়, তাদের আঁকাও খুব খারাপ হয়, কাজেই আমার আঁকা তো খারাপ হবেই। কিন্তু এই ইস্কুলে আঁকার কোনও ক্লাস নেই, কোনও ক্লাসেই নেই। কলকাতার ইস্কুলে ছিল। সবচেয়ে ভাল ছিল নরম নরম প্ল্যাস্টিসিনের তাল দিয়ে নানারকম জিনিষ বানাবার ক্লাস; সবচেয়ে ভালগুলো আবার ‘আনন্দমেলা'য় স্টলে সাজানো হত, বিক্রীও হয়ে যেত মাঝে মাঝে। এখন আর ওসব কিছু নেই, তাই আমি আর ভাই উঠোনের মাটিতে জল ঢেলে নরম করে তাই দিয়ে রাস্তাঘাট, ব্রীজ এইসব বানাই।

    ফাইভের হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষার সময় রেবাদি একদিন স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়লেন,  অনুরেখাদি আর আয়া মিনুদি গিয়ে বাড়ী পৌঁছে দিয়ে এল রেবাদিকে। কি অসুখ সেটা ঠিক করে কেউ বলল না আমাদের, শুধু উনি আর স্কুলে এলেন না প্রায় ২ মাস। তারপর একদিন এলেন ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে, এমনিই রোগা রেবাদি একেবারে কঙ্কালের মত হয়ে গেছেন, মাথায় চুল উঠে টাক পড়ে গিয়ে কেমন যেন ভয়ানক দেখাচ্ছে। ক্লাস সিক্সের রূপালী ওঁর পাড়াতেই থাকে, বলে ওঁর ‘ক্যান্সার' হয়েছে। মা শুনে বলে ক্যান্সার হলে কেউ বাঁচে না, ঠাকুমারও নাকি হয়েছিল, খুব কষ্ট। মা অবশ্য ঠাকুমাকে দেখে নি, জিজিদের মুখে শুনেছে।  পাড়ার রায়দিদা বলে ‘ভাগ্যবতী, পরম পূণ্যবতী, শাঁখাসিঁদুর নিয়ে স্বর্গে যাবে’। মা'র মুখটা কেমন শক্তমত হয়ে যায়, আমাকে বলে ‘খালি বড়দের কথায় থাকিস কেন, তোর খেলা নেই?' কি মুশকিল! আমি কোথায় বড়দের কথায় থাকলাম, আমি তো মা'র সাথে কথা বলছিলাম, এই রায়দিদাই তো কোত্থেকে এসে ঢুকে পড়ল আমাদের কথায়! আমার কিরকম মনে হয় মা আসলে রায়দিদাকেই বকতে চেয়েছিল, কিন্তু  বড়দের তো আর ছোটরা বকতে পারে না, তাই মা আমাকে বকে দিল।

    এটা মনে হতেই মনটা বেশ খুশী হয়ে গেল। কিন্তু রেবাদি ... নাহ মনটা আবার খুব খারাপ হয়ে গেল। রেবাদিও বাবার মত ফটো হয়ে যাবেন! আর কিছুতেই ওঁকেও কোত্থাও দেখা যাবে না ... কোনওদিন আর স্কুলে আসবেন না!! ছোটদি এখন শ্যামবাজারে ওর মামাবাড়িতে থাকে, স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়ে। মাঝে মাঝে ছুটিছাটায় বেড়াতে আসে। বিকেলবেলাগুলোতে বাবুদের বাড়ির সামনের মাঠে বাবুরা খেলে কখনো কখনো ইলু শীলুরাও খেলে, তবে ওরা বেশিরভাগ শুভ্রাদের উঠোনে খেলে। আমাকে তো দিদা যেতে দেয় না, বিকেলে আমার সময় আর কাটে না। মা দিদা বড়মাইমা নীচের সামনের বারান্দায় বসে গল্প করে। আমি  উপরের মাঝের ঘরে জানলার উপরে  তাক থেকে চুপি চুপি নামিয়ে আনি ‘শেষের কবিতা’, ‘শুন বরনারী’, ‘ভারত প্রেমকথা’। ইলু শীলু দিদা মা সব মিলিয়ে যায় আস্তে আস্তে। কুয়োর জল তোলার আওয়াজ পেলে আবার বই তাকে তুলে দিয়ে নেমে আসি। দিদা সন্ধ্যে দিতে উঠেছে, বড়দের বই পড়ছি দেখলে  মা’কে বলে মার খাওয়াবে ঠিক। যা ভেবেছিলাম সত্যিই তাইই হল পুজোর ছুটির ঠিক আগে একদিন সকালে ইস্কুলে খবর এল, রেবাদি আর নেই।

    প্রেয়ারের পর স্কুল ছুটি হয়ে গেল, আমরা সবাই লাইন  করে গেলাম ওঁর বাড়ী। আমার একটুও যেতে ইচ্ছে করছিল না কিন্তু  এটাই নাকি নিয়ম সবাইকে যেতেই হবে। তারপর তো সেই একইরকম খাট, একইরকম ভীড়, একইরকমভাবে রেবাদি চোখ বুঁজে শুয়ে আছেন ,ঘুমাচ্ছেনই বুঝি বা। আর ...আর সেই একইরকম সাদা চাদরের তলা দিয়ে বেরিয়ে আসা একজোড়া পায়ের পাতা, তফাতের মধ্যে এই পায়ের পাতায় কেউ আলতার শিশি  উপুড় করে দিয়েছে। সেই ক্লাস থ্রী থেকেই জানি ফাইভ শেষ হলেই আমিও গিয়ে ভর্তি হব হয় গঙ্গার ধারের বড় স্কুলে, নয়ত নবগ্রামের বড় স্কুলে।  মনে মনে বেশ একটু খুশী আর স্বস্তি ছিল যে যাক আর কয়েকটা দিন কাটিয়ে ফেলতে পারলেই আর এই বিকট গন্ধ সহ্য করতে হবে না, সক্কাল সক্কাল ঘুমচোখে উঠে আসতে হবে না। এদিকে ফাইভে ওঠার পর থেকে আর দাদু পৌঁছে দিতে, নিতে আসে না, আমি মিতাদের সাথে চলে আসি। মিতা, রীতা দুই বোন আমাদের পাড়ায়ই শুভ্রাদের বাড়ীর গলিটায় থাকে। রীতা আমার চেয়ে একক্লাস নীচে আর মিতা একক্লাস ওপরে পড়ত, মিতা এইবারে ফাইভ থেকে পাশ করতে পারে নি, তাই আমরা দুজন একসাথে ফাইভে পড়ি। আমি সকালে ওদের বাড়ী ডাকতে যাই, তারপর তিনজন একসাথে যাই, মাঝরাস্তায় কোনও কোনওদিন রূপালী আর ওর বোন বর্ণালী আমাদের সাথে যোগ দেয়।  

    রূপালী অবশ্য আমাদের সাথে বিশেষ কথাবার্তা বলেটলে না, মিতা বলে ও নাকি পড়াশোনায় খুব ভাল, ক্লাসে ফার্স্ট হয়, তাই বেশী কথা বলে না। বর্ণালী একদম আমাদের মত, গল্প করতে করতে হাসতে হাসতে যায়। ওদের এক দিদি আছে, মিতালী, ক্লাস নাইনে পড়ে, শাড়ি পরে অন্য দিদিদের সাথে যায়। রীমার দিদির নামও মিতা, আমাদের স্কুলেই ক্লাস টেনে পড়ে সামনের বছর বোর্ডের পরীক্ষা দেবে। রীমা বলে ওর দিদিও পড়াশোনায় খুব ভাল, ভাল ফল করবে বোর্ডের পরীক্ষায়। মিতা, রীতারা খেলাধুলোয় খুব ভাল, স্পোর্টসের দিন দুই বোনে মিলে আট ন'টা প্রাইজ নিয়ে যায়। সকলেরই কেমন গর্ব করার মত একটা একটা জিনিষ আছে, আমারও খুব ইচ্ছে করে কিছু একটা নিয়ে ওদের মত ঝলমলে মুখে গল্প করতে, সবার  প্রশংসা পেতে, কিন্তু কী নিয়ে যে করব, খুঁজেই পাই না। ফাইভের অ্যানুয়াল পরীক্ষার পরও পড়ার ছুটি হয় না, অ্যাডমিশান টেস্ট দিতে হবে। বড়মামীমা বলে ভাগাড়পাড়ায় তো ফেলের মধ্যে ফার্স্ট, বড় ইস্কুলে তো আর তা হবে না, পাশ করতেই অনেক পড়তে হয়। দাদু মা'কে বলে সিক্সে 'হিন্দু গার্লসে মোটে ছ'টা সিট আর হীরালাল পালে যে কটা সীট, তা বলেই নি, তবে বেশ কমই হবে, সবাই তো ফাইভেই ভর্তি হয়। মা আমাকে  আরও ভাল করে পড়তে বলে, একদিন একদিন করে দুটো জায়গায় পরীক্ষাও হয়ে যায়।  

    হিন্দু গার্লসের রেজাল্ট আগে বেরোয়, হ্যাঁ আমার নাম আছে। বাড়ীতে ভর্তির তোড়জোড় শুরু হয়। আমার বেশী ভাল লাগে না, খুব ইচ্ছে ছিল হীরালাল পালে পড়ার, ওখানেই শুভ্রা, রিঙ্কু, শর্বরী, সাতুরা সবাই পড়ে, বেশ কেমন ওদের সাথে স্কুলে যাওয়া আসা করতে পারতাম, তাহলে তো ওরা রোজ আমাকে খেলতেও নেবে, নিজের স্কুলের বন্ধুদেরই তো সবাই আগে নেয়, তাই না? এদিকে দাদু বলে  ঐ স্কুল অনেক দূর, যেতে আসতে খুব পরিশ্রম হবে, রাত্রে পড়তে পারবে না, ঘুম পেয়ে যাবে। আর হিন্দু গার্লসে ছোটদি পড়েছে, মা'ও বাংলাদেশ থেকে আসার পর নাইন টেন পড়ে ওখান থেকেই ম্যাট্রিকুলেশান দিয়েছে, বিয়ের আগে তিন চার বছর ওখানে পড়িয়েওছে, সব দিদিরা চেনে, অনেক বেশী যত্ন হবে ওখানে পড়াশোনার, আর আমি ফাঁকি দিলেও মা খবর পেয়ে যাবে ঠিক, তাই ওটাই ভাল। আমার মন খারাপ লাগে, কিন্তু কাউকে আবার বলতে সাহস হয় না, মারে যদি। এমনিই তো রোজ কিছু না কিছু ‘দোষ' করি আর হয় দাদু পাখার বাঁট দিয়ে মারে, নয়ত মা কিল চড় থাপ্পড় মারে। আমি আর মার খেতে পারি না রে বাবা! এর মধ্যে আবার খ্রীস্টমাস ঈভ আসে, বার্ষিক পরীক্ষার ফল বেরোয়, আবার প্রথম হই, আগের দুই বছরের মতই, ক্লাসের ৩৫ জন ছাত্রীর মধ্যে তেরোজন পাশ করে সিক্সে উঠেছে, আর সব ফেল, আমি সেই ‘ফেলের মধ্যে ফার্স্ট'|

    খ্রীস্টমাসের ছুটিতে জিজি আর ছোড়দি এসে আমাকে কল্যাণীতে মীনামার ওখানে নিয়ে যায়। মীনামাদের বাড়ীটা কি সুন্দর! সাদা রঙের ছোট্ট দোতলা বাড়ী, চারদিকে বাগান। মীনামার একজন মালী আছে, পিসামশাই শেখায় 'মালী আছে' বলতে হয় না, ‘মালী আছেন' বলতে হয়। দাদা তখন কল্যাণী ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, ফিজিক্স, আমাকে গোহাদিত্য, বাপ্পাদিত্যর গল্প বলে দাদা, বইটাও বের করে দেয় দোতলার বড় ঘরের আলমারী থেকে, ‘রাজকাহিনী'| ছোট্ট এইটুকু একটা বই, কিন্তু কি ভাল! কি ভাল! মীনামার বাড়ীতেই প্রথম দেখেছিলাম মোজাইক করা মেঝে, এক একটা ঘরে এক এক রকম মোজাইক। মীনামা কোনওদিন কাউকে বকেও নি, মারা তো অনেক দূরের কথা, পিসামশাই খুব গম্ভীর, কিন্তু কাউকে বকতে তো দেখি নি। আমার তাই মীনামার বাড়ী ভারী মজা কিলচড় নাই। ছুটি শেষ হওয়ার দিন আমি আর জিজি কলকাতা ফিরি বাসে করে। সেন্ট্রাল পার্ক থেকে বাসে করে সোজা ধর্মতলা, সেখান থেকে ভবানীপুরে জিজির কাছে, পরেরদিন কোন্নগর। মীনামার রান্নাঘর থেকে দেখা যায় কলকাতার বাস এসে পৌঁছল কিনা, তারপর ধীরেসুস্থে বাসে গিয়ে ওঠা, বাড়ী ফেরার সময় ভাইয়ের কথা মনে হয়, মা'কে ছেড়ে কোথাও যেতেই চায় না, অথচ এলে কত্ত মজা করতে পারত। এই যে আমি কেমন যাত্রা দেখলাম ‘স্পার্টাকাস', ও তো আর দেখতে পেল না। মনটা খারাপ লাগে।

    স্কুল খুলে গেছে ২ তারিখে, দাদু যায় ট্র্যানসফার সার্টিফিকেট আনতে, ঐটা না হলে নতুন স্কুলে ভর্তি নেবে না। দাদু গিয়ে সাধনাদিকে দরখাস্ত দেয়, উনি পরেরদিন যেতে বলেন। দাদু যায়, ফেরত আসে খুব গম্ভীর মুখে, মা'কে ডেকে নিয়ে অনেকক্ষণ কথা বলে, আমাকে ভাইকে দাদুর ঘরে ঢুকতে দেয় না দিদা।  আরও দুইদিন চলে যায়, মাঝে একদিন সেজমামা আসে, আবার সবাই অনেক কথা বলে গম্ভীর মুখে। তবে এবারে কেউ ঘর থেকে বের করে দেয় না, সেজমামা আমাকে আর ভাইকে একসাথে কোলে নিয়ে বসিয়ে রাখে, তাই দিদা আর কিছু বলে না। ওরা কিসব বলে, স্কুলের সেক্রেটারি গোপালবাবু নাকি বলেছেন একটু ভাল ফল করলেই সবাই যদি অন্য স্কুলে নিয়ে যায় তাহলে এই স্কুলের ভাল ফল হবে কী করে? দাদু নিজে ম্যানেজিং কমিটির মেম্বার হয়ে যদি নিজের নাতনীকে অন্য জায়গায় পড়ায় তাহলে অন্যরা কোন ভরসায় এখানে পড়াবে? আরও বলেছেন মা তো প্রথমে এই স্কুলেই চাকরি পেয়েছিল, ওঁরাই ডেকে দিয়েছিলেন, মা বিএ পাশ করার পর, তারপর যেই হিন্দু গার্লস থেকে ডাকল অমনি মা চলেও গেল, এখন তো আর ওরা কই চাকরি দিচ্ছে না মা'কে, উনি তো দেবেন বলেছেন, তাহলে কেন?

    আমি কিছুতেই এই কথাগুলো ঠিক বুঝে উঠতে পারি না, বুঝতে পারি আমাকে নিয়েই কথা হচ্ছে, কিন্তু ...কিন্তু ... নাঃ কিছুতেই পরিস্কার হয় না| সেজমামা, বড়মামারা অনেক কিছু বলে, মা'ও বলে। তার পরেরদিন সকালে আবার মা উঠিয়ে দেয় ঘুম থেকে, তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নিতে বলে, ভর্তি হতে যেতে হবে। আমি অবাক হয়ে ভাবি হিন্দু গার্লস  কি এত সকালে ভর্তি নেবে? ওদের তো দুপুরে স্কুল, কিছু জিগ্যেস করার আগেই দাদু আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে, সেই ভাগাড়পাড়ার স্কুলের দিকেই যাই আমরা। দাদু আমাকে নিয়ে ‘বালিকা শিক্ষা সদন জুনিয়র হাই' স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়, বিলবইতে লেখা ছিল নামটা, ইরাদিদিমণি হেডমিস্ট্রেস।  কিন্তু এখানে কেন সেটা যদি কেউ একটু বুঝিয়ে দিত! জানুয়ারী মাসে তো তেমন ক্লাস হয় না, রোজই প্রায় দশটায় ছুটি। আমি বাড়ী ফিরে দেখি শুভ্রা, রিঙ্কু, শর্বরী, মিঠু, সাতুরা এ ওর বাড়ী গিয়ে ডাকাডাকি করে একজায়গায় হয়, তারপর একসাথে খুব মজা করতে করতে যায়, ইলু, শীলুও হীরালাল পালে ভর্তি হয়েছে এই বছর, ওরাও যায়। ওদের স্কুলে রোজ ড্রেস পরতে হয় না, বেশীরভাগ দিন ওরা পরিস্কার এমনি জামা পরে স্কুলে যায়, মাঝে মধ্যে সবুজ-সাদা স্কুলড্রেস পরে। আমার তো আর ওদের সাথে হইহই করে যাওয়া হয় না, আমি থেকে যাই ভাগাড়পাড়া স্কুলে ফেলের মধ্যে ফার্স্ট হয়ে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৮২০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb91:149f:50ef:300d:bf7d:2d3a:cba1 | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:২৮523475
  • মনখারাপী। কত যে মনখারাপ জমা হয় ছোটবেলা থেকে!
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:79c4:b9e9:b4bd:e9c5 | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৬:১২523489
  • মাছকাঁটা ফোড় কি? হেরিং বোন প্যাটার্ন?
  • যোষিতা | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৬:৩৬523490
  • ফিশবোন। 
    হেরিংবোন ও ফিশবোন ভিন্ন স্টিচ।
  • যোষিতা | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৬:৪৩523491
  • বিয়ের আগে আমার মা হাওড়ার হিন্দু গার্লসে পড়িয়েছে। আর পড়িয়েছে প্রসন্নকুমারীতে।
  • সৃষ্টিছাড়া | 2405:201:a41e:a049:6c4d:4dc8:e165:2bf | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:৫৩523506
  • এর থেকেও কঠিনতর ছিল আমার ছাত্র কাল, মাঝে ৭মাস ১১ দিন গৃহত্যাগী নিরুদ্দেশ 
  • সৃষ্টিছাড়া | 2405:201:a41e:a049:6c4d:4dc8:e165:2bf | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:৫৬523507
  • আর গত ২০ বছর রেবাদি র অসুখ আমাকে ছবি করেনি কিন্তু কপর্দকহীন আর আত্মীয় আর বন্ধুহীন করেছে 
  • | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:১৮523564
  • স্বাতী, কেকে, heart 
     
    পলিটিশিয়ান, এই যে
     
     
    যোষিতা, এটা কোন্নগরের। ১৮৬০ এ স্থাপিত। হিন্দু গার্লস আর হিন্দু বয়েজ  নামে প্রচুর স্কুল মনে হয় বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে আছে। 
     
     
    ​​​সৃষ্টিছাড়া,  হ্যাঁ হতেই পারে। আমার সহপাঠিনী অনেকেরই জীবনযাপন অনেক বেশী কঠিন ছিল। এ তো কোন কম্পিটিশান হচ্ছে না যে তুলনা করে দেখতে হবে। 
    আপনি ২০ বছর সময় পেয়েছেন। অভিনন্দন আপনাকে। ক্যান্সার ফাইট ব্যাক করতে পারা খুবই ভাল।  রেবাদি প্র‍্যাকটিকালি ৬ মাসও পুরো পান নি। এবং আবারো  কোন কম্পিটিশান হচ্ছে না। 
     
    আপনি নিজের গল্প লিখতে চাইলে গুগল দিয়ে লগিন করে খেরোর খাতায় লিখুন না। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন