• বুলবুলভাজা  ভোটবাক্স  বিধানসভা-২০২১  ইলেকশন

  • নরেন্দ্র মোদী, তাঁর পোশাক-আশাক, তাঁর ভাষণ-টাসন এবং ...

    শুভাশিস মৈত্র
    ভোটবাক্স | বিধানসভা-২০২১ | ০৩ মার্চ ২০২১ | ১২৪৭ বার পঠিত | ২ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • অভূতপূর্ব ৮ দফা প্রত্যক্ষ করতে চলেছে বাংলাবাসী। খুলে গিয়েছে গুরুচণ্ডা৯-র ভোটবাক্স। সারা দেশের প্রেক্ষিতে, আসমুদ্রহিমাচলের মালিকপক্ষের কাছে এ ভোট খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে; বাংলার ভোট কেবল একটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনমাত্র নয় তাদের কাছে। দেশের হাল কেমন যাচ্ছে, প্রধান সেবক ও তস্য সেবকদের হাতে দেশ কেমন থাকছে, পোড় খাওয়া সাংবাদিকের অক্ষরে তার হকিকৎ।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামে স্টেডিয়াম, শুনে দলীয় সমর্থকদের বাইরে সকলেই হাসছে। ফেসবুকে অবশ্য একজন লিখেছেন দেখলাম, ‘ওঁর নামে তো স্টেডিয়াম হতেই পারে, কারণ উনিই দেশের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি পেট্রোলের দামে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন।’ হিটলার মুসোলিনিরা যখন ঠিক এমন কাজই করেছিলেন তখনও হয়তো মানুষ লুকিয়ে হেসেছিল। স্তালিন বেঁচে থাকতে ভলগোগ্রাদ যখন স্তালিনগ্রাদ হয়ে গিয়েছিল ১৯২৫-এ, তখন অন্তত একজন কবি যে হেসেছিলেন তা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়, তাঁর নাম অসিপ ম্যান্ডেলস্টাম। পরে অবশ্য স্তালিনের গোঁফের সঙ্গে বড় আরশোলার তুলনা করে তাঁকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল।

    নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম নাম ঘোষণার পর বাংলায় যাকে বলে চক্ষুলজ্জা, সেটা কার আছে কার নেই তা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু, প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর দলের ম্যানেজাররা কি জানতেন না এই নিয়ে বিতর্ক হবে? অবশ্যই জানতেন। তাঁরা কি জানতেন না যে হিটলার-মুসোলিনির প্রসঙ্গ এসে পড়বে? তাও জানতেন। তাহলে? প্রথমত গডসে নিয়ে যদি কেউ লজ্জিত না হন, হিটলার-মুসোলিনির সঙ্গে তুলনায় তাদের তো অস্বস্তি বোধ করার কথাই নয়। দেশে এক বিরাট সংখ্যক মানুষ এতে কোনও দোষ দেখবেন না, হিন্দুত্ববাদীরা সে কথা জানেন। গান্ধীকে খুন করতে নাথুরাম গডসে যে রিভলভার ব্যবহার করেছিলেন, সেটা তিনি কিনেছিলেন গোয়ালিয়র থেকে। তাই গোয়ালিয়র নাকি পবিত্র শহর, গর্বের শহর। যে শহর থেকে গান্ধী হত্যার অস্ত্র কেনা হয়েছিল, সেই স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে গোয়ালিয়র শহরে ‘গডসে লাইব্রেরি’ খুলেছে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা। এ খবর ১১ জানুয়ারিতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত। অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে খোলা এই লাইব্রেরির নাম ‘গডসে জ্ঞানশালা’। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার তো এই কাজে বাধা দেয়নি। অন্য কোনও ‘সন্ত্রাসবাদী’র নামে লাইব্রেরি খুলতে গেলে কিন্তু বাধা আসত। ফলে মানতেই হবে গোয়ালিয়রের ওই গডসেপন্থীদের এই মূল্যবোধ, ভিন্ন এক মূল্যবোধ - যা এতদিন এভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। চাপা ছিল। হিন্দুত্ববাদীদের আসন তিনশো ছাড়ানোয় তারা এখন সাহস করে প্রকাশ্যে এই কথা বলছে। এবং তাদের পক্ষে জনসংখ্যা বিপুল। অর্থাৎ, যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে স্টেডিয়াম ইত্যাদি নিয়ে সমালোচনাগুলো উঠে আসছে, আর যারা কাজগুলো করছে, দু’পক্ষের নৈতিক অবস্থান পরস্পরের বিপরীতে। রাজনীতি এবং আন্দোলন এই ভাবেই সমাজের বড় অংশের মূল্যবোধ বদলে দেয়। সেই পরিবর্তন সব সময় ‘জনস্বার্থে’ হয় না।

    এর শুরু অনেক আগেই হয়েছে। সে কারণেই সম্ভবত গুজরাট দাঙ্গার সময়ে যিনি দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, সেই কে আর নারায়ণন অবসরের পর বলেছিলেন, তিনি সব থেকে বেশি পীড়িত হয়েছিলেন এটা দেখে যে, এত বড় একটা গণহত্যা ঘটে গেল, সারা দেশ ছিল প্রায় নীরব। সেই সাক্ষাৎকারে ইউটিউবে যে কেউ দেখে নিতে পারেন। মূল্যবোধ বদলে গিয়েছে বলেই হিন্দু এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে শান্তিতে বাস করার পরও যখন মহানায়কের অ্যাজেন্ডা রূপায়ণকারী একদল মানুষ ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ফ্রিজে গোমাংস রাখা আছে এই কারণ দেখিয়ে (যদিও তদন্তে ফ্রিজে গোমাংস পাওয়া যায়নি) যখন আকলাখকে পিটিয়ে মারে, তখনও গোটা এলাকা নীরব থাকে। অভিযুক্ত হিন্দুত্ববাদীদের একজনের জেলখানায় মৃত্যু হলে তাঁর মরদেহ জাতীয় পতাকায় মুড়ে দেওয়া হয়। তাঁকে শহিদ বলা হয়। সেখানে হাজির থাকেন মোদী সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মিডিয়া নমো নমো করে সেই সংবাদ প্রকাশ করে। তার পর সবাই ভুলে যায়। যতক্ষণ না ফের আরেকটা ঘটনা ঘটে। সে কারণেই আমরা কোনও খবর রাখি না, আখলাখের ছোট ছেলে, ইট দিয়ে মাথায় মারার ফলে যার মাথায় দুটো ‘ব্রেন সার্জারি’ করতে হয়েছিল, তিনি এখন কেমন আছেন?

    মূল্যবোধ বদলে যাওয়াই এর কারণ। গোদী মিডিয়া কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পরিবর্তিত মূল্যবোধেরই প্রকাশ সেখানে। মূল্যবোধ বলতে এখানে মরালিটির কথা বলছি। এর পরও কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, মূল্যবোধ বলতে কী বলা হচ্ছে? জোনাথান হাইটের (Jonathan Haidt) ‘হোয়াই গুড পিপল আর ডিভাইডেড বাই পলিটিক্স অ্যান্ড রিলিজিয়ন’ বই থেকে একটা দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে। মোটামুটি গল্পটা এরকম। এক ভদ্রলোকের একটা পোষা কুকুর ছিল। তিনি কুকুরটিকে ভীষণ ভালোবাসতেন। একদিন কুকুরটা একা একা ঘরের বাইরে এসে রাস্তায় গাড়ি চাপা পড়ে। গুরুতর আহত হয়। ভদ্রলোক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করলেন। কিন্তু বাঁচল না। কয়েক দিন পরে মারা গেল। গভীর শোক পেলেন ভদ্রলোক। এর পর, তিনি কুকুরটাকে কেটে মাংস রান্না করে খেয়ে ফেললেন। এটা শুনে সকলেই বলবেন, ভয়ঙ্কর। কুৎসিৎ। পাশবিক। মানসিক রোগী। কারণ, বেশির ভাগ মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে এই কাজ খাপ খায় না। নিজের কুকুর, তিনিই মালিক। কুকুরটির প্রতি তার ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন নেই। বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই তিনি এই কাজ করে্ছেন। তবু তার এই কাজকে বলা হবে ‘ডিজগাস্টিং’। জোনাথান হাইট এই শব্দটাই ব্যবহার করেছেন। কিন্তু যদি ওই লোকটার মতো মানুষ সংখ্যায় অনেক বেড়ে যায়, তখন পুরোনো মূল্যবোধ চাপা পড়ে যাবে। রাজনীতি এবং ধর্ম মূল্যবোধ বদলে দিতে পারে, এমন উদাহরণ ইতিহাসে বার বার দেখা গেছে।

    এবার প্রধানমন্ত্রীর পোশাকের কথা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্টাইল-স্টেটমেন্ট আপনি এড়িয়ে যেতে পারবেন না। অতীতে লাখ বা কোটি টাকার কোটের গল্প আমরা শুনেছি। এখন তাঁর সাদা পোশাক। ততোধিক সাদা দাড়ি। সব মিলিয়ে যেন একজন তপোবনের সন্ন্যাসীর রূপ। কখনও ময়ূরকে দানা খাওয়াচ্ছেন, কখনও মন্দিরে তপস্যার ভঙ্গিমায়। হিটলারেরও পশু-পাখিকে আদর করা খাওয়ানোর ছবি এক সময় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সে অন্য কথা। সে সব থাক। কিন্তু অন্য একটা বিষয়ে লোকজন বলাবলি করছে। কী? যোগী আদিত্যনাথ নাকি ধীরে ধীরে হিন্দুত্ববাদী-মহলে জনপ্রিয়তায় নরেন্দ্র মোদীর কাছাকাছি চলে আসছেন। একটা সময়ে বলা হত, বিজেপি যদি ২০২৪-এও ক্ষমতায় আসে, তাহলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী অমিত শাহ। এখন হিন্দুত্ববাদীরা ঝুঁকেছেন গেরুয়াধারী মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। ‘হোয়াই আই অ্যাম নট আ হিন্দু’র লেখক কাঞ্চা ইলাইহা অভিযোগ করেছেন, হাথরসের ধর্ষণকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর ‘কাস্ট’, তাই তাদের আড়াল করতেই পুলিশ দলিতকন্যার মৃতদেহ মাঝরাতে বাড়ির লোককে না জানিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এমন গুরুতর অভিযোগেও কিন্তু পরিস্থিতি বদলায় না। এর পরেও দেখা যাচ্ছে গেরুয়াধারী মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বাড়ছে (কৃষক আন্দোলনের আগে)। হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার নিরিখে অমিত শাহের থেকে সম্ভবত যোগী আদিত্যনাথ অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই যে তপোবনের সন্ন্যাসীর বেশ, তা কি তা হলে যোগী আদিত্যনাথকে মোকাবিলা করতেই? শেষে না হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় যোগী তাঁকেও ছাড়িয়ে যান, এই আশংকায়? এমন মত কিন্তু কান পাতলে শোনা যাচ্ছে।

    আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অনুগত বাহিনী সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। কখনও তারা টুইটারে গর্জন করে, কখনও ফেসবুকে, কখনও শাহিনবাগের সামনে গিয়ে বলে গোলি মারো গদ্দারোকো, কখনও মাঠে-ময়দানে তাদের হুঙ্কার শোনা যায়। এই প্রসঙ্গে একটি খবর খুবই প্রাসঙ্গিক। ২০২১-এর ৯ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রথম পাতায় খবরের হেডলাইন, ‘GOVT LOOKS FOR CYBER VOLUNTEERS TO REPORT ‘ANTI NATIONAL ACTIVITIES’ । খবরটা এরকম- ইন্টারনেটে ‘অ্যন্টি ন্যাশনাল’, সন্ত্রাসবাদী, বেআইনি কাজকর্ম, ‘শিশু-পর্নগ্রাফির প্রচারের চেষ্টা’ ইত্যাদি খুঁজে বের করতে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োগ করবে। কাজ শুরু হবে প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে জম্মু-কাশ্মীর এবং ত্রিপুরায়। তার পর অন্যান্য রাজ্যে। এই কর্মসূচি রূপায়ণে নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করবে ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’, যেখানে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। শিশু-পর্নগ্রাফি, সন্ত্রাসবাদ এসব প্রতিরোধে সরকার ব্যবস্থা নেবে সেটা নয় একরকম বোঝা গেল। কিন্তু সমস্যা আমাদের সরকারি দলের জাতীয়তাবাদ-বোধ নিয়ে। এদের যেটা মূল সংগঠন, সেই সংগঠন যে শুধু স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেয়নি কখনও তা নয়, বিভিন্ন সময়ে ইংরেজের পক্ষ নিয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিপরীতে অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে তাদের। ১৯৯০-এর ৭ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী ভি পি সিং যেদিন মণ্ডল কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করলেন, যেখানে ওবিসিদের জন্য ২৭ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে, সে সময় আরএসএসের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এ লেখা হল শূদ্র-বিপ্লব ঠেকাতে কী ভাবে এর বিরোধিতা করা উচিত। লেখা হল, ‘AN URGENT NEED TO BUILD UP MORAL AND SPIRITUAL FORCES TO COUNTER ANY FALLOUT FROM AN EXPECTED SHUDRA REVOLUTION’। তারাই ক্ষমতায় এসে এখন নিজেদের বুক বাজিয়ে দেশপ্রেমিক প্রচার করতে নেমেছে। তাদের দেশপ্রেম এমন জায়গায় নেমেছে যে এমএলএ কেনা-বেচা, সাংসদ কেনা-বেচাও এখন তার অংশ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে এই দলের অধীন রাজ্যগুলির থানা থেকেও এখন অ্যান্টি ন্যাশনাল খোঁজা শুরু হয়ে গিয়েছে। ফলে রাজদীপ সারদেশাইয়ের মতো সাংবাদিক, শশী থারুরের মতো সাংসদও হয়ে উঠছেন দেশদ্রোহী। রবি দিশা হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী। জেল খাটতে হচ্ছে কৌতুক অভিনেতাদের। অভিযোগ উঠেছে অপছন্দের কণ্ঠস্বর বন্ধ করতে রোনা উইলসনদের কমপিউটরে ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে আপত্তিকর জাল চিঠি ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে দেশদ্রোহী প্রমাণ করে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়ার। এই বিতর্ক যখন চলছে, তখনি প্রধানমন্ত্রী বিশ্বভারতীতে এসে বললেন উচ্চ শিক্ষিতরাও সন্ত্রাসবাদী হতে পারে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে উচ্চ বা নিম্ন শিক্ষার কোনওই সম্পর্ক নেই। এ কথা তিনিও জানেন। আসলে এই হল একদিকে মানবাধিকার আন্দোলন, অরণ্যের অধিকারের আন্দোলন, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কৃষকের জমির আন্দোলন, জেএনইউ, আনন্দ তেলতুম্বডে, রবি দিশারা, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দলের ক্রমাগত এই অ্যান্টি-এলিট অবস্থান। এইসব কারণেই অ্যান্টি ন্যাশনাল খুঁজতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ফল আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে অদূর ভবিষ্যতে। খবরের কাগজের তথ্য সত্যি হলে, এটাও কার্যত সঙ্ঘ পরিবারের আরেকটি উইং-এ পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রকাশ্যে ঘুরবে গোরক্ষা বাহিনী। তাদের হাতে গণপিটুনিতে ইতিমধ্যেই বহু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আড়াল থেকে অ্যান্টি ন্যাশনাল খুঁজবে এই স্বেচ্ছাসেবকরা। এরই সঙ্গে প্রকাশ জাভরেকর জানিয়ে দিয়েছেন ইন্টারনেটেও সরকারি নজরদারির ব্যবস্থা প্রায় পাকা। এই মানসিকতার থেকেই শাহিনবাগের আন্দোলন, কৃষকদের ধর্না, সবই হিন্দুত্ববাদীদের চোখে দেশবিরোধী। কখনও তাকে বলা হচ্ছে খালিস্তানি, কখনও বলা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদী, কখনও মাওবাদী। বড় আন্দোলন কখনও কখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ইতিহাসে এমন নজির অনেক। আজ থেকে ঠিক ১০০ বছর আগে, ১৯২২-এর ৪ ফেব্রুয়ারি, গান্ধীর ডাকে দেশ জুড়ে সত্যাগ্রহ চলাকালীন, উত্তরপ্রদেশের চৌরিচৌরায় পুলিশের গুলিতে তিন জনের মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা থানা জ্বালিয়ে থানার প্রায় সব ক’জন পুলিশকে হত্যা করেছিল। বিচারে আন্দোলনকারীদের ১৯ জনের ফাঁসি হয়। গান্ধী ১৬ ফেব্রুয়ারি ইয়ং ইন্ডিয়ায় লিখলেন ‘I WOULD SUFFER EVERY HUMILIATION, EVERY TORTURE, ABNSOLUTE OSTRACISM AND DEATH ITSELF TO PREVENT THE MOVEMENTFROM BECOMING VIOLENT’। জওহরলাল সহ কংগ্রেসের নেতারা না চাইলেও, গান্ধী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

    লালকৃষ্ণ আদবানি তাঁর আত্মজীবনী ‘মাই কান্ট্রি, মাই লাইফ’ বইয়ে দাবি করেছেন, ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর নাকি আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল বলেই বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল। ( ঘটনাস্থলে আমি সাংবাদিক হিসেবে ছিলাম। আমার যদিও দেখে মনে হয়েছিল ওই ঘটনা আন্দোলনকারীদের একটি অংশের পূর্ব পরিকল্পিত) তার পর দেশ জুড়ে দাঙ্গাও হয়েছিল। তখন কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলে আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি বিজেপি নেতৃত্ব। বরং নেতৃত্বকে দেখা গিয়েছিল উল্লাস প্রকাশ করতে। শাহিনবাগ, পার্ক সার্কাস সহ সারা দেশে সিএএ বিরোধী আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও, দেশের কোথাও কোথাও আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধ্বংসাত্মক হয়েছিল। বড়ো আন্দোলনে এমন যে হয় তার দুটো দৃষ্টান্ত এখানে দেওয়া হল, কিন্তু এমন আরও দৃষ্টান্ত ইতিহাসে রয়েছে। কিন্তু তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কী ছিল? তিনি বলে ছিলেন, ওদের পোশাক দেখে চেনা যায় ওরা কারা। স্পষ্টতই তিনি লুঙ্গিকে চিহ্নিত করতেই এই মন্তব্য করেছিলেন। ঠিক এখন যেমন করা হচ্ছে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কৃষক আন্দোলনের সামান্য কিছু বিচ্যুতি নিয়ে। সেই বিচ্যুতির কারণও বাইরের কোনও ষড়যন্ত্র, এমন সম্ভাবনা মোটেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দিল্লির সীমানায় বিভিন্ন আন্দোলনস্থলে প্রায় ২০০ জনের বেশি কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সংসদে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী হাসছেন আর বলছেন, যারা মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেন তারা আন্দোলনজীবী। তারা পরজীবী। আমরা দেখেছি স্বাধীনতা আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে রবীন্দ্রনাথকে এগিয়ে আসতে সামনের সারিতে। কখনও বন্দিদের মুক্তির দাবিতে বক্তৃতা করছেন, কখনও গাইছেন বন্দে মাতরম। কখনও নাইটহুড ত্যাগ করছেন। রবীন্দ্রনাথও তাহলে নরেন্দ্রে মোদীর চোখে আন্দোলনজীবী এবং পরজীবী? সরকারি আমলা বঙ্কিম বন্দেমাতরম লিখেছিলেন। আন্দোলনজীবী? পরজীবী? সংসদ চালু থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন সংসদের বাইরে। কৃষিবিল প্রথমে আনা হল অর্ডিন্যান্স জারি করে। পরে রাজ্যসভায় বিরোধীরা ভোটাভুটি চাইলেও সেই সুযোগ না-দিয়ে ধ্বনিভোটে পাস করিয়ে নেওয়া হয় কার্যত গায়ের জোরে। বিরোধীদের এই সমালোচনার জবাব দিলেন নরেন্দ্র মোদী সংসদে। কী বললেন? বললেন, বিয়েবাড়িতে যেমন দেখা যায় এটা-ওটা কারণ দেখিয়ে পিসিমা গোঁসা করছেন, এও নাকি তেমন। প্রধানমন্ত্রীকে দেখা গেল বলছেন আর হাসছেন। এতই কি হালকা বিষয়টা? কৃষিবিল এমন একটা বিল যার সঙ্গে জড়িত দেশের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ। অর্থাৎ ৭৫ কোটির বেশি মানুষ। এমন একটা বিল, যে সরকার অর্ডিন্যান্স জারি করে লাগু করেছে, সেই সরকারকে লোকে হয় উন্মাদ বলবে নয়তো বলবে অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে সরকারের।

    দেশের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ নিয়ে একটা সমস্যা হচ্ছে। শাহিনবাগ আন্দোলনের সময়ও কিছুটা হয়েছিল। কৃষক আন্দোলনের ফলে এখন তার মাত্রা আরও বেড়েছে। নাবালিকা গ্রেটা থুনবার্গের একটি টুইটে যে ভাবে ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশের সরকারকে কেঁপে উঠতে দেখা গেল, বা এক জনপ্রিয় বিদেশি গায়িকা যখন টুইট করে বলেন, কেন আমরা ভারতের কৃষক আন্দোলন নিয়ে কথা বলছি না, তাতে গোদী মিডিয়ার অ্যাঙ্করদের যে আর্তনাদ শোনা গেল, বোঝা যায়, কোথাও একটা নৈতিক-শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তা না হলে এমন ঘটে না। গডসেপন্থীরা ২১ বছরের ছাত্রী রবি দিশাকে এমন ভয়ঙ্কর ভাবে ঘিরে ধরেছিল, দেখে মনে হচ্ছিল মধ্যযুগ ফিরে এসেছে যেন!

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এফডিআই মানে ফরেন ডেস্ট্রাকটিভ আইডিওলজি। এই তত্ত্বের মধ্যে দিয়ে কি চিন থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী? এখানে শত্রু চিন নয়। ইয়োরোপ আমেরিকা। ‘বিদেশি শক্তি ভারতের উন্নয়ন রোধ করতে চায় ব্যবসায়িক কারণে’। পশ্চিমে নতুন এক শত্রুর মুখ তৈরি করতে পারলে সুবিধা একটাই, চিন নিয়ে যে অস্বস্তি আছে সেদিক থেকে মানুষের দৃষ্টি কিছুটা ঘোরানো যাবে। এই দৃষ্টি ঘোরানোটা হিন্দুত্ববাদীদের কাছে খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। এক সময় বলা হত সিআইএ, কেজিবি দেশ ভাঙতে চাইছে। কথাটা মিথ্যাও ছিল না। কিন্তু ১৯৯১-এ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কোল্ড ওয়ারের যুগ শেষ হয়ে গিয়েছে। কেজিবি নাম বদলেছে। সিআইএ আর আগের মতো দেশে দেশে সক্রিয় নয়। তাই দরকার হয়ে পড়েছে এফ ডি আই-এর, ফরেন ডেস্ট্রাকটিভ আইডিওলজির ‘ষড়যন্ত্র’র মত কোনও একটা জুজুর। যা প্রয়োজনে রবি দিশাদের গ্রেফতারের কারণ হিসেবে আমজনতাকে দেখানো যাবে।



    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন

  • বিভাগ : ভোটবাক্স | ০৩ মার্চ ২০২১ | ১২৪৭ বার পঠিত | ২ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Bola jabe Na | 103.21.127.60 | ০৩ মার্চ ২০২১ ১২:০০103152
  • আমাৰ ধারণা সত্যই একটা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। তা না হলে ভারত যে ভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি করছিলো সেখান থেকে ২০১৪ তে এমন একজন আসবে কেন যে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে deshke এমন বিপদের মুখে ঠেলে দেবে। শুধু বিমুদ্রাকরণ-ই নয় একেরপর এক কাজ kore প্রধান সেবক ও তার সহযোগীরা দেশকে অশান্ত kore তুলছে। এই দলকে ভারতের শাসনে আনারপেছনে ইন্টারন্যাশনাল ফোর্সেস থাকলে আশ্চর্য হবো না। 

  • Ranjan Roy | ০৩ মার্চ ২০২১ ১২:২৪103153
  • শেষের সেদিন ভয়ংকর।

  • | ০৩ মার্চ ২০২১ ১৬:৫২103156
  • গ্রেপ্তার হওয়া তরুণীর নাম দিশা রবি। দিশা হল ফার্স্ট নেম, যেটা ধরে আমরা মানুষকে ডাকি।  এই লেখাটায় আগাগোড়া রবি দিশা,  রবি দিশা করে গেছে কেন? অদ্ভুত তো! 

  • Unanonimous Yelok | ০৬ মার্চ ২০২১ ২২:২১103204
  • অপেক্ষায় আছি এদের পতন দেখার জন‍্যে।

  • Sobuj Chatterjee | ০৭ মার্চ ২০২১ ০৮:১১103214
  • প্রশ্ন হলো এই সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এলো কেন? সেই পর্যালোচনা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আসলে তে এরকমই হবে বা এর থেকেও ভয়ঙ্কর হবে, সে কি খুবই অপ্রত্যাশিত ছিলো!!

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

West Bengal Assembly Election, West Bengal Assembly Election 2021, West Bengal Assembly Election Coverage, West Bengal Assembly Election Guruchandali, West Bengal Assembly Election human story, West Bengal Assembly Election Politics, West Bengal Assembly Election Votebaksho, West Bengal Assembly Election Votebakso, West Bengal Assembly Election, West Bengal Assembly Election Votebakso Guruchandali, Guruchandali Election Coverage, Guruchandali Assembly Election West Bengal 2021, Suvashis Maitra on Election, Suvashis Maitra on West Bengal Assembly Election, Pm Narendra Modi, RSS, Goraksha Vahini
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন