• বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি

  • হিন্দুত্ববাদীদের রামমন্দিরের জয়গানে শুধু বিদ্বেষ, কোনও রামায়ণ নেই

    শুভাশিস মৈত্র
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৫ আগস্ট ২০২০ | ২৭৭৪ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা। ইংরেজদের সঙ্গে সহযোগিতা করা। এর ঠিক ছ’বছর পরে এক হিন্দুত্ববাদীর গুলিতে গান্ধীর মৃত্যু। গান্ধীহত্যা নিয়ে গঠিত কাপুর কমিশনের রিপোর্টে হত্যার জন্য হিন্দুত্বাদীদের দায়ী করা, সে কারণেই, ভারতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ দিন ধরে এই সব ইংরেজ বন্ধু, স্বাধীনতা আন্দোলন বিরোধী হিন্দুত্ববাদীরা কলকে পেতেন না। পরে ১৯৭৪-৭৫-এ জয়প্রকাশকে সামনে রেখে ইন্দিরার বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং রাম মন্দির আন্দোলন মধ্যে দিয়ে হিন্দুত্বাদীরা ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্ব পেতে শুরু করে। প্রথমে নরসীমা রাওয়ের আমলে সুপ্রিম কোর্টে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রাচীন পুরাতাত্ত্বিক সৌধ বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়। এখনও তার জন্য কাউকে শাস্তি পেতে হয়নি। উল্টে উল্লাস প্রকাশ করে বিজেপি নেতা, সেই সময়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং বলেছিলেন, কোনও ঠিকাদারকে দিলে তিন মাস লাগত, করসেবকেরা একদিনে ভেঙে দিয়েছে। আজ, ৫ অগস্ট সেখানেই রাম মন্দিরের ভূমি পুজো হচ্ছে।

    বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন হয়েছিল। লিবেরহান কমিশন। তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। রিপোর্ট জমা পড়েছিল ১৭ বছর পর। ২০০৯ সালে সেই রিপোর্ট খবরের কাগজেও ফাঁস হয়ে গিয়ে্ছিল। সংবাদপত্রে প্রকাশিত সেই রিপোর্ট অনুসারে লিবেরহান লিখেছিলেন ‘মসজিদে হামলা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। আরএসএস ক্যাডারদের বিশেষ দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য। ঘটনাস্থলে সর্বক্ষণ নেতারা ছিলেন পরিচালনার দায়িত্বে।’ ২০১৯-এর ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ অযোধ্যায় রামমন্দিরের পক্ষে রায় দেয়। সেখানেও কিন্তু বাবরি মসজিদে হামলাকে বিচারপতি লিবেরহানের মতোই ‘পরিকল্পিত’ বলা হয়। এবং আদালত আরও বলে, মন্দির ভেঙে যে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল, এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি। এটা একটা মনে রাখবার মতো কথা।

    রাম মন্দির আন্দোলন হল বিজেপির লক্ষ্মী। ১৯৮৪ তে মাত্র দু’টি লোকসভা আসন থেকে ১৯৯৬-এ একক সংখ্যা গরিষ্ঠ দলে পৌঁছতে এই আন্দোলনই বিজেপিকে সব থেকে বেশি সাহায্য করেছে। যদিও এই আন্দোলনকে ঘিরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, বহু দাঙ্গা হয়েছে। আর এই নিহতদের ৯৯ শতাংশই সংখ্যালঘু মুসলিম। মসজিদ ভেঙে দেওয়ার পর, আদবানি বলেছিলেন (মাই কান্ট্রি মাই লাইফ) আজ আর ভারতে এমন কোনও রাজনৈতিক দল বা বা এমন কোনও শক্তি নেই, যারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে পারে যে তারা ক্ষমতায় এলে নতুন করে ওখানে বাবরি মসজিদ তৈরি করে দেবে। বোঝা যাচ্ছে ভুল বলেননি। ভূমি পূজনের ঠিক আগে দেখা যাচ্ছে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী টুইট করে বলছেন, এই অনুষ্ঠান জাতীয় ঐক্য এবং সম্প্রীতির প্রতীক। ধর্মনিরপেক্ষ বলে যে সব রাজনৈতিক দল নিজেদের দাবি করে, তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চায় এমন কিছু গুরুতর গলদ আছে যে, ২০০৮ সালে নিজের আত্মজীবনীতে আদবানির লেখা ওই কথাগুলো ১২ বছর পরেও নির্মম ভাবে সত্যি প্রমাণিত হল। ওই একই কারণে শত সমালোচনা করেও কংগ্রেস বা অন্য কোনও মেইন স্ট্রিম রাজনৈতিক দল বলতে পারে না, তারা ক্ষমতায় ফিরলে কাশ্মীরে ৩৭০ ফিরিয়ে দেবেন। গণতান্ত্রিক দলগুলির এই দুর্বলতাই হিন্দু মৌলবাদের রাস্তা প্রসারিত করছে।

    একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক। ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ দিনের আলোয় ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিক হিসেবে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। বিরাট এলাকা জুড়ে জমায়েত। মঞ্চে এল কে আদবানি সহ বিজেপি নেতারা। বক্তৃতা চলছে। অনেকটা দূরে পুজোর আয়োজন চলছে। আমি বক্তৃতার এলাকা ছেড়ে এসে পুজোর জায়গায় দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক দেখছি। আদবানির বক্তৃতা চলছে। এমন সময় এক দল যুবক পাথর ছুড়তে শুরু করল বাবরি মসজিদ ঘিরে রাখা কাঁটা তারের বেড়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের লক্ষ্য করে। তাঁরা বাধা না দিয়ে সরে গেলেন। যুবকরা প্লায়ার্স দিয়ে তার কেটে ছুটতে ছুটতে গিয়ে বাবরি মসজিদের মাথায় উঠে গেরুয়া পতাকা তুলে দিল। শত শত যুবক গিয়ে বাবরি ঘিরে ফেলল। শুরু হল শাবল, গাঁইতি দিয়ে মসজিদ ভাঙা। তখন আদবানিরর মঞ্চ থেকে মাইকে বলা হচ্ছে, আপনারা পতাকা তুলেছেন, এবারে নেমে আসুন, ফিরে আসুন। সে কথায় অবশ্য কেউ কান দেননি। কিছুক্ষণ বাদে ঘটনাস্থল থেকে বাইরে এসে দেখলাম, বিভিন্ন গলিতে দাঁড়িয়ে কিছু যুবক বাঁশি বাজাচ্ছে। সেই ডাক শুনে ছুটে ছুটে আরও যুবকরা আসছে। তাঁদের সবাইকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে মসজিদ ভাঙার কাজে।

    আদবাণী যখন দেখলেন, মঞ্চ থেকে বলা সত্ত্বেও মসজিদ ভাঙা আটকানো গেল না, তিনি মঞ্চ ছেড়ে চলে গেলেন। তার পর আমরা সাংবাদিকরা সেদিন আর তাঁকে পাইনি। উমা ভারতী-সহ অন্য বিজেপি নেতা-নেত্রীরা অবশ্য থেকে গেলেন। আমরা দেখলাম, মসজিদের একটা একটা করে ডোম ভেঙে পড়ছে, আর বিজেপির নেতা নেত্রীরা পরস্পরকে আনন্দে জড়িয়ে ধরছেন।

    আমার পরে অনেক বার একটা কথা মনে হয়েছে, আদবাণীর মতো অত বড় মাপেরএকজন নেতা, যাঁর ডাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ জড়ো হয়, তিনি নিজে হেঁটে মসজিদের কাছে গিয়ে ওই যুবকদের নিরস্ত করলেন না কেন? তাঁর যে ধরনের ব্যক্তিত্ব, তিনি এক বার চেষ্টা তো করে দেখতে পারতেন! তিনি কিন্তু তা করেননি। তিনি শেষ চেষ্টা না করে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এর একটাই উত্তর হয়, তিনি চাইছিলেন এমনটাই ঘটুক। এর ফলে দেশে যে দাঙ্গা হয়েছিল, তাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও লালকৃষ্ণ আদবাণী গোটা বিষয়টা থেকে হাত ধুয়ে ফেলে, তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ওই দিনটি তাঁর জীবনের সব থেকে দুঃখের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এটা আসলে কৌশল। আদবাণীর রেকর্ড তাই বলে। ১৯৯০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু করে আদবাণী প্রায় দশ হাজার কিলোমিটার রথযাত্রা করেছিলেন। সেই যাত্রায় ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি হয়। সেই যাত্রাপথে দাঙ্গাও হয়। ধর্মীয় উসকানি দিতে ওই যাত্রাপথে আদবাণীর কপালে কখনও কর্মীরা পরিয়ে দিয়েছেন (আমেদাবাদ) নিজেদের হাত কেটে রক্তের তিলক। কখনও বা আদবাণীকে উপহার দেওয়া হয়েছে বয়ম ভরতি কর্মীদের রক্ত (১০১ যুবকের রক্ত উপহার দেওয়া হয় গুজরাটের জেটপুরে)। আদবাণী এসব গ্রহণ করেছেন এবং উৎসাহ দিয়েছেন। ঠিক যেমন গুজরাট গণহত্যার পর অটলবিহারী বাজপেয়ী, হালকা ভাবে হলেও প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বলেছিলেন রাজধর্ম পালন করতে, আর ওই বছরই ১৭ ডিসেম্বর, ২০০২, বিজেপি সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে বললেন, ‘আমাদের প্রশ্ন করা হচ্ছে আমরা গুজরাট ফর্মুলা এবার অন্যান্য জায়গাতেও প্রয়োগ করব কি না! আমি তাদের পাল্টা প্রশ্ন করি, ওরা কি ফের গোধরা রিপিট করবে (পলিটিসাইজেশন অফ হিন্দু রিলিজিয়ন ইন পোস্ট মর্ডান ইন্ডিয়া, জে কুরুভাচিরা)?’

    কোভিড-১৯-এ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে দেশে, কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না, ভিন্ন মত প্রকাশের জন্য লেখক, অধ্যাপক, কবি, আইনজীবী, আন্দোলনকারীরা জেলের ভিতরে, অর্থনীতি তলানিতে, কিন্তু এই অবস্থাতেও সবার আগে বিজেপি সরকারের মাথাব্যথা রাম মন্দির নিয়ে। কারণ সামনে বিহারের নির্বাচন। তার পর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন। উন্নয়ন নয়, করোনা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য নয়, কয়েক কোটি পরিযায়ী শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের লোকজনকে ঘোর বিপদে ফেলে দেওয়ার ঘটনা নয়, নির্বাচনে আসলে ইস্যু করা হবে রাম মন্দিরকে।

    ভিন্ন মতের অধ্যাপক, কবি, লেখক, আইনজীবীরা যখন জেলে, তখন এই রাম মন্দিরের ভূমি পূজন। ফলে রামায়ণের প্রসঙ্গ এসেই পড়ে। রাম মন্দিরের ভূমি পূজনেও আনা হচ্ছে ভারতের বিভিন্ন নদীর জল। সেই প্রসঙ্গেও এসে পড়ে বাল্মিকী রামায়ণের প্রসঙ্গ। কী ভাবে?

    সারা দেশ জুড়ে ভিন্ন মতের প্রতি অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরির অভিযোগ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন নয়। এই রাজনৈতিক দলটি এবং এদের শাখা প্রশাখা নানা সংগঠন একই সঙ্গে অসহিষ্ণুতার জয়গান করে এবং নিজেদের রাম ভক্ত বলে দাবি করে। অনেকেই মেনে নিয়েছেন, রামায়ণের ইজারা এখন এদেরই হাতে। কিন্তু সত্যিই কি রামায়ণ এমনই অসহিষ্ণুতার কথা বলে!

    একটু অতীত ঘুরে আসা যাক। রামায়ণে চূড়ান্ত অবিশ্বাসী ভিন্ন মতের ঋষি প্রবল নাস্তিক জাবালিও পুজো পান। জাবালি ছিলেন এক জন ব্রহ্মর্ষি। ইনি মহর্ষি বিশ্বামিত্রের পুত্র। দশরথ যখন পুত্রকামনায় অশ্বমেধ যজ্ঞ করছেন, তখন অন্যান্য পুরোহিতদের সঙ্গে তিনি নাস্তিক জাবালিকেও অযোধ্যায় ডেকে এনেছিলেন। দশরথ যখন জনকের সঙ্গে দেখা করতে মিথিলা যাচ্ছেন তখনও অনেক মুনির সঙ্গে নাস্তিক জাবালিও সঙ্গী। দশরথের মৃত্যুর পরদিন সব মুনি-ঋষিরা যখন বশিষ্ঠের কাছে যাচ্ছেন তখন সঙ্গে নাস্তিক জাবালি। ভরতের শত অনুরোধেও রাম অযোধ্যায় ফিরে যেতে রাজি না হলে জাবালি রামকে ‘ধর্মবিরুদ্ধ’ উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, বাবাকে শ্রদ্ধা করা ভালো, কিন্তু বাবা যদি ভুল বলেন, সেসব শোনার দরকার কী? পরলোক বলে কিছু নেই। ফলে পিতার মৃত্যুর পর পিতৃসত্য-টত্য বলেও কিছু হয় না। জাবালি রামকে বললেন, এই পৃথিবীতে জীব একা জন্মায়, একাই বিনষ্ট হয়। মাতা পিতা ভ্রাতা বন্ধু সব সম্পর্ক অস্থায়ী। একে সত্য ভেবে যারা তাতে আসক্ত হয়, তারা নির্বোধ। কারণ কেউ কারও নয়। মৃত্যুতেই সব কিছুর পরিসমাপ্তি। দশরথও রামচন্দ্রের পিতা নন। রামচন্দ্রও দশরথের পুত্র নন। প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র ব্যক্তি। পিতা জীবনের বীজ মাত্র, ঋতুমতি মাতার গর্ভে একত্রে মিলিত শুক্র ও শোণিতই জন্মের মূল কারণ। মা বাবা সম্পর্কে এমন আবেগবিহীন মতও প্রকৃত হিন্দুত্বে সমাদরে গ্রহণযোগ্য। গ্রহণযোগ্য কারণ জাবালি ছিলেন জ্ঞানী। মহাতপস্বী এই জাবালিকে আমরা আবার পাই, রাবণ বধের পর রামের অভিষেকে। দেখা যাচ্ছে এই পরম নাস্তিকও সেখানে আমন্ত্রিত। বিবরণ এই রকম। সুগ্রীবের আজ্ঞায় হনুমান জাম্ববান বেগদর্শী ও ঋষভ রত্নভূষিত স্বর্ণকলস নিয়ে মহাবেগে যাত্রা করলেন এবং শীঘ্র চতুঃসাগরের জল নিয়ে ফিরে এলেন। পাঁচশো নদীর জলও আনা হল। ঠিক যেমন ভারতের বিভিন্ন নদীর জল আনা হয়েছে ৫ অগস্ট রাম মন্দিরের ভূমি পূজনের জন্য। অভিষেকের জন্য রাম সীতার সঙ্গে রত্নময় পীঠে উপবিষ্ঠ হলে বৃদ্ধ বশিষ্ঠ, বিজয়, জাবালি, হ্যাঁ, ভিন্ন মতের নাস্তিক জাবালি সহ পুরোহিতগণ যথাবিধি অভিষেক সম্পন্ন করলেন। জাবালি ভিন্ন মতের এক জন গুণী ঋষি। রামায়ণে তার প্রতি যে বিপুল সম্মান এবং সহিষ্ণুতা দেখা যায় তা অবাক করে দেয়। এমনই বৃহৎ পরিসর হিন্দু ধর্মের। অথচ এই সহিষ্ণুতার কোনও ছাপই নেই রাজনৈতিক আঙিনায় ক্ষমতা দখলে ব্যস্ত তথাকথিত হিন্দুত্ববাদী রাম মন্দিরের ঠিকাদার সংগঠনগুলির আচরণে।



    থাম্বনেল গ্রাফিক্স: স্মিতা দাশগুপ্ত
  • বিভাগ : আলোচনা | ০৫ আগস্ট ২০২০ | ২৭৭৪ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • বিল্টু | 201.150.45.114 | ০৭ আগস্ট ২০২০ ১৯:৪৩96008
  • শ্যামল বাবু, আমরা পোর্টেবল প্ল্যাস্টিক জারে পাঠাই। ঘুরতে ফিরতে ধীরেসুস্থে খাবেন। ভেঙে যাবার ভয় নেই।

  • শ্যামল ঘোষ | 2405:201:8803:7fd3:7c4f:b2e6:2c21:1a8e | ০৭ আগস্ট ২০২০ ২২:৫৬96012
  • আমার গোমুত্র খাওয়ার দরকার নেই। আপনাদের খেলে হয়তো মুখটা পরিষ্কার হবে।

  • dc | 103.195.203.222 | ০৭ আগস্ট ২০২০ ২৩:১১96013
  • আরে আরে রাগ করেন কেন? এভাবে রাগ করলে আমাদের সবার প্রিয় প্রধানসেবক দুঃখ পাবেন। উনি আবার খুব নরম মনের কিনা, গাড়ির তলায় সামান্য কুকুরছানা চাপা পড়লেও কষ্ট পান।

    আর আপনি তো বুঝেই গেছেন CAA is nothing but a national identity, এবার গোমূত্র খেলেই বাকিটাও পরিষ্কার বুঝে যাবেন। দিল্লিতে ঐ সন্ত্রাসবাদীগুলোর যে হাল করা হলো, বাকি দেশেও সেই হাল করতে আপনাকে পাশে চাই কিন্তু! হাইল প্রধানসেবক!
  • বিল্টু | 201.150.45.114 | ০৭ আগস্ট ২০২০ ২৩:১২96014
  • বাই ওয়ান গেট ওয়ান অফার চলছে শ্যামলবাবু। তবে বেস্ট হয় যদি আমাদের থেকে একটা গোরু নেন। গিফট পেপারে মুড়ে পাঠাবো। গোরু নিলে মূত্র ফ্রি।

  • S | 2a0b:f4c2::1 | ০৭ আগস্ট ২০২০ ২৩:৩২96015
  • আপনারা যাই বলুন না কেন আজকের দিনে কিন্তু এমন লোক দেখা যায় না। ৩৭০ তুলে দেওয়া সমর্থন করে, সিএএ সমর্থন করে, গোমুত্র দিয়ে কুলকুচি করে, মুসলমানদের ঘৃণা করে, কিন্তু নিজেকে বিজেপির সমর্থক বলতে কি কুন্ঠা। আহা।
  • dc | 27.62.65.32 | ০৭ আগস্ট ২০২০ ২৩:৩৪96016
  • আহ গোরু আবার কি? গোমাতা বলুন। নিজের ধর্ম আর সংস্কৃতি রক্ষা করুন।
  • π | ০৭ আগস্ট ২০২০ ২৩:৩৬96017
  • উঁহু। গৌমাতা।
  • S | 2405:8100:8000:5ca1::15c:e5a5 | ০৭ আগস্ট ২০২০ ২৩:৫৩96020
  • জ্যায় সিয়ারাম।
  • | ০৮ আগস্ট ২০২০ ০০:১১96021
  • খি খি এই অপূর্ব জীবকে মিস করে গেছলাম।
    আহাহাহা।
  • r2h | 73.106.235.66 | ০৮ আগস্ট ২০২০ ০০:৩৭96022
  • অ্যামাজন ফায়ারের বাক্স খুলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হলেই যে গুটিকয় বই ফ্রিতে পাওয়া যাচ্ছেঃ
  • রঞ্জন | 122.176.191.192 | ০৯ আগস্ট ২০২০ ০৭:৩২96080
  • আমি মুল লেখাটির ভাবনার সঙ্গে একমত হয়েও একটি বক্তব্য নিয়ে কিঞ্চিৎ ভিন্নমত পোষণ করি। 

    জাবালি প্রসঙ্গে শুভাশিস বাবু  রামায়ণের সহিষ্ণুতার কথা বলেছেন। মূল পাঠ কি তাই বলে?

    জাবালি যখন ভরত-শত্রুঘ্নদের সঙ্গে গিয়ে নদীর তীরে রামের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে পিতৃসত্য পালনের জন্যে বনবাস অযৌক্তিক বলে যুক্তি দিয়ে বোঝালেন( লেখক সঠিক বর্ণনা দিয়েছেন)। এটাও বললেন যে আলাদা করে পরলোক বলে কিছু নেই। পিতার আত্মা  স্বর্গে যায় এসব কে দেখেছে? শাস্ত্রে অমন অনেক কিছু বলা হয়।

    তখন ক্রোধিত রাম তাঁকে তিরস্কার করে বললেন যে জাবালি নাস্তিক। এবং নাস্তিক, বৌদ্ধ ও চোরদের কঠিন শাস্তি দেয়া  উচিত। এবার ভয় পেয়ে জাবালি পিছিয়ে গেলেন। নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে বললেন --না না, এসব ভুল নয়। এককথায় উড়িয়ে দেয়া যায়না।

       এ জন্যেই জাবালি পরে আমন্ত্রিত হন। 

    বাল্মীকি  রামায়ণ এক আদ্যন্ত ব্রাহ্মণবাদী নারীবিরোধী অসহিষ্ণু গ্রন্থ। শূদ্রক তপস্বী হত্যা (কৃত্তিবাসী রামায়ণ ও রামচরিত মানসে নেই) এবং উত্তরকান্ডে সীতার  'সতীত্বে'রপক্ষে বাল্মীকির সাক্ষ্য সত্ত্বেও রামের অগ্নিপরীক্ষার ব্যাপারে অবিচল থাকা এর প্রমাণ।

    খেয়াল করবেন-- ভূমিপূজনে বাবরি মসজিদ মামলায় প্রধান পিটিশনার (প্রয়াত) মুসলিম ভদলোকের ছেলেও আমন্ত্রিত। এটাকেও তাহলে  'কাটাঘায়ে নুনের ছিটে' না বলে   বিরুদ্ধমতের প্রতি সহিষ্ণুতা বলতে হয়।

    ২ শ্যামলবাবু ঠিক বলেছেন; 'এমন কি Pakistan, Afganisthan সব দেশে আছে- আর আমাদের দেশে হলেই সেটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি'। সত্যিই তো, এখন পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মত ধার্মিক রাষ্ট্রগুলোই আমাদের মডেল। তাহলে ব্লাসফেমি অ্যাক্টও আসুক এবার।

  • রঞ্জন | 122.176.191.192 | ০৯ আগস্ট ২০২০ ০৭:৩২96079
  • আমি মুল লেখাটির ভাবনার সঙ্গে একমত হয়েও একটি বক্তব্য নিয়ে কিঞ্চিৎ ভিন্নমত পোষণ করি। 

    জাবালি প্রসঙ্গে শুভাশিস বাবু  রামায়ণের সহিষ্ণুতার কথা বলেছেন। মূল পাঠ কি তাই বলে?

    জাবালি যখন ভরত-শত্রুঘ্নদের সঙ্গে গিয়ে নদীর তীরে রামের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে পিতৃসত্য পালনের জন্যে বনবাস অযৌক্তিক বলে যুক্তি দিয়ে বোঝালেন( লেখক সঠিক বর্ণনা দিয়েছেন)। এটাও বললেন যে আলাদা করে পরলোক বলে কিছু নেই। পিতার আত্মা  স্বর্গে যায় এসব কে দেখেছে? শাস্ত্রে অমন অনেক কিছু বলা হয়।

    তখন ক্রোধিত রাম তাঁকে তিরস্কার করে বললেন যে জাবালি নাস্তিক। এবং নাস্তিক, বৌদ্ধ ও চোরদের কঠিন শাস্তি দেয়া  উচিত। এবার ভয় পেয়ে জাবালি পিছিয়ে গেলেন। নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে বললেন --না না, এসব ভুল নয়। এককথায় উড়িয়ে দেয়া যায়না।

       এ জন্যেই জাবালি পরে আমন্ত্রিত হন। 

    বাল্মীকি  রামায়ণ এক আদ্যন্ত ব্রাহ্মণবাদী নারীবিরোধী অসহিষ্ণু গ্রন্থ। শূদ্রক তপস্বী হত্যা (কৃত্তিবাসী রামায়ণ ও রামচরিত মানসে নেই) এবং উত্তরকান্ডে সীতার  'সতীত্বে'রপক্ষে বাল্মীকির সাক্ষ্য সত্ত্বেও রামের অগ্নিপরীক্ষার ব্যাপারে অবিচল থাকা এর প্রমাণ।

    খেয়াল করবেন-- ভূমিপূজনে বাবরি মসজিদ মামলায় প্রধান পিটিশনার (প্রয়াত) মুসলিম ভদলোকের ছেলেও আমন্ত্রিত। এটাকেও তাহলে  'কাটাঘায়ে নুনের ছিটে' না বলে   বিরুদ্ধমতের প্রতি সহিষ্ণুতা বলতে হয়।

    ২ শ্যামলবাবু ঠিক বলেছেন; 'এমন কি Pakistan, Afganisthan সব দেশে আছে- আর আমাদের দেশে হলেই সেটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি'। সত্যিই তো, এখন পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মত ধার্মিক রাষ্ট্রগুলোই আমাদের মডেল। তাহলে ব্লাসফেমি অ্যাক্টও আসুক এবার।

  • রঞ্জন | 122.176.191.192 | ০৯ আগস্ট ২০২০ ০৭:৩৩96081
  • ্সরি। দু'বার টোকা দেয়ায় এই বিপত্তি। খেয়াল রাখব।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন