• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • বর্ণপরিচয় - ১

    Anamitra Roy
    বিভাগ : আলোচনা | ১০ মার্চ ২০২০ | ৪২৩ বার পঠিত
  • সে অনেককাল আগের কথা। একবার এক মেলার মাঠে সন্ধ্যেবেলা একটি বাচ্চা মেয়ে একটা 'ক' কুড়িয়ে পেয়েছিলো। ক-এর আঁকড়িটা নড়ছে তখনও। মেলা ঝলমলিয়ে রাখা নিয়নের দ্যুতিতে মেয়েটির মুখটা বড় মায়াবী দেখাচ্ছিল। ক-এর ক্যারিশমাও কি কম মনে হচ্ছিলো সেদিন? কিন্তু মেয়েটি ক-কেও চিনতো না, আর গ-কেও না। কার আঁকড়ি কোনদিকে কিছুই তার জানা ছিল না তখনও। ফলে তার বোঝার উপায় ছিল না যে সে আসলে খুঁজতে গিয়েছিলো গ-কে। উল্টে বোকার মতো সে ক-কেই গ ভেবে বসলো!

    সেটা ঠিক দোষের নয়। আসলে মেলার আলোয় সবকিছুই এত উজ্জ্বল লাগে যে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। তখন সবকিছুকেই বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়। মনে হয় নাগরদোলাও আমার, আবার বেলুনওলাও আমার। সেইরকমই কোনও ভ্রম হয়ে থাকবে হয়তো। ঈশ্বর সবই দেখছিলেন। ঈশ্বর সবই জানতেন। কিন্তু ভুলটা ভেঙে ধরিয়ে দিতে যাননি। দৈববাণী হতেই পারতো। মানে, এরকম তো আর রোজ রোজ হয় না! কে কবে শুনেছে যে কোনও এক বাচ্চা মেয়ে নাকি একটা গোটা 'ক' কুড়িয়ে পেয়েছে মেলার মাঠে! যথেষ্ট অদ্ভুত ঘটনা। কিন্তু ঈশ্বরের মাইকটা কাজ করছিলো না সেইদিন। অথবা হয়তো ঈশ্বর শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। এখন সেই শিক্ষা কার জন্য, মেয়েটি নাকি ক, সেকথা নিশ্চিত করে আজ আর বলে উঠতে পারার কোনও উপায় নেই।

    মেয়েটি ক-কেও চিনতো না, গ-কেও না। তবে সে জানতো যে ক ভারী কর্কশ। কথায় কথায় কা কা করে ওঠে। কিন্তু গ-এর গলা দিয়ে গান ছাড়া আর কিছু বেরোয় না। একবার যদি পাওয়া যায় তাকে যত্নে ধরে বেঁধে রাখতে হয়। কারণ গা-তে গা মেলাতে তার জুড়ি মেলা ভার। ফলে যা হওয়ার ছিল তাই হলো। মেয়েটি ক-কে বললো, "তুমি বেশ আজ থেকে আমার গ"। ক বললে, "তা কি করে হয়! আমি তো আসলে ক।" মেয়েটি বললো, "অতশত বাপু আমি জানিনে আর জানতে চাইওনে। একবার যখন বলেছি যে তুমি আমার গ তার মানে তুমি আমার গ-ই।" ক বললে, "এ তো মহা ফ্যাসাদে পড়া গেলো দেখছি। বলি ও ছুঁড়ি, তুমি কি বর্ণপরিচয়টাও পড়োনি নাকি হে? ক কোনোদিন গ হতে পারে, নাকি তা হয় কখনও! যা নয় তাই দাবি করলেই হলো?" মেয়েটি বললো, "তুমি গ নও তো তাহলে? সত্যি বলছো গ নও?" ক বললে, "না নই। কোনওভাবেই নই। একেবারেই নই।" এইবার মেয়েটি খুব জাদুকরী চোখমুখ করে তার বুকপকেট থেকে একটা গোল মতো কমলা রঙের জিনিস বার করলো; ক'রে ধীরে ধীরে এগিয়ে ধরলো ক-এর দিকে। ক ভাবলো এ আবার কি! হাত বাড়িয়ে ধরতে যাবে সবে এমন সময় মেয়েটি ছোঁ মেরে বস্তুটিকে আবার ফিরিয়ে নিলো নিজের পকেটের ভিতর।

    ক বোমকে গেলো। সে এরকম জিনিস আগে কখনও দেখেনি। "কই, দেখতে দাও আমায় ওটা? ওটা কি?" --- মেয়েটি আবার বার করলো জিনিসটা পকেট থেকে। সে এক অদ্ভুত জিনিস। ছোট। গোল। কমলা। চকচকে। আর তার গায়ে আলো পড়লেই চারদিক কমলা হয়ে যায়। হাওয়ার সংস্পর্শে এলে সে জিনিস সবার গলা থেকে বেরোতে শুরু করে সাপের বাঁশির মতো সুর। কানের পাশ দিয়ে হাওয়া বয়ে গেলে তখন হিসহিসে শব্দ হয়। ক এইবার জিনিসটা হাতে নিয়ে দেখতে পারলো। তার হাত থেকে একটা কমলা রঙের অনুভূতি শিরা বেয়ে প্রায় গলা অবধি উঠে পড়েছে এমন সময় মেয়েটি আবার সেটা ফেরত নিয়ে নিলো। ক কিছুটা কাতরকণ্ঠেই বলে, "কি হলো? দেবে না ওটা?" মেয়েটি বলে, "ওটা তো তোমায় দেওয়া যাবে না সোনা। ওসব তো শুধু গ-দের জন্য। আগে তুমি গ হয়ে দেখাও। তারপর হাতে কেন মুখেও নিতে পারবে। তুমি তো এখনও কিছুই জানো না। ওর নাম অমৃতটমটম। ওটা মুখের ভেতর নিলে সেখানে একটা আলাদা জগৎ তৈরী হয়। সেই জগতটা সূর্যাস্তের মতো কমলা। আর সেখানে ওই অমৃতটমটম শেষবেলার সূর্যের মতো গলে গলে পড়ে। নেবে, তুমি?"
    - হ্যাঁ, নেবো।
    - আচ্ছা, তাহলে বলো যে তুমি আমার গ।
    - বেশ। আমি তোমার গ।
    মেয়েটি উচ্ছসিত হাসি হেসে বেণী দুলিয়ে অমৃতটমটমটি ক-এর হাতে তুলে দেয়। ক সেটা হাতে নিয়ে একমিনিট কি যেন ভাবে। তারপর সোজা পুরে দেয় মুখে।
    মুখে নিয়ে ক সব দেখতে পায়। স-অ-ব। হাঁসেদের জলকেলি, কোকিলের আজান, আগুনের আবিষ্কার, প্রকৃত সারস, উটের গ্রীবা, আর কমলা সূর্যের গলে পড়া। এইসব দেখতে দেখতে সে খানিক বিভোর হয়ে গিয়েছিলো। যখন হুঁশ ফিরলো মুখের ভিতর অমৃতটমটমটি আর নেই। গলে শেষ হয়ে গিয়েছে হয়তো। "কই গ, এসো।" --- মেয়েটির ডাকে সম্বিৎ ফেরে তার। সে চোখ মেলে মেয়েটিকে খুঁজতে যায়। দেখে, ট্রামলাইন ধরে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়েছে মেয়েটি। চারিদিক ধূসর। মেয়েটির পিঠের ওপর লুটিয়ে পড়ছে অমৃতটমটমের মালা।

    ক-এর লোভ হয়।
    কিন্তু ক গিয়েছিলো কিনা সে গল্প নাহয় আরেকদিন বলা যাবে।
  • বিভাগ : আলোচনা | ১০ মার্চ ২০২০ | ৪২৩ বার পঠিত
আরও পড়ুন
মানবিক - Anamitra Roy
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • একলহমা | 108.162.237.45 | ১০ মার্চ ২০২০ ০৮:৪৪91360
  • আরে: ঐ ক-টা ত আমি, কর্কশের একশেষ। শুধু যখন যখন তার দয়া হয় বা অসহ‍্য বোধ হয়, আমার তখন অমৃতটমটম জোটে (সে যে কি মজার কি আর বলব)! ঐ টমটম খেতে খেতে আমি তার পাশে পাশে বিনি-শিকলে চার হাত-পায় দৌড়ে চলি।

    গল্প চমৎকার লেগেছে‌।
  • রৌহিন | 172.69.134.26 | ১০ মার্চ ২০২০ ০৯:৩২91361
  • আমি যা বুঝলাম, আমি অত্যন্ত বদ, পারভার্টেড একটা লোক। এত সুন্দর গল্পটা পড়তে পড়তেও টমটম মুখে নিতে পারবে শুনে কী সব ভাবছিলাম। আমাকে নষ্ট করেছে এই রায়েরা - রোদ্দূর, অ্যানা -

  • Anamitra Roy | 162.158.227.55 | ১১ মার্চ ২০২০ ০০:০৭91389
  • @একলহমা, এরকম কমেন্ট করবেন না। বাই চান্স তার চোখে পড়লে অমৃতটমটম ছাড়াই বাকি জীবনটা কাটাতে হতে পারে। :D

    @রৌহিন দা, সেই তো। আমিই তো তোমায় নষ্ট কল্লুম। তার আগে তো তুমি মার্ক্সবাদ যে আসলেই বিজ্ঞান সেইটা ছাড়া আর কিছুই জানতে না। :P
  • একলহমা | 108.162.238.232 | ১১ মার্চ ২০২০ ২০:৫৮91404
  • @অনামিত্রা
    হেঃ হেঃ কোনো চাপ নেই। তার সব জানা আছে।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত