• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • কোদাল | এসব হয়না - ৫

    Anamitra Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১১ আগস্ট ২০২০ | ৩১০ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • | | | | ৫ | | |
    লোকটা বড়দের জন্য রূপকথা লিখতে চাইতো। কিন্তু লিখবে ভাবলেই তো আর হলো না, তার জন্য সেরকম গল্প দরকার। এমন গল্প যা পড়লে মনে হবে যেন কতদিনকার চেনা। যেন এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। অথচ লোকটার বাড়ি একটা আধুনিক পৃথিবীতে। সেখানে কোনওকিছুই যেমনটা হওয়ার ছিল তেমনটা হয় না। সবকিছু দুমড়েমুচড়ে পাল্টে নেওয়া হয়েছে সেখানে নিজেদের সুবিধা মতো। এখন রাত্রিও আর অন্ধকার নয়, আর মৃত্যুর পর আত্মা বলেও কিছু থাকে না। এরকম সময়ে কীভাবেই বা এমন গল্প পাওয়া যেতে পারে! এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে লোকটা একদিন বেরিয়ে পড়লো গল্পের খোঁজে। তখনও সে জানে না কোনদিকে যাবে। ঈশ্বর ভাবলেন, পাগলটা করে কী! একজন আধুনিক মানুষ হয়ে শত শত যন্ত্র আর উপযন্ত্রদের আওয়াজ পেরিয়ে সে নাকি যাবে রূপকথা খুঁজতে?
    বেশ তো! তবে মজা দেখা যাক। 
    --- এই ভেবে ঈশ্বর লোকটাকে একটা রাস্তা দিলেন। বললেন, "এই হলো তোমার ন্যারেটিভ। এইবার তুমি হেঁটে দেখো গল্পটা কোথায় গিয়ে পৌঁছোয়।" লোকটা বললো, "কীভাবে বুঝবো সেখানে পৌঁছে? কীভাবে বুঝবো যে এখানেই আমার আসার ছিল?" ঈশ্বর এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মুচকি হেসে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন। লোকটা দাঁড়িয়ে রইলো খানিক থতমত হয়ে।
    তারপর, "যাই হোক, একটা ন্যারেটিভ তো পাওয়া গেছে অন্তত" ভেবে হাঁটতে লাগলো ঈশ্বরের রেখে যাওয়া রাস্তা বরাবর।

    সে এক অদ্ভূত রাস্তা! রাস্তা না বলে তাকে বরং রাস্তার আভাস বলা ভালো। আমাদের রোজকার রাস্তাগুলোর মতো নয় সেটা। সেখানে না আছে গাড়িঘোড়া, না আছে কোনও দিকনির্দেশ। যেদিকেই তাকাচ্ছে লোকটা মনে হচ্ছে রাস্তা যেন সেদিকেই গিয়েছে। সে রাস্তায় কোনও ঘটনা ঘটে না। খালি নানানরকম আবেগ রয়েছে সেখানে। মানে, এইখান থেকে ওইখানে যেতে গেলে অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আবার সেখান থেকে সেখানে যাওয়ার সময় রাগ হবে খুব। এইরকম। তাই বলে সবই কি আর খারাপ? কোথাও হয়তো মাইলের পর মাইল জুড়ে শুধু এক আষাঢ়ে আনন্দ! অথবা হাসি হয়তো থামছেই না! অথবা শুধুমাত্র একটা হালকা ভালো লাগছে। কিংবা ধরা যাক, বিষাদের মতো হাওয়া বয়ে এসে লাগছে চোখেমুখে।
    যাওয়া তো যেকোনও দিকেই যায়। শুধু পা ফেলার আগে বোঝার উপায় নেই কোন পথে কী!

    লোকটা হাঁটলো। অনেক-অনেকগুলো বছর।
    যতরকম দিকে যতভাবে যাওয়া যায় গিয়ে দেখলো সে। কিন্তু রাস্তার মাথামুন্ডু কিছুই তার মাথায় ঢুকলো না। "এই তবে আমার ন্যারেটিভ?" ভাবলো সে, "কিন্তু মানে কী হয় এ সবের? কেন আমি এই রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য নিয়তিতাড়িতের মতো? এখান থেকে মুক্তি কোথায়?" --- এইসব অনেককিছু ভেবে ভেবে কোনও উত্তর না পেয়েই সে একদিন রাস্তাটার শেষে পৌঁছে গেলো। কী করে বুঝলো সে সেখানেই রাস্তাটা শেষ? 
    --- লোকটা দেখলো আর কিছুটা দূরেই সেই জায়গাটা যেখান থেকে সে একদিন হাঁটতে শুরু করেছিল। যেখানে ঈশ্বর তাকে দেখা দিয়ে বলেছিলেন, "এই হলো তোমার ন্যারেটিভ।" ওই জায়গাটা এখান থেকে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আর একটু গেলেই আবার সব নতুন করে শুরু করা যাবে। 

    কিন্তু রাস্তাদুটো জুড়ছে না!

    সামনের দিকেও আর এগোনোর জায়গা নেই আর পিছন দিকে তো নেই-ই। যেন সে আলোর গতিবেগে ছুটে এসেছে এতকাল আর তাই তার অভিমুখ বরাবর স্থান শূন্য হয়ে গেছে। অথচ ওই তো সেই জায়গাটা। ওই তো! স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে এখান থেকে। ওইখানে পৌঁছলেই আবার প্রথম থেকে হেঁটে দেখা যেত। সেইদিকগুলোয় যাওয়া যেত তাহলে যেদিকগুলোয় আগেরবার যাওয়া হয়নি। কে জানে কী রাখা ছিল সেখানে! হয়তো নতুন কোনও আবেগ! হয়তো অজানাই রয়ে গেলো অনেক কিছু!

    ন্যারেটিভদুটো জুড়বে না তাহলে?
    --- "এ কেমন রাস্তা ঈশ্বর!" ভাবে লোকটা, আর ভাবতেই সে টের পায় তার হাতে একটা কোদাল। এর আগে সে কোদালটার অস্তিত্ব টের পায়নি।

    লোকটা প্রাণপণে মাটি কোপাতে শুরু করে রাস্তার শেষ থেকে দূরে ওই প্রথম বিন্দুর দিকে!
    | | | | ৫ | | |
  • বিভাগ : ব্লগ | ১১ আগস্ট ২০২০ | ৩১০ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত