• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • টুকরো টাকরা - ২

    Tim লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২১ অক্টোবর ২০১৪ | ৪৮১ বার পঠিত
  • বসফরাসের জল অন্ধকার হয়ে এসেছে অনেকটা, ইতস্তত আলোর ছোট ছোট কৌটোর মত ভাসছে কিছু মালবাহী জাহাজ ও জনপ্রিয় ক্রুজ, কারুকার্য্যখচিত মিনারওয়ালা মসজিদের সিল্যুয়েট ভেঙে যাচ্ছে পাখিদের ঝাঁকে, মাঝে মাঝেই --- এমন সময় আমার দেশের কথা মনে পড়লো। দেশ মানে বাড়ি, বাড়ির মানুষ, বাড়ির বাইরেও শহর, শহরের বাইরে যেতে যেতে যেতে অচেনা বাঁশবন পুকুরঘাট ভাঙা শিবমন্দির আর মসজিদের মাইক। কিংবা শুধুই তারে বসে থাকা এক শালিক। এইসব, যার অনেক কিছুই আমি চিনি, আর তারো অনেক বেশি কিছুই, যা আমি চিনিনা, এসব কথা। বাংলাভাষায় কথা বলা দুই ভূখন্ডের মানুষ, তাদের দোষগুণ সমস্যা নিয়ে ভিড় করে এলো। মনে এলো, তাই লিখে রাখি। সবই ভেসে যায় কালগর্ভে, তবু এইটুকু থাক।
    শহরের নাম ইস্তাম্বুল। মিস্টিক নামের এই শস্তা হোটেলে এসে জুটেছে যারা, তাদের প্রায় সবাই উপমহাদেশের লোক। লন্ডন থেকে বাংলাদেশি দম্পতি ও তরুণী কন্যা, দিল্লি থেকে সপ্রতিভ দুই দুই মেয়ের সাথে আমরা যাদের চালা একস্থানে তো চুলো অন্যত্র। আস্তে আস্তে আরো বহু লোক দেখতে পাওয়া যাবে। লাহোর থেকে আসা গ্র্যান্ড বাজারের কার্পেট বিক্রেতা- যে একটিবার গল্প করতে শুরু করলে আপনি গাড়ি বোঝাই দরকার/পয়সা নেই এবং সম্ভবত সেইজন্যেই অপূর্ব সুন্দর সব কার্পেট কিনে ফেলতে চাইবেন, গালাতা ব্রিজের রেস্তোরার পাচক করাচির তরুণটি, যে বারবার নানা অছিলায় এসে গল্প করতে চাইবে- চারমাস মাত্র প্রবাসে হয়েছে তার, কেমন লাগছে জিগ্যেস করায় হেসে বলবে ভালোই তো, আর আমার মনে পড়ে যাবে অনেক কিছু, অস্পষ্ট ছায়া ছায়া অতীতের ছেঁড়া ফালি, ফেলে দেওয়ার সময় হলেও যেসব জিনিস থেকে যায় অদরকারী বাক্সে, সেরকম। কিংবা সেই টার্কিশ ভদ্রলোক, পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে বহুবার বসফরাস ফেরিবোটে চড়া হয়ে গেছে ওঁর, আদৌ ইচ্ছে নেই, তবু বউ মেয়ে নিয়ে এসেছেন আর জমিয়ে গল্পে মজেছেন, হাতের ক্যামেরা হাতেই থাকে আমার, আমি শুনি সাত বছর আগে একবার উনি ভারত আসবেন বলে ভিসা করিয়েও আসেননি। সেই থেকে খুব দুঃখ। দিগন্তে তখন রুমেলি দূর্গ দেখা যাচ্ছে। ঐখান থেকে নাকি কৃষ্ণসাগর দেখা যায়।

    বয়স হলেই মনে হয় কথা বাড়ে। কথা বাড়তে বাড়তে দেখুন, বসফরাসের জল ঘন অন্ধকার। আজান শুরু হলো। সুলতান আহমেদ মসজিত, যাকে সবাই ব্লু মস্ক বলে জানে, থেকে একরকম, আয়াসোফিয়ার পাশেই সম্ভবত রুস্তেম পাশা মসজিদ থেকে আরেক, এবং আরো অন্তত চারটে নাম না জানা মসজিদ থেকে। তার মধ্যে একজনের সুরের ওঠানামা এত চমৎকার, সব ঘেঁটে গেল। বাড়ির কথা ভাবছিলাম, শহর ছাড়িয়ে খবরের কাগজ থেকে উঠে আসা বিন্দুসম যে সিন্ধুতে রোজ আমাদের চায়ের পেয়ালা ভরে ওঠে সেইসব কথা। বর্ধমান থেকে কোবানি, ইসলামিক জঙ্গী সংগঠন, ইত্যাদি ইত্যাদি। এ যেন ব্যাসিলিকা সিস্টার্নের পিলারের নিচে কাত করে রাখা মেডুসার প্রকান্ড মাথা, যেদিকে তাকায় সব পাথর। অথচ এমনটা হওয়ার কথা তো ছিলোনা।

    আমাদের বাড়িতে সব ঠাকুরদেবতাকেই খুব ভয় ও ভক্তি করা হতো। টালিগঞ্জ ট্রামডিপোর পেছনের মসজিদে, আনোয়ার শাহ রোডের দরগায়, পঞ্চাননতলায়, ওলাবিবির মাজার থেকে সত্যপীরের থান--সর্বত্র ঠাকুমার হাত ধরে আনাগোনা ছিলো। খ্রীষ্টান ধর্মপ্রচারকেরা আসতেন ক্যাওড়াপুকুর মিশন থেকে, বিনামূল্যে বই দিতেন। এভাবেই চলছিলো। জলপড়া, তাবিজ আর তাগার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। অতঃপর হাইজ্যাকিং। প্লেন নয়, একটা গোটা ধর্ম, তার শেকড়সমেত আমাদের থেকে হাইজ্যাক্ড হলো। আজ বর্ধমানে বোমা ফাটার অনেক আগে থেকেই আমরা আমাদের এই অংশগুলোর থেকে আলাদা হতে শুরু করেছি। নয় এগারোর আগে থেকেই হয়ত। ঐ যেটুকু চলে গেল, আমার ঠাম্মার মুখের আভাসের মত হারিয়ে যাওয়া, মনে করে করে খাতায় কলমে বাধ্যবাধকতায় নামিয়ে আনার যে দুঃখ, তা সবাই বুঝবেনা। এখন মাদ্রাসা বললে লোকে জঙ্গীঠেক বুঝবে, অথচ টেস্ট পেপারে যখন কথাটা প্রথম পড়ি, প্রভেদ করিনি। টেস্ট পেপারের পুরোনো ছেঁড়া পাতার মতই তা এখন ব্রাত্য, জঞ্জাল। এইসব মনে পড়লো, বসফরাসের ধারে হোটেল মিস্টিকে। হোটেলের পাশেই একটা ভাঙাচোরা পুরোনো মসজিদ, এতই পুরোনো যে বাইজান্টাইন দেওয়াল বলে ভুল হয়, এতই পুরোনো যে পাশের রেস্তোরাঁর মালিক নাম বলতে পারেনা, ঐ পুরোনো মসজিদ বলে দায় সারে। তার সামনের ফুটপাথে এক কুর্দিশ মহিলা তার বাচ্চার জন্য স্টিলের থালায় ভিক্ষে করছে। ছেলেটি পাশেই ফুটবল খেলছে অন্যসব ভ্যাগাবন্ড ছেলেপুলের সাথে। আপনি ফিফার অ্যান্টি রেসিজম ভিডিও ক্লিপ দেখেছেন? সেই পাথুরে রাস্তায় ইজরায়েল আর প্যালেস্টাইনের বাচ্ছাদের বল পেটানোর ভিডিও, একদম সেইরকম।

    আমরা সেইসব পেরিয়ে হিপোড্রোমের দিকে চলে যাই। একসময়ের কনস্তান্তিনোপলের ব্যস্ত রেসট্র্যাক, আজ বাঁধানো চত্বর। এক লিরা এক লিরা করে চেঁচিয়ে দুটি বাচ্চা ছুটে আসে ও মিলিয়ে যায়। সুলতান-আহমেতের ট্রাম স্টেশন থেকে জমজমাট সুদৃশ্য ট্রাম ছেড়ে যায়, সামনেই বিজয়স্তম্ভ, আয়াসোফিয়া, তোপকাপি প্যালেস মিলে এলাহি ব্যাপার। বাকলাভা আর বোরেক সাজিয়ে দোকানীরা। ডোনার কাবাবের দোকান। গয়নার দোকান, লাস্যময়ী বেলি ড্যান্সারের বিজ্ঞাপণ সম্বলিত ক্রুজশিপের এজেন্টদের এড়িয়ে এগিয়ে গেলেই একাদিক্রমে হামাম, আরো একটি বিজয়স্তম্ভ, এবং মেহমেত ফাতিহর সমাধি। সেই কবরখানার দরজায় বসে আরেক কুর্দিশ ছেলে প্লাস্টিকের বাঁশি বাজায়। সামনে তারো থালা, সেখানে, আড়চোখে দেখলাম জমেছে কয়েক কুরুস, বা হয়ত বা একটা গোটা লিরাই। বলা হয়নি, শহরের সবথেকে শস্তা খাবার, ধরুন গিয়ে মাছভাজা একটুকরো, তার দাম সাত থেকে দশ লিরা। ক্রুজে ওঠার খরচ জানা হয়নি। সরকারী ফেরি বারো লিরা।

    এইসব করতে করতে আরো খানিকক্ষণ সময় এগোয়। আমরা জাবর কাটি গত এক সপ্তাহের ঘোরাফেরার। গালিপোলির যুদ্ধ, সেখাকার পাহাড় জোড়া সমাধিক্ষেত্র, সতেরো আঠেরো ঊনিশ বছরের ছেলেরা শুয়ে আছে যে কবরে সেইস গালিপোলি, আতাতুর্কের ইনস্ক্রিপশন পড়ি সেখানে। মায়েদের জন্য লেখা, যুদ্ধশেষে ঘুমিয়ে পড়া ছেলেদের মায়েরা যেন সান্ত্বনা পান, এখন দুইদেশ বন্ধু হয়েছে। যুদ্ধের সময়েও কারা যেন সব খুব একটা মন খুলে শত্রুতা করতে পারেনি, তারা এক বোতল থেকে মদ খেতো রাতে, আর দিনে গুলি ছুঁড়তো পরষ্পরকে --- এইসব গল্পগাছায় ভরা গালিপোলি। গল্পই হবেওবা। আমাদের গাড়ি এগোয়। রেজেব কার্তাল বলে বছর ছাব্বিশের যে যুবকটি আমাদের সঙ্গী হয়েছে, সে অনর্গল বকে চলে এর মধ্যে। ট্রয় আসে, দেখি। কত প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ একে একে দেখা শেষ হয় চানাক্কালে, পার্গামন, অ্যাস্ক্লেপিয়ন, হিয়েরোপোলিস এবং এফেসাস। এর মধ্যেই গসপেলখ্যাত জনের চার্চ, ভার্জিন মেরির চার্চ এইসব টুকিটাকি দেখা হয়। জালালুদ্দিন রুমীর সমাধি সম্বলিত কোনিয়া ও খ্বাজা নাসিরুদ্দিনের শহর একসেহির পেরিয়ে যাই। কাপাদোচিয়ার অসামান্য ল্যান্ডস্কেপও দেখা হয়। এইসব নিতান্তই ব্ড়ানোর গল্প ও সেন্ট্রাল অ্যানাতোলিয়ার অজস্র ফলের বাগান, যেখানে ডালিম, কমলা পিচ ইত্যাদি ভরে আছে সেসব কোন নতুন কথা না, যেকোনো বেড়ানোর গাইডেই পর্যাপ্ত তথ্য ও ছবি আছে, তাই সেসব অন্যত্র বলা যাবেখন। চানাক্কালের সূর্যাস্তের বিস্তারিত কথাও তোলা থাক, যদিও সেখানে প্রায় জনশূন্য সমুদ্রতীরে জঞ্জালের স্তুপের পাশেই খেলাচ্ছলে দুটি শিশু মাছ ধরছিলো, সাথেই ওদের মা, উচ্ছলিত মধ্যবয়স্কা ও ধর্মপ্রাণ। লাল, আধখাওয়া জেমসের মত সূর্য্যটা ডুবে এসেছে যখন, একটা রোঁয়া ওঠা কুকুর সমেত দুই মহিলা এলেন। একটা জেলে ডিঙি তীরে এসে দড়িদড়া জুটিয়ে বাঁধাছাঁদা সেরে চলে গেল। এজিয়ান সমুদ্রের অন্য তীরে গ্রীক দ্বীপগুলো তখন আবছা হয়ে এসেছে।

    এভাবেই, নানা চেনাশোনা কথা আর ছবি নিয়ে ঘুরে এলাম একটা দেশ, আমার দেশের মত সহজাত বন্ধুত্ব আর শত্রুতার গল্প যেখানে প্রতি পদক্ষেপে আপনাকে বিহ্বল করবে। রক্তের দাগ, ঐতিহ্য এবং সভ্যতার গর্ব, আধুনিক পৃথিবীর ভালোমন্দ মেশানো এ এক আজব দেশ, ততোধিক আজব শহর প্রাণকেন্দ্র ইস্তাম্বুল, যেখানে বসে বোঝার উপায় নেই দেশটার সীমান্তে আইএসের সাথে লড়াই চলছে। এ যুদ্ধের অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ লিখে দেবে কিনা জানিনা,
    "Those heroes that shed their blood and lost their lives... You are now lying in the soil of a friendly country. Therefore rest in peace. There is no difference between the Johnnies and the Mehmets to us where they lie side by side now here in this country of ours... you, the mothers, who sent their sons from faraway countries wipe away your tears; your sons are now lying in our bosom and are in peace. After having lost their lives on this land they have become our sons as well."

    এরপর রাত বেড়ে যাওয়ায় আর বসে থাকা যাবেনা। ক্লান্তিতে, রহস্যে, বৃষ্টিতে বসফরাস ঝাপসা হয়ে আসবে। গালাতা টাওয়ারে, রুমেলী আর আনাদোলু দূর্গে নিঃসারে ভিজবে পাথর, শহরে ছড়িয়ে থাকা কুকুর, বেড়াল ও মানুষ। বা, হয়ত ততক্ষণে তারা ঘুমিয়ে পড়বে।

     

  • আরও পড়ুন
    রণছোড় - Chayan Samaddar
  • বিভাগ : ব্লগ | ২১ অক্টোবর ২০১৪ | ৪৮১ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • hu | 188.91.253.22 (*) | ২২ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৫৮74767
  • রুস্তম পাশা হবে না, সেটা গালাটার দিকে। সম্ভবত হোটেলের পেছনের রাস্তায় ভাঙা মসজিদটার পাশেও আরেকটা যে মসজিদ ছিল সেখান থেকে আসছিল আজানটা। না হলে কুচুক (ছোট) আয়া সোফিয়া বলে যেটাকে সেটাও তো কাছেই ছিল। ওখান থেকে আওয়াজ আসারই কথা।
  • | 24.97.78.20 (*) | ২২ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১৫74768
  • টিমি ..............

    টেস্ট পেপার, মুশকিল আসানের কুপি , স্ববে বরাতের বাজি পোড়ানো .... সব কেমন গোলমাল হয়ে ঝাপসা একটা ছবি হয়ে যায় আজকাল
  • | 24.97.78.20 (*) | ২২ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১৬74769
  • *শবে বরাতের
  • সিকি | 135.19.34.86 (*) | ২২ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:১৩74770
  • মন ছুঁয়ে গেল। বড় ভালো লেখা।
  • Tim | 47.150.67.15 (*) | ২২ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:২২74771
  • হ্যাঁ রুস্তেম পাশা হবেনা। এই কথায় মনে পড়লো, রুস্তেম পাশা-মিহরিমাহ-সিনান মিলিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং গল্প আছে। সিনান এই সময়ের প্রায় অসংখ্য মসজিদের স্থপতি, রুস্তেম পাশা মসজিদ সহ।
  • রাঙতা | 24.99.131.225 (*) | ২৩ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:৩৫74772
  • ভারি ভালো লাগলো।
  • ujbuk | 96.156.190.40 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:১১74773
  • এই ওয়েবসাইট এ সবাই এক ই ভাবে লেখে কেন ? নাকি এক ই ভাবে লেখে বলেই এই ওয়েবসাইট এ লেখে ?
  • Du | 230.225.0.38 (*) | ০৪ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:৪৭74774
  • মন ভরে গেল।
  • bodhisattva chattopadhyay | 127.99.54.99 (*) | ১৮ মার্চ ২০১৫ ০৬:০০74775
  • বরাবরই ভালো লাগে... এটাও ব্যাতিক্রম নয়। লিখতে থাকো, আমি পড়তে থাকব :)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন