• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • আড়মোড়া ভাঙে এক বিষাদের পাখি (পর্ব - ১১)

    সুকান্ত ঘোষ
    বিভাগ : ব্লগ | ১৮ মে ২০১৪ | ৯৬ বার পঠিত
  • আমাদের বন্ধু ব্যাচে হাবাই সর্বপ্রথম অবৈধ সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়েছিল ক্লাস ইলেভেনে পড়ার সময়। ক্ষ্যাপা মাষ্টারের কাছে প্রাইভেট টিউশনি শেষ করা এবং ইস্কুলের গণ্ডী পেরোবার সীমারেখা থেকেই হাবা-র কাছে তার নিজেরই ‘রঞ্জিত’ নামটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছিল। ক্ষ্যাপা মাষ্টার আজ আর নেই – আমাদের গ্রাম থেকেই টিউশনি পড়িয়ে ফেরবার পথে জি টি রোডে লরির ধাক্কায় প্রাণ হারাণ। এই ঘটনা আমাদের বিষাদগ্রস্ত করেছিল কিছুদিন কারণ খ্যাপা মাষ্টার আমাদের নিমো গ্রামের অনেক ছেলেরই কৈশোরের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আমরা তাই ক্ষ্যাপা মাষ্টারের স্মৃতি চারণার আয়োজন করেছিলাম ইনফরম্যাল কেবল আমাদের এই ছেলে ছোকরাদের মধ্যে। কেউ বলল মাষ্টেরের কাছে পড়ে কিভাবে সে দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় মাধ্যমিকে ইংরাজীতে পাস দিয়েছিল – কেউ বলল ক্ষ্যাপা মাষ্টারের কাছে পড়েও সে উচ্চমাধ্যমিকে ইংরাজী ডিঙোতে পারে নি, তবে তাতে মাষ্টারের কোন দোষ ছিল না, নিজের বংশের দোষেই সে পাস দিতে পারে নি। হাবার টার্ণ এলে সে বর্ণনা করল কিভাবে ক্ষ্যাপা মাষ্টারের প্রবল কোপে পড়েছিল বীচি টিপে দিয়ে। ক্ষ্যাপা মাষ্টার পাজামা পড়ে পড়াতে বসত। এবং মাঝে মাঝে পাশে বসা হাবাকে রিকোয়েষ্ট করত পা দুটো একটু টিপে দিতে। বারবার রিকোয়েষ্টে তিতি বিরক্ত হয়ে সেই বার হাবা পা টিপতে টিপতে আর একটু উপরের দিকে উঠে মাষ্টারের বীচি দুটি খুব জোরে টিপে দেয়। হাউ মাউ চিৎকারে খ্যাপা মাষ্টার হাবাকে তাড়া এবং আর কোন দিন পড়াবে না বলে প্রতিজ্ঞা করে। পরে অবশ্য মাষ্টারের বউ অর্থাৎ তুফানের মায়ের হস্তক্ষেপে হাবা আবার টিউশনিতে ফিরে আসে। হাবার বলা শেষ হলে আমরা ক্ষ্যাপা মাষ্টারের আত্মার এবং ততসহ তার বীচির শান্তি কামনা করলাম।

    ধোনি র ‘হেলিকপ্টার’ শটের বহু আগে থেকেই আমাদের দিকে হাবা ক্রিকেট মাঠে ওই শটটি দিত – যদিও আমাদের কাছে তা ছিল ‘পাম্প’ (উচ্চারণ যদিও হত ‘পাম্‌’ বলে) দেওয়া মার। ক্রীজে স্টান্স নেবার পর, হাবা তার হাঁটু দুটি অদ্ভুত ভাবে ভাঁজ করত ও আবার সোজা হত। তা অনেকটা দেখতে হত সেই সাইকেলের চাকায় সিরিঞ্জ দিয়ে পাম্প দেবার মত। সেই থেকেই ‘পাম্প’ দেওয়া মারের উৎপত্তি। গায়ের জোরে হাবা ছিল ধোনির বাপ – ফলতঃ বেশীর ভাগ সময়েই সেই খান্না টেনিস বল রশিদের খামারে বা সামনের বাঁশ বাগানে অদৃশ্য হত। এই এখনো, সক্রিয় ক্রিকেট থেকে অবসর নেবার পরও মাঠে গেলে আজকালকার ছেলেরা হাবাকে ‘পাম্প’ দেওয়া মার দেখানোর অনুরোধ করে। এদের অনেকেই হাবাকে কোনদিন খেলতে দেখে নি – কিন্তু হাবা সম্পর্কে উপকথা শুনে এসেছে অফুরন্ত। কিন্তু আমাদের কাছে হাবার ইমপর্টেন্স ওর ক্রিকেটিয় দক্ষতার জন্য ছিল না, ওর থেকে অনেক বেশী ভালো ক্রিকেটার আমাদের গ্রামে ছিল – কিন্তু আমরা কেউই হাবার ব্রুটাল অনেষ্টির ধারে কাছে পৌঁছতে পারি নি কোনদিন।

    “অস্ফুট থেকে যায় কথা
    কোথা থেকে হাওয়া এসে হাবিজাবি লিখে দেয় সন্ধের গায়ে
    শাঁখ বাজে, আলো জ্বলে, পর্দারা দোলে মৃদু মৃদু
    আমরা নিভৃত হই, ফিরে যাই নিজের পাড়ায়
    তারপরে, তার আগে পিছে
    বাঁশুরিয়া ধুন যেন পোষ মেনে কোলে এসে বসে
    কবেকার ছেঁড়া খাতা অক্ষর চিনতে শেখেনি
    হাতেখড়ি হয় তার ঘামে ভেজা চৈত্রদিবসে”।

    হাবার কোন কথা অস্ফুট ছিল না - সে শক্তিশালী ছিল, ছিল অফুরন্ত সাহসী – আর সত্যবাদী। শোক সভায় বীচি টেপার ঘটনা বলতেও তার বাধে নি। আমাদের ফুটবল শেষে বিকেলের গল্প ছিল বেশীর ভাগ সময়েই হাবিজাবি – সেই চিরাচরিত গল্প শেষ করে মসজিদের আজানের শব্দ কানে এলে, শাঁখের শব্দ শুনতে শুনতে অভস্ত্য আমরা নিজেদের পাড়ায় ফিরে যেতাম। তেমনি এক বিকেলে, ফুটবল খেলা শেষ করা ঘামে ভেজা চৈত্রদিবসেই আমরা প্রথম হাবার পিতৃত্বের খবর পাই।

    হাবাদের আদি বাড়ি ছিল বিহারে। কিন্তু ওর বাবা রেলের চাকুরী করতে এসে আমাদের নিমো গ্রামে রেল কোয়ার্টারে থাকতে শুরু করে। হাবার জন্মও নিমো গ্রামে – আমার থেকেও খারাপ হিন্দী বলে। মোট কথা আমাদের কাছে এবং নিজের কাছেও হাবা ছিল বাঙালী। কিন্তু ওই রেল কোয়ার্টারে বেশীর ভাগ পাবলিকই ছিল বিহারী এবং তারা ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেবার সময় বিহার থেকেই সমন্ধ করে আনত। এই ভাবেই হাবার প্রতিবেশী রামাশীষের বিয়ে হয়ে গেল বিহারের কোন এক প্রত্যন্ত গ্রামের এক ডাগর মেয়ের সাথে। রামাশীষের কেপেবেলিটি নিয়ে আমাদের মধ্যে চিরকালীন এক সন্দেহ ছিল – ওর আচার আচরণ ইত্যাদি খুব একটা স্বাভাবিক ঠেকত না আমাদের কাছে। এর বহুকাল পরে আমরা সেই আচরণের প্রতিশব্দ খুঁজে পাই – ঋতুপর্ণীয়। বলাই বাহুল্য রামাশীষ ঋতুপর্ণকে চিনত না।

    যাই হোক রামাশীষের সেই ডাগর বউ দেখে আমাদের চক্ষু চড়কগাছ। আমাদের মধ্যে এই বিষয়ে তখনও পর্যন্ত জ্ঞানী দিবাকরের ভাষায় রামাশীষের পক্ষে ওই ইঞ্জিন ঠেলা অসম্ভব। উজ্জ্বল কালো রঙের এক নধর, ডাগর মেয়ে – কেউ খবর দিল যে কাছ থেকে দেখলে নাকি চোখে মুখে খাই খাই ভাবেরও ছাপ দেখা গেছে! তো যাই হোক কি হতে কি হইয়া গেল – এক বছরের মধ্যে রামাশীষের বউয়ের সাথে হাবা জড়িয়ে গেল অঙ্গাঙ্গী। রামাশীষের বউয়ের নাম রাখা হল ‘লাল পরী’ – লাল রঙের শাড়ী পড়েই ঘুরত বলে মনে হয়। এক সময় আমরা জানতে পারলাম লাল পরী সন্তান সম্ভবা – হাবা এক পড়ন্ত বিকেলে ফুটবল খেলার পর বিষ্ফোরন ঘটালো এই বলে যে লাল পরী নাকি কনফার্ম করেছে বাচ্চাটা হাবার! আমাদের তখন ক্লাশ টুয়েলভ – আমরা অনেকেই হাবাকে বিশ্বাস করি নি!

    “দু’মানুষ, পথ হাঁটা, রাস্তা যেখানে বেঁকে গেল
    সেই মোড়ে দাঁড়াতেও পারো, ঐটা শিরিষ গাছ
    এটা রাধাচূড়া, বাকিদের নাম জানা নেই
    তবে এটা জানি, ল্যাম্পপোস্ট, রাত এলে সাদা আলো সাজে
    মাঝে মাঝে দল বেঁধে একা হয়ে যায়
    …………………
    প্রতি সন্ধ্যায় যখন হাঁটতে থাকি, ঝোপে ঝাড়ে
    উজ্জ্বল নীল, কখনো সবুজ, লাল
    গতকাল, তখন জমাট রাত
    ঘটিকায় দুই বা আড়াই
    ঘুম ভেঙে গেল, জানলায় কি ছিলো ভাবো তো
    নির্জন রাস্তাটা
    লোক নেই, গাড়ি ঘোড়া নেই
    সেই ফাঁকে কৃষ্ণচূড়ার ডালে ফিসফিস চলে কথা বলা”।

    হাবা আমাদের পরিপূর্ণ গল্প বলত – কিভাবে, কোথায় যৌন মিলনে লিপ্ত হত এবং দিবাকর চাপাচাপি করলে যৌনাঙ্গের বিবরণ শুদ্ধু। আমরা বুঝেছিলাম কি ভাবে নির্জন রাস্তা – কেবিনের পিছনের দিকে কৃষ্ণচূড়া, সজনে গাছ, ঝোপঝাড় হাবাকে এগিয়ে দিয়েছিল লাল পরীর দিকে। ঘুম ভেঙে যেত নিয়ম মাফিক – রাত দু-তিনটের সময় স্টেশনের সবুজ বা লাল সিগন্যাল পেরিয়ে, ঘরে ঘুমন্ত রামাশীষকে ডিঙিয়ে লাল পরী মিলিত হত হাবার সাথে। ভাবার দরকার হত না, জানালায় তখন তাকালেই লাল পরী দেখতে পেত হাবার মুখ – হাবা মোড়ে দাঁড়ায়, লাল পরী এগিয়ে আসে – দুজনে হাঁটা পথে ঢুকে যায় ঝোপে ঝাড়ে বা রাধা চূড়া গাছটার তলায়। হাবার নিজের কথায় নির্জনতা কোন চ্যালেঞ্জ ছিল না – কেবল শীৎকারের সময়টুকু ছাড়া – কেবল তখনই লালপরী ফিসফাস ভালোবাসত না।

    আমরা জানতাম হাবা মিথ্যে কথা বলে না, কিন্তু তবুও অনেকে আমরা বিশ্বাস করতে পারি নি যে লাল পরীর ছেলে আসলেই হাবার! তবে কিছু বছর পর আর অবিশ্বাসের উপায় রইল না – কারণ লাল পরীর ছেলের মুখে ক্রমশঃ হাবার মুখের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠল। সুধীরের ছোট ছেলে মদনদার মত, শৈলেনের ছোট ছেলেকে সমীরের মত দেখতে হবার পর আমাদের গ্রামে এই তৃতীয় কেস! কোন কোন ফুটবল বিকেলে হাবাকে বেশী এফর্ট দিতে দেখা যেত না – আমাদের সে অম্লানে বলত, আজকে আর শরীর দিচ্ছে না রে, এই একটু আগে ‘মেরে’ এলাম! তবে হাবার চরিত্র নিয়ে আমাদের কোনই সন্দেহ ছিল না – কারণ লাল পরী ছাড়া হাবা আর কাউকে কোন দিন ‘মারে’ নি।

    “এইভাবে নয়, এইভাবে কি সব বলা যায়? সমস্ত?
    পাখির বুকের নীলচে পালক, ঝর্ণাকলম, ক্যাপ-পিস্তল
    গল্পগুজব, নিষিদ্ধ বই আর সারা রাত অস্থিরতায়
    আসন পেতে যে বসতো। তার কথা কি বলতে আছে, প্রকাশ্যে?”।

    হাবা এই ভাবেই তার সমস্ত গল্প আমাদের বলত। লাল পরীকে ‘লাগাবার’ আগে সে কিভাবে তার পিস্তলে মেমারী গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে ফ্রীতে পাওয়া ক্যাপ পড়াতো সেই গল্প। ক্যাপের মোটাত্বের সাথে সুখের কি সম্পর্ক তা আমরা প্রথমে হাবার কাছেই জানতে পারি। অবশ্য পিস্তলে ক্যাপ পড়ানো খুব বেশী দিন স্থায়ী হয় নি – আরো সুখের সন্ধানে লাল পরীর পরামর্শে ক্যাপ হয়েছিল বর্জিত এবং ফলতঃ হাবার পিতৃত্ব। লাল পরীর পাখির মত বুক থেকে – ঝোপ ঝাড়, গাছের তলা, বিছানায় তাদের যৌথ আসনের কার্যকলাপ হাবা আমাদের বিস্তারিত ভাবেই বলত – এবং প্রকাশ্যেই।

    তবে কথিত আছে যে লাল পরীকে নিয়ে যে হালকা টেনশন তৈরী হয়েছিল রেল কোয়ার্টারে সেটার জনক লাল পরীর বর রামাশীষ ছিল না, বরং টেনশন তৈরী হয়েছিল হাবা ও তার দাদা সঞ্জিতের মধ্যে। ততদিনে মোটামুটি সবাই আঁচ করে ফেলেছে হাবার সাথে লাল পরীর জড়িয়ে যাওয়া। রামাশীষের কোন বিকার ছিল না – ইনফ্যাক্ট হাবা আমাদের বলত যে ও লাল পরীর ঘরে গেলে রামাশীষ নিজে ঘরের বাইরে চলে আসত। এমত অবস্থায় সঞ্জিতের মনে এই নাকি ধারণা হয়েছিল যে লাল পরী সহজলভ্য – তাই ভাই একা কেন খাবে? দুই ভাইয়ের মধ্যে মারপিটও নাকি হয়েছে এই নিয়ে – তবে এখানেও হাবার মহাত্ম – সে তার বিশাল গায়ের জোর নিয়ে দাদাকে বেশী মারত না – কেবল সেলফ ডিফেন্স করত মাত্র। এই ভাবে দিন এগিয়ে গেছে – এক সময় হাবার দাদার বিয়ে হয়ে গেল – হাবাকে বিয়ের জন্য জোড় করা হতে লাগল তার বাড়ি থেকে। হাবা দাবি করে যে লাল পরীকে ছাড়া থাকা ওর পক্ষে সম্ভব নয় – এদিকে ডিভোর্সের ঝামেলা আমাদের গ্রামের দিকে ছিল না। রামাশীষ বলে ওই সব ঝামেলায় গিয়ে লাভ কি আর – যেমন আছিস তোরা দুজন তেমনই থাক না, আমিই না হয় ঘরের বাইরে বেরিয়ে যাব। রামাশীষের চিন্তা ছিল তার মেয়েটিকে নিয়ে – আমাদের দিকে তখন এবং এখনও মা পালানো বা দুবার বিয়ে করা মায়ের মেয়ের বিয়ের সমন্ধ করা প্রায় অসম্ভব ছিল। যদি না সেই মেয়ে নিজে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করে। ততদিনে রামাশীষ ছেলের মুখের আদল হাবার মত সেটা টের পেয়েছে – কিন্তু ট্রাজেডী হল, যে মেয়েকে অন্তত নিজের ঔরসজাত বলে মনে করত রামাশীষ - আমরা কয়জন, হাবা আর লাল পরী জানতাম যে সেটাও সত্যি নয়! রামাশীষের মেয়েটিও হাবার দান!

    “অসামান্য নয় কিছু, নিতান্তই ঘরোয়া ধরণ
    লোকটা এমনই ছিল জানো
    সামান্য দুঃখ সুখ, কথাবার্তা আবেগ জড়ানো
    কোন কিছু পাবে বলে বেপরোয়া পণ
    করেনি সে কোনদিন, আকাশ মেঘলা হলে
    তার জানলার কাচে জমে জল
    সে তখন অতীতকে ভাবে, নিষ্ফল
    তবু তার কোলে
    চুপিচুপি এসে বসে, আড়মোড়া ভাঙে এক বিষাদের পাখি”।

    রামাশীষ কোন অসামান্য ব্যক্তি ছিল না – বরং ঘোরোয়াই। নিমো ষ্টেশনের ধারে চায়ের দোকানদারি করে। আমরা মাঝে মাঝে তার দুঃখ নিয়ে আলোচনা করতাম – জেনেশুনে পরের ছেলেকে নিজের নাম দেওয়া কম বড় ঔদার্য্যের কথা নয়! তার থেকেও বড় কথা, মাথায় অনন্ত টিটকারী ও অঙ্গুলি নির্দেশের চাপ নিয়ে দিনযাপন। এমন হয়েছে লোকে চা খেতে খেতে রামাশীষের ছেলের গল্প করছে – গল্পের শেষের দিকে লোকে রামাশীষকেই বলত তার ছেলেকে ডেকে আনার জন্য যাতে করে পরিচিতের কাছে গল্পের বাস্তবতা প্রমান করা যায়। আমাদের রামাশীষ ভাই বলেই ডাকত – আমি সেই বর্ষাস্নাত বিকেলে, গ্রীষ্মের প্রখর দুপুরে চায়ের দোকানের ছায়ায় বসে ওর মুখে বিষাদের ছাপ খুঁজতে চেয়েছি – অনেক সময় পেয়েছি, বা নিজের মতন করে কল্পনা করে নিয়েছি সেই দুঃখী রামাশীষের গল্প। কিংবা আদৌ দুঃখী ছিল কি সে? তার সেই দুর্বল শরীরের লাল পরীর কামের চাহিদা মেটাবার ক্ষমতা ছিল না – হয়ত তার নিজের যৌনতার ভারসাম্য কোন এক বিশেষ দিকে ঢলে গিয়েছিল – তাই সব মিলিয়ে হাবার হাতে দিবাকরের ভাষায় ‘ইঞ্জিন’ ছেড়ে দিয়ে একদিক দিয়ে নিশ্চিন্তই ছিল সে! সারাদিন খাটাখাটনি করে অন্তত রাতের ঘুমটা বিনা উপদ্রবে হবার আশ্বাস! রামাশীষ অতীত নিয়ে ভাবে না – কেবল আমাদের কল্পনাতেই তার সেই ছোট্ট চায়ের দোকানে বিষাদের পাখি আড়মোড়া ভাঙতে থাকে।

    আমাদের ছোট বেলায় আরো অনেকের মত এই তিনজন ব্যক্তি আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল – কেবিনের দয়াল, পচা মোড়ল এবং মসজিদের মৌলভী সাহেব। স্টেশনের ধারে রেল কোয়ার্টারকে আমাদের দিকে কেবিন বলেই ডাকা হত – কারণ ঠিক জানি না, তবে হয়ত রেল কেবিন থেকে শর্ট ফর্মে হয়ে গিয়েছিল কেবিন কোন সময়। তাই সেই কেবিনের দয়াল কাকা আবার সম্পর্কে ছিল হাবার বাবা। দয়ালের বিশেষত্ব ছিল পায়ের খিল বসানো – খেলাধূলা বা মাঠে ঘাটে কাজ করতে গিয়ে ‘খিল’ সরে যাওয়া প্রায়ই এক নৈমত্তিক ঘটনা ছিল। খিল বসানো অর্থে ডিস্‌লোকেটেড জিনিস তার পুরানো স্বস্থানে বসানো – অবশ্য আমরা অনেক সময় জানতাম না যে মাল আদৌ ডিসলোকেটেড হয়েছে কিনা! খেলতে গেলে পা মুচকে ফুলে গেলে, গাছ থেকে পড়ে গিয়ে গায়ে কোথাও ডিফেক্ট দেখা গেলে সোজা দয়াল কাকার কাছে। সন্ধে বেলা অফিস থেকে ফিরে দয়াল কাকা এই সব করতে বসত – সার্ভিস ছিল প্রায় ফ্রী! সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হত একটু তেল আর পাঁচ সিকে পয়সা। অনেকে আবার দয়াল কাকার সার্ভিসকে সেকেন্ড স্টেপ বলে মনে করত, আবার অনেকের কাছে আলটিমেট ট্রিটমেন্ট! চিকিৎসার প্রথম পর্যায়ে নিজেরা চুন-হলুদ দিয়ে চেষ্টা হত। ব্যাথা না কমলে তার পর দয়াল কাকা। এই সব হেতু দয়াল কাকার বাড়ি থেকে প্রায় সন্ধ্যাতেই চিৎকারের শব্দ আসত – তেল টেল মাখিয়ে, একটু হাত বুলিয়ে তারপর সেই মোক্ষম হ্যাঁচকা টান দেবার পর আফটার এফেক্ট হিসাবেই সেই তুমুল চিৎকার। বিষয়টি বেশ ইন্টারেষ্টিং ছিল – আপনি জানেন যে হ্যাঁচকা টান আসছে, কিন্তু ঠিক কখন সেটা টের পাচ্ছেন না! একটা সাসপেন্স-এ ভুগত যারা ট্রিটমেন্ট করাতে যেত তারা। আমাদের বন্ধুদের ব্যাচ অবশ্য এই খিল বসানো দয়াল জুনিয়ার অর্থাৎ হাবার কাছে অনেক সময় ভিড়িয়েছি। এই সব জিনিস বেশীর ভাগ সময়ের পারিবারিক পুরুষাক্রমে চলে আসে – সেই সূত্রে হাবা নির্বাচিত হয়েছিল আমাদের কাছে।

    দ্বিতীয় ব্যক্তি পচা মোড়ল ছিল আমাদের আমাদের বাল্যবন্ধু আলমের দাদু। পচা মোড়লের নামডাক ছিল এই বিষয়ে যে সে নাকি তুক তাক করতে পারে – মাঝে মাঝে বাণ মারার ঘটনাও শোনা গেছে। অবশ্য কে কাকে বাণ মারছে তা সব সময় জানা যেত না, কারণ তা ছিল বিজনেস টপ সিক্রেট। তবে আলমের কাছে খবর লিক্‌ হয়ে আমরা যা বুঝতাম তা হল পারিবারিক কোন্দলের কাষ্টমারই ছিল বেশীর ভাগ তার দাদুর কাছে। বাদী এবং বিবাদী দুই পক্ষই একে অপরকে বাণ মেরেছে পচা মোড়লের মাধ্যমে। কার বাণে বেশী জোর ছিল বলতে পারব না, তবে মনে হয় বেশীর ভাগ সময় দু বিপরীত বাণে কাটাকাটি হয়ে দুই পক্ষই বহাল তবিয়তে বেঁচে বর্তে থাকত। পচা মোড়লের আর এক স্পেশালিটি ছিল বাটি চালা – বাটি চালা অর্থে বাটি চেলে বলে দেওয়া এর গরু কোথায় হারিয়েছে, এর ছাগল কোথায় গেলে পাওয়া যেতে পারে, তার কানের দুল পাওয়া যাচ্ছে না – বাটি চেলে বলা যাবে মাল হারিয়েছে নাকি কেউ সটকেছে! মাঝে মাঝে মানুষ হারালেও এই বাটি চালা পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হত। আর এই ব্যাপারে পচা মোড়লের পার্মানেণ্ট এবং মোষ্ট ফ্রিকোয়েন্ট কাষ্টমার ছিলে কামারদের সাধনের বউ – সাধনের ছেলে বাপন মাঝে মাঝেই বাড়ি থেকে গায়েব হয়ে যেত।

    “সে না কি তোমারও পদ্মপাতায় ক্রমাগত সুখ খুঁজে
    বহুকাল ধরে ফেরত পেয়েছে নিরন্ন মাধুকরী
    সে না কি তোমাকে কথা দিয়েছিল চিরকাল কাছে রবে
    প্রতিজ্ঞা ভেঙে অথচ হয়েছে উধাও দেশান্তরী
    আহা মরীচিকা সুবাতাস ফিরে এল
    গহন নীলাভ স্বচ্ছ হয়েছে ক্রমে
    ঘুণপোকাটিও সুখে আছে তার অথৈ বসতবাটি
    জমে কি উঠেছে আবছায়া ঘেরা দৃষ্টির বিভ্রমে”।

    সাধন তার বঊয়ের পদ্মে সুখ খুঁজে পেয়ে পিঠপিঠি দুই খান মেয়ে পয়দা করেছিল। হুঁশ ফেরার পর খেয়াল হয় যে বাপের থেকে পাওয়া নুন্যতম জমি আর রাস্তাপারের সাইকেলের দোকান দিয়ে এই বাজারে দুটি মেয়ে পার করতে গেলে একসময় নিরন্ন তো থাকতে হবেই, এমন কি মাধুকরীও করতে হতে পারে। শেষ বার একবার ট্রাই দিয়ে নিজেদের বৃদ্ধ বয়েস সুরক্ষিত করতে বাপন পয়দা হয়। তাই সেই বাপন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলেও সাধনের খুব বেশী ভ্রুক্ষেপ ছিল না – কারণ ততদিনে বাপনের কার্যকলাপ দেখে সাধন বুঝে নিয়েছিল যে “ইট ওয়াজ এ ব্যাড ইনভেষ্টমেন্ট”। কিন্তু বাপনের মায়ের চিন্তা ছিল, মা বলে কথা – তাই অগতির গতি পচা মোড়ল। একবার বাপন গেল বোম্বে সিনেমা আর্টিষ্ট হতে, একবার সার্কাসের দলের সাথে হাওয়া – কোনবার যাত্রাদলের রাঁধুনির হেল্পারের জব নিল – শেষবার শুনলাম উত্তর প্রদেশে কোন এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক ডাক্তারের কমপাউণ্ডারের হিসাবে কাজে ঢুকেছে। অথচ বাপন নাকি তার মাকে কথা দিয়েছিল সে চিরকাল কাছে কাছে থাকবে নিমো গ্রামের আশেপাশে। বাপনের ফিরে আসা তার মায়ের মনে বইয়ে দিত সুবাতাস – দোষ দেওয়া যায় না, দুই মেয়ের পর এক ছেলেকে নিয়ে বাঙালী মায়েরা চিরকালই বিভ্রমে ভুগেছে।

    আমাদের সবচেয়ে সুবিধা হয়েছিল বাপন যাত্রাদলের রাঁধুনির হেল্পারের জবটা নিলে – তার পর থেকে অনেক পিকনিকে (আমারা বলতাম ফিষ্টি) বাপনের হাতে রান্নার ভারটা ছাড়া থাকত। কেবল কমপাউণ্ডার চাকুরীটায় আমরা কেউই একদম ভরসা করতে পারি নি। যাই হোক পচা মোড়লের নাম ছিল মোটামুটি – আগেই যেমন বলেছি এই সব জিনিস পারিবারিক পুরুষাক্রমে চলে আসে – তাই আমরা আলমের হেল্প চাইতাম অনেক সময়। কেউ প্রেমের চিঠি লিখে মেয়েটিকে দিতে যাবার আগে আলমের কাছে দারস্থ হত। আলম সেই চিঠি নিয়ে চোখ বুজে বিরবির করে কি বলে একটু হালকা ফুঁ দিয়ে দুই বার থুঃ থুঃ করে দিত চিঠির উপর। সেই থুতু মাখা চিঠিতে অনেক মেয়ে ঘায়েল হয়েছিল – আর ঘায়েল না হলে তা অবশ্যই প্রেমিকের ফল্ট! এর মধ্যে আলমের কোন দোষ থাকত না। তবে আলমের মধ্যে থেকে যাওয়া পচা মোড়লের লিগ্যাসি আমরা সবথেকে বেশী ব্যবহার করেছিলাম ক্রিকেট মাঠে টস্‌ করতে যাওয়াতে। আমাদের ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন যেই থাক, টস্‌টা চিরকাল আলমই করে এসেছে অন্‌ বিহাফ্‌। এবং আশ্চর্য্য আলমের এই বিষয়ে সফলতার হার ছিল প্রায় ৯০%! বাপনের গ্রামে ফিরে আসার পিছনে পচা মোড়ল বাটি চালার এফেক্ট কতটা ছিল বলতে পারব না – কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, কোন সংস্কার (কু-সংস্কারও বলা যেতে পারে) ব্যতিত ক্রিকেট খেলা হতে পারে না, তা সে গ্রামের ক্রিকেট বা আন্তর্জাতিক যাই হোক না কেন।

    অন্যদিকে মৌলভী সাহেব আমাদের জল পড়া আর পেটে ফুঁ দেওয়ার মধ্যেই তাঁর কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ রাখতেন। ছোটবেলায় আমাদের পেট ব্যাথা হবার ঘটনা খুবই ফ্রিকোয়েন্ট ছিল এবং তা শুরু হত সাধারণত সন্ধ্যা হবার ঠিক আগে। নিন্দুকেরা বলত রাতের বেলা যাতে পড়তে বসতে না হয় এ ছিল তার ছলনা মাত্র। ঠাকুমারা মনে হয় ঠিক বুঝতেন – পেঠ ব্যাথা ফিজিক্যালের থেকেও বেশী ছিল সাইকোলজিক্যাল। তাই ব্যাথ্যা চাগার দিলেই জল পোড়া দাওয়াই, মৌলভী সাহেবের কাছে ছোট! জল পোড়া আনতে যাওয়া হত কাঁসার গ্লাসে – কাঁচের গ্লাসে নাকি মৌলভী সাহেবের মন্ত্র ঠিক মত কাজ করত না। আজ ভাবলে বিষ্ময় লাগে ওই গ্লাসে করে জল নিয়ে যাবার আগে তাতে দু-চারটে তুলসী পাতা ছড়িয়ে দেবার প্রচলন কে করেছিল! মুসলিম ধর্মের সাথে তুলসীর খুব একটা যোগ ছিল না – তবে মনে হয় ঠাকুমারা ডবল্‌ ধামাকার জন্য দুই ধর্মের ককটেল ছাড়তেন জল পোড়াতে। আমরা সেই তুলসী পাতা ভাসা কাঁসার গ্লাসে ভরা জল মসজিদে নিয়ে গেলে মৌলভী সাহেব তাতে দোয়া পড়ে ফুঁ লাগিয়ে দিতেন। এর এফেক্ট অব্যর্থ, এবং সন্ধ্যা বেলা সেই জল পড়া খেয়ে রাতের বেলা পড়তে বসতেই হত! মৌলভী সাহেবের সার্ভিস ছিল ফ্রী! এই ভাবেই জলের সাথে আমাদের একাত্ম বোধ শুরু – জল পড়া থেকে বৃষ্টি।

    “অল্পই কিছু কষ্ট রয়েছে বাকী
    তাও সেরে যাবে কালকে সম্ভবতঃ
    কালকে যদি এ বৃষ্টিও থেমে যায়
    রোদ উঠবেই, উঠবে নিয়মমতো
    ভুল কী বুঝেছি তোমাকে মেঘলা দিনে
    জমানো কাঁকড়ে, জমা জলে ইত্যাদি
    যত্ন চেয়েছে আরোপিত বীজতলা
    সামান্য মাঠ, আলধারে অনাবাদী
    সে সব ফসল ভরে আছে গোলাঘরে
    দুর্ভিক্ষও অতিদূরপরাহত
    অল্প যেটুকু কষ্ট রয়েছে সাথে
    তাও ছেড়ে যাবে কালকে সম্ভবতঃ”।

    ছোটবেলার আমাদের কষ্টের সাথে বৃষ্টির খুব একটা কাছাকাছি যোগাযোগ ছিল, আবার সম্পর্ক ছিল আনন্দেরও। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, কাদা ভরা মেঠো রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুল যাওয়া কি পরিমাণের ‘পেন-ইন-দ্যা অ্যাস’ ছিল তা আজ এই এতো বছর পর লিখতে গিয়ে পেন কেঁপে যাচ্ছে। হাঁটু পর্যন্ত কাদা হয়ে গেলে সাইকেল কাঁধে তুলে অতিক্রম করতে হয়েছে রাস্তা – তবে বাঁচোয়া ছিল এই যে আমাদের দিকের মাটি এঁটেল ছিল না। এঁটেল মাটির কাদাকে আমরা বলতাম প্রভুভক্ত কাদা, অর্থাৎ একবারে পায়ে লেগে গেলে আর ছাড়তে চাইতো না। গ্রাম্য কাদার রাস্তা সম্পর্কে ধারণা থাকলে খুব সহজেই বোঝা যাবে যে ধুতি বাঙালীর এতো পছন্দের পরিধান ছিল কেন! ধুতি পরে ঘোরাফেরা, গ্রামে কুটুম্ব আসা, জামাইয়ের আগমন এই সব আমাদের পিসেমশাইদের জেনারেশনেই শেষ হয়েছে। জামাই ঘরে ঢুকেছে শুধু আণ্ডারপ্যান্ট পড়ে এমন দৃশ্য বিরল ছিল না – যদিও পরবর্তীকালে জাঙ্গিয়ার প্রচলন সেই অ্যাডভান্টেজ পুরোটাই কেড়ে নিয়েছিল।

    বৃষ্টির সাথে আমাদের আনন্দের সম্পর্কটি ছিল ছুটি সংক্রান্ত – আর কিছু ইংরাজী শব্দ না শিখলেও আমরা রেনি-ডে জিনিসটা খুব ছোটবেলাতেই শিখে গিয়েছিলাম। অল্প বৃষ্টি কাঙ্খিত ছিল আমাদের কাছে – বেশী হলে ডেকে আনত কষ্ট। তখন চলত রোদ ওঠার প্রতীক্ষা।

    আমাদের কাছে তখন ছিল না কোন ফসলের হিসাব, না ছিল কোন চাষ সংক্রান্ত চিন্তা। বড়দের বৃষ্টির সাথে কোন আবেগ জনিত সংযোগ ছিল না, যা প্রত্যাশা তা ছিল নিতান্তই বাস্তব। চাষের সিজিন অনুযায়ী সেই বৃষ্টি প্রত্যাশার পরিবর্তন হত। ধান চাষের আগে – বীজতলায় ছিল জলের জন্য আকুতি। বীজরোপনের পর পরও সেই আকুতি বজায় থাকত। আর তার পর ধান কাটার সময় বৃষ্টির সাথে দুশমণি! বৃষ্টি – তোমাকে ভালো করে জানত অনেকেই, আবার অনেকেই ভুল বুঝত। বৃষ্টিকে যে ভালো করে চিনত, তার ততো ভালো চাষী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা। আনন্দ, কষ্ট, ফসল, বীজতলা, গোলাঘর – এই সব মিলিয়েই ছিল আমাদের বৃষ্টি যাপন।

    আমরা বৃষ্টির মতই অস্থির ছিলাম সেই বয়সে – আমাদের পুরানো বাড়ির চিলেকোঠার ঘরে আমরা সমবয়সীরা ছুঁয়েছি পরস্পর – কেউ ছুঁয়েছিল গোপনতা, কারো প্রথম উত্তেজনার সাক্ষী হয়েছিল সেই শ্যাওলা ধরা দেওয়াল। কারো প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছিল নিষিদ্ধ গন্ডি টপকানোর। উত্তেজনা একসময় প্রশমিত হয় – কখনো থেকে যায় এক শূন্যবোধ, এক গভীর বিষাদ। অনুষ্ঠান শেষে সঙ্গী ফিরে যায় নিজের বাসস্থানে – দুজনের কৈশোর জানালায় কিছু দিন উঁকি দেয় চাঁদ – তারপর সময় ভুলিয়ে দেয় অনেক কিছু – প্রত্যাশাও!

    “অস্থির ছিলাম বড়, তখন প্রত্যাশা
    নিবিড় ছুরির ধারে ছিঁড়েছে আমাকে
    চিলেকোঠা ঘর ছুঁয়ে এভাবে কী কেউ বসে থাকে?
    এক দিনে হয়ে যায় সব ঋণ শোধ?
    জলা জমি ঘেঁষে থাকা শ্যাওলার গায়ে পড়ে দুপুরের রোদ
    বিকেল গড়িয়ে যায়
    সন্ধ্যায়
    জানলার কাচে এসে জমা হয় একমুঠো চাঁদ
    তখন বিষাদ
    গভীর কুয়োর জলে কান পেতে বুঝে ফেলে রাতচরা পাখিদের ভাষা
    অস্থির ছিলাম বড়... তাই বুঝি এখনো প্রত্যাশা...”।

    [এখানে ব্যবহৃত কবিতা পঙতিগুলি আমার এক প্রিয় কবি সাগরনীল -এর লেখা বিভিন্ন কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতাগুলির নাম যথাক্রমে –
    যে যার পাড়ায়, কালভার্ট, ডায়েরী - ৩রা আগস্ট ২০১২, চেনো না কি তাকে?, সে না কি আমাকে পদ্ম চেনাবে, যদি এ বৃষ্টিও থেমে যায়, দু'হাজার দশে]

    ... ক্রমশঃ
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৮ মে ২০১৪ | ৯৬ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • সুকান্ত ঘোষ | 212.160.18.19 (*) | ১৮ মে ২০১৪ ০৬:৩৮73247
  • বেশ কিছু দিন পর আর এক পর্ব দিলাম। আগের পর্ব গুলি গুরুচন্ডালিতেই আছে এদিক ওদিক।
  • ranjan roy | 24.99.98.184 (*) | ২০ মে ২০১৪ ০৭:২৫73248
  • খুব ভালো লেগেছে। চালিয়ে যান।
  • সিকি | 131.241.127.1 (*) | ২০ মে ২০১৪ ০৮:২৫73249
  • দিব্য লাগল।
  • Avik | 111.62.5.161 (*) | ২৩ মে ২০১৪ ০৮:৪৩73250
  • খুব ভালো লাগলো। সাবলীল লেখা। ঝরঝরে। আশা করব আরো নতুন কিছু পাবার।
  • banani | 122.79.38.34 (*) | ২৭ মে ২০১৪ ০১:৩৫73251
  • এশ লগ্লো।।।চলিয়ে জান গুরু
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত