• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বিজ্ঞানের কষ্টসাধ্য সূক্ষ্মতা প্রসঙ্গে

    Debasis Bhattacharya লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১৭৬ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • [মূল গল্প - Del rigor en la ciencia (স্প্যানিশ), ইংরিজি অনুবাদে কখনও ‘On Exactitude in Science’, কখনও বা ‘On Rigour in Science’ । লেখক Jorge Luis Borges (বাংলা বানানে ‘হোর্হে লুই বোর্হেস’) । প্রথম প্রকাশ – ১৯৪৬ । গল্পটি লেখা হয়েছে প্রাচীন কোনও গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার ভাণ করে, এবং সেহেতু শেষে একটি ভুয়ো সূত্রনির্দেশও দেওয়া আছে । সেই প্রাচীনগন্ধী মেজাজটি অক্ষুণ্ণ রাখতে অনুবাদের গদ্যটিকে কিঞ্চিৎ ‘আর্কায়িক’ রূপ দিতে হল । এ গল্পটি সেই অর্থে কল্পবিজ্ঞান নয়, তবে, হয়ত বা বিজ্ঞান নিয়ে । বাস্তবতা, বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও তার ব্যাবহারিক কার্যকারিতার মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে কিছু শৈল্পিক কল্পনার খেলা এখানে আছে । তা ছাড়া, কল্পবিজ্ঞানের একটি সাহিত্যতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যও এখানে আছে বলে মনে হয় । কল্পবিজ্ঞান-সমালোচকরা বলেন, কল্পবিজ্ঞান হল এক রকমের ‘অ্যাজ ইফ লিটারেচার’, অর্থাৎ, যে সাহিত্যে নিজেকে অন্য কোনও এক স্থান-কাল-পাত্রে, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-সমাজের বিকাশের অন্য কোনও এক স্তরে বসিয়ে কল্পনা করা হয় । এখানেও কি তা ঘটছে না, কিছুটা হলেও ? ]

    ............ অত্র সাম্রাজ্যে মানচিত্র-নির্ম্মাণশিল্প এমন প্রচণ্ড সূক্ষ্মতায় উপনীত হইয়াছিল, যাহাতে একটি প্রদেশের মানচিত্র হইত একটি নগরের সমান, এবং সমগ্র সাম্রাজ্যের মানচিত্র অধিকার করিত অন্যূন একটি প্রদেশ । তাহার পর, ক্রমে সেই অমিতাকার মানচিত্রও আর যথেষ্ট সন্তোষজনক বলিয়া গণ্য রহিল না, এবং মানচিত্রশিল্পীমণ্ডলী শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যের সম্পূর্ণ সমান আকারের এক মানচিত্র প্রস্তুত না করিয়া ক্ষান্ত হইল না --- যে মানচিত্রের প্রতিটি বিন্দু নাকি সাম্রাজ্যের প্রতিটি বিন্দুর সাথে সাযুজ্য রক্ষা করে । কিন্তু, তাহাদের উত্তরসূরীদের মধ্যে সেই প্রবল মানচিত্রনির্ম্মাণপ্রেম পাণ্ডুর হইয়া আসিল । উত্তরসূরীরা সেই সুবৃহৎ মানচিত্রকে নিতান্ত অকর্ম্মণ্য জ্ঞান করিয়া, এবং তাহার প্রতি সম্পূর্ণ অনুকম্পাশূন্য হইয়া, তাহাকে তাপ ও শৈত্যের নির্দ্দয়তার হস্তে সমর্পণ করিল । পশ্চিমের মরুদেশে সে মানচিত্রের শতচ্ছিন্ন ধ্বংসাবশেষ আজও বিরাজ করিতেছে, বন্যজন্তু ও ভিক্ষুক সংশ্রবে । সমুদয় সাম্রাজ্যে আজ আর ভৌগোলবিদ্যার সে অতীত গৌরবের অন্য কোনও চিহ্ন অবশিষ্ট নাই ।

    ---- সুয়ারেজ মিরান্দা, মহাজ্ঞানীর ভ্রমণবৃত্তান্ত, পুঁথিচতুর্থী, পঞ্চচত্বারিংশাধ্যায়, লেরিদা, ইস্পাহান, ১৬৫৮
  • বিভাগ : ব্লগ | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১৭৬ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debasis Bhattacharya | 015612.129.5667.171 (*) | ০১ অক্টোবর ২০১৮ ০১:২৪61829
  • বোর্হেস সায়েবই যদি যবনিকা ফেলে দেন, তবে আমার মত এক তুশ্চু বাঙালি অনুবাদক কী করে বলুন দিনি ?
  • এলেবেলে | 230123.142.1278.181 (*) | ০১ অক্টোবর ২০১৮ ০৪:১৪61830
  • ২০১৩তে এবং মুশায়েরা বর্হেস-এর 'সমগ্র গল্প' প্রকাশ করে। সেখানে 'বিজ্ঞানে যাথার্থ্য' শিরোনামে শেখর বসু On Exactitude in Science গল্পটির যে অনুবাদ করেন তা এইরকম -

    ... মানচিত্র অঙ্কনে দক্ষতা সেই সাম্রাজ্যে এমন এক শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছেছিল যে, একটি প্রদেশের মানচিত্র গোটা শহরের সব জায়গাই দখল করে নিয়েছিল, এবং সাম্রাজ্যের মানচিত্র ঢেকে ফেলেছিল সমগ্র প্রদেশকে। কিন্তু ওইসব মস্ত মানচিত্রও পুরোমাত্রায় সন্তোষ আনতে পারেনি, তখন মানচিত্র সংগঠন সাম্রাজ্যের এমন একটি মানচিত্র তৈরি করল যেটি সাম্রাজ্যের আকৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রের অনুরূপ হয়েছিল। পরবর্তী প্রজন্মগুলির মধ্যে কিন্তু পূর্বপুরুষদের ওই মানচিত্র অধ্যয়নের ঝোঁক ছিল না। সুবৃহৎ ওই মানচিত্র তাদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছিল। কোনওরকম দয়ামায়া না দেখিয়ে সেগুলি বাতিল করেছিল ওরা। রোদে এবং শীতে জীর্ণ হতে শুরু করেছিল ওগুলো। পশ্চিমের মরুভূমিতে ওই সব মানচিত্রের ধ্বংসাবশেষ এখনও দেখতে পাওয়া যায়। ওগুলি এখন জন্তুজানোয়ার ও ভিখারিদের আস্তানা; ওই দেশে ভৌগোলিক শাখার আর কোনও অস্তিত্ব নেই এখন।

    ভুয়ো সূত্রনির্দেশ এইরকম - সিয়ারে মিহ্রান্দা, ভিয়াজ দ্য ভাহ্রোন, ৪র্থ XLV অধ্যায়, প্রকাশক লেহিদ্রা, ১৬৫৮

    আমার মতে গল্পটির যে অনুবাদ দেবাশিস্‌বাবু করেছেন তা অনেক বেশি চিত্তাকর্ষক আর সূত্রনির্দেশটি তুলনাহীন।
  • বিপ্লব রহমান | 340112.231.126712.74 (*) | ০১ অক্টোবর ২০১৮ ০৪:১৮61828
  • তাহার পর? শুরু না হইতেই যবনিকা যে বড়?
  • Debasis Bhattacharya | 340112.242.9008912.139 (*) | ০১ অক্টোবর ২০১৮ ০৫:৫৬61831
  • ধন্যবাদ এলেবেলে, আপনারা সমর্থন জোগালে আমার মত অ-সাহিত্যিক কিছু বল পায় শরীরে ।

    আমি কিন্তু মূল স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করিনি, ঐ ভাষাটা জানিইনা, ইংরিজি অনুবাদ থেকেই করেছি । ভূমিকায় বলে দেওয়া উচিত ছিল, ভুলে গেছি । বোর্হেসের ফিকশন সমগ্রতে ইংরিজি অনুবাদে এটি প্রথম পড়েছিলাম, কিন্তু এখন সে বই হাতে নেই, এখন নেট থেকে নিয়ে করলাম, ঠিক এটাই বইতে পেয়েছিলাম ।

    'এবং মুশায়েরা'-র এই প্রকাশনাটির কথা জানতাম না, তবে তো দেখতে হয় । এটি এখানে পুরোটা টাইপ করার কষ্টস্বীকার করলেন, আবারও অনেক ধন্যবাদ । বোর্হেসের যে গল্পসংকলনটি 'নান্দীমুখ' প্রকাশ করেছে, সলিলদার (বিশ্বাস) চমৎকার অনুবাদে, সেটি আমি পড়েছি, তবে তাতে অণুগল্প একটিও আছে বলে মনে পড়েনা ।

    শেখর বসুর অনুবাদটি মোটের ওপর চলনসই লাগল, কিন্তু সূত্রনির্দেশটা অমন কেন ? প্রথমত, ভুয়ো বইটির নাম ছিল "Viajes de varones prudentes", অনুবাদক শেষের শব্দটি বাদ দিয়েছেন দুর্বোধ্য কোনও কারণে । ওটা ছাড়া অর্থটাই তো আসবে না ! দ্বিতীয়ত, "Libro IV" থেকে Libro বা 'গ্রন্থ' শব্দটি (আমার আর্কাইক অনুবাদে 'পুঁথি') বাদ দিয়ে শুধুই "৪র্থ" রেখেছেন, তাতে কী সুবিধে হয়েছে বোঝা গেল না । তৃতীয়ত আরেকটি কথা আছে, যা ফ্রেঞ্চ এবং স্প্যানিশ না জেনে মোটেই বলা উচিত নয়, কিন্তু নিষিদ্ধ কর্মটি করার জন্যে আমার আঙুল নিশপিশ করছে । অনুবাদক যেভাবে স্প্যানিশ নামের বাংলা প্রতিবর্ণীকরণ করেছেন সেটি কি যথার্থ ? আমার সন্দেহ হচ্ছে, স্প্যানিশের প্রতিবর্ণীকরণটি তিনি ফরাসি ভাষার মত করে করেছেন । ফরাসি ভাষায় যেমন অক্ষর ও উচ্চারণের সম্পর্ক ভীষণ গোলমেলে, স্প্যানিশে তা মোটেই নয়, সেখানে উচ্চারণ পুরোপুরি আক্ষরিক । "Viaje" (ভ্রমণ) শব্দটির ফরাসি উচ্চারণ হওয়া উচিত 'ভিয়াজ', যা এখানে রয়েছে । ফরাসি ভাষায় 'j'-র উচ্চারণ ইংরিজির মতই, এবং শেষ বর্ণটি উচ্চারিত হয়না । স্প্যানিশে কিন্তু 'j'-র উচ্চারণ 'হ'-র মত, এবং শেষ বর্ণ উচ্চারিত হবে, ফলে উচ্চারণ দাঁড়াবে 'ভিয়াহে' । কেউ কি আলো দেখাবেন ?
  • এলেবেলে | 230123.142.1278.181 (*) | ০১ অক্টোবর ২০১৮ ০৭:৫৪61832
  • আরে ধন্যবাদের কিছু নেই। অতি ছোট গল্প, টাইপ করায় আর কী কষ্ট?

    আমি তো বলেইছি আপনার অনুবাদটি অনেক বেশি চিত্তাকর্ষক। ১৬৫৮-র ভাষা অমন চলতি ছিল নাকি? আপনি যে 'প্রাচীনগন্ধী মেজাজটি অক্ষুণ্ণ রাখতে' 'মানচিত্র-নির্ম্মাণশিল্প'-র বানানে 'র্ম্ম' ব্যবহার করেছেন সেটা নজর এড়ায়নি। অত্যন্ত দক্ষ প্রয়োগ।

    শেখর বসুর সবচেয়ে ওঁচা জায়গা হচ্ছে ওই সূত্রনির্দেশ। মূল গল্পের Suarez Miranda, Viajes de Varones, Libro IV. Chap. XLV, Lerida, 1658 কে প্রায় আক্ষরিক অনুবাদ করে ছেড়ে দিয়েছেন! আমিও স্প্যানিশ জানি না (বাংলা ছাড়া আর কিছুই জানি না এবং সেটাও যে ভালো জানি তা নয়), তবে 'ভিয়াহে' একদম সঠিক উচ্চারণ। এটা শুনুন।
    https://www.howtopronounce.com/spanish/viaje/
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০১ অক্টোবর ২০১৮ ০৮:১৭61833
  • এবারে ঐ চাকতির গল্পটা হয়ে যাক। ওই যে, যে চাকতির একটাইমাত্র দিক। তারপরে ঐ বইটার গল্পটা, যার দুই মলাটের মধ্যে অসীম সংখ্যক পৃষ্ঠা।
  • Debasis Bhattacharya | 5645.64.012323.125 (*) | ০২ অক্টোবর ২০১৮ ০৩:৪৭61834
  • এলেবেলে, উনি সূত্রনির্দেশে অনুবাদটা আদৌ করলেন কোথায়, স্প্যানিশ কথাটাই তো বাংলা বানানে সোজা বসিয়ে দিলেন, তাও আবার ফরাসি উচ্চারণ-রীতিতে, এবং একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বাদ দিয়ে !
  • Debasis Bhattacharya | 5645.64.012323.125 (*) | ০২ অক্টোবর ২০১৮ ০৪:৪৫61835
  • Atoz, এই সিরিজে বোর্হেস আর করব না ভাবছি, ফেরত যাব কল্পবিজ্ঞানে । বোর্হেসের সাহিত্যিক মূল্য অনেক বেশি, কিন্তু আমি কাজ করি সাহিত্যের তাড়নায় নয়, যুক্তিবাদ চর্চার অংশ হিসেবে । বোর্হেসের গল্পে বিজ্ঞান-গণিত-যুক্তি এসব নিয়ে দার্শনিক ও শৈল্পিক খেলা অনেকই আছে, কিন্তু সেগুলো পেশ করা হয়েছে মিথিক্যাল-অকাল্টিক ফর্ম্যাট-এ । 'ওদিন-এর চাকতি' এবং 'বালির বই'-তেও, যেগুলোর কথা আপনি বললেন, ব্যাপারটা ঠিক তাইই (সম্ভবত আমার অনূদিত এই গল্পটিই একমাত্র ব্যতিক্রম) । ফলে, আলাদাভাবে একটা বিশুদ্ধ সাহিত্যিক বা ক্রিটিক্যাল উদ্যোগ যদি না নিই, তো আমার পক্ষে সে সবে হাত দেওয়া খুব কঠিন । অবশ্য, আপনি হয়ত বলবেন, সায়েন্স ফিকশন-এও লুকোনো পৌরাণিকতা আর অলৌকিকতা ভুরি ভুরি আছে, এবং আমি তৎক্ষণাৎ একমত হব । আধুনিক সায়েন্স ফিকশন-এ 'প্যারাসাইকোলজি' নামক গালভরা বিজ্ঞানগন্ধী ট্যাগ-এর আড়ালে অলৌকিকতা অবশ্যই থাকে, এবং সেটা আজ এই গোত্রের সাহিত্যকর্মের এক অতি স্বীকৃত ফর্ম্যাট-ই বলা যায়, কিন্তু আমি সেগুলো এড়িয়ে চলি, গল্প হিসেবে সে যতই ভাল হোক না কেন । লক্ষ করবেন, এ সিরিজে একটিও তেমন গল্প নেই এবং থাকবে না । আমি আগেও গল্প অনুবাদ করেছি, নিজেও দুয়েকটা লেখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু যুক্তি ও বিজ্ঞানবোধকে কখনও অতিক্রম করিনি । অনেকদিন আগে একটি মাত্র তেমন গল্প লিখেছিলাম, যা কখনওই কোথাও প্রকাশ করিনি । তবে, বোর্হেসের সাথে আধুনিক কল্পবিজ্ঞান-সাহিত্যের তুলনামূলক আলোচনা খুবই শিক্ষাপ্রদ হতে পারে বলে মনে করি । এ বিষয়ে আমার আগের পোস্ট-এর মন্তব্যে যা বলেছিলাম, তার অংশবিশেষ নিচে কপি-পেস্ট করছি ।
  • Debasis Bhattacharya | 5645.64.012323.125 (*) | ০২ অক্টোবর ২০১৮ ০৪:৪৮61836
  • আগের পোস্ট-এর মন্তব্যে যা বলেছিলাম --- "বোর্হেস-কে পাশে রেখে কল্পবিজ্ঞান-পাঠ অনেক অন্তর্দৃষ্টি জোগাতে পারে বলে মনে হয় । বোর্হেস-এর গল্পে বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক অন্তর্বস্তু কম নেই । উড়ন্ত পাখিদের সংখ্যা বিষয়ক অনিশ্চয়তা থেকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিরূপণ, চিতাবাঘের চামড়ার অদ্ভুত রঙিন নকশা যাকে গুপ্তমন্ত্র বলে মনে হয়, পাথরের অদ্ভুত নুড়ি যাদেরকে পাটিগণিত কষার কাজে ব্যবহার করা যায় না, ক্রমশ নিখুঁত ও বৃহৎ হতে হতে অকার্যকারিতার সীমানায় চলে যাওয়া মানচিত্র-নির্মাণ-প্রকৌশল, মাত্র একটি দিকেরই অস্তিত্ব আছে এইরকম দ্বিমাত্রিক চাকতি, মরুবাসী ক্ষুদ্র জনজাতি-গোষ্ঠীদের গুপ্ত ধর্মগ্রন্থ যাতে সসীম দুই মলাটের মাঝে ধরা আছে অসীম সংখ্যক পৃষ্ঠা --- এইসব অসাধারণ কনসেপ্ট-কে তিনি প্রায়শই পেশ করেছেন এক অদ্ভুত মিথিক্যাল-অকাল্টিক ফর্ম্যাটে । অপর দিকে, কল্পবিজ্ঞানের জনপ্রিয় দৃষ্টান্তগুলোতে প্রায়শই ঘটে ঠিক উল্টোটা --- মিথিক্যাল-অকাল্টিক থিম-কে পেশ করা হয় সায়েন্টিফিক ফর্ম্যাটে । যদিও একজন যুক্তিবাদী হিসেবে আমি এই ধরনের কল্পবিজ্ঞান মোটেই অনুবাদ করিনা, কিন্তু কেন এ রকম ঘটে তা নিয়ে তাত্ত্বিক চর্চা অতি জরুরি মনে করি ।"
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০২ অক্টোবর ২০১৮ ০৮:৫০61837
  • ওই একটিমাত্র দিকওয়ালা দ্বিমাত্রিক চাকতির গল্প আর সীমার মাঝে অসীম পৃষ্ঠার বইয়ের গল্প জানতে ইচ্ছে করছে যে! ঃ-)
  • Debasis Bhattacharya | 340112.51.9004512.27 (*) | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ০২:২৮61838
  • অনুবাদ তো করতে পারছি না, কাজেই হয় লিঙ্ক নয় স্পয়েলার । কোনটা চাই ?
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ০২:৩২61839
  • আহা অনুবাদই করে ফেলুন না হয়, আপনার অমন সুন্দর ভাষায়। ঃ-)
  • Debasis Bhattacharya | 340112.51.9004512.31 (*) | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ০৪:০৮61840
  • Atoz, আমার ভাষাকে সুন্দর বললেন, অনেক ধন্যবাদ, কিন্তু এখানে ওই অনুবাদ দুটো আর পেরে উঠব না বন্ধু । গল্পদুটো ছোট করে বলে দিচ্ছি ।

    'চাকতি' গল্পটিতে এক বনবাসী দরিদ্র কাঠুরের ছিন্ন কুটিরে এসে আশ্রয় চায় এক বৃদ্ধ, যে দাবি করে যে সে দেবতা 'ওদিন'-এর বংশধর (নরওয়ের পুরাণে যুদ্ধদেবতা 'থর'-এর ছেলে ওদিন) । তার কাছে আছে অলৌকিক এক চাকতি, যার মাত্র একটা দিকেরই অস্তিত্ব আছে । মুঠোর মধ্যে সেটিকে চকচক করতে দেখে কাঠুরে লোভে পড়ে এবং সেটা চায়, কিন্তু বৃদ্ধ দেয় না । কাঠুরে পেছন থেকে কুড়ুল মেরে তাকে খুন করে সেটা নিতে যায়, কিন্তু তার হাত থেকে মেঝেতে পড়বার সময় সেটা উলটে যায়, এবং মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অস্তিত্ব থেকে মুছে যায় ।

    'বালির বই' গল্পে কথক এক পুরোনো জিনিসপত্রের ফেরিওয়ালার কাছ থেকে সংগ্রহ করেন মরুবাসী এক উপজাতিগোষ্ঠীর গুপ্ত তন্ত্রশাস্ত্রগ্রন্থ, যাতে সসীম দুই মলাটের মধ্যে আছে অসংখ্য পৃষ্ঠা, ফলে বই একবার বন্ধ করে আবার খুললে কখনওই আগের পাতাটি আর ফিরে আসেনা । জীবন-গ্রন্থটির অন্তর্নিহিত অসীমতার এই অকস্মাৎ উপলব্ধি তাঁকে অত্যন্ত আশঙ্কিত করে তোলে, এবং শেষপর্যন্ত তিনি বইটি এমন এক জায়গায় লুকিয়ে রাখেন, যাতে কেউ আর তা কোনওদিন খুঁজে না পায় ।

    এভাবে যদিও প্রায় কিছুই বলা হল না, তবু ............
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ০৪:১১61841
  • নর্সপুরাণে ওডিন থর এর বাবা। ওডিন আদি দেবতা।
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ০৪:১৩61842
  • গল্প দুটো চমৎকার। অনেক ধন্যবাদ।
    এই থীমে ভালো ভালো কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস সম্ভব।
  • Debasis Bhattacharya | 340112.51.9004512.12 (*) | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ০৫:৫৯61843
  • অ, ওদিন-ই তবে থর-এর বাবা ? এই র‍্যা, মাইথলজি গুইলে ঘেঁইট্টে ফেলিসি নি ?

    হ্যাঁ, আমি পুরোপুরি একমত, এই থিম দিয়ে ভালো ভালো কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস সম্ভব।
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ০৬:১২61844
  • হ্যাঁ, ওডিন আদিদেবতা। ওঁর অনেক ছেলেমেয়ে, প্রায় সবাই দেবতা। যুদ্ধদেবতা থর একজন বিখ্যাত ছেলে।

    ওই মাত্র একটি দিকওয়ালা মিলিয়ে যাওয়া চাকতির থীমে নানারকম ম্যানিফোল্ড, বয়'জ সারফেস, টেসেরাক্ট, কালাবি ইয়াউ, টোরাস ইত্যাদি বহুকিছু ঢুকিয়ে বিপুলবিস্তারী কল্পবিজ্ঞান কাহিনি হতে পারে।

    আর ঐ পাল্টে যাওয়া পৃষ্ঠাওয়ালা বই নিয়ে তো কোয়ান্টামের মেনি ওয়ার্ল্ড ইন্টারপ্রিটেশন এর উপরে বহুমাত্রিক কাহিনি হতে পারে।
  • Debasis Bhattacharya | 340112.51.9004512.12 (*) | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ০৭:২৮61845
  • অপেক্ষা কীসের, কইর‍্যা ফালান তয় !
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ০৭:৪৪61846
  • আরে, সে তো করবেন আপনারা! যুক্তিবাদের চর্চাও হল, সাহিত্যও হল, বোর্হেসও হল, বিজ্ঞানও হল, লোকশিক্ষেও হল। যাকে বলে, পাথরে পাঁচ কিল।
    ঃ-)
  • Debasis Bhattacharya | 015612.129.5667.247 (*) | ০৪ অক্টোবর ২০১৮ ০৫:২৫61847
  • বুঝলুম, কিন্তু ওই প্যারানর্ম্যালিটির জায়গাটায় একটু ব্যথা আছে যে !
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০৪ অক্টোবর ২০১৮ ০৭:৫৪61848
  • প্যারানর্মাল রাখবেন না, নর্ম্যাল করে দেবেন, ব্যস্‌, সমস্যা সমাধান। ঃ-)
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৮ ০২:১৩61850
  • আহা, বোর্হেস তো "অনুপ্রেরণা", লেখা তো আপনার! ঃ-)
  • Debasis Bhattacharya | 340112.242.9008912.184 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৮ ০২:৫৮61849
  • বোর্হেস ভক্তেরা ঠ্যাঙাবে য্যা !
  • Debasis Bhattacharya | 561212.187.4534.238 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৮ ০৬:৪০61851
  • দিদি যদ্দিন আছেন, অন্য আর কেউ অনুপ্রেরণা হতে পারবে না, বড়জোর অনুব্রত হতে পারে । ।
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৮ ০৭:৩২61852
  • নাহয় শুরুতে দিদিকে পেন্নাম ঠুকে দুছত্তর লিখে দেবেন।
    "বোর্হেস বোর্হেস বোর্হেস -
    বল্‌ দেখি তোর কেস? "
    ঃ-)
  • Debasis Bhattacharya | 340112.242.9008912.242 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৮ ০৮:১২61853
  • হ্যাঁ, এ জীবনে ওটাই বাকি ছিল
  • Debasis Bhattacharya | 340112.242.9008912.152 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৮ ০৩:০৯61856
  • এতসব তথ্য কী স্রেফ 'অনুপ্রেরণা'-র সূত্রেই ?
  • The Daily Odhikar | 340123.202.124523.149 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৮ ০৮:৪৩61854
  • পৃথিবীতে টমাস আলভা এডিসনের পর যে মানুষটি সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রতিদিনের জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন তিনি স্টিভ জবস। ম্যাক, আইফোন ও আইপডের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিস্ময়ের উদ্ভাবন করেছেন তিনি। কম্পিউটারকে সহজ ব্যবহারবান্ধব করাসহ এক হাজারেরও বেশি পণ্যের উদ্ভাবন রযেছে তাঁর।

    বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই উদ্ভাবক ডিজাইনার স্টিভ জবসের প্রয়াণ দিবস ৫ অক্টোবর। অ্যাপলের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা ২০১১ সালে এই দিনে ৫৬ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলতোয় মারা যান।

    জবস ছিলেন অসম্ভব মেধাবী সৃজনশীল উদ্যোক্তা। তাঁর নেশা ছিল ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি), অ্যানিমেটেড মুভিস, গান, ফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার এবং ডিজিটাল প্রকাশনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন করা।

    জবস আরেক কারণে হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে থাকবেন। সেটি তার একটি অসামান্য বক্তৃতার জন্য। ২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ১০ মিনিট ধরে এক বক্তৃতা দেন । পৃথিবীজুড়ে লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এ বক্তৃতাটি আজও সবাইকে অণুপ্রেরণা যোগায়।

    হ্ত্ত্পঃ//্ব।ওধিকর।নে্স/িএেঅন্দ্তেচ/২০৪৭৩/
  • The Daily Odhikar | 340123.202.124523.149 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৮ ০৮:৪৩61855
  • পৃথিবীতে টমাস আলভা এডিসনের পর যে মানুষটি সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রতিদিনের জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন তিনি স্টিভ জবস। ম্যাক, আইফোন ও আইপডের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিস্ময়ের উদ্ভাবন করেছেন তিনি। কম্পিউটারকে সহজ ব্যবহারবান্ধব করাসহ এক হাজারেরও বেশি পণ্যের উদ্ভাবন রযেছে তাঁর।

    বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই উদ্ভাবক ডিজাইনার স্টিভ জবসের প্রয়াণ দিবস ৫ অক্টোবর। অ্যাপলের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা ২০১১ সালে এই দিনে ৫৬ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলতোয় মারা যান।

    জবস ছিলেন অসম্ভব মেধাবী সৃজনশীল উদ্যোক্তা। তাঁর নেশা ছিল ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি), অ্যানিমেটেড মুভিস, গান, ফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার এবং ডিজিটাল প্রকাশনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন করা।

    জবস আরেক কারণে হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে থাকবেন। সেটি তার একটি অসামান্য বক্তৃতার জন্য। ২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ১০ মিনিট ধরে এক বক্তৃতা দেন । পৃথিবীজুড়ে লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এ বক্তৃতাটি আজও সবাইকে অণুপ্রেরণা যোগায়।

    http://www.odhikar.news/scienceandtech/20473/
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত