এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

    San Gita লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৬ মে ২০১৭ | ১০৮৯ বার পঠিত
  • পুঁটির জীবনে শান্তি নেই। কারো বাড়ির লোক যে এরকম শত্রুতা করতে পারে, না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল! মা, বোন তো বটেই! এমনকি বাবা, মামা, মাসি, কাকা, পিসি- কত নাম আর নেওয়া যায়!! ভাল্লাগে না!! বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না!

    আচ্ছা, ছোটবেলা থেকে কি সবাই বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলে? কত বাচ্চাই তো কত কিছু বলে। সেটা আঁচলে শক্ত করে গিঁট দিয়ে রেখে কার বাড়ির লোক সারাটা জীবন এমন দুর্বিষহ করে তোলে, শুনি? তাও তেমন কিছু না। জোরে বৃষ্টি পড়লে ছোট বাচ্চা বললই নাহয় "কী মুছলমান ধারায় বিত্তি পচ্চে!", বা হিন্দিভাষী বন্ধুর থেকে প্রভাবিত হয়ে "বালিশ হো রহা হ্যায়" তাতে কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হল যে চেনা তো চেনা, সদ্য আলাপ হওয়া, এমনকি অচেনা লোক ডেকে ডেকে তাকে দিয়ে বলানো হত "খুব জোরে বৃষ্টিকে কী যেন বলে, সোনা? কিছুতেই মনে পড়ছে না।" আর সেও কিনা সরল মনে তাদের হাজারবার মনে পড়িয়ে দিয়েছে। কিম্বা ধরুন কেজি ক্লাসে সে পাশে বসা দেবযানী ভট্টাচার্য্যকে দেজ্জামি ঘট্টাচাজ্জো বলত। বা বাউল গানকে বলত বাবুল গাম। মামাতো দিদির স্কুলের নামটা নব নালন্দা বিদ্যামন্দির না বলে বলত নব নিমন্দা বিমন্দা, মহাভারত আর মহালয়াকে মোগাভারোত আর মোগালয়া। আরো আছে টুকটাক। সো হোয়াট?

    সেইসব গল্প এখনও, ভাবতে পারেন এখনও জনে জনে বলা হয়- নতুন জামাইবাবুদের, নিজের হবু বরকে, মায় সদ্য বিয়ের পরে ওদিককার শ্বশুর-শাশুড়িদের আর ছোট ছোট দেওর-ননদদেরও। গল্প যেন কম পড়িয়াছে! ছিঃ!! এও যদি ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়, তবে আর কোনটা ক্ষমতার অপব্যবহার? মান-সম্মান পুরো ধুলোয় গড়াগড়ি।

    সবাই জানে যে, হাসপাতালের গন্ধে তার গা গোলায় বলে মা যখন নার্সিং হোমে ভর্তি ছিল, সে ওপরে উঠত না। একদিন শুধু লিফ্টে উঠে মায়ের কেবিনে উঁকি দিয়েই কথা-টথা না বলে ফিরতি লিফ্টে চোঁ-চাঁ করে নেমে এসেছিল। আর পুঁটির বন্ধু চন্দ্রিমার যেবার ছানা হয়, পুঁটি তখন বেশ বড়, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশানের সময়, তাকে দেখতে গিয়েই পুঁটি যায় যায়! বাড়িতে বেমালুম চেপে গিয়েছিল। কিন্তু বিধি বাম! রাতে কাকীমা ফোন করে "পুঁটির শরীর এখন ভালো তো?" বলেই দিলেন বারোটা বাজিয়ে। তাতেই বা এতো কী হাসির খোরাক থাকতে পারে, পুঁটির তো বোধগম্য হয় না!

    শুধু হ্যাহ্যাহ্যাহ্যা আর হিহিহিহি। গাম্ভীর্য কথাটার মানেও বোধ হয় এরা জানে না। নিজেরা কত বীর সব জানা আছে! মাসি শ্বশুরবাড়ি যাবার আগে তাকে সাজানো হচ্ছে, একবার মাথা ডানদিকে ঢলে পড়ছে, একবার বাঁদিকে, হ্যাঁ রে বাবা, ক্ষণে ক্ষণে। ওদিকে দিদাও অন্য ঘরে সামান্য কম ফ্রিকোয়েন্সিতে লুটোচ্ছেন। সেবার কেমন করে যেন মা নিজেকে সামলেছিল, নইলে উনি তো আবার এসবের চ্যাম্পিয়ান।সেই বেলা?

    একবার পাড়া থেকে পিকনিকে যাওয়া হল। বোটিংএর ব্যবস্থাও ছিল। খুব মজা হয়েছিল। প্রচুর খেলাধুলা, গপ্পো-আড্ডা, খাওয়াদাওয়া। রোদ পড়তে পুঁটি আরো বন্ধুদের সাথে গেল বোটে চড়তে। পা দিতেই বোটটা এমন টলমল করে উঠল যে পুঁটি গেল টোটাল ঘাবড়ে। ঝপ করে নৌকার ধারটায় হাত দিয়ে সাপোর্ট নিতে গেল, আর কেমন করে ধাক্কা লেগে একটা নখ গেল উল্টে। সে কী রক্ত! তখনও পুঁটি নার্ভাস হয়নি, জনে জনে বলছে "নখটা একটু সোজা করে দাও না!" সবার চোখ গোল! আর মা পাঁইপাঁই করে পুঁটির উল্টোদিকে হাঁটছে। এই তো সব সাহসী! সব চেনা আছে!! পুঁটি শুধু ডাক্তারের কাছে গিয়ে ধমকে বলেছিল যে, "ইঞ্জেকশান কিন্তু দিতে দেব না"। কিন্তু ডাক্তারবাবু যখন বোঝালেন যে, ইন্ফেকশান হলে আঙুল পর্যন্ত্য কাটতে হতে পারে, তখন তো সে এক কথায় রাজি হয়ে গেছিল, নাকি? ওষুধের দোকানের কম্পাউন্ডারকেও বিপদে ফেলে দিয়েছিল সেবার। সে বলেছিল "এখনও তো ইঞ্জেকশান নামাইই নি, কাঁদছো কেন?"

    সবেতেই শুধু ওদের হাসি পায়! আশ্চর্য্য! ছোট থেকেই পুঁটি একটু আহ্লাদী আর অভিমানী। তুলোর মত নরম মন তার, কথায় কথায় চোখে জল আসে আর কাঁদলে নাকি পুঁটির মুখটা এমন কার্টুনের মত হয় যে নিজের গর্ভধারিণী মা পর্যন্ত্য (হে ভগবান) হেসে লুটোপুটি!! তাও তো প্রথমবার কন্টাক্ট লেন্স নিতে গিয়ে কী হয়েছিল, লক্ষী সোনা বাবা সেটা চেপে গেছিল!

    কিন্তু সে বাবাও কি আর কম যায়? পুঁটি যখন দিল্লীতে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের বেশ ভালো ভালো চাকরি পেল, বাবাই তখন সবচেয়ে বেঁকে বসল। বলল "পোস্ট গ্র্যাজুয়েশান শেষ হয়নি, যাস না, এখানেও চাকরি পাবি। আমার কথা শোন! তোর চাকরির অভাব হবে না।" শেষমেশ পুঁটি স্টেট গভর্নমেন্টের চাকরি জয়েন করল। তখনও বাবা- মা সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের চাকুরে। ওদের ডিএ বাড়লে রেগুলার বাড়িতে খিল্লি- "দুঃখ করে আর কী করবি বল! তোদের ছুটি দেয় আর আমাদের টাকাপয়সা!" যাচ্ছেতাই সব!

    যাগ্গে, দুঃখের কথা আর কাকে বলবে পুঁটি? বললেই বা বুঝবে কে? জালিম দুনিয়া!! ঐ জন্যই তো পুঁটি এখন খুব চালাক হয়ে গেছে। কারো কাছে সহজে নিজের মনের কথা বলে না। ডাইরীর পাতায় লুকিয়ে লুকিয়ে লিখে রাখে। শুধু মরে যাওয়ার আগে ডাইরীগুলোর একটা গতি করে যেতে হবে। নাহলে, বলা যায় না, শত্রুর দল হয়ত বই করে ছাপিয়েই দিল। বুদ্ধির তো সব বৃহস্পতি!

    ©sangitaghoshdastidar
    #পুঁটিকাহিনী 2 - আহা আজি এ বসন্তে
    ------------------------------------------------------
    পুঁটির হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, এমতাবস্থায় সে প্রথম ছাত্রী পেটানোর সুযোগ পেল, পাড়াতেই। ক্লাস ফাইভের ছাত্রী, বাবা-মা বেরিয়ে যান বলে খুব বেশী সময় দিতে পারেন না। পুঁটি তো এক পায়ে খাড়া! কিন্তু বাবা-মা বিশেষ ইচ্ছুক নন। কাকীমা লেগে থেকে ওঁদের রাজি করালেন। আগে দূর থেকে দেখা ছিল ঠিকই, কিন্তু ছাত্রীর বাড়িতেই তাকে ভালো করে চেনা হল। পাঠক-পাঠিকা, নড়েচড়ে বসলেন নাকি? আহা!! বসন্তকাল, মধুমাস, তায় অষ্টাদশী পুঁটিরাণী (যতই খ্যাঁদাবোঁচা হোক, লোকে বলে দিব্যি মিষ্টি লাগত), প্রাণে তার ফুরফুর করছে পুলক আর ভুরভুর করছে প্রেমের সৌরভ- আমি আপনাদের জায়গায় থাকলে আমারও 'সে'টি কে জানার জন্য প্রাণ আঁকুপাঁকু করত বৈকি!! ছাত্রীর দাদা, না কাকা, নাকি খোদ বাবা?

    বলি তাহলে আপনাদের সব আশায় জল ঢেলে? সে হল ছাত্রীর দিদি, পিউ- সেও ISC দিয়ে বেকার বসে আছে, পুঁটিরই ব্যাচমেট। সে অবশ্য বেকার থাকার পাত্রী নয়। হাজার বন্ধু তার, তাদের সাথে বিস্তর ঘোরাঘুরি তার, মাঝেসাঝে খুব প্রিয় বন্ধুদের বাড়িতে থেকেও যেত। পুঁটির সাথে কথা কইত না মোটে। যে ঘরে পুঁটি পড়াত, সেই ঘরে আসত মাঝে মধ্যে- গম্ভীরভাবে। পুঁটি ছাত্রীর মন পাওয়ার জন্য পড়ার ফাঁকে গল্পও করত, কখনও বা দুজনে মিলে লম্বা খাতার মলাটের ক্রিকেটারদের ছবিতে গোঁফ, দাড়ি, লম্বা চুল বা টিপ যোগ করত (এই কাজটিতে পুঁটির আন্তরিক ইচ্ছে না থাকলেও ছাত্রীটির কাছে খাতা আসা মানে এটি ছিল অবশ্যকর্তব্য)। একদিন পিউ গাম্ভীর্যের প্রতীক হয়ে পড়ার ঘরে এল। উপরের খাতাটা তুলে আঁকাজোকা দেখল খানিকক্ষণ! তারপর দাপুটে স্বরে জানতে চাইল "কে করেছে এসব?" ছাত্রী বিনা বাক্যব্যয়ে পুঁটিকে দেখিয়ে দিল। পিউ বিরক্ত স্বরে বলল " টিচারের এই অবস্থা হলে স্টুডেন্টের কি অবস্থা হবে!! এই পড়াশুনা হচ্ছে!" সমবয়স্ক একটি কিশোরীর এহেন আচরণে পুঁটি তো হাঁ। মনে মনে ভাবল "কী উদ্ধত আর অসভ্য রে বাবা!" পরবর্তীকালে বন্ধুত্বের সময় যখন পিউয়ের ঐ ব্যবহারের মানে জানতে চেয়েছে, ও পরিষ্কার বলেছে "তখন আমি ছিলাম মালিক আর তুই আমার কর্মচারী!! ঠিক ব্যবহারই তো করেছি।" এইরকম বদ্ধ পাগল ছিল পিউ!

    পিউ সুন্দর ছেলে দেখলেই প্রেমে পড়ত! ঠিক ধরেছেন! এটা পিউয়ের প্রেমের গল্প।

    যথাসময়ে পুঁটি-পিউ দুজনেরই রেজাল্ট বেরল। পুঁটি ছাত্রীপেটানোয় ক্ষান্ত দিয়ে বাঁচল। কেন? সব ছাত্র-ছাত্রী কি আর মেধাবী আর বুদ্ধিমান হয়? এমনও তো হয় যাদের পড়াতে গেলে নিজের শেখা বিদ্যেও ভুলে যাওয়ার উপক্রম হয়! যাই হোক, ওরা দুজনে একই সাবজেক্ট নিয়ে আলাদা কলেজে ভর্তি হল। কিন্তু অনার্সের পড়ায় কারো সাহায্য পেলেই ভালো হয়। পিউ এখন অনেক সহজ, সে খোঁজখবর নিয়ে একজন স্যারের কথা বলল পুঁটিকে। পুঁটিও রাজি।

    পড়তে গিয়ে দেখা গেল যে, খুবই সুদর্শন স্যার একাধারে দুটি বিষয় পড়ান। প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী। কলেজেও উনি দুটি বিষয়ের পার্টটাইম শিক্ষক। পুঁটিরা নিতান্ত সংখ্যালঘু। অন্য বিষয়ের গাদা গাদা স্টুডেন্ট। স্যার ওদের বুঝিয়ে দিয়ে কাগজে হাতে লেখা নোট দেন, ওরা তাই টুকে আনে। একই সময় অন্যদলের নানা ইয়ারের স্টুডেন্টও পড়াচ্ছেন অর্থাৎ তাদের অল্প বুঝিয়ে নোট দিচ্ছেন।

    এখন হয়েছে কি, সল্ট লেকের এক আবাসনে স্যারের ছোট ফ্ল্যাট। সেখানেই অন্য অন্য ব্লকে তার প্রবাসী দাদার ও ছোট ভাইয়ের ফ্ল্যাট। তাই কোনদিন দাদার ফ্ল্যাটে, কোনদিন ভাইয়ের ফ্ল্যাটে, কোনদিন স্যারের ফ্ল্যাটে, কোনদিন বা ছাদে পড়ানো হতে লাগল। একসময় তো স্যারের শ্বশুরবাড়ি মানে সল্ট লেকের এক প্রাসাদোপম বাড়িতেও পড়তে যেতে হয়েছে। স্যারের প্রবাসী দাদার ফ্ল্যাটে স্যারের মা থাকতেন। সেখানে স্যারের দিদির ছেলেও থাকত বা খুবই যাতায়াত করত। সেও বোধহয় স্টুডেন্টই ছিল সেই সময়, কিন্তু সে ছিল যাকে বলে যাতা রকম হ্যান্ডসাম। সেই ৬ ফুট লম্বা মডেলের মত দেখতে তথাগত মুখার্জীকে দেখেই ৪ ফুট ১০ ইঞ্চির পিউ চ্যাটার্জী ( পুঁটিকে বিন্দুমাত্র চান্স না দিয়ে) হুড়মুড়িয়ে প্রেমে পড়ে গেল।

    পড়তে যাবার দিনগুলোয় একেকদিন পিউকে ডাকতে গিয়ে একেক রকমভাবে চমকাত পুঁটি- কোনদিন লং স্কার্ট-টপের সাথে লম্বা সিল্কি স্কার্ফ দিয়ে চুল বাঁধা, কোনদিন বা ঝলমলে শাড়ী পরণে পিউকে দেখে সাদামাটা পুঁটির চোখ কপালে! আর সারাদিন, সারারাত, বিশেষ করে সারারাস্তা পিউদেবীর সেকি টানটান উত্তেজনা!! আজ কোন ফ্ল্যাটে পড়া হবে কে জানে!! দেখা কি পাওয়া যাবে আজ "তার"! আর যদি কোনক্রমে অন্য ফ্ল্যাটে পড়া হত, তাহলে টোকার ফাঁকে ফাঁকে চলত গুজুরগুজুর শলাপরামর্শ- কোন অজুহাতে ঐ ফ্ল্যাটে যাওয়া যায় কিনা!! দিদার ফ্ল্যাটে পড়া হলেও তথাগতর দেখা পাওয়া যাবেই তার কোন গ্যারান্টি ছিল না।

    তথাগত কোনদিন তাদের খেয়ালও করেছে কিনা সন্দেহ, কিন্তু পিউ তাকে নিজের জীবনমরণ সবকিছু বলে ধরে নিয়েছে। একদিন স্যারের বাড়ির বাথরুমে ছোট ট্যান্ক ভরে জল উপচে পড়ছে, ফ্ল্যাটে স্যার নেই। পুঁটি হাত বাড়িয়ে সেই ট্যাপ বন্ধ করে দিতেই যাচ্ছিল। কিন্তু ওকে থামিয়ে পিউ ঝপ করে উঠে পড়ল কমোডের ওপর, এমনিতে তো হাত পৌঁছত না ওর। ঘেন্নায় মরে গিয়ে পুঁটি বলল- "এ আবার কী? আমি করছিলাম তো। ফট করে তুই ওখানে উঠে পড়লি কেন?" পিউ বলল- "আমার মামাশ্বশুরের বাড়ির কাজ আমি থাকতে তুই কেন করবি?"

    স্যারের মাথায় নানা অদ্ভুত অদ্ভুত বুদ্ধি খেলত। একবার মনে হল যে, ছেলেমেয়েগুলো এত দূর থেকে পড়তে আসে, এতক্ষণ থাকে, ওদের নিশ্চয়ই খুব ক্ষিদে পেয়ে যায়। একটা টিফিনের ব্যবস্থা করতে হবে, সেই বাবদ কিছু টাকা বাড়তি দেবে ছাত্র-ছাত্রীরা। তো সেইমত শুরু হল টিফিনপর্ব। রোজ কেউ না কেউ টিফিন ম্যানেজার হত, দোকানে গিয়ে তাকে কেক, মিষ্টি এসব নিয়ে আসতে হত। যেদিন পুঁটি-পিউ পড়তে যেত, সেদিন অবধারিতভাবে পিউই ম্যানেজার, ঐ সেই একই "মামাশ্বশুর" থিয়োরী অনুযায়ী!

    কী যে উথালপাতাল দিন সে সব! ফার্স্ট ইয়ার প্রায় শেষ হয় হয়, পিউর প্রেমপর্ব যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই। এমন সময় একদিন পিউ কলেজে একজনের কাছে মানেবই ধরণের একটা বই দেখল। আর কী আশ্চর্য, দেখা গেল যে স্যারের দেওয়া সমস্ত নোট ঐ বইতেই আছে। পুঁটি তো পুঁটি, পিউ পর্যন্ত রেগে টং!! এভাবে লোকঠকানো!! আর ঐমুখো হওয়া নেই, যথেষ্ট হয়েছে! পুঁটি পিউকে নিয়ে একটু চিন্তায় ছিল। কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল সেই বেশি চটিতং। ওরা নিজেরাই ন্যাশনাল লাইব্রেরী গিয়ে পড়াশুনা শুরু করল। সে আরেক দারুণ মজার পর্ব! যাই হোক, রেজাল্ট হল মোটামুটি! আর সেকেন্ড ইয়ারে উঠেই পিউ হাঁটু ভেঙ্গে এক সহপাঠীর প্রেমে পড়ল।

    তবে এইবার পুঁটি বন্ধুর প্রেমে ভাগ বসায় নি বলে যে সে কোনকালেই কোন বন্ধুর প্রেমে ভাগ বসায় নি এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই কিন্তু! কথাতেই তো আছে "everything is fair in ......" etc হেঁ হেঁ হেঁ!!

    ©sangitaghoshdastidar
  • ব্লগ | ০৬ মে ২০১৭ | ১০৮৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Sangita | 53.251.173.6 (*) | ০৬ মে ২০১৭ ০২:১১59737
  • ওহ!! থেন্কু!!
  • কান্তি | 113.57.238.235 (*) | ০৬ মে ২০১৭ ০৩:৩৪59738
  • এমন রসের ভাঁড়ার নিয়ে কোরছিলে কি? তাড়াতাড়ি চাই এবার।
  • Du | 57.184.47.34 (*) | ০৬ মে ২০১৭ ০৪:২০59739
  • হোক হোকঃ) পুঁটিকাহিনী জিন্দাবাদ!
  • San Gita | 53.251.173.6 (*) | ০৬ মে ২০১৭ ০৬:৩৫59740
  • আহা!! পুঁটি বিগলিত!!
  • kumu | 37.56.170.49 (*) | ০৬ মে ২০১৭ ০৬:৪৩59734
  • অসাধারণ!!পুঁদিচ্চেরী এক্কেবারে।২৭ বার পড়লাম।
    পরের কিস্তি দাও।
  • Sangita | 57.15.6.90 (*) | ০৬ মে ২০১৭ ০৭:১১59735
  • ২৭ বার!! কি সৌভাগ্য আমার!! রসিকচুড়ামণি কুমুদিদির হাত আমার মাথায় থাক!!
  • de | 192.57.55.17 (*) | ০৬ মে ২০১৭ ১১:৩৮59736
  • খুব ভালো হচ্চে রাত্তির! পরের পর্ব তাড়াতাড়ি আসুক!
    কতো দিন পর দেখলাম-
  • aranya | 83.197.98.233 (*) | ০৭ মে ২০১৭ ০১:৫৪59741
  • বাঃ, দারুণ
  • Sangita | 57.15.7.129 (*) | ০৭ মে ২০১৭ ০২:১৭59742
  • ধন্যবাদ! বড় উৎসাহ পাই!
  • Boka | 127.194.37.8 (*) | ০৭ মে ২০১৭ ১২:০৭59743
  • দিব্বি। পরের কিস্তির--
  • San Gita | 57.15.4.72 (*) | ০৮ মে ২০১৭ ০২:১৮59745
  • তৃতীয় কিস্তি দিলাম। আলাদা করে।
  • Titir | 138.210.106.68 (*) | ০৮ মে ২০১৭ ০৩:১৭59746
  • পুঁটিকথা জমে ক্ষীর! আরো চাই।
  • San Gita | 53.251.173.6 (*) | ০৮ মে ২০১৭ ০৩:৪৭59747
  • আনন্দ আমারই বেশি। ধন্যবাদ!
  • Suhasini | 213.99.208.18 (*) | ০৮ মে ২০১৭ ০৪:২৪59744
  • আরও রোমাঞ্চের আশায় বসে আছি। দাও, তাড়াতাড়ি?
  • PM | 52.110.164.171 (*) | ০৮ মে ২০১৭ ০৫:২৮59748
  • খুব ভলো হছ্ছে। কুমুদির লেখার ইস্টাইল অনেককে অনুপ্রানিত করছে ঃ)..... খরা কবলিত গুরুতে স্বস্তির বৃষ্টি ঃ)
  • Du | 182.58.108.9 (*) | ০৮ মে ২০১৭ ০৫:৩৭59749
  • আরে এটা আগেই লেখা
  • Du | 182.58.108.9 (*) | ০৮ মে ২০১৭ ০৫:৩৮59750
  • দেখেছ অনেকদিন না লিখলে কি হয়!
  • PM | 52.110.164.171 (*) | ০৮ মে ২০১৭ ০৫:৪১59751
  • দুঃখিত--জান্তাম না। লেখার স্টাইলে খুম মিল আছে মোনে হোলো বলে বল্লাম
  • Suhasini | 213.99.208.12 (*) | ০৯ মে ২০১৭ ০৫:৫৩59752
  • তৃতীয় কিস্তি কোথায় দিলে? খুঁজে পাচ্ছি না।
  • Suhasini | 213.99.208.12 (*) | ০৯ মে ২০১৭ ০৫:৫৪59753
  • পেয়েছি এইবারে।
  • নিনা | 184.200.8.235 (*) | ১১ মে ২০১৭ ০৩:২৪59754
  • পুঁটিরানি গেল কই-- নেশা হয়ে গেছে অথ পুঁটি ঘটিত পড়ার ---
  • San Gita | 57.15.15.191 (*) | ১১ মে ২০১৭ ০৬:২৯59755
  • চতুর্থপর্ব দিলাম নীনাদি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন