• হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

  • বেঁচে আছি, আত্মহারা - জার্নাল, জুন ১৯

    ফরিদা লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২০ জুন ২০১৯ | ৩৮০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার

  • এই জল, তুমি তাকে লাবণ্য দিয়েছ বলে
    বাণিজ্যপোত নিয়ে বেরোতেই হ'ল
    যতক্ষণ না ডাঙা ফিকে হয়ে আসে।

    শুধু জল, শুধু জলের বিস্তার, ওঠা পড়া ঢেউ
    সূর্যাস্তের পর সূর্যোদয়ের পর সূর্যাস্ত
    মেঘ থেকে মাঝে মাঝে পাখিরা নেমে আসে
    কুমীরডাঙা খেলে, মাছেরা ঝাঁক বেঁধে চলে।

    চরাচর বলে কিছু নেই, চিঠিপত্র নেই বন্ধুদের
    মাসপয়লার মাইনে মাণিকতলা বাজারে ইলিশ
    এই জলে জীবন্ত হয়। যাতে তুমি লাবণ্য দিয়েছ।


    সেই কথা মতো সবকিছু চলেছে অতঃপর
    আবহাওয়া জনিত বাজারের দর ওঠাপড়া
    পরিবেশ সচেতনতা ও তার দূষণ বৃদ্ধির হার
    অপরাধ প্রবণ তৃতীয় বিশ্বের জনসংখ্যা বিস্তর।

    সেই কথা মতো, প্রতিদিন ওষুধ খাই, ধর্ম পালন
    মৌমাছি চাক বারংবার ভাঙি বারান্দায়
    একা একা স্ব রক্তক্ষরণ ও তজ্জনিত প্রশান্তি ঘুম
    জাহাজের ডেকে মধ্যরাত্রে তারার দেওয়লি দেখে যায়।

    সেই কথা মতো গাছের গুঁড়িতে বয়সের দাগ বাড়ে
    পুকুর বুজে বাড়ি উঠে চোখে চশমা নিয়ে গাড়ি চলে
    গলায় সোনার ফাইফরমাশ খাটত একদা পেটচুক্তিতে
    খেলনায় একা একা বাচ্ছারা খেলে। ঘাম কমে। বন্ধুও।

    সেই কথা মতো এইসব হয় জানি ক্ষমতার অঙ্গুলিহেলনে
    রাতে তিনখানা রুটি, দিনে সামান্য ভাত আকাঙ্ক্ষার
    সেই মতো ঋতু পরিবর্তন -উৎসবের আলো শেষে অন্ধকার
    তবু ঠিক কী জন্য এ শর্তে রাজি হয়েছিলাম মনে নেই আর।



    এখানে কিছুই নেই, তবু —
    ভাঙা হাটে জ্যোৎস্না খোঁজ নিতে আসলে
    ফাটা দরমার ছাত শিহরিত হয়
    ভাবে আগুন জ্বলেছে ফের এই শীতে।
    আলো পেয়ে খুঁজে পেতে প্রকাশিত করে
    কবে কোন দিনলিপি
    লুকিয়ে রেখেছিল চালের বাতায়
    যখন সময় ছিল, লোকসমাগম
    প্রতি সন্ধ্যায় লণ্ঠন জ্বলত খুশিতে।

    সেখানে মানুষ নাই, সামান্য হাওয়াতেই
    ভগ্নাবশেষ সাড়া দেয় - নড়ে ওঠে সশব্দে
    উঠোনে পাতার ঝাঁক আশাতীত সুখে।
    আরও সংবেদনশীল সে যেন এখন
    তাকে পরিত্যক্ত, মৃত, প্রাক্তন বলে কে কোন মুখে?

    ৬ই জুন


    বেরোতেই হ'ত কখনও না কখনও
    সন্ধে হয়ে আসছিল, আবহাওয়া ভালো যাচ্ছিল না
    হুকুম তামিল করতে করতে একটা ঘড়ি হয়ে যাচ্ছিলাম।
    অনেক পাখিরা, যারা খাঁচার মধ্যে থেকে সুখী ভাবে
    অনেক গাছেরা, টবে বারান্দায় কেউ চাদর মেলে দিলে
    সেদিন আর আকাশ দেখা হয় না। অথবা টিকটিকি
    মাথার মধ্যে খড় গজগজ করে, শরীরে কচুরিপানা ভাসে
    হাত পা'গুলো অবধি যে যেমন পারে কাজে লাগাচ্ছে
    ঝুল ঝাড়াচ্ছে, কল সারাচ্ছে, বা বাজার ছুটছে তিনবেলা
    সবাইকে এক জায়গায় পাওয়ার উপায় নেই কখনই
    ছুটছে থামছে ঘামছে কাঁপছে যে যার মালিকের মর্জিমতো
    এভাবে চলে না, কখনও না কখনও তো বেরোতেই হ'ত।

    চিন্তায় আসতে না আসতেই তীব্র গরমে বাষ্পীভূত
    এক একটা যদি বা কাগজে নামল তো দেখি
    কালো হয়ে এক খাবলা পোড়া দাগ - সেই কাগজ বেয়ে
    লেখার টেবিল হয়ে পুরো মেঝে জ্বলন্ত অঙ্গার হয়ে গেল।

    অতঃপর দমকল, পাগলা ঘন্টি অথবা গানওলা ডেকে
    এক আকাশ ভর্তি মেঘ লাগে তাকে সুস্থির করতে -
    চিঠি লিখব কী, এত তাড়াতাড়ি কীভাবে সম্ভব
    কত লক্ষ বছর যেন লেগেছিল সামান্য অ্যামিবার
    কত জন্ম-জন্মান্তর শুধু একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখতে।

    ৮ জুন

    আমারও ইচ্ছে করে ঠিক যা চাইব তা তক্ষুণি হোক
    ইচ্ছেমতো বাস, তারপরে তাতে বসার সীট, জানলার ধার
    তারপরে চাইব শুধু ছুটে যাক, হাওয়া লাগবে মুখে।
    দেখা হোক ঠিকানা হারান বন্ধুর সঙ্গে বীয়র পাবের বাইরে।
    অফিসের মেইলে সুখবর, বাড়িতে পাঠপ্রতিক্রিয়ার চিঠি
    বারান্দায় বসে বৃষ্টি আর বজ্রপাতের সব আলো ক্যামেরায়
    বন্দী হোক চিরতরে। ইচ্ছে, সপ্তাহান্তে প্রিয় খাদ্য ঘরে ঘরে।

    তবু ইচ্ছে অনাসৃষ্টি, সামান্য বুড়বুড়ি তোলে বটে জলতলে
    ফাঁক সামান্যই কচুরিপানা, দাড়ি গোঁফে ঢাকা
    ইচ্ছে পেট্রল পাম্প, এটিএম, কার্ড গুঁজলেই ব্যাগভর্তি টাকা
    তারপর মাংসর দোকান হয়ে যথেষ্ট আয়েসী মিষ্টিপান
    তবু কিছুদূরে পৌঁছলে গাড়ি পাংচার হয়। জরুরী হাতচিঠি
    দিয়ে তলব পড়ে বড় সাহেবের ঘরে। তখনও ইচ্ছে হয়
    -যেন এ যাত্রা চাকরি বজায় থাকে, ঘর সংসার খরচ ইএমাই
    মানুষ প্রায়শই জন্মান্ধ, ইচ্ছে তার ক্ষীণদৃষ্টি স্বল্পবুদ্ধি ঠাঁই।


    সবার বুকেই নিজস্ব আকাশ থাকে
    চোখে মুখে জানলা দরজা যখন পুরো মুন্ডুটা বাসস্থান হয়
    হাত পায়ে নদী ও রাস্তা শরীরের বাকিটা নেহাৎ যন্ত্র।
    আকাশে কেউ চিল ওড়ায়,
    কেউ ঘুড়ি, মেঘ, কেউ বোমারু বিমান।
    বাড়িতে লোকে বইপত্তর, সোনাদানা, চিঠি ও দলিল রাখে
    কারো জানলায় বসে বসে বিশেভ্রমণ,
    কেউ আবার সারা পৃথিবী ঘোরে নিজস্ব ঠিকানার খোঁজে
    একা চিল তাজমহলের আকাশে ওড়ে
    শুধু সকালে তোমাকে দেখার গরজে।


    হোটেলের ছাত থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, সমুদ্র
    অথবা তাজমহল দেখা গেলে নাম হয় তারও
    কারও কারও আঙুলে পাথর খোদাই হয়ে
    আশ্চর্য নরম ফুল ফুটে ওঠে, সেটাও দেখেছি।
    দেখেছি, আলোকস্পর্শে মুহূর্ত উজ্জীবিত কর তুমি
    তখন চকিতে সকালের হলদে আলো সপ্রতিভ হল।

    নরম তাজমহল যখন সবেমাত্র ঘুম ভেঙে আলোয়
    রাতের অন্ধকার কাঁথাটি সরাল। রাতচরা বিশ্রামে গেলে
    আকাশে ওড়ার আকাঙ্ক্ষায় চিলদম্পতি খাদ্যসংস্থান
    ছাড়াও বিনোদনে উড়ছে। সেও কী চিনেছে তাজ সকালে?
    আরও কিছু ভ্রমণপিপাসু কাছাকাছি ছটফট করছে
    আকাঙ্ক্ষা চোখেমুখে নিয়ে পাথুরে রাস্তায় হাঁটলে
    তাদের লম্বা ছায়া যেন আর একটু দ্রুতগামী হতে চায়।
    কয়লাখনির শ্রমিক জীবনে যৎসামান্য মুহূর্ত হীরক ঝলসায়।

    ৯ জুন ১৯

    যে ভাবে অনুদিত হ'ন ঈশ্বর বা শয়তান
    বৃষ্টির ফোঁটায় বা ঝড়ের ডানায়
    বারান্দা থেকে অথবা ভাঙা বাড়ির উঠোনে।

    সুসময়ের চিঠি আসে ধীরে দুঃসংবাদ ফোনে দ্রুতগামী
    মেদবহুল মুখে হাসি ফুটে উঠতে দেরি হলেও
    ক্ষয়াটে চেহারাকে সে তৎক্ষণাৎ ভেঙেচুরে দেয়।

    যখন পাতায় পাতায় তাকে খুঁজি, পরের লাইনে আয়না
    দেখি পাশাপাশি সহাস্য সমুদ্রের সামনে ঢেউ ভাঙে
    তখনই শীতকাল বয়ে যায় শিরদাঁড়া বেয়ে আশঙ্কায়

    যেন ফের ঝড় এসে তুলে নিয়ে যাবে অন্য কোথাও
    পিতৃপরিচয়হীন, যদি তখন আর কোনও অক্ষর না চিনি।


    আমাকে সহাস্য দেখ, আমিও তোমাকে
    তা দেখাতেই আজও এতদিন হ'ল বেঁচে আছি
    কী অসম্ভব সুখে যে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছি
    পরিছদ ধোপদুরস্ত, বাসনকোসন ঝকঝকে
    এতদিন বসবাসের সামান্য চিহ্ন কোত্থাও নেই
    একটা পুরনো ক্যালেন্ডার, মায় চিঠি ছবি মনীষীরও।

    যত রাজ্যের পুরনো কথার জঞ্জাল কাল পর্যন্ত
    বাগানের বড় গাছগুলির নিচে জড়ো ছিল
    এখন সেখানে কিছু নেই, শুধু ধূ ধূ মাঠ - যদি চোখে পড়ে
    ভ্রূকুঞ্চন সম্ভাবনা থাকে তাই একটাও পুরনো বাস নেই
    চেনা শহরের রাস্তায় টিউকল অথবা বাতিস্তম্ভ কিছুই রাখিনি
    যেন এর আগে কিছুই ছিল না কখনও এর পরেও কিছু নেই
    দু-পাশে অনন্ত খাদ, মাঝে নড়বড়ে সাঁকো, কুয়াশায় দুলছি।


    আমি চিরদিনই ভালোবেসেছি
    ছেঁড়া ঘুড়ি, মোহনবাগান, পুজোর সময়ে প্রথম ফুলকপি
    যাকে যখন সামনে পেয়েছি বা পাইনি
    দেখেছি অনেকবার লুকিয়ে চুরিয়ে
    সে অবশ্য একবারও তাকায়নি।

    মাঠে ফুটবল খেলেছি, জ্বরে পড়েছি
    বাড়িতে পুজোয় ধুনোর ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করে
    তবুও আরতি দেখেছি, ঢাকের শব্দে কথা বসিয়ে
    ভেবেছি কতবার অকস্মাৎ সে সামনে দাঁড়ালে
    কোন কথাতে একটু সুরাহা হয়।

    এইভাবে অনেকদিন কেটে গেছে
    আরও হয়ত কিছুদিন চলবে
    চালাক চালাক মুখে ভেতরের বোকাটা
    লুকিয়ে লুকিয়ে টাগরায় ফের শব্দ করবে আচমকা
    আমি নিস্পলক থামব কিছুক্ষণ - দেখব
    তারপর চোখ বন্ধ করে বাকিটুকু তার জন্য
    রচনা করতে করতে চলে যাব
    সে যদিও একবারও থামে না, তাকায়নি, তাকে কী
    আমি তো চিরদিনই তাকে ভালোবেসে গেছি।


    আগেও চোরের মতো তাকাতাম
    তখন অবশ্য পোশাকআশাক চালচলনে সৎ ছিলাম
    গণগণে খিদে উত্তাপে কেউ ধারপাশ মাড়াত না
    একলাই হেঁটে যেতাম কলেজ স্ট্রীট ধরে সূর্য সেন রোড
    প্রখর গ্রীষ্ম দুপুরে।

    এখন চর্বি ও চশমার আড়ালে
    সে চাহনি সহজে বোঝা যায় না
    পোশাকআশাকের খরচ বেড়েছে, রোজ দাড়ি কাটি
    তবু কেউ ঠাহর করে চোরের মতো তাকানোটা
    ধরে ফেললেও ভাবে -হয়ত চোখের ভুল,
    এ লোকটা নির্বিষ তুলতুল — ক্ষমা করে দেয়।

    শালা, নিজের ছায়াকেও এখন আমার
    ভীষণ ঘেন্না হয়।

    ১০ জুন ১৯

    কিছু বলে ফেললে হ'ত
    পরে ভাবি ভালোয় হয়েছে
    কথাগুলো আমারই রইল,
    চোখের সামনে থাকবে, খেলে বেড়াবে
    বড় হ'লে না হয় বুকে বসে দাড়ি উপড়োবে।


    ফেলে আসি গ্রীষ্ম দুপুর
    খাঁ খাঁ রাস্তা জুড়ে ট্রাকের সারি
    দূরে রাস্তায় মরীচিকা চকচক করে
    মাঝে মাঝে পথ বেঁকে যায়, ঘুরি
    নির্মিয়মান ফ্লাইওভারের পাশে সরু রাস্তায়
    ধীরে গাড়ি যায়, ধীরতম যানের গতি মিলিয়ে
    রাস্তা চওড়া হ'লে ছায়াকেও ফেলে যাই চলে।



    এখানে দেখার কিছুই নেই, শোনারও
    শুধু আদি অকৃত্রিম অনন্ত গ্রীষ্ম
    রাস্তায় কাউকে একলা পেলে শুষে ছিবড়ে করে দেয়।
    তবু কখনো সখনো মাঝরাতে ক্ষয়া চাঁদ এসে
    চুপ করে দাঁড়ায় মাঝরাতে
    দেখে কীভাবে ঘুমোয় তার সন্তানসন্ততি।

    তবুও তো বাঁচে লোকে, বাকশক্তিরহিত
    চিন্তাহীন অজস্র মানুষ বাঁচে প্রখর গ্রীষ্মে স্রেফ টিকে গিয়ে
    কলতলায় যুদ্ধ করে, বাসের ভীড়ে নিজেকে গুঁজে
    অথবা নড়বড়ে সাইকেল নিয়ে
    ভয়ংকর ব্যস্ত রাস্তার চৌমাথা পেরিয়ে
    বাঁচে লোকে চাকরি টিকিয়ে, কেন্নোর মতো
    বসের গালাগাল খেতে খেতে ছোপ ধরা দাঁত বের করে হেসে
    পরে হিসি করতে বসে তেড়ে গালাগাল করে শরীর জুড়োয়
    ফেরার পথে চাল আলু তেল কিনে নিয়ে যায় ঘরে
    এ গ্রীষ্ম বড়জোর আগুন ছেটাবে -
    সে আর কীই বা করতে পারে?

    ১১ই জুন

    বাড়ি থেকে বেরোলেই এ পর্যন্ত করা ভুলগুলো
    দেখি রাস্তার দু'পাশে আমার দিকে আঙুল তুলে
    খ্যাকখ্যাক করে হাসে।
    মুখ ভেঙচে দেখেছি, কখনো তেড়ে মারতে গিয়েছি
    কখনও বা দূর থেকে পাটকেল ছুড়েছি।
    আশ্চর্যজনক ভাবে ওরা সেইসব আঘাত
    ঠিক তত জোরে ফিরিয়ে দিয়েছে -
    তাই বেঁকে হাঁটি, কথা বলতে গেলে তোতলাই
    মাঝে মাঝে মাথার যেখানে চুল নেই সেই জায়গাটা চাপি।

    স্বাভাবিকভাবেই আমি কক্ষণও কোত্থাও যাই না
    যাওয়ার জায়গাই নেই - নিছক অভ্যাসবশত
    বাড়ি থেকে প্রতিদিন বেরোই। বেরোলেই…


    এত উঁচু বাড়ি আমি কখনও দেখিনি আগে
    কারা এত উঁচুতে থাকে? রাতে ঘুম হয়? ভয় করে না?
    রাস্তা থেকে বাড়িটা পুরো দেখতে গিয়েই হাঁফ ধরে প্রায়
    সত্যি বলতে কি, এত চওড়া রাস্তাও কি ছাই আগে দেখেছি
    এত গাড়ি। এত তাড়াতাড়ি ছোটে - ভিতরে মানুষ না যন্ত্র
    নেহাৎ স্বাভাবিক ভাবে বসে থাকে। মাথা ঘোরে না ওদের?

    সেদিন একটা গাড়ির দরজা সামনে খুলে গেল
    কী ঠান্ডা সুগন্ধি হাওয়া ছড়িয়ে একজন নেমে
    সামনের বাড়ির দরজা দিয়ে ঢুকে গেলেন
    আমাকে দেখেও দেখেন নি —
    অবশ্য দেখতে পেলেও চিনতেন কি? ক্লাস টেনের পর
    তো উনি জালালুদ্দিন মহম্মদ আকবরকে মনে রাখেন নি।

    ১৩ই জুন

    এক একটা কথা মনে আসলে ন্যাপথলিন বলের গন্ধ পাই
    কোনও কথায় জনসন বেবি পাউডার উড়ে বেড়ায় ঘরে
    কেরোসিন তেল আর মুদী দোকানের তেলচিটে গন্ধ
    একসঙ্গে এলে মনে হয় লাইনের সামনে চলে এসেছি
    তেল নিয়ে সগৌরবে বাড়ি ফিরব তাহলে।

    ওর টিফিন বাক্সে প্রায়শই ডিমসেদ্ধর গন্ধ পাওয়া যেত।
    নতুন জুতোর গন্ধে ঢাকের শব্দ পাওয়ার কিছু দিন পরে
    পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মোড়কের ব্রাউন পেপারের গন্ধে
    আতঙ্ক থাওলেও কাছাকাছি বোরোলিনের গন্ধও থাকত।

    শুধু যাওয়া-আসা আবার পরে আসা-যাওয়ার সময়ে
    একমাত্র হাওড়া স্টেশন তার গন্ধ আনন্দ-বিষাদে বদলাত।


    মৌমাছি পালনের মতো অত্যন্ত গাণিতিক বিষয়
    আচমকা সামনে এসে পথরোধ করে পড়া ধরে
    গাড়ির কাচে পড়ে কবেকার ভুলে হাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া
    ইন্টিগ্রেশনের একটি ধ্রুবক। চুরচুর করে ডিফারেনশিয়েট
    হওয়া কাচে সাদা আলো বর্ণালীতে ভেঙে ভাসানের নাচ।
    হিউয়েন সাঙের মতো মাথায় ছাতা আটকে বৃষ্টিতে ঘুরলে
    মৌসুমি বায়ু ছুটে আসে, দর বাড়ে বাজারে। ক্রয়ক্ষমতাও
    আমার বয়স পিতার বয়সে গিয়ে পুত্রকে বলে "শেখাও"।

    এক একটি উক্তি ধরে ধরে বক্তার মনোভাব, চরিত্র বিশ্লেষণ
    মায় কারক বিভক্তি ব্যুৎপত্তি সমেত জমা খাতা ভোগে গেলে
    সারারাত কাবার করে আবার টুকেছি। কখনও ছাত থেকে
    নারকেল গাছ বেয়ে আসা জ্যোৎস্নার কৌণিক সরণ মেপে
    উঠি আর নামি বলে ওজন কমে বটে, তবু ভর একই থাকে।
    ছাত্রজীবন অনন্ত। প্রবাসে সর্বস্বান্ত শুধু ভালোবেসে তাকে।

    ১৪ই জুন

    কাল ছুটি, সমুদ্রে যাব
    দেখব কতটা সরেছে সে এ ক'দিনে
    কটা নয়া জেলেডিঙি কত পর্যটক পেল?

    সে আমাকে চিনতেই পারবে না
    হয়ত আপনি টাপনি বলে আলাপ জমাতে
    ঢেউ বাড়িয়ে দেবে রাতের দিকে পায়ের পাতায়।

    কতদিন হ'ল শুধু লিখি কাল ছুটি
    কাল ঠিক দেখা হবে সমুদ্রবেলায়।

    ১৫ই জুন

    তুমিও জান না গতকাল কখন ট্রেন ছেড়ে দিল
    আচমকাই, যেমন চুপিসাড়ে প্রচুর মেঘ ঢেকে দেয়
    জ্যৈষ্ঠের আকাশ অপরাহ্ণে আলো ধীরে ধীরে কমে
    একেবারে অন্ধকার হ'লে তবে হাওয়া দেয় কনসার্ট।
    অতঃপর ঝড় ওঠে পর্দা সরে যেতে দেখ শিলাবৃষ্টি
    শুরু হয়ে গেছে। ততক্ষণে ট্রেন প্লাটফর্ম ডিঙিয়েছে।

    এইভাবে ছেড়ে গেলে পথ অবরোধ। ফিরতেই হয় একা
    তালা খুলে ঘরের ভিতরে তদন্ত চলে কোন নির্দিষ্ট দ্বিধায়
    ভুল করে বেঁকেছিল পথ। সময়ের কথা সময়ে না এসে
    নেশা করে অসময়ে ভুলভাল বকেছে। তাই খামোখাই
    বাসী হয়ে গেছে সকালের ফুল দিনশেষে। ব্যবসায় মাটি
    হলে ধার দেনা বেড়ে এক গলা জল। লোকে ডেকে বলে
    অকথা-কুকথা দু'বেলা। প্রেমহীন হয়ত এমনই হওয়ার ছিল।
    ছেড়েছুড়ে পালানর সময়ে শেষে ট্রেনও একা ছেড়ে দিল।

    ১৬ই জুন

    জলতলে কাহিনীরা আছে
    সামান্য মাছে, ঝাঁঝি গুল্ম লতায়
    নিজস্বতা লুকিয়ে চুরিয়ে থাকে
    পুরো অবয়ব, ছড়িয়ে ছিটিয়ে।
    লেখক জানেন ঠিক কোন সূত্র ধরে টান দিলে
    ধীরে ধীরে পুরোটাই জ্যান্ত উঠে আসে।

    সাধারণ কবি সারাদিন বন্ধ্যা ছিপ হাতে
    পাড়ে বসে বসে এইসব ছাইপাঁশ ভাবেন।


    কাল স্বপ্নে দেখেছি, মা রেশমীকে বলছে - একে তো জন্মানর সময়ে খুবই কুৎসিত দেখাত। মাথা-গা আলাদা করা যেত না, লোকে ভয় পেত দেখে। ডাক্তার বলেছিল ক্রমে সব ঠিকঠাক হবে। রেশমী জিজ্ঞেস করল, ওর কি যমজ কেউ ছিল। শুনলাম মা স্পষ্ট বলল - ছিল তো। সে বাঁচল না। ভাই।

    সত্যি জিজ্ঞেস করব যে - সকালে, সে সাহস এখন কোত্থেকে পাই?


    যেন একটা মেলায় ঘুরতে এসেছি। চমৎকার মেলা। আমার যাবতীয় প্রিয় জিনিস আয়ত্তের মধ্যে সাজানো গোছান। প্রিয় খাবারদাবার। প্রিয় বই, ক্যামেরার দোকান। একদিকে প্রিয় বন্ধুরা বোতল খুলে ডাকছে তো তার অনতিদূরেই কবিতার আসর তক্ষুণি শুরু হচ্ছে। এদিকে রেস্তও যথেষ্ট রয়েছে। আবহাওয়া মনোরম। পোশাকও আরামদায়ক। সঙ্গে পুরো পরিবার মেলাতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

    শুধু নাকি একটা খবর এলেই এই মেলা থেকে একা একা আচমকা আমায় বের করে দেওয়া হবে। কোনও মানে হয়?

    ১৮ জুন

    অথচ বৃষ্টির আগে অবধি কত তোড়জোড় থাকে
    প্রিয় গান বাজিয়ে, দরজা আধখোলা রেখে
    বাইরের ঘন অন্ধকারকে হাত ধরে ভিতরে এনেছি
    বলেছি, আর কিছুক্ষণ ওই হাওয়াটা চালাও দিকি
    ওই যেখানে " বহুযুগের ওপার হ'তে এল" গানের সঙ্গে
    পর্দা দুলতে থাকে, ক্রমশ আস্তে আসতে পরে ক্ষিপ্ত
    খাঁচায় বন্দী পাখি - যেন তার পূর্বপুরুষ পাল ছিল ডিঙিতে
    মনে পড়ে যেতে সে এবার উড়ন্ত কার্পেট হবে।

    এদিকে সে ফিরিওলা ঝড়, দূরদুরান্ত থেকে বয়ে আনা
    ধুলো বালিকণা - এর ওর বারান্দা বা ছাত থেকে চুরি করা
    পতাকা নিয়ে মিছিল করে আসছে, চমৎকার গাইতে গাইতে
    যেন নদীয়ার পথে মহাপ্রভু, শ্রীখোলের চাঁটিতে কড়কড়
    বাজ পড়ে কাছে দূরে। শিলাবৃষ্টি যেন হরিলুঠের বাতাসারা
    সবকিছু বাজী রেখে কুড়িয়েছি। বেঁচে আছি আত্মহারা।

    ১৯ জুন ২০১৯

    আজকাল থেকে থেকেই গদাইলস্করি মেঘ
    এর ওর উঠোনের ওপরে খামোখাই থামে।
    দেখে কাদের রাখাল ফাঁকি মেরে ঘুমোয়
    কাদের ছেলে বই খোলা রেখে আকাশে ডুবেছে
    কার ঘরের বউ বিকেলে সিনেমা যাবে বলে
    তাড়াতাড়ি রান্নায় নুন বেশি দিয়ে ফেলেছে।

    সেও দলছুট চিরকাল, জলভারে আহ্লাদ আছে
    তথাপি দায়িত্ব অঢেল বলে সেদিকে যায় না
    লোকে তাই চেয়েও দেখে না, রোদ্দুরে সাদা মেঘ
    কে বা কবে দেখে চোখ তুলে? রাতে তার ঘুম পায়
    ঘুমোয় কুয়াশা হয়ে খড়ের চালে হাত পা ছড়িয়ে
    দেরি করে ওঠে বাচ্চারা ইস্কুলে বেরোলে। শোঁকে
    রান্নাঘরে ঝোলমশলার গন্ধ, কূটকাচালি দিঘির ঘাটে
    আজন্ম অকম্মার ঢেঁকি, পাখিদের ফাইফরমাশ খাটে।


    যেন বৃষ্টি তঞ্চকতা কখনও জানে না, তবু তোমার
    দেরি করিয়েই দেয়। বাস ট্রাম কিছু নেই, ট্যাক্সিও
    অগত্যা পায়ে কাদাজল মাখতেই হ'লে
    সে বৃষ্টি হেসে উঠে বিকেলে রামধনু জ্বেলেছে।
    অপর্যাপ্ত ঢেলেছে নদীতে সমুদ্রে - যেন তার বাপের সম্পত্তি,
    রক্ত জল করে ফোঁটা ফোঁটা বাষ্পীভবন করতে
    ঘাম ছুটে যায় রোদ্দুরের তবে যদি সামান্য মেঘ পাওয়া যায়
    পরে ফের বাবা বাছা করে হাওয়া ঝড় ডেকে আনো
    সেই শিশু মেঘেদের ঠিকানা লেখা ইস্কুলবাক্স দিয়ে পাঠালেও
    তারা নিজেরাই মিলেমিশে দলবল পাকিয়ে যথেচ্ছাচার করে
    সোজাসাপটা মনে কোরো না ওকে তুমি কিছুতেই
    তোমাকে একলা পেলে দেখবে ও তেরছা হয়ে ঝরে।


    ২২ শে জুন

    তখনও কিছুই নেই
    শুধু মাঠে বাঁশ পড়তে দেখেই
    ভিতরে অষ্টমীপুজোর খিচুড়ি ভোগ বিতরণ শুরু

    ফুল একবার ফুটে গেলে শুকিয়ে ঝরে যাবে
    বৃষ্টি নয়, আকাঙ্ক্ষা বসবাস করে মেঘসঞ্চারে
    পৃথিবী গুমোট হ'লে বাজায় গুরুগুরু।


    প্রকাশিত হ'তে গিয়ে শুধু ক্লাসের বাইরে যেতে হয়
    এর মাঝে কী কী কথা হয়ে গেছে তা কেউই
    ধরিয়ে দেয় না। শালা এই ইস্কুলে সবাই স্বার্থপর।
    অনর্থক সময় লাগে ধাতস্থ হ'তে, খাতা খালি থাকে
    কোনও শব্দ সেখানে বসে না, একবার ছাড় পেলে
    বাতাসে মিশে যায় ফুলের গন্ধের মতো বিকেলে।

    সে ছায়া নয়, অথবা বাংলা সিনেমার মা, থালা আগলিয়ে
    রাত জেগে ঢোলে, যতক্ষণ না বাড়ি ফেরে ছেলে।
    নিতান্ত অবুঝের মতো অভিমানে বাক্স গুছিয়ে নিরুদ্দেশ
    কোনও চিহ্নমাত্র না রেখে, এমনকি যাওয়ার আগে
    লেখার চশমাও লুকিয়েছে, যাতে পৃথিবী নিরক্ষর থাকে
    অন্তত আমার কাছে। কত কিছু চলে চারপাশে, দেখি—
    এত অনর্থক, জল কম হ'লে আটামাখা ছেড়ে ছেড়ে যায়।
    ভালোবাসে না, নইলে কেউ এত নির্দয়? এতটা শাস্তি পায়?

    ২৩ শে জুন।

    আজ কি বিকেলের দিকে সময় হবে তোমার?
    একবার নিউ মার্কেটে যেতাম অথবা ভিক্টোরিয়ার সামনে
    ট্যাক্সিতে ঘুরতে ঘুরতে বৃষ্টি আসত বেলুন বিক্রি করতে
    গাড়ি পার্ক করে ইডেনের সামনের রাস্তায় হাঁটতাম
    বৃষ্টি ধরলে গঙ্গার দিকে খানিকটা।
    হাওয়াতে ঘাসভেজা মাটির গন্ধ দেওয়া চা বিক্রি হয় ওখানে।

    বইপত্র কেনার কিছু থাকলে বরং কলেজ স্ট্রীট যাই
    একটু ঘিঞ্জি হলেও, বই ঠিকই পেয়ে যাবে।
    তারপর অবধারিত কফি হাউসের একটা কোণের টেবিল
    তোমাকে আমার সঙ্গে দেখে তক্ষুণি খালি হবে।
    অথবা পার্ক স্ট্রীটের গান বাজনার বার। আলো আঁধারিতে
    কখনও আসোনি তুমি এইভাবে। খারাপ লাগবে না, দেখো।
    এইভাবে কলকাতা দেখিনি। যদি সময় পাও, ডেকো।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২০ জুন ২০১৯ | ৩৮০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ফরিদা | 2345.111.2323.231 (*) | ২০ জুন ২০১৯ ০৩:৩৮48896
  • তুললাম.....
  • বিপ্লব রহমান | 5645.251.892323.208 (*) | ২০ জুন ২০১৯ ০৭:১৬48897
  • পড়ছি, আর বিষণ্ণতায় ডুবে যাচ্ছি। সব কবিতা এক সুতোয় যান দিয়ে ছোট ছোট পোস্টে রয়েসয়ে দিলে কবিতাগুলো সুবিচার পেতো, উড়ুক
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন