• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • আঠের শেষের একুশ

    ফরিদা
    বিভাগ : ব্লগ | ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫১ বার পঠিত

  • অনেকদিন যোগাযোগ নেই,
    ঘুম থেকে উঠে বিপর্যস্ত লাগে,
    নতুন জায়গা, খুব শীত সকালের দিকে
    বেলা বাড়লেও কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না।
    ঠিক যেন পর্দার ঠিক ওইপাশে সবকিছু ঠিকঠাকই আছে।
    সকালে উঠেই যেন তাকে আজও মনে পড়ে
    আলনায় গেরস্তকথা, চিঠিপত্র গাছে গাছে।


    তুমি বলেছিলে…..
    খুব একটা গভীর কিছুই নয়
    দু'চারটে নুড়িপাথর, নেড়িকুকুর শব্দ
    তুমি বলেছিলে বলে তার চারপাশে
    এতদিন বেড়া দিয়ে, ভিত খুঁড়ে
    যতটুকু পারি এবড়োখেবড়ো গাঁথনি বানিয়ে
    নিজে দেখে দেখে সাধ মিটছে না যেন আর।

    লোকজন ডাকি, অনুরোধে উপরোধে ভালোবেসে
    কিম্বা মজা পেতে কেউ হয়ত কিছুক্ষণ দাঁড়ায় —
    ফের দু’'চার আনা খুচরো মুদ্রা আমদানি।
    তাকে বারবার উলটে পালটে দেখি বেড়া বাঁধি, গাঁথি —
    ক্ষণায়ু, জলে সম্পূর্ণ দ্রবীভূত, পাতি সাধারণ কবিতার।


    অনেকক্ষণ অচেনা রাস্তায় বড় তথ্য ভারাক্রান্ত লাগে
    গন্তব্য ঠিকঠাক জানা না থাকলে মনে রাখতে হয়
    যাবতীয় খুঁটিনাটি, দোকানের সাইনবোর্ড,
    ডানদিক বাঁ'দিক নেওয়া সঠিক পর্যায়ক্রম।
    ফোনে দেখে নিতে হয় ঠিকঠাক যাওয়া হচ্ছে কী না।

    বাঁক বহুল জটিল রাস্তা অনেকটা বাকি থাকলে
    এত কিছু জেনে শুনে মনে রাখতে ভাল লাগে না,
    সামনের বাঁক নিলেই মনে হয় সমুদ্র দেখা যাবে
    নতুন দিগন্ত কোনও। গন্তব্যের চেয়েও আকর্ষণীয়।
    শেষ কবিতার সম। আর কিছু তোয়াক্কা করব না।


    আর একটু আশকারা চেয়ে গায়ের কম্বল সেঁটে থাকে ইহজীবনে। অথচ নিছক জল তেষ্টায় উঠলে দেখেছি বাইরে শীতের সকাল লোভনীয় সুন্দর মিঠেকড়া পশম রঙিন ওম দরজায় প্রভাতফেরী করতে এসেছে। তেরছা রোদ্দুর গায়ে পড়তে আস্তে আস্তে কুয়াশার আঁশ ছেড়ে দৃশ্য পরিষ্কার হ'ল।

    দু-দিকেই ভালমন্দ মেশান। যে কোনও দিকে মুখ ফেরালে কার কীই বা এল গেল।


    যাও সিরি, ওইত গহন পথ, হয়ত ঊষর দেখায়, কাঁটাঝোপ দু'পাশেই, তা না থাকলে অতলান্ত খাদ কুয়াশায় ঢেকে আছে দেখ। মাতালে পথ কিছুতেই সোজা চলে না, এঁকেবেঁকে নদীর মতোই, এই গাছে ফুল এল? ওই গাছে নীল পাখি উদ্ভুট্টে বাসা বানিয়েছে নাকি? কার বাড়িতে আলপনা দিল? লোকজন আসবে? বিয়ে আছে বুঝি।

    পাহাড়ে উঠতে উঠতে, সে পথের দিন ফুরিয়ে যায়, ধৈর্য্যও থাকে না। একবার উঠে গেলে তুমিও তাই মনে কোরো।


    শব্দের হাত ছাড়িয়ে ছুটে গেল সে আবারও
    টলমল পায়ে জোর নেই, চোখেও দেখে না বিশেষ
    তবু একসঙ্গে বেরোলে একবার না একবার
    এইভাবে সে ছুটবেই —

    শিশু অবুঝ কবিতা, দিশাহীন, পায়ে জোর নেই।


    অথচ পাখিরা দেখ সকালের দিকে প্রভাত ফেরীতে আজও
    যেন আলো পড়লেই ডানা জেগে ওঠে।
    নিছক খাদ্যসন্ধান অথবা অফিসের তাড়া নয়
    আরও কিছু থাকে যা তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়।

    আমি দেখি, সকালের দিকে আলো পেলে দৃশ্যরা জমে
    নড়ে চড়ে ওঠে বাইরের রাস্তাটি,
    বুড়ো বটতলা, উঠোনে পাথর ছড়ান স্পষ্ট হ'য় ক্রমে।
    সামান্য চলন্ত সাইকেলে কিশোরী রোদটি উঠে বসে রোজ
    ক্যারিয়ারে বসে সাইকেল আরোহীর পিঠে মাথা রাখে
    তার হ্যাণ্ডেলে বাঁধা রুটি তরকারি মহাভোজ।


    যে যেমনই হোক, আজীবন একা একা মৃত্যু লেখে রোজ
    ফলন্ত গাছের ডাল থেকে ফলগুলি বেছে বেছে খায়
    ফুল, কুঁড়িগুলি দিয়ে সাজায় নিজেকে
    সতেজ পাতা দিয়ে পোশাক বানিয়ে পরে
    সরু ডালপালা শুকনো পাতা জ্বালিয়ে গরম রাখে গা
    মোটা ডালখানি শুকিয়ে পোক্ত হ'লে খাটুলি বানায়।

    কেউ লোকলস্কর জড়ো করে
    শেষযাত্রায় অষ্টপ্রহর সংকীর্তণ নিশ্চিত করেছে।
    কেউ পুড়ে যেতে যেতে নেচে উঠে লঙ্কাকাণ্ড বাধাবে ভাবে
    একাকী নির্জনে কেউ যেন অরণ্যে
    ভোরের শিশিরের মতো চুপচাপ শূন্য হয়ে যাবে।


    ভোর ভোর ঘুম ভেঙে যায়
    কব্জায় জং লাগা, দরজায় শব্দ হয় খুব ভোরে হাওয়া দিলে
    জল ঝড় এলে সারা পথে পাতাসহ ছোট খাট ডাল
    পথ অবরোধ করে।

    সকালের দিকে খুব মনে পড়ে হেমন্তের শেষ নৌকায়
    কোনওমতে নিজেকে সেঁধিয়ে কিশোরের তুমুল আস্ফালন
    নেশাতুর মধ্যাহ্ন ভোজনেই সে নিজেকে কেউকেটা ভেবে
    এঁটোকাঁটা ছুড়ে মারে চতুর্দিকে। উত্তরাধিকার প্রসূত
    বা স্বপ্নাদ্য মাদুলি স্পর্শে যেভাবে মানুষ মানুষের থেকে
    দূরে চলে যায়, নৌকাটিও ভেসে থাকে কোথাও যায় না, কিশোরের আধখাওয়া কাগজ জলে ভিজে সব অক্ষর বিসর্জন যায় জলে।

    ১০
    স্মৃতিচারণ করব কি, এতদিন ধরে এত চমৎকার
    বেঁচে আছি ভেবে আশ্চর্য লাগে। প্রতি শ্বাসে বায়ু
    প্রতি তেষ্টা বা খিদে পিছু পর্যায়ক্রমে পানীয় খাদ্য
    এমনকি প্রয়োজন অনুসারে হাতের আঙুল, কাঁধ
    ঠিক জুটে গেছে। দুঃখ বিষাদ লোডশেডিং জনিত
    বাধ্যতামূলক বিরক্তি অসন্তুষ্টির ক্লাস সীমাবদ্ধ ছিল।

    নেহাৎ ভাগ্যের ফের, নিয়তি নির্দিষ্ট পথে এইভাবে
    গ্রহতারকারা টিকে থাকে বোধ হয়, পাশাপাশি টান
    কমে বাড়ে, কাছে আসে, দূরে ঠেলে দেয়। ফুলগাছে
    পাখি বসে। পাকা ফল খুঁটে খায় উড়ন্ত পাখিটি, যেন
    তার জন্যই ওই ফল ঠিক ওই সময়ে ওইখানে ছিল।
    এত লোভনীয় বেঁচে থাকা, প্রতি শ্বাসে বায়ু, তেষ্টায় জল
    ক্লেশ সত্ত্বেও আপোষে পাপোষে শীত কুটকুটে কম্বল।

    ১০
    মহিলা তার পোষা কুকুর নিয়ে বেড়াচ্ছেন। কুকুরটি খুশি, দিনের এই একটা সময়ে বাইরে যেতে পারে বলে। মহিলাটিও। কুকুরটি আগে আগে হাঁটে, সামান্য দৌড়য়, রাস্তার আশপাশ শোঁকে যেন গুপ্তধন রাখা আছে। তখনই সে ভাবে মহিলার চলা ফেরা সে কী নিপুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে এত আনন্দের মধ্যেও। মাঝেমধ্যে বকলশের টান সে তোয়াক্কা করে না।

    মহিলাটিও….

    ১১
    মাঝেমধ্যে যদি পাখি আসে ভেবে জল রেখে দিই বারান্দায়।
    কখনও জলের মধ্যে এক ঝুলবারান্দা পেতে লোভ হয়।
    পেট ভরা পাখিরা তেষ্টায় জল পেতে বারান্দায় আসে।
    কাছাকাছি যেতেই ভয়ে উড়ে যায় ফের।
    জলের বাটিতে বাড়ে দিনে দিনে শ্যাওলারা,
    বারান্দার টবে খাপছাড়া ন্যাড়ামুড়ো গাছ আরও শীর্ণ হয়।
    এইভাবে কিছুদিন গেলে দেখি পাত্রে জল না থাকলে
    পাখিরা মাঝে মধ্যে গলা খাঁকাড়িও দেয়।

    তবু, আজও আমাকে ত্রিসীমানায় দেখলে পাখি উড়ে যায়।

    ১২
    অনেক হলুদ আলোর মধ্যে মনে হ'ল অনেকদিন দেখিনি তোমায়। তাই আরও কিছু পাথর জমে কথা-পাহাড়ে। দেখতে দেখতে কত বড় হয়ে গেছে দেখ, লোকে সন্ধান পেলে এই বড়দিনে পিকনিকে যেত।

    এই ভাল, আলো ফুটলে লিখে রাখা, মেঘ করলে, বৃষ্টি পড়লে বা না এলে। অন্ধকার হলে হাতড়ে পাতড়ে অক্ষর খুঁজে খুঁজে রাখা, কিছুটা মনে মনে যা আলোয় দেখলে কিচ্ছু বোঝা যায় না।

    এই ভাল, লেখার দূরত্বে থাকলে একটা ভ্রমণের ইচ্ছে থাকে, ক্যামেরার ব্যাগ, চার্জার, সিগারেট কার্টন গুছোচ্ছি মনে হয়। মনে হয়, এই তো আর তিনটে চারটে দিন, তারপরে দেখা যাবে বিশাল জনশূন্য জঙ্গুলে পাহাড় ঘিরে ঘিরে নাচে কিশোরী নদীটি। খেলা শেষে জিরোবে বলে তার মা পেতে রেখেছেন বিশাল জলাশয়।

    ১৩
    এক একটা শব্দে তালা খোলে, অনেকদিন না খোলা দরজা সামান্য অভিমানে বিরাট বাধা দিয়ে ফেলে দর্শনপ্রার্থী কে। ভিতরের ঘরের পর্দা অল্প নড়ে চড়ে জানান দিতে যে সে এখন চায় কেউ এক্ষুণি আসুক। বাইরের হাওয়ায় গুঞ্জন ওঠে উঁচু গাছের মাথায় মাথায়। পায়ের নিচের শুকনো পাতারা খসখস করে সেই শব্দ অনুবাদ করে। এক একটা ট্রাক হাঁসফাঁস করতে করতে যে পাহাড়ি রাস্তায় চড়ে তার পাশেই পাখির মতো সাইকেল বেলে কলকাকলি তোলে স্কুল থেকে ফেরা কিশোরীর দল। বিকেলে বাজারের পাশে নাকি জোর মচ্ছব আজকে সারা সন্ধে নাচ গান খানা পিনা।

    এক একটা শব্দ অনেক পুরনো বন্ধুর মতো আসে, ব্যস্ততায় তাকে সময় দেওয়া যায় না। সে ফিরে গেলে অনেক রাত্রে নিঃশব্দে ঘুম ভেঙে যায়। রাতচরা পাখির শব্দে সব অর্থহীন হয়ে আসে।

    ১২
    হয়ত সুগন্ধ কিছু হবে — চেতনা কুকুরের মতো ছুটে গিয়ে দেখে প্রিয় বন্ধুরা সেই একই ভাবে এক জায়গায় রয়েছে। শেষবার যেভাবে দেখেছিলাম। শীতের বর্ষপূর্তি রাতে তুমুল হৈ চৈ যে যেমনটি পারে অথবা দ্রব্যগুণে দ্রবীভূত হয়ে ওড়ায় পোড়ায় গোঁড়ায় নিজেকে। আমিও একপাশে কী যেন কার সঙ্গে কী ব্যাপারে কথা বলতে বলতে ছেঁড়া সুর গায়ে পড়তেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অস্থানে গণসঙ্গীত গেয়েছি।

    এরপরে চিরকুয়াশার দিন শুরু হয়েছিল। আর কিছু আলাদা করে মনে পড়ে না। চেতনাও গিয়ে জমে গেছে, আর ফিরছে না।

    ১৩
    একশো শতাংশ খাঁটি মিথ্যে কখনও দেখিনি।

    পঁচিশ শতাংশের বেশি হ'লেই গোলাপী হাতিরা আকাশে বাস্কেটবল খেলে চাঁদ নিয়ে। হাত ফস্কে কাচের চাঁদ মাটিতে পড়ে চুরমার। চার পাঁচ’'শ লোকের মাথাও ফেটে যায়।

    এক দুই শতাংশেই দিন হয় রাত। মহামহিম সুপারস্টার বারে বসে জল খেয়ে যান। তাঁর গাড়ির নিচে ছুটে এসে শুয়ে পড়ে গাড়ির বারোটা বাজায় ফুটপাথবাসী।

    এতদিনের চেষ্টায় ছেচল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছলাম। সেই দিনই বলেছ— তোমায় আমিও ভালবাসি।

    ১৪
    শুধুই অনীহা নয়, প্রতি সূর্যাস্তে রক্তক্ষরণ দেখে বমি পায় খুব। মানুষের আদিখ্যেতা দেখে পাহাড়ি জঙ্গলের গা রি রি করে ওঠে।

    কে রাখে নদীর নাম? শহরের বা ছোট্ট জনপদের? এদিকে পাহাড়ের প্রতি বর্গইঞ্চিতে প্রায় সর্বত্র পাথর খোদাই করে ফুল ফোটান, গাছপালা লাগান অভাবে পাথর ঢালাই করা, নয়ত ধুলোবালি ছড়িয়ে ভরে রাখা আছে। ক্যানভাসে শূন্যতা নেই এক তিল।

    তবু দেখি লোকলস্কর আসে যায়। তোম্বা মুখে একদল আরেক দলকে নিংড়োয়। সুযোগ পেলে সেও আবার পাটকেল মারে জানলার কাচে।

    এ পৃথিবীর সামান্যতম অংশ। বেশিরভাগই এখনও কপালজোড়ে অধরা রয়েছে।

    ১৫
    মনে হয় কিছু লিখি হাতে কিছু না রেখে,
    ভেসে যেতে দিই জলে ফুলমালা ভাসান বিকেলে
    মাছ ঠোকরাবে, ঘুরে ঘুরে নাচবে ঢেউতে চৈতন্যসম
    বিগ্রহ অবলম্বণ করে তার যৌবন কাটালে।

    মনে করি ভার নয়, এইবার চলাফেরা হোক কিছু
    ধান্দাবিহীন পথ ঘুরে যাক বন্ধুর বাড়ি নিস্প্রয়োজনে
    অথবা ভালোলাগা বাসস্টপে ক্যাসেটের দোকান থেকে
    উড়ে আসা শব্দ তুলে নিয়ে রাঁধি চালে ডালে পঞ্চব্যাঞ্জনে।

    মনে হয় আরও ঝুঁকি, আরও দেখি মাটির বুনন
    নির্জলা হলে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে স্বজন কে বুকে
    দিগভ্রান্ত পিঁপড়েটি গন্তব্যে পৌঁছয় সারাদিন চলে
    মনে হয় লিখি চোখ বন্ধ করে শুধু ওই নৈঃশব্দ শুঁকে।

    ১৬
    বলেছি কি আজও একা হলে এক ঘুম পথে মনে পড়ে
    শীত বোধ হলে নীল হয়ে আসে যেন শরীরে শীর্ণ দাগ
    নিভে গেছে যেন তবু শুকনো পাতারা তাকে জাগাবে
    আচমকা কেউ চলে এলে। দেখাবে সামান্য ফুল
    রোদ্দুর ফেলে। বলবে কুয়াশা দিয়ে আড়াল রেখেছি।
    বলেছি কি শুধু অন্ধকার রাতেই কেন শিশিরেরা ঝরে?

    তবু মাঝেমধ্যে আলো টালো জ্বলে, শরীরে এদিক ওদিক
    কেউ কেউ নখের আঁচড় চায়, সামান্য উষ্ণতা বালতির জলে
    মুখ দেখে ঢঙ করে একা একা। ধূসর সকালে কোত্থেকে যে
    রঙিন কমলালেবুওলা আসে বড়দিন হ'লে। অনেকে বেরোয়
    ঘুরে আসে কাছাকাছি ছুটিছাটা পেলে। একটু বেশিই চায়
    আনাজের দর কমে এলে। পরিযায়ী উৎসব যেন এল ঘরে।
    তবু কিছু পাতা ঝরে। নিজে থেকে হলদে হয়েছে। বলেছি কি
    আজও একা একা মনে পড়। উৎসবে একাকীত্বকে ডাকি।

    ১৭
    যথেষ্ট নিরাপত্তার মধ্যেও এক ফাঁকে ইঁদুর ঢুকে গেছে ঘরে।
    চোখে পড়ে নৈশভোজনোত্তর আলাপচারিতার মাঝে —
    তারপর থেকে সব পানসে হয়ে যায় যেন
    যত্নে লাগান আলো, ক্রীসমাস ট্রি বুকসেল্ফের পাশে
    সারাবাড়ি ছড়ান সুস্বাদু খাবারের পদ —
    এর মধ্যেই সে সবার চোখ এড়িয়ে ঘরে
    এদিক ওদিক করে যেন কুমীরডাঙা খেলে।

    বিষ দেব উৎসব দিনে? নয়ত সে তছনছ করে দেবে সবকিছু
    আশু ব্যবস্থা না নিলে সংখ্যায় বেড়ে গেলে মুশকিল হবে
    ইঁদুর কলটা যেন কোথায় রাখা আছে - আনা হয়েছিল কি
    বাড়ি বদলের সময়ে? এদিকে কি পাব বড় বড় দোকানে
    ওসব কাছের জিনিস, টুকিটকি?

    বাড়িতে অতিথি আছে, লোক লৌকিকতায় ফাঁক পড়ে
    হতভাগা ইঁদুর কোথা থেকে জোটে সব, ঘিনঘিনে, কালো,
    আমায় হারিয়ে, মজা দেখতে ক্রমাগত এ ঘর ও ঘর করে।

    ১৮
    শিশুরাও বড়দের মতো বড়দের মনোযোগ আকাঙ্ক্ষায়
    প্রথম প্রথম দু এক পা হেঁটে ধুপ করে পড়ে যায়।
    এদিক ওদিক তাকিয়ে প্রত্যাশিত উচ্ছ্বাস উদ্বিগ্নতা খোঁজে
    না পেলে চিৎকার করে কেঁদে উঠে ডাকে বাবা মা কে।

    বড়রাও উৎসাহী পেলে নতুন নতুন খেলা দেখায় যত্নে —
    রেঁধে বেড়ে, দু-কলম লেখালেখি, ছবিছাবা যতটা কুলোয়
    প্রকাশিত করে দেখে ইতিউতি। ঘর ভরে আবর্জনায়।
    যা নিয়ে বলবে লোকে দু -একটা কথা, ভুলে যাবে
    রাস্তা পেরোলে। এইভাবে শৈশব আজীবন খুঁজে চলে।

    ১৯
    কখনও কি কোনও পাখি এসে বসেছিল কাঁধে?
    বাড়ি বদলের সময় যাকে রেখে আসি চিলেকোঠা ছাদে
    কয়েকটি দৃশ্য যেমন মেঘের দিনে ঠিক ওইখানে ছায়া পড়ে।
    রোদ্দুরটি সকালে অফিস যাওয়ার পথে
    একবার পানের দোকানে একবার থামে
    তারও কিছু পরে একগাদা কুঁচোফুল নিয়ে হলুদ স্কুলের বাস
    আরও কিছু ফুল তুলে নেয়।

    কীভাবে পাশের বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধটি বারবার
    পাঁচিলের গাছে জল দিতে অনেকটা ছেটানর ফলে
    মাঝে মাঝে টক ঝাল কথা এদিক ওদিক করে বলে
    সামনের বাড়ির জানলা খুলে যায় মশলার গন্ধে।
    লাইটপোস্ট সারাদিন ঘুড়ি টুরি উড়িয়ে সন্ধ্যায়
    মাথা নিচু করে অঙ্ক মুখস্থ করে আর ঢোলে।

    বাড়ি বদলালে ফেলে আসতেই হয়, দৃশ্যকে একা রেখে
    তারা এখনও কি আমাদের নিয়ে কথা বলে?

    ২০

    কুঁজোরও চিৎ হয়ে শুতে সাধ হয়
    মাঝে মাঝে নক্ষত্র যোগে বাড়িতে স্বজন আসে,
    যাতে মাংস রান্না হয়।
    তখন মদের গেলাস, ওঠে হাতে হাতে।

    তখন পাখিরা গান গায়, ফুলের মতো সহজ ঠান্ডা
    গায়ের পশম সোজাব্যাটে খেলে
    সলিল চৌধুরির গান বাজতেই থাকে পাশে
    গলা মেলে মনে হয়
    মনে হয় সুকর্মফল কিছু বছরের শেষে
    ডিভিডেন্ড দিতে আসে।

    ২১
    পৃথিবীতে স্থানাভাব হেতু আজকাল
    শুধুই দেওয়াল বিক্কিরি হয়।
    তাতে আটকান রকমারি বাহারি হুকে
    স্বচ্ছন্দে কাটান যায় উল্লম্ব দিনকাল।

    চলাফেরাও এখন প্রায় সিঁড়ি নির্ভর হয়ে গেছে
    নিচের নোংরা দেওয়াল থেকে মানুষ সিঁড়ি চেপে
    পরের দেওয়ালে যেতে আসতে পারে
    প্রায় তিনমাত্রিক সাপলুডো খেলার ছকে।

    দিব্য অ্যাঁকান বাঁকান সিঁড়ি মাঝে মাঝে দেওয়াল
    মানুষ দিব্য বেঁচে থাকে, হারনেস দেওয়ালে আটকে
    সহজেই আহার নিদ্রা মৈথুন —
    দেওয়ালে ঝুলতে ঝুলতে সে সিঁড়ির গন্ধ শোঁকে।
  • বিভাগ : ব্লগ | ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫১ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • ফরিদা | 238912.68.6756.47 (*) | ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ ১১:৩১65198
  • #
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত