
আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। মধ্য কলকাতার এক ব্যস্ত রাস্তা। অবশ্য শুধু এটুকু বললে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সম্পর্কে প্রায় কিছুই বলা হয় না। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে পশ্চিমবঙ্গ চিনেছে অন্যভাবে। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন এই ৩১ নং আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই রয়েছে রাজ্য বামফ্রন্টের সদর দপ্তর।যেখানে বসে বিগত চৌত্রিশ বছর রাজ্য-রাজনীতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেছেন বামফ্রন্ট নেতৃবর্গ। এ তো গেল আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের প্রাথমিক পরিচয়। কিন্তু কে এই আলিমুদ্দিন? ... ...

পশ্চিমবাংলার বিশ্রুত কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু ও তাঁর রাজনৈতিক জীবন ... ...

জামাত বিএনপি বা উগ্র ধর্মান্ধ মুসলমানদের সঙ্গে আরএসএস বিজেপি বিশ্ব হিন্দুদের আমি প্রচুর মিল খুঁজে পাই। যা তেমন কেউ জানেনা, কারণ তেমন কেউ আরএসএসকে আমার মতো এতো কাছ থেকে দেখেনি। এই মিলগুলো সংক্ষেপে বলা খুব দরকার। ... ...

এখন, এই কয়েকদিনের উত্তাল সময় পার করার সময় বারবার মনে হচ্ছিল ক্ষমতায় জামাত বিএনপি থাকলে কত সুবিধা হত আমার মত মানুষের। স্বপ্ন দেখতে পারতাম। ভাবতে পারতাম লীগ ক্ষমতায় থাকলে এমন হত না। স্বপ্ন দেখতাম আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেই সাম্প্রদায়িকতার বিষকে নির্বিষ করে আমাদের মুক্ত করবে। কিন্তু তা আর হওয়ার না। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এবং সম্ভবত বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী সরকার। তাহলে এখন আমরা কার কাছে যাব? কিসের স্বপ্ন দেখব? আমাদের সমস্ত আশার আলো নিভে যাচ্ছে, গেছে! ... ...

গৌর আর ওর মা, পুজোর মাঠ ছেড়ে, ফুচকার ঠেলা ঠেলে নিয়ে যায় মোড়ের মাথায়। নিতাই চাপাকল টিপে জ্যারিকেনে জল ভরে। গঙ্গার বড় ছেলে সুরজিৎ, চপে পুর ভরে বাবার কড়াইয়ে দেয়। ছোট ছেলে দেবজিৎ, পাশে বসে গালে হাত দিয়ে ভাবে - এবার মার্চে টেন্-টা পাস করতে পারলেই পিঙ্কিকে নিয়ে পালিয়ে যাবে টাটায়, জুটিয়ে নেবে একটা চাকরি। ... ...

লাতিন আমেরিকার রাজনীতি ও সংস্কৃতি সবসময়ই আমাদের কিছু না কিছু শেখায়। সেখানকার ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এখানে। এছাড়াও ব্রাজিলের একটি কাহিনীচিত্রের আলোচনার মাধ্যমে প্রতিরোধের সংস্কৃতি ও হিংস্রতার অনিবার্যতার তত্ত্ব নিয়ে প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। ... ...



দশমীর বেলায় নিরঞ্জনের শেষে আর দুষ্টকে দুষ্ট মানা হয় না। সবই ভেসে যাবে জলে। বাংলার এই পুজোয়, ঘরের মেয়ে উমার বিসর্জনের আগে তাঁর চিরশত্রুকেও বাড়ির মা-বউয়েরা আদর করে বিদায় দেন। করুণার এমন ছিন্ন মেঘ খেলা করে মানুষের মনে, সুদর্শনের চোখ জলে ভরে আসে। ... ...

ধীর লয়ের ছবির নির্মাণে আন্দ্রেই তারকোভস্কি, থিওঅ্যাঞ্জেলোপুলস, আব্বাস কিওরোস্তামি কিংবা বেলা টার --- এদের সবাইকে বোধহয় ছাপিয়ে গিয়েছেন ফিলিপাইন্সের পরিচালিক লাভ ডিয়াজ। এখানে তার কয়েকটি ছবি দর্শনের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ধরা থাকলো। ... ...

শুক্তোর সব আনাজ আগে ভেজে নেওয়া হয়। শুকনো লঙ্কা, জিরে, পাঁচফোড়ন দিয়ে আদাবাটা, সর্ষে বাটা, চিনেবাদামবাটা, চারমগজ বাটা দিয়ে কষা হয়। এবারে ভাজা আনাজ দিয়ে কষে জল, নারকেল দুধ, নুন, মিষ্টি দেওয়া হয়। নামানোর আগে ভাজা লঙ্কাগুঁড়ো, ভাজা সর্ষের গুঁড়ো, চিনেবাদাম গুঁড়ো ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এখানে শুক্তোয় ঝাল মশলার প্রাবল্য বেশি। অথচ ছোটবেলা থেকে ছড়া পড়েছি, ছি ছি ছি, রানী রাঁধতে শেখেনি। শুক্তুনিতে ঝাল দিয়েছে অম্বলেতে ঘি। এবাড়িতে অম্বলেতে ঘি না পড়লেও শুক্তোয় এত লঙ্কা দেখে খুবই অবাক হয়েছিলাম প্রথমদিকে। ... ...

দুর্গানবমীর প্রায় সব শব্দই বিয়োগান্তক। যে শব্দগুলো এতদিন উল্লাসের বাতাসে ভর করে আসছিল, এখন তারাই বিষাদের বাহন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। আজ দুপুরে নিয়োগী বাড়িতে মহাভোজ; সে উপলক্ষে সকাল থেকেই ঠাকুরদের কড়ায় ছ্যাঁকছোঁক – মাছের কালিয়া আর পাবদা-সর্ষে নামিয়ে বাড়ন্ত বেলায় বেগুনি আর ঝুরি আলুভাজার তোড়জোড়, খাবারের পাতে গরম গরম দেওয়া হবে। আরেকটা বড় কড়ায় মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল সাঁতলানো, আর পাশের বড় ডেকচিতে কিছুটা কম গুরুত্ব পাওয়া ফুলকপির তরকারি। মশলার গন্ধে ঢেকে যাচ্ছে বাড়ি, পাড়া। তবু সেই সব গন্ধ, শব্দ, রঙ আজ যেন ফুরানের আগের উজ্জ্বলতা নিয়ে আসছে। তাতে আনন্দের চেয়ে বিষাদের ভার বেশি। ... ...

দুটো ঘটনাকে পাশাপাশি রাখব আমরা। গত বছরের কথা। সুশান্ত সিংহ রাজপুত ‘আত্মঘাতী’ হলেন। আমরা যারা সুশান্তের নামটুকুই জানতাম কেবল, এ বার বিস্ময়াবনত হয়ে চেয়ে দেখলাম, পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে গেল সুশান্ত ন্যায়মঞ্চ, সুশান্ত স্মৃতিসংঘ। ‘খুনে'র বিচার চেয়ে পদযাত্রা হল, এমন কী কলকাতারও বেশ কিছু মহল্লায়, পল্লিতে। কালীঘাট মন্দিরে চড়ল পুজো। প্রতি রাতে অর্ণব গোস্বামী তারসপ্তকে চ্যাঁচামেচি করতে থাকলেন, গোটা একটা জাতি দু’-তিন মাস ধরে তারিয়ে তারিয়ে খেল সে সব। খুব কম শব্দ খরচ করলে, স্রেফ অপ্রমাণিত সন্দেহের ভিত্তিতে সুশান্তকে নিয়ে যে অদৃষ্টপূর্ব তোলপাড় উঠেছিল ভারতীয় জনসমাজে, তা যে কোনও মহাতারকার কাছেই ঈর্ষণীয় বেঞ্চমার্ক। ... ...

কথায় আছে, “অষ্টমীর পূজায় ফলে বিদায়ের আশ/ নবমী দশমী বাঁধে আর বারো মাস”। অষ্টমীর পুজোয় নাকি বিদায়ের আশা ফলে গেরস্থের বুকে – সে কেমন? অষ্টমীর পুজো-শেষে নবমীর দিকে পা দিলেই বিদায় বাদ্য বাজতে থাকে কোথাও, আর মাত্র দু’ দিন। এই ‘মাত্র দু’ দিন’-এর প্রহেলিকায় গেরস্থ-কন্যা গৌরীর আগের তিনটে আলো-ঝলমল দিন কোথায় যেন পালায়! তারা এসেছিল যেন এটুকু বোঝাতেই যে তারা থাকবে না। ... ...

পুজোবাড়িতে সপ্তমীসন্ধে এলেই এমন কিছু মানুষ থাকেন যারা সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে শুরু করেন, "এই তো সপ্তমীও কেটে গেল, অষ্টমী-নবমী দুটো দিন কেটে গেলেই ভাসান! ব্যাস! এত আনন্দ-আয়োজন সব শেষ!" এটুকু শেষ করে তারপর অপেক্ষাকৃত ছোটদের দিকে তাকিয়ে জগতের এই প্রবহমানতার রহস্য ভেদ করার আনন্দে হ্যা হ্যা করেন। ... ...

আজ অষ্টমীতে, গোপীনাথ মন্দিরে খিচুড়ি ভোগ। দুর্গাদেবীর কাছে টমেটো খেজুর, কাজুবাদামের চাটনি, কুমড়ো ঘন্ট, আট রকম ভাজা, সুজি, লুচি, সিমাইয়ের পায়েস, কলার বড়া, খই, মুড়কি, দুরকম নারকেল নাড়ু - এই হল অষ্টমীর ভোগ। ... ...

সপ্তমীর ভোগ সাতরকম ভাজা, ডাল, শুক্তো, আলুপটল, নটেশাকের ঘন্ট, চালতার চাটনি, সিমাইয়ের পায়েস, লুচি, সুজি, চিনি আর গুড়ের নাড়ু, সন্দেশ আর ফলপ্রসাদ। এটি আমার শ্বশুরবাড়ির পুজো। এই প্রসাদ কিন্তু আমরা দুপুরে পাবোনা। কারণ দুর্গাপুজো শেষ হতে সন্ধ্যে হয়ে যায়। তাছাড়া কায়স্থ বাড়ি বলে অন্নভোগ দেওয়া যায়না। ঠাকুরের রান্নাঘরে আজ যা রান্না হচ্ছে, তার থেকে কিছুটা সরিয়ে রেখে গোপীনাথের মন্দিরে অন্নভোগ দেওয়া হবে। সেটা আমরা দুপুরে খাব। আর দুর্গাদেবীর প্রসাদ খাওয়া হবে রাতে। মানে early dinner। গোপীনাথের মন্দিরে নিত্য অন্নভোগ গত দুশ বছর ধরে চলছে। কোনদিন বন্ধ হয়নি। আগে এলাকার বহু নিরন্ন মানুষের দুপুরের খাবারের যোগানদাতা ছিল এই মন্দির। কিন্তু এখন এলাকায় গরীব মানুষ কমে গেছে। পরিবারেরও সঙ্গতি কমেছে, তাই সাধারণ দিনে এখন সাত আটজনের মতো রান্না হয়। ... ...

ছোট পাড়ার এই রাস্তাটা আজ সন্ধেয় আলোয় সাজলো সম্পূর্ণ। দুটো গলি পেরিয়ে পাড়ার পুজো। আবছা সুরে সে পুজোর সূচনা ভেসে আসছে এত পথ। নিঝুম, হৈমন্তী রাস্তার উপর আলোর ঝালর, তারও উপরে কিছু বাড়ির বারান্দায় শৌখিন জ্বলা-নেভা আলো, আমাদের এই নিয়োগী বাড়ির গায়ে আলোর মালা, আর তারও অনেক, অনেক উপরে, হাল্কা হিমধরা আকাশে ইতস্তত তারাদের সংলাপ। বোধনের সময় হল। ... ...

নিয়োগীদের বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়। পুজো বহুদিনের; খাতায় কলমে হিসেব পাওয়া যায় দুই শতকের, তবে তার আগেও যে হতো – সে কথা প্রায় সবাইই বলেন এ বাড়ির। কলকাতার এই বাড়ি রাধানাথ তৈরি করে থাকতে শুরু করেন বছর ষাটেক আগে, অর্থাৎ এই বসতে পুজোর বয়স সেরকমই। বাড়ির পুজোয় বাড়ির গাছের ফুল থাকুক অঞ্জলির পাত্রে – সেই ইচ্ছায় রাধানাথ তখনই লাগিয়েছিলেন দোলনচাঁপা আর শিউলি। ... ...

সবচেয়ে বড় উৎসব আর অতিমারি। এই নিয়ে দ্বিতীয় বছর আমরা চিন্তিত। চিন্তা স্বাভাবিক, কিন্তু অবস্থা আগের থেকে যথেষ্ট ভাল। কিন্তু ... আসুন, কিছু তথ্য চট করে দেখে নিন। ... ...