• হরিদাস পাল  আলোচনা  সিনেমা

  • ব্রাজিলের দুটি ছবি : প্রতিরোধের বাস্তবতা ও আদর্শকল্প

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | সিনেমা | ১৭ অক্টোবর ২০২১ | ১৮৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • তথ্যচিত্র ‘ইওর টার্ন’ (Espero Tua Revolta) :

    গত শতাব্দীর ষাটের দশকের ইওরোপের ছাত্র আন্দোলনের কথা আমরা বেশ কিছুটা জানি। বিশেষত ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মে মাসের আন্দোলন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং রাজনীতির অভিমুখ কিভাবে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো সেসব গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়ই। কিন্তু একেবারে একবিংশ শতাব্দীর এই দশকেই লাতিন আমেরিকার কিছু দেশে ছাত্র আন্দোলন কিভাবে অনন্য মাত্রা অর্জন করেছে সেসব নিয়ে বেশি কিছু জানি না। "ইওর টার্ন" নামে এলিজা কাপাই নামক তরুণী পরিচালিত দেড় ঘন্টার তথ্যচিত্র ব্রাজিলের হাই স্কুল ছাত্র আন্দোলনকে ধরতে চেয়েছে তার বহুস্বরনির্মিত কন্ঠস্বরের মধ্য দিয়ে। না, এখানে প্রধান চরিত্ররা কোনো এলিট বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুণ মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা নয়। এরা মুলত একেবারে নিম্নবিত্ত দরিদ্র ঘর থেকে আসা সরকারী স্কুলে পড়া ছাত্রছাত্রী যাদের বয়স ১৫ থেকে ১৮ র মধ্যে মূলত। এদের মধ্যে আছে কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরী মার্সেলা, কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর র‍্যাপার কোকা এবং মিশ্র ও শ্বেতাঙ্গ ছাত্রছাত্রীরা। শুরুটা হয়েছিলো ২০১৩ সালের গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। মার্সেলা জানায় যে তার র‍্য্যাডিকালাইজেশনের তখনই শুরু। জীবনযাপনের জন্য সামান্য খরচ বাড়লেও তাদের গায়ে লাগে। কারণ ইতিমধ্যেই সে দেখেছে ‘পেটের দানাপানি জোটাবো না বাড়িভাড়ার টাকা মেটাবো’ এই চক্করে পরে তাকে ও তার মাকে (যে একজন সাফাইকর্মী) অনেকবার উচ্ছেদ হতে হয়েছে। মার্সেলা তাই প্রশ্ন করে ‘খাদ্য এবং বাসস্থান – এর মধ্যে কেন আমায় বেছে নিতে হবে? দুটো সমস্যাই কেন মিটবে না?’ একেবারে বেসিক ন্যায়সঙ্গত প্রশ্ন। ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকার প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছাঁটাই, জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কৃচ্ছসাধন নীতি – এসব চলতেই থাকে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাও পাওলোর গভর্নর ঘোষণা করেন যে প্রায় ১০০টা সরকারী স্কুল বন্ধ করে ছাত্রছাত্রীদের অন্য স্কুলে ট্র্যান্সফার করে দেওয়া হবে। এর বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন সংগঠিত করতে থাকে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদর্থক বার্তা না পেয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে আওয়াজ ওঠে – অকুপাই অ্যাণ্ড রেজিস্ট। স্কুলটা কাদের? সরকারের না কর্তৃপক্ষের? স্কুল হল ছাত্রছাত্রীদের। আওয়াজ ওঠে "ওরা স্কুল বন্ধ করবে, আমরা দখল করবো — শিক্ষার স্বার্থে, শিক্ষার মানের উন্নয়নের দাবীতে, শিক্ষার সরকারী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে।" প্রথম যে স্কুলটি ছাত্রছাত্রীরা দখল করে সেটির নাম ‘ডায়াডেমা’। এরপর একের পর এক স্কুল দখল হতে থাকে। ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চলা লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ চিলের অনুরূপ আন্দোলন থেকে প্রভাবিত হয়েছিল। ওই আন্দোলনের নেত্রী ক্যামিলা ভ্যালেহোকে গার্ডিয়ান পত্রিকার পাঠকরা ২০১১ সালের ‘পার্সন অব দ্য ইয়ার’ বেছেছিলেন। কিন্তু চিলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নেতৃত্বে ছিলেন। উপরন্তু তাঁদের অনেকের পেছনে রাজনৈতিক দলের সমর্থনও ছিলো। যেমন ক্যামিলা তখন থেকেই ছিলেন কম্যুনিস্ট পার্টির কর্মী। কিন্তু এখানে ছাত্রছাত্রীরা যেমন অল্পবয়স্ক, তেমনই তারা রাজনৈতিক অভিভাবকহীন। বস্তুত রাজনৈতিক দল তাদের আন্দোলনে মদত দিতে এলেও তারা সরাসরি প্রত্যাখান করেছে। ওপর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসবে এটা তাদের না-পসন্দ। যাই সিদ্ধান্ত হোক না কেন তারা গণপরিষদ বসিয়ে সেখান থেকে নিয়েছে। এমনকি একসময় দখলীকৃত স্কুলের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেলেও কিছু কিছু স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা দখল অভিযানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সেটাকেও সম্মান জানানো হয়েছে গণতন্ত্রের স্বার্থে। তারা স্কুল দখল করেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করে দেয় নি, নিজেদের মত করে স্কুল চালানোর চেষ্টা করেছে। তারা সিলেবাস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যে কেন তাদের বিপ্লব, বিদ্রোহ ও সমাজবদলের ইতিহাস শেখানো হয় না। কেন তাদের বর্ণবাদ, লিঙ্গবাদ সম্পর্কে সচেতন করা হয় না। তারা নিজেদের মত করে পরস্পরকে চেনা, সহমর্মী হওয়া এবং যৌথ জীবনযাপনের অনুশীলন করেছে। তারা স্কুল পরিষ্কার করা, যৌথ রান্নাঘর চালানো প্রভৃতি কাজ নিজেরা করেছে এবং সেখানে ছেলে মেয়ে বিভাজন ভেঙ্গে ফেলেছে। এছাড়াও তারা যৌনতার অধিকার, নিজ শরীরের ওপর অধিকার, সমকামিতার মত যৌন পছন্দের অধিকারকে সোচ্চারে ঘোষণা করেছে। বাঘা বাঘা আমলা ও পুলিস অফিসারদের সামলেছে, রাস্তায় অবরোধ করেছে, পুলিসি অবদমনের শিকার হয়েছে এবং সব বাধা অতিক্রম করে গভর্নরকে বাধ্য করেছে তার আদেশ প্রত্যাহার করতে।

    পরিচালক কিন্তু প্রত্যাশামত এখানে ছবি শেষ করেন নি। তিনি দেখিয়েছেন যে আরো আঘাত আসন্ন (যদিও এই ছবির শুটিং যখন শেষ হয় বোলসোনারো তখনও ক্ষমতায় আসেন নি কিন্তু তার নির্বাচনী প্রচারে সমাজতন্ত্র ও কম্যুনিজম ঘেঁষা সব অ্যাকটিভিজম বন্ধ করার হুমকি শোনা যাচ্ছে)। তাই প্রতিরোধের আখ্যানকে জারি রাখতে হবে। সেখানে ‘অকুপাই অ্যাণ্ড রেজিস্ট’ পথ দেখাবে। মনে রাখতে হবে চিলি আর ব্রাজিল, দুই জায়গাতেই প্রচলিত পথে বিক্ষোভ প্রদর্শন ফলদায়ক না হওয়ায় এই পথ বেছে নিয়েছিলো আন্দোলনকারীরা। তবে রাজনৈতিক দলকে অনুমতি না দিলেও ছাত্রছাত্রীদের সংহতি জানাতে দেখা গেলো বাস্তুহারা শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদককে। তাঁরাও সরকারি বাড়ি, কারখানা দখল করার আন্দোলন করছিলেন। কারো কারো হয়তো মনে পড়বে কানোরিয়ার জুট মিলের শ্রমিক আন্দোলনের কথা। হয়তো এবার আপনার পালা ভূমিকা নেওয়ার, ইয়োর টার্ন, বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো সেই কথাই বলে গেলো। আরেকটা ব্যাপার খুব উল্লেখযোগ্য, এতবড় একটা আন্দোলনে প্রধান ভূমিকায় ছিলো মেয়েরা। যেকারণেই বোধহয়, এই আন্দোলন নিয়ে তৈরি আরেকটি তথ্যচিত্রের নাম ‘ফাইট লাইক এ গার্ল’ (Lute como uma menina)। পর্তুগীজ নাম দিয়ে সার্চ করলে এই ছবিটি সাবটাইটেল সহ ইউটিউবে পাওয়া যাবে সাবটাইটেল সহ। যদিও এই ছবিটি আমাদের আলোচিত ছবিটির মত অত সুনির্মিত নয় তবুও একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে ছবিটি দেখলে।

    https://mubi.com/films/your-turn

    দুই

    ‘The moment of violence is the moment when the coloniser becomes aware of the existence of the colonized’, Glauber Rocha, The Aesthetics of Hunger.

    আমাদের দ্বিতীয় আলোচ্য ব্রাজিলের একটি কাহিনীচিত্র ‘Bacurau’ যেটি ২০১৯ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে মুক্তি পেয়ে বিশেষ জুরি পুরস্কার লাভ করে। এর পরিচালক দুই বন্ধু ক্লেবের মেনদোনসা ফিলহো এবং জুলিয়ানো দোরনেলস। নিকট ভবিষ্যতে ব্রাজিলের এক প্রান্তিক, রুক্ষ জমির শহর বাকুরাউতে টেরেসা নাম্নী তরুণী তার ঠাকুমা কার্মেলিতার সৎকারে যোগ দেওয়ার জন্য আসে। শহরটা আসলে কয়েক ঘর খুব সাধারণ মানুষদের নিয়ে তৈরি যার মধ্যে কার্মেলিতা ছিলেন এক গোষ্ঠীমাতা (Matriarch) আর মানুষগুলি বাঁচে একটা কমিউনিটির মত। সেখানে আছে একটা স্কুল, একজন ছিটেল স্বভাবের কিন্তু নরম মনের প্রৌঢ়া চিকিৎসক ডোমিনগাস পরিচালিত ডাক্তারখানা আর একটা ছোট্ট জাদুঘর যেখানে কলোনিয়াল আমলের প্রতিরোধের স্মারকচিহ্ন আছে। বেশ্যা, গিটার বাজানো বৃদ্ধ গায়ক, একজন শিক্ষক — এসব কিছুই সুন্দর সহাবস্থানে থাকে এখানে।

    কিন্তু বাকুরাই ভালো নেই। স্থানীয় নদীতে বাঁধ দিয়ে জলকে উপরদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে গেছে সেরা ভের্দের দুর্নীতিগ্রস্ত মেয়র টোনি জুনিয়র। এর মধ্যে নির্বাচন এসে পড়ায় বাকুরাউয়ের অধিবাসীদের সমর্থন আদায়ের জন্য টোনি আসে কিন্তু বাসিন্দারা তাকে বয়কট করে, বন্ধ দরজার আড়াল থেকে খিস্তি করে ভূত ভাগিয়ে দেয়। বাকুরাইতে জল সরবরাহের জন্য যে ট্যাঙ্কারের ব্যবস্থা বাসিন্দারা করেছিলো সেটাতে কেউ গুলি করে ফুটো করে দেয়। বাকুরাইয়ের আকাশে মাঝে মাঝে ইউএফও-র মত দেখতে ড্রোন ঘুরে বেড়ায়। রাত্রিবেলা দলে দলে খামার থেকে পালিয়ে আসা ঘোড়ারা বাকুরাইয়ের রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। ঘোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায় খামার মালিকের গোটা পরিবারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এক ট্যুরিস্ট দম্পতি বাইক নিয়ে বাকুরাইতে আসে। ফেরার পথে তারা বাকুরাইয়ের দুজনকে (যারা খামারবাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়েছিল) হত্যা করে। দেখা যায় বাকুরাইয়ের উপকন্ঠে একদল ট্যুরিস্ট, মূলত আমেরিকান, জড়ো হয়েছে যারা একটা সুনির্দিষ্ট মিশন নিয়ে এসেছে। এই দলের নেতা একজন বছর ষাটেকের আমেরিকান, কিন্তু এরা সবাই হেডফোনে আমাদের অশ্রুত কিছু নির্দেশ পায়। এরা বাকুরাইয়ের টেলি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, স্যাটেলাইট ম্যাপ থেকে বাকুরাইয়ের অবস্থান মুছে গেছে। এবার এদের লক্ষ্য বাকুরাইয়ের মানুষদের ওপর গণহত্যা চালানো। প্রতিটি মানুষ মারার জন্য প্রত্যেকে পয়েন্ট পাবে। এর মধ্যে বাকুরাইয়ের একটি নয় বছরের বালক মাঠে খেলতে গিয়ে এদের একজনের হাতে মারা যায়। অধিবাসীরা বোঝে যে তারা ভয়ংকর এক বিপদের সম্মুখীন। তারা লুঙ্গা নামে এক ওয়ান্টেড অধিবাসীর শরণাপন্ন হয় যে বাকুরাই থেকে কিছু দূরে এক পরিত্যক্ত দূর্গের মধ্যে কয়েকজন চেলা চামুণ্ডা সহ থাকে। লুঙ্গা বাকুরাইয়ের অধিবাসীদের সশস্ত্র করে এবং কৌশল রচনা করে। যখন বাকুরাইয়ের ওপর হামলা হয় তখন এই কৌশলে তারা এমন প্রতিরোধ গড়ে তোলে যে ঐ আক্রমণকারী দলের সাত আট জন সদস্য সবাই মারা পড়ে। লুঙ্গা সারা গায়ে রক্ত মাখা অবস্থায় আক্রমণকারীদের ছিন্ন মুণ্ডগুলো জাদুঘরের বারান্দায় সাজিয়ে দেয়। (লুঙ্গা পুরুষ হলেও মেয়েদের মত বড় চুল রাখে ও সাজগোজ করে)। আক্রমণকারীদের নেতা যে মেশিনগান চালাচ্ছিলো সে ধরা পড়ে যায়। বাকুরাইয়ের অধিবাসীদের লুকিয়ে থাকার জন্য যে সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছিলো সেখানে তাকে খাঁচার মধ্যে নামিয়ে জ্যান্ত কবর দেয়া হয় যদিও সে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুতাপহীন হুমকি দিতে থাকে। তার আগে অবশ্য ধরা পড়ে যায় যে টোনি জুনিয়ারের সঙ্গে এই মিশনের যোগাযোগ আছে। টোনিকে গাধার পিঠে উলটো করে বসিয়ে মুখ ঢেকে দিয়ে মরুভূমিতে মরতে পাঠানো হয়।

    বাকুরাই প্রতীকী ছবি আর চমৎকার এর উপস্থাপন। এর মধ্যে ওয়েস্টার্ন, সায়েন্স ফিকশন ইত্যাদি কয়েকটা ঘরানার কিছু ট্রোপ ব্যবহার করা হয়েছে।ছবির বক্তব্যের রাজনৈতিক মাত্রা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পরিচালকরা একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে ইরাকে যে মার্কিন সেনারা গিয়েছিলো তাদের মধ্যে এরকম একটা মানুষ মারার কম্পিটিশনের কথা তাঁরা শুনেছিলেন কোথাও। এছাড়াও ব্রাজিলের উপকূলবর্তী এলাকায় প্রমোদতরণীতে ধনী ট্যুরিস্টদের ব্রাজিলের নাবালিকা শিকারের জন্য দলে দলে আসার কথাও তাঁদের মনে ছিলো। এইসবের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ইতিহাস এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের স্মৃতিকে চিহ্নিত করেই এই ছবি তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের সিনেমা নোভো আন্দোলনের জনক গ্লবের রোচা লিখেছিলেন ‘হিংস্রতার নন্দনতত্ত্ব’। প্রতিরোধী মানুষের হিংস্রতা যে কখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে, কখন তা কাঙ্খিত এমনকি নৈতিক মাত্রা অর্জন করে তা বোঝার জন্য এই ছবি দেখতে হবে। অথচ আমাদের এখানে প্রতিরোধী রাজনৈতিক হিংস্রতা দেখাতে গেলেই এখনও সেই সত্তর দশকের কলকাতার সরু গলি বেয়ে পাঞ্জাবি পরিহিত নকশাল যুবকের দৌড়াদৌড়ি দেখাতে হয়। তাতে নস্টালজিয়ার ধুনুচিতে খানিক অক্ষম ধুনো দেওয়া ছাড়া আর কিছু হয় না। অথচ এই ছবি যেভাবে প্রতিরোধী হিংস্রতার অনিবার্যতাকে তুলে ধরে তা শুধু আমার মত সোস্যাল ডেমোক্র্যাট নয়, অনেক নয়া শান্তিবাদীদের সামনেই মোক্ষম চ্যালেঞ্জ হাজির করতে সক্ষম।

     

  • বিভাগ : আলোচনা | ১৭ অক্টোবর ২০২১ | ১৮৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ১৭ অক্টোবর ২০২১ ২১:২০499714
  • " অথচ এই ছবি যেভাবে প্রতিরোধী হিংস্রতার অনিবার্যতাকে তুলে ধরে তা শুধু আমার মত সোস্যাল ডেমোক্র্যাট নয়, অনেক নয়া শান্তিবাদীদের সামনেই মোক্ষম চ্যালেঞ্জ হাজির করতে সক্ষম।"
    --- এই কথাটা অনেকদিন ধরে ভাবছি, কোন কূলকিনারা পাই না।
    সম্ভবতঃ বছর পাঁচেক আগে অনুষ্টুপ পত্রিকার সৌজন্যে বার্ষিক সমর সেন স্মৃতি বক্তৃতায় সমাজতাত্ত্বিক  আশিস নন্দী "হিংসা" ও তার রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাতে উঠে আসে কীভাবে শাসক দল বা বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজেদের হিংসাকে ন্যায্য ঠাওরাতে নিজেদের "আক্রান্ত' বলে জিগির তোলে। 
        কিন্তু যে কথাটা উঠে এলো না  তাহল --বাস্তবে আক্রান্তের আত্মরক্ষার জন্য হিংসার আশ্রয় কখন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
  • Sandipan Majumder | ১৭ অক্টোবর ২০২১ ২৩:২৮499722
  • Ranjan Roy  এই প্রশ্নটি আমাকেও ভাবিয়েছে।  সেটাই এই ছবিটি  নিয়ে আলোচনা  করার অন্যতম প্রাসঙ্গিকতা। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন