
গত পঞ্চায়েৎ নির্বাচনে স্বৈরাচারী কাজকর্মের চূড়ায় পৌঁছে গেছিলো শাসকদল হিসাবে তৃণমূল। বিরোধীশূন্য পঞ্চায়েৎ-এর কদর্য ভাবনায় বিরোধীদের মনোনয়ন না দিতে দেওয়া থেকে বিরোধী সন্দেহে মানুষকে ভোট দিতে না দেওয়া, ছাপ্পাভোট, বুথ দখল এইসব কাজের ফলে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমে উঠেছিলো। সেই সাথে আমফান ত্রান ও তার আগেকার নানান দুর্নীতি তো ছিলোই। কাজেই প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া ছিলোই তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু পাশাপাশি অন্য অনেক কাজের ফলে গ্রামীণ মানুষের কাছে তৃণমূলের গ্রহনযোগ্যতাও ছিলো সন্দেহাতীত। সেগুলো নিয়ে পরে আলোচনা করবো। ... ...

দুর্গোপূজো শেষ, বিজয়াদশমীর বিসর্জন সবে শুরু। বিকেল পাঁচটা নাগাদ অন্ধকার ঘনিয়ে আসার সময় দূর থেকে কোথাও অবাঙালী পাড়ায় রাবণ জ্বলছে, বাজি পুড়ছে। তার দূরাগত গুরুগুরু ধ্বনি মিলিয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ঘড়ি ধরে দরজায় কড়া নড়ে উঠত। বাচ্চারা টের পেতাম ঢাকুরিয়া থেকে দুই জোড়া পিসিমা-পিসেমশায়রা এসেছেন! যাঁদের পদবি ছিল মজুমদার, বাঙাল উচ্চারণে মন্দার!দরজা খুলতেই ধোপদুরস্ত ধুতিপাঞ্জাবি পরা বিপুলবপু... ... ...

এতো শুধু বেড়াতে যাওয়া নয়, মনের মধ্যে কুড়কুড়িও। অনেকটা সময় বিপ্রদাসকে নিজের মত করে পাওয়া, অনেকরকম ভাবনা, উত্তেজনাও। আমার কাছে ডায়মন্ড হারবার বা বকখালি মানেই তখন বইয়ে পড়া জগত, "সপ্তপদী" সিনেমার এই পথ যদি না শেষ হয়। রাস্তায় যেতে যেতে অনর্গল বকবক। কথায় কথায় বেড়িয়ে গেল আমি সাঁতার জানিনা। শুরু হল স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিপ্রদাসের ভয় দেখানো। বকখালি যেতে হলে পার হতে হয় হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদী, আর সেটা নাকি পার হতে হয় ডিঙি নৌকাতে। এ নদীতে কামঠের প্রকোপ অনেক বেশি। যদিও কার্যক্ষেত্রে দেখলাম নদীটা অত চওড়া না তবে গভীরতা বেশি। আর ডিঙি নৌকা না সাধারণ দাঁড় টানা নৌকায় পারাপার। যদিও ভেসেলে করে বাস বা গাড়ী সমেত পার হওয়া যায়। তবে তার নির্ধারিত সময় আমরা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছি। এরপর আঁধার নামতেই শুরু হল লোডশেডিং, গ্রাম্য রাস্তায় সাপখোপ আর তেনাদের গল্প। এ যেন নতুন করে ইন্দ্রনাথের সাথে শ্রীকান্তর অ্যডভেঞ্চারে যাওয়া ... ...

তিনি বুঝতে পারেন শেষ হাসিটা পর্দা থেকে বেরিয়ে, তাঁর মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে ব্যালকনি দিয়ে বেরিয়ে যায়। সুবিনয়ের মনে হয় শহরের সমস্ত বাড়ির জানলা, ব্যালকনি দিয়ে হাসিরা বেরিয়ে আসছে। শেষ হাসি। ... ...


ফাদার্স ডে ইস্পেশাল ... ...

এখন পর্য্যন্ত যা নমুনা দেখা গেছে তাতে মনে হচ্ছে ছোটে পালোয়ানের বংশটি বেশ খানদানি। ওর প্রপিতামহের নাম পর্য্যন্ত মনে আছে! আর সমস্ত খানদানি বংশের ছেলেদের মত ও নিজের পরিবারের গৌরবগাথা শোনাতে ভালবাসে। কখনও কখনও কুস্তির আখড়ায় সাথিদের কিসসা শোনাতে থাকেঃ ... ...

রাতের জঙ্গলে বন-ফায়ারের আয়োজন হয়েছে; কাবাব ঝলসে উঠছে সেই আগুনে, ফটাফট কাঠ ফাটছে। আগুন ঘিরে চেয়ারে গোল হয়ে বসে আছে মাঝবয়সী বন্ধুরা, হাতে হুইস্কির গ্লাস। এক বন্ধু বলছে, "একবার একজন লোক আরেকজনকে জিজ্ঞেস করলো, 'জঙ্গলে যাচ্ছ, যদি পথে বাঘ এসে যায়, কী করবে?'" ... ...


ইতিহাস বলে, অতিমারী মানুষকে বাধ্য করেছে অতীত থেকে নিজেকে ছিন্ন করে নতুনভাবে জগৎকে ভাবতে। এটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এই প্যান্ডেমিক একটি পোর্টাল, একটি প্রবেশপথ -- এক পৃথিবী ছেড়ে অন্য পৃথিবীতে যাওয়ার। ... ...


ভোজনরসিক বাঙালি ... ...

মানুষের চোখ যে এত সুন্দর তা এই অতিমারী না হলে হয়তো জানতেই পারতাম না। মহিলা, পুরুষ, শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ - সবার চোখ দৃশ্যমান। নাকের নিচ থেকে ঢাকা মুখোশে, মাথা আর কপালও অনেকেরই টুপির নিচে চলে গেছে। বাজারে ঢোকার মুখের রাস্তায় পাঁচটা মিনিট দাঁড়িয়ে যান, দেখুন আশপাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষের চোখ। কারও চোখ যামিনী রায়ের ক্যানভাসের মত, কারোর আবার রবি ঠাকুরের কালোহরিণ। কারও চোখে সরু কাজলের টান, কারোর চোখের উজ্জ্বলতা আবার চশমার ভিতর দিয়েও স্পষ্ট। কারও চোখ আবার অন্য গল্পও বলে। ... ...


একদিন গঙ্গার ঘাটে বসে বসে অনেক ভাবলাম, মনে হল, আচ্ছা ছোটবেলা থেকে শেখা মুল্যবোধ আর সংস্কারের বিসর্জনও তো আত্মহত্যারই নামান্তর। তাহলে আর সতীত্বের সংস্কারে নিজেকে বেঁধে, বেঁচে থেকে কি লাভ! তাই একগামিতা-সতীত্ব-সংস্কার বিসর্জন দিয়ে শুরু করলাম সেক্স ওয়ার্ক। ম্যাসাজ পার্লার, টয়লেট, হাইওয়ে যা এতদিন দূরে ছিল সেই সব জায়গায় যাওয়াও শুরু হল আমার। ভাষা ভাষা ধারণা ছিল "বহুজনের সাথে সেক্স করলে এডস হয় আর এডস হলে মানুষ মরে যায়।' আর তাই এই সহজ ও পেইনলেস আত্মহত্যার এই রাস্তাই বেছে নিয়েছিলাম সেদিন।তখনও এত ম্যাসাজপার্লারের ছড়াছড়ি কোলকাতা শহরে হয়নি। দক্ষিণ কোলকাতার সদ্যগজানো সেসব পার্লারে পয়সা ওয়ালা অভিজাত লোকেদের আসর।যদিও আজন্মলালিত সংস্কার বিসর্জন দেব বললেই দেওয়া যায় না। আর তাই একদুদিন যেতে না যেতেই ম্যাসাজ পার্লারের ম্যাসিওর কাম পুরুষ যৌনকর্মী হওয়া মোটেই শান্তি দিচ্ছিল না আমাকে। ... ...

গত শতাব্দীর শেষভাগ থেকে লাতিন আমেরিকায় বিভিন্ন দেশে বামপন্থী নানা দলের অগ্রগতি এবং অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভ গোটা পৃথিবীর বামপন্থার আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুব সম্প্রতি পেরু এবং চিলিতেও এরকম কিছু অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি এবং পূর্ব ইওরোপের সমাজতন্ত্রের বিলুপ্তির পর এই দেশগুলিই হয়ে উঠেছে বামপন্থী এবং প্রগতিশীলদের ভরসাস্থল। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে রাষ্ট্র পরিচালনার বিংশ শতকীয় সমাজতান্ত্রিক মডেল অর্থাৎ তথাকথিত সর্বহারার একনায়কত্ব এদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অনুপস্থিত। তার জন্য সাময়িক কিছু মূল্য চোকাতে হলেও শেষ বিচারে তা গণতন্ত্রের অন্তর্বস্তুকে রক্ষা করতে বেশি কার্যকরী। এটা আমাদের দেশের বামপন্থীদের উপলব্ধি করা উচিত। ... ...

-দ্যাখো, বীনস, অ্যাসপারাগস, স্পিনাচ, ব্রকোলি এই সব তো দিন রাত খাইয়ে খাইয়ে আমাকে প্রায় শুঁয়োপোকা করে ফেললে -মানে কি বলতে চাইছো -তেমন কিছুই বলতে চাইছি না, শুধু তোমার নোটিশে আনতে চাইছি যে ঘাস পাতা খেয়ে খেয়ে আমার অবস্থা নিমো স্টেশনের ধারে সজনে গাছে থাকা শুঁয়োপোকা গুলোর মত হয়ে গেছে! দ্যাখোনি তুমি স্টেশনে শুঁয়োপোকা? -দেখেছি, কিন্তু তার সাথে তোমার কি সম্পর্ক ... ...

এভাবে বিদেশি শব্দ ধার করায় বাংলাভাষা সমৃদ্ধ হচ্ছে না উচ্ছন্নে যাচ্ছে সেই বিতর্কে যাবার আগে একটু পিছিয়ে গিয়ে দেখা যাক এইরকম পরিস্থিতিতে আগের যুগের মানুষেরা কি করত। কিভাবে অভ্যর্থনা জানাত, বিদায় জানাত, কিভাবেই বা অনুতাপ বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত? ... ...

মানুষের বাসনার ইতিহাস বড় বিচিত্রপথে প্রবাহিত। সমাজ ও ধর্ম তার যে অনুমোদিত রূপগুলি গড়ে তোলে তাকে ফাঁকি দিয়েই গড়ে ওঠে তার বিচিত্র প্রকাশ। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক শাসনকাল থেকেই তাতে অবদমনের মাত্রা আরো বেড়েছিল। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও এই অবদমন যে সামাজিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের অংশ হিসেবে টিঁকে থাকে তা পিতৃতন্ত্রের হাতকেই আরও শক্ত করে। তাই তাকে চিনে নেওয়া আজ জরুরী। ... ...

আমাদের অনেকের বাড়িতেই টেপ রেকর্ডারে বেজে গেছে হেমন্তের গান, একের পর এক। কখনও ঘোরের মধ্যে শুনেছি, কখনও বহুদিন পর, কখনও কিছুদিনের তফাতে। কিছুটা আলো-আঁধারের গান গেয়েছেন হেমন্ত; কখনই শোকে সম্পূর্ণ নিমজ্জন নেই সেই কণ্ঠে, আবার আনন্দের পাল তরতরিয়ে ছুটেছে, এমনও নয়। একটি একটি করে গান গাইতে গাইতে তিনি এগিয়েছেন, জড়িয়ে গেছে আশেপাশে কত নাম তাঁর সঙ্গে। সলিল চৌধুরী, নচিকেতা ঘোষ বললেই এঁদের মানিকজোড় নামটি হেমন্তের; এমনকি মহানায়ক উত্তমকুমার বললেও হেমন্তই মহানায়কের কণ্ঠ। ... ...