• হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • লাতিন আমেরিকা আর ভারতীয় বামপন্থার দূরত্ব   

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৮ জুন ২০২১ | ৫৪৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • নব্বই দশকের গোড়ায় কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে পেরুর ‘লায়নস ডেন’ ছবিটা দেখানো হয়েছিল। ওই ছবিতে পেরুর দুর্গম অঞ্চলগুলিতে মাওবাদী ‘শাইনিং পাথ’ বনাম রাষ্ট্রযন্ত্রের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেখানো হয়েছিল। ষাটের দশকের শেষের দিকে শাইনিং পাথের প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক অ্যাবিমায়েল গুজম্যান। আশির দশক থেকে ১৯৯২ সালে গুজম্যানের গ্রেপ্তারি পর্যন্ত প্রায় ৭০০০০ মানুষ এই সংঘর্ষে মারা গেছেন বলে জানা যায়। শাইনিং পাথের সুবর্ণযুগে তার সদস্যসংখ্যা প্রায় দশ হাজারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে তার একটি উপশাখা ‘কমাণ্ডার হোস’ এর নেতৃত্বে কয়েকশ সদস্য নিয়ে দুর্গম অঞ্চলে টিঁকে আছে। শোনা যায় কোকেন এর উপাদান কোকার বাণিজ্যে স্থানীয় ড্রাগ পাচারকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এই গোষ্ঠীটি। যাই হোক না কেন, সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের আগেও ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে তারা গত ২৩ শে মে তারিখে দুই শিশু সহ আঠার জন সাধারণ গ্রামবাসীকে হত্যা করেছে। তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম মাওবাদী গেরিলা গোষ্ঠী আর তাদের কার্যক্রমের সাধারণ মিল সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে।

    কিন্তু পেরুতে সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রথম রাউণ্ডে যিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন সেই পেদ্রো কাস্তিজো (Pedro Castillo) দ্বিতীয় রাউণ্ডে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফুজিমোরির থেকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় নি। বলা হচ্ছে তিনি বামপন্থী। নিশ্চয়ই তাই, কারণ তিনি তার শ্লোগানে, কর্মসূচীতে, ভাবনায় সেই ঈঙ্গিতই দিয়েছেন। কিন্তু তার বামপন্থার সঙ্গে কম্যুনিস্ট পার্টির কার্যপ্রণালীর কোনো যোগ নেই। ২০১৭ র শিক্ষক ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে (তিনি একই সঙ্গে কৃষক এবং প্রাথমিক শিক্ষক) কেউ তাকে বিশেষ চিনত না। কাস্তিজো যে পার্টিগুলি করেছেন তার নামগুলি শুনলেই বোঝা যাবে যে তা প্রথাগত কম্যুনিস্ট পার্টি নয় --- (১) ২০১৭ র আগে ‘সম্ভাব্য পেরু’ (২) ২০১৭ থেকে ২০২০ নির্দল (৩) ২০২০ থেকে ‘মুক্ত পেরু’। নির্বাচনের আগে তাঁকে অবশ্য কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই রাখে নি।

    এতো গেল পেরুর কথা। কিছুদিন আগে চিলিতে কী হল? প্রবল বিক্ষোভের পর স্বৈরশাসক পিনোশেটের আমলে তৈরি সংবিধান বাতিল করার জন্য চিলির জনগণ আইনসভার ১৫৫ জন সদস্যকে নির্বাচন করলেন। সেখানে দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রন্টের (২৮টি আসন) একটি শরিক কম্যুনিস্ট পার্টি। তৃতীয় বৃহত্তম ফ্রন্টের (২৭টি আসন) অন্যতম শরিক সোস্যালিস্ট পার্টি। ক্ষমতাসীন ফ্রন্ট ‘এগিয়ে চল চিলি’ ৩৭টি আসন পেলেও এক তৃতীয়াংশ আসন না পাওয়ায় ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতাও হারিয়েছে। তার সঙ্গে যেটা উল্লেখযোগ্য হল প্রতিষ্ঠানবিরোধী বহু গোষ্ঠীর প্রার্থীর (মূলত বিভিন্ন মতের বাম) নির্বাচনে জয়লাভ। সুতরাং পেরুতে বামপন্থার অগ্রগতিতে আমরা আনন্দিত হতে পারি বটে কিন্তু তার সঙ্গেও প্রচলিত কম্যুনিস্ট পার্টির সাংগঠনিক মিল খুঁজতে গেলে বহু ক্ষেত্রেই আমাদের হতাশ হতে হবে।

    লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিলে লুলার নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টির জয় এই শতাব্দীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছিল বামপন্থার স্বপক্ষে। তার কিছুদিন আগেই অবশ্য ভেনেজুয়েলায় হুগো শাভেজের নেতৃত্বে সংযুক্ত সমাজবাদী দল ক্ষমতায় এসে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল। এই দুই দেশেই কম্যুনিস্ট পার্টি প্রান্তিক শক্তি হলেও যথাক্রমে লুলা ও শাভেজকে সমর্থন করার পর তাদের জনসমর্থন বেড়েছিল। লুলা এবং শাভেজ দুজনেই নিজেদের দেশে দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষদের স্বার্থে বেশ কিছু কর্মসূচী নেন যদিও লুলার মধ্যে উদার অর্থনীতির প্রতি কিছু ঝোঁকও দেখা যায়। বলিভিয়ায় মুভমেন্ট ফর সোস্যালিজমের নেতা ইভো মোরালেস প্রথম আদিবাসী নেতা হিসেবে ২০০৬ সালে প্রেসিডেণ্টের আসনে বসেন। এই সবকটা দেশেই প্রাতিষ্ঠানিক কম্যুনিস্ট পার্টিগুলির অবস্থান প্রান্তিক। তবুও আমরা এই জয়গুলিকে বামপন্থার জয়, এমনকি সমাজতন্ত্রের অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত করেছি। তাতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু বুঝতে হবে যে বিংশ শতকের সোভিয়েত ইউনিয়ন বা চীনের সমাজতান্ত্রিক মডেল, পার্টি ও সরকার পরিচালনার পদ্ধতি থেকে এই বামপন্থা একদমই আলাদা। তাহলে এই বামপন্থার সাফল্যের কথা যখন আমরা বলব তখন তার ভিন্নতার কথাও আমাদের বলতে হবে। একটা বিষয় লক্ষ্য করার মত যে এই ক্ষমতাসীন দলগুলি একেবারে নতুন করে গড়ে উঠেছে। কারোরই ইতিহাস পুরোনো নয়। এদের দল পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কসবাদ পথপ্রদর্শক নীতি এবং ভাবাদর্শ। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘সর্বহারার একনায়কতন্ত্র’ নামক কোনো তত্ত্বের দ্বারা এরা চালিত নয়।দল বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে লেনিনবাদকে আদৌ কোনো গুরুত্ব দিতেও এরা নারাজ।

    এখন প্রশ্ন হল যে একটি বামপন্থী সরকার কি সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা ছাড়া সমাজতন্ত্রের দিকে এগোতে পারে? বহুদলীয় গণতন্ত্রে কি সেই অবকাশ আছে? ধরুন, চিলিতে যখন সালভাদোর আয়েন্দের নেতৃত্বে একটি বামপন্থী সরকার গঠিত হয়, সেই ১৯৭৩ সালেই আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রত্যক্ষ মদতে সেখানে অভ্যুথ্বান ঘটানো হয়, আয়েন্দে সহ বহু প্রগতিশীল মানুষকে হত্যা করা হয় এবং জেনারেল পিনোশেটের মত স্বৈরশাসককে ক্ষমতায় বসানো হয়। হুগো শাভেজকে ক্ষমতাচ্যুত করার বহু চেষ্টা আমরা দেখেছি। ইভো মোরালেসকে দেশত্যাগে বাধ্য করার মত ঘটনা ঘটেছে। ব্রাজিলে লুলাকে দুর্নীতির দায়ে কারারুদ্ধ করে তাঁর নির্বাচনে লড়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া যে একটা সুপরিকল্পিত চক্রান্ত ছিল, সেটা এখন ফাঁস হয়ে গেছে। সেই একই চক্রান্তের পথ ধরে লুলার উত্তরসূরী দিলমা রুসেফকে ইমপিচ করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে বোলসোনারোর মত দক্ষিণপন্থী স্বৈরশাসকের ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি করা হয়। এইসব ঘটনা দেখিয়ে অনেকে দাবি করতে পারেন যে সর্বহারার একনায়কত্ব কেন প্রয়োজন। আর মার্কস এঙ্গেলস কম্যুনিস্ট ইস্তাহারেই সর্বহারার একনায়কত্বের কথা বলেছেন। এখানে বুঝতে হবে যে মার্কস যখন ১৮৪৮ সালে কম্যুনিস্ট ইস্তাহার লেখেন তখনও সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ সেভাবে দেখে যেতে পারেন নি। তখনও তাঁর চোখে বুর্জোয়া গণতন্ত্র মানে বুর্জোয়া একনায়কত্ব। এমনকি সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন গড়ে ওঠে তখনও সংসদীয় গণতন্ত্রে সর্বজনীন ভোটাধিকার পর্যন্ত স্বীকৃত ছিল না, এমনকি উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলিতেও। তাই তাকে এমন একটা প্রকল্পের কথা ভাবতে হয়েছিল যাতে শ্রমিক শ্রেণীর স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। আর সেই ছিদ্রপথেই মূলত প্রবেশ করেছিল বিশ শতকের সমাজতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভাইরাস—সর্বহারার একনায়কত্বের নামে পার্টির, পার্টির নামে গোষ্ঠীর, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তির একনায়কত্ব। তাই আজকের যুগে বামপন্থাকে আমরা যখন স্বাগত জানাই, বিশেষত লাতিন আমেরিকায়, তখন দেখতে হবে এই একনায়কত্বের মডেল ছাড়াই কিভাবে তারা বামপন্থাকে বাঁচিয়ে রাখছে। হ্যাঁ, তাদের বিরুদ্ধে দেশের ভেতরে বাইরে ষড়যন্ত্র কি হচ্ছে না? হচ্ছে যে, তার উদাহরণ তো আমরা এখনই দেখলাম। এর জন্য কি তাদের দাম দিতে হচ্ছে না? হচ্ছে বৈকি। কিন্তু তার জন্য গত শতাব্দীর পরীক্ষিত,পরিত্যক্ত তত্ব সর্বহারার একনায়কত্বকে আঁকড়ে থাকার কোনো দরকার নেই। দরকার শ্রেণী অভিমুখ বজায় রেখে গণ উদ্যোগ আর গণ সমাবেশ ঘটানো, সাম্রাজ্যবাদ আর পুঁজিবাদের বিপদ সম্পর্কে জনগণকে রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা, তৃণমূলস্তরে গণতন্ত্রের সম্প্রসারণ। লক্ষ্য করার বিষয়, লাতিন আমেরিকায় কিন্তু দক্ষিণপন্থী শক্তি ইতিহাসের চাকা পুরোপুরি উল্টোদিকে ঘোরাতে সক্ষম হচ্ছে না। বলিভিয়ায় ইভো মোরালেসের দল জয়লাভ করেছে, তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। ব্রাজিলে লুলা অভিযোগ মুক্ত হয়েছেন, নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে খেলা ঘুরে যাবে। ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে এত সংকট সত্বেও ক্ষমতাচ্যুত করা যায় নি। সব মিলিয়ে বিপরীত পক্ষের ওপর একনায়কত্বের নামে চূড়ান্ত অবদমন না নামিয়েও এবং এই সহিষ্ণুতার জন্য কিছু দাম দিতে হলেও গণতান্ত্রিক ভাবে সংসদীয় পথেই বামপন্থাকে রক্ষা করা যায় যদি তার পক্ষে রাজনৈতিক গণ উদ্যোগকে ক্রিয়াশীল রাখা যায় এবং সেটাই কাম্য। আমাদের দেশে যাঁরা লাতিন আমেরিকায় বামপন্থার জয় বলে তাদের বক্তব্য, প্রতিবেদন বা মুখপত্রের খবরে উল্লাস প্রকাশ করেন তাঁরা নিজেরা এই রকম সংস্কারমুক্ত বামপন্থার পক্ষে হাঁটতে প্রস্তুত কি?
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৮ জুন ২০২১ | ৫৪৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
ছাদ - Nirmalya Nag
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Kallol Dasgupta | ১৮ জুন ২০২১ ০৯:১৬495039
  • খুব ভল লাগলো পড়ে। বিশেষ করে মার্কস কেন সর্বহারার একনায়কতন্ত্রের কথা ভেবেছিনেন তার যুক্তিটি ঠিকঠাক মনে হয়েছে। অনেক কিছুই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। ধ্রুপদী মার্কসবাদ যে পদ্ধতিতে এবং যুক্তিতে বিপ্লবের কথা বলে, সেটা আজকের দুনিয়ায় কতটা খাটে, সে নিয়ে ইন্তার অবকাশ আছে। মার্কসের পুঁজিবাদের ক্রিটিক এখনো মান্য। কিন্তু পুঁজি ও শ্রমের মধ্যেকার সম্পর্ক আবার নতুন করে ভাবা দরকার। পুঁজি-উত্তর উৎপাদন ব্যবস্থা কি অতীতের (বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের গ্রমীণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার) পুনঃ অবলোকন দবী করে না ?    

  • Ranjan Roy | ১৮ জুন ২০২১ ১০:২৬495041
  • দুটো ভাইরাস---- সর্বহারার  একনায়কত্ব ও  গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা। 


    লেখা ভালো লেগেছে।

  • Sandipan Majumder | ১৮ জুন ২০২১ ১৩:১৭495055
  • @Kallol Dasgupta @ Ranjan Roy দুজনকেই  ধন্যবাদ। যদি নূতন  চিন্তার উপাদান  কিছু দিয়ে থাকতে পারি তাহলেই  আমার ভাবনা সার্থক। 

  • Tuhinangshu Mukherjee | ০৪ আগস্ট ২০২১ ১৯:৪৫496418
  • খুব ভালো লেখা। জরুরি কিছু বিষয় উঠে এসেছে। তবে ভারত তথা জনসংখ্যা ও তার বিস্তার এবিং বৈচিত্র্য একটা আলোচনার আলাদা বিষয়। লাতিন এ যেটা অনেকটা সম মুখী। বিশ্বায়নের যে ছাট টা আমাদের এখানে এসেছে সেটাকে কেন্দ্রীয় স্তরে প্রতিরোধ করা প্রায় অসম্ভব। রাজ্য স্তরে যেটা আমাদের কমিউনিস্ট পার্টি হয়ত পারত কিনতু সেখানে ই তাদের ব্যর্থতার শুরু।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন