এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্মৃতিচারণ

  • তরতরিয়ে রথের টানে.....

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    স্মৃতিচারণ | ০৩ জুলাই ২০২৫ | ৬৭৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • তরতরিয়ে রথের টানে

    রথের কথা, মেলার কথা মাথায় এলেই আমার মন ফুড়ুৎ করে উড়ে যায় সেই ফেলে আসা শিশু কিশোর বেলায়। আমাদের মতো প্রবীণ, বুড়িয়ে যাওয়া মানুষগুলোর এমনটাই নাকি দস্তুর। তা কি আর করা যাবে? বোষ্টম ঠাকুরের ঝোলার মতো আমার‌ও যে অনেক গল্প অমন একটা মন ঝোলার মধ্যে জমা রয়েছে। ফুরসৎ পেলেই কেবল ঝোলা হাতড়ে হাতড়ে যুৎসই কোনো কাহিনি খুঁজে এনে গপ্পো ফেঁদে বসি।

    রথ দেখা, ভিড় ঠেলে ঠেলে মেলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ঘুরঘুর করার পর্যায়ে বয়স গাড়ি পৌঁছনোর আগের সময়টা কেটেছে ঠাকুমা আর বাবার মুখে রথের গপ্পো শুনে শুনে। ঠাকুমা বলতেন – রথ হ‌ইলো গিয়া আমাগো ধামরাইয়ের রথ। একথা বলেই ঠাকুমা কেমন যেন উদাস হয়ে যেতেন! অনেক পড়ে বুঝেছি এক ছিন্নমূল পরিবারের মানুষের দুঃখটা ঠিক কোথায়? সামান্য এক স্থান নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুখ দুখের অনন্ত স্মৃতি। এই সময়টা এলেই ঠাকুমাকে গপ্পের হারিয়ে যাওয়া খেইটা মনে করিয়ে দিতে হতো। ও ঠাকুমা, কথা ক‌ওনা ক্যান? চাকাগুলান কি কাদায় ডাইবা গেল? সম্বিত ফিরে পেয়েই ঠাকুমা আবার নতুন করে শুরু করেন। রথের দিন যশোমাধবরে নিয়া কি উৎসব আমাগো। মাধব বাড়ি আছিলো আমাগো………। রথ গড়িয়ে চলে।জমে ওঠে মেলাও।

    গপ্পো শোনার পর্ব শেষ করে যখন পায়ে পায়ে ভিড়ে ঠাসা সত্যিকারের মেলায় হাজির হবার যোগ্য হয়ে উঠলাম তখন থেকেই শরীর আর মনের সঙ্গে পাকাপাকি ভাবে জুড়ে গেলো নাগেরবাজারের রথের মেলা। কাঠের তৈরি রথ। মেরেকেটে ফুট পনেরো তার উচ্চতা ; কিন্তু তাতে কি? আমরাও যে তখন চার - সাড়ে চার ফুটি। আমাদের কাছে তাইই ঢের বড়ো। সেবার অবশ্য আমাদের এক বন্ধু মাহেশের রথ দেখে এসে বললো – ফুঁ! এ আবার রথ নাকি? মনে খুব ঝড় তুলেছিল বন্ধুটির অমন বক্তব্য। তখন আর ছড়া কেটে বলতে পারিনি –

    যত‌ই হোকনা বড়ো মাহেশের রথ
    সবসেরা আমরাই, এই মোর মত।

    সারাবছর রথটা রাখা থাকতো বাবুতলার মন্দিরের ভেতরে। রোজ তাতে ফুল তুলসীপাতা দেওয়া হতো বটে, তবে রথের দিন এগিয়ে এলে‌ই রথকে ঘিরে বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়ে যেতো। ঘষেমেজে তাকে পরিস্কার করে রেখে দেওয়া হতো দিন কতক। তারপর প্রতিমার ঐ একমেটে দোমেটে করার মতো করে তার অঙ্গসজ্জার পর্ব চলতো বেশ কয়েকদিন ধরে। প্রথমে গোটা রথটাকেই সাদা প্রাইমার রঙে রাঙিয়ে নিয়ে পরে চলতো নানান আল্পনা আঁকার কাজ। আমরা স্কুল ফেরত মাঝে মাঝেই ঢু মারতাম ঐ মন্দিরে কতদূর এগলো রঙের কাজ তা সরজমিনে দেখতে। তেমন এগোচ্ছে না মনে হলে মন্দিরে থাকা উড়িয়া ঠাকুরমশাইদের তাড়া দিয়ে বলতাম – কি গো? রথ তো এসে গেল! রঙ শেষ হবে কবে? তাঁরাও হেসে উত্তর দিত – হেবে,হেবে।সময়কু হেবে।

    সে বছর আমার ভাইকে বাবা একটা দোতলা কাঠের রথ কিনে দিয়েছিলেন। আমি আর বোন বয়সে বড়ো হবার সুবাদে তার দখল নিতে খুব দেরি করিনি। আসলে আমরাও মনে মনে চাইছিলাম অমন একটা রথ আনা হোক বাড়িতে। ভাইয়ের জন্য আনা রথের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতাম সবাই মিলে।দিনক্ষণ মেনে রথের দিনটা এগিয়ে এলেই সেই ডবল ডেকার রথকে নিয়ে আমাদের তিনজনের ব্যস্ততা বেড়ে যেত। রঙিন কাগজ, কাগজের ফুল, পাতা বাহার গাছের ডাল দিয়ে রথকে সাজিয়ে তোলা হতো। সেও এক কর্মযজ্ঞ বটে ! বহু বছর পর নিজের ছেলে -মেয়ে, ভাইপো- ভাইঝির আবদার মেনে রথ সাজানোর অবকাশে বারবার ফিরে ফিরে গিয়েছি আমার কিশোরবেলায়, আমাদের কিশোর বেলায়। এখন বেশ বুঝতে পারি, সেকালে আমাদের অ্যাকটিভিটির অন্ত ছিলোনা। উৎসব ছিল একটা উপলক্ষ যাকে, ঘিরে চলতো আমাদের মজে থাকার হরেক কর্মকাণ্ড। সেইসব কাজের মধ্য দিয়েই এক নীরব নির্মিতির পর্ব চলতো। এমনটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই ঘটেছে তেমনটা নয়, ওই সময়ের সমাজ যাপনটাই অমন ধারার ছিল।

    আমি তখন সবে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে ঢুকেছি। খবর পেলাম স্কুলের পক্ষ থেকে রথের মেলায় এক বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা যেন সেখানে যাই। কী সেই উদ্যোগ? স্কুলের ছাত্রদের নিয়ে রথের মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য পানীয় জলের সত্র দেওয়া হবে। ছাত্রদের মধ্যে যাতে সমাজমনস্কতা গড়ে ওঠে সেজন্যই এমন প্রচেষ্টা আমাদের হেডমাস্টার মশাইয়ের। কাশীনাথ দা, এক নিরলস বাম রাজনৈতিক কর্মী, একেবারে সাতগাছির মোড়ে আমাদের জন্য জায়গা ঠিক করে রেখেছেন। ওখানেই খোলা হবে জলসত্র। মেলা দেখতে আসা পিপাসার্ত মানুষজনকে জল বিতরণ করা হবে স্কুলের পক্ষ থেকে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে না হতেই সেখানে হাজির হেডমাস্টার মশাই, দিলীপ দা দীপক দা, শঙ্কর দা … আরও অনেক মানুষজন। সো্ৎসাহে জল বিতরণের কাজ সামলে নেয় দায়িত্বে থাকা ভাইয়েরা।

    মনে রাখতে হবে সেকালে আজকের মতো পানি বটল ছিলনা, বোতল ভরা ঠাণ্ডা পানির নাগাল পাওয়া খুব যে সহজ ছিল তাও নয়। তাই আমাদের জল দানের কার্যক্রম খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ভিড় ঠেলে হাঁপিয়ে পড়া তৃষ্ণার্ত মানুষেরা ছোট ছোট ছাত্রদের হাত থেকে পানীয় জল পেয়ে মহাখুশি। শুধু জল দেওয়া বিধেয় নয় বলে সঙ্গে বাতাসা দেওয়ার কথা ভাবা হলো। মজার বিষয় এই যে, তার জোগানের দায়িত্ব স্বেচ্ছায় মাথা পেতে নিয়েছিলেন আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী অভিভাবকেরা। রথের মেলার জলসত্র আমাদের জীবনের এক বড়ো শিক্ষা শিখিয়ে দিল। এখন বেশ বুঝতে পারি, জলসত্রের আয়োজনটা ছিল নিছকই একটা বাহানা। মূল উদ্দেশ্য ছিল গণদেবতার উৎসবের আঁচে নবীন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের শরীর, মন ও ভাবনাকে গড়ে পিটে শক্ত পোক্ত করে নেওয়া। আজ যখন দেখি তাবড় তাবড় শিক্ষাবিদরা শিক্ষার সামাজিকিকরণের সপক্ষে যুক্তি খাড়া করে নানান পরামর্শ দেন, তখন গর্ব হয় এই ভেবে যে কোন্ কালেই আমাদেরকে তেমন শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে চেয়েছে ছোট্ট একটা স্কুল, আমাদের প্রাণের বিদ্যালয়।

    রথের মেলার কথায় ফিরে আসি। রথের মেলার এক পরিচিত হাঁক ডাকের বুলি ছিল নাগাড়ে চিনি কলা,চিনি কলা বলে জগন্নাথ ঠাকুরের পূজার ডালি ফিরি করা। রথের আগে পিছে গলায় ঝুড়ি ঝুলিয়ে তাতে কাঁঠালি কলা, তুলসী পাতা আর ফুল নিয়ে শাল পাতায় করে তা ভক্তদের কাছে বিক্রি করা। রথের ওপর ঝুলতে থাকা পান্ডাদের হাতে তা তুলে দিলেই তাঁরা দারুস্বামীর কাছে তা নিবেদন করে দিতেন। একেবারেই এক যান্ত্রিক প্রক্রিয়া, তবে এভাবেই দেবদেবীর কৃপা লাভের পন্থা বহুদিন ধরেই প্রচলিত।

    বাড়িতে ফিরে এসেও আমরা সুর করে ওই চিনি কলা বুলি আওড়ে যেতাম মনের আনন্দে। আজ এতদিন পরে রথের কথা লিখতে বসে সেই হারানো সুর মনকে কেমন যেন নাড়া দিয়ে গেল। স্মৃতির সুতোয় একবার টান পড়লেই হলো! মন পর্দায় তা নিরন্তর পেন্ডুলামের মতো দুলতেই থাকে, দুলতেই থাকে। তাকে থামিয়ে দিতে গেলে তার দোলন যায় বেড়ে।

    একটু সেয়ানা হয়ে উঠতেই রথের সময় বাবার কাছ থেকে পাব্বনি পাওয়ার সুযোগ হলো। আমার ভাগটা সামান্য বেশিই হতো বড়ো হবার কারণে। পাব্বনির মূল্যমানের কথা শুনলে একালের ছেলেপিলেরা ফুঁ বলে অবজ্ঞার ভঙ্গিতে ফুৎকার তুলবে। তাই সেটা উহ্য‌ই থাক। হাতের মুঠোয় নগদ নারায়ণ এসে পড়ায় একদিকে যেমন মনের ভেতর চাপা উত্তেজনার জোয়ার, তেমনি অন্যদিকে খরচের ফলে তাতে ভাঁটা পড়ার আশঙ্কা। যাইহোক খরচের পছন্দের ক্ষেত্রগুলোকে আগেভাগে মনে মনে ছকে নিই। ঝুলন সাজানোর পুতুল কেনার জন্য খানিকটা আলাদা রেখে, বাকি বাজেট উদর নারায়ণের সেবায় লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়। তারপর বেড়িয়ে পড়া। তালিকায় থাকে – কটকটি,ঝাল মটর,ঝাল কচু ভাজা, আলু কাবলি, আলুর দম, তেলেভাজা, ফাঁকি মিঠাই, গোলা ……। বাজেট ছাপিয়ে তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে বুঝতে পেরেও সংযোজনের আবেগ কখনোই শিথিল হতো না। শেষে আমি আর বোন মিলে রফা করতাম। তাতে ভাগ বাটোয়ারার সমস্যা থাকলেও তখনকার মতো সেটাই শ্রেয় মনে হতো। এসব মজা এখন আছে?

    মা অফিস থেকে ফেরার পথে গরম জিলিপি কিনে আনতেন মাদারীপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে। খুব একটা জাঁকালো চেহারার দোকান নয়, তবে বৃদ্ধ হালুইকর দাদুর হাতের জাদুতে আড়াই প্যাঁচের জিলিপি এমন মুচমুচে হয়ে উঠতো যে তার তুলনা পাওয়া ভার। জিলিপির প্যাঁচ পয়জার ভরা থাকতো রসের মধুতে। চ্যাঙারি উল্টে মা’র থালায় ঢেলে দিতে যেটুকু দেরি। পাঁচ হাতের ব্যস্ত ভোগ দখলে থালা খালি হাতে খুব বেশি সময় লাগতো না। সুশীল কাকুর দোকানের সিঙারা রথের সময়ে বিকতো দেদার। আশপাশের এলাকা থেকে যে সমস্ত মানুষ আসতেন রথের মেলায়, তাঁরা ফেরার পথে প্যাকেট ভরে নিয়ে যেতেন সিঙারা, বাড়ি ফিরে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করবেন বলে। ছিল অন্নপূর্ণা মিষ্টান্ন ভান্ডারের কালোজাম - ওপরটা কুচকুচে কালো, আর ভেতরটা ঠিক জাম রঙের। আমার মা খুব পছন্দ করতেন। রথের মেলাকে উপলক্ষ করে এই সবই ঢুকে পড়তো ভোজের উপাচার হয়ে।হায়! নাগেরবাজারের ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড় ভাবে জড়িয়ে থাকা এইসব দোকান কবেই ঠাঁই নিয়েছে বিস্মৃতির অতলে ! সেই সব যায়গায় এখন রোলের দোকান,মোমোর দোকান এইসব। পোড়া তেলের ঝাঁঝালো গন্ধে গোটা এলাকা সন্ধের সময় থেকে অনেক রাত পর্যন্ত ম ম করতে থাকে। তার সামনেই জগন্নাথ দেবের রথ সাতদিন জিরোবে। দারুদেব নিজেও হয়তো মাসির বাড়ির পাড়ার এমন উন্নয়ন দেখে কিঞ্চিত মুষড়ে পড়েছেন!

    সেই ছোট্ট রথের রশি হাতে নিয়ে সেদিনের সেই ছোট্ট ছেলেটা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেছে। সময়ের সঙ্গে সে এখন বুড়িয়ে গেছে অনেকটাই। তবে সেই বুড়িয়ে যাওয়াটা তাঁর মনের ওপর এখনো সেভাবে চেপে বসেনি। এখনও দূর থেকে ভেসে আসা তালপাতার ভেঁপুর আওয়াজ তাঁর মনে ঝড় তোলে, আজ‌ও তাঁর মন ছুটে বেড়াতে চায় রসে টইটুম্বুর জিলিপির আড়াই প্যাঁচে, টালমাটাল পায়ে রথের রশি আঁকড়ে ধরে পথে নামা কোনো সদ্য কিশোর বেলার ছোঁয়া পাওয়া বালকের বুক ভরা আশায়। জীবন তো থেমে থাকেনা। সময় তাকে গড়িয়ে নিয়ে চলে রথের চাকার মতো। সেদিনের সেই কিশোরের মনোরথ আজ সময়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে চলছে তরতরিয়ে কোন্ এক অজানা ঠিকানায়।জয় জগন্নাথ।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্মৃতিচারণ | ০৩ জুলাই ২০২৫ | ৬৭৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সৌমেন রায় | ০৩ জুলাই ২০২৫ ১৭:২১732270
  • ফেলে আসা সময়ের মধুর চিত্র। উপসংহারে পৌঁছে অনবদ্য।
  • Ritabrata Gupta | ০৩ জুলাই ২০২৫ ২০:৩৫732271
  • দারুন লেখা ! ছোটবেলার রথযাত্রার স্মৃতি আবার ফিরে এলো ! প্রতিটি লেখাই, আপনার, মনের দেয়ালে আঁচড় কেটে যায় . এতো সাবলীল আর সমৃদ্ধ . আরো অনেক এরকম লেখার আশায় রইলাম !
  • সুমিত মুখোপাধ্যায় | ০৪ জুলাই ২০২৫ ১৫:৪২732279
  • খুব সুন্দর ছোট বেলার স্মৃতিগুলো
  • sarmistha lahiri | ০৪ জুলাই ২০২৫ ১৫:৫৩732280
  • রথযাত্রা ও রথের মেলা র সুন্দর বর্ণনা সেই ফেলে
    আসা সময়টা মনে পড়িয়ে দিল। জানিনা রথের সেই আবেগ অনুভূতি এখন ও কতটা বেঁচে আছে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আজ সব কিছু তেই পরিবর্তনে র রঙ লেগেছে।এতো সুন্দর স্মৃতি লিপিবদ্ধ করার জন্যে লেখক কে ধন্যবাদ।
  • Sandip | ০৪ জুলাই ২০২৫ ২১:৩৪732289
  • ছোটোবেলার কথা মনে পড়ে গেলো !
  • সুবীর রায় | ০৪ জুলাই ২০২৫ ২২:২০732290
  • মিলে গেল রথের মেলার স্মৃতি ভাণ্ডারের অনেকটাই।নাগেরবাজার রথের মেলা বেশ নাম তখন থেকেই ছিল। বহুদূর দুরান্ত থেকে মানুষ এই রথের মেলায় ঘুরতে আসে। এখনও অনুসন্ধান কেন্দ্রে বলতে শোনা যায়, অমুক জায়গার নাম, তমুক জায়গার নাম। এবং সেসব জায়গার নামগুলি কিন্তু নাগের বাজার থেকে অনেকটাই দূরত্বের জায়গা। আমারও একটি তিনতলা রথ ছিল। বিশেষভাবে কাঠের মিস্তিরি দিয়ে তৈরী করানো হয়েছিল। সে অনেক স্মৃতি সেই রুথকে নিয়ে। আপনার লেখা পড়ে আবার সেইসব পুরোনো স্মৃতিরা গা-ঝাড়া দিয়ে উঠলো। মনে পড়লে শরীরে এখনও একটি সুখানুভূতি প্রবাহ হয়। সময় সংখ্যার বয়সকে বাড়ালেও মনের বয়সকে কাড়তে পারে নি। থাকুক এই নস্টালজিয়া। আজীবন চলতে থাকুক নাগের বাজারের রথের মেলা। জয় জগন্নাথের জয়।
  • Sugata Bhattacharjee | ০৮ জুলাই ২০২৫ ১৩:০৮732345
  • খুব সুন্দর দাদা। এক জগন্নাথদেবের ছাড়া আমরা সবাই গরিয়েই চলেছি সময়ের চাকায়। সবকিছুর সাক্ষী হয়ে থাকছেন দারুব্রহ্ম। ছোটবেলার কথা উঠলেই কতকিছুর স্মৃতি চোখের সামনে এসে পড়ে।।। খুব ভালো লাগলো।
  • দিয়ালী চট্টরাজ | ০৯ জুলাই ২০২৫ ১১:১৩732361
  • বড্ডো ভালো লেখা... যথার্থই অনেক পুরোনো কথা মনে পড়ে গেলো। মফস্বলে রথের আস্বাদন খুব মধুর। আগে জিলিপির সাথে ছোট ছোট পান্তুয়া পাওয়া যেতো.. অমৃত।
  • Avijit Chakraborty | ১০ জুলাই ২০২৫ ১৬:৩৭732377
  • ডিফেন্সের কোয়ার্টারে থেকে বড় হওয়া। বাবা ও কাকা দু'জনেই ডিফেন্সের চাকুরী করার কারণে আমাদের ছিলো দু'টো কোয়ার্টার। প্রতি বছর বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন কায়দায় রথ সাজিয়ে একটা কোয়ার্টার থেকে যাত্রা শুরু করে, আরেকটি কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হোতো রথ। সেই কোয়ার্টার ছিলো মাসির বাড়ি। উল্টোরথ অবধি আমাদের রথ থাকতো সেই কোয়ার্টারেই। প্রতিবছর নিত্য নতুন কায়দায় রথ সাজানোর পরিকল্পনা করার চল ছিল। প্রত্যেকের মধ্যেই ছিল, নিজের রথকে সেরা বানানোর একটা অদ্ভূত সুস্থ প্রতিযোগিতা। কোয়ার্টারের রাস্তা গুলোতে বিকেল থেকে সন্ধ্যে অবধি বিভিন্ন সাইজের রথের দেখা মিলতো। মোমবাতি, প্রদীপ বারবার নিভে যেতো, কখনও কখনও রথের রঙিন কাগজে আগুনও ধরে যেতো। সেই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে বাড়িতে বড়োদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে টাকা আদায় করে একবার ব্যাটারির আলোয় রথ আলোকিত করে সকলকে তাক লাগিয়ে "হিরো" হওয়ার কথা মনে পড়ে গেলো।
  • Somnath mukhopadhyay | ১০ জুলাই ২০২৫ ২০:৩১732381
  • মৌচাকে ঢিল মারলে ঝরে পড়ে মধু, আর ফেলে আসা দিনের স্মৃতি কথা পড়ার পর এতো ব্যক্তিগত স্মৃতি মনের ভেতর ঝড় তোলে যে তাকে সামাল দেওয়া মোটেই সহজ নয়। মতামত জানাতে গিয়ে প্রত্যেকেই স্মৃতি ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছেন। এই উস্কে দেওয়ার কাজটি করতে পারার জন্য ভালো লাগছে।
  • DrSouravM | ১১ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৩৭733202
  • Nostalgia...
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন