এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • মিডটার্ম ইলেকশনে রিপাবলিকানদের বাজে রেজাল্টের কারণ, ট্রাম্প-ডিস্যান্টিস দ্বন্দ্ব ও নতুন রিপাবলিকান হিরো ডিস্যানটিসের আদর্শ

    Sumit Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৫ নভেম্বর ২০২২ | ৮৭ বার পঠিত
  • মিডটার্ম ইলেকশনে রিপাবলিকানরা খারাপ ফল করল কেন?

    মঙ্গলবার, আমেরিকানরা মিডটার্ম ভোট দেওয়ার জন্য নির্বাচনে গিয়েছিল। সমস্ত জরিপে দেখা গেছিল যে, রিপাবলিকানরা একটি রেড ওয়েভের জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সিনেট ও হাউজ কোনোটিতেই রিপাবলিকানরা আশানুরূপ ভাল করতে পারছে না, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এবারে তাদের এক্সপেক্টেশনকে ছাড়িয়ে গেছে, আর সিনেটে হোল্ডিং রাখার একটা ভাল চান্স তাদের আছে। তাহলে দেখা যাক, মিডটার্মের এই রেজাল্ট কেন রিপাবলিকানদের জন্য খারাপ খবর, আর ট্রাম্পিজমের ভবিষ্যৎ কী...
     
    আমি যখন লিখছি তখন হাউজে রিপাবলিকানদের দখলে ২২০টি ও ডেমোক্র্যাটদের দখলে ২১৩টি সিট (মেজরিটির জন্য ২১৮টি সিট লাগে), সিনেটে রিপাবলিকান ৪৯টি ও ডেমোক্র্যাট ৪৮টি 
    সিট (মেজরিটির জন্য ৫১টি লাগে), গভর্নরের ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের ২৬টি, ডেমোক্র্যাটদের ২৪টি। সিনেটে দুই পার্টি প্রায় সমান সমান (রিপাবলিকানরা বরং একটা সিট ডেমোক্রেটদের কাছে খুইয়েছে), আর হাউজে রিপাবলিকানরা ২২০টি সিট নিয়ে মেজরিটি (ডেমোক্র্যাটরা এখানে ৯টি সিট খুইয়েছে, রিপাব্লিকানরা ৮টা সিট গেইন করেছে)। কিন্তু এত কিছুর পরও রিপাবলিকানদের অবস্থা প্রত্যাশা আর পোলিং এর তুলনায় অনেক খারাপ। এদের এই ফ্লপ কেউই আশা করতে পারেনি, ডেমোক্র্যাটরা কিভাবে এত ভাল করল তা সবাইকে চমকে দিয়েছে। সবাই ভেবেছিল হাউজে রিপাবলিকানরা ২২৫-২৩০টি সিট পাবে। এদিকে ইকোনমিস্টের FiveThirtyEight আর Politico সবাই প্রেডিক্ট করেছিল সিনেটে রিপাবলিকানরা ৫১টি সিট নিয়ে মেজরিটি তুলবে, আর হাউজে রিপাবলিকানরা মেজরিটি তোলার পরও ২২৯টি সিট দখল করবে।
     
    (নিচের ভোটিং ডেটাগুলো নিয়ে লেখা অংশটি কয়েকদিন আগে লেখা, তাই কত পার্সেন্ট ভোট গণনা হয়েছে আর কত মার্জিনে কে এগিয়ে আছে তার হিসেবটা একটু পুরোনো। কিন্তু মূল বিষয়টি ঠিকই আছে।)
     
    তো এরা কেন এমনটা ভাবতে গেল? এদের মডেলটি দাঁড়িয়ে ছিল তিনটি সুইং স্টেইটের রেজাল্টের ভিত্তিতে - পেনসিলভানিয়া, নেভাদা আর জর্জিয়া। এই তিন স্থানের প্রতিযোগিতাই হাড্ডাহাড্ডি ছিল, রেজাল্ট প্রায় সমান সমান ছিল। কিন্তু ভোটার আগে আগে সবচেয়ে সাম্প্রতিক পোলিং-এ তিনটি স্টেইটের প্রত্যেকটিতেই রিপাবলিকানরা এগিয়ে ছিল। FiveThirtyEight অনুসারে রিপাবলিকানরা জর্জিয়ায় ১.২%, পেনসিল্ভানিয়ায় ১%, আর নেভাদায় ০.২% এগিয়ে ছিল। আর রিপাবলিকানরা এই পোলিং নিয়ে বেশ আশাবাদীও ছিল। ২০১৬ ও ২০২০ সালের পোলিং-এও তারা বেশ ভাল করেছিল, আর দেখে মনে হচ্ছিল, তাদের দিকেই হাওয়া বইছে। এদিকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য অবস্থা খুব ভাল ঠেকছিল না, ইকোনোমি তারমায়েলে ছিল, আর বাইডেনের এপ্রুভাল রেটিং ছিল পড়তির দিকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল ডেমোক্র্যাটরা তাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেল।
     
    জর্জিয়ায় ৯৫% এরও বেশি ভোট কাউন্ট হয়ে গেছে, দেখা গেল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাফায়েল ওয়ারনক পেয়েছেন ৪৯.৪% ভোট, আর রিপাবলিকান প্রার্থী হার্শেল ওয়াকার পেয়েছেন ৪৮.৫% ভোট, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ১% বেশি ভোট তুলেছেন। লিবার্টারিয়ান চেস অলিভার ২% এর মতো পেয়েছেন। এখন মনে হয়না কোন ক্যান্ডিডেট সেখানে ৫০% থ্রেসহোল্ড পাবেন, ডিসেম্বরের শুরুর দিকে রানঅফ ইলেকশন হবে। কিন্তু ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ওয়ার্নক জিতবেন বলেই মনে হয়, ২০২০ সালে তিনি রানঅফে  জিতেছিলেন. আর ভোটে তিনি ইতিমধ্যেই এগিয়ে আছেন। 
     
    পেনসিলভানিয়ায় ৯৪% ভোট হিসেবে করা হয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট জন ফেটারম্যান ৫১% আর রিপাবলিকান মেহমেট আজ ৪৬.৫% ভোট পেয়েছেন, মানে ডেমোক্র্যাটরা ৩% এগিয়ে আছে। নেভাডায় ৯৯% ভোট কাউন্ট হয়েছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাথরিন কর্টেজ ম্যাসতো ৪৮.৯% আর রিপাবলিকান প্রার্থী এডাম লেকসাল্ট পেয়েছেন ৪৮%, এখানেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে। মানে রিপাবলিকানদের নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল তা পূরণ হচ্ছেনা। নিউ ইয়র্ক টাইমস এসব কারণে বলছে ডেমোক্র্যাটরা ০.৪% মার্জিনে জিততে চলেছে। মার্জিনটি বেশ টাইট, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি হয়তো ম্যাটার করবে না, কারণ এরিজোনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক কেলির জয় নিশ্চিত হবার পর সিনেটে হোল্ড ধরে রাখার জন্য ডেমোক্র্যাটদের জর্জিয়া বা নেভাডার একটি হলেই চলতো। আর যেহেতু এই সবগুলোতেই ডেমোক্র্যাটদের জয় হয়ে গেছে, তাই সিনেটেও ডেমোক্র্যাটদেরই নিয়ন্ত্রণ থাকছে।
     
    এই গেল সিনেটের কথা, হাউজের অবস্থা কী? সেখানেও ডেমোক্র্যাটরা তাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। বেশিরভাগ বিশ্লেষকের মোতে রিপাব্লিকানরাই মেজরিটি পেতে যাচ্ছে বটে, তবে কিন্তু মার্জিনটা এবারে খুবই সরু। এখনও পর্যন্ত ৪৩৫ সিটের মধ্যে ৪২৬টির ফলাফল জানা গেছে, ডেমোক্র্যাটরা ২০৯টি ও রিপাবলিকানরা ২১৭টি সিট নিয়ে আছে, মেজরিটির জন্য ২১৮টি সিট লাগে, বাকি ৯টি সিটের মধ্যে রিপাবলিকানরা ১টি পেলেই তারা মেজরিটি পাচ্ছে, কিন্তু মার্জিনটা আগের যেকোন রকমের প্রেডিকশন ও প্রত্যাশার তুলনাতেই কম হচ্ছে, এনবিসি তো বলছিল রিপাবলিকানরা ২১৮-২১৭ সিটে জিততে চলেছে, নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে রিপাবলিকানরা ২২৪টি সিট পাবে। তো মার্জিন যত সরুই হোক, ট্রাম্প-পন্থী ফ্রিডম ককাস, মানে ট্রাম্প-পন্থী কনজারভেটিভরা ডিফ্যাক্টো মেজরিটি পাচ্ছে, যা রিপাবলিকান পার্টির ঐক্যকে মারাত্মকভাবে হ্রাস করবে। ইতিমধ্যে গুজব রয়েছে যে রিপাবলিকানরা হাউস লিডার কেভিন ম্যাকার্থিকে সরিয়ে দিতে চান, কারণ ট্রাম্পকে নিয়ে তার মন্তব্য রিপাবলিকানদের দুই পক্ষকেই বিরক্ত করেছে। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত যেই থাকুক, রিপাবলিকান হাউজ স্পিকারকে এই ডিভাইডেড পার্টিকে নিয়ে বেশ বেগ পেতে হবে।
     
    সামান্য মেজরিটির পরও হাউজে রিপাবলিকানরা স্ট্যাবল নয়। কারণ কয়েকজন রোগ রিপাবলিকান ডিসেন্টার দেখা গেলেই রিপাবলিকানদের মেজরিটি কলাপ্স করছে। আর স্পিকারের নমিনেশন এই ইনস্ট্যাবিলিটির ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ট্রাম্পইস্ট ম্যাট গেজ ইতিমধ্যেই বলেছেন যে, তিনি এবং অন্তত আরও কয়েকজন রিপাবলিকান বর্তমান হাউজ লিডার কেভিন ম্যাককার্থিকে হাউজের স্পিকার হিসেবে চাননা। এর মানে হচ্ছে এটি স্পষ্ট নয় যে কে আসলে স্পিকার হতে যাচ্ছেন। এখন টেকনিক্যালি হাউজ স্পিকার হতে গেলে হাউজের মেম্বার হতে হয়না, আর তাই এটা সম্ভব যে, রিপাবলিকানরা স্পিকার সিলেকশনে ডেডলক-এ এলে কোন বাইপার্টিসান আউটসাইডার সেখানে এসে বসবেন।
     
    রেজাল্টের প্রসঙ্গে এলে, ডেমোক্র্যাটরা এবারে ২০০২ এর পর থেকে মিডটার্মে সবচেয়ে কম সিট হারিয়েছে, যা খুবই অবাক করার মতো ব্যাপার, বিশেষ করে যখন দেশের ইকোনমির অবস্থা ভঙ্গুর, আর বাইডেনের পার্সোনাল এপ্রুভাল রেটিং ট্রাম ছাড়া যেকোন মডার্ন প্রেসিডেন্টের চেয়ে কম। তাহলে প্রশ্ন আসছে, কেন রিপাবলিকানরা এই নির্বাচনে এত খারাপ করল।
     
    দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচনপূর্ব সার্ভেগুলোতে সত্যিকার অর্থে যেসব ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী তাদের সবার মতকে বিবেচনা করা হয়নি। এই বছরের জুন সুপ্রিম কোর্টে দেয়া এবোর্শনের বিরুদ্ধে ডবস ডিসিশনের ব্যাপারটা তরুণ ভোটারদেরকে যেভাবে প্রভাবিত করেছে, সেই দিকটা এরা বিবেচনাতেই নেয়নি, ভেবেছে এরা আর কতই বা প্রভাবিত করবে। কিন্তু অন্য সময়ের তরুণ ভোটার আর এখনকার তরুণ ভোটারদের মধ্যে পার্থক্য আছে বৈকি। এদের একটা বড় অংশ এবোর্শনের পক্ষে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়ে হিসেব পাল্টে দিতে কিছুটা অবদান রেখেছে। এটার কথা বাদ দিলেও রিপাবলিকান-পন্থী ট্রাফালগার আর রাসমুসেনদের রিপাবলিকান-বায়াসও প্রভাব ফেলেছে, এরা রিপাবলিকান সাপোর্টকে উল্লেখযগ্যভাবে ওভারস্টেইট করে। কিন্তু রিপাবলিকানদের এই ব্যর্থতাকে কেবল মাত্র এসব ম্যাথডোলজিকাল এরর দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়না। আরও ব্যাপার ছিল এখানে। এই লিভিং ক্রাইসিসের সময় ও বাইডেনের মতো এক ঐতিহাসিক অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে রিপাবলিকানরা কেন সিনেট কেড়ে নিতে ব্যর্থ হল তার জন্য এর অতিরিক্ত ব্যাখ্যার দরকার আছে বৈকি। তো, এসব বাদ দিয়েও, কেন রিপাবলিকানরা বাজে ফল করল?
    কোন কোন ট্র্যাম্পবাদী বলছে, রিপাবলিকান এস্ট্যাব্লিশমেন্ট ভাল করে তাদের MAGA ক্যান্ডিডেট মানে "মেইক আমেরিকা গ্রেইট এগেইন" প্রচার করা ক্যান্ডিডেটদের সাপোর্ট করতে পারেনি। কিন্তু রিপাবলিকানদের বেশিরভাগই এর বিরুদ্ধে গেছে আর তারা ট্রাম্পকেই দোষ দিচ্ছে। কারণ এবারে ট্রাম্পপন্থী ক্যান্ডিডেটরা এই নির্বাচনে বিশেষভাবে খারাপ পারফর্ম করেছে। যেমন একটু আগে যে আজ আর ওয়াকারের পরাজয়ের দিকে থাকার কথা বলা হলো তারা সব ট্রাম্প-পন্থী। তাছাড়া ট্রাম্পের সব ইলেকশন-ডিনায়ালগুবার্নাটোরিয়াল ক্যান্ডিডেটও হেরেছে, যেমন গভর্নরের আসনে আরিজোনায় ডেমোক্র্যাট ক্যটি হবস রিপাবলিকান ক্যারি লেকের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন। এই ক্যারি লেক হলেন একজন ট্র্যাম্পবাদী এবং প্রাক্তন নিউজ আংকর যিনি মেইল-ভোটিং ব্যান করবেন বলেছিলেন। পেনসিলভানিয়ায় ইলেকশন ডিনায়ার ডৌগ ম্যাস্ট্রিয়ানো ডেমোক্র্যাট জোশ শাপিরোর কাছে বিশাল মার্জিনে হেরেছে, এদিকে নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পপন্থী লি জেলডিন ডেমোক্রাট ক্যাথি হচুলের কাছে হেরেছে। তাই রিপাবলিকানদের সমর্থকদের অনেকেই ট্রাম্পের উপর বেজায় ক্ষেপা। ক্ষেপবে নাই বা কেন? এই সব ক্যান্ডিডেটকে ট্রাম্পই চেরি পিকিং করে বাছাই করেছিলেন।
     
    অন্য দিকে গুয়ের্নাটোরিয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মডারেট রিপাবলিকানরা (যারা ট্রামপন্থী নন) উল্লেখযোগ্যভাবে ভাল করেছে, যেমন ব্রায়ান কেম্প পি রং ডিসেন্টিস ভাল মার্জিন নিয়েই জয় পাচ্ছেন। ডিসেন্টিসের অবস্থা বিশেষভাবে ভালো। পুরো ফ্লোরিডা জুড়ে তিনি ট্রাম্পের ২০২০ ভোটকে ছাড়িয়ে গেছেন, এমনকি ১১ পয়েন্ট নিয়ে তিনি মায়ামি-ডেড কাউনটিও জিতে নিয়েছেন। ২০১০ সালের পর এই প্রথমবার মায়ামি-ডেইড কোনো রিপাব্লিকানকে ভোটে জেতালো।
     
    এখন ট্রাম্পের ব্যর্থতা ও ডিসনটিসের সাফল্য রিপাবলিকান পার্টিতে একটি নতুন ডিলেমা এনে হাজির করেছে। ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনের জন্য তার ক্যান্ডিডেসি ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এই রেজাল্টের পর ২০২৪ সালে জিততে চাওয়া যেকোন রিপাবলিকানই হয়তো ডিসনটিসের পক্ষেই থাকবে, যিনি স্পষ্টভাবেই অধিকতর জনপ্রিয়। আর এটা তাই একটি ইস্যু হতে চলেছে যেখানে ট্রাম্প ডিস্যান্টিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে মঙ্গলবারের রেজাল্টের পর যখন ট্রাম্প ডিস্যানটিসের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন, আর গত মাসে তার ক্যাম্পেইন ট্রেইলের সময় তিনি ডিস্যান্টিসকে ডিস্যাঙ্কটিমোনিয়াস নিকনেইমটি দেন করেন।
     
    এদিকে ডিস্যানটিসের সমর্থকরাও তাকেই ২০২৪ সালে তাকেই নির্বাচনে দেখতে চায়। সুতরাং ২০২৪ সালে রিপাবলিকান শিবিরে ট্রাম্পের অধিকতর চরমপন্থী MAGA লয়ালিস্ট ও ডিসনটিসের অধিকতর মডারেট রিপাবলিকানদের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য। আর এই দুই এর সংঘর্ষে যেই জিতুক না কেন, সত্যিকারের বিজয়ী হতে চলেছে বোধ হয় ডেমোক্র্যাটরাই।
     
    ট্রাম্প বনাম ডিস্যান্টিস গৃহযুদ্ধ
     
    এবারে ট্রাম্প বনাম ডিস্যানটিসের  সংঘাতের ব্যাপারে একটু ডিটেইলে যাক। এদের যে সংঘাত ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে তা রিপাবলিকান পার্টিকেই দু টুকরো করে ফেলার পোটেনশিয়াল রাখে। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটা ক্রোধান্বিত বিবৃতি প্রকাশ করেন। তাতে তিনি বলেন, তিনি ডিস্যান্টিসকে তার ফার্স্ট টার্মে জিততে সহায়তা করেছিলেন, ডিস্যানটিসের কাছে কিছুই ছিলনা, এপ্রুভাল খুব খারাপ ছিল, আর তখন ডিস্যান্টিস তার কাছে হাত পাতলে তিনি তাকে এনডোর্স করেন, সাপোর্ট করেন, এফবিআই ও ইউএস এটর্নি পাঠান, ফলে ব্যালট থেফট বন্ধ হয়, তার ইলেকশন চুরি যাবার হাত থেকে তিনি তাকে বাঁচান, ফলে ডিস্যান্টিস জিতে যান। মানে পরোক্ষভাবে ট্রাম্প ইমপ্লাই করলেন যে, তিনি ২০১৮ সালে গুবেনাতোরিয়াল ইলেক্শনে মানে গভর্নর নির্বাচনের ইলেকশনে ডিস্যানটিসের ফেভরে  রিগিং করেছেন।
     
    তো, নির্বাচনে ডিস্যান্টিস খুব ভাল ফল করল। অন্যদিকে ট্রাম্প সাপোর্টারদের অবস্থা বেজায় খারাপ। রিপাবলিকানদের ট্রাম্পবিরোধী অংশ ডিস্যান্টিস ডিস্যান্টিস বলে সরব তুলেছে, তাকেই তারা দেখতে চায় ২৪ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনে, আর ট্রাম্পকে তারা দিচ্ছে দুয়োধ্বনি। ট্রাম্প পড়ে গেলেন চাপে। তড়িঘড়ি করে বললেন তিনি ২৪ এর নির্বাচনে দাঁড়াতে যাচ্ছেন। একই সাথে ডিস্যান্টিসকেও সতর্ক করে দিলেন যাতে তিনি আর নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা না দেন, ইমপ্লাই করলেন যে ডিস্যানটিসের বিরুদ্ধে তার কাছে কিছু ডার্ট আছে, ঘোষণা এলে তিনি তা প্রকাশ করে দেবেন। মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অনুসারে, ট্রাম্প বলেছেন, "যদি ডিস্যান্টিস নির্বাচনে দাঁড়ান তবে আমি তার সম্পর্কে এমন কিছু বলব যা খুব একটা "ফ্ল্যাটারিং" হবেনা। আমি তার সম্পর্কে যা যা জানি তা বোধ হয় তার স্ত্রীও তার সম্পর্কে জানেনা, যে তার হয়ে এখন ক্যাম্পেইন করছে।" আর এই কথাগুলো তিনি বলেন, ডিস্যানটিসের নির্বাচনের রেজাল্ট বের হবার আগেই। মানে ডিস্যানটিসের ভাল পারফর্মেন্সের পর ট্রাম্প যেরকম চাপে পড়েছেন, সেরকম চাপে তখন তিনি ছিলেন না, কিন্তু তবুও ডিস্যানটিসের নামে তিনি এইসব মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্পের যন্ত্রণাটা টের পাওয়া যায়।
     
    রেজাল্ট বেরোবার পর তার টোন কিছুটা পরিবর্তিত হয়। এরকমও রিপোর্ট আছে যে, ট্রাম্প ২৪ এর নির্বাচনে দাঁড়াবার আগে তার কিছু সমর্থক তাকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। বলেছিলেন, অন্তত কটা দিন দেরি করে ঘোষণাটি দিতে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। বললেন, তিনি যা ভেবেছেন, তাই করবেন। কিন্তু তিনি যে চাপ অনুভব করছিলেন তা নিশ্চিত, নাহলে ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন যে, পেনসিলভানিয়া, এরিজোনা আর নেভাডায় ট্রাম্পের বেস্ট ক্যান্ডিডেটদের এরকম পরাজয় আসলে ভোট কারচুপির কারণেই হয়েছে?!
     
    যত যায় হোক, ডিস্যান্টিস কিন্তু ট্রাম্পের ব্যাপারে একেবারেই নীরব। কিন্তু মিডিয়া আউটলেটগুলো তো আর বসে থাকবে না। এরা তো ঠিকই ডিস্যানটিসের নাম ঢোল পেটাচ্ছে। যেমন বুধবারে নিউ ইয়র্ক পোস্টে আর রুপার্ট মারডকের নিউজ কর্পের একটি ট্যাবলয়েড করছে। বিশেষ করে এই ট্যাবলয়েডটির কথা বলা যায়, এটি আগে ছিল ট্রাম্পের একনিষ্ঠ ভক্ত। কিন্তু এখন এখানে স্পষ্ট করে ঘোষণা করা হয় যে, ডিস্যান্টিসই হইলেন রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ। একই দিনে রুপার্ট মারডকের মিডিয়া এম্পায়ারের আরেক উইং ফক্স কর্পোরেশনের নিউজের এংকরকে ট্রাম্পের জোর সমালোচনা করতে দেখা গেল যা আগে কখনও ভাবা যায়নি। এরপর নিউ ইয়র্ক পোস্ট তাদের ফ্রন্ট পেইজে সরাসরি ট্রাম্পকে নির্বাচনে বাজে রেজাল্টের জন্য ব্লেইম করে, পিয়ার্স মরগ্যান তার কলামে লেখেন, ট্রাম্পকে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো উচিৎ। ফ্রন্ট পেইজে এও লেখা হয় যে, ট্রাম্প তার সেই "মাচ এন্টিসিপেটেড ওয়াল" তৈরিতেও ব্যর্থ হয়েছেন, যা ছিল ট্রাম্পের মুখে নিউইয়র্ক পোস্ট-এর ঘষে দেয়া আরেকটি ঝামা।
     
    বলাই বাহুল্য, ব্যাপারটি ট্রাম্প খুব একটা ভাল ভাবে গ্রহণ করেননি। বৃহস্পতিবার তিনি ট্রুথ সোশ্যাল-এ আবার কড়া ভাষায় জবাব দেন। বলেন, ফক্স নিউজ কেবল তার জন্যই সফল হয়েছে, কিন্তু এখন তারা এইসব "ফেইক" নিউজ করার জন্য ট্রাম্পের দৃষ্টি থেকে চিরতরে বিদায় নিলো। ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক পোস্টকেও এটাক করে বলেছেন, তিনি ওয়াল তৈরি করতে পারেননি, এর ডে রিপাবলিকান সিনেটরদের বিরোধিতা এবং নিউজ কর্প বোর্ড মেম্বার পল রায়ান। আর বলেন, এরা আর বুড়ো ভাম মিচ্ ম্যাককনেল মিলে তাকে ফান্ড জোগাড় করে দিতে পারেনি। আর এখানেই তিনি থেমে থাকেননি, পরে একবার তিনি নিউজ কর্প, নিউ ইয়র্ক পোস্ট, রন ডিস্যান্টিস সবাইকে নিয়েই এটাক করছিলেন।
     
    এখানেই তিনি ডিস্যান্টিসকে ডিস্যাংটিমোনিয়াস বলে উল্লেখ করে ২০১৮ এর ফ্লোরিডার সেই গুবরন্যাটোরিয়াল বা গভর্নর নির্বাচনে কিভাবে ট্রাম্প ছাড়া ডিস্যান্টিস জিততেই পারতেন না তা নিয়ে লিখেছিলেন, যা নিয়ে একটু আগেই বলছিলাম। ট্রাম্প বলেন, তিনি এফবিএই আর স্টেইট অ্যাটর্নি-কে পাঠিয়ে ভোট কাউন্ট আটকে দেন, যখন দেখা যাচ্ছিল ডিস্যান্টিস ও অন্যান্য রিপাবলিকান ক্যান্ডিডেট রিক স্কট আর জিততে পারছে না, মানে তিনি ইমপ্লাই করছেন যে, তিনি ইলেকশনে রিগিং করেছেন। প্রসঙ্গত ২০১৮ সালে ফ্লোরিডা সিনেট ইলেকশনে রিপাবলিকান রিক স্কট ডেমোক্র্যাট বিল নেলসনকে মাত্র ১০,০০০ ভোট হারিয়েছিলেন। আর গুবার্নাটোরিয়াল বা গভর্নর নির্বাচনের ইলেকশনে ডিস্যান্টিস ডেমোক্র্যাট এন্ড্রু গিলামকে হারিয়েছিলেন মাত্র ৩২,০০০ ভোটে। আর ট্রাম্প বলছেন যে এই ন্যারো মেজোরিটিকে রক্ষার জন্য ট্রাম্প ফ্লোরিডায় ভোট কাউন্ট আটকে দিয়েছিলেন। আর যদি এটি সত্য হয় তাহলে বলতে হয় এটি একটি ফেলোনি-লেভেলের ইলেকটোরাল ফ্রড। এগুলো ছাড়াও তিনি আরও বলেছেন যে, ডিস্যানটিসের লয়াল্টি আর ক্লাসের কথা ভাবলেও সে যে এখন "আমি কেবল গভর্নরের রেইসেই ফোকাস করছি, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবিত না (অর্থাৎ ২০২৪ এর প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনে দাঁড়ানোর কথা ভাবছি না)" বক্তব্যটিও তার জন্য যথেষ্ট নয় বা সঠিক উত্তর নয়। মানে ট্রাম্প তার এরকম বক্তব্যেও খুশি নন, কারণ তার চোখে ডিস্যানটিসের ক্লাস এত নিচু আর তাকে ট্রাম্পের প্রতি এতটাই লয়াল বা অনুগত থাকা উচিৎ যে, এভাবে কথা বলাটাও তার শোভা পায়না। আর এই পোস্ট করার পর তিনি ফক্স নিউজ, জেব বুশ আর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে আরেক দফা ধুয়ে দেন। পরে বিভিন্ন রিপাবলিকান সদস্যদের নিয়েও বাজে কথা লেখেন। ভার্জিনিয়ার গভর্নর গেলেন ইয়াংকিনকে তো তার সারনেমের কারণে চাইনিজ বলে বসলেন! স্বাভাবিকভাবেই এগুলো করে ট্রাম্প নতুন করে কোনো ফ্রেন্ড বানাতে পারেননি, বিশেষ করে কনজারভেটিভ মিডিয়া এস্ট্যাব্লিশমেন্ট। রুপার্ট মারডক ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে তিনি তাকে ২০২০ সালের মোট আর সমর্থন করবেন না। তার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এতদিন যাবত ট্রাম্পের প্রতি বায়াসড বলে সমালোচনা কুড়োতে হত। কিন্তু এখন সেই ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের সম্পাদকীয়তেই ট্রাম্পকে একজন নার্সিসিস্টিক লুজার বলা হয়েছে। আর কেবল এস্ট্যাব্লিশমেন্ট মিডিয়ায় ট্রাম্পের ওপর ক্ষেপা নয়, কনজারভেটিভ মেইনস্টে এবং ডেইলি অয়ার এর কো-ফাউন্ডার বেন শাপিরোও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গেছেন। তিনি তাকে পেন্সিলইভানিয়ার মতো ক্রিটিকাল সেনেট রেইসে হারার জন্য ব্লেইম করেন, এবং বলেন রিপাবলিকান পার্টির টপে একটি বিশাল লিডারশিপ ভ্যাকুয়াম রয়েছে। ক্যান্ডেস ওয়েন্সও বলেছেন যে, তিনিও ট্রাম্প নিয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন, কারণ ট্রাম্প একটি ইন্টারভিউতে তার প্রতি রুড ছিলেন। এদিকে সবসময় প্রো-ট্রাম্প অবস্থান নেয়া ব্রাইটবার্টও এবারে ট্রাম্পের সমালোচনা করেছে।
     
    স্পষ্ট হচ্ছে যে, খুব একটা আইডিওলজিকাল ডিফারেন্স না থাকলেও রিপাবলিকান পার্টিতে ট্রাম্প ও ডিস্যানটিসের উইং এর মধ্যে একটি সিভিল ওয়ার চলছে। তো কে জিততে যাচ্ছে? কেউই জানে না এই লড়াইয়ের শেষ কী। আর এখনই ট্রাম্পকে নাকোচ করে দেয়াটা ভুল হবে। এই মুহূর্তে ডিস্যানটিসের সমর্থকেরাই বেশি হলেও, ট্রাম্পের সমর্থকও কম কিছু নয়। রিপাবলিকান এস্ট্যাব্লিশমেন্ট যদি শেষ পর্যন্ত ডিস্যানটিসেরই পক্ষ নেয় তবে ট্রাম্প ইন্ডিপেন্ডেন্ট হয়ে ২০২৪ এর ইলেকশনে দাঁড়াতে পারেন এবং রিপাবলিকানদের একটা বড় অংশকে নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন। তবে এটাও সত্য যে, রিপাবলিকানরা আগে যেভাবে ট্রাম্পকে সমর্থন করতো এখন আর সেভাবে করেনা। আর এনবিসি এর সবচেয়ে রিসেন্ট পোলিং অনুসারে, রেকর্ড পরিমানে রিপাবলিকানরা এখন বলছেন যে, তারা ট্রাম্পের চেয়ে রিপাবলিকান পার্টির সাথেই নিজেদের বেশি সংযুক্ত করবেন। ৬২% বলেছেন যে তারা আগে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে, আর ৩০% বলেছেন যে তারা আগে ট্রাম্পের পক্ষে থাকবেন।
     
    এদিকে এটা ঠিক যে, দেশ জুড়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে ডিস্যানটিসের চেয়ে ট্রাম্পের সমর্থক সংখ্যাই বেশি, কিন্তু এই পার্থক্যটাও ক্রমশ কমছে। আর সাম্প্রতিক পোলিং বলছে, ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের চেয়ে ডিস্যানটিসের সমর্থক সংখ্যা বেশি। আপনার মনে হতে পারে যে, এটা অবভিয়াস কারণ ফ্লোরিডায় ডিস্যানটিসের হোম স্টেইট, কিন্তু এটাও খেয়াল করতে হবে যে, ট্রাম্প নিজেও ফ্লোরিডাতে থাকেন। আর ২০২০ সালে ট্রাম্প সেখানে বেশ ভালোই ফল করেছিলেন। সেখানে তিনি ২০০৪ সালের পর থেকে যেকোন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ভাল মার্জিন পেয়েছিলেন।
     
    এদিকে ট্রাম্প ২০২৪ সালে প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনে দাঁড়াবার ঘোষণা দিলে কনজারভেটিভ মিডিয়া আবার ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হয়। কনজারভেটিভ ম্যাগাজিন ন্যাশনাল রিভিউতে এর বিরুদ্ধে যে এডিটোরিয়াল লেখা হলো তার শিরোনাম ছিল সিম্পলি "No". আর ফক্স নিউজ তো তার স্পিচকে মিড সেন্টেন্স থেকে কেটে দিয়েছে। ধীরে ধীরে মিডিয়া, পলিটিশিয়ান, ইনসাইডার সবাই ট্রাম্প থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে নিচ্ছে। তাই প্রশ্ন আসছেই যে, ট্রাম্প কি এখনও নমিনেশন জিততে পারবেন।
     
    তো এখন ডিস্যানটিসের পোল জাম্প, আর ইউএস এর রাইট উইং মিডিয়ার সাপোর্ট সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন ২০২৪ সালের রিপাবলিকান নমিনেশনের জন্য তিনিই সবচেয়ে ফেভরিট। হ্যা, এখন ডিস্যানটিসের পক্ষে নমিনেশন ট্রাম্পকে হারানোর সম্ভাবনা বেশি। তাই হয়তো এখন আমাদেরকে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি ডিস্যান্টিসকে নিয়েই ফোকাস করতে হবে।
     
    ডিস্যানটিসের ব্যাকগ্রাউন্ড ও আদর্শ, কেন তিনি রিপাব্লিকানদের মধ্যে এত জনপ্রিয় 
     
    কে এই রন ডিস্যান্টিস? ১৯৭৮ সালে তার জন্ম। ছোটবেলায় তিনি বেইসবল খেলতেন। ১৯৯১ সালে একটা লীগ জিতেছিলেন। পরে তিনি ইয়েল কলেজে যান, ইতিহাস নিয়ে পড়েন এবং ২০০১ সালে হাই একাডেমিক অনার নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন। কলেজেও তিনি বেইসবল খেলা অব্যাহত রাখেন। এরপর তিনি ২০০৪ সালে হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে ২০০৪ সালে তিনি হাই অনার নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন। ল স্কুলের পর তিনি মিলিটারি সার্ভিসে যোগদান করেন এবং নেভি জাজ এডভোকেট জেনারেল কর্পস এর সদস্য হন। তাকে গুয়ান্তানামো বেই-তে এসাইন করা হয়, কিন্তু এরপর তিনি নেভি সিল টীম-এ যোগ দেন ও যুদ্ধ করতে ইরাকে যান। এরপর তিনি বুশ এডমিনিস্ট্রেশনের সময় ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসে স্পেশাল এসিস্টেন্ট ইউএস অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেন। এরপর ২০১০ সালে ব্রোঞ্জ স্টার, গ্লোবাল ওয়ার ও সার্ভিস মেডেল ও ইরকি চ্যাম্পিয়ন মেডেল সমেত তাকে অনারেবলি ডিসচার্জ করা হয়। তবে তিনি নেভি রিজার্ভ হিসেবে কাজ করে যান। দু ব ছর পর ২০১২ সালে তিনি ফ্লোরিডার ৬ষ্ঠ কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রথম নির্বাচনে দাঁড়ান, আর যেতেনও। এরপর ২০১৮ সালে তিনি ফ্লোরিডার গভর্নরশিপ এর জন্য ইলেকশনে দাঁড়ান এবং আবারও যেতেন (যেখানে ট্রাম্পের ভূমিকার কথা ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে)।
     
    তো এখন দেখা যাক রিপাবলিকানরা তাকে এত পছন্দ করছে কেন। ডিস্যানটিসের উত্থানের সময় ছিল প্যান্ডেমিক, আর এটাই ছিল সেই সময় যখন গভর্নররা ও বিভিন্ন পাবলিক হেলথ পলিসি অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি লাইমলাইটে আসে। ডিস্যান্টিস প্রথম দিকে কোভিড নিয়ে খুব সচেতন ছিলেন এবং ২০২০ এর মার্চে তিনি বার ও নাইটক্লাবগুলো বন্ধ করে দেন এবং এপ্রিলে তিনি স্টেইটওয়াইড শাট ডাউন ইস্যু করেন। কিন্তু সেই বছরের শেষের দিকে তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং সেপ্টেম্বরে সকল বিজনেস রেস্ট্রিকশন তুলে দেন। কিন্তু ২০২১ এর পূর্বে তিনি গোটা ইউএস-এ খুব একটা পরিচিতি পাননি। এর কারণ হচ্ছে বিভিন্ন ডেমোক্রেটিক গভর্নর ২০২১ সালে ভ্যাক্সিনের এভেইলেবিলিটির পরও রেস্ট্রিকশন অব্যাহত রাখে। এই সময়ে ডিস্যান্টিস টুইটারে সক্রিয় হন এবং তার সাথে সাথে বিভিন্ন মিডিয়া আউটলেটগুলোও এর জন্য ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করা শুরু করে। আর সেটাই তদকালীন কোভিড স্কেপ্টিক রিপাবলিকান বেইজের জন্য আশির্বাদস্বরূপ হয়ে ওঠে।
     
    এছাড়াও ডিস্যান্টিস তথাকথিত কালকের ওয়ার ইস্যুগুলোতেও একটি শক্তিশালী অবস্থান নেন। তিনি ফ্লোরিডার স্কুলগুলোতে ক্রিটিকাল রেইস থিওরি ব্যান করার একটা আইনে স্বাক্ষর করেন, নারীদের স্পোর্ট থেকে ট্রান্সজেন্ডারদের ব্যান করার ল সাইন করেন, এবং জর্জ ফ্লয়েড প্রটেস্টের সময় একটি আন্টি-রায়ট ল সাইন করেন যা রায়ট ও ভায়োলেন্ট প্রটেস্টের সময় শাস্তি বাড়িয়ে দেয়, পুলিশদের বেতন ও বোনাস বাড়িয়ে দেয়, এবং পুলিশদের টোটাল অ্যানুয়াল বাজেট বৃদ্ধি করে। সম্প্রতি তিনি ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানিকে তাদের মিডিয়া প্লাটফর্মে লেফট উইং প্রোপাগান্ডা পুশ করার জন্য দোষারোপ করেন, সেই সাথে তিনি ফ্লোরিডায় ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির স্পেশাল প্রিভিলেজ তুলে নেয়ার জন্যেও লেজিস্লেশনকে চাপ প্রয়োগ করেন। আগেই বলা হয়েছে যে ট্রাম্প তার ওপর ইলেকটোরাল ফ্রডের অভিযোগ এনেছিলেন। সেটা নিয়ে কথা বলতে তিনি খুব একটা আগ্রহ বোধ করেননি, কিন্তু গত এপ্রিলে তিনি একটি নতুন ভোটার ফ্রড পুলিশ ফোর্স তৈরি করেছিলেন, যা রিপাবলিকানদের একভাবে সহায়তাই করেছে।
     
    তাহলে বোধ করি এতক্ষণে জেনে গেছেন যে কেন রিপাবলিকানদের মধ্যে ডিস্যান্টিস এত বেশি জনপ্রিয়।

    তথ্যসূত্র
     
    1 - https://www.nytimes.com/2022/05/20/world/haiti-wall-street-us-banks.html
    2 - https://www.nytimes.com/interactive/2022/05/20/world/americas/enslaved-haiti-debt-timeline.html
    3 - https://www.nytimes.com/interactive/2022/05/20/world/americas/enslaved-haiti-debt-timeline.html
    4 - https://cepr.net/clinton-e-mails-point-to-us-intervention-in-2010-haiti-elections/
    5 - https://foreignpolicy.com/2022/10/31/haiti-us-intervention-gangs-united-nations/
    6 - https://foreignpolicy.com/2022/10/31/haiti-us-intervention-gangs-united-nations/
    7 - https://theconversation.com/they-put-a-few-coins-in-your-hands-to-drop-a-baby-in-you-265-stories-of-haitian-children-abandoned-by-un-fathers-114854
    8 - https://foreignpolicy.com/2022/10/31/haiti-us-intervention-gangs-united-nations/
    9 - https://foreignpolicy.com/2022/10/31/haiti-us-intervention-gangs-united-nations/
    10 - https://usun.usmission.gov/remarks-by-ambassador-linda-thomas-greenfield-at-a-un-security-council-briefing-on-haiti-4/
    11 - https://foreignpolicy.com/2022/10/31/haiti-us-intervention-gangs-united-nations/
    12 - https://igs.duke.edu/news/recent-trends-haitian-migration-mexico
    13 - https://www.france24.com/en/live-news/20221025-skepticism-about-another-intervention-force-for-haiti
    14 - https://thehill.com/homenews/campaign/3533074-desantis-edges-trump-in-new-hampshire-poll/
    15 - https://en.wikipedia.org/wiki/George_H._W._Bush#College_years
    16 - https://www.news4jax.com/news/florida/2020/03/17/gov-desantis-orders-bars-night-clubs-to-close-in-response-to-coronavirus-outbreak/
    17 - https://www.orlandosentinel.com/coronavirus/os-ne-coronavirus-desantis-wednesday-20200401-yc2ttrxuw5hx7ci3zn2id3ynlq-story.html
    18 - https://www.npr.org/sections/coronavirus-live-updates/2020/09/25/916969969/floridas-governor-lifts-all-covid-19-restrictions-on-businesses-statewide
    19 - https://www.vice.com/en/article/wxdbwb/stope-woke-act-florida-crt-bill
    20 - https://www.npr.org/2021/09/09/1035687247/florida-anti-riot-law-ron-desantis-george-floyd-black-lives-matter-protests
    21 - https://cbs12.com/news/local/governor-ron-desantis-florida-trying-bonuses-pay-raises-to-recruit-more-police-to-the-state
    22 - https://floridapolitics.com/archives/476094-governors-budget-would-increase-state-law-enforcement-pay-up-to-25/
    23 - https://www.theguardian.com/us-news/2022/apr/25/ron-desantis-florida-governor-bill-police-voter-fraud
    24 - https://edition.cnn.com/2022/04/21/politics/florida-governor-desantis-poll-numbers/index.html
    25 - https://theweek.com/donald-trump/1014514/58-percent-of-americans-say-trump-should-be-charged-with-a-crime-over-jan-6
     
     
  • আলোচনা | ২৫ নভেম্বর ২০২২ | ৮৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন