• হরিদাস পাল  অপর বাংলা

  • বাংলাদেশের ইন্টেলেকচুয়ালদের বিরম্বনা ও একটা প্রস্তাব

    Sumit Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    অপর বাংলা | ০২ ডিসেম্বর ২০২০ | ৭২৮ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ভাষ্কর্য নিয়া বাংলাদেশের কারেন্ট ইস্যুটা নয়া কিছুনা, এডি সবার আগে শুরু হইসিল সুপ্রিম কোর্টে থেমিসের ভাষ্কর্য নিয়া। ওই সময় পিনাকি ভট্টাচার্য তার অসাধারণ নন্দনতাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়া একের পর এক থেমিসের আর্টিস্টিক ক্রিটিক নামাইসিলেন। নন্দনতত্ত্ব যতখানি পড়সি তা দিয়া কইতারি পিনাকির ওই লেখাগুলা আছিল অসাধারণ আর যথার্থ, ইউরোপের নন্দনতত্ত্ব সম্পর্কে যারা এক্কেরে কিছুই জানেনা, তারা বিগিনার লেভেলের জ্ঞানের জন্য পিনাকি বাবুর "মন ভ্রমরের কাজল পাখায়" বইখান পড়বার পারেন, উপকার পাইবেন। যাউজ্ঞা, কিন্তু প্রবলেম হইল আমাগো তৌহিদি জনতা এইসব বুঝে না, তারা পিনাকি বাবুর লেখা ইউজ করসিল আর্টেমিসের মূর্তি সুপ্রিম কোর্ট থিকা সরানির জাস্টিফিকেশন হিসাবে। তারও আগের কথা কই। গণজাগরণ মঞ্চের টাইমে মাজহার সাব পজিটিভিজম ও বিজ্ঞানবাদের অসাধারণ কিছু ক্রিটিক নামাইসিলেন। আসলেই এই লেখাগুলা বৈশ্বিক মানের ছিল, যুক্তিগুলাও আছিল সুনিপুন। মাগার প্রবলেম হইলো গিয়া আমাগোর তৌহিদি জনতার কাছে ঐ লেখাগুলা পৌঁছাইলো অভিজিৎ হত্যার জাস্টিফিকেশন হিসাবে। পারভেজ আলমরেও আমি আমাগো ইন্টেলেকচুয়ালগো মধ্যে অন্যতম সেরা হিসাবে মানি। জিহাদ ও খিলাফতের সিলসিলা বইতে উনি জিহাদরে যেমনে হিস্টোরিসাইজ করসেন, আর মদিনা বইতে তিনি যেমনে বর্তমান সোশিওপলিটিকাল ইস্যুগুলারে ইসলামিক সিম্বলিজম দিয়া সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করসেন, এই রকম কাম খালি বাংলা ভাষায় না, সারা পৃথিবীতে আর খুঁইজা পাইবেননা, তালাল আসাদ, সাবা মাহমুদ, টোমোকো মাসুজাওয়াও তার কাছে ফেইল মনে হয়। ইসলামের অনেক স্যাক্রেড জিনিসরে তিনি বিভিন্ন সোশিও-পলিটিকাল ইস্যুতে আইনে যেমন তার ব্যাখ্যা দিসে তারে এক কথায় কওন যায় জিওরজিও আগামবেনের প্রোফেনেশন। ইদানিংকার মূর্তি-ভাষ্কর্য ইস্যুতে পারভেজ আলমের ক্রিটিকগুলাও চমৎকার, মুর্তির ভাঙ্গার আইকনোক্লাস্টিক টেন্ডেন্সি কেমনে প্রকৃতপক্ষে জালিম বা অপ্রেসরদের বিরুদ্ধে মজলুম বা অপ্রেসডদের দাঁড়ানির একখান পথ, মাধ্যম, কৌশল হইবার পারে হেইডা নিয়া উনার রিসেন্ট লেখাগুলা এক্কেরে এরিফ ফ্রম লেভেলের। কিন্তু প্রবলেম হইল গিয়া আমাগো তৌহিদি জনতার মূর্তি নিয়া অ্যালার্জি মূর্তি নিয়া হিন্দুয়ানি কালচারের ম্যাজিক বিলিফ নিয়া, হেতেরা মূর্তির ক্ষমতাসম্পর্ক নিয়া চিন্তিত না। অহন হেতেরাও মূর্তি নিয়া এইসব ক্ষমতার সম্পর্কের লেখাগুলা কামে লাগাইতেসে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি বসানোর বিরোধিতার সমর্থন পাওয়ার লিগা।

    অহন কথা হইল তৌহিদি জনতা, আবোদা এক্সট্রিমিস্ট পাবলিক এই ইন্টেলেকচুয়ালগো লেখা পইড়া কী আকাম কুকাম করতাসে তাতে তো আর হেগোরে দোষ দেয়ন যায়না। তাগোর প্লসিবল ডিনায়াবিলিটিও আছে। আর এইসব সোশিও-পলিটিকাল অ্যানালাইসিস তো আর নেচারাল সায়েন্স না যে আলোচনার এক্কেরে শুরু থেইকাই বিষয়ের ভিত্রে ঢুইকা যাইবেন। হিউম্যানিটিজের সাবজেক্টে আলোচনার শুরু করন লাগে এক্কেরে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেইকা, সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে কেমনে সমাজের ভাবধারাও চেঞ্জ হইতেছে তা দেখানি লাগে। একটা ফিক্সড হিউম্যান ম্যাটার কেমনে কেমনে পরিবর্তনশীল সোশিও-পলিটিকাল সারকামস্টেন্সে বিভিন্ন রকমের ন্যারেটিভ-পারস্পেকটিভ পাইতাসে তা সেই আলোচনায় আনা লাগে। হবস থিকা হাইডেগার এই কামই কইরা গেছে। আর তাই সোশিও-পলিটিকাল আলোচনায় রিলিজিয়াস সিম্বলিজমের ব্যবহারও খুবই স্বাভাবিক একখান ফেনোমেনা। মার্ক্স-এঙ্গেলসও এই কাম করসে। কিন্তু তার রিলিজিয়াস সিম্বলিজমগুলা দেইখা জার্মানি-ইংল্যান্ডের তৌহিদি জনতারা আবেগে আপ্লুত হয় নাই, হেতেরা নিজেগো এক্সট্রিমিজমের জাস্টিফিকেশনের লিগা ওইসব লেখাও ইউজ করে নাই। ইয়ার কারণ হবার পারে এই যে, মার্ক্স-এঙ্গেলসের লাহান পচ্চিমের ফিলোসোফাররা পলিটিকাল অ্যানালাইসিস ইশটার্ট করনের টাইমে পত্থমে নিজেগো অবস্থান পষ্ট কইরা লইতেন। A Contribution to the Critique of Hegel’s Philosophy of Right বইতে শুরুতেই মার্ক্স কইয়া নিসিলেন, "For Germany, the criticism of religion has been essentially completed, and the criticism of religion is the prerequisite of all criticism."। মানে হইল গিয়া, মার্ক্স সাব কইতাসেন, বাবারা, আগে ধর্মের সমালোচনা বুইঝা আইসা, ধর্মের অকার্যকারিতা-ফেইলিউরগুলা বুইঝা নিয়া তারপর এই লেখা পড়বার আইসো, তা না করলে আমার লেখা পড়তে গিয়া সব উল্টাপাল্টা কইরা ফালাবা"। মাজহার সাব এইখানে ক্রিটিসিজমের মানে ব্যাখ্যা করসেন "বোঝাপড়া", তাতে কথার মিনিং গেসেগা পাল্টায়া। কিন্তু মার্ক্সের লেখা দেইখা মনে হয়নাই সেইখানে বোঝাপড়া কিসিমের কিছু বুঝানি হইসে।

    যাই হোউক, কথা অইল গিয়া, এই যে ইন্টেলেকচুয়ালরা বুঝান এক জিনিস, আর তৌহিদি জনতা বুঝে আরেক জিনিস, এডি খুব খারাপ একখান বিষয়। হেইডার লিগা তাগো যেইডা করা উচিৎ তা হইল সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়া নিজেগো লেখার সমস্ত বিষয়, উদ্দেশ্য আর নিজেগো অবস্থান স্পষ্ট কইরা দেওয়া, যাতে পাবলিক ভুল বুঝতে না পারে। পারভেজ আলম এই জায়গায় একটা ভাল কাম করসেন। উনি মূর্তি-ভাষ্কর্য নিয়া আওয়ামী লীগ যে বাইনারি তৈরি করসে সেই বাইনারি খণ্ডন কইরা মূর্তি-ভাষ্কর্যের লগে ধর্মের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করসেন, বাংলার মূর্তির কালচারের লগে যে আসলে মক্কার মূর্তির মত ক্ষমতাসম্পর্ক নাই, এইখানে এই বিষয়গুলা আর খাটে না এই জিনিসটাও পষ্ট কইরা দিছেন। তাতে তৌহিদি জনতা হয়তো হতাশ হইসে, কিন্তু ওনার বুদ্ধিবৃত্তিক দায়বদ্ধতা ও সততা দেইখা আমি মুগ্ধ। মাগার অন্যান্য ইন্টেলেকচুয়ালদের কামকাজ দেইখা আমি হতাশ হইসি। যাই হোক, বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের সোশিও-পলিটিকাল অ্যানালাইসিসে নিজেদের পষ্ট করা জরুরি মূলত দুইহান বিষয়ের জন্য। এক হইল, আমরা বর্তমানে যেই দশা পার করতাসি তারে বলা যায় রজার গ্রিফিনের ভাষায় প্যালিনজেনেসিস, এডিরে ফ্যাসিজমেরও একখান পূর্বশর্ত কইবার পারেন, এই আওয়ামী টাইরানির টাইমে এডি বেশি কইরা বাড়তেসে। এই প্যালিনজেনেসিস হইল গিয়া সমাজের রিবার্থ স্টেইজ, মানে আগে সমাজের যে জিনিস মইরা গেছে তারে জ্যান্ত করা। কিন্তু আগের জিনিস জ্যন্ত করলে কি সেই জ্যন্ত মাল ওই আগের পরিবেশ পাইব? পাইব না, তাই আমগো আম জনতা বর্তমান পরিবেশের মদ্যেই কেমনে মধ্যযুগের রিগ্রেসিভ পলিটিকাল এজেন্ডাগুলা ইউজ করা যায় তার চিন্তায় থাকে। এই পরিস্থিতিতে তাগো কাছে হাজার বছরের সোশ্যাল ইভোল্যুশনরে প্রবলেমেটিক হিসাবে দেখানি আর পুরান রিগ্রেসিভ জিনিসপাতিতে সেক্যুলার সমর্থন খুঁইজা সেই জিনিসগুলা প্রতিষ্ঠিত করা ইম্পরটেন্ট হইয়া যায়, হেইলিগাই হেতেরা এইডা দাবিও করে যে, "বিজ্ঞান অনুসারে টাখনুতে টেস্টোস্টেরন আছে"। আমাগোর পাবলিকগোর হাল যখন এই তখন ইন্টেলেকচুয়ালগো উপ্রে বিশেষ রকমের দায়বদ্ধতা তৈরি হইয়াই যায়, এই জায়গাতেই তাগোরে নিজেদের অবস্থান পষ্ট করাটা বেশি দরকারী হয়। বাংলাদেশের পাবলিক এখন ব্ল্যাকহোল হইয়া বইয়া আছে, ওরা যাই পাইব তাই নিজেগো মতো বানায়া হজম করবো, ইন্টেলেকচুয়াল জিনিসপাতি হইলে তো কথাই নাই, তাই একটু সামলায়া লেখন লাগবো।

    দুই নাম্বার পয়েন্টটা একটু পোস্টকলোনিয়ালিস্ট মার্কা। মার্ক্স-এঙ্গেলস, বেনিয়ামিন, আগামবেন, হাইডেগাররা কোনরকম সামাজিক উদ্বিগ্নতা ছাড়াই তাগো লেখায় রিলিজিয়াস সিম্বলিজম আনবার পারে, কারণ পাশ্চাত্য সমাজের দার্শনিক বিকাশ হইসে ডায়ালেকটিকের মাধ্যমে। ইউরোপে যেমনে ডায়ালেকটিক আকারে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটসিল তা আমাগো মধ্যে ঘটে নাই, প্রথমে তা অবিকশিত আছিল, পরে কলোনিয়ালগো আগমনের পর ঘটসে এর বিকৃত বিকাশ। অবস্থা উল্টা হইসে খারাপ, কারণ এই বিকৃত বিকাশে ডায়ালেকটিক তৈরির সুযোগই থাকেনা, ডায়ালেকটিক তৈরি না হওনের ফলে কলোনিয়ালগো ভাগনের পরও আমগো মধ্যে কলোনিয়াল হ্যাঙ্গোভার টিক্ক্যা আছে, আর বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ হইল না। এই দুর্ভাগ্যের কারণেই বারবার সোশিও-পলিটিকাল অ্যানালাইসিসের টাইমে ইন্টেলেকচুয়ালগো নিজেগোর পলিটিকাল-মোরাল ওরিয়েন্টেশন বারবার পষ্ট কইরা কওনই হেগোর নিয়তি। নিজেগো লেহার ইফেক্ট নিয়া সচেতন হইয়াই তাগোরে নিজেগো অবস্থান বারবার পরিষ্কার করন লাগবো। আমি জানি এই ইন্টেলেকচুয়ালরা ফ্রাঞ্জ ফানোঁ থিকা, এডোয়ার্ড সাঈদ, গায়ত্রী স্পিভাক, হোমি ভাবা, শিব কুমার, দীপেশ চক্রবর্তী পইড়া ঘলঘলা করসেন, আমার পয়েন্টখান অগো ধরতে বেশি প্রবলেম অইব না।

    অহন কোন পোস্ট-কলোনিয়ালিস্ট আইসা আমার এই পয়েন্টগুলার ক্রিটিক নামাইবার পারেন। আমি কইতাসি, আমি নিজেও পোস্টকলোনিয়ালিস্ট, আমার নিজের গিয়ান আমার নিজের মতো ইউজ করতে আর প্রকাশ করতে দেন। কেউ কইতারেন আমগো ভারতবর্ষের জ্ঞান-দর্শন অবিকশিত আছিল, ডায়াকেক্টিকের বিকাশ ঘটে নাই এইডা পুরা ভুয়া কথা। তাগো লিগা আমি কয়েকখান কথা কই। বেদান্ত-নব্যবেদান্ত-বেদান্ত আশ্রিত বৈষ্ণববাদ ভারতীয় দর্শনের চরমতম বিকাশ ছিল আমি মনে করিনা, ভাববাদ-আধ্যাত্মিকতায় এডি নিজেরে অনেক সমৃদ্ধ হইলেও সেই এক সত্তা ও প্রেমের মধ্যেই ঘুরপাক খাইসে, দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলা নিয়া ভাবনাচিন্তা করেনাই, সুফি-সহজিয়া-তন্ত্রভিত্তিক দর্শনগুলারও একই কেস। ভারতীয় দর্শনের আসল উচ্চতার জায়গা হইল গিয়া শান্তরক্ষিত, কমলশীল, অতীশ দীপঙ্করের বৌদ্ধদর্শন, এরা ১০০০ সালের মধ্যে রূপ-প্রতিভাষ-ভাষা-মনোদর্শনের অনেক কিছু নিয়ে যে উচ্চতায় গেসিল পাশ্চাত্য দর্শনের সেই লেভেলে যাইতে ১৯০০ সালে যাইতে হইসে, অনেকে বলে এদের লেখাপত্তর পড়নের কারণেই এডি সম্ভব হইসিল। কিন্তু কথা হইলো আমরা এগোরে ওউন করতে পারি নাই কেন, হেগোরে নিজেদের ডায়ালেক্টিক বিকাশের পার্ট বানাইতে পারি নাই কেন, ভাইবা দেখেন। এগুলাও বাদ দিলাম, বুদ্ধির বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ দুইটা ধারা হইল গিয়া জ্ঞানতত্ত্ব আর পদার্থতত্ত্ব, ভারতবর্ষের সৌভাগ্য যে এইখানে গৌতম আর কণাদের মতো দুইজন দার্শনিক জন্মাইসিল, হেতেরা অসাধারণ প্রতিভা লইয়া ন্যায় আর বৈশেষিক দর্শন ডেভলপ করসিল। এদের কোন তুলনাই ছিলনা। সমকালীন গ্রিক জ্ঞানতত্ত্ব-পদার্থতত্ত্ব ছিল এদের দর্শনের কাছে শিশু। পরে গ্রিক দর্শন ডাব্বা মারসে, কিন্তু এদের দর্শন বিকশিতই হইসে। কিন্তু সেই বিকাশও এককালে থাইমা গেসিল। জ্ঞানতত্ত্বের একটা লিমিটেশন আছে, পদার্থ তত্ত্বের যথেষ্ট উন্নয়ন না হইলে এডির যথেষ্ট বিকাশ আর সম্ভব হয়না, শব্দ প্রমাণ বা টেস্টিমনির গুরুত্বহীনতা প্রমাণ করতে আর প্রত্যক্ষ ও অনুমান প্রমার নতুন নতুন করণ বের করার লিগা আপনার লাগব পদার্থতত্ত্বের বিকাশ। এখন পদার্থতত্ত্বের বিকাশ কেমনে হইব? ধ্যান কইরা আর প্রকৃতি অবজার্ভ কইরা পদার্থতত্ত্বের অনেকদূর বিকাশ ঘটানি যায়, ঐ যুগের বৈশেষিক দর্শন হেডি কইরা দেখাইসিল, কিন্তু এডিরও লিমিটেশন আছে। অবজার্ভেশনের মাত্রা বাড়ানির লিগা আপনারে কনট্রোল্ড সিস্টেম বানায় জিনিসপাতি অবজার্ভ করন লাগবো, বিভিন্ন বিষয় নিয়া এক্সপেরিমেন্ট করন লাগব। এই কাম খালি থিওরি পইড়া হয়না, প্র্যাক্টিকেলের ব্যাপার স্যাপার আছে। এর লিগা বিভিন্ন পদার্থ নিয়া ঘাটাঘাটির লিগা আপনের দরকার ল্যাবরেটরি, আকাশ দেখার লিগা দরকার অবজারভেটরি, বিভিন্ন প্রাণী-উদ্ভিদ নিয়া ঘাটাঘাটির জন্য দরকার সংগ্রহশালা, আর এইসব কাজকাম চালাইতে হইলে সর্বোপরি দরকার ফান্ডিং। রাষ্ট্র থিকা প্রচুর ফান্ডিং লাগে এগুলির জন্য। আমগো দেশে এইসব হয়নাই, তাই দর্শন আর ডায়ালেকটিক গেসেগা আটকায়া। নব্যন্যায় সম্প্রদায় আইসা পুরান ন্যায় দর্শনের সংস্কার করলো, মাগার কতদূর আর যাইব? ডেভলপড পদার্থতত্ত্ব নাই, হেতেরা ঐসময়ের বস্তাপঁচা বৈশেষিক পদার্থতত্ত্ব নিয়াই পইড়াসিল। জ্ঞানবিজ্ঞানের উন্নয়ন আর হইল না। কিল্লিগা অইল না, মুসলমান শাসকগোরে দোষ দিয়েননা। তাকায়া দেখেন মধ্যযুগে আব্বাসিদ আর সেলজুক, আন্দালুসিয়ার মুররা এইসব দর্শনের উন্নতির জন্য কেমনে ফান্ডিং করসে, কয়টা অবজারভেটরি বানাইসে।

    সেলজুকরা খালি মাদ্রাসার চাষ করসে, কথা সইত্য, তয় হেতেরা অবজার্ভেটরিও বানাইসিলো, আর হেগোর মাদ্রাসায়ও সেইসময়ের উন্নত দর্শনচর্চা হইত। হেতেরা যে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জ্ঞানতত্ত্ব ডেভলপ করসিল হেইডাই ইউরোপে গিয়া স্কলাস্টিসিজম আর রেনেসাঁ দর্শনের উন্নয়ন ঘটাইসিল, মুসলিম জগতের ফান্ডিং ছাড়া এডি সম্ভব হইতোনা, ডায়ালেকটিকের বিকাশে হেগো কাম আছিল পিভোটাল। রাষ্ট্রতত্ত্ব, হিস্টোরিওগ্রাফি আর সমাজতত্ত্বে হেতেরা কী কামডি করসিল তা বুঝনের লিগা ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমা পইড়া লইয়েন, এই লোক না আইলে ম্যাকিয়াভেলির আর আওন লাগতো না। এখন যদি কেউ তার লগে পাল্লা দিবার লিগা ভারতের কৌটিল্যরে দাঁড়া করান, তাইলে তারই লজ্জা পাওন উচিৎ, খালদুনের থিকাও প্রায় ১৫০০ বছর আগের একজনরে তার সমকক্ষ বিচারের লিগা। হেগোরে এই নয়া পদার্থতত্ত্বরে ব্যবহার করসিল রেনেসাঁ পরবর্তী পচ্চিম ইউরোপের দার্শনিকরা, এর মাধ্যমে এরা নব্যতন্ত্রের জন্ম দেয়, নতুন কইরা জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যার তত্ত্ব আবিষ্কার হইতে থাকে নতুন অবজার্ভেশন আর মুসলিম জগতের জ্ঞান কামে লাগাইয়া, দেকার্ত, কেপলার, প্যাসকেল, নিউটনরা মাঠে নাইমা পড়ে, মাগার হেতেরাও এমনে এমনে এই পদার্থতত্ত্বের বিকাশ ঘটায় নাই, ফান্ডিং পাইসিল তাই এই কাম করতে পারসে, ফ্রান্সে এগোর ফান্ডিং আইতো রাষ্ট্র থিকাই, ইংল্যান্ডে আইতো পুঁজিবাদের কল্যাণে। পদার্থতত্ত্বের বিকাশের মাধ্যমে জ্ঞানতত্ত্বের বিকাশ হয়, পাল্লা দিয়ে নীতিতত্ত্ব, রাষ্ট্রতত্ত্বেরও বিকাশ হয়, অগো ভাববাদ-বস্তুবাদ দুইডারই বিকাশ হইসে, ডাকালেকটিকের মধ্য দিয়াই অগো বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ হইসিল। আমাগোর বেলায় হেইডা হওনের সুযোগ আমরা দেইনাই। সিরিয়া-ইরাক-ইরান-আনাতোলিয়ার প্রোডাকশন কী আমগোর চেয়ে বেশি কিছু আছিল? তয় হেরা কেমনে ফান্ডিং করল, আমরা পারলাম না? আমরা বিজ্ঞান-দর্শনে ফান্ডিং না কইরা খালি গান-বাজনা-শিল্প-তাজমহলের লাহান বিল্ডিং আর বিদেশ থিকা অস্ত্র আর সৈন্য আমদানিতে পয়সা খরচ করসি, এগুলারও গুরুত্ব আছে, দরকারও আছে, মাগার জ্ঞান-বিজ্ঞানে ফান্ডিং না হওয়ায় অনেক বড় ক্ষতি হইয়া গেসে। অস্ত্রের দরকার আছে, ভালো কথা, নিজেরা বানানি গেল না কিল্লিগা? অটোমানরা কি সুন্দর ইঞ্জিনিয়ারগো দিয়া, এমনি বিধর্মী ইঞ্জিনিয়ারগো দিয়া অসাধারণ সব কামান-গোলাবারুদ বানাইসিলো, আমরা কেন পারলাম না? আমগো টিপু সুলতান অবশ্য করসিল, মাগার ততোদিনে মেলা দেরি হইয়া গেছে। এই লেভেলের অবিকশিত দর্শন-ডায়ালেকটিকের দেশে কলোনিয়ালরা তাগো জিনিস ইনপুট দিলে যা হওনের কথা তাই হইসে, ডায়ালেক্টিকহীন বিকৃত বিকাশে পাবলিক আর মাথা তুইলা দাঁড়াইতে পারল না, আর অহন শুরু হইসে রিবার্থের দশা। এই বিশেষ কন্ডিশনের লিগাই আমগোর ইন্টেলেকচুয়াল-পাবলিক রিলেশন পশ্চিমের দুনিয়ার মতো হইতারেনা, হওনের কুনো সুযোগ নাইক্কা, এইখানে ইন্টেলেকচুয়ালগোরে বারবার নিজেগো পজিশন-ওরিয়েন্টেশন ব্যাখ্যা কইরাই আগ্‌গান লাগবো, নিজেদের লেখার ইফেক্টগুলা নিয়া ভাবনাচিন্তা করা লাগবো, এমনকি শিল্পকর্মগুলারও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়া ভাবনাচিন্তা করন লাগবো, না হইলে আমগো সামনে মেলা দুঃখ আছে।

  • বিভাগ : অপর বাংলা | ০২ ডিসেম্বর ২০২০ | ৭২৮ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
নীল  - Jeet Bhattachariya
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ramit Chatterjee | ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ১০:৩৬100878
  • স্পষ্ট ও অসাধারণ বক্তব্য। সত্যিই উপমহাদেশের মানুষকে আরো অনেকটা পথ হাঁটতে হবে। নইলে জ্ঞান আর অজ্ঞানের বিভাজন শুধু বাড়তেই থাকবে। গুরুবাদ কে ছেড়ে যুক্তি তর্ক বিকাশের খুব প্রয়োজন। দরকার ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং। 


    সোশ্যাল মিডিয়া আসার শুরুর দিকে লোকে যেমন ভেবেছিল মুক্ত চিন্তার এক পরিসর পাওয়া যাবে, কিছুদিনের মধ্যেই দেখা গেল প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া যে গুলো , মেষ চারণ ক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে। মৌলবাদী গোঁড়া বিশ্বাস কে আরো সহজে আরো দূরে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। আরো লাখো ভক্ত কে জড়ো করা যাচ্ছে, পাথর ছোড়া যাচ্ছে অবিশ্বাসী র গায়ে ট্রোলিং বা বুলিং  এর মাধ্যমে। 

  • Sumit Roy | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১০:৫৬100920
  • পড়ার জন্য ধন্যবাদ

  • &/ | 151.141.85.8 | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১০:৫৯100921
  • সোশ্যাল মিডিয়া ব্যুমেরাং হয়ে গ্যাছে।

  • Sumit Roy | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১১:১১100922
  • এখন জনসংহতি তৈরির জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া আর কোন উপায় অবশিষ্ট নেই। এই যুগে বইপত্র লিখে পরিবর্তন আনতে চাওয়া মানে গানফাইটে ছুড়ি নিয়ে যাওয়ার মতো। সোশ্যাল মিডিয়া একটা শিটহোল এটা বুঝে নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় জনসংহতি ও পাবলিকদের মধ্যে পৌঁছানোর স্ট্র্যাটেজি বের করতে হবে। আর কোন উপায় সামনে খোলা দেখিনা।.. 

  • &/ | 151.141.85.8 | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১১:৪৮100923
  • মাধ্যমটি বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে । চব্বিশঘন্টা ড্যাশনৃত্য চলছে । এই জিনিসের উপরে দাঁড়িয়ে কিছু করাই তো ---ইয়ে মানে---

  • &/ | 151.141.85.8 | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১১:৫১100924
  • সোশ্যাল মিডিয়ার এই আয়নাঘর এই ইকো-চেম্বার ছেড়ে না বেরিয়ে এলে জোরালো কোনো সদর্থক পরিবর্তন সম্ভব না।

  • Sumit Roy | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ২২:০৪100934
  • আপনি বেরোলেও তো আর সাধারণ মানুষ বেরোবেনা। আর সাধারণ মানুষকেই যদি পাশে না পান তাহলে পরিবর্তন আনবেন কিভাবে? এলিট থিওরি ডেভলপ করার সময় ভিলফ্রেডো প্যারেটো আর গায়তানো মস্কা বলেছিলেন জনসংহতির জন্য এলিটদেরই সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হয়। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে এলিটগিরি ফলাতে পারি কিন্তু সাধারণ মানুষ সেখানেই থাকবে আর সেখান থেকে বের হয়ে এসে আর যাই হোক জনসংহতি বা পরিবর্তন কোনটাই আনা যাবে না। (কমা চিহ্নটা কেন কমেন্টে ব্যবহার করা যাচ্ছেনা বুঝতে পারছিনা)।

  • &/ | 151.141.85.8 | ০৬ ডিসেম্বর ২০২০ ০৬:৫৭100973
  • কেবল সোশাল মিডিয়ায় উপস্থিত লোকেরাই জনগণ নন, এর বাইরে বিপুল সংখ্যক মানুষ আছেন।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন