• হরিদাস পাল  আলোচনা  সমাজ

  • শুভ জন্মদিন তসলিমা নাসরিন 

    Muhammad Sadequzzaman Sharif লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | সমাজ | ২৫ আগস্ট ২০২১ | ৪০২ বার পঠিত | রেটিং ৩ (২ জন)
  • তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। ব্যক্তি তসলিমা নাসরিন তো নিষিদ্ধই, প্রায় সব বইও নিষিদ্ধ। কী অদ্ভুত একটা কাণ্ড না? আমাদের মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত যত ধরনের বুদ্ধিজীবী আছে সবাই নানান সময় মুক্তচিন্তা, বাক স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়ে মাঠ গরম করেন অথচ এই দেশের একজন লেখক লেখার অপরাধে দুই দশকের ওপরে দেশ থেকে নির্বাসিত। আমরা যখন গলার রগ ফুলিয়ে, কিছুটা বুক ফুলিয়ে প্রমাণ করতে চাই যে আমরা কোনমতেই মৌলবাদের কাছে মাথা নত করব না তখন তসলিমা নাসরিন নামটা থমকে দেয় আমাদের। কথা বলার থাকে না আর। একটা সময় বলা যেত যে জামাতের মত সরাকর ক্ষমতায় এরচেয়ে আর ভাল কী হবে? আমরা এখন সেই সুযোগও পাই না। আমরা জানি শেষ পর্যন্ত সবাই টিকে থাকতে চায়, ছলে বলে কৌশলে, যেভাবেই হোক, মৌলবাদকে একটু প্রশ্রয় দিয়ে হলেও হোক!

    ১৯৯৪ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ধর্ম অবমাননার জন্য মৌলবাদেরা হুমকি দিয়েছিল, মাথার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ফলে দেশ ত্যাগ করতে হয়। ফেরার অনুমতি আসর পান নাই। মৌলবাদেরা যে কাজটা করল তা হচ্ছে তসলিমা নাসরিনকে আরও প্রাসঙ্গিক করে দিল। হয়ত দেশে থাকলে এই লেখিকা তলিয়ে যেত, মানুষ আরও অনেক কিছুর মতোই সবই ভুলে যেত। কিন্তু তা হতে দিল না জঙ্গিরা। এখন তসলিমা নাসরিন একটা প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি অদম্য আগ্রহর জন্য তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশে বহাল তবিয়তে টিকে রইল। বই প্রকাশিত করা যায় না তাই নকল বই, ফটোকপি বই লুকিয়ে লুকিয়ে হাতে হাতে ঘুরতে লাগল। এমন ভাবে ঘুরতে ঘুরতেই প্রজন্ম পার হয়ে যাচ্ছে অথচ মানুষের আগ্রহ কমছে না। মানুষ বিপুল আগ্রহ নিয়ে পড়ছে। লজ্জা, আমার মেয়েবেলা, ক সহ নানা বই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ছে মানুষ, মুরুব্বিরা ধরতে পারলে বেদুম লাগাচ্ছে, বন্ধুরা বাঁকা চোখে তাকাচ্ছে, কোন মেয়ের হাতে উনার বই মানে এই মেয়ে তো গেছে! এমন নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বই গুলা টিকে রয়েছে। উনার বইয়ের চেয়ে বেশি নকল বই মনে হয় না আর কারো বই হয়েছে। নীলক্ষেতের ফুটপাথে যারা বই নিয়ে বসে থাকে তাদের বইয়ের স্তূপে হাত চালালে একটা দুইটা নকল, ফটোকপি তাসলিমা নাসরিন পাওয়া যাবে, এ একেবারে নিশ্চিত করে বলা চলে। শক্তি আর ক্ষমতার জোরে লেখককে তো দেশ ছাড়া করতে পারছে লেখাকে পাড়লেন কই?

    তসলিমা নাসরিন নামটা গালি হিসেবে ব্যবহার করে অনেকে। কাদের এই গালি দেওয়া হয়? কাদেরকে সম্বোধন করা হয় এই নামে? এর উত্তরেই পাওয়া যায় তসলিমা নাসরিনের শক্তি। যে মেয়েটা একটু বেখাপ্পা, যে নারী মাথা উঁচু করে, ঘাড় সোজা করে মহল্লার রাস্তা পার হয়, মুখের ওপরে টাস করে কথা শুনিয়ে দেয়, ঠোঁটকাটা, প্রচলিত সমাজের চোখে বেয়ায়দব, রুক্ষ এদেরকে বলা হয় তসলিমা নাসরিন। নারীর জন্য এর অনেক গুলাই জরুরি, বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র।

    পুরুষ হিসেবে আমার শরীরে জ্বালা ধরায় দিবে কিন্তু নারীর জন্য মৃত্যুঞ্জয়ী ওষুধ হচ্ছে তসলিমা নাসরিনের সাহসিকতা।

    উনার নামে নানা মিথ চালু আছে। নারী বলে মিথ গুলো সব সময়ই রসাল। একই কাজ পুরুষের ক্ষেত্রে হলে আমরা মুচকি হাসি দিয়ে মেনে নিতাম। নারী বলে সত্য মিথ্যা নানান রঙ মিশিয়ে উনার চরিত্রের সাথে লাগিয়ে দিয়েছি। উনার জীবন যাপন অন্য সবার মত না। যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জীবনকে দেখেন তা আমাদের কাছে অপরিচিত। চেনা সুরের না। তাই যত অস্বস্তি আমাদের। আমারা চেনা গলির পথ না হলেই হাঁটতে চাই না, উল্টো নানান কথা বলে বন্ধ করে দেই পথ চলা। আমরা কীভাবে বুঝব তার জীবন? আমরা বুঝি না, তাই কিচ্ছা শুনি, গালি দেই, আবার শুনি, আবার পড়ি!

    আরও পড়ুন
    প্লাবন - Anirban M
    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar


    নানা হাত বদল হয়ে আমার হাতে আসে উনার বিখ্যাত লজ্জা বইটা। নীলক্ষেত ফুটপাথ থেকে কিনেছিলাম বইটা। বলা বাহুল্য, কপি বই ছিল সেটা এবং সেকেন্ড হ্যান্ড। আমি লজ্জা লেখার প্রায় দশ পনেরো বছর পরে পড়লাম লজ্জা। আমি একবার পড়ে আবার পড়লাম, এবং কোনমতেই ধরতে পারলাম না আপত্তির জায়গাটা কোথায়? বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়নি? তার ফলে দেশে দাঙ্গা হয়নি? মন্দির ভাঙা হয়নি? হিন্দুরা নির্যাতিত হয়নি? তাহলে তা নিয়ে উপন্যাস লিখলে সমস্যাটা কোথায়? আমি জানি না, আজও জানি না। এরপরে নির্বাচিত কলাম পড়লাম, আমার মেয়েবেলা পড়লাম আরও নানা লেখা পড়লাম। এবং আমি আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। আমার মনে হল এরচেয়ে আরও বহু বহু ভাল লেখা আমার পড়া বাকি রয়েছে।

    আমি আগ্রহ আরও হারিয়ে ফেললাম কারণ তিনি তখন মরিয়া হয়ে প্রথা ভাঙতে চাচ্ছেন। মৌলবাদের প্রতি প্রচণ্ড আক্রোশ তৈরি হয়েছে, ফলে ধর্মকে নানান ভাবে আঘাত করছেন, আঘাতের অস্ত্র সব সময় সুবিধার না। গাছে মাছে আক্রমণ চলছে তখন। এবং তখনই সম্ভবত দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। ধর্মকে আক্রমণ করে এর আগেও অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। তাদের প্রতি মানুষ এই রকম বিরক্ত হয়নি। তাদের কথা পছন্দ হয়নি, হয়নি, চুপ করে থেকেছে। কারণ তাদের বলার ধরন অন্য রকম ছিল, তাতে সম্ভবত সাহিত্যের গুণাগুণ বেশি ছিল। তসলিমা নাসরিন কোনমতেই আহমেদ শরীফের চেয়ে বড় নাস্তিক ছিলেন না, হুমায়ুন আজাদের চেয়ে কঠোর কথা তিনি বলেন নাই তাও হয়ত বলা চলে। এরপরেও তাঁকে এঁদের চেয়ে বেশি গালাগালি শুনতে হয়েছে। এর কারণ এক যা বললাম, বলার ধরন অনেকের পছন্দ হয়নি আর দ্বিতীয়ত তিনি নারী! নারীর মুখে এই সব শুনতে আমরা রাজি না।

    সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম আসার পরে আমি ব্যক্তিগত ভাবে আরও হতাশ এই লেখিকাকে দেখে। উদ্ভট অদ্ভুত নানান কথা বলে যাচ্ছেন। না আছে যুক্তি না আছে প্রাসঙ্গিকতা। অনবরত প্রলাপ বকেন প্রায় সময়ই। মুশকিল হচ্ছে তারচেয়েও আরও অদ্ভুত, আরও উদ্ভট, অপ্রাসঙ্গিক লেখা, হাস্যকর রচনা আমরা আমাদের দেশের অনেক তারকা লেখককে লিখতে দেখি। অথচ তিনি নির্বাসিত! এই একটা কথায় আর কোন যুক্তি খাটে না, বছরের পরে একটা লেখক দেশ ছাড়া এরচেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? আবার মনে হয় এরপরে পরিস্থিতি যেভাবে খারাপ হয়েছে তাতে উনি বাহিরে থেকেই কি ভাল করেছেন? আহমেদ শরীফের কপালে কোপ জুটেনি, হুমায়ুন আজাদকে তো রেহাই দেয়নি! অভিজিৎ রায়কে তো ছাড়েনি জঙ্গিরা। তাহলে? উত্তর জানা নাই।

    তসলিমা নাসরিন, আমি কোনভাবেই আপনার লেখার ভক্ত না। কিন্তু আজকে যে নারীটা সমস্ত বাধা পেরিয়ে, নানা প্রতিকূলতা পার হয়ে সামনে যাচ্ছে তার পিছনে আপনার যা অবদান তার জন্য আপনাকে শ্রদ্ধা করি। সমাজের চোখ রাঙানকে পাত্তা দেওয়ার কিছু নাই, নারীর নিজস্ব সত্তা আছে, নারী নিজের জন্য বাঁচতে পারে এমন নানান উপলব্ধি নারীর মগজে ঢুকিয়ে দিতে পারার জন্য আপনি স্মরণীয়।

    দৈনিক ওয়াজের নামে যে ভাবে ধর্মের অবমাননা করা হয়, নিজের ইচ্ছামত গল্প বলে কোরান হাদিস হিসেবে পরিচয় দেয়, যারা একশটা মিথ্যা কথা বলে ধর্মের নামে। তারা যদি বহাল তবিয়তে দেশে থাকতে পারে আপনারও পূর্ণ অধিকার আছে দেশে থাকার। আপনি যাই লেখেন তা দেশের মাটিতে বসে লেখার অধিকার আছে।

    শুভ জন্মদিন, সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৫ আগস্ট ২০২১ | ৪০২ বার পঠিত | রেটিং ৩ (২ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aranya | 2601:84:4600:5410:b488:1c9:1919:10d7 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২১:৫৩497141
  • ১৯৯৪। মাত্র ২৭ বছর নির্বাসিত। হয়ত জীবনের শেষ দিন অব্দি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না, অথচ তীব্র আকুলতা ফেরার জন্য 
    অন্তত বাংলাভাষী পশ্চিম বংগে থাকতে চেয়েছিলেন, তাও হয় নি 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:1191:c519:3fe6:8415 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২৩:০০497145
  • অবশ্য বাংলাদেশে থাকলে এতদিনে খুন হয়ে যেতেন। পশ্চিম বঙ্গেও যথেষ্ট ঝুঁকি ছিল 
  • Amit | 120.22.158.71 | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৫:১৯497150
  • হ্যা , আর বই চান্স খুন হলে সেটাকে এতো বছর চলে আসা ইসলামিক ধর্ম বা কালচার কে আঘাত করার দোহাই দিয়ে জাস্টিফাই করার লোকেরও যে অভাব হতনা বা হবেনা সেটা রিসেন্ট কিছু লেখাপত্তর থেকে বেশ বোঝা যাচ্ছে। আম্রিগার ওপর চাপানোর রাস্তা তো খোলাই। 
  • Ranjan Roy | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৬:২২497151
  • কাউকে খুন করা কোনমতেই সমর্থন যোগ্য নয়। ফতোয়া জারি করা, মাথার দাম ধরে দেয়া (দুই দেশেই হয়েছে) ? 
    আমার লেখাটা খুব ভালো লাগল। তসলিমার লেখার সাহিত্যগুণ এখানে অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু তাঁকে মরতে হবে কেন? 
    আসলে নারীর মুখে এসব কথা আমাদের অসহ্য লাগে। নারীর কিসে ভাল তাও পুরুষ ঠিক করবে। 
    এইখানেই তসলিমা প্রাসংগিক। তাঁর সাহসের জন্য।
  • বিপ্লব রহমান | ২৯ আগস্ট ২০২১ ১০:৫১497339
  • "নানা হাত বদল হয়ে আমার হাতে আসে উনার বিখ্যাত লজ্জা বইটা। নীলক্ষেত ফুটপাথ থেকে কিনেছিলাম বইটা। বলা বাহুল্য, কপি বই ছিল সেটা এবং সেকেন্ড হ্যান্ড। আমি লজ্জা লেখার প্রায় দশ পনেরো বছর পরে পড়লাম লজ্জা। আমি একবার পড়ে আবার পড়লাম, এবং কোনমতেই ধরতে পারলাম না আপত্তির জায়গাটা কোথায়? বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়নি? তার ফলে দেশে দাঙ্গা হয়নি? মন্দির ভাঙা হয়নি? হিন্দুরা নির্যাতিত হয়নি? তাহলে তা নিয়ে উপন্যাস লিখলে সমস্যাটা কোথায়? আমি জানি না, আজও জানি না।"
     
    তসলিমা নাসরিনের তৃতীয় শ্রেণীর রচনার নাম "লজ্জা"! এই অপন্যাসের কারণে হিন্দু মৌলবাদীরা সে সময় তাকে মাথায় তুলে নেচেছে। 
     
    সে সময় তিনি "র" র এজেন্ডা পূরণ করেছেন, আর এখন পূরণ করে চলেছেন সিআইএ-র এজেন্ডা। 
     
    এ কারণে মুসলিম ধর্ম বিরোধী জিহাদ করে বসলেও হিন্দু ধর্মের কুসংস্কার নিয়ে তিনি আশ্চর্য নিরব থাকেন। 
     
    এর অবশ্য আরেকটি কারণ, ভারতীয় নাগরিকত্ব চেয়েছেন বলে মোদী সরকারের কাছে তার আঁচল বাঁধা!  :পি 
  • সে | 2001:171b:c9a7:d3d1:b433:851a:cfe9:cf4 | ২৯ আগস্ট ২০২১ ১১:৩১497341
  • তসলিমার ওপর অনেক পুরুষই রেগে থাকেন। সাহিত্যগুণটুন এনে তুলনা করে মূল বক্তব্য থেকে দূরে সরিয়ে দেবার চেষ্টা চলে। ওপরের মন্তব্যে তারই প্রতিফলন দেখতে পেলাম। মেয়েরা সাহসী হলে পুরুষতন্ত্র সেটা মানতে চায় না।
  • aranya | 2601:84:4600:5410:d31:8036:2c6e:23b8 | ২৯ আগস্ট ২০২১ ১১:৪০497342
  • বিপ্লব, লজ্জায় তসলিমা যা লিখেছিলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের কথা, তা কি সত্য না মিথ্যা? 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:d31:8036:2c6e:23b8 | ২৯ আগস্ট ২০২১ ১১:৪৬497344
  • উপন্যাস হিসাবে দাঁড়ায় নি, তা হতেই  পারে। কিছু ঘটনার ডকুমেন্টেশন করতে চেয়েছিলেন, দ্যাটস অল। ঐ রকম ঘটনা সে সময় বাংলাদেশে ঘটত কিনা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ, আমার কাছে। বা এখনও ঘটে  কিনা 
     
  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:১২497625
  • তসলিমা বিরোধিতা করতে গিয়ে পথ ছেড়ে নিজেরাও যে বেপথে চলে যাই কখন বুঝতেই পারি না। যখন যাকে খুশি তাঁকে রয়ের এজেন্ট, সিআইয়ের এজেন্ট বলে দিলাম! উনার সাহিত্য মান নিয়ে আলাপ হোক না, যুক্তি তর্ক করে ছুঁড়ে ফেলে দিন সব লেখা। কে বাধা দিবে? কিন্তু আমরা তো তা আজ পর্যন্ত করি নাই। যদি ধরেই নেই এবং হয়ত সত্যও যে উনার লেখায় সাহিত্যের মান খুব নিচু। এই অপরাধে তাঁকে দেশ ছাড়া করতে হবে? কত শত লোককে এই বিচারে দেশ ছাড়া করতে হবে তাহলে? 
    উনি মোদি সরকারকে তেল দিচ্ছেন, উনার লেখা বিজেপি হিট করেছে, উনি হিন্দু ধর্ম নিয়ে চুপচাপ থাকেন এই অপরাধে দেশ ছাড়া জায়েজ? দেশের মাটিতে থেকে এই সব আর কেউ করছে না?
    ধর্ম অবামনা এখন কেউ করছে না? টুপি পরে করছে তাই তা গায়ে লাগছে না। কিংবা অন্য ধর্মের অবমাননা হচ্ছে তাই আমাদের কিছুই যায় আসে না। যত দোষ তসলিমা ঘোষের!  
  • বিপ্লব রহমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:৫২497637
  • "উনি মোদি সরকারকে তেল দিচ্ছেন, উনার লেখা বিজেপি হিট করেছে, উনি হিন্দু ধর্ম নিয়ে চুপচাপ থাকেন এই অপরাধে দেশ ছাড়া জায়েজ?"
     
    ভক্তিবাদে কুতর্কে হাঁটছেন শরীফ, "তসলিমার দেশ ছাড়া জায়েজ"  কেউ কী এ কথা বলছেন? অল্প বিদ্যা সত্যিই ভয়ংকরী! 
  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০০:০৬498229
  • আমার বিদ্যাই নাই ভাই। তাই বিদ্যা নিয়ে আর খোঁটা দিয়েন না। দেশ ছাড়া নিয়েই লেখলাম। লেখার মূল কলিজাই দেশ ছাড়া। উনার নানা সমস্যা আছে, আমি ঘুরে ফিরে বলতে চাইছি শত সমস্যা থাকার পরেও একজনকে দেশ ছাড়া করার কোন যুক্তি থাকতে পারে না। আপনি যখন দেশ ছাড়া নিয়ে একটা শব্দও ব্যয় করবেন না উল্টো উনি তেল দিয়ে বেঁচে আছেন বলবেন তখন আমি কী বুঝব? 
  • বিপ্লব রহমান | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:১৯498235
  • মান্যবর শরীফ, 
    তসলিমার সাহিত্য মান বিচার বা রাজনৈতিক কলমবাজির সমালোচনা করতে গেলে তার দেশ ত্যাগ প্রসঙ্গ নিয়ে বলতেই হবে? একে কী বলবো,  এটি  আপনার নয়া ফতোয়া? নাকি কুতর্কের পক্ষে আরেক কুযুক্তি? হাসাইলন ভাই!  
     
    আপনার ভক্তিবাদের ক্ষুরে ক্ষুরে প্রনাম :))
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন